ভক্তের ব্যাপারে মিথ্যে বলে ধরা পড়েছেন হুমায়ূন পত্নী মেহের আফরোজ শাওন। ২ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত ডাস্টবিন নিয়ে দেয়া পোস্টে এক ভক্তের ব্যাপারে কমেন্টে মিথ্যাচার করেন তিনি।
বাংলা একাডেমি বই মেলায় শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত ডাস্টবিনে ময়লা ফেলার পোস্ট দেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তার এ পোস্টের সমালোচনা করে নিজের ভেরিফাইড পেইজ থেকে পোস্ট করেন শাওন।
তিনি লিখেন, "আজ পহেলা ফেব্রুয়ারি, অমর একুশে বইমেলার প্রথম দিন। দায়িত্বশীল পদে থাকা ছবির এই ভদ্রলোকটি দিতে পারতেন চমৎকার কিছু কথা সহ বইমেলা উদ্বোধনের ছবি। মেলার প্রথম দিনে কোন বই কিনলেন কিংবা কোন কোন বই কেনার আগ্রহ রাখেন সেটাও সবাইকে জানাতে পারতেন। কিন্তু তিনি ফেসবুকে নিজ দেয়ালে নিচের ছবি দিয়ে উনার ডাস্টবিন মার্কা রুচির পরিচয় দিয়ে দিলেন। হায়… তবে কি বাংলাদেশ ২.০ এর ক্ষমতাবানেরাও ভাবছেন যে তারা চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে আছেন! ভাগ্যিস… এই বইমেলা দেখার জন্য হুমায়ূন আহমেদ নেই…"
শাওনের এই পোস্টে কমেন্ট করার অপশন দেয়া হয় শুধুমাত্র তার ফেইসবুক বন্ধুদের। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন প্রবাসী জান্নাত ফেরদৌস তেমনই একজন।
হুমায়ূন আহমেদের ভক্ত জান্নাত শাওনের পোস্টের সমালোচনা করে কমেন্টে বলেন, "হুমায়ুন আহমেদ থাকলে অবশ্যই বইমেলার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য কিছু ময়লা পেলে এই ডাস্টবিনে ফেলতেন। তিনি জানেন, বন্যেরা বনে সুন্দর আর আবর্জনা ডাস্টবিনে।"
মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী নারীদের বৃহৎ সংগঠন 'অজি বাংলা সিস্টারহুডের' প্রতিষ্ঠাতা জান্নাতের কমেন্ট। তাকে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেন আরো অনেকেই। জান্নাতের মন্তব্যের বিপরীতে পাল্টা কমেন্ট করেন শাওন, "হুমায়ূন আহমেদ থাকলে অবশ্যই কি করতেন তা দেখি আপনি আমার চেয়ে ভালো জানেন!! আপু আপনার কাছে ‘হুমায়ূন আহমেদ কি ঘটলে কি করতেন’ এই বিষয়ক একটি বই চাই।"
জান্নাতের কমেন্টকে বাক স্বাধীনতার দিক থেকে না দেখে তাকে আনফ্রেন্ড 'অবন্ধু' করে দেন শাওন। জানান, জান্নাতকে চিনেন না তিনি।
হুমায়ূন পত্নী মেহের আফরোজ শাওনের বন্ধু তালিকা থেকে বাদ হওয়াকে স্বাভাবিকভাবে দেখলেও কিন্তু 'না চেনার' মিথ্যে অভিযোগের প্রতিবাদ করেছেন জান্নাত। জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের মার্চ মাসে শাওনই প্রথম জান্নাতকে ফেইসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। এ সংক্রান্ত ম্যাসেজের স্ক্রিনশট বিডিপ্লাসকে পাঠিয়েছেন জান্নাত।
অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী জান্নাত বলেন, "এতো বছর হাসিনার এতো খুন, গুম, দুর্নীতি দেখার পরও তাদের মুখ দিয়ে কোন আওয়াজ আসে নাই, তখন বিবেকে বাঁধে নাই তেলবাজি করতো। আর আজকে তার ছবি ডাস্টবিনে দেখে তাদের খুব রুচিতে বাঁধছে। এই একটা ময়লা ডাস্টবিনই যথেষ্ট খুনীর পক্ষের মুখোশধারীদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য।"