0201251735807594appweb-logo.png
Loading...

অনুসন্ধান



এবার আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবও স্থগিত করা হয়েছে।

তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, মেয়ে তসলিমা আহমেদ জামান, ছেলে মঈনুল হোসেন, ছেলের স্ত্রী ইসরাত জাহান বিন্তীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। ব্যক্তি হিসাবের পাশাপাশি তোফায়েল আহমেদ ফাউন্ডেশনের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবও স্থগিত করা হয়েছে। এসব হিসাবের লেনদেন ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন তোফায়েল আহমেদ।

চেক জালিয়াতি (ডিজঅনার) মামলায় ক্রিকেটার ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

আজ (১৯ জানুয়ারি) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। যদিও আদালতে উপস্থিত ছিলেন না সাকিব আল হাসান।

ছবি:সংগৃহীত।

এর আগে, ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর একই মামলায় সাকিবসহ মোট চারজনকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছিলেন আদালত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সাকিব উপস্থিত হননি। সাকিব ছাড়াও অন্য তিনজন হলেন— সাকিব আল হাসান এগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী সাহাগীর হোসেন, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইমদাদুল হক এবং মালাইকর বেগম। গত ১৫ ডিসেম্বর আইএফআইসি ব্যাংকের রিলেশনশিপ অফিসার শাহিবুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, সাকিবের মালিকানাধীন এগ্রো ফার্মটি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে আইএফআইসি ব্যাংকের বনানী শাখা থেকে ঋণ নেয়। এর বিপরীতে কোম্পানিটি প্রায় ৪.১৫ কোটি টাকার দুটি চেক দিয়েছে, যা অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে ডিজঅনার হয়ে ফেরত আসে।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল, অস্ট্রেলিয়ান এডুকেশন এক্সপো ২০২৫। বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য এ মেলার আয়োজন করে, স্টুডেন্ট কন্সালটেন্সি প্রতিষ্ঠান লুমোস গ্লোবাল

 

প্রতিষ্ঠানের বনানী অফিসে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেয় শ’খানেক শিক্ষার্থী। উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ২০ এর অধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সকল প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পাশাপাশি, অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সুবিধা সম্পর্কেও বিস্তারিত তুলে ধরেন তারা। গত বছর, দশ হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থী বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছে।

লুমোস গ্লোবালের প্রতিনিধিরা। 

 

লুমোস গ্লোবালের কর্ণধার হাসান আবদুল গোফরান জানান, অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া এবং পরিবেশ অনেকটাই বাংলাদেশের মত হওয়ায়, আমেরিকা এবং কানাডার চেয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রতি আগ্রহ বেশী শিক্ষার্থীদের। তাছাড়া, পড়াশোনায় ভালো ফলাফল করলে, অস্ট্রেলিয়াতেই ক্যারিয়ার গড়ারও সুবর্ণ সুযোগ আছে।

 

বুধবারের এ আয়োজনে, শিক্ষার্থীরা অন স্পট  অ্যাসেসমেন্ট করিয়ে, অফার লেটারও দেয়া হয়। তাছাড়া, কোর্স, টিউশন ফি, ক্রেডিট ট্রান্সফার এবং স্কলারশিপ সম্পর্কেও সঠিক এবং বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়।

 

গত ৮ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা নিয়ে কাজ করছে লুমোস গ্লোবাল। বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, চায়না, শ্রীলংকা, মালেয়শিয়া এবং ফিজি-তেও কার্যক্রম পরিচালনা করছে লুমোস গ্লোভাল।

 

শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ হাজারের বেশি কোর্স এবং ২০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত স্কলারশিপ অফার করে অস্ট্রেলিয়া।

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের জন্য ৬০ হাজার ৯৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।পাসের হার ৪৫ দশমিক ৬২ শতাংশ।

ছবি: সংগৃহীত।

রবিবার বিকালে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন। ফলাফলে দেখা গেছে, ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য ৫ হাজার ৩৭২ জন পরীক্ষার্থী প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ভর্তির পরীক্ষা গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর মোট ১ লাখ ৩১ হাজার ৭২৯ জন পরীক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এবার কোটাসহ মেডিকেলে মোট আসন ৫ হাজার ৩৮০টি।

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল জানা যাবে। তাছাড়া স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের ওয়েবসাইটেও ফলাফল বিষয়ক তথ্য প্রকাশ করা হবে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তায়ও ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
 

নিজের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করতে চাওয়ায় বাবার গুলিতে প্রাণ হারালেন এক মেয়ে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র শহরের গোলা কা মন্দির এলাকায়।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানায় মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতেই মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেন তার বাবা মহেশ গুর্জার। নিহত মেয়ের নাম তনু গুর্জার।


পরিবারের পছন্দের ছেলের সঙ্গে চার দিন পর তনুর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তনু এতে রাজি না হয়ে নিজের প্রেমিক ভিকিকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মহেশ গুর্জার এই মর্মান্তিক কাজটি করেন।


ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে তনু একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। ৫২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘পরিবার আমাকে তাদের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করার জন্য জোর করছে। কিন্তু আমি ভিকি নামে একটি ছেলেকে ভালোবাসি এবং তাকে বিয়ে করতে চাই। পরিবার প্রথমে এটি মেনে নিলেও পরে অস্বীকার করে। তারা আমাকে প্রতিদিন মারধর করে এবং মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমার কিছু হলে এর জন্য আমার পরিবার দায়ী থাকবে।’

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট ধর্মবীর সিংয়ের নেতৃত্বে কর্মকর্তারা তনুর বাড়িতে যান। সেখানে পরিস্থিতি সমাধানের জন্য পঞ্চায়েতের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মহেশ গুর্জার দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তনুর বুকে গুলি চালান। একই সময় তার চাচাতো ভাই রাহুল তনুর কপাল ও ঘাড়ে গুলি করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তনুর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর মহেশ গুর্জারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র জব্দ করে। তবে রাহুল পালিয়ে গেছেন, তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তনুর প্রেমিক ভিকি উত্তর প্রদেশের আগ্রার বাসিন্দা। গত ছয় বছর ধরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। তনু চেয়েছিলেন এই সম্পর্ককে বৈধতা দিতে, কিন্তু পরিবারের আপত্তি তার জীবনের করুণ পরিণতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পুলিশ জানিয়েছে, তনুর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনা পারিবারিক সিদ্ধান্তের চাপ এবং সামাজিক বিধিনিষেধের ফলে ঘটে যাওয়া সহিংসতার একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।

আমদানির পর খালাস না নেওয়া গাড়ির বড় নিলাম ডাকতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা ৩১টি বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজারসহ ১০০ গাড়ি নিলামে বিক্রি হবে। শুল্কসহ এসব গাড়ির মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। ২১ জানুয়ারি নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পর্যটকদের জন্য বিশেষ সুবিধায় আমদানি করা ১১২টি গাড়ি ২০২১ সালের শেষের দিকে একসঙ্গে নিলামে তোলা হয়েছিল। প্রায় তিন বছর পর হতে যাচ্ছে আরেকটি বড় আকারের নিলাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, শুল্ক জটিলতাসহ নানা কারণে অনেকে বন্দর থেকে আমদানি করা গাড়ি ছাড় করাতে পারেন না। আমদানি পণ্য জাহাজ থেকে বন্দরে নামানোর ৩০ দিনের মধ্যে খালাস না নিলে বন্দর কর্তৃপক্ষ চালানের সব নথি কাস্টমসে হস্তান্তর করেন। আমদানিকারককে পণ্য খালাসের জন্য ১৫ দিনের সময় বেঁধে চিঠি দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে আমদানিকারক সাড়া না দিলে নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। মামলা না থাকলে পণ্য নিলামে তোলা হয়। আর মামলা থাকলে অপেক্ষা করতে হয় আইনি জটিলতা নিরসন পর্যন্ত। 

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, গত আগস্ট পর্যন্ত নিলামযোগ্য গাড়ি ছিল ৩৭২টি। এর মধ্যে কড়াকড়ি আরোপের কারণে কিছু গাড়ি ডেলিভারি নেওয়া হয়েছে। বাকি গাড়ির মধ্যে ১০০টি নিলামে তোলার প্রস্তুতি শেষ করেছেন কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার (নিলাম) মো. সাকিব হোসেন বলেন, ‘নিলামযোগ্য ১০০ গাড়ির ইনভেনট্রি শেষে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন পেলে নিলাম ডাকা হবে। ২১ জানুয়ারি বা তার আগেও নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।’ 

কাস্টম হাউসসূত্র জানান, বিক্রির তালিকায় থাকা গাড়ির মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা ৩১টি ল্যান্ডক্রুজার রয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর সংসদ ভেঙে যাওয়ায় শুল্কমুক্ত সুবিধা গ্রহণ করতে পারেননি সংসদ সদস্যরা।সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার গাড়ি আসন্ন নিলামে তোলা হচ্ছে। 

প্রচলিত নিয়মের পাশাপাশি এবার নিলাম হবে ই-অকশন পদ্ধতি বা অনলাইনে। তাই দেশের যে কোনো এলাকা থেকে যে-কেউ নিলামে অংশ নিতে পারবেন। 

পিলখানা হত্যা মামলায় জামিন পেয়েছেন প্রায় ২০০ আসামি। বিস্ফোরক মামলায় খালাসপ্রাপ্ত ও দণ্ডভোগ শেষ হওয়ায় তাদের জামিন দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) আদালতে হাজির করা হয়েছিল প্রায় ১০০ আসামিকে। সকালে কেরাণীগঞ্জ ও কাশিমপুর কারাগার থেকে আনা হয় আসামিদের। প্রথমে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে সাক্ষ্য দেন সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর ইউসুফ। সাক্ষ্যগ্রহণ ও জামিন শুনানি শেষে এই আদেশ দেয়া হয়। কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন অস্থায়ী আদালতে হয় শুনানি। পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি ধার্য করা হয়েছে।

আদালতের কার্যক্রম শুরুর খবর পেয়ে, ভোর থেকে বিডিআর জওয়ানদের জামিনের দাবিতে কারাগারের সামনে অবস্থান নেন স্বজনরা। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় কারাভোগ করেন এসব আসামি।

হত্যা মামলায় খালাস পেয়েও বিস্ফোরক মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে থাকায় বন্দি ছিলেন অভিযুক্ত বিডিআর সদস্যরা। বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটিয়ে বিচারপ্রার্থীরা কারামুক্ত হওয়ায় আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন আসামিদের স্বজনরা।

গত বুধবার রাতে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় নিজ বাসভবনে বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খানের ওপর ছুরি দিয়ে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় সাইফ গুরুতর আহত হন।

তিন দিন পর, মুম্বাই পুলিশ মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম শেহজাদ নামের ৩০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি বাংলাদেশি নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার কাছে কোনো ভারতীয় নথি পাওয়া যায়নি। আদালত শেহজাদকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে। মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, সাইফের বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে যাওয়ায় শেহজাদ তাকে ছুরিকাঘাত করে। এ ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 


সাইফ আলী খান বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল। এই হামলার ঘটনায় বলিউডে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। 

ছাত্র হত্যার দায়ে অভিযুক্ত পাবনা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সের সন্ধান মিলেছে। তিনি এখন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পালিয়ে রয়েছেন। গতকাল সিডনি প্রবাসী এক বাংলাদেশীর পোস্টের মাধ্যমে এ খবর সামনে আসে।

৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা হারায় ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার। দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। পরিস্থিতি টের পেয়ে ৫ তারিখের আগে-পরে দেশ ছাড়তে শুরু করেন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট মন্ত্রী-এমপিরা। দুর্নীতিবাজ প্রিন্স যেন পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য ২২ অক্টোবর তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। গোলাম ফারুক প্রিন্সের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎপূর্বক তার নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এছাড়াও, প্রিন্সের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ তিনজন ছাত্রকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। 

লাল চিহ্নিত ব্যক্তি গোলাম ফারুক প্রিন্স। 

৩০ ডিসেম্বর রাতে এক পোস্টের মাধ্যমে সিডনিতে পলাতক গোলাম ফারুক প্রিন্সের অবস্থান জনসম্মুখে নিয়ে আসেন, প্রবাসী বাংলাদেশী তানজিদ মাহমুদ তনয়। এসময় প্রিন্সকে সিডনির 'লিটেল বাংলাদেশ' খ্যাত ল্যাকেম্বার একটি রেস্টুরেন্টের সামনে কফি পানরত অবস্থায় দেখা যায়। তার সাথে ছিলেন, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

এখবর, প্রকাশ হওয়ার পর থেকে, অসন্তোষ এবং ক্ষোভ বাড়ছে কমিউনিটিতে। দাবি উঠছে, পলাতক আওয়ামী নেতাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার। এরইমধ্যে, ন্যায় বিচার নিশ্চিতে তনয়ের পোস্টে অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রী, এমপি এবং পুলিশকে ট্যাগ করে কমেন্ট করছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। শিগগিরি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ এবং স্মারকলিপি দেয়ার কাজ করছেন, কমিউনিটি নেতারা। 

শুধু গোলাম ফারুক প্রিন্স নয়, অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে আছেন, আওয়ামী লীগের ডজনখানেক নেতা-কর্মী।  

কারাগারে বন্দী থাকা ৯০ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল। গতকাল রোববার তাদের মুক্তি দেয়া হয়। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের দিন চুক্তির শর্ত মেনে, মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনিরা সবাই নারী ও শিশু।

ছবি: ইসরায়েলের কারাগারে দীর্ঘ কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছেন খালিদা জাররার।

ইসরায়েলের কারাগার থেকে যাঁরা মুক্তি পেয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন খালিদা জাররার। তিনি একাধারে রাজনীতিবিদ ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনের (পিএফএলপি) নেতা। খালিদা একসময় ফিলিস্তিনি পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন। নির্জন কারাকক্ষে রেখে তাকে নির্যাতন করত ইসরায়েল। মুক্তির পর খালিদা জাররার শীর্ণ চেহারা প্রমাণ করে কতটা বর্বর ইসরায়েল। যারা কিনা আন্তর্জাতিক আইনের কখনোই কোন তোয়াক্কা করে না। 

গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের প্রথম দিনে তিন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। জিম্মিদের রেডক্রসের হাতে তুলে দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীটি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও ওই তিন জিম্মির মুক্তির তথ্য জানিয়েছে।

ছবি: মুক্তি পাওয়া ইসরায়েলি নাগরিকরা (সংগৃহীত)।

জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া ওই তিনজন হলেন– ২৪ বছর বয়সী রোমি গোনেন ২৪, ডোরন স্টেইনব্রেচার (৩১) ও ২৮ বছর বয়সী এমিলি দামারি। এই জিম্মিদের ফেরত আনতে রেডক্রসের একটি দল দুপুরেই গাজার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। তাদের মাধ্যমেই ওই তিন ইসরায়েলি জিম্মিকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে, রোববার (১৯ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম দিনে তিন নারী জিম্মিকে মুক্তি দিলো হামাস। বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগার থেকে ছাড়া পাবে ৯০ ফিলিস্তিনি বন্দি। যাদের বেশিরভাগ নারী ও শিশু।

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক অ্যাপের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন অ্যাপল ও গুগল প্লে স্টোরেও অ্যাপটি পাওয়া যাচ্ছে না। রোববার (১৯ জানুয়ারি) বিবিসির অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কয়েক ঘণ্টা আগে অ্যাপটি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। মার্কিন ইউজাররা আর টিকটকে ঢুকতে পারছেন না। তারা অ্যাপটিতে প্রবেশ করতে চাইলে দেখানো হচ্ছে যে, টিকটকে একটি নিষেধাজ্ঞা চালু হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, এখন থেকে আপনারা টিকটক ব্যবহার করতে পারবেন না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, টিকটকের মালিকানার অন্তত ৫০ শতাংশ আমেরিকানদের হাতে থাকতে হবে। 

যুদ্ধবাজ বলে পরিচিত, ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন গাভীর পদত্যাগ করেছেন। রোববার (১৯ জানুয়ারি) মন্ত্রিসভায় পদত্যাগপত্র জমান দেন তিনি।

ছবি: বেন গাভীর (ফাইল ছবি)।

যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহুর জোট সরকার থেকেও সরে যাচ্ছে বেন গাভীরের কট্টর ডানপন্থি দল- জিউইশ পাওয়ার পার্টি। একইসাথে, পদত্যাগ করবেন দলটির আরও কয়েকজন মন্ত্রী। রোববার, সরকারের কাছে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেয়ার কথা তাদের। হামাসের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তির জেরে এ সিদ্ধান্ত নেন উগ্র ডানপন্থি নেতা গাভী। বৃহস্পতিবার যুদ্ধবিরতি চুক্তির অনুমোদন না দিতে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটকে হুমকি দেন তিনি।

তবে বেন গাভীর এবং তার দল জোট থেকে সরে গেলেই যে, খুব একটা বিপাকে পড়বে নেতানিয়াহু সরকার, ব্যাপারটা এমন নয়। কারণ জেপিপি’র অধীনে ছিল মাত্র ৬টি আসন। নেতানিয়াহুর জোট সরকারের আসন সংখ্যা ৬৮ থেকে কমে দাঁড়াবে ৬২-তে। যা পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকরের সঙ্গে সঙ্গে, যুদ্ধ বিধ্বস্ত গাজায় প্রবেশ করছে জরুরি ত্রাণবাহী ট্রাক। ইসরায়েলের দক্ষিণে কারেম শালম ও উত্তরের জিকিম সীমান্ত দিয়ে ত্রাণ নিয়ে গাজায় প্রবেশ করছে দুশ’রও বেশি ট্রাক, এমনটাই জানিয়েছে আরব নিউজ। 

ছবি: গাজায় ঢুকছে ত্রাণবাহী ট্রাক (সংগৃহীত)।

জাতিসংঘের দেয়া এসব ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ক্যানজাতীয় খাবার, আটা, জ্বালানিসহ জরুরি ওষুধপণ্য। ত্রাণ প্রবেশ করছে মিশর, জর্ডান ও ইসরায়েলের অন্যান্য সীমান্ত দিয়েও।যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিদিন ফিলিস্তিনে প্রবেশ করবে ত্রাণ সামগ্রী ভর্তি ৬০০টি ট্রাক। এর মাঝে ৫০টিতে থাকবে প্রয়োজনীয় জ্বালানি। এদিকে, সবচেয়ে বেশি মানবেতর সময় কাটানো গাজার উত্তরের এলাকাগুলোয় প্রতিদিন পৌঁছাবে ত্রাণভর্তি ৩০০ ট্রাক।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল সেলের উপসচিব মুহাম্মদ সাঈদ আলিকে। বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২ এর ১৭ ধারা অনুযায়ী এ নিয়োগ দেয়া হয়। 

গত ১০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মহাপরিচালক বাণিজ্য সংগঠন) ড.নাজনীন কাউসার চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, নিয়োগ করা প্রশাসক ১২০ দিনের মধ্য একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন হিসেবে যোগ দিয়েছেন মো. মুশফিকুর রহমান। তিনি এসএমই ফাউন্ডেশনের ৮ম চেয়ারপার্সন।

ছবি: মো. মুশফিকুর রহমান (সংগৃহীত)।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) বিষয়টি জানিয়েছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের এসএমই ফাউন্ডেশনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ আলম। 

জানুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে দেশে ১৪ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। তবে এই সময়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকসহ ৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। 

 ছবি: প্রথম ১৮ দিনে ৯ ব্যাংকে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি (সংগৃহীত) |

রোববার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে জানুয়ারির প্রথম দিন থেকে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) পর্যন্ত কোনো রেমিট্যান্স আসেনি এমন ব্যাংকের সংখ্যা ৯টি। এর মধ্যে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক ছাড়াও একটি বিশেষায়িত ব্যাংক, ৩টি বেসরকারি ব্যাংক ও ৪টি বিদেশি ব্যাংক রয়েছে।

এই ব্যাংকগুলো হলো- রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বিশেষায়িত খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেসরকারি খাতের কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, পদ্মা ব্যাংক পিএলসি ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংক।

এছাড়াও জানুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে বিদেশি খাতের হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও উরি ব্যাংকের মাধ্যমেও দেশে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি।

মার্কেটপ্লেস প্রতিষ্ঠান দারাজ বাংলাদেশ থেকে পদত্যাগ করেছেন খন্দকার তাসফিন আলম। দারাজে তিনি, চীফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। যোগ দিয়েছেন, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপে।

গত বছরের (২০২৪) ডিসেম্বর মাসই ছিল দারাজে তাসফিনের শেষ কর্ম মাস। জানুয়ারির ১ তারিখে, এক ফেইসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিজের পদত্যাগ এবং নতুন কর্মস্থলের কথা জানান তাসফিন আলম। 

এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে খন্দকার তাসফিন আলম যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপে । 

আজ থেকে শুরু হচ্ছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সাভারে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক মো. শরিফুল আলম। তিনি বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা জেলার সাভার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন।

নির্বাচন কমিশন জানায়, ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এই কার্যক্রম চলবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। নিবন্ধন কেন্দ্রে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে চলবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত।

তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হলে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু ছবি তোলে নিবন্ধন সম্পন্ন করার কাজ। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে।

ভোটার হতে যেসব তথ্যের প্রয়োজন হবে-

১. ১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্মসনদের কপি।
২. জাতীয়তা বা নাগরিকত্ব সনদের কপি।
৩. নিকট আত্মীয়ের (পিতা-মাতা, ভাই-বোন প্রভৃতি) এনআইডির ফটোকপি।
৪. এসএসসি, দাখিল, সমমান অথবা অষ্টম শ্রেণি পাশের সনদের কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
৫. ইউটিলিটি বিলের কপি (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা চৌকিদারি ট্যাক্স রশিদের ফটোকপি)।

ভোটার হওয়ার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে-

১. নিজের নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্ম নিবন্ধন বা শিক্ষা সনদের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে লিখতে হবে।
২. জন্ম তারিখ অবশ্যই জন্ম নিবন্ধন বা শিক্ষা সনদ অনুযায়ী হতে হবে।
৩. স্থায়ী ঠিকানা লেখার ক্ষেত্রে অবশ্যই ভোটারের প্রকৃত স্থায়ী ঠিকানা লিখতে হবে।
৪. কোনো অবস্থাতেই দ্বৈত বা দুইবার ভোটার হওয়া যাবে না।

বর্তমানে দেশে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ১৬০। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৭ ও নারী ভোটার ৫ কোটি ৯৭ লাখ ৪ হাজার ৬৪১ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯৩২ জন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের হিসাবে, ডিসেম্বরে মোট পণ্য আমদানি হয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ টন। এই আমদানি গত ৩৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বোচ্চ পরিমাণ পণ্য আমদানির রেকর্ড হয়েছিল ২০২২ সালের মার্চে। ওই মাসে ১ কোটি ৪৪ লাখ টন পণ্য আমদানি হয়েছিল।

ছবি: চট্টগ্রাম বন্দর (সংগৃহীত)।

গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি ব্যবসায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। ঋণপত্র খোলার জটিলতা, ডলারের বাড়তি দাম ও ব্যাংকের দুরবস্থার কারণে নতুন আমদানিকারকেরাও পুরোদমে আমদানি শুরু করতে পারছেন না। অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর কয়েক মাস রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ছিল মন্দাভাব। এসব কারণে ডিসেম্বরে আমদানি কমতে পারে বলে শঙ্কায় ছিলেন ব্যবসায়ীরাও। তবে ব্যবসায়ীদের সেই শঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। গত ডিসেম্বরে কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ পণ্য আমদানি হয়েছে।


শুধু পরিমাণে নয়, শুল্কায়ন মূল্যের দিক থেকেও দেড় বছরের মধ্যে আমদানির রেকর্ড হয়েছে ডিসেম্বরে। ডিসেম্বরে দেশে আমদানি হওয়া সব ধরনের পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য ছিল ৭৩৮ কোটি মার্কিন ডলার, যা ১৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বশেষ ২০২৩ সালের মে মাসে ৭৬৩ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল। পণ্যের দাম, পরিবহন ভাড়া ও বিমা খরচসহ পণ্যের দাম নির্ধারণ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, যা শুল্কায়ন মূল্য হিসেবে পরিচিত। শুল্কায়ন মূল্যের তুলনায় প্রকৃত আমদানি ব্যয় কম হয়।

এদিকে ডিসেম্বরের পণ্য আমদানির প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই–ডিসেম্বর) সার্বিকভাবে আমদানি বেড়েছে। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আমদানি হয়েছে ৬ কোটি ৮৫ লাখ টন পণ্য। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৫৮ লাখ টন। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পরিমাণের দিক থেকে আমদানি বেড়েছে ৪ শতাংশ।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতে রিজার্ভের পতন থেমেছে। ঋণপত্র খুলতে এখন ডলার পাওয়া যাচ্ছে। আমদানিতে যেসব সীমাবদ্ধতা ছিল, সেগুলো শিথিল হয়েছে। এসব কারণে বছরের শেষের দিকে আমদানি বেড়ে গেছে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করায় ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রাথমিক অনিশ্চয়তা কেটেছে। উদ্যোক্তারা ধীরে ধীরে ব্যবসা-বাণিজ্য ফিরে আসছেন। যার প্রভাব আমদানিতে দেখা যাচ্ছে।

নবীন উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। এতে ১৫ জন নারী ও পুরুষ উদ্যোক্তা অংশ নিয়েছেন।  

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উদ্যোক্তারা আর্থিকভাবে সাবলম্বী হয়ে ওঠার সংগ্রামের গল্প বলেনে প্রধান উপদেষ্টাকে। চান বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ।

সামাজিক ব্যবসা প্রসারে গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্ট থেকে পাওয়া বিনিয়োগ, কিভাবে শূন্য থেকে আর্থিক সাবলম্বী হয়ে উঠতে সহযোগিতা করেছে, সে সবের বর্ণনা দেন উদ্যোক্তারা। এজন্য প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান তারা।  

বৈঠকে অংশ নেওয়া উদ্যোক্তাদের অধিকাংশই গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্ট ও গ্রামীণ ট্রাস্ট থেকে বিনিয়োগ নিয়ে ব্যবসা করছেন। তাদের কেউ কেউ ষষ্ঠ ও পঞ্চমবারের মতোও বিনিয়োগ পেয়েছেন।  

উদ্যোক্তাদের সংগ্রামের গল্প শুনে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি তাদের কাছে উদ্যোক্তাদের জন্য আরও কী কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে সে সম্পর্কে জানতে চান।

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আপনাদের জীবনের গল্পগুলো ভীষণ অনুপ্রেরণাদায়ক। আমাদেরকে পরামর্শও দিন। আরও কী কী হলে উদ্যোক্তাদের জন্য ভালো হয় তা আমাদের বলুন।

বৈঠকে উদ্যোক্তারা গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্ট ও গ্রামীণ ট্রাস্টের সামাজিক ব্যবসা প্রসারে নবীন উদ্যোক্তাদের জন্য গৃহীত কর্মসূচির প্রচার-প্রচারণা বাড়ানোর পরামর্শ দেন। তারা বলেন, বেশিরভাগ লোকেরাই এই উদ্যোগগুলো সম্পর্কে জানে না। প্রচার-প্রচারণা বাড়ালে অনেক দরিদ্র লোক উপকৃত হবেন।

বিনিয়োগের পাশাপাশি উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্যও প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানান উদ্যোক্তারা।

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আর্কষণে হিটম্যাপ (রূপ রেখা) প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। এতে দেশের সম্ভাবনাময় ১৯টি খাতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

রোববার বিডা হিটম্যাপটি প্রকাশ্যে আনে। ভবিষ্যত্ বিনিয়োগের প্রচারে কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করবে সংস্থাটি।

এ ব্যাপারে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, এফডিআই হিটম্যাপ শুধু একটি পরিকল্পনা নয়। এটি আমাদের ভবিষ্যত্ বিনিয়োগের জন্য একটি রূপ রেখা। আমরা যে কোনো রোডশো, দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি বা নীতি সহায়তা এ তথ্য নির্ভর বিশ্লেষণ অনুসারে করব।   

এফডিআই হিটম্যাপে ১৯টি খাতকে তিনটি প্রধান মানদণ্ডের ভিত্তিতে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো বাজার প্রস্তুতি ও সম্ভাবনা, ইনপুট ফ্যাক্টরের প্রাপ্যতা (অভ্যন্তরীণ দিক), জাতীয় লক্ষ্য (এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য এবং ইএসজি বা পরিবেশ, সামাজিক দিক ও সুশাসন)। 

এক্ষেত্রে ‘এ' ক্যাটাগরি-কে বলা হচ্ছে তাত্ক্ষণিক লক্ষ্য। যা উচ্চ বাজার প্রস্তুতি, দ্রুত প্রবৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতামূলকভাবে সুবিধাজনক খাত। এই ক্যাটাগরিতে রয়েছে কোর অ্যাপারেল (পোশাক), ফার্মাসিউটিক্যালস বা ওষুধ, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, আইটি বা তথ্য প্রযুক্তি সক্ষম সেবা, উন্নত টেক্সটাইল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিখাত। ক্যাটাগরি ‘বি’ হলো দ্রুত প্রবেশযোগ্য খাত। এটি মধ্যম মানের বাজার প্রস্তুতি সম্পন্ন। তবে এটিও শক্তিশালী প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা রয়েছে। এই ক্যাটাগরিতে রয়েছে অটোমোটিভ পার্টস বা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রাংশ, ফুটওয়্যার, হালকা প্রকেৌশল ও চামড়া খাত। ক্যাটাগরি ‘সি’ তে রয়েছে লজিস্টিকস (আনুষঙ্গিক) এবং ইলেকট্রনিকস ও অ্যাসেম্বলি খাত। উন্নয়ন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই খাতে ইনপুট চ্যালেঞ্জ সমাধানে বিশেষ চুক্তি প্রয়োজন। এছাড়া ডি ক্যাটাগরিতে নীতি ও সক্ষমতা উন্নয়ন, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা এবং ইকোসিস্টেম উন্নয়নের প্রয়োজনীয় খাত। এই খাতে রয়েছে ব্যাটারি, মেডিকেল ডিভাইস,  টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, খেলনা, অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই), ও প্লাস্টিকখাত।  

বিডা জানায়, এফডিআই হিটম্যাপের কার্যকারিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ফোরাম, রোড শো এবং নীতি উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি একটি উপদষ্টো কাউন্সিল গঠন করে নীতিগত ঘাটতি পূরণ এবং ইকোসিস্টেম শক্তিশালীকরণের কাজও করবে তারা। বিডার নির্বাহী বিডার ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের প্রধান নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, বাংলাদেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি থাকা সত্ত্বেও, এফডিআই বর্তমানে জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে অবস্থান করছে। কিন্তু বৈশ্বিক গড় এফডিআই ৩ থেকে ৪ শতাংশ। হিটম্যাপ এই প্রবণতা পালটে দিতে পারে। হিটম্যাপটি প্রতি বছর পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হবে। এর লক্ষ্য বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ থাকা।

বিশ্ব বাজারে পাম অয়েলের দাম কমতে শুরু করেছে। সয়াবিন তেলের চাহিদা বেড়েছে বলেই কমে যাচ্ছে পামের দাম। ফলে খারাপ আবহাওয়ার কারণে মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের উৎপাদন কমা নিয়ে যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল তাতে স্বস্তি ফিরবে। এক প্রতিবেদনে বিজনেস রেকর্ডার এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের ডিসেম্বরে, ভারত পাঁচ লাখ টন পাম অয়েল আমদানি করে। যা নভেম্বরের চেয়ে ৪১ শতাংশ কম। ভারতের সরকার ও শিল্প কর্মকর্তারা জানুয়ারিতে পাম তেলের আমদানি পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন।

আগামী এপ্রিল ডেলিভারির জন্য বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে বেঞ্চমার্ক পাম অয়েল চুক্তির দাম ৭ রিঙ্গিত বা ০.১৭% বেড়ে ৪,১৯৩ রিঙ্গিত প্রতি মেট্রিক টন হয়েছে।

এদিকে, বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দামও কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫০ সেন্ট কমে ৮০ দশমিক ৭৯ ডলার হয়েছে। তাছাড়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টার মিডিয়েটের দাম ৮০ সেন্ট কমে ৭৭ দশমিক ৮৮ ডলার হয়েছে।
 

করের ভারে জর্জরিত বাংলাদেশের টেলিকম শিল্প। এতে সেবাগ্রহীতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ করহারের কারণে টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের আগ্রহ বেশ কম। যা নতুন প্রযুক্তি প্রসারে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর মধ্যে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এয়ারটেল, সিংটেল, ওয়ারিদসহ বেশ কিছু বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান।

মোবাইল ফোন সেবায় সমপর্যায়ের বাজার ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর বাংলাদেশে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাতের ওপর সম্পূরক শুল্ক ছিল ৩ শতাংশ। এর পর থেকে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ নিয়ে আসে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। এমন পরিস্থিতিতে, মোবাইল ফোন সেবার ওপর সম্প্রতি আরও ৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টদের অভিমত, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর দিতে হচ্ছে বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের।

বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট এন্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স তাইমুর রহমান বলেন, বিশ্বব্যাপী টেলিকম খাতে বাংলাদেশের মতো এমন ট্যাক্স কম আছে। প্রতি বছরই আমাদের ওপর (টেলিকম খাতে) কর বাড়ে। কর বাড়ার কারণে গ্রাহকদের ওপর চাপ বাড়বে। কেননা কর বাড়লে গ্রাহকদের থেকে সেটা আমাদের নিতে হয়।

বর্ধিত কর হারের জন্য বিনিয়োগকারীরা অন্যত্র সরে যাওয়ার আশঙ্কা করে তিনি আরও বলেন, কর বাড়ার কারণে ভুল ইঙ্গিত যাচ্ছে আমাদের বিনিয়োগকারীদের মাঝে। আমাদের যারা মাল্টিন্যাশনাল বিনিয়োগকারী আছে। তারা যদি দেখে একটা দেশে বিনিয়োগ করে লাভ হচ্ছে না। তাহলে তারা তো ভাববে আমি কেনো এখানে বিনিয়োগ করবো। আমার মনে হয় তারা বিনিয়োগ অন্য জায়গায় নিয়ে যাবে। এটা আমাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

উচ্চ করহারের কারণে এ খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ হারাবে। যা নতুন প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগের প্রসারে বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন ডিজিটাল সেবা গ্রহীতিরা।

রবির চিফ কর্পোরেট এন্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স শাহেদুল আলম বলেন, অনেক দেশে কিন্তু আলাদাভাবে মোবাইলে কোনো ট্যাক্স নেই। কিন্তু আমাদের দেশে মোবাইলে ট্যাক্স আছে। আমরা যেটা দেখছি, অন্যান্য দেশে যখন ট্যাক্স কমানো হয়েছে, ভোক্তাদের পরিসর বেড়েছে এতে সরকারের আয় বেড়েছে তেমনি বিনিয়োগও বেড়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে এখানে পুরো উল্টো।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের ফলে করের বোঝা টানতে হবে গ্রাহককে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের খরচ কিন্তু কম। তার যখন খরচ বেড়ে যাবে। সে তখন তার খরচ কমায় নিয়ে আসবে। যার ফলে সরকার বিশ্বব্যাপী খরচের ব্যাপারে যে আশা করছে। তা সম্পূর্ণ বিফলে যাবে।

উল্লেখ্য, জিএসএমএ ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের করনীতি নিয়ে একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, মোবাইল ফোন সেবায় প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর বাংলাদেশে। এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক গড় ২২ শতাংশ। বাংলাদেশে যা দ্বিগুণের বেশি।
 

বাংলাদেশি আউট-অফ-হোম (OOH) বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি স্টার্টআপ, অ্যাডেফি লিমিটেডে বিনিয়োগ করেছে বাংলাদেশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল লিমিটেড (বিভিসিএল)। সিড রাউন্ডে এক কোটি টাকার এ বিনিয়োগ পেয়েছে চলন্ত গাড়ির মোবাইল বিলবোর্ড সুবিধা চালুকারী স্টার্টআপটি।

বিভিসিএল ড্যাফোডিল পরিবারের একটি অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান। অ্যাডেফি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও এমডি বিনয় বর্মণের হাতে চেকটি তুলে দেন ড্যাফোডিল পরিবারের চেয়ারম্যান সবুর খান । এসময় বিডিজবস ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর, বিভিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়াও আউটডোর বিজ্ঞাপন প্রচারণা প্রক্রিয়া সহজতর করতে দেশে একটি অ্যাডভান্সড ট্র্যাকিং এবং এনালিটিক্স টুল সমন্বিত আউটডোর মার্কেটপ্লেস চালু করেছে অ্যাডেফি কোম্পানিটির প্ল্যাটফর্ম ব্র্যান্ডগুলোকে টার্গেট অডিয়েন্স এর ডেমোগ্রাফিক, ইন্টারেস্ট এবং লোকেশন অনুযায়ী তাদের অ্যাড প্লেসমেন্ট এর সুবিধা দিচ্ছে।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, জেন বাংলাদেশ এবং উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা বিভাগ ‘ফাউন্ডার্স ইনসাইট’-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত একটি প্যানেল আলোচনা শেষে গত ১৮ জানুয়ারি বিনিয়োগের চেকটি হস্তান্তর করা হয়।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিশ্বের ১৩৭টিরও বেশি দেশে ৮৪ কোটি মার্কিন ডলারের আইসিটি পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বেসিস আয়োজিত ‘বাংলাদেশ : দ্য ইমার্জিং আইসিটি পাওয়ার হাউজ’ শীর্ষক সেমিনারে এমন তথ্য জানান সংগঠনটির প্রশাসক ড. মুহম্মদ মেহেদী হাসান। ঢাকার
পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের পলিসি অ্যাডভাইজার (সমন্বয় এবং সংস্কার) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, জাইকার বাংলাদেশ প্রধান ইচিগুচি তোমোহিদে, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক বেবী রানী কর্মকার।

সেমিনার সঞ্চালনা করেন বেসিস সহায়ক কমিটির সদস্য ফিদা হক। স্বাগত বক্তব্যে বেসিস প্রশাসক বলেন, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে বেসিস ১৯৯৮ সালে মাত্র ১৮টি সদস্য থেকে শুরু করে আজ ২ হাজার ৬৫০টিরও বেশি সফল সদস্যের জাতীয় বাণিজ্য সংগঠনে রূপান্তরিত হয়েছে।

এ সময় নতুন নতুন উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করতে, সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সব স্টেকহোল্ডারদের সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান ফিদা হক। 

সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বেসিস সহায়ক কমিটির চেয়ারম্যান রাফেল কবির। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে দক্ষ জনশক্তি তৈরি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোস্তফা জালালের  বিরুদ্ধে হত্যা মামলা থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ফাইল ছবি।

সোমবার ভোরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মনসুরাবাদ হাউজিং এলাকা থেকে মোস্তফা জালালকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

ফ্যাসিস্ট আমলে সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের ওপর জুলুম চালানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আরো বলেন, সেই সময় সংবাদ মাধ্যম যদি সত্যকে পুরোপুরি তুলে ধরতে পারতো তাহলে ফ্যাসিস্টরা চেপে বসতে পারতো না। দৈনিক সংগ্রামের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

ছবি: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান (ফাইল ছবি)।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকালে মগবাজারে দৈনিক সংগ্রামের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। জামায়াত আমির জানান, সাংবাদিকদের সেনাপতি হয়ে সত্য প্রকাশে সর্বদা অবিচল থাকতে হবে। পরিস্থিতি যেমনই হোক সত্য প্রকাশে পিছপা না হওয়ার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ শহিদের নতুন সংজ্ঞা দিয়েছিল। তারা যাদের শহিদ বলবে তারাই শহিদ আর কেউ নয়। জাতির পাশাপাশি তারা সংবাদ জগতের ওপরও তাণ্ডব চালিয়েছে। জাতির দর্পণ ও বিবেক হিসেবে সাংবাদিকরা যদি ভূমিকা পালন করতেন ফ্যাসিবাদী শাসন এইভাবে জাতির ওপর জেঁকে বসতে পারতো না।

আমির আরও জানান, সংবাদ সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলবে। এখানে কোনো সাংবাদিকের নিজস্ব বক্তব্য সংযোজন হবে না। সত্য থেকে কিছু বিয়োজনও হবে না। ফ্যাসিবাদী আমলে এটি একবারেই হয়নি। এখনও এর কিছু কালো ছায়া আমরা লক্ষ্য করি বলেও মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে; মত প্রকাশের জন্য কাউকে হয়রানি করা যাবে না। কোনো সরকারের আমলেই যেন কোন সাংবাদিককে যেন চাকরিচ্যুত করা না হয়। একইসাথে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আটক না করতে আইন করতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মাহমুদুর রহমান।

সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সোবহান গোলাপের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সাথে তার স্ত্রী গুলশান আরা মিয়া, ছেলে ইভান সোবহান মিয়া ও মেয়ে আনিশা গোলাপ মিয়ার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোকেরও আদেশ দেয়া হয়েছে। 

(ফাইল ছবি)

রোববার (১৯ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, আবদুস সোবহান গোলাপ ও তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে থাকা সম্পদ ক্রোকের তালিকায় আছে মিরপুরের একটি পাঁচতলা বাড়ি। এর বাইরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ৯টি স্থাবর সম্পদ। এর মধ্যে আটটি হচ্ছে সিঙ্গেল রেসিডেনসিয়াল কন্ডো ইউনিট। আরেকটি হচ্ছে ডুয়েল ফ্যামিলি ইউনিট।

আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচার, বাড়ি ও ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক। আবদুস সোবহান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে কমিশন।

এ ছাড়াও আবদুস সোবহান গোলাপ, তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন আবদুস সোবহান গোলাপ।

শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে গুম, খুন আর অর্থ পাচার করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শহীদ আসাদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ অর্পণ শেষে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির ৯০’র ডাকসু নেতাদের উদ্যোগে শহীদ আসাদ দিবস উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।

ছবি: সংগৃহীত।

আমান উল্লাহ আমান আরো বলেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রত্যাশা হল ভোটের অধিকার পাবে দেশের মানুষ। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ দিবে, তাতে জনগণের সরকার কায়েম হবে।

সবশেষে তিনি জানান, বিএনপি ও দেশের মানুষ প্রত্যাশা করে নির্বাচন দিবে সরকার। যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দেওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন আমান।

এ সময়  শহীদ আসাদের ছোট ভাই ডা. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, পাঠ্যবইতে শহীদ আসাদের ইতিহাস যুক্ত করতে হবে। আসাদের স্মৃতিফলক ও আসাদ গেট সংরক্ষণ করার দাবিও  জানান তিনি।

রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি স্মৃতিস্তম্ভে তার পরিবার ও বিভিন্ন সংগঠনও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার বাহিনীর পোশাকে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সোমবার (২০ জানুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ছবি: পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার।

জানা গেছে, বৈঠকে আয়রন, রয়েল ব্লু, ডিপ খাকি, ডিপ ব্লু, জলপাইসহ কয়েকটি রংয়ের পোশাকের মডেল উপস্থাপন করা হয়। সেখান থেকে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তিন বাহিনীর জন্য আলাদা আলাদা রংয়ের পোশাক চূড়ান্ত করা হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুলিশের পোশাকের রং হচ্ছে ‘আয়রন’। র‌্যাবের পোশাক হচ্ছে 'জলপাই বা অলিভ' রংয়ের। আর আনসারের পোশাকের রং হচ্ছে ‘গোল্ডেন হুইট’।

পোশাক পরিবর্তনের কারণ হিসেবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘এসব সদস্যদের মানসিকতার পরিবর্তন করতেই পোশাকের পরিবর্তন করা হচ্ছে। মনোবল বৃদ্ধি ও দুর্নীতিরোধসহ নানান বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।’

রাতটা ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের। তার জোড়া গোলে পালমাসকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পালমাসকে আতিথ্য দেয় রিয়াল। নিষেধাজ্ঞা থাকায় ভিনিসিয়ুসকে ছাড়াই খেলতে হয় লস ব্লাঙ্কোসদের। ম্যাচে রিয়ালের হয়ে একটি করে গোল করেন ডিয়াজ ও রদ্রিগো।

আগের দিন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হার ও বার্সেলোনার ড্রয়ের পরই টেবিল টপার হওয়ার দারুন সুযোগ পায় রিয়াল। সেই সুযোগ হাতছাড়া করেনি এমবাপ্পেরা।

ম্যাচের একদম প্রথম মিনিটেই ফাবিও সিলভার গোলে লিড নেয় পালমাস। তবে, ১৮ মিনিটে রদ্রিগোকে ডি বক্সে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় রিয়াল, স্পট কিকে গোল শোধ দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

এরপর ৩৩ মিনিটে রিয়াল লিড পায়  ব্রাহিম ডিয়াজের পায়ে। তিন মিনিট পর রদ্রিগোর দেয়া পাসে এমবাপ্পের গোলে ৩-১ এ এগিয়ে যায় লস ব্লাঙ্কোসরা। ৩-১ এ লিড নিয়ে বিরতিতে যায় রিয়াল।

দ্বিতীয়ার্ধের ১২ মিনিটে এমবাপ্পের করা অ্যাসিস্টে গোলের দেখা পান রদ্রিগো। তাতেই ৪-১ গোলের লিড পায় রিয়াল। ৬২ মিনিটে ভাস্কেসকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখে রামিরেস মাঠ ছাড়লে দশ জনের দলের পরিণত হয় পালমাস।

এরপর আর গোল না হলে শেষ পর্যন্ত ৪-১ এর জয়ে মাঠ ছাড়ে লস ব্লাঙ্কোসরা। আর তাতেই অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে টপকে এখন ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার শীর্ষে আনচেলত্তি শিষ্যরা। ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে তিনে বার্সা।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রেলপথে 'সৈকত' ও 'প্রবাল' এক্সপ্রেস নামে দুই জোড়া নতুন ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ সিদ্ধান্তে খুশি কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকরা।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) রেলওয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজার ও তৎসংলগ্ন এলাকার যাত্রী এবং পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণের জন্য চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে ২ জোড়া ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি হলো ৮২১/৮২৪ (সৈকত এক্সপ্রেস) ও ৮২২/৮২৩ (প্রবাল এক্সপ্রেস)। ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে সোমবার।

সৈকত এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে ছাড়বে ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে, ষোলশহর, জানালীহাট, পটিয়া, দোহাজারী, সাতকানিয়া, চকরিয়া, ডুলাহাজারা, রামু হয়ে কক্সবাজার পৌঁছাবে ৯টা ৫৫ মিনিটে। সৈকত এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে ছাড়বে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে, চট্টগ্রাম পৌঁছাবে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে। প্রবাল এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে ছাড়বে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে, চট্টগ্রাম পৌঁছাবে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে। চট্টগ্রাম থেকে ছাড়বে বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে, কক্সবাজার পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৭টায়। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রেলপথের এই দুটি ট্রেন বিরতি দেবে ৪টি স্টেশনে।

বন্ধু দেশ চীনের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে উভয় পক্ষ বিভিন্ন কর্মসূচি নিতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনকে ২৪ টি প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। উভয় পক্ষের সম্মতিতে এসব প্রস্তাব গৃহীত হতে পারে।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) বেইজিং সফরে যাচ্ছেন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন। সফরকালে আগামীকাল ২১ জানুয়ারি চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়াং ই'য়ের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনকে ২৪ টি প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। সেগুলো হলো:

১. উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও অন্যান্য মন্ত্রী পর্যায়ের সফর বিনিময়।

২. বাংলাদেশের তরুণ নেতাদের চীনে, চীনা তরুণ নেতাদের বাংলাদেশে সফর।

৩. বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী/নাগরিক সমাজের সদস্যদের চীন সফর বিনিময়।

৪. বাংলাদেশ ও চীনের মিডিয়া/থিঙ্কট্যাঙ্ক সদস্যদের সফর বিনিময়।

৫. বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ক্রীড়া দলের সফর বিনিময় ।

৬. বাংলাদেশ ও চীনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি।  

৭. চীনা হাসপাতালে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই।

৮. পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একে অপরের রাজধানীতে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা।

৯. বাংলাদেশ এবং চীনা শহরগুলোর মধ্যে সিস্টার সিটি চুক্তি।

১০. বেইজিং, সাংহাই, কুনমিংয়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী। বাংলাদেশ থেকে চীনে সাংস্কৃতিক দলের সফর।

১১. চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অনুষ্ঠানের আয়োজন।

১২.  আগামী ৪ অক্টোবর  ঢাকা এবং বেইজিং উভয় স্থানে একযোগে স্মারক ডাকটিকিট এবং খামের যৌথ প্রকাশ।

১৩. বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ঢাকায়  সিম্পোজিয়াম আয়োজন।

১৪. চীনের জাতীয়  নারী  ক্রিকেট দলের সাথে প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে  জাতীয় নারী  ক্রিকেট দলকে চীনে পাঠানো।

১৫. বেইজিং, কুনমিং, সাংহাই, হংকং'য়ে  খাদ্য উৎসব আয়োজন।

১৬. দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ তম  বার্ষিকীতে আগামী  ৪ অক্টোবর  চায়না ডেইলি বা অন্য কোনও চীনা সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা।

১৭. চীনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন।

১৮. মেঘনা/পদ্মা নদীতে নৌকা বাইচ আয়োজন।

১৯. ঢাকায় চীনা দূতাবাসের সাথে যৌথভাবে ঘুড়ি উৎসব আয়োজন।

২০. বেইজিং/হংকংয়ে বাংলাদেশ সঙ্গীত উৎসব আয়োজন।

২১. বেইজিং এবং সাংহাইয়ে একক দেশের  বাণিজ্য মেলা আয়োজন।

২২. কুনমিং/সাংহাইয়ে বাণিজ্য প্রদর্শনীর আয়োজন।

২৩. চীনা বিনিয়োগকারী/তরুণ চীনা ব্যবসায়ী নেতাদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো।

২৪. চীনা বিনিয়োগ বাংলাদেশে  আনতে   সাংহাইয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ সেমিনার আয়োজন।

 

ব্রাদার্স ইউনিয়নের বর্তমান আহ্বায়ক ইশরাক হোসেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাউন্সিলরের জন্য ইশরাক হোসেনের নাম আবেদন করেছে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবটি। গত ১৩ জানুয়ারি ব্রাদার্সের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ আরেফ বিসিবি সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বরাবর একটি চিঠি দেন। 

বর্তমানে বিসিবিতে ব্রাদার্স ইউনিয়নের কাউন্সিলর দলটির ক্রিকেট ম্যানেজার আমিন খান। গত ৫ জানুয়ারি তিনি বিসিবিতে ব্রাদার্সের কাউন্সিলর থেকে পদত্যাগ করে বিসিবিতে চিঠি দেন। এরপরই ক্লাবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশরাক হোসেন কাউন্সিলর হিসেবে অন্তর্ভুক্তির অনুরোধ জানিয়ে বিসিবিকে চিঠি দেয় ব্রাদার্স।

বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউন্সিলরদের মেয়াদও চার বছর। বিসিবি এই সময়ের মধ্যে সাধারণত কাউন্সিলর পরিবর্তন করতে পারবে না সাধারণ নিয়মে। কোনো কাউন্সিলরের মৃত্যু, স্থায়ী বিদেশ বা পদত্যাগের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে বিদ্যমান কাউন্সিলর পদত্যাগ করলে ক্লাব/সংস্থা থেকে নতুন কাউন্সিলরের নাম বিসিবির বোর্ড সভায় উঠবে।বোর্ড সভায় অনুমোদন হলে প্রস্তাবিত কাউন্সিলর পরিবর্তিত কাউন্সিলর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। 

ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বিএনপির আর্ন্তজাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সিনিয়র সদস্য। এছাড়াও তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ছিলেন। ইশরাকের বাবা ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। তিনি ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ডাকসাইটে কর্মকর্তা ছিলেন। বাবার  অনুসরণ করতেই ইশরাক ব্রাদার্সের হাল ধরেছেন। আসন্ন বিসিবি নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটাগরিতে পরিচালক পদে ইশরাকের নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে।  

কোনো নীতিমালা ছাড়া সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতা প্রয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২০ জানুয়ারি) জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইনসচিব, সরাষ্ট্র সচিব, পার্লামেন্ট সচিব ও রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিবকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে কোনো নীতিমালা ছাড়া সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতা কেন অসাংবিধানিক হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতা প্রয়োগে নীতিমালা করার আবেদনও জানানো হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতা রয়েছে। এ ক্ষমা করার ক্ষমতা অবাধ, যার কোনো নীতিমালা নেই। কে, কিসের ভিত্তিতে ক্ষমা পাচ্ছে তার কোনো নীতিমালা নেই। যা সংবিধানের ৭, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এরইমধ্যে এ ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে অনেক সাজাপ্রাপ্ত আসামি ক্ষমা পেয়েছে। যার মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান আব্দুল আজিজের ভাই জোসেফ, আসলাম ফকির অন্যতম।

আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, অনেক বছর ধরে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করার ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাজাপ্রাপ্ত খুনিদের ক্ষমা করা হয়েছে। এর ফলে, সাধারণ জনমনে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আশংকা তৈরি হয়েছে। এ ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে, নীতিমালা প্রণয়ন আবশ্যক।

দেশের ওয়ার্কশপ খাতের উপর ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার হতে যাচ্ছে। আগের মতোই ১০ শতাংশই থাকছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খানের সঙ্গে আলোচনা শেষে এনবিআর থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়।

এনবিআর জানায়, গত ৯ জানুয়ারি অধ্যাদেশ জারি করে ওয়ার্কশপ খাতে ভ্যাট বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছিল। তবে সেটি আবারও আগের হারে ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ওয়ার্কশপে ভ্যাট ১০ শতাংশই থাকছে। এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি হোটেল, রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছিল এনবিআর।

নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি করায় দেশের রিটেইল চেইনশপ মিনা বাজারকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ভুক্তভোগী একজনের অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার (১৯ জানুয়ারি) সকালে ভোক্তা অধিদপ্তরের উপপরিচালক রিনা বেগম শুনানি শেষে মিনা বাজারকে জরিমানা করেন।

 

প্রতীকী ছবি।

এদিন শুনানিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রিনা বেগম উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি নথি-পত্র যাচাই করেন। এতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মিনা বাজারকে ২ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন তিনি। শুনানির সময় অভিযোগকারী ও মিনা বাজারের একজন প্রতিনিধি ছাড়াও তাদের পক্ষে একজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি সুপারশপ ‘স্বপ্ন’র একটি আউটলেটে অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ওই অভিযানে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের (বিএটি) উৎপাদিত সিগারেট প্যাকেটে মুদ্রিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের চেয়ে অনেকটা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। পরে স্বপ্ন’র ওই আউটলেট কর্তৃপক্ষ বেশি দামে সিগারেট বিক্রির অভিযোগ স্বীকার করায় তাৎক্ষণিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

পরবর্তীতে এক শুনানিতে স্বপ্ন ও ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকোকে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা পরিশোধের আদেশ দেয় ভোক্তা অধিদপ্তর। এছাড়া অপর একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবাদুস সালাম (মেট্রো-৪) স্বপ্ন সুপার শপকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

বিয়ে করেছেন একসময়ের দাপুটে অভিনেত্রী তমালিকা কর্মকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনেত্রীর এক পোস্টে জানা গেল সেই খবর। পোস্টে স্বামী প্রভীনকে বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান অভিনেত্রী।

ছবি: যুক্তরাষ্ট্রে স্বামীর সঙ্গে তমালিকা কর্মকার। 

পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন তমালিকা কর্মকার। এরমাঝে কয়েকবার দেশে এসেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারুণ সক্রিয় এই অভিনেত্রী। জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিষয় পোস্ট করেন তিনি।

ছবি: যুক্তরাষ্ট্রে স্বামীর সঙ্গে তমালিকা কর্মকার। 

সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকালে নিজেই জানালেন জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা শুরুর সংবাদ। একটি পোস্টে স্বামী প্রভীনকে বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান অভিনেত্রী। সেখানে দুজনের ছবিও প্রকাশ করেন। এরপর একটি রিল প্রকাশ করেন যেখানে দুজনের একাধিক ছবি ছিল। অভিনেত্রীর প্রতিটি ছবিতেই স্বামীর সঙ্গে তাকে দারুণ খুশি দেখাচ্ছিল। দুজনের অনেক সুন্দর সময় কাটছে সেটা তাদের ছবিগুলো থেকেই স্পষ্ট। 

বর্তমানে আইসিইউতে রয়েছেন সাইফ আলী খান। কয়েকদিন আগেই বাড়িতে প্রবেশ করে মধ্যরাতে ছুরিকাঘাত করা হয় বলিউডের এই অভিনেতাকে। দুর্বৃত্তের এ হামলায় গুরুতর জখম হয়ে পড়েন অভিনেতা। পরে মুম্বাইয়ের লীলাবতি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। 

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি ভাইরাল ছবি।

সাইফের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তার কাছে পরিবারের সদস্য ছাড়া কাউকে যেতে দেয়া হয়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দেখা গেছে―বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খান, সালমান খান ও বিরাট কোহলির মতো দাপুটে তারকারা হাসপাতালে গিয়ে দেখা করেছেন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছেন সাইফ। মন খারাপ। আর তার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাকে দেখতে যাওয়া অভিনেতারা।

এসব ছবি ছড়িয়ে পড়তেই জানা যায়, ছবিগুলো আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (এআই), অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এসব ছবিই ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

এবার ভাইরাল হওয়া সেই ছবিগুলোর পোস্টের নিচে একজন শাকিব খান ভক্ত মন্তব্য করেছেন, এআই দিয়ে সাইফের পাশে শাকিব খানকে নিয়ে যাওয়া যায় না? এ মন্তব্যের পরই সেখানে একজন এআই দিয়ে শাকিব খানকে সাইফের কাছে নিয়ে যাওয়ার ছবি পোস্ট করেন। যেখানে দেখা যায়, সাইফকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন ঢালিউড তারকা শাকিব খান। যা শুধুই এআই দিয়ে তৈরি।

বলি তারকার ওপর ছুরিকাঘাতের হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি শরীফ উল ইসলাম শেহজাদ নামের একজনকে এরইমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ। এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাকে।

প্রায় ৬৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও ২৫৮ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক এমপি আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে দুদক কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য জানান।

ছবি: আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার ও তার মেয়ে তাহসিন বাহার সূচনা (ফাইল ছবি)।

তিনি জানান, পৃথক আরও দুটি মামলা হয়েছে সাবেক এমপি বাহারের মেয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সূচনা এবং স্ত্রী সেহেরুন নেসা বাহারের বিরুদ্ধে।

তাহসিন বাহার সূচনার বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি ৪২ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুদক। একই সাথে সম্পদ বিবরণী জমা দেয়ার নোটিশও দেয়া হয়েছে সূচনাকে।

এছাড়া, সেহেরুন নেসা বাহারের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় আ ক ম বাহারকেও আসামি করা হয়েছে।

ভারতের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস ১৮’-এর বিজয়ীর মুকুট জিতলেন অভিনেতা করণবীর মেহরা।

১০৪ দিনের নানা নাটকীয়তা শেষে গতকাল রোববার রাতে ঘোষণা করা হয় বিজয়ীর নাম। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক অভিনেতা সালমান খান বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেন। পুরস্কার হিসেবে এদিন ৫০ লাখ রুপির নগদ পুরস্কারের সঙ্গে সোনার ট্রফি জেতেন তিনি। এই গ্র্যান্ড ফিনালেতে করণ ছাড়াও আরেকজন ফাইনালিস্ট ছিলেন, ভিভিয়ান ডিসেনা। তিন মাস আগে করণ জিতেছিলেন রিয়েলিটি শো ‘খতরো কে খিলাড়ি ১৪’-এর মুকুট।
এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনুভূতি ব্যক্ত করে করণ বলেন, ‘আমি ভীষণ খুশি। আমার নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল। আমি কঠিন পরিশ্রম করেছি। এখানে এসে আমি নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছি।’

ভিভিয়ান ডিসেনার সঙ্গে করণের লড়াই হয়েছে সেয়ানে–সেয়ানে। ভিভিয়ানকে তিনি বলেন, ‘যখন দুজন মানুষ একটা ট্রফির জন্য লড়াই করে, তখন সম্পর্কে একটা তিক্ততা আসবেই। কিন্তু আমার ওকে দেখে হিংসাও হতো।

কারণ, ও সব জিনিস অনেক সহজভাবে পেয়ে গেছে। আর এটা আমি শোয়েও বারবার বলেছি। কিন্তু সত্যিই ও খুব ভালো একজন মানুষ। আর সেই কারণে আমি ওকে পছন্দ করি।’

এদিন ফাইনালের বড় আকর্ষণ ছিল বলিউড অভিনেতা আমির খানের উপস্থিতি। প্রথমবারের মতো এ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন আমির। এদিন ১৯৯৪ সালের হিট ছবি ‘আন্দাজ আপনা আপনা’র দৃশ্য আবার মঞ্চে ফেরালেন দুই অভিনেতা। সঞ্চালক সালমান খানের বাইকে চড়েন আমির। ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন বাজছিল এই সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘দো মাস্তানে চলে জিন্দেগি বনে।’

সহকারী প্রযোজক আতোয়ার শিকদার নামের একজন কর্মীকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, চ‍্যানেল আইয়ের নীতি পরিপন্থী কাজ করায় সংশ্লিষ্ট কর্মীকে অব‍্যহতি দেওয়া হয়েছে।

নিকাব পরে টকশোতে অংশ নেবে জানানো পর চ্যানেল আইয়ের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানিয়েও বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক বিশেষ সেলের সহ-সমন্বয়ক নাফিসা ইসলাম সাকাফি। তার অভিযোগ আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কাজে জড়িত এক কর্মীকে অব্যাহতি দিয়েছে বেসরকারি চ্যানেলটির কর্তৃপক্ষ।

অব্যাহতি পত্রে বলা হয়, ‘৩৬ জুলাই’ অনুষ্ঠানের সহকারী প্রযোজক হিসেবে নির্ধারিত অতিথির সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের সময় আপনার বক্তব্য ‘চ্যানেল আই’ এর ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক আলোচনার সূত্রপাত করেছে। একজন সম্মানিত অতিথির সাথে আপনার এরূপ বক্তব্য চ্যানেল আই এর নীতি ও চর্চার পরিপন্থী। আপনার এই দায়িত্বহীন আচরণের কারণে আপনাকে ‘চ্যানেল আই’ এর সকল কর্মকাণ্ড থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।

দ্রুত তাকে অনুষ্ঠান সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র ও ডকুমেন্ট হস্তান্তর করার জন্যও বলা হয় চ্যানেল আইয়ের পক্ষ থেকে।

এরআগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক বিশেষ সেলের সহ-সমন্বয়ক নাফিসা ইসলাম সাকাফি অভিযোগ করেন, ‘আজকে (শনিবার) বিকেল ৩টায় চ্যানেল আই-এ একটা টকশোতে অ্যাটেন্ড করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমি যাবো বলে চ্যানেল আই এর শিকদার (আতোয়ার শিকদার) ভাইকে জানাই। কিছুক্ষণ আগে শিকদার ভাই কল দেওয়ার পর আমি উনাকে জানাই, ‘আমি নিকাব করে টকশোতে অ্যাটেন্ড করবো।’ এরপর শিকদার ভাই, জাহিদ ভাইকে জানায়, নিকাব করে টকশোতে অ্যাটেন্ড করা যাবে না।’

সাকাফি আরও জানান, ‌‘জাহিদ ভাই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করলে, আমি মাস্ক পরে টকশোতে অ্যাটেন্ড করবো জানাই। জাহিদ ভাই, শিকদার ভাইকে সেটা জানায়। কিন্তু চ্যানেল আই এক্ষেত্রে আমাকে অ্যালাউ করেনি। আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে টকশোর জন্য নেবে জানায়। জাহিদ ভাই, শিকদার ভাইকে বলে, ‘নিকাব করে মেয়েরাও আন্দোলন করেছে। নিকাব করে কেন টকশোতে অ্যাটেন্ড করা যাবে না?’ শিকদার ভাই জানায়, এটা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ডিসিশন।’

এদিকে সাকাফির দেওয়া এই ফেসবুক স্ট্যাটাস মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকে এমন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানান। অবশ্য দুপুরে চ্যানেলটির পক্ষ থেকে তাদের ফেসবুক পেজে দুঃখ প্রকাশ করে একটি পোস্ট দেয়া হয়। তাদের অনুষ্ঠানে নেকাব পরিহিতরা আগে থেকেই অংশ নিয়েছে এমনটাও জানানো হয়।

ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে চ্যানেলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘নিকাব, হিজাব পরে চ্যানেল আই-এ নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ও তার প্রতিক্রিয়া আমাদের নজরে এসেছে। হিজাব পরে অনেকেই বিভিন্ন সময়ে চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে থাকেন। নেকাব পরে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণও একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। নারীর সম্মান ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি চ্যানেল আই সব সময় সম্মান প্রদর্শন করে। আলোচ্য ঘটনায় সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
 

বলিউডের জনপ্রিয় নৃত্যপরিচালক ও অভিনেত্রী ফারাহ খান ২০০৪ সালে ৪ ডিসেম্বর ‘ম্যায় হুঁ না’ ছবির সম্পাদক শিরিষকে বিয়ে করেন।

সে হিসাবে তাদের দাম্পত্য জীবন ২০ বছর পার হতে চললো। ২০০৮ সালে কৃত্রিম প্রজননের সাহায্য নিয়ে তারা একসঙ্গে তিন সন্তানের অভিভাবক হন। 

এমনিতেই খুব একটা রাখঢাক করে কথা বলেন না ফারহা। মনে যা, তা-ই বলে ফেলেন। প্রথমবার শিরিষের সঙ্গে তার দেখা হয় ‘ম্যায় হুঁ না’ ছবি করার সময়। সম্প্রতি ফারাহ ভারতের জনপ্রিয় মুখ অর্চনা পুরন সিং-এর ইউটিউব চ্যানেলে অতিথি হয়ে হাজির হয়েছিলেন।

সেখানে তিনি কথা বলেছেন নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে। তিনি বলেছেন, আমি প্রথম দেখায় প্রেম এই ব্যাপারটার থেকেই যোজন দূরে। শিরিষ শুরুর দিকে রাগ রাগ দেখাত। কারণ একটা মানুষ যে কম কথা বলে সে রেগে গিলে চুপ করে যায় সেটা আরও বিরক্তিকর। আমি তো আমাদের দেখা হওয়ার পর ছয় মাস পর্যন্ত ভেবেছি উনি সমকামী।

অর্চনা ফারাহর কাছে জানতে চান, তার ও শিরিষের ঝগড়া হলে কে আগে ক্ষমা চায়? উত্তরে ফারাহ বলেন, ‘কেউ 'সরি' বলে না। শিরিষ ২০ বছরে কখনো আমার কাছে ক্ষমা চায়নি। এরপর কিছুটা ব্যাঙ্গ করে ফারাহ খান বলেন, ‘কারণ ও কখনো ভুলই করে না। ’ 

এর আগে ‘মুভিং ইন উইথ মালাইকা’ অনুষ্ঠানে ফারাহ বলেছিলেন, তার ও শিরিষ কুন্দের-এর কাছের এক বন্ধুর তাদের সম্পর্ক নিয়ে ভীষণ খারাপ ধারণা ছিল। বন্ধুটি ভেবেছিলেন, তাদের হয়ত ডিভোর্স হয়ে যাবে। ফারাহর কথায়, ‘আমার বিয়ের দিন ওই বন্ধুকে কেউ একজন জিজ্ঞেস করেছিলেন, তুমি কি ফারাহর বিয়েতে যাচ্ছ? উত্তরে ও বলেছিল, নাহ, আমি ওর দ্বিতীয় বিয়েতে যাব।


 

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে দাবানলের আগুনে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারকারাও। 

প্যারিস হিলটন, বেন অ্যাফ্লেক, জেনিফার গ্রে, ক্যারি এলওয়েসসহ বেশ কয়েকজন তারকার বাসভবন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে আগুনে। শুধু তাই নয়, এই পরিস্থিতিতে পিছিয়ে অ্যাকাডেমি পুরস্কার, গ্র্যামিসহ একাধিক অনুষ্ঠান পিছিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটির এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দাবানালের কারণে অস্কার মনোনয়ন ঘোষণা পেছানো হয়েছে, বাড়ানো হয়েছে ভোটদানের সময়ও।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ১৭ জানুয়ারি অস্কারের চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু এখন সেটা দুই দিন পিছিয়ে মনোনয়ন ঘোষণার তারিখ ১৯ জানুয়ারি করা হয়েছে। ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে মনোনয়নের জন্য ভোটদান, যা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলার কথা ছিল। কিন্তু নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন একাডেমির ভোটাররা। ২ মার্চ ওভেশন হলিউডেরডলবি থিয়েটারে নির্ধারিত রয়েছে৷

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে চেয়ে নিজের সমস্ত অনুষ্ঠান আপাতত বাতিল করেছেন বিখ্যাত পপ গায়িকা জেনিফার লোপেজ। দাবানলের গ্রাসে ঘর হারিয়েছেন বিলি ক্রিস্টাল, যিনি একাধিকবার অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের সঞ্চালনা করেছেন। এই অবস্থায় তার পক্ষে এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া একেবারে অসম্ভব।

বিষয়টি নিয়ে অ্যাকাডেমির সিইও বিল ক্রেমার জানান, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিধ্বংসী আগুনে যারা এত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সকলের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া লস অ্যাঞ্জেলসে আমাদের অনেক সহকর্মী রয়েছেন। তাদের বলতে চাই, আমরা আপনাদের জন্য চিন্তিত।
 

সেরা ফিচার ফিল্ম পুরস্কার পেয়েছে ফ্রান্সের সিনেমা 'কুমভা' (হুইচ কাম ফ্রম সাইলেন্স), যার পরিচালক সারাহ মালেগোল। সেরা পরিচালক পুরস্কার পেয়েছে আগুস্টিনা সানচেজ গ্যাভিয়ের। সিনেমার নাম 'নুয়েস্ত্রা সোমব্রা' (আওয়ার ওউন শেডো)। সিনেমাটি আর্জেন্টিনা ও জার্মানির যৌথ প্রযোজনা।

ছবি: আয়োজকদের সৌজন্যে।

স্পিরিচুয়াল ফিল্ম সেকশনে সেরা শর্ট ফিল্ম পুরস্কার পেয়েছে লুইস ক্যাম্পোস পরিচালিত পর্তুগালের সিনেমা 'মন্টে ক্লেরিগো'। স্পেশাল মেনশন পুরস্কার পেয়েছে ভারতের সিনেমা 'স্বাহা' (ইন দ্য নেম অব ফায়ার)। সিনেমার পরিচালক অভিলাষ শর্মা। সেরা ফিচার ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড জিতেছে ইভান সোসনিন পরিচালিত রাশিয়ার সিনেমা 'প্রিশেলেক' (দ্য এলিয়েন)

বাংলাদেশ প্যানোরামা ট্যালেন্ট সেকশনে তিনটি সিনেমা পুরস্কৃত হয়েছে। সেরা চলচ্চিত্র (ফিপরেস্কি জুরি) হয়েছে মনন মুনতাকা পরিচালিত 'আ লেজি মুন' সিনেমা। ফার্স্ট রানারআপ হয়েছে আসিফ ইউ হামিদ পরিচালিত 'ফুলেরা পোশাক পরে না' (ডিফাই) এবং সেকেন্ড রানার আপ হয়েছে মোবারক হোসেন পরিচালিত 'পৈতৃক ভিটা' (হেরেডিটারি হোমস্টেড)।

এছাড়াও বাংলাদেশ প্যানোরমা পূর্ণ দৈর্ঘ্য বিভাগে সেরা চলচ্চিত্র (ফিপরেস্কি জুরি) হয়েছে মেহজাবীন চৌধুরী অভিনীত 'প্রিয় মালতী' সিনেমা। সিনেমার পরিচালক শঙ্ক দাশ গুপ্ত। এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন সেকশনে সেরা চিত্রনাট্য পুরস্কার পেয়েছে তাকাতো নিশি ও নোরিকো ইউওসা। তাদের জাপানি সিনেমা 'পারফর্মিং কাওরু’স ফিউনারেল' সিনেমার জন্য এই পুরস্কার পেয়েছেন।

সেরা চিত্রগ্রাহক পুরস্কার পেয়েছেন দিলসাত কানন। তুরস্কের 'ডেমো কে পেলে গোজান বেনি জের' (হোয়্যান দ্য ওয়ালনাট লিভস টার্ন ইয়েলো) সিনেমার জন্য পুরস্কার পেয়েছেন। সেরা অভিনেত্রী পুরস্কার পেয়েছেন ডিমেন জান্ডি। ইরান ও তাজিকিস্তানের যৌথ প্রযোজনার সিনেমা 'মেলডি'তে অভিনয় করে সেরার পুরস্কার পেয়েছেন।

সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন রায়ান সারলক। ইরানি সিনেমা 'তাবেস্তান-ই হামান সাল' (সামার টাইম) এর জন্য পুরস্কার পেয়েছেন। এই সিনেমার জন্য বিশেষ মেনশন পুরস্কার পেয়েছেন পরিচালক মাহমুদ কালারি। সেরা পরিচালক পুরস্কার পেয়েছেন চীনা পরিচালক হাওফেং শু ও জুনফেং শু। তার সিনেমার নাম 'ম্যান কিয়ান বাও দি' (১০০ ইয়ার্ডস)। সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছে শোকির খলিকভ পরিচালিত উজবেকিস্তানের সিনেমা 'ইয়াকশানবা' (সানডে)।

রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’- স্লোগান সামনে রেখে গত ১১ই জানুয়ারি পর্দা উঠেছিল ২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের। ঢাকার ৫টি ভেন্যুতে ৯ দিনব্যাপী আয়োজিত এই উৎসবে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন ৪৪ জন বিদেশি প্রতিনিধি।

উৎসবে চীন ও বাংলাদেশের ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্কের উদযাপন লক্ষ্যে এবার উৎসবের ওয়াইড অ্যাঙ্গেল সেকশনটি চীনা চলচ্চিত্রের জন্য উৎসর্গ করা হয়। এর সাথে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তন করিডরে চীনা চলচ্চিত্র পোস্টার এক্সিবিশনের বিশেষ আয়োজন করা হয়।

দুই দিনব্যাপী 'সিনেমায় নারী' শীর্ষক সম্মেলন ছিল উৎসবের একটি বিশেষ আকর্ষণ। এবার তৃতীয় বারের মতো আয়োজন করা হয় মাস্টারক্লাসের। বাংলাদেশসহ সার্বিয়া, চীন ও নরওয়ের চলচ্চিত্র বোদ্ধাগণ মাস্টারক্লাসটি পরিচালনা করেন। এটি তত্ত্বাবধান করেন বাংলাদেশি চলচ্চিত্র সমালোচক বিধান রিবেরু। এছাড়া এবার প্রখ্যাত রাশিয়ান চলচ্চিত্র পরিচালক আলেক্সেই ফেদোরচেনকোর 'রেট্রোস্পেকটিভ' আয়োজন করা হয়।
 

আরও চার বছরের জন্য রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। ৭৭ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী ২০২৯ সাল পর্যন্ত রিয়ালের প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছে ক্লাবের নির্বাচনী বোর্ড। 

২০০৯ সাল থেকে শুরু করে এ নিয়ে পঞ্চমবার ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবটির প্রধান নির্বাচিত হলেন পেরেজ।আগের চারবারের মতো এবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন পেরেজ। গতকাল রাতে লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদ-লা পালমাস ম্যাচের পর ক্লাবের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নির্বাচনে একজনই প্রার্থী থাকায় রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেরেজের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।’

পেশায় ব্যবসায়ী পেরেজ রিয়াল মাদ্রিদের প্রেসিডেন্ট হলেন এবারসহ ষষ্ঠবার। প্রথমবার ২০০০ সালে দায়িত্ব নিয়ে ২০০৬ সালে পদত্যাগ করেছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে টানা দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া পেরেজ গত ৭ জানুয়ারি ক্লাবের ইলেকটোরাল বোর্ডকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করতে অনুরোধ জানান।

১০ দিন পর একমাত্র প্রার্থী হিসেবে পেরেজের প্রার্থিতা অনুমোদন করা হয়। রিয়াল মাদ্রিদের বাইলজ অনুসারে, বিকল্প প্রার্থী না থাকলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।

পেরেজের দুই দফার পাঁচ মেয়াদে রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবল ও বাস্কেটবল দল মোট ৬৫টি ট্রফি জিতেছে। এর মধ্যে আছে ৭টি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ৩টি ইউরো লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেরেজই শতবর্ষের পুরোনো এই ক্লাবের সবচেয়ে সফল প্রধান। যদিও সময়ের দিক থেকে তাঁর চেয়েও বেশি সময় প্রেসিডেন্ট ছিলেন সান্তিয়াগো বার্নাব্যু। ১৯৪৩ থেকে ১৯৭৮ সালের ২ জুন মৃত্যু পর্যন্ত টানা ৩৪ বছর ২৬৪ দিন রিয়ালের প্রেসিডেন্ট ছিলেন বার্নব্যু। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সময় কাটানো পেরেজ এরই মধ্যে ২০ বছর পেরিয়েছেন।

দোরগোড়ায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফির এবারের আসর। ভারতের পাকিস্তান সফরের অনাপত্তির পর হাইব্রিড মডেলেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে আইসিসির ইভেন্টটি। 

সবশেষ ২০১৭ সালে হওয়া টুর্নামেন্টের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন এবারের আয়োজক পাকিস্তান। যদিও হট ফেবারিট হিসেবে থাকছে শক্তিশালী ভারতও। তবে ভারত নয়, পাকিস্তানের হাতেই এবার ট্রফি দেখছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক সুনিল গাভাস্কার।

সাবেক এই তারকার মতে, আয়োজক দেশ হিসেবে সুবিধা পাবে পাকিস্তান। ঘরের মাঠ হওয়ায় ভারতের চেয়ে পাকিস্তানকে এগিয়ে রাখছেন তিনি।

গাভাস্কার বলেন, পাকিস্তানকে ফেভারিট হিসেবে ধরছি। কারণ, তাদের মাটিতে তাদেরকে হারানোটা অবশ্যই সহজ নয়। ২০২৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত হেরেছিল, কিন্তু তার আগে তারা টানা ১০ ম্যাচে জিতেছিল। ঘরের মাঠে ভারতকে কেউ কিন্তু হারাতে পারেনি। এ কারণেই এবার আমার বাজি পাকিস্তান।

এদিকে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য বেশ শক্তিশালী স্কোয়াডই ঘোষণা করেছে ভারত। লম্বা সময় পর ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন মোহাম্মদ শামি। অধিনায়ক রোহিতের নেতৃত্বে আছেন ভিরাট-বুমরাহ-গিলরা। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার ভারতের চোখও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপায়!

অপরদিকে, প্রায় ২৮ বছর পর পাকিস্তানের মাটিতে পর্দা উঠতে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির। ১৯ ফেব্রুয়ারি মাঠে গড়াবে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ। ২০১৭ সালের ফাইনালে ভারতকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছিল পাকিস্তান।

এমন অভিযোগ পুরোনো নয়। ভারতে টেনিস খেলতে এসে অসুস্থ হয়ে যাওয়া, সুযোগ-সুবিধা না পাওয়া এবং কোর্ট নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকার কথা আগেও একাধিক টেনিস তারকা শুনিয়েছেন।
 

ভারতীয় ব্যাডমিন্টন সংস্থার দিকে এবার আঙুল তুলেছেন মিয়া ব্লিচফিল্ড। ডেনমার্কের এই টেনিস তারকা দ্বিতীয়বারের মতো ভারতে এসেছিলেন। আগেরবারের মতো এবারও হয়ে পড়েছেন অসুস্থ।

ভারতের দিল্লিতে বসা ‘ইন্ডিয়া ওপেন সুপার ৭৫০’ প্রতিযোগিতায় লড়েন মিয়া। বিশ্বের ২৩ নম্বর বাছাই ড্যানিশ তারকা আসরে দ্বিতীয় রাউন্ড পর্যন্ত গিয়ে থামেন। দেশে ফিরে দিল্লির আবহাওয়া এবং আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মিয়ার দাবি, টেনিস কোর্টেও পাখির বিষ্ঠা পড়ে ছিল, দিল্লির দূষণের কারণে ঠিকমতো শ্বাসও নিতে পারেননি।

ড্যানিশ এই তারকা ভারতে থাকাবস্থাতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ইনস্টাগ্রামে সেই ভুলে যেতে চাওয়া স্মৃতি লিখেছেন মিয়া, ‘অত্যন্ত দীর্ঘ এবং পরিশ্রমের সপ্তাহ ভারতে কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত ঘরে ফিরলাম। এ নিয়ে টানা দুবছর আমি ইন্ডিয়া ওপেন খেলে অসুস্থ হয়ে পড়লাম। এটা মেনে নেওয়া খুবই কঠিন, এতদিনের পরিশ্রম প্রস্তুতি সবই নষ্ট হয়ে যায় খারাপ পরিবেশের জন্য। এরপরই মিয়া অভিযোগ তোলেন টুর্নামেন্ট আয়োজকদের দিকে, ‘এটা একদমই ঠিক নয় যে একজনকে ধোঁয়াশার মধ্যেই খেলতে বাধ্য করা হবে। এদিকে ওদিকে পাখির বিষ্ঠা পড়ে থাকবে। সারা জায়গাটা পুরো নোংরা হয়ে থাকবে। এমন পরিবেশ খেলার জন্য অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর।’

মিয়ার মতো আরও কয়েকজন টেনিস তারকা তুলেছেন টুর্নামেন্টের মান নিয়ে প্রশ্ন। ফরাসি মিক্সড ডাবলস জুটি থম জিকুয়েল এবং ডেলফিন ডেলরু টুর্নামেন্ট আয়োজনের ভেন্যু নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়েছেন। এরআগে, বিদেশি খেলোয়াড়রা নিন্দা করেছিল ভারতের কোর্টগুলোর। গুয়াহাটিতে মালেশিয়ার সুং জো ভেন দাবি করেছিলেন তার হোটেলের বেসিন থেকে নোংরা পানি পড়েছে। বিশ্বের ১ নম্বর ব্যাডমিন্টন তারকা (সাবেক) নোজোমি ওকুহারাও দাবি করেছিলেন, তিনি ওড়িশা ওপেন খেলতে এসে অত্যন্ত সমস্যায় পড়েছিলেন। এবার অভিযোগ করলেন মিয়া।

কোর্টের এমন দুরবস্থার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে ভারতের ব্যাডমিন্টন সংস্থা। তাদের দাবি, প্রতিযোগিতা শুরুর মাত্র চারদিন আগে হাতে স্টেডিয়াম। ফলে লজিস্টিক বেশকিছু সমস্যায় পড়তে হয়েছে। পরবর্তী সময় এই প্রতিযোগিতা আরও ভালো কোথাও আয়োজন করতে চায় ভারত। ব্যাডমিন্টন ওয়াল্ড ফেডারেশন (বিডব্লিউএফ) সঙ্গে যোগাযোগও আগে ভাগে বাড়িয়েছে তারা।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় সিলেট স্ট্রাইকার্স ও ঢাকা ক্যাপিটালস।এদিন বিপিএলে নিজের ৯৯ উইকেট নিয়ে মাঠে নামেন ঢাকার তারকা পেসার মুস্তাফিজ। ম্যাচে সিলেটের জাকির হাসানকে ফিরিয়ে একশ’ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। 

বিপিএলে সব মিলিয়ে ১১৩ ম্যাচ খেলে সর্বোচ্চ ১৪৯ উইকেট শিকার করেন সাকিব। তারপরই তাসকিনের অবস্থান। এই তারকা পেসার ৮৬ ম্যাচে ১২০ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেটসংগ্রাহকদের তালিকায় দুইয়ে আছেন। আর তিনে আছেন আরেক পেসার রুবেল হোসেন। ৮৯ ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ১১০।

কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ বিপিএলের উইকেটের সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে খেলেছেন ৭৯টি ম্যাচ। এ ছাড়া তালিকায় পঞ্চম স্থানে আছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। তার উইকেট সংখ্যা ৯৮টি। 
 

লিওনেল মেসির ছেলে কি একদিন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামবেন? এই প্রশ্নটি হয়তো অবাস্তব শোনায়, তবে সম্প্রতি এটি আলোচনায় এসেছে। 

ছবি:পরিবারের সাথে লিওনেল মেসি (সংগৃহীত)|

যুক্তরাষ্ট্র বনাম ভেনেজুয়েলার প্রীতি ম্যাচের আগে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ইউএসএমএনটি কোচ মাওরিসিও পচেত্তিনোর কাছে এমন একটি অদ্ভুত প্রশ্ন করা হয়। সাংবাদিক জানতে চান, ‘আমরা মিয়ামিতে আছি, আপনি কি যাওয়ার আগে মেসির ছেলেদের সঙ্গে কথা বলে তাদের যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলে খেলতে রাজি করাবেন?’

পচেত্তিনো প্রথমে এই প্রশ্নকে হালকা মেজাজে নেন। তিনি হেসে বলেন, ‘না, না। একেবারেই না। মেসিকে দলে নেওয়া তো সবার স্বপ্ন। কিন্তু আপনি যদি তার ছেলেদের কথা বলেন, তাহলে হয়তো আলাপ করা যেতে পারে। তবে সত্যি বলতে, আমি তখন অনেক বুড়ো হয়ে যাবো। তাই হয়তো সেই সময় আমি কোচ থাকব না।’

সাংবাদিকদের এই প্রশ্ন মজার ছলে করা হলেও পচেত্তিনোর উত্তর বাস্তবসম্মত ছিল। মেসির বড় ছেলে থিয়াগো মেসি বর্তমানে ১২ বছর বয়সী এবং ইতোমধ্যেই ইন্টার মিয়ামির যুব দলে খেলছেন। দ্বিতীয় সন্তান মাতেও ৯ বছর বয়সী, আর ছোট ছেলে সিরো মাত্র ৬ বছর বয়সী। সুতরাং, তাদের জাতীয় দলের হয়ে খেলার বিষয়টি এখনো অনেক দূরের ব্যাপার।

তবে জাতীয় দলের বিষয়টি এলে মেসির ছেলেদের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মেসি ও তার স্ত্রী দুজনই আর্জেন্টাইন, যার ফলে তাদের আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার যোগ্যতা রয়েছে। তবে তারা জন্মসূত্রে স্প্যানিশ নাগরিক হওয়ায় স্পেনের হয়ে খেলাও তাদের জন্য সম্ভব। আর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করায় তারা চাইলে ইউএসএমএনটির জার্সিও পরতে পারবেন।

পচেত্তিনো ও মেসির মধ্যে রয়েছে একটি বিশেষ সংযোগ। প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) কোচ থাকার সময় পচেত্তিনো মেসিকে কোচিং করিয়েছিলেন। তাদের নেতৃত্বে পিএসজি ২০২১-২২ মৌসুমে লিগ শিরোপা জিতেছিল। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে ব্যর্থতার কারণে সে সময় পচেত্তিনোকে ক্লাব ছাড়তে হয়।

মেসির ছেলেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে মজার ছলে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরে—তারা একদিন কোন দেশের হয়ে মাঠে নামবেন? যদিও এখনো অনেক সময় বাকি, তবে এ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে আগ্রহ থাকবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফল রবিবার (১৯ জানুয়ারি) প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষায় এক লাখ ৩১ হাজার ৭২৯ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৬০ হাজার ৯৫ জন। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন সুশোভন বাছাড়।  

 জাতীয় মেধায় শীর্ষ ১০ জনের তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন খুলনা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী সুশোভন বাছাড়। তার প্রাপ্ত নম্বর ৯০.৭৫। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন চট্টগ্রাম কলেজের মো. সানজিদ অপূর্ব বিন সিরাজ, ভর্তি পরীক্ষায় তার প্রাপ্ত স্কোর ৯০.৫০। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন করেছেন শেখ আব্দুল ওহাব মডেল কলেজের শেখ তাসনিম ফেরদাউস। তিনি পেয়েছেন ৮৯.৫০ নম্বর। চতুর্থ স্থান অর্জন করেছেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের মো. আবুল ফাইয়াজ। পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন হলিক্রস কলেজের সুমাইয়া জাহান। মেধা তালিকায় ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছেন নটরডেম কলেজের মো. আফতাব আহমেদ জয়। সপ্তম স্থান অধিকার করেছেন রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মো. মারহামাতুল করিম। অষ্টম স্থান অধিকার করেছেন নটরডেম কলেজের মো. ফাইজুর রহমান। নবম স্থান অধিকার করেছেন হলিক্রস কলেজের তাসনিমা তাবাসসুম এবং দশম স্থান অধিকার করেছেন রংপুর পুলিশ লাইনস কলেজের এস এম মুনতাসীর মোস্তাফিস। 

‘বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল’ কর্তৃক প্রণীত নীতিমালার শর্তানুযায়ী ভর্তি পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর ও এসএসি বা সমমান এবং এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ থেকে প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে অর্জিত স্কোরের ভিত্তিতে মেধা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী ৫ হাজার ৩৭২ পরীক্ষার্থীদের ৩৭ সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চল ব্যতীত দেশের সমতল অঞ্চলের উপজাতীয় কোটার শিক্ষার্থীদের তালিকা কোটার স্বপক্ষে সনদ বা প্রমাণসমূহ স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক যাচাইয়ের পর প্রকাশ করা হবে।

প্রথম সিজনের অসাধারণ সফলতার পর শার্ক ট্যাঙ্ক বাংলাদেশ আবার ফিরে এসেছে সিজন ২ নিয়ে। যা কিনা উদ্যোক্তাদের জন্য চমৎকার খবর! এরমধ্যে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদি আপনার কাছে একটি ব্যবসায়িক আইডিয়া থাকে অথবা এমন একটি ব্যবসা থাকে যা বৃদ্ধির জন্য সহায়তা প্রয়োজন, তাহলে এটি আপনার সুযোগ। 

বাংলাদেশে প্রভাবশালী বিনিয়োগকারীদের- যাদের আমরা "শার্ক" বলে জানি- তাদের সামনে আপনার আইডিয়া উপস্থাপন করুন এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পেয়ে আপনার ব্যবসাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যান।

শার্ক ট্যাঙ্ক বাংলাদেশে আবেদন করা খুবই সহজ, এবং আপনি সরাসরি https://apply.bongobd.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। আপনি মোবাইল অথবা ডেস্কটপ, যেকোনো ডিভাইস ব্যবহার করেই আবেদন শুরু করতে পারবেন।

সহায়তার প্রয়োজন হলে, যদি আপনার কোনো প্রশ্ন থাকে অথবা আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালীন সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তাহলে যোগাযোগ করুন sharktank@bongobd.com ইমেইল ঠিকানায়। 

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নয় বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা.সায়েদুর রহমান। আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ছবি: প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা.সায়েদুর রহমান।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে, কোটা বাতিলের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে আদালত থেকে যে রায় দেওয়া হয়েছিল, সেখানে মূল পরিবর্তন হলো নাতি-নাতনির পরিবর্তে পরবর্তী প্রজন্মের বদলে সন্তান বলা হয়েছে। অতএব কোটার বিষয়টিতে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রে এটা একটা নীতিগত সিদ্ধান্ত। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষাও প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী হয়েছে। 

ডা. সায়েদুর রহমান আরও বলেন, এই ১৯৩ জনের মধ্যে খুবই আনইউজুয়াল হবে যাদের বয়স ৬৭-৬৮ এবং যাদের সন্তান থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। সেখানে যদি কোনো ত্রুটি ধরা পড়ে তাহলে সেটা দেখা হবে। এমবিবিএস পরীক্ষায় মূল কোটা থাকবে কি থাকবে না এই নীতিগত সিদ্ধান্তটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নয়, এটি রাষ্ট্রের। আগামী ২৭, ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি যাচাই করা হবে।
 

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়াকে বেছে নিতে বিভিন্ন স্কলারশিপ অফার করছে দেশটি। সে ধারাবাহিকতায় শুরু হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় ম্যাককুয়ারি ইউনিভার্সিটি রিসার্চ স্কলারশিপ ২০২৫-এর আবেদন প্রক্রিয়া। বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। সম্পূর্ণ অর্থায়িত এ বৃত্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন।

সুযোগ-সুবিধা:

নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, তিন বছরের জন্য শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ করা হবে। উপবৃত্তি হিসেবে প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের ৩৫ হাজার ডলার দেয়া হবে। থাকছে ভ্রমণ ভাতাও।

আবেদনের যোগ্যতা:

স্নাতকোত্তরে আবেদন করতে শিক্ষার্থীদের স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। পিএইচডি ডিগ্রির জন্য আবেদনে আগ্রহীদের অবশ্যই স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। প্রার্থীদের গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

আবেদনের প্রয়োজনীয় তথ্য:

আবেদন করতে এসব নথির প্রয়োজন রয়েছে—সিভি, বৈধ ভিসা, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, ডিগ্রি সার্টিফিকেট, নাগরিকত্বের সনদ, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা সনদ ও গবেষণা প্রস্তাবনা।

আবেদন পদ্ধতি:

ম্যাককুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা বৃত্তিটি এ লিংকে গিয়ে বিস্তারিত দেখা যাবে ও অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।

আবেদনের শেষ তারিখ: ২ মার্চ ২০২৫।

কমনওয়েলসভুক্ত দেশের জন্য অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপ ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির বৈদেশিক বিষয় ও বাণিজ্য বিভাগে এ বৃত্তি দেয়া হয়। এই বৃত্তির মাধ্যমে স্বাস্থ্য, ডেভেলপমেন্ট, পরিবেশ, সাসটেইনেবিলিটি, ট্রেড, পাবলিক পলিসি, অর্থনীতি, গভর্ন্যান্স, ইনফ্রাস্ট্রাকচার, সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, ব্লু ইকোনমিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। 

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপের আবেদন শুরু। বাংলাদেশিসহ বিশ্বের আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।

২০২৫ সালের জন্য বিশ্বের ৫৫টি দেশের ১ হাজার ৫৫১ জন অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপ পাবেন। ২০২৩–২০২৪ প্রোগ্রামে অস্ট্রেলিয়া ২৭০ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে এ বৃত্তির জন্য।

অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপ ভিসায় যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে:

> সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ
> বই ও পড়াশোনার আনুষঙ্গিক জিনিসের খরচ
> বিমানে ইকোনমি ক্লাসে যাতায়াতের টিকিট
> বসবাসের খরচ ও স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা
> কোর্স ভেদে ফিল্ডওয়ার্কের সুযোগ-সুবিধাও আছে।

আবেদনের যোগ্যতা:

> ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে বাংলাদেশের নাগরিকেরা আবেদন করতে পারেন
> অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব যাদের রয়েছে তারা আবেদন করতে পারবেন না
> অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকের সঙ্গে বাগদান বা বিবাহিত হলে আবেদন করা যাবে না
> কোনো সামরিক সেবার সঙ্গে যুক্ত থাকা যাবে না
> আইএলটিএস স্কোর কমপক্ষে ৬ দশমিক ৫ হতে হবে এবং প্রতিটি ব্যান্ড স্কোর হতে হবে ৬ অথবা ইন্টারনেট টেস্টে টোয়েফলে স্কোর কমপক্ষে ৮৪ (আইবিটি) কিংবা পিটিই অ্যাকাডেমিক স্কোর ৫৮।

আবেদনপদ্ধতি:

আবেদনের বিস্তারিত জানা যাবে ‌অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস স্কলারশিপের ওয়েবসাইটে। এখানে ক্লিক কর বিস্তারিত জানুন।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখার উদ্যোগে শুরু হয়েছে নববর্ষ প্রকাশনা উৎসব-২০২৫।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকালে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসবের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক মো.রেজাউল করিম,পিএইচডি।বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মোট ১১টি স্টল সাজিয়েছে তারা। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রকাশনা উৎসব চলবে। স্টল ঘিরে এদিন সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের ভিড় দেখা যায়।

এদিন সকালে অনুষ্ঠানে উদ্বোধনকালে বিশ্ববিদ্যালের কোষাধ্যক্ষ ড. সাবিনা শারমিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. তাজাম্মুল, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. বেলাল হুসাইন এবং শাখা শিবিরের সভাপতি আসাদুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনিরসহ শাখার অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. সাবিনা শারমিন বলেন, প্রকাশনা উৎসব শিবিরের একটি ক্রিয়েটিভ আইডিয়া। আশা করি ভবিষ্যতেও ছাত্র শিবির এই ধরনের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে। শিক্ষার্থীরা এই ধরনের অনুষ্ঠান থেকে উপকৃত হবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, পিএইচডি বলেন, এখানে বিভিন্ন নৈতিক বই রয়েছে, বই মানে পড়া,পড়া মানে জ্ঞান, এটাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মূল উদ্দেশ্য। ছাত্র আমরা চাই অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলোও আয়োজন করুক।

মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-কে নিয়ে কটূক্তির দায়ে ইরানের জনপ্রিয় পপ সংগীত শিল্পী আমির হোসেন মাগসোদলুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। গতকাল রোববার (১৯ জানুয়ারি) এ তথ্য জানায় ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো।

ছবি :পপ সংগীত শিল্পী আমির হোসেন মাগসোদলু

সংস্কারবাদী সংবাদমাধ্যম ইতেমাদ বলেছে, “ধর্মীয় অবমাননাসহ অন্যান্য অপরাধে তাকে পাঁচ বছরের যে দণ্ড দেওয়া হয়েছিল সেটিতে আপত্তি জানিয়েছিলেন প্রসিকিউটিররা। তাদের আপত্তির বিষয়টি গ্রহণ করেন সুপ্রিম কোর্ট। তার বিরুদ্ধে মামলাটি পুনরায় চালু করা হয়। এবং মহানবীকে কটূক্তির দায়ে অভিযুক্তকে এবার মৃত্যদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”তবে এই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন এই গায়ক।

৩৭ বছর বয়সী আমির হোসেন ২০১৮ সাল থেকে তুরস্কে বসবাস করছিলেন। কিন্তু ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তাকে ইরানের হাতে তুলে দেয় তার্কিস পুলিশ। এরপর থেকে কারাগারে বন্দি আছেন তিনি।

শরীরে অসংখ্য ট্যাটু থাকায় আমির হোসেন তার ভক্তদের মাঝে টাটালু নামেও পরিচিত। পতিতাবৃত্তি প্রচারের দায়ে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া কূরুচিপূর্ণ কনটেন্ট প্রচার এবং ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালানোর অভিযোগেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

২০১৭ সালে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সঙ্গে টেলিভিশনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন এই গায়ক। রাইসি গত বছর হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন।

২০১৫ সালের ইরানের পারমাণবিক চুক্তির পক্ষে একটি গান গেয়েছিলেন তিনি। যেটি পরবর্তীতে ২০১৮ সালে বাতিল করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
 

চট্টগ্রামের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিবর্ষণের অভিযোগে যুবলীগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন ছাত্রলীগ কর্মী ঋভু মজুমদার ও যুবলীগ কর্মী মো.জামাল।

ছবি: গ্রেপ্তার দুই আসামি (সংগৃহীত)|

গতকাল সোমবার রাতে নগরের চান্দগাঁও থানার বাহির সিগন্যাল এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, গত ১৮ জুলাই নগরের বহদ্দারহাটে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে ঋভু মজুমদার ও মো.জামালকে শনাক্ত করা হয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুজন আন্দোলনে গুলি চালিয়ে হত্যার মামলায় আসামি।

গত বছর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে চট্টগ্রাম নগরে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের গুলি ও হামলায় ১০ জন নিহত হন। আহত হন পাঁচ শতাধিক। এসব ঘটনায় নগর ও জেলায় ২১৯ টি মামলা হয়। ইতিমধ্যে সাবেক সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের কিছু নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে পলাতক রয়েছেন বেশির ভাগ আসামি।

বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার চারজন ও পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১৬ কর্মকর্তাসহ ২০ জনকে বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মো.মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষারিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি করা হয়।

বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মেট্রোপলিটন, রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়, ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, পিবিআই, ডিএমপি, শিল্পাঞ্চল পুলিশ ও আরআরএফসহ বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়েছে।
 

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই বেশ কিছু চমক দিয়েছেন তিনি। তার একটি হচ্ছে জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বাতিল।

 ছবি :ডোনাল্ড ট্রাম্প (সংগৃহীত)|

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বাতিল সম্পর্কিত এক নির্বাহী আদেশে সই করেন তিনি। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, অবৈধভাবে বা শিক্ষা-পর্যটনসহ সাময়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দিলে শিশু মার্কিন নাগরিকত্ব পাবে না। তবে বাবা-মায়ের কেউ আমেরিকান নাগরিক হলে সন্তান জন্মের পরই মার্কিন নাগরিক বলে স্বীকৃতি পাবে। 

আদেশে সই করার সময় ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার যেহেতু দেশের সংবিধানে নিশ্চিত করা আছে, তার এই আদেশ আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

তিনি জানান, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব একেবারে হাস্যকর এবং তার বিশ্বাস এই বিধান বদলানোর জন্য ভালো আইনগত যুক্তি আছে।
 

শুধুমাত্র একটি বিদ্যুৰ উৰপাদন কেন্দ্র থেকে প্রতি মাসে আট লাখ টাকা নিতেন শেখ হাসিনার প্রটৌকল অফিসার আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম। তার স্ত্রী ডা.জাহানারা আরজুর নামে আলাদা চেকে জমা হত সমপরিমাণ বা তার অধিক অর্থ। স্বামী- স্ত্রী দু'জনেরই শেয়ার ছিল এস আলমের মালিকানাধীন এস এস পাওয়ার ওয়ান লিমিটেডে।  

আজ নিজের ভেরিফাইড ফেইসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান, আলা-জাজিরার সিনিয়র প্রোডিউসার  জুলকারনাইন সায়ের। তিনি মন্তব্য করেন, প্রটােকল অফিসার পদের প্রভাব খাটিয়ে গত দেড় দশকে বিদ্যুৱ খাতে লুটপাটের মহোৱসব চালিয়েছেন আলাউদ্দি আহমেদ চৌধুরী নাসিম। 



এই পোস্টের বিস্তারিত পড়তে এইখানে ক্লিক করুন।

 

যতটা বলা হয় আদৌও কি অতটা স্বাস্থ্যসম্মত হরলিকস। তারপরও এটা বাংলাদেশের মানুষের কাছে পছন্দের একটা ড্রিংকস। এতে রয়েছে সুগার, যা কিনা ক্ষতিকর।

 

রাজধানীতে মিরপুর থানা ১২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে কর্মীসভায় উৎসবমুখর পরিবেশে নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

এতে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে হামলা-মামলার স্বীকার হয়ে পালিয়ে থাকতে হয়েছে। এতে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেছে অনেকে। কেউ হারিয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। তবুও নেতাকর্মীরা একদিনের জন্যও রাজপথ থেকে সরে যায়নি।

নেতাকর্মীদের আবারও জেগে উঠে আন্দোলনের মাঠে ফিরে আসার আহ্বান জানান নেতারা। বলেন, লাখো কর্মীর পেছনে অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বক্তারা আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশ থেকে পালিয়েছে। কোনো অবস্থাতেই যেন ফ্যাসিবাদ আর অনুপ্রবেশকারীরা কোনো কমিটিতে স্থান না পায়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অতিবিপ্লবী হয়ে সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা যাবে না। এই মুহূর্তে সব বদলে দেবো বা এটা করে ফেলবো, তা হয় না। ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হয়।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠান ‘গ্রন্থ আড্ডায়’ তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, স্বৈরাচারের আমলে কেউ কথা বলার সাহস না পেলেও এখন সবাই দাবি আদায়ে মাঠে নেমেছে। ধৈর্যচ্যুত হওয়া যাবে না। এই সরকারের দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকায় ভুল-ত্রুটি হচ্ছে। তারা একটি কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। গণতন্ত্র ফিরে এলে এসব ঠিক হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, অনির্বাচিত সরকারের চাইতে নির্বাচিত সরকারের সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বেশি থাকে। ন্যূনতম সংস্কার করে নির্বাচন দিতে হবে।

সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর তারেক আলমকে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তারের সময় তারেক আলম ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করছিলেন, যা তাকে বিদেশে পালানোর চেষ্টার অভিযোগকে শক্তিশালী করে। দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল তাকে আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

তারেক আলমের বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি এবং হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তিনি ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী।  দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম তাকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বেক্সিমকো গ্রুপের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

খুলনা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই এসোসিয়েশন (কুআ)-র সদস্যদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে বিআরবি হাসপাতাল। ল্যাব টেস্ট, হেলথ চেকআপসহ নানা ক্ষেত্রে এ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন কুআ'র সদস্যরা। 

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে এসব সুবিধার কথা উল্লেখ করা হয়। কুআ'র যে কোন সদস্য নিয়মিত সেবামূল্যের চেয়ে কমে (20% Discount on Lab Services, 15% Discount on Radiology and Imaging for both OPD and IPD Services. 10% Discount on bed charges) বিআরবি হাসপাতাল থেকে এই সেবা নিতে পারবেন। এছাড়া, হেলথ চেকআপসহ অন্যান্য সেবায়ও ছাড় পাওয়া যাবে। কুআ'র মেম্বারশিপ কার্ড প্রদর্শন করে অ্যালামনাইগণ এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এই সুবিধা নিতে পারবেন। 

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিআরবি হাসপাতালের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. জামিল আহমেদ, কুআ'র পক্ষে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ আকতার হোসেনসহ আরো অনেকে।

মুক্তির জন্য আরও চারজন ইসরায়েলি জিম্মির নাম জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। স্থানীয় সময় আজ শনিবার যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় তাঁদের মুক্তি দেওয়া হতে পারে।

কারিনা আরিয়েভ, নামা লেভি, দানিয়েলা গিলবোয়া ও লিরি আলবাগ। (ওপরে বাঁ থেকে ঘড়ির কাঁটা অনুসারে) ফাইল ছবি: সংগৃহীত।

এই চারজন হলেন ইসরায়েলি সেনা কারিনা আরিয়েভ, দানিয়েলা গিলবোয়া, নামা লেভি ও লিরি আলবাগ। তাঁরা সবাই ইসরায়েল-গাজা সীমান্তে নজরদারির কাজে নিয়োজিত একটি ইউনিটের অংশ ছিলেন। 

গত এক বছরের বেশী সময় ধরে এই চার জন ইসরায়েলি সেনা হামাসের হাতে বন্দি। নারী সেনাদের দিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে হামাস। যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত মেনে,  ইসরায়েলের কারাগারে আটক ১৮০ জন ফিলিস্তিনি বন্দীর মুক্তির বিনিময়ে এই ৪ জন জিম্মিকে ছেড়ে দিচ্ছে হামাস।

আগামী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে হামাস পর্যায়ক্রমে ২৬ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে। 

 

লন্ডন ক্লিনিকে চিকিৎসা শেষে ১৭ দিন পর বাসায় ফিরেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেন তিনি। 

এখন থেকে ক্লিনিকের চিকিৎসক প্যাট্রিক কেনেডি ও জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে বাসায় থেকে বেগম জিয়া চিকিৎসা নেবেন। বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার লিভার প্রতিস্থাপনের বিষয়ে মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁর বয়স ও স্বাস্থ্যের ওপর বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারপার্সন ও ছেলে তারেক রহমান হাসপাতাল থেকে উত্তর লন্ডনের কিংসটনের বাসায় মা খালেদা জিয়াকে নিয়ে যান। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান।

খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম অর্ণব কুমার সরকার (২৬)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ-এর ছাত্র ছিলেন।

নিহত অর্নব কুমার সরকার। ছবি: সংগৃহীত।

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টায় খুলনা মহানগরীর কেডিএ অ্যাভিনিউ সড়কের তেঁতুল তলার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত অর্ণব কুমার সরকার নগরীর বসুপাড়া কলেজিয়েট স্কুলের পাশের বাসিন্দা নীতিশ কুমার সরকারের ছেলে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ আহসান হাবীব এই খুনের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এডিসি জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। তবে কী কারণে তাকে হত্যা করা হলো তা জানা যায়নি। এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শেখপাড়া তেঁতুলতলা মোড়ে মোটরসাইকেলের ওপর বসে চা খাচ্ছিলেন অর্ণব। এসময় ১০-১২ জনের একদল সন্ত্রাসী মোটরসাইকেলে এসে অর্নবকে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বেসরকারি খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অনাবাসিক ছাত্রীরা আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তিন হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ছবি :ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (সংগৃহীত)|

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত হ‌ওয়া এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

 অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘যেসব নারী শিক্ষার্থী হলে থাকার যোগ্য কিন্তু আমরা তাদের সিট দিতে পারছি না তাদেরকে প্রতি মাসে তিন হাজার করে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। মেয়েদের পাঁচটি হলে যারা নতুন করে আবেদন করেছে তাদের মধ্যে থেকে অনেককেই সিট দিয়েছি। কিন্তু যাদের দিতে পারিনি তাদের যাচাই-বাছাই করে এই আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘মেয়েদের হল নতুন নির্মাণের জন্য যে প্রকল্প নেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন হতে প্রায় তিন বছর সময় লাগবে। তাই আমরা ঢাবির আশেপাশে বিভিন্ন হোস্টেলগুলোতে খবর নিয়ে জানতে পেরেছি, একটা সিটের জন্য অন্তত ২৫০০ টাকার মতো লাগে। তাই আমরা তিন হাজার করে টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি হল থেকে যাচাই-বাছাই করে একটা তালিকা করা হবে। সেই অনুসারে এই সহায়তা প্রদান করা হবে।’

কুমিল্লায় প্রান্ত এগ্রো রিসার্চ আ্যন্ড ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ এর উদ্যোগে ‘উচ্চ মূল্যের নিরাপদ ফসল চাষাবাদ কৌশল এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা’ বিষয়ক আধুনিক কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দিনব্যাপী জেলার মেঘনা উপজেলার হরিপুরে শতাধিক কৃষকের অংশগ্রহণে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। 

প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক মো. বকুল হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন পরিচালক মীর শহিদুল হক। এতে কৃষকদের আধুনিক কৃষি সম্পর্কিত নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন গার্ডেন ফ্রেশ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী অফিসার ইব্রাহিম মোশারফ। 

এ সময় কৃষকদের সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন খুলনা অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ কৃষক ও প্রকৌশলী শেখ ফয়সল আহমেদ।

কর্মশালায় কৃষকরা রকমেলন, ক্যাপসিকাম, শসা, বড়ই, পেয়ারা চাষ এবং ফসল রোপন, ফলন উত্তোলন ও বাজারজাতকরণের কলাকৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। পরে কৃষকরা প্রান্ত এগ্রো রিসার্চ আ্যন্ড ডেভলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের বিভিন্ন প্রজেক্ট পরিদর্শন করে।
 

জাতীয়করণের দাবিতে নবম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ইবতেদায়ি স্বতন্ত্র মাদরাসার শিক্ষকরা।

ছবি :জাতীয়করণের দাবিতে ঢাবির চারুকলা অনুষদের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে ইবতেদায়ি শিক্ষকেরা(সংগৃহীত)।  

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে জাতীয়করণের দাবিতে নবম দিনের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে রাজধানীর প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নি‌য়ে শিক্ষকেরা জানিয়েছিলেন, ১৫ হাজার মাদরাসার ৭৫ হাজার শিক্ষক বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো সারা দেশের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগু‌লো জাতীয়করণের দাবি‌তে বছরের পর বছর আন্দোলন ক‌রে আসছেন শিক্ষকেরা। তাদের দাবি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নীতিমালা মেনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হলেও কোনো ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ করা হয়নি। যত দ্রুত সম্ভব মাদরাসাগু‌লো জাতীয়করণ কর‌তে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, জাতীয়করণের দাবির অংশ হিসেবে রোববার (২৬ জানুয়ারি) ‌প্রেস ক্লাবের অবস্থান কর্মসূচি থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা ও স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষকেরা। তবে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে শাহবাগ থানার সামনে পৌঁছালে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তারা। ওই সময় তাদের ওপর জলকামান নিক্ষেপ ছাড়াও লাঠিচার্জ করা হয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হ‌লে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
 

 

মাদ্রাসার শিক্ষকদের ওপর পুলিশী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। ২৬ জানুয়ারি এক ফেইসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি নিন্দা জানান। 

 পোস্টে হাসনাত বলেন, ইবতেদায়ি শিক্ষকসহ বাংলাদেশে সামগ্রিক শিক্ষক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত। ইবতেদায়ী শিক্ষকদের উপর পুলিশি নির্যাতনের নিন্দা জানাই। এটা কোনভাবেই কাম্য নয়। 

এই পোস্টের বিস্তারিত পড়তে এইখানে ক্লিক করুন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের রানিং স্টাফদের (লোকোমাস্টার, গার্ড, টিটিই) ডাকা কর্মবিরতির ফলে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন এবং স্টেশন চত্বরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

রানিং স্টাফদের মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স (ভাতা) যোগ করে পেনশন এবং আনুতোষিক সুবিধা দেওয়ার দাবিতে এই কর্মবিরতি শুরু হয়। গতকাল সোমবার মধ্যরাত থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে, যা যাত্রীদের জন্য ব্যাপক অসুবিধার কারণ হয়েছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনসহ দেশের বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীরা ট্রেন বন্ধের খবর না জেনে এসে বিপাকে পড়ছেন। অনেকে স্টেশনে এসে ট্রেন না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

রানিং স্টাফদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। এতে দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা অচলাবস্থার মুখে পড়েছে।

 

পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালু পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হুসেইন। রোববার (২৬ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।


প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হুসেইন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ উভয় দেশের মধ্যে পর্যটন, শিক্ষা এবং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াবে। এসময় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং তা আরও দৃঢ় হবে বলে উল্লেখ করেন, হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হুসেইন।

রাজধানীর সরকারি সাতটি বড় কলেজের জন্য পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এবার জানা গেল, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হতে পারে ‘জুলাই ৩৬ বিশ্ববিদ্যালয়’।

এই নাম প্রস্তাব করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজের নেতৃত্বাধীন কমিটি। শিক্ষার্থীরা চাইলে এই নামটি গ্রহণ করা হতে পারে।

বৃহস্পতিবার ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজসহ এ-সংক্রান্ত কমিটির তিন সদস্য শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানেই এই নাম প্রস্তাব করা হয়।

এ বিষয়ে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ জানান, কয়েকটি নামের মধ্যে ‘জুলাই ৩৬ বিশ্ববিদ্যালয়’ নামটি তাদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। শিক্ষা উপদেষ্টাও এই নামের প্রশংসা করেছেন। তবে ছাত্ররা যেটা বলবে, সেটাই চূড়ান্ত হবে।

এই সাত সরকারি কলেজ হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। এসব কলেজে শিক্ষার্থী প্রায় দুই লাখ। শিক্ষক এক হাজারের বেশি।

সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার এই সাত কলেজকে আবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব কলেজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে না।

সরকারি এই সাতটি বড় কলেজের জন্য পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ জন্য ইউজিসির মাধ্যমে একটি কমিটি কাজ করছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে ইউজিসি এই সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠকও করেছে। এখন আজকে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে সম্ভাব্য নাম নিয়েও আলোচনা করেছে কমিটি। এর পাশাপাশি এই সাত কলেজের জন্য অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন নিয়েও আলোচনা চলছে।
 

তিন বছর আগে মতিঝিলে অবস্থিত ঢাকার অন্যতম প্রাচীন প্রেক্ষাগৃহ মধুমিতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছিল। এবার ঐহিত্যবাহী এ সিনেমা হল বন্ধের খবর এলো। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) মধুমিতা হলের মালিক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

আগামী রোজার ঈদে সিনেমা চালানোর পর হলটি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। রাজধানীর ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকার এ সিনেমা হলে বন্ধ হলেও, এখানে নতুন ভবনে মাল্টিপ্লেক্স থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন ইফতেখার নওশাদ। মধুমিতা সিনেমা হল উদ্বোধন হয় ১৯৬৭ সালের ১ ডিসেম্বর। বর্তমানে সিনেমা হলটি বন্ধ আছে।

তিনি বলেন, কোটি টাকা দিয়ে হলের মানোন্নয়ন করেছিলেন, কিন্তু কোনো সিনেমা চলে না। শুধু শাকিব খানের সিনেমা চলে। তার সিনেমাই ব্যবসা করে। দীর্ঘদিন ধরে একাই টিকিয়ে রেখেছেন সিনেমা হলের ব্যবসা। আসছে ঈদের উৎসবে মধুমিতায় সিনেমা চালিয়ে হল বন্ধ রাখব। তবে এখানে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন হলে মাল্টিপ্লেক্স থাকবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

ইফতেখার বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করেছি হলটি চালু রাখতে। কিন্তু সম্ভব হচ্ছে না। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই বন্ধের সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। নতুন ভবনে মাল্টিপ্লেক্স করার ইচ্ছে আছে। দেখা যাক কতটা কী করতে পারি।’


গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগতীরে গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব আম বয়ানের মাধ্যমে বিশ্ব ইজতেমার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিন আগেই এবার ব্যতিক্রমভাবে ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হল।

ছবি :৫৮ তম বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে ছুটছে তাবলিগের সাথীরা।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে বৃহত্তম জুমার নামাজ। এই পর্বে অংশ গ্রহণ করছেন ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে শুরায়ী নেজামের তাবলিগের সাথিরা। ইজতেমা উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মুসল্লিদের সুবিধার্থে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।

ইজতেমায় মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, বিগত বছরগুলোতে শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মাধ্যমে ইজতেমা শুরু হলেও এবার মাগরিবের নামাজের পর আম বয়ান হয়েছে। নামাজের পরে ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলার আম বয়ানের মাধ্যমে এবারের টঙ্গীর ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। বয়ানের তরজমা করেছেন বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়ের।

তিনি বলেন, আজ শুক্রবার বাদ ফজর বয়ান করছেন পাকিস্তানের মাওলানা জিয়া উল হক। সকাল ১০টায় বিভিন্ন খিত্তায় খিত্তায় তালিমের আমল হবে। দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে বৃহত্তম জুমার নামাজ। জুমার নামাজ পড়াবেন মাওলানা মুহাম্মদ জুবাযর। ইজতেমায় প্রথম পর্বে অংশগ্রহণের জন্য আগত মুসল্লিরা বিভিন্ন খিত্তায় খিত্তায় অবস্থান করছেন।

তিনি আরও বলেন, পৌনে ১০ টায় তালিমের আগে মোজাকেরা (আলোচনা) করবেন মাওলানা জামাল সাহেব (ভারত) এছাড়া বিশেষ কিছু সুচি রয়েছে। সকাল ১০ টায় হবে শিক্ষকদের বয়ান। বয়ানের মিম্বারে বয়ান করবেন, ভারতের মাওলানা ফারাহিম। ছাত্রদের সঙ্গে নামাজের মিম্বারে বয়ান করবেন, ভারতের প্রফেসর আব্দুল মান্নান। খাওয়াছদের (গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ) মাঝে টিনশেড মসজিদে বয়ান করবেন, ভারতের মাওলানা আকবর শরিফ। বাদ জুমা বয়ান করবেন, জর্ডানের শেখ উমর খাতিব, বাদ আসর বয়ান করবেন, মাওলানা জুবায়ের, বাদ মাগরিব বয়ান করবেন, ভারতের মাওলানা আহমেদ লাট।

শুরায়ে নেজামের শীর্ষ পর্যায়ের মুরব্বি মাহফুজুল হান্নান বলেন, আরবি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ইজতেমা শুরু হয়ে গেছে। এবার দুই ধাপে ইজতেমা করায় মুসল্লিদের সুবিধা হয়েছে। রাস্তাঘাটে চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত সব ঠিকঠাক আছে।

অনুষ্ঠিত হবে বৃহত্তম জুমার নামাজ: টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে বৃহত্তম জুমার নামাজ। এই নামাজে তাবলীগ জামাতের অনুসারী ছাড়াও টঙ্গী ও আশেপাশের এলাকা থেকে মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন। সকাল থেকে তারা দলে দলে আসতে শুরু করেছেন। মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় ভিড় করছেন তারা।

এদিকে, ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে ১৪টি বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু করেছে রেলওয়ে। এ ছাড়া মহাসড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এ ছাড়া ইজতেমার নিরাপত্তায় নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়। পুরো ময়দান ৫টি সেক্টরে ভাগ করে কাজ শুরু করেছে প্রায় ১০ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এবারের ইজতেমা ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে শুরায়ী নেজামের অধীনে দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম পর্ব ৩১ জানুয়ারি শুরু হয়ে ২ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ৩ ফেব্রুয়ারি। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ যদি ফেব্রুয়ারি মাসে কোনো ধরনের প্রোগ্রাম করার চেষ্টা করে তাহলে পুলিশ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন প্রোগ্রাম আসছে। আমরা এসব প্রোগ্রাম প্রতিহত করছি। প্রোগ্রাম তো দিতেই পারে কিন্তু সেগুলো আমরা প্রতিদিনই মোকাবিলা করে যাচ্ছি। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অনেক নেতাকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। তারা যদি কোনো প্রোগ্রাম করার প্রদক্ষেপ নেয় তাহলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) অমর একুশে বইমেলা ঘিরে ডিএমপি কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বইমেলাতে কেন্দ্র করে গত সরকারের আমলে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তারা এখন কারামুক্ত আছে। তাদের বিষয়ে কোনো নজরদারি থাকবে কি না জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এরকম যারা সন্দেহভাজন আছেন তাদের আমরা নজরদারিতে রাখছি।

প্রতিবছর বই মেলাকে কেন্দ্র করে কিছু লেখক বা প্রকাশনী উসকানিমূলক কিছু বই বের করে এ বিষয়ে আপনাদের কোনো নজরদারি রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কয়েকটি সমন্বয় সভা করেছি। বাংলা একাডেমির কর্মকর্তাদের আমরা বলেছি যেন কোনো ধরনের উসকানিমূলক বই যেন মেলায় না আসে।

ঢাকাতে যে যেভাবে পারছে আন্দোলন করছে। এর ফলে মহানগরীতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এখন আবার বই মেলা শুরু হচ্ছে এই পরিস্থিতিতে পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করবে, জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা শহরের ট্রাফিক অবস্থা খুবই নাজুক। মানুষ খুবই কষ্ট করছে। আমার নিজেরও কষ্ট লাগে। কারণ এই শরীরের ট্রাফিক ব্যবস্থা তো আমি দেখি। যখন দেখি মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকে। ছোট একটা দাবি নিয়ে বিশ জন লোক রাস্তা আটকে দেয়। আমি তাদের বলব- আপনারা ছোট দাবি নিয়ে রাস্তা আটকায়েন না। আপনারা ফুটপাতে অবস্থান করুন। কিন্তু খুবই দুঃখজনক যেকোনো দাবি দেওয়ার মোক্ষম স্থল হয়ে গেছে রাস্তা অবরোধ।

শিক্ষার্থীদের ঘটনার সময় লাঠিচার্জ করতে আপনি নিষেধ করেছেন কিন্তু শাহবাগে মাদ্রাসা শিক্ষকদের ওপর তাহলে কেন লাঠিচার্জ করা হলো, এমন প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, আমরা এখানে লাঠিচার্জ করিনি শুধু জল কামান ছোড়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের অনুরোধ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এমন কোনো সংবাদ প্রকাশ করবেন না যাতে জনগণের মনে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়। আমরা আমাদের মেকানিজমে ঢাকা শহরকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করি। অনেক মানুষের শহর ঢাকা।

ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবে যাওয়ার পথে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দুবাই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাত বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ওমরাহ পালনের উদ্দেশে বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা থেকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলেসহ রওনা হন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিমানটি দুবাই এসে পৌঁছায়।

জাকির হোসেন আরও বলেন, বিমানের মধ্যেই বুকে ব্যথা অনুভব করেন বাবর। পরে বিমানবন্দরে নামার পর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তাকে ভর্তি করা হয় দুবাই হাসপাতালে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে সৌদি চলে গেছেন। সঙ্গে রয়েছেন ছেলে লাবিব।

সংযুক্ত আরব আমিরাত বিএনপির এই আহ্বায়ক বলেন, সুস্থ হলে বাবর সৌদি আরবে যাবেন। সেখানে ওমরাহ শেষে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে তার সিঙ্গাপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে, কারামুক্ত হওয়ার তিন দিন পর গত ১৯ জানুয়ারি অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবর। রাতে বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) এক হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুতির চিঠি দেওয়া হয়েছে। 

এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক সংস্থার (ইউএসএআইডি) অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে চাকরি করতেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধের জেরে তারা চাকরি হরিয়েছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার সকালে আইসিডিডিআরবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, যেসব প্রকল্প ইউএসএআইডির ফান্ডে চলত, সেগুলোর প্রায় সবই বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে সেই সব প্রকল্পে কর্মরতদের চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আইসিডিডিআরবিতে প্রায় পাঁচ হাজারের ওপরে কর্মী, এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ (এক হাজারের বেশি) কর্মীকে টার্মিনেশন লেটার (চাকরিচ্যুতির চিঠি) দেওয়া হয়েছে। 

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, সবচেয়ে বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ হারিয়েছেন সংক্রামক রোগ বিভাগের যক্ষ্মাবিষয়ক কর্মসূচি থেকে।
যক্ষ্মা কর্মসূচির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারের জাতীয় যক্ষ্মানিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সঙ্গে কাজ করতেন।
প্রসঙ্গত, আইসিডিডিআরবির অনেক গবেষণায় অর্থায়ন করে ইউএসএআইডি। বার্ষিক বরাদ্দের ২০ শতাংশের বেশি অর্থ আসে ইউএসএআইডি থেকে। আইসিডিডিআরবিতে কাজ করেন পাঁচ হাজারের বেশি গবেষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
 
প্রসঙ্গত, আইসিডিডিআরবির অনেক গবেষণায় অর্থায়ন করে ইউএসএআইডি। বার্ষিক বরাদ্দের ২০ শতাংশের বেশি অর্থ আসে ইউএসএআইডি থেকে। আইসিডিডিআরবিতে কাজ করেন পাঁচ হাজারের বেশি গবেষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক সংস্থা সূচনা ফাউন্ডেশন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী এস আলম ও বেক্সিমকো, এবং বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত পিকে হালদারের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে। 

প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে দেশের বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। 

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-এর (বিএফআইইউ) একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুসারে, সূচনা ফাউন্ডেশনের অন্যান্য দাতাদের মধ্যে রয়েছে কনফিডেন্স গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, সামিট গ্রুপ ও ইউনাইটেড গ্রুপ। প্রতিবেদনটির কপি টিবিএসের হাতে এসেছে।

সন্দেহজনক লেনদেনের জন্য গত বছরের নভেম্বরে সূচনা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার আদেশ দেয় বিএফআইইউ। 

বিএফআইইউয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, সূচনা ফাউন্ডেশনে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন উৎস থেকে ১৭৯ কোটি টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে ১১৪ কোটি টাকা ইতিমধ্যে খরচ হয়েছে। বর্তমানে ফাউন্ডেশনের অ্যাকাউন্টে ফ্রিজ হিসেবে আটকে আছে ৬৫ কোটি টাকা।

এই ফাউন্ডেশনের টাকা এসেছিল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন এস.আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে। 

এছাড়াও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের (আওয়ামী লীগ) সাবেক সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রাণ গোপাল দত্তের অ্যাকাউন্ট থেকেও টাকা জমা হয়েছে।

অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সূচনা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা ২০১৪ সালে। সংস্থাটি মানসিক প্রতিবন্ধকতা, স্নায়বিক ব্যাধি, অটিজম ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে কাজ করত। সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এর ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন। বোর্ডে ছিলেন আরও তিন ট্রাস্টি—মাজহারুল মান্নান, মো. শামসুজ্জামান ও জাইন বারি রিজভী। 

তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলেছে, বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের নিবন্ধিত ঠিকানায় গিয়ে তারা অফিসের 'অস্তিত্ব' খুঁজে পায়নি । 

পুতুল বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। 
 

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বেশিরভাগ ফান্ড শিল্পীদের উন্নয়নে ব্যবহার না করে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করেছিলো বিগত সরকার। এমনটা জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ফকির লালন সাঁইজির ২৫০তম আবির্ভাব বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সেমিনারে একথা বলেন তিনি।

এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের কালচারের একটি উল্লেখযোগ্য পাঠ বাউল ও সুফি গান। প্রকৃত শিল্পীদের উন্নয়নে কাজ করে যাবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। সামনে বাউল ও সুফি শিল্পীদের ডাটাবেজ তৈরি করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সামনে শিল্পীদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহারের আর কোনো সুযোগ দেয়া হবে না। পরর্তীতে যারা সরকারে আসবে তারাও রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করবে না এমনটাই জানান উপদেষ্টা।

ক্রীড়া সাংবাদিক এবং বিশ্লেষক দেব চৌধুরী ইসলাম গ্রহণ করেছেন। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর দারুসসালাম শাহী মসজিদে জুমার নামাজের সময় কালেমা শাহাদাহ পাঠ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি।

দেব চৌধুরীকে শাহাদাহ পাঠ করান দারুসসালাম মসজিদের খতিব এবং জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার আবদুল হাই মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

শাহাদাহ পাঠের পর মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। অনেকেই তাকে আলিঙ্গন করেন এবং উপহার হিসেবে ফুল ও পোশাক দেন।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে দেব চৌধুরী বলেন,  ‘আমি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় আজ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছি। আমি আরবি পড়তে পারি না, তবে আমার ঘরে কোরআনের বাংলা অনূদিত তিনটি কপি রয়েছে।’

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে দেব চৌধুরীকে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে ফোন করা হলে তিনি জানান, ‘জি, আলহামদুলিল্লাহ, আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

দেবকে ইসলামে স্বাগত জানিয়ে ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফিস তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেজে পোস্ট দিয়েছেন। নাফিস লিখেছেন, আল্লাহ আপনাকে কবুল করুন। আল্লাহ আপনার পথচলা সহজ করে দিন। আল্লাহ আপনার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন। আমিন।

প্রসঙ্গত, দেব চৌধুরী সবশেষ অলরাউন্ডার নামের একটি ক্রীড়া বিষয়ক অনলাইন পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ক্রিকেট বিশ্লেষক হিসেবে সরব উপস্থিতি রয়েছে তার।

বিপিএল ২০২৫ আসরে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে  ।   দুর্বার রাজশাহীর ব্যাটসম্যান এনামুল হক বিজয়কে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অনুরোধ করেছে তাকে দেশত্যাগে বাধা দিতে।


এনামুল হক বিজয় এবারের বিপিএলে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে খেলছেন এবং ১২ ম্যাচে ৩৯২ রান সংগ্রহ করেছেন,   যা তাকে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের স্থানে রেখেছে।তদন্ত চলমান থাকায়, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এনামুল হক বিজয়ের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।    তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তিনি বড় শাস্তির সম্মুখীন হতে পারেন। 


এনামুল হক বিজয় ছাড়াও রাজশাহীর আরও কয়েকজন ক্রিকেটার এবং অন্যান্য তিন দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে।  বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগ এই বিষয়ে গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 


বিয়ে করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহর ফেসবুক থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায়।

নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি ছবি শেয়ার করে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ক্যাপশনে লিখেছেন, নবজীবনে পদার্পণে অভিনন্দন সারজিস ভাই। বিবাহিত জীবন সুখের হোক। 

ওই ছবিতে সারজিসকে শেরওয়ানি ও পাগড়ি পরিহিত দেখা গেছে। তার দুই পাশে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহকে দেখা গেছে। 

এদিকে হাসনাত আব্দুল্লাহও ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, অভিনন্দন বন্ধু সারজিস। তোমাদের জন্য শুভ কামনা জানাচ্ছি, যেখানে ভালোবাসা এবং সুন্দর মুহূর্তগুলিতে ভরপুর থাকবে।

আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আব্দুল্লাহর ফেসবুক পোস্টে শুভাকাঙ্ক্ষীরা শুভেচ্ছার বন্যা বইয়ে দেন সারজিসকে। কিন্তু সবার মনেই জল্পনা ছিল, কাকে বিয়ে করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম এই নায়ক? কী সেই পাত্রীর পরিচয়? 

অবশেষে জানা গেছে সেসব। 

সারজিসের শশুর বাড়ি বরগুনা। তার স্ত্রীর নাম রাইতা। তিনি একজন পবিত্র কোরআনের হাফেজা। একবোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সারজিস আলমের স্ত্রী হাফেজা রাইতা সবার বড়। বরগুনা সদর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীচন্না ইউনিয়নে লাকুরতলা গ্রামের ব্যারিস্টার লুৎফর রহমানের মেয়ে। সব সময় পর্দা মেনে চলেন রাইতা।

তার শশুর ব্যারিস্টার লুৎফর রহমান বর্তমানে বাংলাদেশের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। পেশার তাগিদে ব্যারিস্টার লুৎফর রহমান স্ত্রী, মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে রাজধানীর বাসাবো এলাকার শাহজাহানপুর এলাকায় বসবাস করেন।

সারজিস আলমের শশুরের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের রাজিন্দ্র রিসোর্টে শুক্রবার আসরের নামাজ বাদ পারিবারিকভাবে তাদের বিবাহ কার্য সম্পন্ন হয়েছে। 

সারজিস আলম ২ জুলাই ১৯৯৮ সালে পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আকতারুজ্জামান সাজু ও মা বাকেরা বেগম। দুই ভাইয়ের মধ্যে সারজিস আলম বড়। তার ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন সাকিব।

সারজিস আলম ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে অমর একুশে হল সংসদে প্যানেল থেকে সদস্য পদে জয়লাভ করেছিলেন। তাছাড়া নানা পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিতার্কিক হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ছিলেন সারজিস আলম।

 

ফেসবুক লাইভে এসে ওসিকে পেটানোর হুমকি দেওয়ার পরদিন সন্ত্রাসীকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করছে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ। সেই সন্ত্রাসীর নাম মো. সাজ্জাদ হোসেন। বৃহস্পতিবার নগর পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

ছবি: ধারালো অস্ত্র হাতে সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন (সংগৃহীত)

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাজ্জাদের অবস্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিয়ে গ্রেপ্তারে পুলিশকে সহায়তা করবে তাঁকে নগর পুলিশের পক্ষ থেকে উপযুক্ত পুরস্কৃত করা হবে। তবে তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাত ১০টা ৩৯ মিনিটে নিজের ফেসবুক লাইভে নগর পুলিশের বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি আরিফুর রহমানকে হুমকি দেন সাজ্জাদ। লাইভে তিনি কোনো অবস্থাতেই তাঁর হাত থেকে ওসি বাঁচতে পারবেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন। ২ মিনিট ২৭ সেকেন্ডের এই লাইভে ওসিকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালও করেন। এ ঘটনায় ওসি বাদী হয়ে ঘটনার দিন রাতে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

সাজ্জাদ হোসেন বিদেশে পলাতক ‘শিবির ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত আরেক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অপরাধজগতে পা রেখে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সাজ্জাদ। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজির ১০টি মামলা রয়েছে। গত বছরের ১৭ জুলাই চান্দগাঁও থানা-পুলিশ অস্ত্রসহ সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করে। পরের মাসে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন। বায়েজিদ বোস্তামী থানাসংলগ্ন হাটহাজারীর শিকারপুরের মো. জামালের ছেলে তিনি। সর্বশেষ গত বছরের ৪ ডিসেম্বর নগরের অক্সিজেন এলাকায় পুলিশ ধরতে গেলে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যান তিনি।

এদিকে সন্ত্রাসী সাজ্জাদ ধরা না পড়ায় নগরের বায়েজিদ বোস্তামী, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানার প্রায় তিন লাখ বাসিন্দা আতঙ্কে রয়েছেন। এলাকায় তাঁর চাঁদা দাবির বিষয়টি অনেকটা প্রকাশ্যেই চলে। মূলত নির্মাণাধীন ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা তোলেন এই সন্ত্রাসী।

নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন অনন্যা, শীতলঝরনা, কালারপুল, বায়েজিদ থানার সীমান্তবর্তী হাটহাজারীর কুয়াইশ, নগরের চান্দগাঁও হাজীরপুল ও পাঁচলাইশ এলাকায় ১৫ থেকে ২০ জনের বাহিনী নিয়ে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালান সাজ্জাদ। পুলিশ ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাঁদা না পেলেই সাজ্জাদ গুলি করেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ কালারপুল এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে চাঁদা না পেয়ে গুলি করেন। ৬০ জন মিলে ওই ভবনটি নির্মাণ করছেন।

স্থানীয় একটি সূত্র বলছে, ভবনমালিকদের সাজ্জাদকে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হয়েছে। এর আগে গত ৫ জুলাই বায়েজিদ থানার বুলিয়াপাড়া এলাকায় একটি বাসা লক্ষ্য করে গুলি করেন সাজ্জাদ ও তাঁর সহযোগীরা। এ ঘটনার ভুক্তভোগী মো. ইকবাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘এলাকায় এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় সাজ্জাদ আমার বাড়ি লক্ষ্য করে কয়েকটি গুলি করেন।’ এ ঘটনায় ইকবাল বাদী হয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেন। চাঁদা না পেয়ে গত বছরের ২৭ অক্টোবর নগরের চান্দগাঁও হাজীরপুল এলাকায় মো. হাছান নামের এক ঠিকাদারের বাসা লক্ষ্য করেও গুলি করেন সাজ্জাদ। এ ঘটনায় হাছান বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেন।

গত ২১ অক্টোবর নগরের চান্দগাঁওয়ের শমসেরপাড়া এলাকায় আফতাব উদ্দিন নামের এক বালু ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ ও নিহত আফতাব উদ্দিনের পরিবার বলছে, সাজ্জাদ এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। এ ঘটনায় আফতাবের পরিবারের করা মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে গত ২৯ আগস্ট নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার অনন্যা আবাসিক ও বায়েজিদ সীমানা-সংলগ্ন কুয়াইশ এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হয় মো. আনিস ও মাসুদ কায়সার নামের দুই যুবককে। এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয় বায়েজিদ ও হাটহাজারী থানায়।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। যিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ছিলেন।

শনিবার বেলা ৩টার দিকে উপজেলার বাংঙ্গড্ডা ইউনিয়নের বাংঙ্গড্ডা বাজারে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান নাঙ্গলকোট থানার ওসি এ কে ফজলুল হক।

নিহত মো. সেলিম ভূঁইয়া (৪৫) উপজেলার হেঁসাখাল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে বাংগড্ডা বাজারে নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার একটি সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। সেখান দিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়া সমর্থিত একটি গাড়িবহর অতিক্রম করার সময় দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

এতে সেলিম ভূঁইয়া নিহত হন। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন আহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

নিহত সেলিম সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল গফুর ভূঁইয়ার কর্মী ছিলেন বলে দাবি নেতাকর্মীদের।

ওসি ফজলুল হক বলেন, দুইপক্ষের মারামারিতে একজন নিহত হয়েছেন। তার মৃতদেহ হাসপাতালের রয়েছে।

এই প্রথম বাগেরহাট থেকে বিদেশে টমেটো রপ্তানি শুরু হয়েছে।এরই মধ্যে বাগেরহাটের চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় করে ৪০ মেট্রিক টন টমেটো মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করা হয়েছে। দেশি বায়ারের মাধ্যমে এসব টমেটো রপ্তানি করা হয়।

আগামী চার দিনের মধ্যে আরো ২৬ মেট্রিক টন টমেটো রপ্তানির প্রস্তুতি চলছে। রপ্তানির খবরে চাষিরা টমেটো চাষে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। রপ্তানিকারকদের সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকার টমেটো চাষিদের যোগাযোগ করার কাজ চলছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। টমেটোর পাশাপাশি আগামী দিনে বাগেরহাট থেকে নানা ধরনের সবজি বিদেশে রপ্তানির হবে, এমন আশার কথা জানান তরুণ উদ্যোক্তা প্রকৌশলী ফয়সাল আহম্মেদ।
যেসব জাতের টমেটো বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে বাহুবলী, বিউটিফুল-২, বিপুল প্লাস, পিএম-১২২০ ও মিন্টু সুপার। এসব টমেটো উচ্চ ফলনশীল জাতের ও সুস্বাদু।

বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় জমিতে এবং মৎস্যঘেরের পারে গাছে গাছে কাঁচা-পাকা টমেটো ঝুলছে। হাটবাজারে টমেটোর ছড়াছড়ি। ভ্রাম্যমাণ রিকশা ভ্যানে হ্যান্ডমাইকিং করে টমেটো বিক্রি করা হচ্ছে।

হাটবাজারে খুচরায় কেজিপ্রতি টমেটো ৮ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হলেও পাইকারিতে এর অর্ধেক দামে টমেটো বিক্রি হচ্ছে। প্রতিবছরই বাগেরহাটে শীত মৌসুমের এই পর্যায়ে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে চাষিদের টমেটো বিক্রি করতে বেগ পেতে হয়। এ কারণে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বাগেরহাট থেকে টমেটো রপ্তানির দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
বাগেরহাট কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় এ বছর দুই হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের টমেটো চাষ করা হয়েছে। হেক্টরপ্রতি ৩৫ মেট্রিক টন টমেটো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সেই হিসাবে জেলায় এ বছর ৭৭ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন টমেটো উৎপাদিত হওয়ার কথা। কিন্তু টমেটো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। হেক্টরপ্রতি ৪০ মেট্রিক টন পর্যন্ত টমেটো উৎপাদিত হয়েছে। এখনো গাছে গাছে টমেটো ঝুলছে।

চিতলমারীর চর বানিয়ারি গ্রামের শৈলেন নাথ জানান, মৌসুমের প্রথম দিকে পাইকারি বাজারে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে টমেটো বিক্রি করেছেন। তাঁর আট বিঘা জমিতে গাছে গাছে পাকা টমেটো ঝুলছে। এখন পাইকারি বাজারে তিন-চার টাকা কেজি দরে টমেটো বিক্রি করতে হচ্ছে। যে দামে টমেটো বিক্রি করতে হচ্ছে তাতে টমেটো তুলতে শ্রমিকের বেতনের টাকাও উঠছে না। এ কারণে টমেটো চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা।

মোল্লাহাট উপজেলার গারফা গ্রামের মো. হেলাল উদ্দিন মোল্লা জানান, এ বছর বিভিন্ন জাতের তিন হাজার টমেটোর চারা রোপণ করেছেন তিনি। টমেটোর খুব ভালো ফলন হয়েছে। প্রথম দিকে ভালো দামে বিক্রি করলেও মাঝে পাঁচ-ছয় টাকা দরে টমেটো বিক্রি করেছেন। এতে তাঁর লোকসান হচ্ছিল। কিন্তু গত চার-পাঁচ দিন ধরে তিনি তাঁর টমেটো রপ্তানির জন্য উদ্যোক্তা ফয়সাল আহম্মেদের কাছে ১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। টমেটো রপ্তানি হওয়ায় তিনি লাভবান হচ্ছেন। শুধু তাঁর একার নয়, আশপাশের অনেক চাষির টমেটো রপ্তানির জন্য ওই উদ্যোক্তা ক্রয় করছেন। এই প্রথম তাঁদের এলাকায় উৎপাদিত টমেটো মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হচ্ছে। টমেটো রপ্তানির খবরে হেলাল উদ্দিনের মতো বাগেরহাটের অনেক চাষি খুশি।

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার গারফা গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা প্রকৌশলী ফয়সাল আহম্মেদ জানান, শীত মৌসুমের শেষ ভাগে বাজারে চাহিদা না থাকায় তাঁদের এলাকায় শত শত বিভাগ জমির টমেটো নষ্ট হয়। কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ার কারণে চাষিরা জমি থেকে টমেটো তুলতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। এ কারণে ওই টমেটো চাষিদের কথা চিন্তা করে বিদেশে যাঁরা টমেটো রপ্তানি করেন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর ব্যবস্থাপনায় দেশের দুজন বায়ারের মাধ্যমে টমেটো মালয়েশিয়ায় রপ্তানি শুরু হয়েছে। তিনি উদ্যোগ নিয়ে ঘুরে ঘুরে জেলার মোল্লাহাট, চিতলমারী ও ফকিরহাট উপজেলার চাষিদের কাছ থেকে টমেটো কিনে বায়ারের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। এখান থেকে প্যাকেজিং হয়ে গাড়িতে করে চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে টমেটো। এরপর জাহাজে ফ্রিজিং কনটেইনারে করে টমেটো মালয়েশিয়ার বাজারে যাচ্ছে।

প্রকৌশলী ফয়সাল আহম্মেদের তথ্য মতে, ৪০ মেট্রিক টন টমেটো মালয়েশিয়ায় রপ্তানির জন্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাহাজে তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে টমেটোর ওই চালান মালেশিয়ার বাজারে পৌঁছবে। আরো ২৬ টন টমেটোর অর্ডার রয়েছে। সে মোতাবেক তিনি চাষিদের কাছ থেকে টমেটো কিনছেন। আগামী বুধবারের মধ্যে টমেটোর দ্বিতীয় চালান রপ্তানির উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। প্রথম ৪০ মেট্রিক টন টমেটো ছিল মিষ্টি জাতের এবং এখন যেসব টমেটো যাচ্ছে তা অনেকটা টকজাতীয় বলে তিনি জানান।


যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে সব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা উত্তর সিটি (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন ছয়টি খাল সংস্কার কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ব্লু নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা কিছুটা কমে আসবে জানিয়ে উপদেষ্টা আসিফ বলেন, ‘খালগুলো সংরক্ষণ করতে পারলে ঢাকা শহরের চিত্র ভিন্ন হত। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে সব সমস্যা এত দ্রুত শেষ করা সম্ভব নয়। তাই আমরা কিছু পরিকল্পনা দিয়ে যাচ্ছি।’
 
এসময় তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা নর্থ মডেল পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। যা হবে শহরের জন্য রোল মডেল।’
 
এছাড়া এদিন বর্ষার আগেই ছয়টি খালের খনন কাজ শুরু হবে উল্লেখ করে বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আগে সমন্বয়ের অভাব ছিল। তবে এখন আন্তঃমন্ত্রণালয় এক হয়ে কাজ করছে। কাজটা শেষ করতে সময় লাগবে, তবে আমরা শুরু করে দিচ্ছি।’
 
প্রকল্পের অধীনে নয়, কর্মসূচির মাধ্যমে কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খাল খনন কাজ শুরু হবে আগে। এরপর পুনরুদ্ধার করা হবে। পুনরুদ্ধারের সময় অনেক বাধা আসবে, তা সবাইকে মিলে রুখতে হবে।
 
এ সময় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের অনেক ক্ষতি করা হয়েছে। তবে এখন থেকে আমরা তা পরিবর্তন করবো।’

আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে আজ রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) শেষ হলো ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। সকাল ৯টার পরই শুরু হয় মোনাজাত। এবারের মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা জুবায়ের। মোনাজাতে দেশ ও বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

মহান আল্লাহ’র নৈকট্য লাভের আশায়, ভোর থেকেই ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে ময়দানে জড়ো হয়েছেন ধর্মপ্রাণ লাখো মুসল্লি। কেউ পায়ে হেটে; কেউ গণপরিবহনে, কেউবা ট্রেনে চেপে এসেছেন টঙ্গীর তুরাগ তীরে।

ভোরে ফজরের নামাজের পর থেকেই চলে হেদায়াতি বয়ান। মূলত, ইজতেমা শেষ হওয়ার পর ৩ থেকে ১০ দিনের চিল্লায় যান, তাবলিগের সাথীরা। সেসময়, কী কৌশলে দ্বীনের দাওয়াত দিতে হবে সেই নসিহত করছেন মুরব্বিরা। সকালে বয়ান করেছেন ভারতীয় মাওলানা আবদুর রহমান। এরপর মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা তার বয়ানে ঈমান-আকিদা পালনের বিষয়ে আলোচনা করেন। তাদের সেই বয়ান বাংলায় ভাষান্তর করে শোনানো হয় মুসল্লিদের।

মুসলিম উম্যাহ’র প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান সবার। নিজের আত্মশুদ্ধি’সহ ইসলামের সুমহান বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার প্রত্যয় সবার চোখেমুখে। উল্লেখ্য, এ বছর মোট তিন পর্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। শুরায়ে নেজাম বা জুবায়েরপন্থিদের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ৩ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি। এরপর, আগামী ১৪-১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে সাদপন্থিদের ইজতেমা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ৫ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে। ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু, যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মাসুকুল ইসলাম রাজিব, শরীফ আহম্মেদ টুটুল এবং সদস্য হিসেবে মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন রয়েছেন।


জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আজ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সেই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে কমিটি আসছে।


এই অবস্থায় দলের মধ্যে কোনো বৈরিতা না রেখে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে চাই। আমি সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’
এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর দুই সদস্যবিশিষ্ট জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এতে সভাপতি হিসেবে ছিলেন মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন গোলাম ফারুক খোকন।

তার আগে, ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনকে আহ্বায়ক ও গোলাম ফারুক খোকনকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। পরে ২০২৩ সালের ১৭ জুন সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল এলাকায় দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন সভাপতি ও গোলাম ফারুক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন ভারতীয় ব্যাটিং কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার।  

মুম্বাইয়ে গতকাল বিসিসিআইয়ের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাকে সিকে নাইডু আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

ভারতের প্রথম অধিনায়ক সিকে নাইডুর নামে এই পুরস্কার ১৯৯৪ সাল থেকে দিচ্ছে বিসিসিআই। ৩১তম ক্রিকেটার হিসেবে এই পুরস্কার পেলেন শচীন।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯৮৯ সালে অভিষেক হওয়া  খেলেছেন ২০০ টেস্ট ও ৪৬৩ টি ওয়ানডে, যা দুই সংস্করণেই সর্বোচ্চ। এই দুই সংস্করণে সর্বোচ্চ রানও তার। তিনি ওয়ানডেতে করেছেন ১৮৪২৬ রান আর টেস্টে ১৫৯২১ রান। একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০ সেঞ্চুরি আছে টেন্ডুলকারের। তিনি অবসর নেন ২০১৩ সালে।

শচীনের সঙ্গে গত রাতে পুরস্কার পেয়েছেন যশপ্রীত বুমরাহ, স্মৃতি মান্ধানা, রবীচন্দ্রন অশ্বিনের মতো তারকারাও। ২০২৩-২৪ মৌসুমে সেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হয়ে পলি উমরিগড় পুরস্কার জেতেন বুমরা। মেয়েদের ক্রিকেটে এই ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন মান্ধানা। অশ্বিন পেয়েছেন বিশেষ এক পুরস্কার।

এছাড়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক টেস্ট ইনিংসে ফিফটি করা সরফরাজ খান পেয়েছেন সেরা আন্তর্জাতিক অভিষেকের পুরস্কার।

কুমিল্লায় প্রস্তুতি চলছে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজার। পূজার উপকরণ ও প্রসাদ বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন বিদ্যাপীঠে সাদা কাপড় প্রস্তুত করা হয়েছে মণ্ডপ গুলোতে। শহরের রাজেশ্বরী কালী মন্দিরে বসেছে প্রতিমা বিক্রির হাট। এছাড়াও কুমিল্লা নগরজুড়ে ৪-৫ টি স্থানে প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে। ছোট প্রতিমার মুল্য দুইশত টাকা বড় সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা।

শহরের রাজেশ্বরী কালী মন্দিরে বসেছে প্রতিমা বিক্রির হাট
কাল ও পরশু সরস্বতী পুজার আয়োজন হবে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজ রাজেশ্বরী কালী মন্দির, কুমিল্লা সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন মন্দির ও বাড়িতে প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্দিরের মোড়ে মুড়ি, বাতাসা, জিলাপি, খই, নানা ধরনের ফল বিক্রি হচ্ছে। এসব খাদ্য পূজার প্রসাদ।

কাল ও পরশু সরস্বতী পুজার আয়োজন হবে
শিক্ষার্থী শুক্লা মল্লিক বলেন, গত জুলাই বিপ্লবের মধ্যদিয়ে আমরা বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার এক মহান প্রত্যয় গ্রহণ করেছি। এবারের সরস্বতী পূজা তাই এক ভিন্ন আঙ্গিকে আয়োজিত হতে চলেছে। দুদিনব্যাপী এ আয়োজনের মধ্যে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা, রক্তদান কর্মসূচি ইত্যাদি রয়েছে। এছাড়াও অভ্যন্তরে চিত্তবিনোদন উপযোগী বেশ কিছু রাইড, খেলনা ও বিশুদ্ধ খাবার দোকানের থাকবে। আমরা সব সময় পূজাতে আনন্দ করি। পূজা আসলে আমার কাছে ভালো লাগে।

কুমিল্লা নগরজুড়ে ৪-৫ টি স্থানে প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে
নিরাপত্তার বিষয়ে কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, পূজার আনন্দ যেন কোন অপশক্তি ম্লান করতে না পারে, সে জন্য পুলিশ সদস্যরা মাঠে সর্বোচ্চ নজরদারি চালাচ্ছেন। কোন মহল ষড়যন্ত্র করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ভারতের হিন্দি ধারাবাহিকের পরিচিত মুখ রাম কাপুর। পাশাপাশি বড়পর্দায়ও কাজ করে থাকেন এ অভিনেতা। তবে এরইমধ্যে জীবনের ৫১ বসন্তে এসেছেন। এরপরও কাজ থেকে কিঞ্চিৎ সরে দাঁড়াননি তিনি। বরং কাজের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নিয়েছেন সানন্দে। আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, অর্ধ শতাধিক বয়সে এসে ৫৫ কেজি ওজন ঝরিয়েছেন এ অভিনেতা।

ছবি- রাম কাপুর(সংগৃহীত)|

অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্য। গত বছরের ডিসেম্বরে সোশ্যাল মিডিয়া ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে রাম কাপুর জানিয়েছিলেন, কেন প্রায় বছরখানেক ধরে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে ছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, বন্ধুরা, অনেকটা দীর্ঘ সময়ের জন্য গায়েব থাকায় সরি। আসলে এতদিন নিজের ওপর কাজ করছিলাম আমি।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাম কাপুরের ওই সময়ের ছবি দেখে বোঝা যায়, বিপুল পরিমাণ ওজন ঝরিয়েছেন তিনি। জানা যায়, ৫৫ কেজি ওজন কমিয়েছেন, সেটিও মাত্র এক বছরে। দেবনা গান্ধীর পডকাস্ট শোয়ে হাজির হয়ে ওজন কমানোর সেই গল্প শুনিয়েছেন অভিনেতা। শরীর চর্চা ও ডায়েটের কথাও জানিয়েছেন। কোনো ধরনের স্টেরয়েড বা ওষুধ নয়, কেবল শরীর চর্চা ও খাবারের মাধ্যমেই ওজন কমিয়েছেন রাম কাপুর।

এ ব্যাপারে এই অভিনেতা বলেন, গত ৫ বছর ধরে ওজন কমাচ্ছি। যেটা করেছি সেটা হলো ৫ বছর আগে প্রায় ৩০ কেজি ওজন কমিয়েছি। পরে ফের মোটা হয়ে যাই। তখনই বুঝতে পারি কী করতে হবে আমার। তখন রাত জেগে বিশেষজ্ঞদের বই পড়তাম, পডকাস্ট শুনতাম। বুঝতে পারি পৃথিবীতে দুই ধরনের মানুষ রয়েছে, যাারা স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত, আর যারা ভাবেন না।

রাম কাপুর জানান, সকালের খাবার সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে খেতেন তিনি। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে খেতেন। মাঝের এই সময় কিছুই খেতেন না। ১৬ ঘণ্টা করে একদম না খেয়ে থাকতেন। প্রতিদিন ৪৫ মিনিট করে কার্ডিও ও ৪৫ মিনিট শক্তি বৃদ্ধির এক্সারসাইজ করতেন।

এ অভিনেতা বলেন, নিজেকে ফিট রাখার জন্য সুস্থ থাকতে ও ওজন কমাতে দুটো জিনিস করতে হবে। প্রথমত ভালো ঘুম এবং দ্বিতীয়ত শক্তি বৃদ্ধির জন্য এক্সারসাইজ। তবে স্বাস্থ্য কমানোর জন্য অজেম্পক ওষুধ বা অন্যান্য স্টেরয়েড গ্রহণ করেননি তিনি।

প্রসঙ্গত, টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘ন্যায়’ (১৯৯৭) এর মাধ্যমে অনস্ক্রিন অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু হয় রাম কাপুরের। পরবর্তীতে ‘কসম সে’ এবং ‘বড়ে আচ্ছে হ্যায়’ ধারাবাহিকে অভিনয় করে দর্শকমহলে খ্যাতি লাভ করেন তিনি।
 


সিলেটের ওসমানীনগরে ট্রাক ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে ওসমানীনগর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওসমাননীগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোনায়েম মিয়া। তিনি জানান, সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে ওসমানীনগর উপজেলার উনিশ মাইল এলাকায় ঢাকাগামী ট্রাক ও সিলেটগামী প্রাইভেটকারের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়। 

নিহতরা হলেন- সায়মা আক্তার ইতি, শামীমা ইয়াসমিন, সোহেল ভূঁইয়া, ও শিশু আয়ান। তারা সবাই প্রাইভেটকারের যাত্রী। প্রাইভেটকার যোগে ঢাকার ডেমরা থেকে সিলেট ঘুরতে যাচ্ছিলেন।  এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাককে জব্দ করা হলেও চালক পলাতক বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিরা সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশ তাদের পথরোধ করে। এরপর আন্দোলনকারীরা সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিরা সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশ তাদের পথরোধ করে। এরপর আন্দোলনকারীরা সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর আগে শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে আগারগাঁওয়ে মিরপুর রোডের উভয় পাশে অবস্থান নিয়ে সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিরা। রোববার তারা দিনভর আগারগাঁও ও শিশুমেলা মোড়ে মিরপুর সড়ক অবরোধ করে রাখেন। 

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ- তাদের অনেকেই সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে সহায়তা পাওয়ার ধীরগতি নিয়েও বিক্ষোভ রয়েছে। তাদের দাবি দ্রুত সুচিকিৎসা দিতে হবে, প্রয়োজনে বিদেশে পাঠাতে হবে।

এসব দাবি নিয়ে বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ রাস্তার মাঝে চাদর বিছিয়ে শুয়ে আছেন। রাস্তার মাঝে বেঞ্চ পেতেও বসে আছেন অনেকে।

আহতরা বলছেন, তাদের রক্তের বিনিময়ে দেশ থেকে স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে। তারা কেউ পুলিশের গুলি খেয়েছে, কেউ টিয়ারশেলে অন্ধ হয়েছেন। আবার কেউ পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের কারণে যে স্বাধীনতা সরকার ভোগ করছে, সেই তাদেরই চিকিৎসা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিতে অবহেলা করা হচ্ছে।

মো. আইয়ুব হোসেন নামে এক আন্দোলনকারী সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা সড়কে অবস্থান করব। যদি উপদেষ্টারা কেউ এসে আমাদের আশ্বস্ত করেন তবুও আমরা রাস্তা ছাড়ব না। তাদের ওপর থেকে আমাদের আস্থা হারিয়ে ফেলেছি। এখন আর আশ্বাসে চলবে না। বিকেল ৪টার মধ্যে আমাদের দাবি আদায় না হলে আমরা সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করব।

পরবর্তী সময়ে আলটিমেটামের মেয়াদ আরও দুই ঘণ্টা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত করা হয়।

বৈধপথে রেমিটেন্স প্রেরণে প্রবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল সিডনির উদ্যোগে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সিডনির বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন ক‍্যানবেরার চার্জ ড‍্যা অ‍্যাফের্য়াস ড. দেওয়ান মো. শাহারিয়ার ফিরোজ। 

তিনি বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

এসময় বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের কাউন্সেলর মো. সালাহউদ্দিন প্রবাসীদের ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। তিনি প্রবাসীদের কল্যাণার্থে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ অবহিতকরণ সভায় উপস্থাপন করেন। 

সভায় বক্তারা বলেন, বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠানোর ফলে দেশ উপকৃত হচ্ছে। প্রবাসীদের অবদানকে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্সের ওপর সরাসরি ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রবাসীরা সরকারের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং প্রবাসীদের কল্যাণার্থে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য সবার আগে নির্বাচন প্রয়োজন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেই সংস্কার করতে হবে। এই আলোচনা যত বেশি দীর্ঘ হবে, স্বৈরাচার তত বেশি ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পেয়ে যাবে— এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কদমতলীতে রাষ্ট্র মেরামতে দলটির এক কর্মশালায় এ কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বহু মানুষ ভোটের অধিকারের আদায়ের জন্য হতাহত হয়েছে। জবাবদিহিতা নিশ্চিতে নির্বাচনের বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে সমস্যার জট খুলতে শুরু করবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কাজ যত দ্রুত শুরু হবে, ততো দ্রুত দেশকে রক্ষা করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারের সামনে একমাত্র বিএনপিই সংস্কারের কথা বলেছিল। আড়াই বছর আগেই এই ৩১ দফা দেয়া হয়েছিল। ৩১ দফার সাথে সরকারের সংস্কার প্রস্তাবনায় খুব বেশি ফারাক নেই। ১০ টাকা কেজি চাল দেয়ার মতো মিথ্যা আশ্বাস না দিয়ে বাস্তবতার আলোকে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করতে চান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থী শিবিরে বহু ভবন ধ্বংস করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর আগে ৭৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে হত্যা করে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। 

ছবি : ইসরায়েলি হামলার ওপর জেনিনে কালো ধোঁয়া উড়ছে (সংগৃহীত)|

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, রোববার জেনিনে ২৩টি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব ভবনে সন্ত্রাসী স্থাপনা তৈরি ঠেকাতে ধ্বংস করা হয়। 

এ ছাড়া গত মাঝ জানুয়ারি থেকে পশ্চিম তীরে ৫০ ফিলিস্তিনি যোদ্ধাকে হতা করা হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
আল জাজিরার করেসপন্ডেন্টরা জানান, বিস্ফোরণে একটি আবাসিক ব্লকে উড়িয়ে দেওয়া হয়। ফিলিস্তিনের নিউজ এজেন্সি ওয়াফা জানিয়েছে, বিস্ফোরণ এতো বিকট ছিলে আশেপাশের এবং পুরো শহরজুড়ে শব্দ শোনা গেছে। 

জেনিনের বাসিন্দা হেন্না আল হাজ হাসান আল জাজিরাকে বলেছেন, বিস্ফোরণের শব্দ ছিল ভয়াবহ। হাসান ও জেনিনের বাসিন্দারা জানান, তারা গত দুই সপ্তাহ ধরে যুদ্ধের মুখোমুখি।   

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জেনিনে ভবন ধ্বংসের নিন্দা জানিয়েছে। তারা একে নৃশংস দৃশ্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। গত মাসের ১৯ তারিখ থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পশ্চিম তীরে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। 

শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিন ব্যাপী ই-কমার্স এক্সপো ২০২৫। বাংলাদেশ ই-কমার্স ইন্ডাষ্ট্রির সবচেয়ে বড় এই ইভেন্ট চলবে আগামী ২০-২২ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত। 

রাজধানীর আগারগাঁও এর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বসবে এ এক্সপো। যেখানে অংশ নিবে দেশের সকল ছোট, বড়, নামি-দামি ব্র্যান্ডগুলো। এক্সপোর স্ট্রাটেজিক পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)। সংগঠনটির সদস্যদের জন্য ষ্টল বুকিং এ বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

ষ্টল বুকিং এর জন্য এই ফর্মে আবেদন করতে হবে। 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সদস্য পদ বাতিল করেছিল গুলশান ক্লাব। দন্ড প্রাপ্ত আসামী এবং দেশত্যাগী উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেন ক্লাবের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রফিকুল আলম হেলাল ও ফাইনান্স পরিচালক এম. এ কাদের অনু। 

১৯ ডিসেম্বর ২০২৩ সালের এ ঘটনাটি ফেইসবুক এক পোস্টের মাধ্যমে জানান, আল-জাজিরার সিনিয়র প্রোডিউসার  জুলকারনাইন সায়ের। তিনি অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ক্লাবের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এম. এ কাদের অনু'র পক্ষে সরাসরি ক্যাম্পেইন করেছেন বিএনপি'র কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। অভিযোগের পক্ষে বেশ কিছু দালিলিক প্রমাণও পোস্টে সংযুক্ত করেন জুলকারনাইন সায়ের। 

এ ঘটনার আপডেট হচ্ছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর গুলশান ক্লাবের ১৪তম বোর্ড মিটিংয়ে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করে তারেক রহমানের সদস্যপদ পুনঃবহাল করা হয়।

সংসারের অভাব-অনটন ঘোচাতে স্বামীকে কিডনি বিক্রি করার পরামর্শ দিয়েছিলেন স্ত্রী। স্ত্রীর পরামর্শে সেই কাজই করেন যুবক। পরে সেই টাকাই হাতিয়ে নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন ওই যুবকের স্ত্রী।খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার সাঁকরাইলের ধুলাগড়ির হাটতলা এলাকায়। স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন পিন্টু বেজ নামে ৩৯ বছরের যুবক। 

তার অভিযোগ, ভবিষ্যতে নিজেদের নাবালিকা মেয়ের পড়াশুনা ও বিয়ের জন্য বারবার বলে স্বামীকে একটা কিডনি বেচতে অনুরোধ করেন স্ত্রী সুপর্ণা বেজ। স্ত্রীর এমন অনুরোধের পর স্বামী কিডনি বিক্রি করতে রাজি হয়।

এক বছরের চেষ্টার পর তিন মাস আগে একজন ‘ক্রেতা’ খুঁজে পান তারা। ১০ লাখ রুপির বিনিময়ে নিজের একটি কিডনি বিক্রি করেন স্বামী। 
তিনি আশা করেছিলেন, এতে পরিবারের দারিদ্র্য কিছুটা হলেও কমবে এবং মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা সহজ হবে। কিন্তু স্বামীর কিডনি বিক্রির পর ফেসবুকে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া এক ব্যক্তির সঙ্গে ১০ লাখ রুপি নিয়ে পালিয়ে যান ওই স্ত্রী।

 তবে পিন্টু বেজ তার স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়ার ডায়েরি করেন এবং তারপর স্ত্রীকে খুঁজে পেতে হাইকোর্টে মামলা করেন। তবে তদন্তকারীদের কাছে ওই নারী লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, তিনি স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়েছেন। তার প্রেমিক এবং তিনি এখন স্বামী–স্ত্রীর মতো থাকছেন, কেউ তাকে জোর করে কিছু করায়নি। 

এরপর  স্ত্রীর কাছ থেকে নিজের টাকা পয়সা আদায় করতে স্ত্রী ও তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন ওই ব্যক্তি।  তবে এই ঘটনায় আইনজীবীদের বক্তব্য, গোটা ঘটনায় কিডনি বেচে টাকা পাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে, যা আইনত দণ্ডনীয় এবং সে ক্ষেত্রে ৩৯ বছরের ওই ব্যক্তি বেআইনি কাজের অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন।

তবে আইনজীবীদের অন্য একটি অংশের অভিমত, মামলাকারীকে প্রথম থেকে ভুল বুঝিয়েছিলেন তার স্ত্রী। সুতরাং এখানে স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করা ওই ব্যক্তিকে ঘটনার শিকার বলে ধরে নেওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

তবে ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী এইভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করায় যথারীতি পিন্টু মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। দুজনে প্রেম করেই বিয়ে করেছিলেন। পিন্টু বাবু একটি কারখানায় কাজ করতেন। সেই টাকায় কোনোমতে সংসার চলছিল । এই মধ্যেই স্ত্রী সুপর্ণা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রেমে পড়েন ব্যারাকপুরের সুভাষ কলোনির বাসিন্দা এক যুবকের। পেশায় রং মিস্ত্রি । 

গত শুক্রবার পিন্টু বাবু তার মা কল্পনা বেজ ১২ বছরের মেয়ে কে নিয়ে ব্যারাকপুরের সুভাষ কলোনিতে স্ত্রীকে আনতে যান। স্ত্রী আসবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। টাকা প্রসঙ্গ তোলায় তার প্রেমিক জানান, আইনের মাধ্যমে যা হওয়ার হবে। পরে খালি হাতেই ফিরতে হয় পিন্টু বেজকে। এখন তিনি বুঝতে পারেন কিডনি বিক্রির জন্য তার স্ত্রী প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা করেই এই কাজ করেছেন। 

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ সন্দেহে আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা দিতে সাঁজোয়া যান নিয়ে সারা রাত টুঙ্গিপাড়া থানা ঘিরে রেখেছে সেনাবাহিনী।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টা থেকে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সাঁজোয়া যান নিয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার সামনে অবস্থান করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এক ব্যক্তিতে আটকের জেরে এ ঘটনা ঘটে। টুঙ্গিপাড়া থানা-পুলিশ বলছে, হামলাকারী সকলেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থক। হামলায় টুঙ্গিপাড়া থানার ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, গতকাল রোববার সন্ধ্যায় খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে স্থানীয় আ. লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা আওয়ামী লীগের ডাকা কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ করছেন, এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এ সময় লিফলেট বিতরণ বন্ধ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশের কাজে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় সাফায়েত গাজীকে আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ।

এ সময় পুলিশের গাড়ি আটকে ভাঙচুর করাসহ একজন পুলিশ সদস্যকে অবরুদ্ধ করে তাদের ওপর হামলা চালান স্থানীয়রা। পরে থানার অন্য পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারাও তোপের মুখে পরেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যকে ছাড়িয়ে নেন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তা দিতে বেশ কয়েকটি সাঁজোয়া যান নিয়ে টুঙ্গিপাড়া থানার সামনে সারা রাত অবস্থান করছে সেনাবাহিনী। এ ছাড়াও টুঙ্গিপাড়া থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, আমাদের থানাসহ সকল পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তাজনিত কারণে সাঁজোয়া যান নিয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা থানার চারপাশে অবস্থান করেছে। হামলায় ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈনুল বলেন, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও একজন পুলিশ সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এমন সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে উত্তেজিত জনতাকে বুঝিয়ে শান্ত করে সেই পুলিশ সদস্যকে ছাড়িয়ে ওসির কাছে পৌঁছে দেই। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

ভক্তের ব্যাপারে মিথ্যে বলে ধরা পড়েছেন হুমায়ূন পত্নী মেহের আফরোজ শাওন। ২ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত ডাস্টবিন নিয়ে দেয়া পোস্টে এক ভক্তের ব্যাপারে কমেন্টে মিথ্যাচার করেন তিনি। 

বাংলা একাডেমি বই মেলায় শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত ডাস্টবিনে ময়লা ফেলার পোস্ট দেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তার এ পোস্টের সমালোচনা করে নিজের ভেরিফাইড পেইজ থেকে পোস্ট করেন শাওন।

তিনি লিখেন, "আজ পহেলা ফেব্রুয়ারি, অমর একুশে বইমেলার প্রথম দিন। দায়িত্বশীল পদে থাকা ছবির এই ভদ্রলোকটি দিতে পারতেন চমৎকার কিছু কথা সহ বইমেলা উদ্বোধনের ছবি। মেলার প্রথম দিনে কোন বই কিনলেন কিংবা কোন কোন বই কেনার আগ্রহ রাখেন সেটাও সবাইকে জানাতে পারতেন। কিন্তু তিনি ফেসবুকে নিজ দেয়ালে নিচের ছবি দিয়ে উনার ডাস্টবিন মার্কা রুচির পরিচয় দিয়ে দিলেন। হায়… তবে কি বাংলাদেশ ২.০ এর ক্ষমতাবানেরাও ভাবছেন যে তারা চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে আছেন! ভাগ্যিস… এই বইমেলা দেখার জন্য হুমায়ূন আহমেদ নেই…"

শাওনের এই পোস্টে কমেন্ট করার অপশন দেয়া হয় শুধুমাত্র তার ফেইসবুক বন্ধুদের। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন প্রবাসী জান্নাত ফেরদৌস তেমনই একজন। 

হুমায়ূন আহমেদের ভক্ত জান্নাত শাওনের পোস্টের সমালোচনা করে কমেন্টে বলেন, "হুমায়ুন আহমেদ থাকলে অবশ্যই বইমেলার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য কিছু ময়লা পেলে এই ডাস্টবিনে ফেলতেন। তিনি জানেন, বন্যেরা বনে সুন্দর আর আবর্জনা ডাস্টবিনে।"

মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী নারীদের বৃহৎ সংগঠন 'অজি বাংলা সিস্টারহুডের' প্রতিষ্ঠাতা জান্নাতের কমেন্ট। তাকে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেন আরো অনেকেই। জান্নাতের মন্তব্যের বিপরীতে পাল্টা কমেন্ট করেন শাওন, "হুমায়ূন আহমেদ থাকলে অবশ্যই কি করতেন তা দেখি আপনি আমার চেয়ে ভালো জানেন!! আপু আপনার কাছে ‘হুমায়ূন আহমেদ কি ঘটলে কি করতেন’ এই বিষয়ক একটি বই চাই।"

জান্নাতের কমেন্টকে বাক স্বাধীনতার দিক থেকে না দেখে তাকে আনফ্রেন্ড 'অবন্ধু' করে দেন শাওন। জানান, জান্নাতকে চিনেন না তিনি। 

হুমায়ূন পত্নী মেহের আফরোজ শাওনের বন্ধু তালিকা থেকে বাদ হওয়াকে স্বাভাবিকভাবে দেখলেও কিন্তু 'না চেনার' মিথ্যে অভিযোগের প্রতিবাদ করেছেন জান্নাত। জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের মার্চ মাসে শাওনই প্রথম জান্নাতকে ফেইসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। এ সংক্রান্ত ম্যাসেজের স্ক্রিনশট বিডিপ্লাসকে পাঠিয়েছেন জান্নাত। 

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী জান্নাত বলেন, "এতো বছর হাসিনার এতো খুন, গুম, দুর্নীতি দেখার পরও তাদের মুখ দিয়ে কোন আওয়াজ আসে নাই, তখন বিবেকে বাঁধে নাই তেলবাজি করতো। আর আজকে তার ছবি ডাস্টবিনে দেখে তাদের খুব রুচিতে বাঁধছে। এই একটা ময়লা ডাস্টবিনই যথেষ্ট খুনীর পক্ষের মুখোশধারীদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য।"

 

 

কুমিল্লায় পৃথক স্থান থেকে এক শিশু ও বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ছবি : লালমাইয়ের চন্ডীমোড়া পাহাড় |

সোমবার সকালে সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাইয়ের চন্ডীমোড়া পাহাড়ে এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমান গন্ডার ধনুসরা এলাকায় দুইজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন- বরুড়া উপজেলার জসীমউদ্দীনের নয় বছরের ছেলে রিফাত এবং চৌদ্দগ্রাম  উপজেলার ধনুসরা জামে মসজিদের ইমাম আব্দুল মুমিনের স্ত্রী সাহিদা বেগম (৬৫)।

সদর দক্ষিণ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, লালমাইয়ের চন্ডীমোড়া পাহাড়ের উপর অজ্ঞাত এক শিশুর মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি থানায় নিয়ে আসে।

তিনি বলেন, রিফাত ১ ফেব্রুয়ারি নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। তার পরের দিন ২ ফেব্রুয়ারি বরুড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

রিফাতের গলায় ও পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত চিহ্ন রয়েছে বলে জানানা পুলিশের এই কর্মকর্তা।

অন্যদিকে নিহত সাহিদা বেগমের স্বামী আব্দুল মুমিন জানান, ভোরবেলা ফজরের নামাজ পড়ার জন্য তিনি এবং তার স্ত্রী এক সঙ্গে ঘুম থেকে উঠেন। পরে তিনি মসজিদে চলে যান। মসজিদ থেকে ফিরে সাহিদাকে না পেয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করে ঘরের পাশে সেপটিক ট্যাংকের সামনে সাহিদা বেগমের জুতা ও জামা দেখতে পান।

পরে সেপটিক ট্যাংকের ভেতর তার মরদেহ পাওয়া যায়। খবর দিল পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে বলে জানান তিনি।

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি হত্যাকাণ্ড। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।”

কুমিল্লার বিএনপির পূর্বের কমিটির বিলুপ্তির এক মাসের মাথায় (২ ফেব্রুযারি) সাবেক এমপি জাকারিয়া তাহের সুমনকে আহ্বায়ক ও আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

কমিটিতে ১ নং যুগ্ম-আহ্বায়ক পদে রয়েছেন সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ও যুগ্ম-আহ্বায়ক পদে রয়েছেন আমিরুজ্জামান আমীর। এছাড়া সদস্য পদে রয়েছেন বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক হাজী আমিন-উর রশীদ ইয়াছিন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানানো হয়।

তবে এই কমিটি ঘোষণা পর বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে প্রশংসা করছেন, আবার অনেকে ক্ষোভ ঝাড়ছেন। কমিটি নিয়ে শীর্ষ নেতারাও কথা বলছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও স্থানীয় একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বিগত ১৫ বছর ধরে দলের নেতাকর্মীদের ছায়া দিয়ে রেখেছেন। মামলা পরিচালনা করতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। তাঁর নামে চাদাঁবাজির কোন একটি অভিযোগও নেই। হাজী ইয়াছিনের মত ক্লিন ইমেজের লোককে সদস্য করে উনার সাথে উপহাস করা হয়েছে। এখানে সদস্য করে উনার মহানগর কমিটিতে যাওয়ার পথও বন্ধ করে দেওয়া হল। উনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।

এদিকে একাধিক নেতাকর্মী জানান, এই কমিটি ৩১ বা ৪১ সদস্য বিশিষ্ট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কি কারণে আবার ৫ সদস্য বিশিষ্ট করা হল, তা বোধগম্য নয়। 

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ধান দিয়ে বানানো ২১ ফুট উচ্চতার সরস্বতী প্রতিমা। উপজেলার লালবাগ যুব কিশোর সংঘের মণ্ডপে ধান দিয়ে বানানো হয়েছে ২১ ফুট উচ্চতার সরস্বতী প্রতিমা।

এতে লেগেছে প্রায় ৫০ কেজি ধান। ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা বানাতে সময় লেগেছে প্রায় ৩০ দিন। ধান দিয়ে বানানো এত বড় প্রতিমা দেখতে ভিড় করেছেন দর্শনার্থীরা।মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের লালবাগ গোসাইবাড়ি সড়কে লালবাগ যুব কিশোর সংঘের পূজামণ্ডপে এই প্রতিমায় সরস্বতীপূজা হয়।

প্রতিমাটি তৈরি করেছেন মৃৎশিল্পী উদয় পাল ও গৌর পাল। উদয় পাল বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলে এই প্রথম আমরা ধান দিয়ে সরস্বতী প্রতিমা তৈরি করেছি। প্রায় ৫০ কেজি ধান, খড়, গাম, ইত্যাদি দিয়ে এই প্রতিমা বানিয়েছি। টানা এক মাস আমরা কাজ করে প্রতিমাটি বানাতে পেরেছি।

লালবাগ যুব কিশোর সংঘের সভাপতি কৌশিক দত্ত  বলেন, ‘আমাদের সংঘের এ বছর ২৫তম আয়োজন। ২৫তম আয়োজনটি স্মরণীয় করে তুলতে আমরা প্রায় ৬ মাস আগে থেকে ব্যতিক্রম কিছু করার পরিকল্পনা করেছিলাম। কমিটির সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম, এ বছর আমরা ধানের প্রতিমা তৈরি করব। সেটা দেখতেও যেন অনেক উচ্চতার হয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রতিমাশিল্পীদের সঙ্গে কথা বলি। প্রায় ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এই প্রতিমা তৈরিতে।’

ভিসা পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতি চালু করছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। নতুন পদ্ধতি আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হবে।

ছবি:ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস (সংগৃহীত)

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।

বার্তায় বলা হয়েছে, দূতাবাস ভিসা পরিষেবার জন্য নতুন একটি পদ্ধতি বাস্তবায়ন করছে। নতুন পদ্ধতি আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হবে। এ কারণে আগামী ৫ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে ভিসা পরিষেবা বন্ধ থাকবে। নতুন পদ্ধতিতে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ওয়েবসাইটে ফের ভিসা পরিষেবা চালু করা হবে।
আবেদনকারীদের আগামী ৫ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারিত, তাদের নির্দিষ্ট সময়েই উপস্থিত থাকতে হবে।

৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট প্রকাশ শুরু হবে। প্রতি মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট পাওয়া যাবে।

ভিসাপ্রত্যাশীদের আবেদন এবং এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য দূতাবাসে ওয়েবসাইটে ভিজিট করার অনু‌রোধ করা হ‌য়ে‌ছে।



ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় রেললাইনের ভাঙা অংশের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে রেললাইনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিলেও তা মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।

গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে রেললাইনের একটি অংশে বড় ধরনের ফাটল দেখা গেছে। প্রতিদিন এই পথে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের একাধিক ট্রেন চলাচল করে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "আমরা প্রতিদিন এই রেললাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল করতে দেখি। কিন্তু রেললাইনের এই ভাঙা অংশ দেখে আমরা খুবই আতঙ্কিত। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।" 


গফরগাঁও রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওই এলাকায় চার-পাঁচ স্থানে এ রকম ছোট ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) মশাখালী স্টেশন থেকে অব্যবহৃত লাইন কেটে ওই ক্ষত জোড়া লাগানো হবে। এ বিষয়ে গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. আব্দুল হান্নান বলেন, "রেললাইনের ভাঙা অংশ সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তারা দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করছি।" 

রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, রেললাইনের ভাঙা অংশ দ্রুত মেরামত না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যা প্রাণহানির কারণ হতে পারে।


উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের অবস্থা নাজুক হওয়ায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রেললাইনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত না করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়তে পারে। তাই রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

রেলওয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেললাইনের নিয়মিত পরিদর্শন ও দ্রুত মেরামতের কোনো বিকল্প নেই। এতে করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।

সম্মান হয়তো সমাজের কাছে থাকে আর সুখ থাকে অবহেলিত মানুষদের কাছে। কিন্তু আমরা অবহেলিতদের ভালোবাসি না। তাদের জন্য থাকে মায়া যা ২ মিনিট পরে ভুলে যাই। কিন্তু যেহেতু আমরা সামাজিক জীব তাই সমাজের গুরুত্ব আগে। তাইতো আমরা সমাজ মেনে চলি। সমাজের নিয়মগুলো অনেক সময় ইচ্ছে না করলেও অক্ষরে অক্ষরে পালন করে থাকি।

যুবক বয়সে স্বাধীন ভাবে চলি রক্ত গরম থাকে বলে, কিন্তু বৃদ্ধ হলে দাঁড়ি রাখি নামাজ পড়ি, কেননা এটা না করলে লোকে কি বলবে? আজব এই মানুষ জাতি, খুনিও মনে মনে বলে তোমরা আমাকে খারাপ বল কিন্তু আমার মনটা বুঝলে না। অর্থাৎ প্রতিটা মানুষ মনে মনে নিজেকে ভালো মনে করে।

এই সমাজ এতোটাই আজব যে বিচারকেরও বিচার হয় সঠিক বিচার না করার কারনে। চোর ঘুরে রাস্তায় আর নির্দোষ থাকে জেলে।

লোকে কি বলবে সেটা নিয়ে চিন্তায় থাকি, কিন্তু বৃদ্ধ বাবার যত্ন ঠিক মতন নেওয়া হচ্ছে কি না সেটা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যাথা নেই।

এই সমাজ ধনীদের খবর রাখে, তারা থাকে চায়ের দোকানের আড্ডা ও গল্পের কেন্দ্রবিন্দু  হয়ে। উচ্চবিত্তরা কখনো সেখানকার দরিদ্রদের নিয়ে একদিনও আড্ডা দেয় না যে কি করলে তাদের দারিদ্রতা কেটে যাবে। তাদের সালাম দেয় না, পকেটের টাকা খরচ হবে বলে তাদের খোঁজ নেয় না অযথা টাকা নষ্ট হবে বলে । মসজিদে পাল্লা দিয়ে অনুদান দেয় নিজের প্রভাব বজায় রাখার জন্য। কেননা মনের কথা তো মানুষ দেখে না। মানুষ দেখে যেটা মানুষদের দেখানো হয়। অনেক আলোচনা সভা আর কাপড় বিতরন করি কিন্তু সেই ভালো কাজ অর্থাৎ ডিমের খোলস আবার পত্রিকা অথবা ফেসবুকে দিয়ে থাকি মানুষদের দেখানের জন্য।

মাইক্রোফোন ফাটিয়ে ফেলি বক্তব্য দিয়ে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখেন যাদের একবার সাহায্য করা হয়, এরপরে তাদের আর খোঁজ নেওয়া হয় কিনা? যে সব টোকাই আপনার ফেলে দেওয়া বোতল কুড়িয়ে নিয়ে যায়, ১ প্লেট ভাত খাবার জন্য তারা কিন্তু আমাদের কারো পাপের ফল। যাদের পরিচয় দিতে পারবো না বলে রাস্তায় ফেলে আসি।

আমাদের সমাজ এমন যে কোন ভালো কাজের ডাক দিলে আমরা চিন্তা করি এখানে গিয়ে আমার কি লাভ! আমি তো ভালোই আছি। নিজের খেয়ে বনের মহিষ কেন তাড়াবো ? আবার কেউ চিন্তা করি আগে কেউ আসুক তারপর আমি যাবো।    

এই সমাজে ২ ধরনের বিয়ে লক্ষ্য করা যায়ঃ  ১. ঢোল পিটিয়ে ২.আড়ালে। সমাজে তাদের মূল্য দেওয়া হয় যারা সমাজের বানানো চিন্তাভাবনার মধ্যে পরে। তাইতো একটি কাজ দেখার আগে যোগ্যতা খুঁজে। কিন্তু প্রথম সুযোগটা না দিলে যোগ্যতার তারকা কাগজে কি করে লাগে ?

আবার ব্যাংক এর চাকুরীর ভাইবাতে নিউটনের ৩য় সূত্র কি? এমন প্রশ্ন করে। সামনে হয়তো এমন কিছু দেখতে হবে যে বিয়ের জন্য অভিজ্ঞতার দরকার হবে। আজকাল তো প্রেম টিকে না অভিজ্ঞতার অভাবে ।   

মাহফিলে হুজুর গীবত করতে বারণ করে, পরে তিনি অন্য হুজুর এর ভুল ধরে। নেতা কোন ভুল করলে সেটা কোন ভুল হয় না তখন বলি মানুষ মাত্রই ভুল। কিন্তু আপনি একটা ভুল করলে  সেই বিচার আপনার নেতাই করে। আমাদের জ্ঞানের এতই ভান্ডার যে নিজের খবর না রেখে তা ঢালতে থাকি অন্যের কানে। নিজের কাজ অন্যদের দিয়ে করাতে আমরা বেশি ভালোবাসি আবার যদি তা না করতে চায় তাহলে তার গীবত চালাই তার পিছে।   

সত্যিই মানুষ বড়ই আজব আর আজব এই সমাজ, কিন্তু কি আর করার আমরা  যে সামাজিক জীব । এই নিয়মেই যে আমরা চলতে বাধ্য । সভ্য জাতির সভ্যতার মাঝে আমরাও রয়েছি। আগে দেখি নিজে কতটুকু সঠিক পথে আছি । কেননা ঐ যে এক জনের দিকে আঙ্গুল তুললে বাকি ৩ টা যে নিজের দিকেই থাকে। 

দেশ ছেড়ে পালানোর পর এই প্রথম জনসম্মুখে আসল শেখ রেহানার ছবি। যেখানে শেখ রেহানাকে চায়ের কাপ হাতে হাস্যোজ্জ্বল আলাপচারিতায় দেখা যাচ্ছে। দুই হাজারেরও অধিক মানুষ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার লজ্জা, ভয় বা অপরাধবোধ কোনটাই তার চেহারায় পরিলক্ষিত হয়নি। 

ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এবং বড় বোন শেখ হাসিনার সাথে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ রেহানা। তারপর থেকে পলাতক দুই বোনের কোন ছবি বা ভিডিও গণমাধ্যমে আসেনি। 

আরো অনেক এক্সক্লুসিভ সংবাদ প্রকাশের মত এবারও এই ছবিটি প্রকাশ করেন, আল-জাজিরার সিনিয়র প্রোডিউসার  জুলকারনাইন সায়ের। ৩ ফেব্রুয়ারি, সোমবার রাত ১০টায় তিনি এই ছবি তার ফেইসবুক পোস্টে প্রকাশ করেন। 

সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের এর দেয়া তথ্য মতে, ছবিটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে লন্ডনে তোলা। ছবিটি দিয়ে পোস্টে জুলকারনাইন মন্তব্য করেন, "এ যেন পিশাচের হাসি"

উল্লেখ্য, শেখ রেহানা ব্রিটিশ নাগরিক। ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভারত থেকে লন্ডনে গিয়েছেন তিনি।  

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ডাস্টবিনগুলোতে শেখ হাসিনার ছবি লাগিয়ে দিয়েছে ছাত্রদল। গতকাল ক্যাম্পাসের সবগুলো বিনে তারা এ কার্যক্রম পরিচালনা করে।

কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে জন-ধিক্কারের শেখ হাসিনার ছবিটি তারা বেছে নেয়।  

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ফেইসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে এ খবর জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দ্বারা পরিচালিত একটি পেইজ। 

উল্লেখ্য, বইমেলায় প্রথম শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত ডাস্টবিনের প্রচলন আনে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন। 

কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার সব এলাকায় আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) মনোহরদি গ্যাস মিটারিং স্টেশন মোডিফিকেশন কাজের উদ্যোগ নিয়েছে। সেজন্য এ স্টেশন থেকে মনোহরদী ডিআরএস এবং কিশোরগঞ্জ ডিআরএসগামী পিএসআইজি গ্যাস লাইনে আগামীকাল বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টা পর্যন্ত মোট ১২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। যার কারণে কিশোরগঞ্জ জেলা ও মনোহরদী উপজেলার পুরো এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

এ ছাড়া নরসিংদী, রূপগঞ্জ, ঢাকা মহানগরীর পূর্বাঞ্চল, কালিগঞ্জ, জয়দেবপুর, কোনাবাড়ি, চন্দ্রা ও তৎসংলগ্ন এলাকায়ও গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

ছাত্র-তরুণদের সমন্বয়ে এ মাসেই নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হবে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।

 ছবি: হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম(সংগৃহীত)।

এবার বিষয়টি নিয়ে বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পোস্ট দিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে তারা উভয় লিখেছেন, ‘ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল আসছে! আপনি কেমন দল চান, আমরা তা জানতে চাই এবং সে আদলেই দলটি গড়তে চাই।

পোস্ট আরও বলা হয়েছে, পোস্টের কমেন্টে দেওয়া ফর্মে আপনার মতামত জানান। ফর্মটি পূরণ করতে মাত্র ৫ মিনিট সময় লাগবে। 

এছাড়াও বিষয়টি নিয়ে নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় নেতারও ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।

পাবনার ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে বোমা হামলা ও গুলির ঘটনায় জজ আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বিএনপির ৯ নেতাকর্মীসহ দণ্ডিত ৪৭ আসামির সবাইকে খালাস দিয়েছে হাই কোর্ট।

ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম ও বিচারপতি হামিদুর রহমানের বেঞ্চ বুধবার এ রায় ঘোষণা করে।

আদালতে আসামিদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের সময় ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ট্রেন মার্চ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর অংশ হিসেবে খুলনা থেকে ট্রেনে করে সৈয়দপুর যাওয়ার পথে ঈশ্বরদী স্টেশনে তার যাত্রাবিরতি ও পথসভা করার কথা ছিল।

ট্রেনটি ঈশ্বরদী স্টেশনে পৌঁছালে শেখ হাসিনার বগি লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা ছোড়া হয়। তবে ওই ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

হামলার ঘটনায় রেল পুলিশের ওসি নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাত জনের নাম উল্লখ করে এবং আরও শতাধিক ব্যক্তিকে ‘অজ্ঞাত পরিচয়’ আসামি হিসেবে দেখিয়ে মামলা দায়ের করেন।

কিন্তু তখনকার বিএনপি সরকারের সময়ে এ মামলার তদন্ত আটকে থাকে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে পুলিশকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তদন্ত শেষে ঈশ্বরদীর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে আসামি করে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। পরে অভিযোগ গঠন করে আসামিদের বিচার শুরু করে আদালত।

২০১৯ সালের ৩ জুলাই এ মামলার রায় ঘোষণা করেন পাবনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক রোস্তম আলী।

এ মামলার আসামি বিএনপির ৯ নেতাকর্মীকে তিনি মৃত্যুদণ্ড দেন। এছাড়া ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ওই রায়ে সর্বোচ্চ সাজার রায় পান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোকলেছুর রহমান, পাবনা জেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক একেএম আকতারুজ্জামান আকতার, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সভাপতি মোস্তফা নূরে আলম শ্যামল, স্থানীয় বিএনপি নেতা মাহবুবুল রহমান পলাশ, রেজাউল করিম ওরফে শাহিন, শামছুল আলম, আজিজুর রহমান ভিপি শাহীন ও শহীদুল ইসলাম অটল।

যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয় ইসলাম হোসেন জুয়েল, আলাউদ্দিন বিশ্বাস, আল আমিন, শিমু, আনিস শেখন, খোকন, নুরুল ইসলাম, আক্কেল আলী, সেলিম আহমেদ, মামুনুর রহমান, রবি, মামুন, তুহিন, এনাম, কল্লোল, কালা বাবু, লিটন, আবদুল্লাহ আল মামনু রিপন, লাইজু, আব্দুল জব্বার, আবুল কালাম, আব্দুল হাকিম টেনু, আলমগীর হোসেন, পায়েল ও পলাশকে।

এছাড়া আসামি তুহিন বিন ছিদ্দিক, দুলাল সরদার, ফজলুর রহমান, আব্দুল বারিক, আনোয়ার হোসেন জনি, রস্তম, মওলা, জামরুল, রাজু, বাবলু, বরকত, মুক্তা ও মুকুলকে দেওয়া হয় ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড।

ফৌজদারি কোনো মামলায় মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে হাই কোর্টের অনুমোদন লাগে। সে অনুযায়ী বিচারিক আদালতের ওই রায়সহ যাবতীয় নথিপত্র ২০১৯ সালে হাই কোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছায়। পাশাপাশি দণ্ডিত আসামিরা হাই কোর্টে আপিল করেন।

গত ৩০ জানুয়ারি আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে বুধবার সবাইকে খালাস দেওয়া হল।
 

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর গত বোরবার (২ ফেব্রুয়ারি) মক্কার মসজিদে হারামে আসারের নামাজের ইমামতি করেন শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস। তিনি সাধারণত মাগরিব, এশা ও জুমার নামাজের ইমামতি বেশি করেন। ওই দিন আসরের নামাজ পড়ানোর মধ্য দিয়ে কাবার ইমাম হিসেবে ৪২ বছর পূরণ করলেন।

ছবি:শায়খ ড. আবদুর রহমান আস-সুদাইস (সংগৃহীত)|

১৪০৪ হিজরি অর্থাৎ ১৯৮৪ সালের তিনি মসজিদে হারামে প্রথমবারের মতো আসরের নামাজের ইমামতি করেন।

বিশ্বজুড়ে মসজিদে হারামের ইমামদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত নাম শায়খ ড. আবদুর রহমান আস-সুদাইস। পবিত্র কোরআনের সুললিত তেলাওয়াতের জন্য বিশ্বের মুসলিমদের কাছে তিনি পরিচিত। সুদীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে ইসলামের প্রধান সম্মানিত এই স্থানের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

শায়খ সুদাইস মাত্র ২২ বয়সে ১৪০৪ হিজরি মোতাবেক ১৯৮৪ সালের মে মাসে মসজিদে হারামের খতিব ও ইমাম হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে তিনি প্রধান ইমাম হন। সৌদি আরবের তৎকালীন বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজের এক রাজকীয় নির্দেশনায় তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। মসজিদে হারামের সবচেয়ে কম বয়সী ইমাম হিসেবে সর্বপ্রথম তিনি আসর নামাজের ইমামতি করেন।

২০১২ সাল মোতাবেক ১৪৩৩ হিজরিতে সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের পরিচালনা পরিষদের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান। পবিত্র দুই মসজিদ পরিচালনা পরিষদের প্রধান হিসেবে ২০১৪ সালে তিনি মসজিদে নববিতে প্রথম বার ইমামতি করেন। ২০২০ সালে মসজিদে হারামে তার ইমামতিতে তারাবির নামাজে কোরআন খতমের ৩০তম বছর পূর্ণ হয়। কোরআন খতম উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো তখনও সুন্দর কণ্ঠে দীর্ঘ সময় দোয়া করেন।

শায়খ আবদুর রহমান আস-সুদাইস ১৩৭৯ হিজরি মোতাবেক ১৯৬০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের কাসিম অঞ্চলের বুকাইরায় জন্মগ্রহণ করেন। বনু আসাদ বিন রবিয়া বিন নাজার গোত্রের আনজা শাখার সন্তান তিনি। তার বাবার নাম আবদুল আজিজ ও মায়ের নাম ফাহদা রউফ। কাসিমে বেড়ে উঠলেও পরবর্তীতে রিয়াদে পাড়ি জমান তিনি। শৈশব থেকেই উত্তম আচার-ব্যবহারের জন্য পরিচিত ছিলেন তিনি।

শায়খ সুদাইস বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণায় মাত্র ১২ বছর বয়সে পবিত্র কোরআন হেফজ সম্পন্ন করেন। এরপর রিয়াদের মুসান্না বিন হারেসা ইবতেদায়ি মাদরাসায় প্রাথমিক পড়াশোনা করেন। ১৯৭৯ সালে তিনি মাহাদ আল-রিয়াদ আল-ইলমি থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।

১৯৮৭ সালে ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুল ফিকাহ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়া বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডের বর্ষসেরা ইসলামি ব্যক্তিত্ব হিসেবে সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৬ সালে আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে তিনি হজের খুতবা প্রদান করেন।
 

বিশ্বখ্যাত আধ্যাত্মিক নেতা, বিলিয়নেয়ার উদ্যোক্তা, দানবীর প্রিন্স করিম আগা খান মারা গেছেন। তাঁর দাতব্য প্রতিষ্ঠান আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

ছবি:প্রিন্স করিম আগা খান|রয়টার্স

প্রিন্স করিম আগা খান ছিলেন শিয়া ইসলামের ইসমাইলি সম্প্রদায়ের ৪৯তম বংশগত ইমাম। ১৯৫৭ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে দাদার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন তিনি।

সুইজারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করা আগা খান ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক; ফ্রান্সের একটি প্রাসাদে তিনি বসবাস করতেন। বুধবার পর্তুগালের লিসবনে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তিনি চিরবিদায় নেন।

ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস এবং তার প্রয়াত মা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন আগা খান।

বিবিসি লিখেছে, দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বন্ধুর এই মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত রাজা চার্লস। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আগা খানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

আগা খান বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন; বাহামাসে একটি ব্যক্তিগত দ্বীপ, একটি সুপার-ইয়ট এবং ব্যক্তিগত বিমান ছিল তার।

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া তার সম্পদ আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল ব্যবসা, বিশেষ করে ঘোড়া পালন ও রেসিং শিল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তার সম্পদের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আগা খানের দাতব্য সংস্থা বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে শত শত হাসপাতাল পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষা এবং সংস্কৃতি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

তিনি পাকিস্তানের করাচিতে আগা খান ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করেন এবং হার্ভার্ড ও এমআইটির যৌথ উদ্যোগে আগা খান প্রোগ্রাম ফর ইসলামিক আর্কিটেকচার চালু করেন।

ভারতীয় ঐতিহ্যের সংরক্ষণেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, বিশেষ করে দিল্লির ঐতিহাসিক হুমায়ুনের সমাধির সংস্কারে।

তার নামে ব্রিটেনে চালু রয়েছে আগা খান আর্কিটেকচার অ্যাওয়ার্ড। পূর্ব ও মধ্য আফ্রিকার নেশন মিডিয়া গ্রুপ তারই প্রতিষ্ঠিত।

আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক বলেছে, "আমরা আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব, যাতে বিশ্বজুড়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানো যায়, ঠিক যেমনটি তিনি চেয়েছিলেন।”

আনুমানিক দেড় কোটি ইসমাইলি মুসলমানের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে আগা খান দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। পাকিস্তানে প্রায় পাঁচ লাখ ইসমাইলির বসবাস।এছাড়া ভারত, আফগানিস্তান ও আফ্রিকার বিভিন্ন অংশে তাদের উপস্থিতি রয়েছে।

ঘোড়া প্রতিপালনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক খাতেও আগা খানের বিশাল বিনিয়োগ ছিল। বিশেষ করে, তিনি ইউরোপের অন্যতম সফল ঘোড়া প্রজননকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
 

সৌদি আরব বলেছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়বে না। সৌদি আরব ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবি জানাচ্ছে না বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পর আজ বুধবার এক বিবৃতিতে এই কথা বলেছে রিয়াদ।

রয়টার্স ফাইল ছবি:সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

ট্রাম্প গতকাল মঙ্গলবার বলেন, ফিলিস্তিনিরা অন্য জায়গায় পুনর্বাসিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং সেখানকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন করবে। সফররত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল বিষয়ে ‘সুস্পষ্টভাবে’ সৌদি আরবের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে কোনো পরিস্থিতিতেই ব্যাখ্যার কোনো দরকার নেই।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূখণ্ড থেকে বাস্তুচ্যুত করার কোনো চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের অবস্থানের বিষয়ে আলোচনার সুযোগ নেই বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে ইসরায়েল সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করবে এবং সফল হবে।

সৌদি আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এবং দেশটিকে স্বীকৃতি দেওয়াতে কয়েক মাসের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগপর্যন্ত এই তৎপরতা চলেছে। তবে গাজায় ইসরায়েলের হামলার পর আরব দেশগুলোর ক্ষোভের মুখে বিষয়টি স্থগিত করে সৌদি আরব।

উদ্যোক্তাদের সংগঠন অন্ট্রাপ্রেনিওরস ক্লাব অব বাংলাদেশের (ই-ক্লাব) নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যবসায়ী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রিয় অভিনেতা অন্তু করিমকে সভাপতি এবং মো. সোলায়মান আহমেদ জিসানকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বনানী ক্লাবে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা আগামী দুই বছরের জন্য সংগঠনের দায়িত্ব পালন করবেন।

এছাড়া, অন্যান্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট- আব্দুল্লাহ সাফি, ভাইস প্রেসিডেন্ট- স্থপতি মো. আব্দুর রহমান নিপু, ভাইস প্রেসিডেন্ট- ফাহমিদা আহমেদ বিউটি, যুগ্ম সম্পাদক- আর্কিটেক্ট অরূপা দত্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক- মো. হাসান ইকরাম আহমেদ, প্রচার সম্পাদক- মো. দেলোয়ার হোসেন, পরিচালক- ইভেন্টস অ্যান্ড মিটআপ- কবির হোসেন, পরিচালক- মেম্বারশিপ সার্ভিস- শারমিন সাত্তার অবনী, পরিচালক- লিগ্যাল অ্যান্ড ডিসপিউট- অ্যাডভোকেট শাকিল আহমাদ, পরিচালক- ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিন- আরিফুর রহমান ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট অন্তু করিম বলেন, ই-ক্লাবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আমরা একসঙ্গে কাজ করবো। উদ্যোক্তাদের জন্য আরও কার্যকর নেটওয়ার্কিং ও সহায়তা সেবা চালু করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

এসময় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সোলায়মান আহমেদ জিসান নিজের অনুভূতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা একটি সুসংগঠিত, আধুনিক ও কার্যকর সংগঠন গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন কমিটির সবাই মিলিতভাবে ই-ক্লাবের কার্যক্রম আরও গতিশীল করবে।

পড়ালেখা শেষে চাকরি না পাওয়ার হতাশায় ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক তরুণ। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের গলাচিপা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

ছবি:প্রতীকী

আত্মহননকারী যুবকের নাম রুবায়েত রাজ হাসনাত অপূর্ব (২২)। সে গলাচিপা এলাকার ইঞ্জিনিয়ার নুরুল ইসলামের ছেলে।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খাইরুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। 

তিনি জানান, আমরা সিসিটিভি ফুটেজ চেক করেছি। সে ছাদে উঠা থেকে শুরু করে ছাদে কিছু সময় হাঁটাহাটি করা পর্যন্ত আশেপাশে কেউ ছিলনা। তার পরিবার থেকে জানিয়েছে, পড়ালেখা শেষে চাকরি না পাওয়াতে সে বিষন্নতায় ভুগছিলেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া রাজ্যে চোরেরা এক মুদি দোকান থেকে ১ লাখের বেশি ডিম চুরি করে নিয়ে গেছে। যার মূল্য ৪০ হাজার ডলার।

ছবি: সংগৃহীত

পুলিশ জানিয়েছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি গ্রিনক্যাসলে পিট অ্যান্ড গেরি'স অর্গানিক্সের একটি লরির পিছনে এই ডাকাতি চালানো হয়।বার্ড ফ্লু মহামারীর মধ্যে ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ডিম অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যয়বহুল খাবারের তালিকায় পরিণত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।
মার্কিন সরকারের তথ্য অনুসারে, গত বছরে ডিমের দাম ৬৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। 

দেশটির কৃষি বিভাগ পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৫ সালে দাম প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। মঙ্গলবার আমেরিকান চেইন রেস্তোরাঁ ‘ওয়াফেল হাউস’ ডিমেন দাম বাড়ার কারণে গ্রাহকদের কাছ থেকে বাড়তি দাম রাখছে। রেস্তোরাঁটি জানিয়েছে, ডিমের দামের অভূতপূর্ব বৃদ্ধির কারণে গ্রাহকদের বাড়তি চার্জ দিতে হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের মতে, বার্ড ফ্লু মহামারী ২০২২ সালে শুরু হয়েছিল এবং সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, শুধুমাত্র ডিসেম্বর মাসেই দাম ৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিভাগের তথ্য থেকে আরো দেখা গেছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এক কার্টন ডিমের গড় দাম ছিল ২ দশমিক ৫১ ডলার এবং এক বছর পরে তা পৌঁছেছে ৪ দশমিক১৫ ডলারে। এই বৃদ্ধির ফলে কিছু দোকানের তাক খালি পড়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পাখি, গবাদি পশু এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে বার্ড ফ্লু মহামারী দেখা দিয়েছে, যদিও মানুষের মধ্যে এর সংক্রমণ খুবই বিরল।
সূত্র: বিবিসি

দেশকে অস্থিতিশীল করতে ভারতে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের গোপন বৈঠক। সহিংস আন্দোলন বাস্তবায়নে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে। 

ছবি: মেহের আফরোজ শাওন (সংগৃহীত)

আজ নিজের ভেরিফাইড ফেইসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানান, বিশিষ্ট সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। যিনি আল জাজিরায় সিনিয়র প্রোডিউসার হিসেবে কর্মরত আছেন।

তিনি জানান, "বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫, কলকাতার হোটেল পার্কে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। কারা সে সভায় স্বশরীরে এবং ভার্চুয়ালী যুক্ত হয়েছিলেন তাদের বিস্তারিত এবং সেখানে গৃহিত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নকারীদের তালিকা দেখুন।" 

প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম আহত হয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ফুলার রোডে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সারজিস আলমকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের শিক্ষার্থী শুভ হাওলাদার। তিনি বলেন, সারজিস আলম নিজেই প্রাইভেট কার চালিয়ে  বাংলা মোটরের দিকে যাচ্ছিলেন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের সামনে এলে একটি শিশু গাড়ির সামনে এসে পড়ে। শিশুটিকে বাঁচাতে সারজিস সজোরে ব্রেক করলে সড়ক বিভাজকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে তাঁর বাঁ চোখের পাশে কেটে গেছে। এ ছাড়া মাথায় সামান্য আঘাত লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলো থেকে বাংলাদেশী যুবক গ্রেফতার। রানা নামের প্রবাসী এ বাংলাদেশীর বাড়ি নোয়াখালীতে। তিনি এ্যাসাইলাম ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। 

ফেইসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানান, প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিক আরিফ হোসেইন

তিনি জানান, জেনেসি ও হারলেম কর্ণারে স্পিডওয়ে গ্যাস স্টেশন থেকে রানা নামে এ যুবককে সকাল ৮ টায় গ্রেফতার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এ্যাসাইলাম আবেদন বাতিল হওয়ার পর নতুন করে আপিল করে রানা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে তার কাজের অনুমতি (ওয়ার্কপারমিট) নেই। রানার বাসা ইস্ট ডেলিভান সংলগ্ন। বর্তমানে সে ইনডিফেন্ট কট্রাক্টর হিসেবে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত ৫ জন বাংলাদেশী গ্রেফতারের খবর পাওয়া গিয়েছে। যাদের বৈধ কোন ভিসা নেই। এদের মধ্যে নিউইয়র্ক সিটিতে ২ জন, ফিলাডেলফিয়াতে ১ জন, আটলান্টাতে একজন আর বাফেলোতে ১ জন ।

মূর্তি না ভেঙে শত্রুর শক্তির বিপরীতে পাল্টা চিন্তা, শক্তি ও হেজেমনি গড়ে তোলা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ছবি:মাহফুজ আলম(সংগৃহীত)|

‘গড়ার তাকত আছে আমাদের?’ এমন শিরোনাম দিয়ে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘আমরা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক আধিপত্যবাদ মোকাবিলা করছি। নিছক কিছু মূর্তি বা দালান নয়। মূর্তি (idols) না ভেঙে আমাদের উচিত আমাদের শত্রুদের শক্তির বিপরীতে পাল্টা চিন্তা (Ideals), শক্তি ও হেজেমনি গড়ে তোলা। ভাঙার প্রকল্প থেকে সরে এসে দিনকে দিন আমাদের গড়ার প্রকল্প হাতে নেওয়া উচিত।’

মাহফুজ বলেন, ‘লীগ বা হাসিনা সে অর্থে কিছুই না, বরং আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের এক্সটেনশন। আর, আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ তার হেজেমনি তৈরি করছে বাস্তবধর্মী রাষ্ট্রকল্পনা, দেশে এবং ডায়াসপোরায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করে। আমাদের পাল্টা হেজেমনিও এ তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল।’

‘ভাঙার পরে গড়ার সুযোগ এসেছে, কিন্তু অনন্ত ভাঙা প্রকল্প আমাদের জন্য ভালো ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবহ না। গড়ার প্রকল্পগুলো খুব দ্রুতই শুরু ও বাস্তবায়ন হবে। আপনারা গড়ার কাজে সক্রিয় হোন।’

তিনি আরও লেখেন, ‘সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন শিগগির শুরু হবে। আহত ও নিহতদের পরিবারের পুনর্বাসন ও জুলাই গণহত্যার বিচারের কাজও চলমান। এ মাসেই এ কাজগুলো আরও গতি পাবে।’

এই উপদেষ্টা বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ নিছক ভাঙা নয়, বরং বিকল্প গড়ারও লড়াই। নতুন বন্দোবস্তে আমরা ভাঙার চেয়ে গড়ার দিকে গুরুত্ব দিতে চাই।’

তিনি লিখেছেন, ‘পুনশ্চ: খুনি হাসিনার বক্তব্য প্রচার এবং এর প্রতিক্রিয়ায় সব রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য দায়ী থাকবে আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ। এজন্যই আমাদের উচিত, সৃজনশীল শক্তির বিকাশ ঘটানো এবং সার্বিকভাবে এ আধিপত্যবাদ মোকাবিলায় প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে দূরদর্শী পদ্ধতি নেওয়া। কারণ, এ লড়াই মাত্র শুরু হলো। অন্তত, এক দশক পরে এ লড়াইয়ের একটা মীমাংসা হয়তো হবে। অথচ, সেজন্য আমাদের প্রস্তুতি সামান্যই।’

মাহফুজ আলম লেখেন, ‘রাগ, ক্ষোভ, ঘৃণা নেতিবাচক এনার্জি, কিন্তু অভ্যুত্থানের পর আমাদের এসব এনার্জিকে ইতিবাচক রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এখনো সে সুযোগ হারিয়ে যায়নি। আগামী অন্তত এক দশকব্যাপী দীর্ঘ গণতান্ত্রিক ও আধিপত্যবাদ-বিরোধী লড়াইয়ের জন্য আমাদের সৃজনশীল শক্তিকে কাজে লাগানো দরকার।’

‘ভবিষ্যৎপানে তাকান, ইতিহাস আমাদের সুযোগ দিয়েছে। আমাদের এবার জিততেই হবে, আর জেতার উপায় একটাই- রাষ্ট্রকল্প, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, দক্ষ ও মর্যাদাবান মানবসম্পদ গড়ে তোলা। আল্লাহ আমাদের ফেরাসত তথা দূরদৃষ্টি দিক’ -বলেও যোগ করেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মনির হায়দার।

ছবি:মনির হায়দার ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস  (সংগৃহীত)|

 বুধবার সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার এই পদে তাকে নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।বিশেষ সহকারী হিসাবে মনির হায়দার প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শক্তির সঙ্গে লিয়াজোঁ এবং যোগাযোগ রক্ষায় ভূমিকা পালন করবেন।

মনির হায়দার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। অচিরেই দেশে ফিরে তিনি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী পদে যোগ দেবেন বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।

প্রায় তিন দশক দৈনিক পূর্বকোণ, ভোরের কাগজ, জনকণ্ঠ, যায় যায় দিন, ইত্তেফাক এবং মানবজমিন পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন মনির হায়দার। বর্তমানে তিনি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল বাংলাভিশনের উপদেষ্টা। এ ছাড়া, নাগরিক অধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসাবেও সুপরিচিত তিনি।


অজানা কারণে রক্তের মতো লাল হয়ে গেছে আর্জেন্টিনার একটি নদীর পানি।

দূর থেকে দেখলে যে কেউ ভাববে পানি নয়, বরং রক্তের প্রবাহ ছুটে চলেছে। নদীর পানি এতটাই লাল হয়ে গেছে যে, তাতে নামার সাহস দেখাচ্ছে না হাঁসও।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বৃহত্তর বুয়েন্স আয়ার্সে দেখা মিলেছে এই লাল পানির নদী। স্থানীয়দের শঙ্কা, বিষাক্ত কোনো রাসায়নিকের কারণেই এমন বদলে গেছে নদীটির পানি। ফলে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে স্থানীয়দের মাঝে।

ইতোমধ্যে, নদী থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রিও ডি লা প্লাটা নদীতে প্রবাহিত হওয়া এই নদীর পানির রঙ প্বার্শবর্তী কোনো কারখানার রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে পাল্টে গেছে। সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, টেক্সটাইল রঞ্জক পদার্থ ফেলে দেয়ার কারণে অথবা কাছের কোনও ডিপো থেকে রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে এই রঙটি হতে পারে।

দেশটির পরিবেশ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে রঙ পরিবর্তনের কারণ নির্ধারণের জন্য পানির নমুনা নেয়া হয়েছে।

এএফপি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বিকেলের শেষের দিকে পানির রঙ কিছুটা তীব্রতা হারিয়ে ফেলেছিল।

বাসিন্দারা দাবি করেছেন যে অনেক স্থানীয় কোম্পানি জলপথে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলে, যা রাজধানীর কেন্দ্র থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার (৬ মাইল) দূরে চামড়া প্রক্রিয়াকরণ এবং টেক্সটাইল কারখানা থেকে নিসৃত।
 

৪ বছরের শিশু নাঈমা, সাড়ে ৫ বছরের আহমুদুল্লাহ আর ১০ বছরে পা রেখেছে আইরিন। কচি মায়াভরা তিনটি মুখজুড়ে রাজ্যের বিষাদ আর ভয়। না জানি কখন তাদের পুলিশে ধরে নিয়ে যায়। এতিম তিন শিশুই পিতার ঋণের দায়ে মামলার আসামি!

ওদের মা থেকেও যেন নেই। মৃত স্বামীর খেলাপী ঋণের মামলায় দুমাস ধরে জেলে। দুই বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর মায়ের আশ্রয়ে লালিত পালিত হলেও মা জেলে যাবার পর থেকে অবুঝ শিশু জান্নাতুল নাঈমা আর আহমাদুল্লাহর একমাত্র ভরসা দশ বছর বয়সী বড়বোন আইরিন। নানার আশ্রয়ে ছোট ভাইবোনের বাবা-মার দায়িত্ব পালন করছে আইরিন।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসদরে অবস্থিত আইরিন পোল্ট্রি মুররি হাউজের স্বত্বাধিকারী মৃত আমিন শেখ ও পপি খাতুন দম্পতির নাবালক তিন শিশু। বাবা আমিন শেখের ঋণের দায়ে ৩টি শিশু একটি বেসরকারি ব্যাংকের দায়ের করা অর্থ ঋণের মামলার আসামি। বাবা মারা গেছেন আরও দুই বছর আগে।

আর এ মামলায় তাদের মা পপি খাতুন দুইমাস যাবত জেলহাজতে থাকায় শিশুদের জীবন এখন বিষাদে ভরা আর যন্ত্রণায় কাতর। বৃদ্ধ দিনমজুর নানা সিরাজ শেখ এতিম এই শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রতিকারের আশায়। তবে সমাধানের পথ এখনও পাননি তারা।

শিশুদের নানী বলেন, দুইমাস হলো আমাদের মেয়েকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। তিন শিশুকে আমরা পালছি। বুড়ো মানুষ আমরা, আয়-রোজগার নেই কীভাবে এই বাচ্চাদের দেখাশোনা করবো?

ছোট্ট শিশু নাঈমা বলে, আমার আম্মুকে এনে দাও। আমি আম্মুর কাছে যাব। আম্মুর জন্য আমার কষ্ট লাগে।

১০ বছরের শিশু আইরিন বলে, ভাইবোন দুটো ঘুমের ঘরেও পুলিশ-পুলিশ বলে কান্না করে। আমার আব্বার লোন মাফ করে আমার মারে ছাড়িয়ে এনে দেন।

তিন শিশুর নানার অভিযোগ, অভাগা নাতি-নাতনিরা এখনও ঠিকমতো টাকা, ঋণ, লেনদেনের অর্থই বোঝে না। তাদের বয়স লুকিয়ে তাদের আসামি করেছে ব্যাংকটি। নিজেরই সংসার চলে না তার ওপর যুক্ত হয়েছে কন্যার এতিম নাবালক তিন সন্তান।

তিনি বলেন, আমার মেয়েটারে দুই মাস আগে ধরে নিয়ে গেছে। টাকার অভাবে তাকে জামিন করে আনতে পারিনি। আমরা স্বল্প আয়ের মানুষ। মামলার কারণে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। মামলা আর তিন শিশু বাচ্চাকে নিয়ে কিছুই করতে পারছি না।

শিশুদের মামলার আসামি করা মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী ও সাপ্তাহিক চন্দনার সম্পাদক কাজী হাসান ফিরোজ। তিনি বলেন, আমিন শেখের ঋণের মামলায় তার স্ত্রী কারাগারে। তিন শিশু সন্তানও মামলার আসামি। এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘণ। আমরা আশা করছি, আদালত এবিষয়ে সুবিবেচনা করবেন।

শিশু তিনটির মা পপি খাতুনের মুক্তি ও মৃত আমিন শেখের ঋণ মওকুফ করে এ মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দিতে আদালতের সুদৃষ্টি কামনা করেছে প্রতিবেশীরাও।

সুনামগঞ্জে আজ থেকে শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘শাহ আবদুল করিম লোক উৎসব’

বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১০৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় দুই দিনের ‘লোক উৎসব’ শুরু হওয়ার কথা আছে। আজ শুক্রবার বিকেল থেকে তাঁর জন্মস্থান উপজেলার উজানধল গ্রামের মাঠে এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।

আজ বিকেল চারটার দিকে শাহ আবদুল করিম লোক উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত থাকবেন দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার ও মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স মেজর জেনারেল (অব.) শেখ মো. মনিরুল ইসলাম। এবার উৎসবের সহযোগিতায় আছে বিকাশ।


উৎসবের আয়োজক শাহ আবদুল করিম পরিষদের সভাপতি ও তাঁর ছেলে বাউল শাহ নূর জালাল বলেন, এবারও উৎসবে বাউল করিমের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করবেন বিশিষ্টজনেরা। পাশাপাশি শাহ আবদুল করিমের শিষ্য, অনুরাগী ও স্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর গান গাইবেন দেশের জনপ্রিয় শিল্পীরা।

শাহ আবদুল করিমের সৃষ্টি জুড়ে মানুষ, সাম্য ও প্রেমের জয়গান আছে জানিয়ে নূর জালাল বলেন, কালনী নদীর তীরে বসেই মনের গভীর থেকে উঠে আসা মাটির সুরে সাদাসিধে কথা আর উপমা বসিয়ে তিনি তৈরি করেছেন অসংখ্য কালজয়ী গান। এই মরমি শিল্পীকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতেই এ উৎসবের আয়োজন।

বাংলা লোকগানের এই বাউল সাধকের স্মরণে ২০০৬ সাল থেকে উজানধল গ্রামে উৎসবটি আয়োজিত হয়ে আসছে। উৎসবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ভক্ত-সাধকদের পাশাপাশি সংগীতপ্রেমীদের পদচারণে মুখরিত হয়ে ওঠে গ্রামটি।
 

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের অফিসকে পাবলিক টয়লেট করার ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে এমন ঘোষণা দেন সংগঠনের মহানগর শাখার আহ্বায়ক মো. আবু রায়হান। 

এছাড়া ওই ভবনের সামনের খালি স্থানটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড হিসেবে ঘোষণা দিয়ে রাত থেকেই সেখানে কার্যক্রম শুরু করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সংগঠনের কর্মীরা মহানগর আওয়ামী লীগের পাশের ভবনে জেলা আওয়ামী লীগের অফিসে স্থাপন করা নৌকার প্রতিকৃতি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন। পরে সেখানে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নেতারা। 

কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক মো. আবু রায়হান বক্তব্যে বলেন, ‘অফিসের সামনের খালি স্থানটি সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড এবং মহানগর আওয়ামী অফিসটি পাবলিক টয়লেট হিসেবে আমরা তৈরি করে দেব।’ 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক আবু রায়হান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কোনো নাম নিশানা আর কুমিল্লার মানুষ আর দেখতে চায় না। তাই এ সংগঠনের অফিস আর কুমিল্লায় থাকবে না। জনগণের জন্য এ অফিস ‘পাবলিক টয়লেট’ হিসেবে আমরা আগামী সপ্তাহে তৈরি করে দেব।’ 

এ সময় সংগঠনের সদস্য সচিব রাশেদুল হাসানসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষ হওয়ার পর অফিসের সামনে খালি স্থানে অটোরিকশা স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 

ধানমন্ডি ৩২'সহ সারাদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা উল্লেখ করে সবাইকে এখানেই থেমে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারি।

ছবি:মিজানুর রহমান আজহারি (সংগৃহীত)|

শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত এক পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

পোস্টে তিনি বলেন, মবোক্রেসি দেশকে অস্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে। এখানেই থেমে যাওয়া উচিত। আসুন আমাদের জাতিকে পুনর্গঠন করি।

এর আগে পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ভাষণ দিলে ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের নানা পেজ থেকে। তবে ভাষণের আগেই সেখানে ভাঙচুর শুরু হয় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

পরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার বাড়ি সুধাসদনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

এসময় বিভিন্ন স্থানে থাকা শেখ মুজিবের ম্যুরাল এবং মুজিব পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ফলক ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ইতোমধ্যে বিবৃতি দিয়েছে।

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার উত্তরাঞ্চলের একটি বালুর ঢিবি থেকে ৬৬ ফিলিস্তিনির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বালুর ঢিবিটি ইসরাইলি সেনাবাহিনী তৈরি করেছিল। 

শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলগুলো উত্তর গাজায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর তৈরি একটি বালুর ঢিবি থেকে ৬৬ ফিলিস্তিনির লাশ উদ্ধার করেছে। 

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেছেন, ‘ইসরাইলের বুলডোজিং অভিযানের কারণে গাজা শহর এবং উত্তরের বেশ কয়েকটি এলাকায় আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনীর ব্যবহার করা বালুর ঢিবির নিচে ফিলিস্তিনিদের কবর দিয়েছিল তারা।’

তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলীয় শহর জাবালিয়ায় ৩৭টি এবং গাজা শহরের শাতি শরণার্থী শিবিরে ২৯ জনের লাশ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক কবর এখনও আবিষ্কৃত হয়নি, কারণ ইসরাইলি অভিযানের কারণে ফিলিস্তিনিরা সেসময় মৃতদের রাস্তায়, স্কোয়ার এবং পাবলিক পার্কে কবর দিতে বাধ্য হয়েছিল। সিভিল ডিফেন্স টিম এবং মেডিকেল ক্রুরা সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও ধ্বংসস্তূপ এবং বালুর ঢিবির নিচ থেকে লাশ উদ্ধারের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছে।’

গাজার এই বেসামরিক প্রতিরক্ষা মুখপাত্র বলেছেন, গাজায় ঝোড়ো আবহাওয়া গাজাজুড়ে বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিকদের কয়েক ডজন তাঁবু উড়িয়ে নিয়েছে। এছাড়া বৃষ্টির পানি অনেক তাঁবুকে প্লাবিত করেছে।

তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিনিদের থাকার জন্য গাজায় জরুরিভাবে ১ লাখ ২০ হাজার তাঁবুর প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত গাজায় প্রবেশ করা তাঁবুগুলো সংখ্যাগত পরিমাণ বা মানের দিক থেকে ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করছে না এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা যেসব পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন সেগুলো মোকাবিলার জন্যও অনুপযুক্ত।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অনলাইন ভাষণের জেরে দলটির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ সেলিমের বনানীর বাসায় আগুন দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার।

তিনি বলেন, ‘জনতা রাজধানীর বনানীতে শেখ সেলিমের বাসায় আগুন দিয়েছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি।’

এর আগে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার বক্তৃতা প্রচারের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা গত বুধবার রাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির অর্ধেকের বেশি অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভাঙচুরের পর গত বুধবার রাতে খুলনায় ‘শেখ বাড়ি’ ভাঙচুর করা হয়।

এরপর কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা হানিফের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। গত দুদিনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কমপক্ষে ১৩টি বাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ পরিবারের সদস্যদের অর্ধশত ম্যুরাল ভেঙে ফেলা হয়েছে।
 

রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আটক অভিনেত্রী, সংগীত শিল্পী ও নির্মাতা মেহের আফরোজ শাওন এবং অভিনেত্রী সোহানা সাবাকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ে।

ছবি:শাওন-সাবা (সংগৃহীত)|

তবে তাদের কোনো মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে নাকি জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হবে তা এখনো নিশ্চিত নয় পুলিশ। শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মেহের আফরোজ শাওন ও অভিনেত্রী সোহানা সাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাদের কোন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে, সে সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে প্রথমে অভিনেত্রী শাওনকে তার ধানমণ্ডির বাসা থেকে আটক করে ডিবির একটি দল। এর কয়েক ঘণ্টা পর মধ্যরাত সাড়ে ১২টার দিকে একই এলাকা থেকে আটক করা হয়ে সোহানা সাবাকে।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, অভিনেত্রী শাওনের পর সোহানা সাবা নজরদারিতে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি শাওনের রাজনৈতিক অবস্থান ও কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা তার পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে এবং আজ সন্ধ্যায় বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এদিকে আওয়ামী লীগপন্থি শিল্পীদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ‘আলো আসবেই’-এর সক্রিয় সদস্য ছিলেন অভিনেত্রী সোহানা সাবা।

বিপিএলের প্রাইজমানি দুই কোটি টাকারও বেশি বেড়েছে, এ কারণে বেশি অর্থ পুরস্কার পাচ্ছে চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল ও রানার্স আপ চিটাগং কিংস।

৪০ দিনের দীর্ঘ লড়াই শেষে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) শিরোপা ঘরে তুললো ফরচুন বরিশাল। শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে চিটাগং কিংসকে ৩ উইকেটে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএলের চ্যাম্পিয়ন হলো তামিম ইকবালের দল। সোনালী শিরোপাটি বরিশালের ট্রফি কেসে যাচ্ছে, সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থযোগও হচ্ছে চ্যাম্পিয়নদের। 

এবারের বিপিএলের প্রাইজমানি দুই কোটি টাকারও বেশি বেড়েছে, এ কারণে বেশি অর্থ পুরস্কার পাচ্ছে বরিশাল। চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আড়াই কোটি টাকা পেয়েছে তারা। আগের আসরে চ্যাম্পিয়ন হলে ২ কোটি পেয়েছিল তারা। রানার্স আপ দলেরও প্রাইজমানি বেড়েছে, চিটাগং কিংস পেয়েছে দেড় কোটি টাকা। আগের আসরের রানার্স আপ দলকে দেওয়া হয় এক কোটি টাকা। 

তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থেকে আসর শেষ করা দলগুলো আগে কখনও প্রাইজমানি পায়নি, এবার তারাও পাচ্ছে অর্থ পুরস্কার। তৃতীয় স্থান দখল করা খুলনা টাইগার্সের ঝুলিতে যাবে ৬০ লাখ টাকা। এলিমিনেটর থেকে বিদায় নেওয়া আসরের চতুর্থ দল রংপুর রাইডার্সের পুরস্কার ৪০ লাখ টাকা। প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টের সেরা উদীয়মান ক্রিকেটারকে দেওয়া হচ্ছে অর্থ পুরস্কার। ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে আসরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৮৫ রান করা তানজিদ হাসান তামিম জিতেছেন এই পুরস্কার, তাকে দেওয়া হচ্ছে তিন লাখ টাকা।

ফাইনালের ম্যাচসেরা তামিম ইকবাল পাচ্ছেন ৫ লাখ টাকা। ব্যাটে-বলে আলো ছড়ানো খুলনা টাইগার্সের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ জিতেছেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার। ৩৫৫ রান ও ১৩ উইকেট নেওয়া এই অলরাউন্ডারের পুরস্কার ১০ লাখ টাকা। খুলনার ওপেনার নাঈম শেখ ১৪ ম্যাচে একটি সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফ সেঞ্চুরিসহ ৪২.৫৮ গড়ে টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৫১১ রান করে জিতেছেন ৫ লাখ টাকা। 

পুরো আসরজুড়ে দারুণ বোলিং করা দুর্বার রাজশাহীর পেসার তাসকিন আহমেদ জিতেছেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির পুরস্কার। ১২ ম্যাচে ২৫ নিয়েছেন তিনি, তার পুরস্কারও ৫ লাখ টাকা। উইকেটরক্ষক হরেও টুর্নামেন্টের সেরা ফিল্ডারের পুরস্কার জিতেছেন ফরচুন বরিশালের মুশফিকুর রহিম, তার অর্থযোগ হচ্ছে ৩ লাখ টাকা। 

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে পুঠিয়া উপজেলার নয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ির ছাগলের ঘর থেকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদকে  গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

পুঠিয়া থানার ওসি কবির হোসেন বলেন “নাশকতার উদ্দেশে আবদুস সামাদ পুঠিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করছিলেন। গোপন খবর পেয়ে তার এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

এক পর্যায়ে পুলিশ তার বাড়ি ঘিরে ফেললে তিনি ছাগলের ঘরে লুকিয়ে থাকেন। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

যুক্তরাষ্ট্রে উইমেনস ফেলোশিপ ফাউন্ডেশনের নেত্রী রেবেকা ওয়াগনার ও অন্য সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জাইমা রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বিশ্বশান্তি ও সমৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে (জাতীয় প্রার্থনা প্রাতঃরাশ) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন।

গত ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে এ ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠিত হয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। 

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাজীপুরে ছাত্র-জনতার ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘটনায় শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর সমন্বয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শনিবার থেকেই গাজীপুরসহ সারা দেশে এই অভিযান শুরু হবে।

‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ এর ব্যাপারে আগামীকাল রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।

ইসরাইলের কাছে আরও ৭৪০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র।স্থানীয় সময় শুক্রবার এক ঘোষণায় এ তথ্য জানায় পেন্টাগন।।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে অভ্যর্থনা জানানোর কয়েকদিন পর এবং গাজা যুদ্ধবিরতির মধ্যেই বিষয়টি সামনে এলো। 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, দুটি আলাদা অস্ত্রের চালান অনুমোদনের জন্য কংগ্রেসে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একটি ৬৭৫ কোটি ডলারের চালান, যাতে থাকবে বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র, নির্দেশিকা কিট এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম। এর মধ্যে রয়েছে ১৬৬টি ছোট ব্যাসের বোমা, ৫০০ পাউন্ড ওজনের ২,৮০০টি বোমা এবং হাজার হাজার নির্দেশিকা কিট, ফিউজ এবং অন্যান্য বোমার উপাদান ও সহায়তা সরঞ্জাম। এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম চলতি বছরেই পাঠানো শুরু হবে।

অন্য অস্ত্র প্যাকেজের আওতায় রয়েছে ৩,০০০টি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র এবং এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, যার আনুমানিক মূল্য ৬৬ কোটি ডলার। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সরবরাহ ২০২৮ সালে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

টুইংকেল ডায়াপারে ব্লেড (ছুড়ি) পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করেছেন নূর-জাহান রুমকি নামের এক মা। নিজের আট মাসের বাচ্চার ব্যবহৃত ডায়াপার পরিবর্তন করতে গিয়ে তিনি এই ব্লেড দেখতে পান।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দেয়া এক ফেইসবুক পোস্টে ভুক্তভােগি মা রুমকি এই অভিযোগ জানান। 'শিশুদের খাবার রেসিপি গ্রুপ' এ তিনি এই পোস্ট দেন। এই গ্রুপটি মূলত, বাচ্চাদের নিয়ে কন্টেন্ট, মতামত এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করার প্ল্যাটফর্ম। 

নূর-জাহান রুমকি লিখেন, 'আজকে সকালে উঠেই এ যেন এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা সম্মুখীন হলাম। আমার ৮ মাসের বাচ্চার ডায়পারে  বড় ছুরি(কাটার) পাওয়া গেছে।।😢

মানুষ কতটা খারাপ হলে বাচ্চাদের এমন একটি সেনসিটিভ পণ্যগুলোতেও এমন কাজ করতে পারে, কিছু দুষ্টু চক্রান্ত মানুষদের হাত থেকে ছোট বাচ্চারা নিস্তার নেই আজকাল। 

"টুইংকেল ডায়াপার" ভালো একটি কোম্পানির জানতাম কিন্তু আজকে তার ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণায় রূপান্তর করে দিল। "টুইংকেল ডায়াপার" থেকেই পেলাম এই বড় ছুরি(কাটার)। এজন্য এক ভয়ংকর দৃশ্য।'

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বিচারপতি আবদুর রউফ (৯২) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।  

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে মগবাজারের ইনসাফ বারাকা কিডনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।  
তার একান্ত সহকারী তাওহিদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বিচারপতি রউফ দীর্ঘ দুই মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। 

দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আগামীকাল সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠকে বসবে বিএনপি।

আজ রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ  এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

তবে বিএনপির প্রতিনিধি দলে কারা থাকছেন সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। বর্তমানে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

এর আগে, গত শুক্রবার দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরসহ সারাদেশে ভাঙচুর, সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট ও সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, আর্থিক দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগে ফৌজদারি মামলা রয়েছে তাদের বিষয়ে বিবেচনা করা সম্ভব হয়নি।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন কারণে চাকরি হারানো ১ হাজার ৫২২ পুলিশ সদস্য চাকরি ফিরে পাচ্ছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ২৫ জন কনস্টেবল, ৭৯ জন নায়েক, ১৮০ জন এএসআই/এটিএসআই, ২০০ জন এসআই/সার্জেন্ট/টিএসআই, ১০ জন ইন্সপেক্টর ও ২৮ জন 'নন-পুলিশ' সদস্য রয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সদর দপ্তর থেকে বলা হয়, এসব সদস্যকে চাকরিতে পুনর্বহাল সংক্রান্ত আবেদনসমূহ পর্যালোচনার জন্য ২০২৪ সালের আগস্টে একজন ডিআইজির নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। যে-সব সদস্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে আপিল করে জয়ী হয়েছেন, তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে যারা বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় আপিল করেননি তাদের বিষয়ে আইনি বাধা থাকায় তাদের পুনর্বহালের বিষয়টি বিবেচনা করা যায়নি।

পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, আর্থিক দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগে ফৌজদারি মামলা রয়েছে তাদের বিষয়ে বিবেচনা করা সম্ভব হয়নি। চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যরা যাতে ন্যায়বিচার পান সেজন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আন্তরিকভাবে কাজ করছে। চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা পরিপন্থি আচরণ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। 

মাছের প্রজনন বাড়াতে হাওরের পাশে কৃষিজমিতে কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

আজ রবিবার মৌলভীবাজারের বাইক্কা বিল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন উপদেষ্টা। পরে হাওরের পাশে হাজীপুরের বসবাসরত মৎস্য ও কৃষির সঙ্গে জড়িত শতাধিক উপকার ভোগীদের সমস্যা নিয়ে কথা শুনেন এবং নানা বিষয়ে পরামর্শ দেন।

ফরিদা আখতার বলেন, ‘হাওরে ধান ও মাছ উৎপাদনে দুই মন্ত্রণালয় সংঘাতের মধ্যে আছে। হাওরের মাছের প্রজনন বৃদ্ধি করতে হলে ইজারায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। সেইসঙ্গে হাওরের পাশে জমি চাষে কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাইক্কা বিলের অন্যতম জাদুরি বিলটি খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্য অভয়াশ্রমগুলো খনন করা হবে।’

পারিবারিক কলহের জেরে শ্বশুরের গোপনাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বউ ফাতেমা বেগমের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় পুলিশ ওই ছেলের বউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে।শনিবার দিবাগত রাত ৯ টার দিকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউপির গুচ্ছগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত শাহ জামাল প্রামাণিক (৬৫) বর্তমানে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। সে ঘোড়াঘাটের সিংড়া ইউপির বিরাহীমপুর গুচ্ছগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ১৫ বছর আগে শ্বশুরের বড় ছেলে মনির প্রামাণিকের সাথে ফাতেমা বেগমের বিয়ে হয়। গত শনিবার রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে পারিবারিক ঝগড়ার এক পর্যায়ে শ্বশুর শাহজামাল অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এরপর তাকে টেনে শোবার ঘরে নিয়ে যায় এবং অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। সে সময় আগে থেকে নিজের কাছে রাখা ব্লেড দিয়ে শ্বশুর শাহজামালের পুরুষাঙ্গ কেটে দেন। পরে তার চিৎকারে লোকজন ওই ঘরে গিয়ে শাহজামালকে উদ্ধার করে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন।
 

নাটোরের বড়াইগ্রামে থানার ভিতরে নেচে গেয়ে টিকটক ভিডিও ধারণ এবং সেই ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে শিউলী খাতুন (৪২) নামে এক আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেপ্তার হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শিউলী খাতুন নাটোর জেলা শ্রমিক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও বড়াইগ্রাম পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তিনি গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফুটবল মার্কা প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হন। 

জানা যায়, সম্প্রতি শিউলী খাতুন থানার ভেতরে মুল ভবনের গেটের সামনে ‘বলি ও দারোগা, পেয়েছি মুখ, তোমার পুলিশ ফেঁসেছে-পরান আমার ভালবেসেছে’ গানের তালে তালে নেচে টিকটক ভিডিও ধারণ করেন। তবে এ সময় সেখানে কোনো পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়নি। পরে সেই ভিডিও তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রচার করেন এবং তা মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। থানার সামনে এমন ভিডিও ধারণ করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে নানা সমালোচনা শুরু হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের আগে আওয়ামী লীগ নেত্রী শিউলি খাতুন জানান, টিকটক করা আমার নেশা, সে কারণেই ভিডিওটি ধারণ করেছিলাম। তবে এখন বুঝতে পারছি থানার সামনে কাজটি করা ঠিক হয়নি।  

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, আমাদের সকলের অগোচরে ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি সংবাদকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরেছি। তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
 

নরসিংদীর শিবপুরে 'অপারেশন ডেভিল হান্ট' অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে হাজতখানায় মোবাইলফোনে কথা বলতে না দেওয়ায় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে পুলিশ কস্টেবলকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে।

 

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে শিবপুর থানা ভবনের হাজতখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবিদ হাসানকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি শিবপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, একাধিক মামলার আসামি নাদিম সরকার  সোমবার সন্ধ্যায় যৌথবাহিনীর চালানো 'অপারেশন ডেভিল হান্ট' অভিযানে গ্রেপ্তার হন। পরে তাকে ছাড়ানোর তদবির নিয়ে রাতে থানায় যান স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবিদ। এ সময় কয়েকবার হাজতখানার সামনে গিয়ে গ্রেপ্তার নাদিমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। একপর্যায়ে নাদিমকে নিজের মোবাইলফোন দিয়ে বাইরে কথা বলানোর চেষ্টা করলে কর্তব্যরত কনস্টেবল সবুজ মিয়া বাধা দেন। এতে চটে গিয়ে কনস্টেবলকে থাপ্পড় দেন আবিদ।

শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন টিবিএসকে বলেন, 'মোবাইলে কথা বলানোর চেষ্টা করলে আবিদকে বাধা দিয়ে তাকে হাজতখানার সামনে থেকে চলে যেতে বলেন কনস্টেবল সবুজ। পরে আবিদ রেগে গিয়ে কনস্টেবলকে বলেন, "আমাকে চিনস?" "আপনাকে চেনার দরকার নেই, আপনি চলে যান"—এ কথা বলার পর সবুজকে থাপ্পড় মেরে আবিদ বলেন: "এখানে চাকরি করলে আমাকে চিনতে হবে, আমার কথা শুনতে হবে।"'

আফজাল হোসেন আরও বলেন, পুলিশ সদস্যকে থাপ্পড় মারার ঘটনায় আবিদকে তাৎক্ষণিক আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
 

বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম বলে জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)। স্কোর হিসাবে বিগত ১৩ বছরের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন। 

দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্কোর হয়েছে ২৩। সমান স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছে কঙ্গো ও ইরান। তালিকার উচ্চক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশ ১৫১তম অবস্থানে রয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় ধানমন্ডি টিআইবির কার্যালয়ে দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই)-২০২৪ উপলক্ষ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. মো ইফেতারুজ্জামান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সিপিআই ২০২৪ অনুযায়ী বাংলাদেশের স্কোর ২৩। যা বিগত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ বছর স্কোর বিবেচনায় উচ্চক্রম অনুসারে দুই ধাপ অবনতি হয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫১তম এবং নিম্নক্রম অনুসারে ১৪তম। একই স্কোর নিয়ে তালিকার উচ্চক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে ১৫১তম অবস্থানে রয়েছে কঙ্গো ও ইরান। দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তান ১৭ পয়েন্ট নিয়ে সর্বনিম্ন স্কোর ও অবস্থানে রয়েছে। এ অঞ্চলে আফগানিস্তানের পরই বাংলাদেশের স্কোর ও অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।

ইফেতাখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের এ বছরের নিম্ন স্কোর ও অবস্থান প্রমাণ করে যে, বিগত ১৩ বছর কর্তৃত্ববাদী সরকার মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেও, বাস্তবে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে, লালন করেছে, এমনকি দুর্নীতি সংঘটনে সহায়তা ও অংশগ্রহণ করেছে। এর প্রভাবে যথেচ্ছ লুটপাট, দুর্নীতিবাজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে তোষণ, আইনের সঠিক প্রয়োগ না করা এবং সার্বিক কাঠামোগত দুর্বলতায় বাংলাদেশের অবস্থানের ক্রম অবনতি হয়েছে। অথচ দুর্নীতিবিরোধী বাগাড়ম্বর ব্যতীত এ নিয়ে পতিত আওয়ামী সরকারের কোনো বিকার বা চিন্তা দেখা যায়নি। এমনকি দুর্নীতি দমনে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের প্রকৃত ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

গত বছর বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০ম ছিল। দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্কোর হয়েছে ২৪। সমান স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একইঅবস্থানে ছিল আফ্রিকান রিপাবলিক, ইরান, লেবানন ও জিম্বাবুয়ে। আর ২০২৩ সালে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২তম। বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৫। 

টিআই এমন সময় সিপিআই সূচক প্রকাশ করেছে যখন দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। ১৯৯৫ সাল থেকে বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল দ্বারা প্রতি বছর এই সূচক প্রকাশ করা হয়। ২০০১ সালে বাংলাদেশ প্রথম তালিকাভুক্ত হয়। তখন এ তালিকায় মোট ৯১টি দেশ ঠাঁই পায়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির টিআইবির উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
 

দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের আসর খুব বাজেভাবে শুরু করেছিল ব্রাজিল। তবে কথায় আছে শেষ ভালো যার, সব ভালো তার।

সেটাই প্রমাণ করেছে সেলেসাওরা। চির-প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে ৬-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল। এরপর গ্রুপ পর্বের খেলায় কলম্বিয়ার বিপক্ষেও হেরেছিল। সেই ব্রাজিল কিনা আসরের চূড়ান্ত পর্বে এসে এখন সবার ওপরে!

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ব্রাজিল ৩-১ গোলে হারিয়েছে প্যারাগুয়েকে। সেলেসাওদের হয়ে গোলের দেখা পেয়েছেন গুস্তাভো প্রাদো, রায়ান এবং আলিসন সান্তানা। অন্যদিকে মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে হারিয়েছে কলম্বিয়াকে।


এই জয়ে ফলে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গাও নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে চিলিতে অনুষ্ঠিত হবে যুবা বিশ্বকাপ।

চূড়ান্ত পর্বে ব্রাজিলের মতো আর্জেন্টিনাও জিতেছে তিনটি ম্যাচ। দুই দলেরই পয়েন্ট ৯। কিন্তু গোল ব্যবধানে থাকায় টেবিলের শীর্ষস্থান দখলে নিয়েছে ব্রাজিল। 

এবারের আসরে কোনো ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে না। যে দল টেবিলের শীর্ষে থেকে আসর শেষ করবে, তারাই হবে চ্যাম্পিয়ন। আগামী শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) অলিখিত ফাইনালে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।
 

ইনজেকশন দিয়ে মেরে শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেয়া হয় বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনকে। সাবেক সেনা কমকর্তা জিয়াউল আহসানের নির্দেশে এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়। 

আজ নিজের ভেরিফাইড ফেইসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী। পোস্টে ঢাকা মহানগর ৩৮ (বর্তমান ২৫) নং ওয়ার্ড এর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনকে বন্ধু বলেও সম্বোধন করেন তিনি। 

২০১৩ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নিখোঁজ হন সুমন।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে। ছয় মাস মেয়াদি এই কমিশন আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরু করবে।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সরকারের মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ থেকে এ কমিশন গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।কমিশনের সহ-সভাপতি করা হয়েছে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ। অন্য সদস্যরা হচ্ছেন- জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী, পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য বিচারপতি এমদাদুল হক এবং দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন প্রধান ইফতেখারুজ্জামান।

কমিশনের কার্যপরিধির বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে- কমিশন আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন ব্যবস্থা, পুলিশ, বিচারবিভাগ, জনপ্রশাসন, সংবিধান ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে সংস্কারের জন্য গঠিত কমিশনগুলোর সুপারিশ বিবেচনা ও গ্রহণের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যমত্য গঠনের জন্য রাজনৈতিক দল ও শক্তিসমূহের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং এ মর্মে পদক্ষেপ সুপারিশ করবে। কমিশনের মেয়াদ হবে কার্যক্রম শুরুর তারিখ থেকে ৬ মাস। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এই কমিশনকে সাচিবিক সহায়তা করবে।
 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, বিপ্লবী ভাইয়ের শাহাদাত আমাদের ব্যর্থতা। আমরা এতদিন পর্যন্ত সুবিচার নিশ্চিত করতে পারিনি, আমরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে পারিনি। এই ভূখণ্ডে হয় আমরা থাকব না হয় আওয়ামী লীগ থাকবে।

 বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গাজীপুরে হামলায় শহিদ শিক্ষার্থী আবুল কাশেমের জানাজা শেষে লাশের কফিন নিয়ে মিছিলে তিনি এসব কথা বলেন
 
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আজকে আয়নাঘর প্রকাশিত হয়েছে, আজকেই অভ্যুত্থান বিষয়ক জাতিসংঘের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, আজকেই আমাদের ভাই শহিদ হলেন। বিপ্লবী ভাইয়ের শাহাদাত আমাদের ব্যর্থতা। আমরা এতদিন পর্যন্ত সুবিচার নিশ্চিত করতে পারিনি, আমরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে পারিনি

এ ভূখণ্ডে হয় আমরা থাকব না হলে আওয়ামী লীগ থাকবে। বিপ্লবীরা ও আওয়ামী লীগ একসঙ্গে এ দেশে থাকতে পারে না। আমরা স্পষ্ট করে সরকারকে বলতে চাই, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর শাস্তি নিশ্চিত করুন এবং আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করুন।

লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে আটকে পড়া ১৪৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।

ছবি : ইউএনবি

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর সহযোগিতায় আজ (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৫টায় বুরাক এয়ারের চার্টার্ড ফ্লাইটে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর এসব অভিবাসীদের অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইওএমের কর্মকর্তারা। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে ফেরত আসা এই অভিবাসীদের বেশীরভাগই সমুদ্র পথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেন। তাদের অধিকাংশই লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ফেরত আসা অভিবাসীদের জন্য প্রত্যেকের জন্য ৬ হাজার টাকা, খাদ্য সামগ্রী, চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে আইওএম। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে চলছে ‘তারুণ্যের উৎসব’। গত ১১ তারিখ শুরু হওয়া এই আয়োজন শেষ হবে ১৩ ফেব্রুয়ারি। 

শেষদিন হিসেবে আগামীকাল ১৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে কনসার্ট। এতে অংশ নেবেন উপমহাদেশের বিখ্যাত রকস্টার মাহফুজ আনাম জেমস ও তার দল নগরবাউল। তাদের সঙ্গে কনসার্টে গাইবে জনপ্রিয় ব্যান্ড আর্টসেল। এমনটাই নিশ্চিত করেছেন আয়োজকরা।

আয়োজকরা জানান, পুরো কনসার্টটি থাকবে উন্মুক্ত। কোনো টিকিট লাগবে না। ঢাবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যার পর থেকে। সাড়ে ৬টায় মঞ্চে আসবেন শিল্পীরা। চলবে মধ্যরাত পর্যন্ত।

জেমস-এর ম্যানেজার রুবাইয়াৎ ঠাকুর রবিন জানান, উৎসবের সমাপনী আসরে ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় থাকছে নগর বাউল চমক। কনসার্টটি থাকছে সবার জন্য উন্মুক্ত।

‘তারুণ্যের উৎসব’ আয়োজন করছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুব উন্নয়ন অধিদফতর। এবারের উৎসবের স্লোগান ‘এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই’। 

 
বর্তমান সময়ের আলোচিত-সমালোচিত নাম ডাক্তার সাবরিনা। পেশায় চিকিৎসক হলেও আকর্ষণীয় সাজগোজে ছবি-ভিডিও প্রকাশের জন্য বেশ আলোচিত তিনি।

বিভিন্ন সময় তার নানা ইন্টারভিউ বেশ ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। শুধু তা-ই নয়, শোবিজের নানা অনুষ্ঠানেও ইদানীং তাকে দেখা যায়।সম্প্রতি নাটকেও অভিনয় করেছেন ডা. সাবরিনা। সম্প্রতি ফজলুর রহমান বাবুর সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘অভিমানে তুমি’ শিরোনামের একটি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। এবার রাজনীতিতে নাম লেখালেন সাবরিনা। 

জানা গেছে, জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জিসাস) কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সাবরিনাকে জিসাস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।

রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে ডা. সাবরিনা বলেন, আমার দাদি খালেদা রব্বানি ১৯৭৮ সাল থেকে চারবার এমপি ছিলেন। আমার চাচা রেজা হোসেন দিনাজপুর-১ আসনে বিএনপির দলীয় এমপি ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া। এর আগে আমি সরকারি চাকরি করতাম যে কারণে রাজনীতি করার সুযোগ ছিল না।

এখন আমি কিছু কাজ করছি একটা প্ল্যাটফরম খুঁজছি মানুষের জন্য, কাজ করার জন্য। তাই জিসাসে যুক্ত হয়েছি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবরিনা বলেন, আমার নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, আমার ইমেজ নষ্ট করা হয়েছে। আমার জুনিয়রদের প্রমোশন হয়েছে আমার হয়নি। নিয়মিত প্রমোশন হলে এখন আমি সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে থাকার কথা।

মানুষের জন্য কাজ করে নিজেকে প্রস্তুত করে আগামীতে জনপ্রতিনিধি হতে চাই।
তিনি আরো বলেন, অনেকে আমার রাজনৈতিক আদর্শ সম্পর্কে না জেনে বিরূপ মন্তব্য করছেন, যা কোনোভাবেই ঠিক না। মন্তব্যকারীদের উদ্দেশে বলতে চাই আমার পুরো পরিবার জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শ লালন পালন করে এবং আমি নিজেও বিএনপির একজন কর্মী। অন্যের ব্যাপারে মিথ্যা সমলোচনা না করে দেশকে কিভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় সেই লক্ষ্যে সবাই মিলেমিশে কাজ করাটাই উত্তম।
 
করোনা মহামারির সময় রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজি হেলথ কেয়ারের প্রতারণার অভিযোগে বেশ আলোচিত ছিলেন ডা. সাবরিনা। মানুষের জীবন নিয়ে নির্মম প্রতারণার তালিকায় ছিল সাবরিনা শারমিন চৌধুরী ও তার স্বামী জেকেজির প্রধান নির্বাহী আরিফ চৌধুরীর নাম। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে কোনো পরীক্ষা না করেই প্রতিষ্ঠানটি ১৫ হাজার ৪৬০ জনকে করোনার টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট সরবরাহ করেছিল। সেই মামলায় জেলও খেটেছেন ডা. সাবরিনা।

জার্মানির মিউনিখ শহরে ভিড়ের মধ্যে গাড়ি চাপার ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে। 

ছবি: (সংগৃহীত)|

গাড়িটি একজন সন্দেহভাজন আফগান আশ্রয়প্রার্থী চালাচ্ছিলেন বলে ধারণা। খবর রয়টার্সের।এ ঘটনার পর আগামী সপ্তাহের ফেডারেল নির্বাচনের আগে নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও জোরদার করা হয়েছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ আন্তর্জাতিক নেতারা দক্ষিণ জার্মান শহরে পৌঁছানোর কয়েক ঘন্টা আগে এই ঘটনা ঘটে।মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগদানের জন্য তাদের দেশটিতে পৌঁছানোর কথা।

সর্বশেষ পুলিশ রিপোর্ট অনুসারে, এ ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
 
পুলিশ জানিয়েছে, ধর্মঘটরত শ্রমিকদের বিক্ষোভের সময় একটি সাদা গাড়ি পুলিশের গাড়িকে পাশ কাটিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে গিয়ে লোকজনকে চাপা দেয়। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে একটি গুলি চালানো হয় কিন্তু তাতে সে আহত হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
 
ঘটনাস্থলে ১,০০০ জনেরও বেশি লোক উপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে।
 
কর্মকর্তারা ২৪ বছর বয়সী গাড়ির চালককে আটক করেছে। কিন্তু এই ঘটনার মোটিভ তাদের কাছে এখনও পরিষ্কার নয় বলে জানায় তারা।
 
বাভারিয়া রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মার্কাস সোয়েডার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি সম্ভবত একটি হামলার ঘটনা।’
 
রয়টার্সের অনুরোধে, মিউনিখের জেনারেল প্রসিকিউটরের অফিসের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম ফরহাদ নূরী।

এদিকে বাভারিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোয়াকিম হারম্যান জানান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি মাদক ও চুরির অপরাধে পুলিশের কাছে পরিচিত ছিল। হারম্যান বলেন, তার আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তবে আফগানিস্তানে নিরাপত্তার কারণে তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়নি।
 


হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে দুই শিশুসন্তানসহ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন এক ব্যক্তি। শুক্রবার সকালে উপজেলার আতিকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— উপজেলার রানীগাঁও ইউনিয়নের আতিকপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের ছেলে আব্দুর রউফ এবং দুই মেয়ে খাদিজা আক্তার (৫) ও আয়েশা আক্তার (৩)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রউফ ও তার স্ত্রী হাফিজার মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দুদিন আগে হাফিজা দুই শিশু সন্তানকে রেখে এক বছরের অপর শিশুকে নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান। এ ঘটনায় অভিমান করে বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ২টার দিকে ঘরের দরজা বন্ধ করে আব্দুর রউফ শিশুকন্যা আয়েশা আক্তার ও খাদিজা আক্তারকে বিষপান করিয়ে নিজেও বিষপান করেন।

পরে শিশুদের চিৎকারে ঘরের লোকজন দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। আশঙ্কাজনক আব্দুর রউফকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার তিনিও মারা যান।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পারিবারিক কলহের জেরে আব্দুর রউফ সন্তানদের নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

তিন হাজার কোটি টাকার ইসলামিক বন্ড বা সুকুক ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গুরুত্বপূর্ণ পল্লী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে অর্থায়নের পদক্ষেপ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত শরিয়া উপদেষ্টা কমিটির প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।সাত বছর মেয়াদি এই সুকুক ইস্তিসনা ও ইজারার ইসলামী ব্যাংকিং নীতিমালার আওতায় ইস্যু করা হবে।

সামাজিক উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে এর নাম দেওয়া হয়েছে সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট সুকুক। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহমেদের নেতৃত্বে দেশের আট বিভাগের ৫৮টি উপজেলায় ৮২টি সেতু নির্মাণে অর্থায়ন করা হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকল্পটিতে ১৭ হাজার ৬৯৭ মিটার সেতু, ৩৮ হাজার ৮০০ মিটার সংযোগ সড়ক এবং চার হাজার ২৩০ মিটার নদীশাসনকাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, এই সুকুক ইস্যু প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

উন্নত গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক প্রকল্প এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি ও অকৃষি পণ্য পরিবহন সহজতর করবে, ব্যয় কমাবে এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে যুক্তরাষ্ট্রের বা মার্কিন ডিপ স্টেটের কোনো হাত নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র্র মোদির সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার) হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মোদি। বৈঠকে বাণিজ্য, অভিবাসনসহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা বৈঠকের পরই যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন দুই নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “আমরা জানি বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলে বাইডেন প্রশাসনের সময় মার্কিন ডিপার্টমেন্ট স্টেট জড়িত ছিল। সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জুনিয়র সোরোসের (জর্জ সোরোসের ছেলে) বৈঠকেও তা প্রমাণিত। তো বাংলাদেশ নিয়ে আপনি কী বলবেন?”

জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “না, আমাদের ডিপ স্টেটের এখানে কোনো ভূমিকা ছিল না।”

সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়া-ইউক্রেন প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “অনেকেই হয়তো বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভারত নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়েছে। কিন্তু এটা ঠিক নয়। ভারত এখানে শান্তির পক্ষ নিয়েছিল।”

সংবাদ সম্মেলনে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে আকর্ষণীয় বাণিজ্য-চুক্তি হতে চলেছে বলে জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৈঠকে অভিবাসন ইস্যু নিয়েও আলোচনায় ভারত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কয়েক হাজার অনথিভুক্ত অভিবাসীকে ফিরিয়ে নেবে বলে আশা করেন ট্রাম্প।

আপনার বয়স হয়তো কাগজে ৪২ বছর, কিন্তু শরীরের বয়স হতে পারে ২৬ বছর! এর মানে, আপনি বয়সের তুলনায় অনেক ফিট এবং সুস্থ। আবার কখনও কখনও বয়সের তুলনায় শরীর আরও বেশি পুরোনোও হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি ২৬ বছর বয়সী হন, তবে আপনার শরীরের বয়স হতে পারে ৪২ বছর!

গবেষণায় আরও একটি চমৎকার তথ্য পাওয়া গেছে। তা হলো, মানুষের বয়স জীবনের দুটি নির্দিষ্ট সময়ে দ্রুত বাড়তে শুরু করে। এই দুটি বয়স হলো— ৪৪ বছর এবং ৬০ বছর। এই দুটি বয়সে শরীর দ্রুত বুড়িয়ে যায়।

এটি পুরুষ ও মহিলা, উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের বয়স নির্ণয়ের জন্য এটি একটি সহজ ও নির্ভুল পদ্ধতি। চলুন, এবার দেখে নেওয়া যাক, কীভাবে আপনি আপনার শরীরের বয়স জানতে পারেন।

পরীক্ষার পদ্ধতি:

  • প্রথমে এক পায়ে সোজা হয়ে দাঁড়ান। অন্য পা-টি কোথাও ভর না দিয়ে উঁচু করে রাখুন (যেমন ক্লাসে শিক্ষকরা পড়া না পারলে যেভাবে এক পায়ে দাঁড়াতে বলতেন, ঠিক তেমনভাবে)।

  • চোখ খোলা রাখুন এবং দুই হাত কোমরে রাখুন।

  • এবার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সময় গণনা করুন যে, কতক্ষণ এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন। আপনি যদি ১ মিনিট বা ৬০ সেকেন্ড পর্যন্ত এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন, তবে আপনার শরীর সুস্থ ও ফিট!

কত সেকেন্ডে আপনার বয়স কত

  • ৬০ সেকেন্ড বা এর বেশি এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারলে, আপনার শরীরের বয়স ১৮ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে।

  • ৪৫–৫০ সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকলে, আপনার শরীরের বয়স ৪০ থেকে ৪৯ বছর।

  • ৪০ সেকেন্ড এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকলে, আপনার বয়স ৫০ থেকে ৫৯ বছর।

  • ৩৫ সেকেন্ড এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকলে, আপনার শরীরের বয়স ৬০ থেকে ৬৯ বছর।

  • ২০ সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকতে পারলে, আপনার বয়স ৭০ থেকে ৭৯ বছরের মধ্যে।

  • অন্তত ১০ সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকতে পারলে, আপনার শরীরের বয়স ৮০ বছরের বেশি।

  • ১০ সেকেন্ডও এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে না পারলে, আপনার শরীর একেবারেই আনফিট এবং আপনি হাঁটতেও সক্ষম নন। কারও সহায়তা ছাড়া হাঁটলে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যেতে পারেন।

  • সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর মানুষ ভারসাম্য হারাতে শুরু করে এবং এক পায়ে ১ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আপনার লক্ষ্য থাকা উচিত ৪০ বছরের পরেও শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখা, এবং ১ মিনিট এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত হাঁটা, শারীরিক পরিশ্রম, যথেষ্ট ঘুম এবং দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করলে, আপনি ৫০ বছর বয়সেও শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবেন।

অনলাইনে ভাইরাল ‘দৌঁড়াও হাসিনা দৌঁড়াও’ ভিডিও গেইম। ১৬ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে আসার পর থেকেই, সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ডে আছে এই গেইমটি।

গেইমের শুরুতে ‘অর এক নমরুদ পয়দা হুয়া’, জয়কে নিয়ে করা শেখ হাসিনার স্মৃতিচারণের কন্ঠ শোনা যায়। 

তিনটি ক্যারেক্টারের ওপর ভিত্তি করে পুরো গেইমটি নির্মাণ করা হয়েছে। একটি হচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, আরেকটি শেখ হাসিনা। গেইমে হাসিনাকে গর্ভবতী দেখানো হয়। আর আছেন ড. ইউনুস। ভিডিও গেইমটিতে আইক্কাওয়ালা বাঁশ হাতে তাকে দেখা যায়।

গেইম শুরু করলেই, দেখা যায় নরেন্দ্র মোদী আর শেখ হাসিনা দৌড়াচ্ছেন। মাঝখানে মাঝখানে বাঁশ হাতে দাঁড়িয়ে আছেন ড. ইউনুস। শেখ হাসিনা কোনভাবেই ইউনুসের গায়ে লাগলে গেইম ওভার। তখনই দেখা যাবে, ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলছেন হাসিনা, শোনা যাবে তার বিখ্যাত উক্তি, ‘কি অপরাধটা কি করেছি’ শোনা যায়।

যত বেশী সময় শেখ হাসিনা ড. ইউনূস এবং পাথরের ধাপকে এড়িয়ে যাবেন, তত বেশীই তিনি দৌঁড়াতে পারবেন। অবশ্য এর মধ্যে ‘শেখ মুজিবুরের’ টোকেন আছে, যা নিলে, প্লেয়ারের স্কোর বাড়বে।

কিবোর্ডের ‘আপ’ এবং ‘ডাউন’ বাটন দিয়েই খেলা যাবে পুরো গেইম। খেলা শুরু করলে শোনা যাবে, শেখ হাসিনার আরেক বিখ্যাত উক্তি, “রিক্ত আমি, নি:স্ব আমি, দেয়ার কিছু নাই। আছে শুধু ভালোবাসা, দিয়ে গেলাম তাই।“

এ গেইমের নির্মাতা কার্টুনিস্ট তাসরিফ। এই লিংকে ক্লিক করলে আপনিও গেইমটি খেলতে পারবেন। 

আসছে রমজানে সিডনিতে ঈদ মেলার আয়োজন করবে অসি বাংলা সিস্টারহুড। বাংলাদেশী পোশাক আর মুখরোচক খাবারের সমৃদ্ধি, ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য্য তুলে ধরতে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী নারী উদ্যোক্তাদের এই আয়োজন। 

আগামী ৯ মার্চ রবিবার, সিডনির লিভারপুলে অবস্থিত উইথল্যাম লেসার সেন্টারে বসবে এই মেলা। এই ঈদ মেলায় থাকছে ৬৫টিরও বেশি স্টল, যেখানে পণ্য এবং সেবা সরবরাহ করবেন  নারী উদ্যোক্তারা। থাকছে বাহারি পোশাক, রকমারি গহনা, মেহেদি, ক্যালিগ্রাফি পেইন্টিংসহ অনেক ধরনের হাতের তৈরি শিল্পকর্ম। পাশাপাশি, স্থানীয় সুস্বাদু মুখরোচক খাবারের স্টলও থাকবে, যা প্রবাসীদের জন্য দেশী স্বাদে ফিরে যাওয়ার অনুভূতি সৃষ্টি করবে।

মেলায় প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট বা প্রবেশমূল্যের প্রয়োজন নেই। আয়োজন চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। 

অসি বাংলা সিস্টারহুড দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসী বাংলাদেশী নারীদের জন্য একটি বৃহত্তম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে,  এই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৫,০০০। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে, বাংলাদেশী নারী উদ্যোক্তারা সহজেই অনলাইনে তাদের পণ্য এবং সেবা ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে পারেন। তবে এই ঈদ মেলা একটি বিশেষ উদ্যোগ যেখানে সরাসরি উপস্থিত হয়ে ক্রেতারা তাদের পছন্দের পণ্য কিনতে পারবেন।


মেলার আয়োজক জান্নাত বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য শুধুই ব্যবসা বা ক্রয়-বিক্রয় নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশী পরিবারগুলোর জন্য একত্রিত হওয়ার সুযোগ। আমাদের দেশীয় যে ঐতিহ্য রয়েছে রমজান মাসে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের কেনাকাটা করা সেটাও পরবর্তী প্রজন্ম দেখতে পারবে।"

সরকার বিরোধী প্রচারণায় দিনে ৫৫ লাখ টাকার ফেইসবুক বিজ্ঞাপন চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। নিজেদের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজ থেকে দিনে ৪২০০টি বিজ্ঞাপন চালাচ্ছে, পতিত স্বৈরাচারের এই দলটি। মাসিক হিসেবে যার আনুমানিক খরচ দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি টাকা। 

আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি, নিজের ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে এক পোস্টে এ তথ্য জানান 'সাইবার ৯১' পেইজের এডমিন আব্দুল্লাহ আল জাবের হৃদয়। 

হৃদয় আশংকা প্রকাশ করে বলেন, এত বিশাল অংকের বিজ্ঞাপনের ফলে, এফ কমার্স ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 

"এই এডের জন্য সাফার করতেছে আমাদের পুরা এফ-কমার্স ইন্ডাস্ট্রি- ফেসবুক এত বেশি আওয়ামীলীগের বুস্টিং রিচ করাচ্ছে যে সাধারণ ব্যবসায়ীদের নিজেদের বুস্টিং এর যথাযথ হিসাব পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে!"

ছাত্রদল এবং শিবিরকে উদ্দেশ্য করে পোস্টে তিনি বলেন, "আজকে আমি একটা কথা বলে যাই - ছাত্রদল বলেন, শিবির বলেন, বৈষম্যবিরোধী বলেন- আপনাদের সবার ইন্টার্নাল কামড়াকামড়ির জন্য যদি আওয়ামী লীগ ফিরে আসার সুযোগ পায় - তাহলে মনে রাখবেন আপানরা শুধু নিজেদের কবর রচনা করলেন না - যে শতশত প্রাণ আপনাদের দিকে চেয়ে হাসিনার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল - সেই নিরীহ প্রাণদের কবর রচনা করলেন!

মনে রাখবেন হাসিনা এখনো প্রতিশোধের নেশায় মত্ত! তাই আসুন সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে মতানৈক্য-ভেদাভেদ কমিয়ে আনতে কাজ করি- নাইলে কিন্তু বলতে হবে-

“সময় গেলে সাধন হবে না। দিন থাকিতে দিনের সাধন কেন করলে না।”

লুকোচুরি লুকোচুরি গল্পের পর, অবশেষে নিজের বিয়ের কথা ফেইসবুকে জানান দিলেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। পরিচালক আদনান আল রাজীবের সঙ্গে বিয়ের একগুচ্ছ ছবি প্রকাশ করেছেন তিনি। 

সোমবার ২৪ ফেব্রুয়ারি, নিজের ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার খবর ছবিসহ প্রকাশ করেন অভিনেত্রী।

গতকাল ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার অদূরে একটি রিসোর্টে তাদের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের ছবি তোলায় বিধিনিষেধ থাকলেও, অলরেডি ফাঁস হয়ে গিয়েছে হলুদের ছবি।

এর আগে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টে মেহজাবীন ও আদনানের আকদ সম্পন্ন হয়।

২০০৯ সালে রিয়েলিটি শোয়ের মাধ্যমে মিডিয়াতে পা রাখেন মেহজাবীন চৌধুরী। নাটকের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি এখন ওটিটি ও সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় করছেন।

 

 

টানা চতুর্থবারের মতো মার্কিন সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন কিশোরগঞ্জের কৃতী সন্তান শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন।

গত বছরের (৫ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডিস্ট্রিক্ট-ফাইভ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী লিসা ব্যাবেজের চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি ভোট পেয়েছেন চন্দন। এর আগে একই নির্বাচনি এলাকা থেকে আরও তিনবার সিনেটর নির্বাচিত হন তিনি। প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান ও জর্জিয়ার প্রথম মুসলিম আইনপ্রণেতা তিনি।

শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুরের সরারচর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান। জর্জিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ৬৩ বছর বয়সী চন্দন সরারচর এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা নজিবুর রহমানের সন্তান এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের বড় ভাই। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি মেজ।

চন্দনের এমন বিজয় ও সাফল্যে  জর্জিয়া প্রবাসী বাংলাদেশির পাশাপাশি  তাঁর জন্মস্থান বাজিতপুরের মানুষের মধ্যে  আনন্দ-উল্লাস ছড়িয়ে পড়েছে। 

চন্দন টানা চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হয়ে ভোটারসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।  এ ছাড়া মাতৃভূমি বাংলাদেশের মানুষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সবার ভালোবাসা ও সহযোগিতায় বহুজাতিক সেতুবন্ধনের একটি সমাজে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছি।’ এমন নিঃশর্ত ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়ে আরও সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
 

ইউটিউবের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে বর্তমানে অনেকেই সাবলম্বি হচ্ছেন। এটি এখন অনেকের প্রধান পেশাও। এর মাধ্যমে শহর বা গ্রামের বিভিন্ন বয়সের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের এখন দেখা যায় বিশ্বজুড়ে। কিন্তু ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে এমন এক গ্রাম রয়েছে, যে গ্রামের প্রায় সবাই ইউটিউব কনটেন্ট ক্রিয়েটর। 

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের তুলসী গ্রামের প্রায় সবাই এখন ইউটিউব কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তারা ভিডিও তৈরি করেন গ্রামের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, সামাজিক সমস্যা নিয়ে। সেগুলোতে হাজার হাজার লাইক, ভিউ এবং সাবস্ক্রাইবার পান। ইউটিউবের আয় তাদের জীবনযাত্রায় ব্যাপক বদল এনেছে।

এ গ্রামের আয়ের মূল উৎস ইউটিউব। গ্রামের মানুষদের হাতে হাতে মোবাইল। শুধু বিনোদনের মধ্যেই এর ব্যবহার আটকে না রেখে এটিকেই বরং গ্রামটির বেশির ভাগ মানুষ তাদের আয়ের অন্যতম উৎস করে নিয়েছেন।

জানা যায়, একসময় তুলসী গ্রামের মানুষদের জীবন ছিল দারিদ্র্যপীড়িত। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয়তা মেটানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। আর এখন সে গ্রামের অধিবাসীরা ইউটিউবের মাধ্যমে নিজের জীবনযাত্রা দেখিয়ে রোজগার করছেন। গ্রামের পরিবেশ এবং জীবনযাপনকে নিয়ে তৈরি করা ভিডিওগুলো এখন শহরের মানুষের মধ্যেও জনপ্রিয়। গ্রামের প্রকৃত জীবনে একধরনের সাদাসিধে সৌন্দর্য রয়েছে এসব কনটেন্টে, যা শহরের মানুষদের কাছে আকর্ষণীয়।

তবে এই পরিবর্তন একদিনে আসেনি। করোনা মহামারির সময় থেকে গ্রামবাসী ইউটিউবের দিকে আগ্রহী হতে শুরু করেন। বাড়িতে বসে ইউটিউব ভিডিও দেখতে দেখতে তারা নিজেরাও ভিডিও তৈরির কথা ভাবতে শুরু করেন। সে চিন্তা থেকে ইউটিউব তাদের জীবনের অঙ্গ হয়ে ওঠে। এখন গ্রামের প্রায় সবাই সামাজিক এই মাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে আয় করছেন।

গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই এখন মোবাইল এবং ট্রাইপড রয়েছে। কেউ কেউ ভিডিও তৈরির আরও উন্নত সরঞ্জাম কিনেছেন ভিডিও করার জন্য। গ্রামবাসীর এই স্বতঃস্ফূর্ত ভিডিও তৈরির কারণে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তুলসী গ্রামকে ‘ভারতের ইউটিউব ক্যাপিটাল’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তুলসী গ্রামের ইউটিউব কনটেন্টের আকর্ষণীয় বিষয় হলো, তাদের নিজেদের প্রকৃত জীবন এবং গ্রামীণ পরিবেশ। কোনো রকম মেকআপ বা সাজগোজ ছাড়াই নিজেদের জীবন ফুটিয়ে তুলছেন তুলসী গ্রামের মানুষেরা।

তুলসী গ্রাম এখন শুধু একটি গ্রাম নয়, বরং ইউটিউবের দুনিয়ায় এক নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। করোনা-পরবর্তী সময়ে ইউটিউবের মাধ্যমে তাদের জীবনে এসেছে নতুন এক অধ্যায়। এটি তাদের জন্য সাফল্য এবং অর্থ উপার্জনের সুযোগ তৈরি করেছে।

 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি জেলখানা থেকে পালিয়েছেন। 

 

গত ৫ আগস্টের পরে এ ঘটনা ঘটলেও ৬ মাস পর সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানান আবরার ফাহাদের ছোট ভাই ও বুয়েট ছাত্র আবরার ফাইয়াজ।

এ নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষ একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আবরার হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত বন্দি কারাগার হতে পলায়ন সংক্রান্ত সংবাদের প্রতি কারা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে। জনমনে বিভ্রান্তি নিরসনের লক্ষে কারা কর্তৃপক্ষ এই মর্মে সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছে যে, সংশ্লিষ্ট মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত বন্দি মুনতাসির আল জেমি গত বছরের ৬ আগস্ট হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার গাজিপুর হতে ২০২ জন বন্দির সঙ্গে একত্রে (৮৭ জন মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত বন্দিসহ) কারাগারের দেয়াল ভেঙ্গে পলায়ন করে।

এতে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে গত বছরের ১৫ আগস্টে কোনাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের পূর্বক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সকল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। সকল কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে ৩৫জন মৃত্যুণ্ডাদেশ প্রাপ্ত বন্দিসহ ৫১ জন বন্দিকে গ্রেফতার পূর্বক কারাগারের প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক সংশ্লিষ্ট বন্দিকে গ্রেফতারের প্রচেষ্ট অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, আবরার হত্যা মামলায় কারাগারের আগত বিভিন্ন দণ্ডে দণ্ডিত ২২ জন বন্দির মধ্যে বর্তমানে ২১ জন বন্দি কারাগারে আটক আছে।

সবাইকে এক থাকার আহ্বান জানিয়ে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘হানাহানি না করে দিনশেষে দেশ ও জাতির দিকে খেয়াল করে এক থাকতে হবে। যদি নিজেরা কাদা ছোঁড়াছুড়ি করেন, দেশ ও জাতির সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি সতর্ক করে দিচ্ছি, পরে বলতে পারবেন না যে সতর্ক করিনি। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যতটুকু পারছেন সাহায্য করছেন দেশকে ইউনাইটেড রাখার।’

আজ মঙ্গলবার জাতীয় শহীদ সেনা দিবসে রাওয়া ক্লাবে আয়োজিত ফটো এক্সিবিশনে তিনি এসব কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘আজকে একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই। আমার অন্য কোনো আকাঙ্ক্ষা নাই, একটাই আকাঙ্ক্ষা, দেশ ও জাতিকে সুন্দর জায়গায় রেখে সেনা নিবাসে ফেরত আসব।’

তিনি বলেন, ‘আজকে পুলিশ সদস্য কাজ করছে না। কারণ তাদের অনেকেই জেলে। র‍্যাব, বিজিবি প্যানিকড। দেশের শান্তিরক্ষার দায়িত্ব শুধু সেনাবাহিনীর না। আনসার বাহিনী আছে। ৩০ হাজার সেনাবাহিনী সদস্য নিয়ে আমরা কীভাবে করব?’

নির্বাচন নিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা নির্বাচনের দিকেই ধাবিত হচ্ছি, ১৮ মাসের কথা বলেছিলাম। ডিসেম্বরের মধ্যে একটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করছি।’

তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর ওপর আক্রমণ করবেন না। সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধানের প্রতি বিদ্বেষ কারো কারো, কী কারণে জানি না। আমাদের সাহায্য করেন, আক্রমণ নয়। আমাদের উপদেশ দেন, আমি সবার কাছে স্মরণাপন্য হই, আমরা ভালো উপদেশ গ্রহণ করব, আমরা এক থাকতে চাই, দেশ ও জাতিকে আমরা রক্ষা করতে চাই।’

ভারতের উত্তরপ্রদেশে ১৬৮ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়েছে রাজ্যটির ক্ষমতাসীন উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। র‍্যাপিড রেল ট্রানজিট নেটওয়ার্কের জন্য প্রায় পৌনে দুইশো বছরের পুরোনো এই মসজিদটি ভাঙা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

২৩ ফেব্রুয়ারি পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মুসলিম মিরর এবং সিয়াসত ডেইলি।

সংবাদমাধ্যম বলছে, বিজেপি-শাসিত উত্তর প্রদেশে মুসলিম ধর্মীয় স্থানগুলোর পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করার কাজ অব্যাহত রয়েছে। রাজ্যটির কর্তৃপক্ষ মিরাটে ১৬৮ বছরের পুরোনো একটি মসজিদকে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

গত শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করে দিল্লি রোডে অবস্থিত ঐতিহাসিক ধর্মীয় এই স্থাপনাটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়। উত্তর প্রদেশ কর্তৃপক্ষ বিতর্কিত এই পদক্ষেপের পক্ষেই কথা বলেছে। তাদের দাবি, মসজিদটি জাতীয় রাজধানী অঞ্চল পরিবহন কর্পোরেশন (এনসিআরটিসি)-এর একটি র‌্যাপিড রেল সিস্টেম (আরআরটিএস) নির্মাণে বাধার সৃষ্টি করেছিল।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনও ধর্মীয় এই স্থাপনাটি ধ্বংসের অভিযানের পক্ষে কথা বলেছে। তারা বলছে, র‌্যাপিড রেল নেটওয়ার্কের বিস্তৃত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই মসজিদটি অপসারণ করা হয়েছে।

এই বিষয়ে রাজ্যটির মিরাট শহরের পুলিশ সুপার (এসপি) আয়ুশ বিক্রম সিং বলেছেন, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সাথে বৈঠকের পরে মসজিদটি ধ্বংসের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

তার দাবি, “অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সিটি, এনসিআরটিসি কর্মকর্তা, মসজিদের ইমাম এবং অন্যান্য সদস্যসহ স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি বৈঠকের পরে এই মসজিদটি ধ্বংস করা হয়েছে।”

তবে ওই এলাকার মুসলিম বাসিন্দারা এই মসজিদটি ধ্বংসের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে একের পর এক ধ্বংস অভিযান আসলে মুসলিম ধর্মীয় সম্পত্তিগুলোকে টার্গেট করে রাজ্য সরকারের চলমান প্রচেষ্টার একটি বিস্তৃত প্যাটার্নের অংশ।

এই কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে অ্যাডভোকেট শের আফগান বলেন, “এটি সম্পূর্ণ অবিচার”। সুলতান আখতার নামে অন্য একজন স্থানীয় মুসলিম একই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, “ইসরায়েল যেমন ফিলিস্তিনে অবকাঠামো ধ্বংস করে, ঠিক তেমনই যোগী আদিত্যনাথের সরকার মুসলমানদের সম্পত্তি বুলডোজার দিয়ে ধ্বংস করছে।”

এর আগে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গত ৯ ফেব্রুয়ারি উত্তরপদেশ কর্তৃপক্ষ হাতা নগরের মাদানী মসজিদ ভেঙে দেয়। ডিএসপি কাশ্য কুন্দন সিং এবং বিএসএফ বাহিনীসহ পুলিশ বাহিনীর বিশাল সংখ্যক সদস্যের নজরদারিতে বেশ কয়েকটি বুলডোজার ব্যবহার করে ওই মসজিদটি ভেঙে ফেলা হয়েছিল।

দীর্ঘ ৩৭ বছরের দাম্পত্য বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ ও তার স্ত্রী সুনীতা আহুজার। বলিউডের সুখী দম্পতি হিসেবে পরিচিত তারা। তবে এবার সেই সুখের সংসারে অসুখ বাসা বেঁধেছে।সম্প্রতি তা ফাঁস করেছেন অভিনেতা গোবিন্দর স্ত্রী সুনীতা। পরকীয়ার অভিযোগ এনেছেন নায়কের বিরুদ্ধে।

ছবি:বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ ও তার স্ত্রী সুনীতা আহুজার  

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে জানা যায়, অর্ধেক বয়সী মারাঠি এক অভিনেত্রীর প্রেমে পড়েছেন গোবিন্দ। তার সঙ্গেই খাচ্ছেন ডুবে ডুবে জল। গুঞ্জন, সেই জলেই টালমাটাল নায়কের সংসার।  

এক সাক্ষাৎকারে গোবিন্দপত্নি বলেন, আগে আমাদের দাম্পত্যে সুরক্ষিত বোধ করতাম। কিন্তু এখন আর করি না। এখন ওর ৬০-এর বেশি বয়স। জানি না, কখন কী করবে।

সুনীতা জানান, আগে কাজের ব্যস্ততায় কোনোরকম পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিল না গোবিন্দের। কিন্তু এখন তো বসেই থাকে। তাই ভয় হয়, কিছু করে না বসে!

গোবিন্দের ক্যারিয়ারে যখন ভরা বসন্ত তখন ঘরে তোলেন সুনীতাকে। তবে ক্যারিয়ারে প্রভাব পড়তে পারে বলে বিয়ের কথা গোপন রেখেছিলেন। তিন বছর পর প্রকাশ্যে আনেন পরিণয়ের কথা। 

একসময় ভালোবাসার ঘনবসতি ছিল গোবিন্দ-সুনীতার ঘরে। তবে আজ তার এতই অভাব যে দুজনের ঘরই আলাদা হয়ে গেছে। একসঙ্গে থাকার তাগিদও ফুরিয়েছে। দুই সন্তান নিয়ে স্ত্রী থাকেন। অন্যদিকে নিজের বাংলোয় একা থাকেন গোবিন্দ। 

 

যুক্তরাজ্যে ভ্রমণকারীদের জন্য গ্রাহক সেবা উন্নত করতে ভিএফএস গ্লোবাল সম্প্রতি একটি নতুন জেনারেটিভ কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পন্ন চ্যাটবট চালু করেছে।

বাংলাদেশসহ ১৪১ দেশে যুক্তরাজ্যের ভিসার জন্য এআই চ্যাটবট চালু করা হয়।বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভিএফএস গ্লোবাল এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

ভিএফএস জানায়, এআই চ্যাটবট প্রযুক্তি জার্মানি, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ভারতে অবস্থিত ভিএফএস গ্লোবালের এআই সেন্টারে তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশসহ ১৪১টি দেশে যুক্তরাজ্যের ভিসা গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। জেনারেটিভ এআই-চালিত চ্যাটবটটি কথোপকথনে পারদর্শী, যা মানবসদৃশ কথোপকথন সেবা দিয়ে থাকে।

এটি ভয়েস এবং টেক্সট ইনপুটের মাধ্যমে কাজ করতে সক্ষম, যা নানা ধরনের সেবা গ্রহীতাকে কার্যকরভাবে সেবা দেয়। এটি টেক্সট ও ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমেও কাজ করে।এটি যুক্তরাজ্যে ভ্রমণকারী গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিক, নির্ভুল এবং সহজলভ্য তথ্য সরবরাহ করে থাকে।

কাস্টমার সার্ভিসেস গ্রুপ, ইউকে ভিসা অ্যান্ড ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তা জেন ভিডলার বলেছেন, ভিএফএস গ্লোবালের এআই-চালিত চ্যাটবটটি আমাদের ভিসা পরিষেবাগুলোকে আরও সহজ, কার্যকর এবং সব ধরনের গ্রাহকের চাহিদা পূরণের প্রতিশ্রুতি হিসেবে চালু করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন তথ্য উপদেষ্টা হচ্ছেন মাহফুজ আলম। মঙ্গলবার মো. নাহিদ ইসলাম এই পদ থেকে পদত্যাগ করায় মাহফুজ আলম তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত। শিগ্গিরই এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন দেওয়া হবে। 

তথ্য ও সম্প্রচার এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মো. নাহিদ ইসলাম মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তার পদত্যাগের পর এ দুই মন্ত্রণালয়ের বিষয়টি আলোচনা আসে।

সূত্র জানায়, নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের কারণে নাহিদ ইসলামের পদত্যাগ জরুরি ছিল। ফলে পরবর্তী তথ্য উপদেষ্টা কে হচ্ছেন, তা আলোচনায় আসে। এক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টার বর্তমান প্রেস সচিব শফিকুল আলমের নাম সবার আগে আলোচনায় আসে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ মুহূর্তে প্রধান উপদেষ্টা তাকে ছাড়তে চাননি। এ কারণে সম্প্রতি শফিকুল আলমকে পদোন্নতি দিয়ে সিনিয়র সচিবের মর্যাদা দেওয়া হয়। এরপর তথ্য উপদেষ্টা হিসাবে মাহফুজ আলমের নাম চূড়ান্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।

জানা যায়, মাহফুজ আলম ১০ নভেম্বর উপদেষ্টা হিসাবে শপথ নেন। তবে তিনি কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন না। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ২০ দিনের মাথায় ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসাবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতক করেছেন তিনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে পতিত হাসিনা সরকারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মাহফুজ আলম। যুক্তরাষ্ট্রের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা তাকে এই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী ছাত্র, নাগরিক ও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন।

একটি সংলাপ কতটা আবেগী হতে পারে, বিষাদে ভরিয়ে দিতে পারে দর্শক-মন, তার আরেকটি উদাহরণ নতুন করে উঠে এসেছে নেট দুনিয়ায়। ‘চাচা, হেনা কোথায়?’

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত সংলাপ। কিছুদিন আগেও হঠাৎই একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ‘প্রেমের সমাধি’ সিনেমার বকুল চরিত্রের অভিনেতা বাপ্পারাজ হেনার খোঁজে টাঙ্গাইলে। সিনেমার মতোই দৌড়ে এসে বাপ্পারাজ নাঈমের সামনে দাঁড়ান, এই অভিনেতার মুখে শোনা যায়, ‘নাঈম ভাই, হেনা কোথায়?’

নাঈম বলেন, ‘হেনার সঙ্গে অনেক আগেই আমার বিয়ে হয়ে গেছে।’ ‘না’ বলে বাপ্পারাজকে জড়িয়ে ধরেন সান্ত্বনা দেন নাঈম। পরে দেখা যায়, গান গাইতে গাইতে হেনা চরিত্রের শাবনাজ হাজির। মজা করে মুঠোফোনের ক্যামেরার ধারণ করা এই ভিডিও আবার ভাইরাল হয়।

এসব মজার ঘটনা নিয়েই গতকাল টেলিপ্যাব (টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) আয়োজিত পিকনিক ও আনন্দ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে কথা বলেন নাঈম।

এই অভিনেতা বলেন, ‘বাপ্পা, ওমর সানীসহ আমাদের সেই সময়ের সবার সঙ্গে নিয়মিতই দেখা হয়, আড্ডা হয়। এবার যখন বাপ্পাসহ আরও অনেকে টাঙ্গাইলে আমাদের গ্রামের বাড়িতে আসেন, তখন যথারীতি আমাদের গ্রামের বাড়ির বাগানে চা খাচ্ছিলাম, মজা করছিলাম। ওমর সানী পেছন থেকে ভিডিও করছিল। সব সময়ই নানা মজার ঘটনা ঘটে। আড্ডার মাঝে আমার মেয়ে নামিরা জানায়, বাপ্পা আর আমাকে একটা অনুরোধ রাখতে হবে। মেয়ের আবদার তো রাখতেই হবে। বাপ্পা তখন জানতে চায়, ‘কী মা বলো?”

নাঈম বলেন, ‘বাপ্পা তখন জানতেন না কী হতে যাচ্ছে। পরে নামিরার কাছে সব শুনে, সবার তো চোখ কপালে। হেনার যে অংশ ভাইরাল হয়েছে, সেই অংশ অন্যভাবে অভিনয় করে দেখাতে হবে। এখানে এবার নাঈমকেও থাকতে হবে। এই ভাইরালের যুগে এসব করলে মানুষ কি বলবে। সেই ভাবনা সবার মাথায় ছিল। ‘মেয়ের কথা রাখতে গিয়েই, ভিডিওতে অংশ নিলাম। ওরাই সব ঠিক করল। আমাকে গাছের সঙ্গে হেলিয়ে তারা দাঁড় করিয়ে দিল। পরে আমার কাছে দৌড়ে বাপ্পা আসে। ডায়ালগ দিতে হয়। সেটা আপনারা ভিডিওতে দেখেছেন। মেয়ের ইচ্ছা পূরণ করতে বাপ্পাকে জড়িয়ে ধরি, শাবনাজ এসে নাচে। এটাও পরে দেখি ভাইরাল। আমরা ইচ্ছা করে ভাইরাল করব এমন চিন্তা ছিল না। অল্প সময়েই মধ্যেই ভিডিও করা। তবে বুঝতে পেরেছি দর্শকেরা এখনো আমাদের ভালোবাসেন। তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা।’

নাঈদের কথায়, “একটা সিনেমা তো একজন বানায় না। নির্মাতা, শিল্পী, কলাকুশলীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটা ভালো সিনেমা নির্মাণ হয়। আজ থেকে ২৮ বছর আগের সিনেমার একটি ডায়লগ যে এভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে সেটা আমাদের কারও জানা ছিল না। এটা শুধু বাংলা দেশে না, অভিনেতা গাব্বার সিং, শাহরুখ খানসহ অনেক অভিনেতা ডায়লগ কমবেশি সবাই আমরা জানি। একটি ডায়ালগ দিয়ে পুরনো একটি ছবি নতুন প্রজন্মের কাছ পরিচিত অর্জন করেছে। ভালোলাগার বিষয় হল- ‘প্রেমের সমাধি’ সিনেমার ‘হেনা কোথায়’ নিয়ে বাপ্পারাজ ও শাবনাজের সিনেমার যেভাবে প্রচার ঘটেছে তা অবশ্যই প্রসংশার দাবিদার। আমি মনে করে তারাই প্রকৃতশিল্পী।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের উদ্যোগে নতুন ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ নামে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করেছে।

 বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে নতুন ছাত্র সংগঠনটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। 

এর আগে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন ছাত্র সংগঠন আনার ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের ২০১৯-২০২০ সেশনের শিক্ষার্থী আবু বাকের মজুমদার, সমন্বয়ক আব্দুল কাদেরসহ আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা একদল শিক্ষার্থী।

তারা ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট, বাংলাদেশ ফার্স্ট’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র নতুন সংগঠন গড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

বৈষম্যবিরোধীদের আন্দোলনের এই অংশ যখন নতুন ছাত্র সংগঠনের ঘোষণা দিলেন, তখন আরেকটি অংশ জাতীয় নাগরিক কমিটির সঙ্গে মিলে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার কাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছেন। আগামী শুক্রবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নতুন এ দলের আত্মপ্রকাশ ঘটবে বলে গত সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বের সামনের সারিতে থাকা অন্যতম সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

নতুন দলটিতে যোগ দিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেওয়া নাহিদ ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পদত্যাগ করেছেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।

জার্মানির মিউনিখ বিমানবন্দরে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ট্রেড ইউনিয়ন ভ্যার্ডি। ঘোষণা অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার থেকে এ ধর্মঘট শুরু হবে।

ইন্টারন্যাশনলান এয়ারপোর্ট রিভিউ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার দুই দিনব্যাপী এই ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়। ধর্মঘটের কারণে অন্তত এক হাজার ৬০০টি ফ্লাইট বাতিল হতে পারে বলে জানা যায়। এরপর মিউনিখ বিমানবন্দর বৃহস্পতি ও শুক্রবারের তালিকাভুক্ত সব ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন করা শুরু করে।

এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে কোলন-বন ও ডুসেলডর্ফ বিমানবন্দরেও কর্মবিরতি পালন করেছে ভ্যার্ডি।

বিমানবন্দরের কর্মীদের কর্মপরিবেশের মানোন্নয়ন, ৮ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত তিন দিন বেতনসহ ছুটির দাবি জানিয়ে আসছে ভ্যার্ডি। মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনায় বসার পরেও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি তারা।

এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষগুলো জানিয়েছে, ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা দুই দিনের ধর্মঘটের কারণে তাদের প্রায় ১ হাজার ৬০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হতে পারে। এতে যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট ফ্লাইট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুালন করেছে ভ্যার্ডি।

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইলের কারাগারে বন্দি ৭৫ বছর বয়সি নাজাত এল আঘার ছেলে দিয়া। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও হতাশাই জুটলো মায়ের কপালে।

ছেলে ফিরে আসবে, সেই আনন্দে গাজার বিধ্বস্ত রাস্তাঘাট হাতড়ে বেড়াচ্ছিলেন নাজাত। যদি কিছু পাওয়া যায়, যা দিয়ে ছেলেকে স্বাগত জানাতে পারেন তিনি।নাজাত বলেন, আমি গাজার ওমার আল মুখতার স্ট্রিটে হাঁটতে হাঁটতে ভাবছিলাম, কীই বা দিতে পারি আমার ছেলেকে? জামা-কাপড়ে ভরে ফেলি ব্যাগ, টুথপিকও ভরেছিলাম ব্যাগে।

শনিবার ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, ইসরাইলি বন্দিদের বিনিময়ে যেসব ফিলিস্তিনি বন্দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল, সেই তালিকায় ছিল দিয়ার নামও।

১২ ঘণ্টা ধরে গাজার ইউরোপিয়ান হাসপাতালে বন্দি বিনিময়ের স্থানে অপেক্ষা করেন নাজাত। কিন্তু ৬২০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে ফেরত পাঠালেও নাজাতের ছেলে দিয়াকে পাঠায়নি ইসরাইল। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাকি বন্দিদের মুক্ত করার আগে ইসরাইলি বন্দিদেরও মুক্ত করা হবে এমন নিশ্চয়তা চায় তারা।

এই খবর পাওয়ার মুহূর্ত থেকে নিজের আবেগ সামলাতে পারছেন না সদ্য ৫০ বছর পেরোনো দিয়ার মা নাজাত।

তিনি বলেন, আমি সব কিছু তার জন্য প্রস্তুত করেছি, তবুও সে মুক্তি পেল না। আমাকে তারা বাধ্য করে বাসায় ফিরে যেতে, কিন্তু আমি চাইছিলাম সেখানেই বসে থাকি, যত দিন না দিয়া মুক্তি পায়।

আশা, হতাশা ও ধৈর্যের পরীক্ষা

১৯৯২ সালে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এক কর্মকর্তাকে মারার কারণে কারাবন্দি হন দিয়া এল আঘা। ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইলি কারাবাসে থাকা ১৮ ফিলিস্তিনি বন্দির একজন তিনি।

এত দীর্ঘসময় বন্দি থাকতে থাকতেই তিনি হারান নিজের বাবা ও বোনকে। কারাগারে তাকে ডাকা হয় ‘বন্দিদের অধ্যক্ষ’ নামে। হামাস সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে ইসরাইলি বন্দিদের ফেরত পাঠিয়েছে, তাকে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছে। ইসরাইলের মতে, এভাবে ফেরত পাঠানো বন্দিদের জন্য রীতিমতো অসম্মানজনক ছিল।

ভিড়ের মাঝে স্টেজের ওপর বন্দিদের তুলে তারপর তাদের ফেরত পাঠানো হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বন্দিদের দেহাবশেষ থাকা কফিনও ভিড়ের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। তিন ধাপের যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, আরও ৬৩ জন বন্দি থাকার কথা গাজায়, যাদের মুক্তি দেওয়ার কথা আছে এই চুক্তিতে। তাদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন বন্দির জীবিত থাকার কথা জানা গেছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় আশা ছাড়ছেন না নাজাত। ইসরাইলি হামলায় ভেঙে পড়া তার বাসার গায়ে এখনো ঝুলছে একটি সাইনবোর্ড, যার গায়ে লেখা ‘এটা বন্দি দিয়া জাকারিয়া এল আঘার বাসস্থান।’

সূত্র: ডয়চে ভেলে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল ও বঙ্গবন্ধু সেতুর নাম পরিবর্তন করেছে সরকার।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের নাম পরিবর্তন করে ‘কর্ণফুলী টানেল’ ও বঙ্গবন্ধু সেতু নাম পরিবর্তন করে ‘যমুনা সেতু’ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সেতু বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্মিত এই দুইটি স্থাপনা নাম পরিবর্তন করল সরকার। জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বলিউড বাদশা শাহরুখ খানের বাংলো মান্নাত মুম্বাইয়ে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

বান্দ্রা এলাকার এই বাংলোটির বাইরে প্রতিদিন শত শত শাহরুখ-ভক্ত ভিড় করে। ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে অভিনেতা এবং তার পরিবার এই বাড়িতে থাকেন।এবার জানা গেল, চলতি বছরের শেষ দিকে তারা এই বাংলো ছেড়ে একটি অ্যাপার্টমেন্ট থাকতে যাবেন! শুনতে খুব অবাক লাগলেও এটাই সত্যি।

এ বিষয়ে আরও জানা গেছে,তাদের বাংলোটিতে বেশ কিছু সংস্কারের কাজ হবে, আর তাই খান পরিবারকে কিছুদিন অন্য জায়গায় থাকতে হবে।

বলিউড ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অনুসারে, মান্নাত বেশ কিছুটা বড় করা হবে, আরও বেশ কয়েকটি ফ্লোর যোগ হবে। এর জন্য শাহরুখকে আদালতের থেকে অনুমতিও নিতে হয়েছিল। ইতোমধ্যেই কিছুটা কাজ শুরুও হয়ে গেছে। কিন্তু এরপর আরও ভারী কাজ হওয়ার কারণে পরিবারের সবাইকে নিয়ে শাহরুখের পক্ষে সেখানে থাকা সম্ভব হবে না। তাই তারা সেই সময়টুকুর জন্য অন্য জায়গায় থাকবেন।

শাহরুখ খানের নতুন ঠিকানা কোথায় হচ্ছে? এ বিষয়ে জানা গেছে, শাহরুখ খান, স্ত্রী গৌরী এবং সন্তান অর্থাৎ আরিয়ান, সুহানা এবং আব্রামকে নিয়ে বান্দ্রার পালি হিল এলাকায় একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের চার তলায় থাকবেন।

হোমনা উপজেলা স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষক পরিবারের আয়োজনে বুধবার হোমনা প্রেসক্লাবের সামনে  বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর থেকে  শতভাগ উৎসব ভাতা, সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া ও মেডিকেল ভাতা প্রদানসহ এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবে চলমান লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি  পালনরত শিক্ষকদের উপর  ফ্যাসিবাদি কায়দায় পুলিশী বর্বর হামলার প্রতিবাদে ও হামলার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে এ বিক্ষোভ মিছিল  ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

এতে  প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফর রহমান, মো. শামসুল হক সরকার, অধ্যক্ষ কেএম আতিকুর রহমান, চান্দেরচর মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলাম.প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল করিম,সুপার মাওলানা আবদুল কাদির,, রেহেনা মজিদ মহিলা কলেজের  প্রভাষক সুলতানা রাজিয়া আক্তার, সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. নুরুজ্জামান, সিনিয়র শিক্ষক আবদুল আলীম,আবদুল হক,আবুল কালাম আজাদ, কাজী মো. ইব্রাহীম,মো. মিজানুর রহমান,মো.ইসমাইল,সোহেল রানাসহ বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষকরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অংশ গ্রহণ করেন।

এ সময়  বক্তারা বলেন, চাকরি জাতীয়করনের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে   ঢাকায়  শিক্ষকদের উপর পুলিশের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অবিলম্বে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই ।

তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ৬ স্তরের সাড়ে ৩ হাজার নেতারা এই বর্ধিত সভায় অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর। 

পতিত সরকার গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে নস্যাৎ করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির বর্ধিত সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। বেলা ১১টার দিকে সভা শুরু হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রধান অতিথি হিসেবে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বক্তব্য রাখেন খালেদা জিয়া। সাত বছর পর দলের কোনো বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে খালেদা জিয়া তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, 'আজ দীর্ঘ ছয় বছর পর আপনারা আবার একসাথে ফ্যাসিস্ট মুক্ত বাংলাদেশে একত্রিত হতে পেরেছেন। সেজন্য আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া আদায় করছি। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদীবিরোধী সংগ্রাম যারা শহীদ হয়েছেন এবং সম্প্রতি জুলাই আগস্টের ফ্যাসিবাদী শাসকদের নির্মম ভয়াবহ দমননীতির কারণে গণহত্যায় যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রতি জানাচ্ছি আন্তরিক সমবেদনা। আমি চিকিৎসার কারণে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেও আমি সবসময় আপনাদের পাশেই আছি'। 

তিনি বলেন, 'দীর্ঘ ১৫ বছর গণতন্ত্রের জন্য, আমার মুক্তির জন্য আপনারা যে নিরন্তন সংগ্রাম করেছেন এবং আমাদের অসংখ্য সহকর্মী প্রাণ দিয়েছেন, জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং প্রায় সোয়া লক্ষ মিথ্যা মামলায় জর্জরিত হয়েছে। এখনো আদালতের বারান্দায় ন্যায়বিচারের জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আপনাদের এ ত্যাগ শুধু দল নয়, জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবে'। 

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি বলেন, দেশ আজ এক সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। আপনাদের এবং ছাত্রদের সমন্বিত আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিস্ট শাসকেরা বিদায় নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা রাষ্ট্র মেরামতের ন্যূনতম সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন সম্পন্ন করা। 

খালেদা জিয়া বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি আপনারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে আরও উজ্জীবিত হয়ে আগামী নির্বাচনে সাফল্যের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে আপনাদের এতদিনকার সংগ্রাম আত্মত্যাগ বিফলে যায়।'

তিনি বলেন, 'আমাদের সবসময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সেই উক্তি মনে রাখা দরকার। ব্যক্তির চেয়ে দল বড় দলের চেয়ে দেশ। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ বিশেষ করে তরুণ সমাজ আজ এক ইতিবাচক গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।'

পতিত সরকার গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে নস্যাৎ করার গভীর ষড়যন্তে লিপ্ত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংকীর্ণতা ভুলে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের কাজ করতে হবে। এখনও ফ্যাসিস্টের দোসররা এবং বাংলাদেশের শত্রুরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্জনকে নস্যাৎ করার জন্য গভীর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে'। 

'ইস্পাত কঠিন ঐক্যের মাধ্যমে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দিতে হবে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে', যোগ করেন তিনি। 

'সুদৃঢ় ঐক্যই রুখে দিতে পারে সকল ষড়যন্ত্র' স্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে এবারের বর্ধিত সভা করছে বিএনপি। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ৬ স্তরের সাড়ে ৩ হাজার নেতারা এই বর্ধিত সভায় অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর। 

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সকাল ১০টায় সভা শুরুর কথা থাকলেও বেলা ১১টার দিকে এটি শুরু হয়। সকাল সাড়ে নয়টা থেকেই আমন্ত্রিত নেতারা এলডি হল সংলগ্ন মাঠে আসতে শুরু করেন।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সভা শুরু হয়। এরপর এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালনের জন্য শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এরপর সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  

কেন্দ্রীয় দপ্তর জানায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সকল কর্মকর্তা ও সদস্যরা, সকল মহানগর, জেলা, থানা-উপজেলা-পৌর কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবরা রয়েছেন। এছাড়া বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবররা রয়েছেন। এছাড়াও ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী এবং মনোনয়ন ইচ্ছুক যেসব প্রার্থী প্রাথমিক পত্র পেয়েছিলেন তারাও এই সভায় রয়েছেন।

জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্র-নাগরিকদের আত্মপ্রকাশ করতে যাওয়া রাজনৈতিক দলের নাম ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’।

তথ্য উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করা নাহিদ ইসলাম এর নেতৃত্বে থাকছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনে তিনিই একদফার ঘোষক এবং জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়ক।

জাতীয় নাগিরক কমিটির বর্তমান সদস্য সচিব ও ঢাকসুর সাবেক নেতা আখতার হোসেন নতুন দলটির সদস্য সচিব হচ্ছেন।

উল্লেখ্য, কার্যক্রম স্থগিত হওয়া গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন আখতার হোসেন। আর এই ছাত্র সংগঠনটির মহাসচিব ছিলেন নাহিদ ইসলাম।

নয়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টির মূখ্য সংগঠক হিসেবে থাকছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি এখন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহকে এই দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং সারজিস আলমকে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক করা হচ্ছে।

আগামীকাল শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পরে সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জমায়েতের মাধ্যমে বহুল কাঙ্ক্ষিত দলটির আত্মপ্রকাশ ঘটবে। শুরুতে ১৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি হবে।

এই কমিটিতে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে অন্তত ১১০ জনের বেশি যুক্ত হচ্ছেন। এছাড়া থাকছেন কয়েকজন পেশাজীবীও।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আহতদের তালিকা নিয়ে গেজেট ‘জুলাই যোদ্ধা’ প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত গেজেটে সারাদেশের ৪৯৩ জন আহতদের নাম স্থান পেয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হরিদাস ঠাকুর স্বাক্ষরিত ওই গেজেটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬ এর সিডিউল-১ (অ্যালোকেশন অব বিজনেস) এর ক্রমিক নং ২৩ এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার প্রকাশ করে।

গেজেটে অতি গুরুতর ৪৯৩ জন আহতকে ‘ক’ শ্রেণিতে তালিকাভুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এছাড়া আহতদের ধরণভেদে পর্যায়ক্রমে ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণির তালিকাও প্রকাশ করবে মন্ত্রণালয়।

গেজেটে অতি গুরুতর আহতদের মেডিকেল কেস আইডি, নাম, পিতা-মাতার নাম ও স্থায়ী ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকাটি শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে গণ-অভ্যুত্থানে ৮৩৪ জন শহীদের তালিকা গত ১৫ জানুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

আহত জুলাই যোদ্ধারা তিনটি ক্যাটাগরিতে চিকিৎসা পাবেন। যথা- ক্যাটাগরি এ, বি ও সি। আহত জুলাই যোদ্ধারা যেসব সুবিধাদি পাবেন তা হলো—ক্যাটাগরি ‘এ’ (অতি-গুরুতর আহত): ৪৯৩ জন জুলাই যোদ্ধা তালিকাভুক্ত; যারা চিকিৎসার পরও শারীরিক অসামর্থ্যতার নিরিখে অন্যের সহায়তা ব্যতীত জীবনযাপনে অক্ষম। ক্যাটাগরি এ শ্রেণির যোদ্ধারা এককালীন ৫ লাখ টাকা, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে নগদ (ব্যাংক চেকের মাধ্যমে) ২ লাখ, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে নগদ (ব্যাংক চেকের মাধ্যমে) ৩ লাখ টাকা দেয়া হবে। এছাড়া, মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে আজীবন চিকিৎসা সুবিধা প্রাপ্ত হবেন তারা। তাছাড়া উপযুক্ত মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশে দেশি-বিদেশি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা পাবেন। কর্মসহায়ক প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন সুবিধা পাবেন। পরিচয়পত্র প্রাপ্ত হবেন এবং পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সুবিধাদি পাবেন।

ক্যাটাগরি ‘বি’ (গুরুতর আহত): গুরুতর আহত ক্যাটাগরি ‘বি’তে ৯০৮ জন জুলাই যোদ্ধা তালিকাভুক্ত। যারা পর্যাপ্ত চিকিৎসার পর শারীরিক অসামর্থ্যতার নিরিখে অন্যের আংশিক সহায়তায় জীবন যাপনে সক্ষম হবেন তারা আহত জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আর্থিক অনুদান ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রাপ্ত হবেন। এর মধ্যে এককালীন ৩ লাখ টাকা, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে নগদ (ব্যাংক চেকের মাধ্যমে) ১ লাখ টাকা, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে নগদ (ব্যাংক চেকের মাধ্যমে) ২ লাখ টাকা দেয়া হবে। তারা মাসিক ১৫ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। কর্মসহায়ক প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি/আধাসরকারি কর্মসংস্থান প্রাপ্য হবেন। পরিচয় পত্র প্রাপ্ত হবেন এবং পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সুবিধাদি পাবেন। 

ক্যাটাগরি ‘সি’ (আহত): আহত ক্যাটাগরি ’সি’তে ১০ হাজার ৬৪৮ জন জুলাই যোদ্ধা তালিকাভুক্ত, যারা চিকিৎসার পর বর্তমানে সুস্থ। আহত জুলাই যোদ্ধারা এককালীন ১ লাখ টাকা, মাসিক ১০ হাজার টাকা পাবেন। এছাড়া পুনর্বাসন সুবিধা, পরিচয়পত্র প্রাপ্ত হবেন এবং পরিচয় পত্র প্রদর্শন করে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সুবিধাদি পাবেন।

১৪০ কোটি মানুষের আবাসস্থল ভারতে প্রায় ১০০ কোটি মানুষের কাছে কোনো ধরনের বিবেচনামূলক পণ্য বা সেবার পেছনে ব্যয় করার ক্ষমতা নেই বলে নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অর্থাৎ জীবন ধারনের ন্যুনতম ব্যয়ের মধ্যেই তাদের জীবন সীমাবদ্ধ।

ব্লুম ভেঞ্চারস প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের শীর্ষ ১০ শতাংশ লোক হলো ভোগ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চালিকার প্রাথমিক গোষ্ঠী। এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির ধনী জনসংখ্যা বৃদ্ধি না পেলেও, যারা আগে থেকে ধনী তারা আরও ধনীতে পরিণত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে অনুসারে, ৩০ কোটি মানুষ 'উদীয়মান' বা 'উচ্চাকাঙ্ক্ষী' ভোক্তা হলেও সম্প্রতি তারা ব্যয় করতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়ছেন। অবশ্য ডিজিটাল পেমেন্টের সুবিধার কারণে ধীরে ধীরে খরচের পরিমাণ বাড়াচ্ছেন তারা।

এই বিষয়গুলো সারা দেশের বেশিরভাগ ভোক্তা বাজারকে পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। বিশেষত 'প্রিমিয়ামাইজেশন' বা উচ্চ মূল্যের পণ্যের প্রবণতা বাড়ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো বৃহৎ সংখ্যক ভোক্তার জন্য পণ্যের বাজারের পরিবর্তে ধনীদের জন্য ব্যয়বহুল, আপগ্রেড পণ্যগুলোতে দ্বিগুণ মননিবেশ করছে।

প্রতিবেদন বলছে, আল্ট্রা-লাক্সারি হাউজিং এবং প্রিমিয়াম ফোনের বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এটি স্পষ্ট। সাশ্রয়ী মূল্যের দোকানগুলো এখন ভারতের সামগ্রিক বাজারের মাত্র ১৮ শতাংশ, যা পাঁচ বছর আগে ৪০ শতাংশ ছিল। ব্র্যান্ডেড পণ্যগুলো বাজারের একটি বড় অংশ দখল করছে।

প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক সাজিথ পাই বিবিসিকে জানান, যেসব কোম্পানি এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে তারা ফুলেফেঁপে উঠেছে। যারা সাধারণ পণ্যের দিকে বেশি মনোনিবেশ করেন বা প্রিমিয়াম পণ্যের দিকে তেমন নেই, তারা বাজার হারিয়েছে।

এই রিপোর্টের ফলাফল দীর্ঘদিনের এই ধারণাকে আরও জোরদার করে, মহামারী-পরবর্তী সময়ে ভারতের পুনরুদ্ধারে ধনীরা আরও ধনী হয়েছে, দরিদ্ররা ক্রয়ক্ষমতা ক্রয়ক্ষমতা হারিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, এটি মহামারীর আগে থেকেই শুরু হয়েছিল।

ভারত ক্রমশ আরও অসম হয়ে উঠছে, শীর্ষ ১০% ভারতীয়রা এখন জাতীয় আয়ের ৫৭.৭ শতাংশের নিয়ন্ত্রক, যেখানে ১৯৯০ সালে ছিল ৩৪ শতাংশ।

এদিকে, সর্বশেষ ভোগ-মন্দা কেবল ভারতের ক্রয়ক্ষমতাকেই ধ্বংসই করেনি, আর্থিক সঞ্চয় এবং জনগণের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ঋণগ্রস্ততাকে আরও গভীর করেছে। কোভিড মহামারির পর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সহজ ঋণ দেওয়ার বিরুদ্ধে কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মার্সেলাস ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজারদের সংকলিত তথ্য অনুসারে, ভারতের মধ্যবিত্ত শ্রেণি - যা ভোক্তা চাহিদার জন্য একটি প্রধান উৎস ছিল - সেটিও সঙ্কুচিত হচ্ছে। করদাতা জনসংখ্যার মধ্যবিত্ত ৫০ শতাংশের আয় গত এক দশকে স্থবির হয়ে পড়েছে। এর অর্থ -  প্রকৃত অর্থে আয় অর্ধেক হয়ে গেছে।

আর্থিক হাতুড়ি মধ্যবিত্তের সঞ্চয়কে ধ্বংস করে দিয়েছে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক বারবার তুলে ধরেছে যে, ভারতীয় পরিবারগুলোর নেট আর্থিক সঞ্চয় ৫০ বছরের সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্য এবং পরিষেবাগুলো সামনের বছরগুলোতে একটি কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে পারে।

রমজান মাসে সারাদিন রোজা রেখে ইফতারের সময় সঠিক খাবার নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুস্থ ও সচল থাকার জন্য ইফতারে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া জরুরি, কারণ অনিয়ন্ত্রিত খাবার গ্রহণ শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রোজায় স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ কম খাবার খাওয়া উচিত। তাই ইফতারের খাবার নির্বাচনে সচেতন হওয়া দরকার।  

  

পর্যাপ্ত পানি ও স্বাস্থ্যকর পানীয়  
সারাদিন রোজা রাখার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, তাই ইফতারে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। এছাড়া খেজুর ভেজানো পানি দ্রুত শক্তি যোগায় ও হজমে সহায়ক। ডাবের পানি শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে। লেবুর শরবত, কমলার রস ও অন্যান্য তাজা ফলের রস শরীর সতেজ রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভিটামিন সরবরাহ করে। চিয়া সিড ভিজিয়ে খেলে এটি শরীরে হাইড্রেশন ধরে রাখতে সহায়তা করে।  

খেজুর: শক্তির উৎকৃষ্ট উৎস  
খেজুর রোজাদারদের জন্য একটি আদর্শ খাবার। এটি দ্রুত গ্লুকোজ সরবরাহ করে, যা সারাদিনের রোজার পর শরীরের শক্তি পুনরুদ্ধার করে। এছাড়া এতে প্রচুর ফাইবার থাকায় এটি হজমের জন্য উপকারী।  

তাজা ফল: ভিটামিনের উৎস  
ইফতারে তাজা ফল রাখা শরীরের জন্য বেশ উপকারী। তরমুজ, বাঙ্গি, আপেল, কলা, পেঁপে, আঙুর, আনারস, পেয়ারা ইত্যাদি ফল শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে সহায়ক। আপেল ও কলা প্রাকৃতিক চিনি ও ফাইবার সরবরাহ করে, যা দীর্ঘসময় শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।  

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার: শক্তি ধরে রাখবে  
প্রোটিন শরীরের পেশি সুস্থ রাখে ও দীর্ঘসময় শক্তি সরবরাহ করে। তাই ইফতারে সিদ্ধ ডিম, গ্রিলড বা সিদ্ধ মুরগি, বেকড মাছ, দই ও ছানা খেতে পারেন।  

শর্করা ও আঁশযুক্ত খাবার  
ইফতারে ছোলা রাখা একটি ভালো অভ্যাস। এটি প্রাকৃতিকভাবে প্রোটিন, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আয়রনের উৎস। তবে অতিরিক্ত মসলা বা ঝাল দিয়ে রান্না না করে সহজভাবে খাওয়া উত্তম। এছাড়া ওটস খাওয়া শরীরে দীর্ঘস্থায়ী শক্তি যোগাতে সাহায্য করে।  

বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার  
কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, সূর্যমুখী ও তিসির বীজে প্রচুর স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন ও ফাইবার থাকে, যা দীর্ঘসময় শক্তি ধরে রাখতে সহায়ক। চিয়া সিড শরীরকে হাইড্রেটেড রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।  

দই ও লাবান: হজমের সহায়ক  
দই হজমের জন্য বেশ উপকারী, কারণ এতে ভালো ব্যাকটেরিয়া থাকে যা পেট সুস্থ রাখে। লাবান বা টক দইয়ের শরবত শরীরকে ঠান্ডা রাখে ও ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ইফতারে দই খেলে পেটের সমস্যা কমে এবং শরীর সতেজ থাকে।  

রমজানে সুস্থ থাকতে হলে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া ও প্রসেসড খাবার এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলেই রোজা পালন করা সহজ ও স্বাস্থ্যকর হবে।

বলিউড অভিনেতা সালমান খানকে নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। অভিনেতাও ভক্তদের বিভিন্ন চমক দেন।

এবার রোজা শুরুর আগেই ভক্তদের চমক দিলেন সালমান খান। চলতি বছর ‘সিকান্দার’ সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন সালমান। সিনেমাটির টিজার প্রকাশ পেয়েছে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি), সেই সঙ্গে জানা গেল সিনেমাটি মুক্তির তারিখ।  

বলিউড হাঙ্গামা থেকে জানা গেছে, মুরুগাদোস পরিচালিত ‘সিকান্দার’ সিনেমাটি রোজার ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।। সিনেমাটির মাধ্যমে প্রথমবারের মত সালমানের বিপরীতে দেখা যাবে রাশমিকা মান্দানাকে। সেই সঙ্গে থাকবে প্রতীক বারবার এবং সত্যরাজ।

সিনেমাটির মাধ্যমে প্রথমবারের মত সালমানের বিপরীতে দেখা যাবে রাশমিকা মান্দানাকে। সালমান খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমার টিজার শেয়ার করেছেন। এক মিনিট ২১ সেকেন্ডের টিজারে সালমানের গল্প বলা হয়েছে। তাকে অ্যাকশন অবতারে দেখা গেছে। যদিও টিজারে সিনেমাটির গল্প এবং এর প্লট সম্পর্কে এখনও খুব বেশি কিছু প্রকাশ করা হয়নি, তবে ভক্তদের জন্য এটাই যথেষ্ট যে সালমান খানকে আবারও দাবাং স্টাইলে বড় পর্দায় দেখা যাবে। এছাড়াও সিনেমায় সব চরিত্রদের দেখা মিলেছে। সিনেমাটির টিজার প্রকাশের পর থেকেই প্রশংসা পাচ্ছে ভক্তদের। সালমানের চিরচেনা অ্যাকশন অবতার দেখে মুগ্ধ ভক্তরা। 

চলতি মাসের শুরুতে ‘সিকান্দর’ সিনেমার নতুন পোস্টার প্রকাশ পেয়েছিল।  সিনেমাটির পোস্টারটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছিল। পোস্টারে সালমানের লুক প্রশংসা পেয়েছিল। এবার দেখার পালা সিনেমাটির ট্রেলারে কি চমক থাকে। 

সাংবাদিক ও লেখক কাজী ইমরুল কবীর সুমন মতিঝিল সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হাই স্কুলের আলোচিত, বরেণ্য মেধাবী, নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্য পাওয়া একশত প্রাক্তন শিক্ষার্থী লেখককে এক মলাটে জড়ো করেছেন ‘সেরা ১০০ সেন্ট্রালিয়ান’ বইয়ের মাধ্যমে।

রাজধানী ঢাকার অন্যতম সেরা স্কুল মতিঝিল সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। পাকিস্তান আমলে ঢাকায় এটিই ছিল কেন্দ্রীয় সরকারি স্কুল। তাই শিক্ষাঙ্গনে এখনও পরিচিতি ‘সেন্ট্রাল গভ. স্কুল’ হিসেবে। সাবেক শিক্ষার্থীরাও নিজেদের সেন্ট্রালিয়ান পরিচয় দেন সগৌরবে।

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের লেখার সমন্বয়ে ভিন্নধর্মী এই বইয়ে ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রাম, ২০২৪ এর জুলাই বিপ্লব এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের লেখায় এই বইতে ঠাঁই পেয়েছে। স্কুলের মাঠ রক্ষার চলমান আন্দোলন নিয়েও আলোকপাত করা হয়েছে বইটিতে। নতুন প্রজন্মের কাছে স্কুলের সেরাদের পরিচিত করে দেওয়ার জন্যই এই প্রচেষ্টা।

বাংলা একাডেমির একুশে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ‘সেরা ১০০ সেন্ট্রালিয়ান’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ, বাংলাদেশের সাবেক দ্রুততম মানবী এবং মতিঝিল সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুলের ১৯৬৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী রওশন আখতার ছবি বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় নেপালের কাঠমুন্ডু সাফ গেমস জয়ী বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ডিফেন্ডার মতিঝিল সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুলের ১৯৮৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু ফয়সাল আহমেদ, ১৯৮৩ ব্যাচের কবি শাহনাজ পারভীন মিতা, সৈয়দা শাহিনা হায়দার, হিসান খাতিব খান বাবু, মাকসুদ হোসেন, মাহিন খান রাজসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইমরুল সুমন জানান, মতিঝিল সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হাই স্কুল/মতিঝিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় সব তথ্য পাওয়া যাবে বইটিতে। সেই সঙ্গে এই স্কুলের বরেণ্য ১০০ গুণী প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, লেখক, কবি, সাহিত্যিক, কণ্ঠশিল্পী, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কণ্ঠশিল্পী, সংগঠক, খেলোয়াড়ের কথা পাওয়া যাবে এক মলাটে। এই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের যারা বিভিন্ন পেশায় থেকেও সাহিত্য চর্চায় জড়িত তাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এই ১০০ জনের তালিকায়।

পূর্ব পাকিস্তানে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে ১৯৫৮ সালে সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হাই স্কুলের ক্লাস শুরু। প্রতিষ্ঠার মাত্র ৪ বছরের মাথায় প্রবেশিকা পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় দু’টি স্থান দখল করে নেয় স্কুলটি। ১৯৬২ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শেষ প্রবেশিকা পরীক্ষায় সারা দেশে মেধা তালিকায় প্রথম হন এই স্কুলেরই আব্দুল মঈন খান। এই তালিকায় সর্বশেষ ২০তম স্থান পান মো. আবুল বাশার। ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়া স্কুলটির সেরা হওয়ার লড়াই ছিল শুরু থেকেই। সেটাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেন আব্দুল মঈন খান ও মো. আবুল বাশার। বাংলাদেশ আমলে আশিষ কুমার কীর্ত্তনিয়া ১৯৮২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় এই স্কুল থেকে সারাদেশে সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম হন।

৬৭ বছরে এই স্কুল দেশ বরেণ্য ব্যক্তি উপহার দিয়েছে। সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান ও মির্জ আব্বাস , প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম, হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সাবেক প্রধান মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. কানিজ মাওলা, এসএসসির মেধাতালিকায় স্ট্যান্ড করা এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের ধাত্রীবিদ্যা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. আনোয়ারা বেগম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এএফএম ইউসুফ হায়দার, বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সভাপতি ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ উইং কমান্ডার (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদ, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ ও দেশের দ্রুততম মানবী কোয়েল, কামরুন্নেসা লিপি, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ নাজমুল আবেদীন ফাহিম, বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর সাবেক চেয়ারম্যান ড. মঈনুদ্দীন আব্দুল্লাহ, গণপূর্তের সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল শাফি, নজরুল ইন্সটিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ইকরাম আহমেদ লেনিন, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, রন্ধন বিশেষজ্ঞ কেকা ফেরদৌসী, বিশ্বকাপ খেলা ক্রিকেটার এহসানুল হক সিজান, কণ্ঠশিল্পী কাদেরী কিবরিয়া, লীনু বিল্লাহ, শিমুল ইউসুফ, সালমা সুলতানা, শাকিলা জাফর, শাহনূর রহমান লুমিন এই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।

যে অ্যানিমেশন সিনেমাটি সব রেকর্ড ভেঙেচুরে বক্স অফিসে নতুন উদাহরণ তৈরি করেছে, সেটা যুক্তরাষ্ট্রে খুব কম হলেই চলছে। তবু চীনের সিনেমা ‘নে ঝা টু’ মুক্তির মাত্র চার সপ্তাহে আয় করেছে ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।

ছবি: ‘নে ঝা টু’ সিনেমার দৃশ্য (সংগৃহীত)

এই অঙ্ক শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেটা এখনই অনুমান করা কঠিন। তবে যেভাবে নে ঝা টুর দিকে ঝুঁকেছে দর্শক, তাতে আরও অনেক রেকর্ড ভাঙাগড়া হবে, সেটা বলাই বাহুল্য।

চীনা নববর্ষ উপলক্ষে নে ঝা টু মুক্তি পায় গত ২৯ জানুয়ারি। প্রথম তিন দিনেই আয় করে প্রায় দেড় শ মিলিয়ন ডলার। সিনেমা হলে হুমড়ি খেয়ে পড়ে দর্শক, টিকিট নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, মাঝরাতের শোগুলোতেও ঝুলছে হাউসফুল নোটিশ। বৈশ্বিক বাজারের সাহায্য ছাড়াই শুধু চীনের ৮০ হাজার স্ক্রিন থেকে, মাত্র চার সপ্তাহে সিনেমাটি আয় করেছে ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।

শিগগিরই প্রথম অ্যানিমেশন সিনেমা হিসেবে ২ বিলিয়ন পেরিয়ে যাবে জিয়াওজি পরিচালিত নে ঝা টু। এই সাফল্যে ভর করে এরই মধ্যে ইতিহাসের সেরা ব্যবসাসফল অ্যানিমেশন সিনেমার খেতাব অর্জন করল নে ঝা টু। এর আগে এই অর্জন ছিল গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘ইনসাইড আউট টু’র ঘরে। এটি আয় করেছিল ১ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার। ফলে অ্যানিমেশন সিনেমার ক্ষেত্রে এবার হলিউডকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেল চীনের ইন্ডাস্ট্রি।

নে ঝা টু তৈরি হয়েছে চীনা পৌরাণিক কাহিনির ওপর ভিত্তি করে। সঙ্গে রয়েছে সামাজিক ন্যায়বিচারের মতো সমসাময়িক বিষয়ও, যা আকৃষ্ট করেছে তরুণ প্রজন্মকে। চীনের দর্শক সাধারণত নিজেদের সংস্কৃতির গল্প দেখতে বেশি পছন্দ করে। তবে এক দশক ধরে হলিউডের বড় বাজার তৈরি হয়েছে চীনে।

চীনের বাজারে হলিউডের ব্যাপক জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল স্থানীয় সিনেমাগুলো। নে ঝা টুর এই সাফল্যের পর নিজেদের কনটেন্ট নিয়ে ফের আশাবাদী চীনের প্রযোজকেরা।

অবশেষে আত্মপ্রকাশ করেছে ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া দলটির নেতারা ঘোষণা করেছেন, তারা অন্য কোনো দেশ নয়, তারা হবেন বাংলাদেশপন্থি।

তাদের লক্ষ্য ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ তথা দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। আর তা পূরণে নতুন সংবিধান প্রণয়নে সংসদের আগে গণপরিষদ নির্বাচন চান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নায়করা। 

শেখ হাসিনার পতন ঘটানো গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের উদ্যোগে গঠিত এনসিপির ঘোষণাপত্রে এসব লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বড় জমায়েতের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেছে ইতিহাসের মেরূকরণ পাল্টে দেওয়া দলটি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগকে সার্থক ঘোষণা দিয়ে তারা বলেছেন, ভারতপন্থি, পাকিস্তানপন্থি রাজনীতির ঠাঁই বাংলাদেশে হবে না। 

সাতচল্লিশ, বায়ান্ন, একাত্তর এবং চব্বিশকে ধারণ করা বাংলাদেশপন্থি রাজনৈতিক শক্তির ঐক্য চেয়ে সংসদের আগে গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে এনসিপি। দলটি সরকারের আনুকূল্যে তথা ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে গঠিত হচ্ছে বলে সমালোচকরা বললেও, তা নাকচ করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ ছেড়ে আসা নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বাধীন দলটির নেতারা। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টাসহ সরকারের উপদেষ্টাদের আমন্ত্রণ করা হলেও তাদের কেউ আসেননি। 

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এনসিপি নেতারা বলেন, গণপরিষদে নতুন সংবিধান রচিত হবে। যার মাধ্যমে গড়ে উঠবে কাঙ্ক্ষিত প্রজাতন্ত্র। যেখানে সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত হবে। পরিবারতন্ত্র নয়, মেধা ও যোগ্যতায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। বাংলাদেশের ক্ষমতায় কে যাবে, তা ভারত নির্ধারণ করবে না। 

ভারতীয় ‘আধিপত্যবাদের’ বিরোধিতা করা এনসিপির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান স্লোগান ছিল– ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’। মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান ‘তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ উচ্চারিত হয়েছে এর পরেই। আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভাবনীয় পতন ঘটানো গণঅভ্যুত্থানের স্লোগান– ‘ক্ষমতা না জনতা, জনতা জনতা’; ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’; ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’ স্লোগানও দেওয়া হয় আত্মপ্রকাশ মঞ্চ থেকে। 

জমকালো মঞ্চ, বড় উপস্থিতি
মানিক মিয়া অ্যাভিনিয়ে মূল সড়কে তৈরি করা হয় মঞ্চ। এতে গতকাল সকাল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পূর্বমুখী মঞ্চের সামনে শহীদ পরিবার ও আহত, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বিশিষ্ট নাগরিক এবং কূটনীতিকদের আসন ছিল।

মঞ্চের সামনের চেয়ার ফাঁকা থাকলেও আসাদ গেট থেকে খেজুর বাগান পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের সর্বত্রই ছিল ছোট ছোট জমায়েত, জটলা। এনসিপি নেতারা দাবি করেছেন, লাখো মানুষের জমায়েত হয়েছে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে। অন্যান্য রাজনৈতিক সমাবেশের সঙ্গে তুলনায় এনসিপি জমায়েতে নারীর অংশগ্রহণ ছিল বেশি। বিপুল সংখ্যক তরুণী, কিশোরী আসেন সমাবেশে। সপরিবার ও শিশুসন্তানদের নিয়ে সমাবেশে আসতে দেখা গেছে অনেককে।

ঢাকার বাইরে থেকে হাজারো বাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির (জানাক) নেতাকর্মী আসেন দলের আত্মপ্রকাশ সমাবেশে। গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের দুই প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগেই গঠিত হয়েছে এনসিপি। গত বুধবার আত্মপ্রকাশ করা গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি না করার ঘোষণা দিলেও এনসিপির আত্মপ্রকাশে উপস্থিতি ছিলেন শিক্ষার্থীদের এই সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

বিকেল ৩টায় আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও শুক্রবার সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আসতে শুরু করেন। সড়কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অবস্থান নেন। মঞ্চের সামনে জুমার নামাজে অংশ নেন তারা। 

জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। জুমার নামাজের পর থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। বিকেল ৩টার দিকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসেন নেতাকর্মীরা। আগতদের প্রায় সবাই ছিলেন তরুণ-তরুণী। বয়স্ক মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে হাতেগোনা। কয়েকটি মিছিল ঘোড়ার গাড়ি, বাদ্যযন্ত্র নিয়ে আসে। লোকসমাগমে এনসিপি সরকারি আনুকূল্য পেয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পিরোজপুর থেকে পাঁচটি বাস জেলা প্রশাসক রিকুউজিশন করে দেন অনুষ্ঠানে আগতদের।

বিকেল সোয়া ৪টায় পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে শুরু হয় আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান। এর পর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এর পর জুলাই শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক তরিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের মা-বাবা এবং পরিবারের সদস্যরা। নতুন দলের নাম, আহ্বায়ক পদে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব পদে আখতার হোসেনের নাম ঘোষণা করেন ৫ আগস্ট শহীদ ইসমাইল হোসেন রাব্বির বোন মিম আক্তার। তিনি সেদিন ভাইয়ের লাশ কাঁধে নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন শেখ হাসিনার পতনে।

পরে আংশিক কমিটির নাম ঘোষণা করেন আখতার হোসেন। সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদিব যুগ্ম আহ্বায়ক, ডা. তাসনিম জারা ও নাহিদা সারওয়ার নিভা জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব, হাসনাত আবদুল্লাহ মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল), সারজিস আলম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল), মুহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মুখ্য সমন্বয়কারী এবং আবদুল হান্নান মাসউদ জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পেয়েছেন। পরে অন্য যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্য সচিব, সংগঠক, সমন্বয়কারীসহ ১৫১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নতুন দলের নেতারা যা বললেন
সব শেষে বক্তৃতা করেন ৩ আগস্ট শহীদ মিনার থেকে শেখ হাসিনার পতনের ঐতিহাসিক এক দফার ঘোষক নাহিদ ইসলাম। উত্তাল জুলাইয়ের মতো মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভারত ও পাকিস্তানপন্থি রাজনীতির ঠাঁই হবে না। আমরা বাংলাদেশকে সামনে রেখে, জনগণের স্বার্থ সামনে রেখে রাষ্ট্র বিনির্মাণ করব। আগামীর কথা বলতে চাই। পেছনের ইতিহাস অতিক্রম করে সম্ভাবনার বাংলাদেশের কথা বলতে চাই।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘তুমি কে, আমি কে, বিকল্প, বিকল্প’ স্লোগানটি তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিকল্পের জায়গা থেকে এই নতুন দলের আত্মপ্রকাশ। আজকের মঞ্চ থেকে শপথ– বাংলাদেশকে বিভাজিত করা যাবে না।

এর পর দলের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের সূচনা বলে উল্লেখ করেন। গণতান্ত্রিক নতুন সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সব আশঙ্কার অবসান ঘটানোর আহ্বান করা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন আমাদের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষ্য। আমাদের দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ভেঙে পড়া রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় গড়ে তোলা ও তাদের গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষা করা হবে আমাদের রাজনীতির অগ্রাধিকার। এর মধ্য দিয়েই কেবল আমরা একটি পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারব।

নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে জুলাই গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের বিচার সম্ভব হবে জানিয়ে আখতার হোসেন বলেন, একটি নতুন সংবিধানের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। স্বপ্ন বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি জানান তিনি।

সামান্তা শারমিন বলেন, বাংলাদেশে গত ৫৩ বছরে একটি ‘বাইনারি’ ছিল। হয় একে, নয় ওকে বেছে নিতে হবে। দেশের মানুষ দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ চায়।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ৫ আগস্ট দুঃশাসনের কবর রচনা করেছি। সংসদে কে যাবে, তা নির্ধারণ করবে জনতা। ক্ষমতার মসনদে কে বসবে, তা নির্ধারণ করবে এই ভূখণ্ডের মানুষ। বাংলাদেশের গণভবনে কে যাবে, তা ভারত থেকে ঠিক হবে না।

সারজিস আলম বলেন, যারা বড় রাজনৈতিক দল, তারা যদি ছোট দলকে এগিয়ে যেতে না দেয়, তাহলে আবার স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হতে পারে। খুনি হাসিনাকে দেখে যেন আমরা সেই শিক্ষা নিতে পারি। পরিবারতন্ত্র এখানেই শেষ, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হবে আগামীর রাজনীতি।

নাসীরুদ্দীন বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন পর্যন্ত যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবার ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে। বিভাজনের রাজনীতি বাদ দিয়ে আগামীতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আর যেন রক্তপাত না হয়– প্রত্যাশা জানিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ছয় বছর বয়সী শিশু জাবির ইব্রাহিমের বাবা নওশের আলী বলেন, আমার দেশ যেন এনসিপির কাছে নিরাপদ থাকে। 

শহীদ পরিবারের প্রত্যাশা
শহীদ মোবারকের মা ফরিদা বেগমের প্রত্যাশা, নতুন দল ভালো কিছুই করবে। তিনি সমকালকে বলেন, ‘আমাগো সন্তানেরা ঝাঁপায়ে পইড়া এ বিজয় নিয়ে আসছে। তাদের কারণে আমরা স্বাধীন। নাহিদ, সারজিসসহ যারা নতুন এই দলে আছে, সবাই যেন সুন্দরভাবে দেশটি পরিচালনা করতে পারে দোয়া করি। দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠুক।’ 

শহীদ ইমাম হোসেনের ভাই রবিউল ইসলাম বলেন, নাহিদ-আখতারদের ডাকে আন্দোলনে নেমেছিলাম। তাদের মাধ্যমে যেন প্রতিটি হত্যার বিচার হয়। আহত-শহীদ পরিবার যেন ন্যায্য অধিকার পায়।

গত ৪ আগস্ট পুলিশের গুলিতে আহত আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আহমেদ বলেন, এসেছি নতুন দলকে সমর্থন দিতে। নতুন দলের কাছে প্রত্যাশা, আগামীর বাংলাদেশে দুর্নীতি থাকবে না। 

ক্রাচে ভর করে এসেছিলেন গণঅভ্যুত্থানে আহত শাকিল হোসেন। ৪ আগস্ট রাজধানীর গুলশানে ছাত্রলীগের হামলায় পা ভাঙে তাঁর। তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক দলের কাছে প্রত্যাশার জায়গা থেকেই এখানে আসা। ছয় বছর বয়সী শহীদ জাবিরের বাবা মঞ্চ থেকে বলেন, সন্তান হত্যার বিচার চাই। 

যারা এসেছিলেন
আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের শরিক ছাড়া ৩৬ রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ করা হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, বিকল্প ধারার নির্বাহী সভাপতি মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, বিএলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আবদুল কাদেরসহ বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে ছিলেন না গণপরিষদ সভাপতি নুরুল হক নুর।
ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূত কেভিন এস রেন্ডালসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আল-আমীন (৩২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।

ছবি: বাংলাদেশ–ভারত সীমান্ত(ফাইল ছবি)

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের পুটিয়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।আল-আমীন ভারতের সীমান্তঘেঁষা দক্ষিণ পুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পুটিয়া সীমান্তে কয়েকজন বাংলাদেশিকে লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ছোড়ে বিএসএফ। এতে আহত হন আল-আমীন। একপর্যায়ে সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে যায় বিএসএফ। রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর লাশ এখন বিএসএফ ক্যাম্পে আছে।

বায়েক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. বিল্লাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কী কারণে গুলি করেছে, সেটা এখনো বলা যাচ্ছে না। আল-আমীনের লাশ বর্তমানে বিএসএফ ক্যাম্পে আছে। নিহত ব্যক্তির পরিবার যে এলাকায় থাকে, সেখানে বাংলাদেশের নেটওয়ার্ক কাজ করে না। সে জন্য তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। দক্ষিণ পুটিয়া একটি অপরাধপ্রবণ এলাকা। চোরাকারবারের কাজে এলাকাটি ব্যবহার করে অপরাধীরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছামিউল ইসলাম বলেন, চোরাকারবারি মনে করে বিএসএফের সদস্যরা আল-আমীনকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে নিজেদের ক্যাম্পে নিয়ে চিকিৎসা দেন। রাতে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আজ শনিবার এ বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা। পতাকা বৈঠকে আল-আমীনের মরদেহ ফেরত দেওয়ার কথা আছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার দাবি, সীমান্তের এই জায়গায় গত বছরের ২৫ নভেম্বর দুই যুবক গুলিতে আহত এবং গত ২২ এপ্রিল মেহেদী হাসান নামের একজন নিহত হন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২৭৪ জন।

রোববার (২ মার্চ) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে জাতীয় ভোটার দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান সিইসি। 

এবারের প্রতিপাদ্য ‘তোমার আমার বাংলাদেশে, ভোট দিব মিলেমিশে’। ভোটার দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভার আয়োজন করেছে ইসি। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। 

‎২ জানুয়ারি ‎খসড়া হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ করে ইসি। ওই তালিকায় ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৫২ জন অন্তর্ভুক্ত হন। সেই অনুযায়ী, দেশের ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৫১২। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ১০৩, নারী ৬ কোটি ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪১৫ এবং হিজড়া ভোটার ৯৯৪ জন।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, খসড়া তালিকার ওপর দাবি-আপত্তি শেষে নতুন ভোটার সংখ্যা ২০ লাখের বেশি বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

ইসি কর্মকর্তারা আরও জানান, ২০ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহকারী এ বছরের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কাজও এগিয়ে নিচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় মোট ৫১ লাখের মতো নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ হয়েছে। ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি অথবা তার আগে যাদের জন্ম হলেও এখনো ভোটার হননি তাদেরকে এ তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। একইসঙ্গে মৃতদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। আগামী জুনের মধ্যে হালনাগাদ ভোটার তালিকার কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে এ কাজ এগিয়ে রাখছে ইসি।

 

পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ছুটিসহ প্রায় ৪০ দিন বন্ধ থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আজ রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে এ ছুটি।

সরকারি ও বেসরকারি সব স্তরের স্কুলে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এ ছুটি। শিক্ষাপঞ্জি অনুসারে, রমজান মাস, শুভ দোলযাত্রা, স্বাধীনতা দিবস, জুমাতুল বিদা, শবে কদর এবং ঈদুল ফিতরের ছুটি মিলিয়ে ২ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকবে।

২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ১ মার্চ শুক্র ও শনিবারের ছুটি থাকায় সর্বশেষ ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২৭ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার)। অর্থাৎ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মোট ৪০ দিন বন্ধ থাকবে।

এ ছাড়া ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, তাই যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে, সেগুলোর জন্য ছুটি আরো দীর্ঘ হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ৪০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার (১ মার্চ) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ সংক্রান্ত ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রুবিও বলেছেন, জরুরি কর্তৃত্ব ক্ষমতাবলে এই সহায়তা প্রেরণের আদেশে স্বাক্ষর করেছেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র ইসরায়েল এখন তাদের চিরশত্রু হামাসের সঙ্গে এক নাজুক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে আছে।

২০ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে ইসরায়েলের জন্য ১,২০০ কোটি ডলারের সামরিক বিক্রয় অনুমোদন করেছে। রুবিও বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিভিন্ন হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পেন্টাগন জানায়, ইসরায়েলের কাছে ৩০০ কোটি ডলার মূল্যের বোমা, ধ্বংসাত্মক সরঞ্জাম ও অন্যান্য অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কংগ্রেসকে জরুরি ভিত্তিতে অবহিত করা হয়েছে, যদিও সাধারণত এ ধরনের সহায়তার আগে উচ্চপর্যায়ের কমিটিগুলোর পর্যালোচনা করা হয়।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এটি দ্বিতীয়বারের মতো ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা পাঠাতে ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি কর্তৃত্ব ব্যবহারের ঘটনা। বাইডেন প্রশাসনেও একইভাবে কংগ্রেশনাল পর্যালোচনা এড়িয়ে ইসরায়েলে সহায়তা পাঠানো হয়েছিল।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ২১৭ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি (আংশিক) অনুমোদিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (১ মার্চ) মধ্যরাতে দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জনগণ মুক্ত হয়েছে। তবে শহীদ মিনারে ঘোষিত অভ্যুত্থানের এক দফা তথা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। একটি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে এই জনপদের মানুষ ইতিহাসের নানান সময়ে নিজেদের হাজির করেছে। প্রায় ২০০ বছরের উপনিবেশবিরোধী লড়াইয়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র অর্জিত হয়। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্র এই জনপদের মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, মুক্তির আকাঙ্ক্ষা থেকে এই জনপদের মানুষ ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালে প্রণীত মুজিববাদী সংবিধানের মধ্য দিয়ে নির্মিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দেয়। ফলে এ দেশের নাগরিকরা ইতিহাসের বিভিন্ন পরিক্রমায় বাকশাল, স্বৈরতন্ত্র এবং সর্বশেষ ফ্যাসিবাদের শিকার হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো থেকে ফ্যাসিবাদের সকল উপাদান ও কাঠামোকে বিলোপ এবং জনগণের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। এজন্য একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাস্তবায়নে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেছি।

কমিটি প্রসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই আহ্বায়ক কমিটি (আংশিক) আগামী ১ বছরের মধ্যে এই রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র ও ইশতেহার প্রণয়ন, কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সাংগঠনিক বিস্তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

কমিটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, মাহবুব আলম, সারোয়ার তুষার, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, তাজনূভা জাবীন, সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, ড. আতিক মুজাহিদ, আশরাফ উদ্দীন মাহাদী, অর্পিতা শ্যামা দেব, তানজিল মাহমুদ, অনিক রায়, খালেদ সাইফুল্লাহ, জাবেদ রাসিন, এহতেশাম হক ও হাসান আলী।

সদস্যসচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা ও নাহিদা সারওয়ার নিভা, যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন, আরিফ সোহেল, মো. রশিদুল ইসলাম (রিফাত রশিদ), মো. মাহিন সরকার, মো. নিজাম উদ্দিন, আকরাম হুসেইন, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, সালেহ উদ্দিন সিফাত (দপ্তর), আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, ফরিদুল হক, মো: ফারহাদ আলম ভূঁইয়া, মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া, লুৎফর রহমান, মো. মঈনুল ইসলাম (তুহিন), মুশফিক উস সালেহীন, ডা. জাহেদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম মুসা, অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর, মোশফিকুর রহমান জোহান, মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান, সাগুফতা বুশরা মিশমা, আফসানা ছপা, আহনাফ সাইদ খান, আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন, মীর আরশাদুল হক, ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, তারেকুল ইসলাম (তারেক রেজা), মশিউর রহমান, জয়নাল আবেদীন শিশির, গাজী সালাউদ্দীন তানভীর, তামিম আহমেদ, তাহসীন রিয়াজ ও প্রীতম দাশ।

এছাড়াও কমিটিতে রয়েছেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম (উত্তরাঞ্চল), যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার, আলী নাছের খান, সাকিব মাহদী, মেজর (অব.) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সাদিয়া ফারজানা দিনা, অলিক মৃ, আসাদুল্লাহ আল গালিব, হানিফ খান সজীব, আবু সাঈদ লিয়ন।

সংগঠক হিসেবে রয়েছেন, রাসেল আহমেদ, ইমরান ইমন, ফরহাদ সোহেল, রফিকুল ইসলাম আইনী, মোস্তাক আহমেদ শিশির, আজাদ খান ভাসানী, প্রীতম সোহাগ, দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী, এম এম শোয়াইব, নাহিদ উদ্দিন তারেক, আব্দুল্লাহ আল মনসুর, মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, অ্যাডভোকেট শিরীন আক্তার শেলী, আবুল বাশার, আব্দুল্লাহ আল মুহিম, নাজমুল হাসান সোহাগ, খায়রুল কবির ও সাঈদ উজ্জ্বল।

মুখ্য সংগঠক পদে হাসনাত আবদুল্লাহ (দক্ষিণাঞ্চল), যুগ্ম মুখ্য সংগঠক পদে মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, মোল্যা রহমাতুল্লাহ্, এস এম শাহরিয়ার, মেজবাহ কামাল মুন্না, জোবাইরুল হাসান আরিফ ও ইমন সৈয়দ রয়েছেন।

সংগঠক পদে রয়েছেন, আকরাম হোসাইন রাজ, হামযা ইবনে মাহবুব, ওয়াহিদুজ্জামান, আসাদ বিন রনি, মোহাম্মাদ রাকিব, আরমান হোসাইন, মো. রাসেল আহমেদ, অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা, শওকত আলী, ডা. আশরাফুল ইসলাম  সুমন, মুনতাসির মাহমুদ, ডা. মিনহাজুল আবেদীন, সাকিব শাহরিয়ার, আজিজুর রহমান রিজভী, আব্দুর রহমান, ফয়সাল আহমেদ, নয়ন আহমেদ, কাউছার হাবিব, আব্দুল্লাহ আল মামুন ফয়সাল, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান, মাও. সানাউল্লাহ খান, আরিফুল ইসলাম, নফিউল ইসলাম ও মো. রাকিব হোসেন।

মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম (যুব), ডা. মো. আব্দুল আহাদ (চিকিৎসা), মাজহারুল ইসলাম ফকির (শ্রমিক), দিলশানা পারুল, আবু হানিফ, আব্দুজ জাহের, কৃষিবিদ গোলাম মোর্তজা সেলিম, মেহেরাব সিফাত, অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ, আশেকীন আলম, ডা. জাহিদুল বারী, কৈলাশ চন্দ্র রবিদাস, ভীম্পাল্লী ডেভিড রাজু,  শেখ মোহাম্মদ শাহ মঈনুদ্দিন, খান মুহাম্মদ মুরসালীন, সাদ্দাম হোসেন, আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, নাভিদ নওরোজ শাহ, তুহিন মাহমুদ, মো. আরিফুর রহমান (তুহিন), সাগর বড়ুয়া, রাফিদ এম ভূঁইয়া ও মাহবুব আলম।

সদস্য হিসেবে রয়েছেন, সানজিদা খান দীপ্তি (নিহত আনাসের মা), খোকন চন্দ্র বর্মন (আহত), মো. ফাহিম রহমান খান পাঠান, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের (সন্দ্বীপ), ঋআজ মোরশেদ, ইমরান নাঈম, মশিউর আমিন শুভ, আল আমিন শুভ, প্লাবন তারিক, ওমর ফারুক, আসাদুল ইসলাম মুকুল, ফিহাদুর রহমান দিবস, মো. তৌহিদ আহমেদ আশিক, মো. আব্দুল মুনঈম, রকিব মাসুদ ইনজামুল হক রামিম, সৈয়দা নীলিমা দোলা, এস আই শাহীন, আসাদুজ্জামান হৃদয়, তানহা শান্তা, ডা. মশিউর রহমান, ইমরান শাহরিয়ার, এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, আব্দুল্লাহিল মামুন নিলয়, আজাদ আহমেদ পাটওয়ারী, জাহিদুল ইসলাম সৈকত, আরজু নায়েম, ডা. মনিরুজ্জামান, তাওহিদ তানজিম, মোহাম্মদ উসামা, মাহবুব-ই-খোদা, তারিক আদনান মুন, নাহিদা বুশরা, তৌহিদ হোসেন মজুমদার, মারজুক আহমেদ, নীলা আফরোজ, নূরতাজ আরা ঐশী, সাইয়েদ জামিল, শেখ খায়রুল কবির আহমেদ, রফিকুল ইসলাম কনক, মীর হাবীব আল মানজুর, মো. ইমরান হোসেন, মো. আরিফুল দাড়িয়া, মো. ইনজামুল হক, আবু সাঈদ মুসা, ডা. আতাউর রহমান রাজিব, সালমান জাভেদ, ইমামুর রশিদ, সাইফুল ইসলাম, ডা. সাবরিনা মনসুর, অ্যাডভোকেট মো. মনিরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট ছেফায়েত উল্লাহ, আহমেদুর রহমান তনু, দিদার শাহ, রাদিথ বিন জামান, ফারিবা হায়দার, সাইফুল ইসলাম, ইয়াহিয়া জিসান, সোহেল রানা, রিদওয়ান হাসান, হাসিব আর রহমান, ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ, জাওয়াদুল করিম, আল আমিন টুটুল, ইসমাইল হোসেন সিরাজি, ইফতেখারুল ইসলাম, হাফসা জাহান, জায়েদ বিন নাসের, মামুন তুষার, ওমর ফারুক, সালাহউদ্দিন জামিল সৌরভ, মো. হিফজুর রহমান বকুল, আসিফ মোস্তফা জামাল, জোবায়ের আলম, মেজর (অব.) মো. সালাউদ্দিন ও খালেদ সাইফুল্লাহ জুয়েল।

 

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ফুটবলার হামজা চৌধুরী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে লাল-সবুজ জার্সিতে অভিষেকের অপেক্ষায়।

ছবি : হামজা চৌধুরী।

প্রবাসী এই ফুটবলারকে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা মনে করেন জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। হামজার মতো আরও প্রবাসী ফুটবলার দলে চান জামাল।

হামজাকে নিয়ে ২৫ মার্চ এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে প্রথম ম্যাচটা জিততে চায় বাংলাদেশ। হামজা দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ফুটবলার, এমনটাই মনে করেন জামাল। এই বিষয়ে জামাল বলেন, ‘আমি মনে করি, হামজা চৌধুরী কেবল আমাদের দলেরই সেরা খেলোয়াড় নন, তিনি দক্ষিণ এশিয়াতে সেরা। তার মতো খেলোয়াড় যোগ দিলে দল আরো উজ্জীবিত হবে। এই ম্যাচে অবশ্যই আমরা ভালো কিছু আশা করি। যদি হেড টু হেড হিসাব করি তাহলে মনে করি, ভারতের সাথে আমাদের অনেক বড় পার্থক্য আছে। তবে, আমরা প্রত্যাশা করছি একটা ইতিবাচক ফল। অবশ্যই আমরা ভারত থেকে তিন পয়েন্ট নিতে চাই।’

প্রবাসী ফুটবলার ফাহমেদুল প্রসঙ্গে জামাল বলেন, ‘তাকে দলের সাথে মানিয়ে নিতে হবে। আমি আসলেই তাকে চিনি না। তাই তার সম্পর্কে তথ্য দিতে পারবো না। কোচ তাকে পছন্দ করেছেন। অবশ্যই সে ভালো খেলোয়াড়। তাকে আগে আমাদের সাথে মানিয়ে নিতে হবে, তারপর আমরা দেখবো কী হয়।’

প্রবাসী ফুটবলারদের প্রসঙ্গে জামাল বলেন, ‘প্রবাসী খেলোয়াড়দের আসা একটা ইতিবাচক দিক। বিদেশ থেকে অনেক খেলোয়াড় আসছেন। যারা বাংলাদেশের হয়ে খেলতে চান, বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে চান। এটা ইতিবাচক দিক। আমি চাই আরও বেশি প্রবাসী এলে ভালো। কারণ, অন্যান্য দেশ একই কাজ করছে। যদি দেখেন ফরাসি দলের দিকে, ওরা কিন্তু অনেক বিদেশি নিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

সুলতান আহমেদ মসজিদ তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিসাহিক স্থাপনাগুলোর একটি, যা ব্লু মসজিদ নামেও পরিচিত। ইস্তাম্বুলে অবস্থিত এই মসজিদ এবার নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হতে যাচ্ছে।

দেশ ও বিদেশের ৩৫ জন বিশিষ্ট হাফেজের ইমামতিতে এবার সেখানে অনুষ্ঠিত হবে খতম তারাবি। তুর্কি রীতি অনুসারে পবিত্র রমজানের আগেই সুলতান আহমেদ মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।

এ বছর সুলতান আহমেদ মসজিদে তারাবি পড়াবেন রিকাই আল বায়রাক। তিনি আগে এই মসজিদেই কাজ করতেন। এরপর দীর্ঘ ২৫ বছর মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, এশার ফরজ নামাজ আদায়ের পর ২০ রাকাত তারাবি পড়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সময় থেকে দীর্ঘ তিলাওয়াতের সঙ্গে তা আদায়ের রীতি প্রচলিত আছে। 

তিনি আরো বলেন, ‘ইস্তাম্বুল ও তুরস্কের অনেক মসজিদে খতম তারাবি হয়। আমি আগে এখানে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।

আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল যদি ঐতিহাসিক রাজকীয় এই মসজিদে খতম তারাবি চালু করা যেত। আয়া সোফিয়ায় তারাবির নামাজ শুরু হওয়ার পর আমাদের মনে হয়েছে, সুলতান আহমেদ মসজিদে খতম তারাবি শুরু করার এটাই উপযুক্ত সময়। এ ছাড়া সুলতান আহমেদ মসজিদটি আয়া সোফিয়ার প্রতিরূপ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।’

আল বায়রাক বলেন, সুলতান আহমেদ মসজিদে খতম তারাবির নেতৃত্ব দেবেন ইস্তাম্বুলের বিখ্যাত হাফেজরা। এতে অংশ নেবেন তুরস্ক ও তুরস্কের বাইরের ৩৫ জন হাফেজ।

তাঁদের অনেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোরআন তিলাওয়াতের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন। প্রতিদিন পাঁচজন হাফেজ তারাবি নামাজের ইমামতি করবেন। প্রত্যেকে চার রাকাত নামাজ পড়াবেন এবং প্রত্যেক রাকাতে এক পৃষ্ঠা তিলাওয়াত করবেন। যেহেতু রমজান ২৯ দিনেরও হতে পারে; তাই শেষ দিন দুই পাড়া তিলাওয়াত করা হবে। ইমাম আল বায়রাক সুলতান আহমেদ মসজিদে তারাবির নামাজে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, অনেক মানুষ গণমাধ্যমে বিশিষ্ট হাফেজ ও আলেমদের আলোচনা শোনেন। তাঁরা এখানে ৩৫ জন বিশিষ্ট হাফেজের তিলাওয়াত শোনার সুযোগ পাবেন। তাই এই সুযোগটি গ্রহণ করা উচিত।

উল্লেখ্য, ব্লু মসজিদ বা সুলতান আহমেদ মসজিদ তুরস্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা, যা তুর্কি স্থাপত্যরীতির অন্যতম নিদর্শনও বটে। সুলতান প্রথম আহমেদের শাসনামলে ১৬০৯ থেকে ১৬১৭-এর ভেতর তা নির্মিত হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে মসজিদের সংস্কার কাজ হয়েছে। ইউনেসকো ব্লু মসজিদকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ ঘোষণা করেছে।

রাজধানীর ভাটারা থানাধীন শাহজাদপুর এলাকায় সৌদিয়া নামের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন।

আজ সোমবার (৩ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া অফিসার তালহা বিন জাসিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "আজ দুপুর ১২টা ১৭ মিনিটে ভাটারার সৌদিয়া হোটেলে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর বারিধারার দুটি ইউনিট সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে।" 

ছয়তলা হোটেল ভবনটির দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানান এই কর্মকর্তা। 

সর্বশেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত ৪ জন নিহত হয়েছেন। 

নিহতদের মরদেহ ভবনের ছয় তলায় পাওয়া গেছে। এরমধ্যে, একটি মরদেহ বাথরুমের ভেতরে এবং বাকি তিনটি সিঁড়ির গোড়ায় পাওয়া গেছে। এ সময় সিঁড়ির দরজা তালা মারা ছিল বলে জানা গেছে।

নিহতদের সবাই পুরুষ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

দুপুর ১টা ৪ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।

তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।

এদিকে, আগুনের ঘটনায় রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই এলাকায় চলাচলরত সাধারণ মানুষ।

 

কুমিল্লার তিতাসে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার রাতে উপজেলার মৌটুপী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাগর মিয়া ও একই ইউনিয়নের মৌটুপী গ্রামের রুকন উদ্দিনের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী সুজন।

তিতাস থানার ওসি মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৌটুপী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে

নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটিতে যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক এর দায়িত্ব পেয়েছেন কুমিল্লার কৃতি সন্তান নাভিদ নওরোজ শাহ্।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং তরুণ বিপ্লবীদের প্ল্যাটফর্ম জাতীয় নাগরিক কমিটির সম্মিলিত উদ্যোগে সময়ের প্রয়োজনে গঠিত হলো নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি। আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম কে আহ্বায়ক এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী পরীক্ষিত নেতা আখতার হোসেন কে সদস্য সচিব করে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে আছেন নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী এবং অন্যান্যদের সাথে যুগ্ন মুখ্য সমন্বয়ক এর দায়িত্ব পেয়েছেন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ফ্রন্টের অন্যতম নেতা নাভিদ নওরোজ শাহ্।

নাভিদ বিগত এক যুগ ধরেই বিভিন্ন অধিকার আন্দোলন এবং সামাজিক কার্যক্রমের সাথে জড়িত। প্রতিবন্ধী মানুষের সংগঠন বি-স্ক্যান এর লিগ্যাল অ্যাডভাইজার তিনি। টিপাইমুখ বাঁধ আন্দোলন সহ পরিবেশ রক্ষায় জাতীয় আন্দোলন এবং নারী অধিকার রক্ষায় তিনি সোচ্চার ছিলেন। দেশে ও বিদেশে মানবাধিকার আইন নিয়ে বেশ কয়েকটি স্ট্রীট ল’ প্রজেক্টে তিনি অংশ নিয়েছেন। তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ল’ সোসাইটি এবং ল’ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশান এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে আইন ও অধিকার নিয়ে কাজ করছেন বহু বছর। কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের সংগঠনের সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারি হিসেবে মেডিকেল ক্যাম্প, জাকাত ক্যাম্পেইন আয়োজন করেছেন। বর্তমানে তরুণ উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) এর ঢাকা আপটাউন চ্যাপ্টারের সহ সভাপতি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন সামাজিক ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র হিসেবে ২০১৫ সালের নো ভ্যাট অন এডুকেশন আন্দোলন, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মূলধারায় সম্পৃক্ত হয়ে জাতির প্রয়োজনে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করেন।

১৭ জুলাই নাভিদ ও তার সহযোদ্ধারা বেআইনিভাবে গ্রেফতারকৃত আন্দোলনকারীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেবার ঘোষণা দেন। ১৯ জুলাই তিনি ঢাকা ব্লকেড আন্দোলনকারীদের গণভবন অভিমুখে মার্চ করার একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়ে বিপুল সাড়া পান কিন্তু তার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই সারা দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া হয়।

২০ জুলাই নাভিদ ও তার সহযোদ্ধাদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে টিয়ারশেল বর্ষণ হলে তারা সিদ্ধান্ত নেন সরকারের বিরুদ্ধে আইনী লড়াইয়ে যাবেন। পরবর্তীতে তারা সিনিয়র আইনজীবি সারা হোসেন, অনীক আর হক, মানজুর আল মতিন, রাশনা ইমাম, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সহ অন্যান্যদের অনুরোধ করে একত্রিত করেন এবং ফলশ্রুতিতে সুপ্রিম কোর্টে আন্দোলনের পক্ষে কার্যক্রম শুরু হয়। এই উদ্যোগ থেকেই জাতীয় গণতদন্ত কমিশনের সূত্রপাত এবং নাভিদ সেখানে ডকুমেন্টেশনের দায়িত্ব পান। ইতিমধ্যে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবি সংগঠন কে জাগিয়ে তোলেন এবং আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি আদায় করে সরকারের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কারফিউ অমান্য করে তিনি ও তার সহযোদ্ধারা আন্দোলনের সমন্বয়কবৃন্দ, পত্রিকা ও টেলিভিশন অফিস, এবং সুশীল সমাজের নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করেন। অবশেষে আসে ৫ অগাস্টের সেই কাঙ্ক্ষিত সকাল যেদিন তারা প্রাণ হাতে নিয়ে বের হয়ে পরেন গণভবন অভিমুখে।

নাভিদ নওরোজের এসএসসি ও এইচএসসি কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে। দুটো পরীক্ষাতেই তিনি কুমিল্লা বোর্ডে মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছিলেন। পরে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক শেষ করে তিনি মানবাধিকার আইন নিয়ে পড়তে চলে যান যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ে। দেশে ফিরে এসে উদ্যোক্তা ও অধিকারকর্মী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তার বাবা ড. শাহ্ মো: সেলিম কুমিল্লা জেলা বিএনপির কিংবদন্তী নেতা এবং বাংলাদেশের বেসরকারী মেডিক্যাল শিক্ষায় একজন অগ্রদূত। তার মাতা ড. জেবুন নাহার লিলি ছাত্রদলের সংগ্রামী নেত্রী ছিলেন এবং পেশায় শিক্ষক হয়ে নারী অধিকার নিয়ে কুমিল্লায় গবেষণা ও আন্দোলন করছেন |

তরুণ আলেম প্রজন্ম-২৪ এর কার্যকরী পরিষদ গঠন করা হয়েছে।

নির্বাহী পরিষদের সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত প্রস্তাবনা মোতাবেক এই কার্যকরী পরিষদ গঠিত হয়েছে। ২ তারিখ রোববার কার্যকরী পরিষদের সভাপতি এহসানুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই হাজার চব্বিশ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই দেশ দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি লাভ করেছে। অভ্যুত্থানে সাধারণ ছাত্র সমাজের পাশাপাশি এই দেশের মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আলেম সমাজও ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করে আত্মত্যাগের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। হাজারখানেক আলেম-শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৯০ জন আলেম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এই অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যায়, অভ্যুত্থানে আলেম-শিক্ষার্থীদের অবদান কে সমুন্নত রাখতে অভ্যুত্থানের চেতনায় বৈষম্যহীন নতুন বাং লাদেশ বিনির্মাণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা কে বেগবান করতে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ৪৭ জনকে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে সংগঠনের কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে একটি কার্যকরী পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাহী পরিষদ। নির্বাহী পরিষদের সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত প্রস্তাবনা মুতাবেক তরুণ আলেম প্রজন্ম-২৪ এর কার্যকরী পরিষদ গঠন করা হয়। কার্যকরী পরিষদের সভাপতির পদে আছেন এহসানুল হক। সাধারণ সম্পাদক হুজাইফা ইবনে ওমর।

সভাপতি পরিষদে অন্যরা হলেন, এখলাছুর রহমান রিয়াদ, আশরাফ উদ্দিন মাহদী, শেখ ফজলুল করীম মারুফ, বিলাল আহমাদ চৌধুরী, মাবরুরুল হক ও এহতেশামুল হক সাখী।

সাধারণ সম্পাদক পরিষদের অন্যরা হলেন, শরীফ হুসাইন, জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ, শেখ সাদী।

এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল সিদ্দিকী, অর্থ সম্পাদক সানাউল্লাহ খাঁন, সহ অর্থ সম্পাদক মাহমুদ হাসান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক আব্দুল করীম নোমানী, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক নাজমুল হাসান,  ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আইনী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কে এম তাহমীদ হাসান, সহ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক যিমামুল হক, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক কালিম মাহফুজ, সহ শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইলিয়াস নোমান,  তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল্লাহ তামিম, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সাগর, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নুহ বিন হুসাইন, দপ্তর সম্পাদক রশিদ আহমদ তকি।

ফ্রান্সের বাংলাদেশ কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের উদ্যোগে এক বিশাল ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সেন্টার সেক্রেটারি কাজী হাবীব ও এসিসটেন্ট সেক্রেটারি নুরুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ফ্রান্সের নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি খন্দকার এম. তালহা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অত্র মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের শিশু শিক্ষার্থী নাফিন বিন হারুন পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ইফতার মাহফিলের শুভ সূচনা হয়। স্থানীয় শিশু শিল্পী ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনায় ইসলামি সঙ্গীত দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।

বিশেষ অতিথি স্থানীয় মেয়র আজেদিন তাইবি বাংলাদেশি কমিউনিটির ভূমিকার প্রশংসা করেন। উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন সেন্টার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সালাহউদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি ব‍্যক্তিত্ব জালাল আহমদ, এফএমসি প্রেসিডেন্ট শেখ ওকাসা বেন আহমেদ দাহো, এফএমসি জেনারেল সেক্রেটারি হাজদা মারেকার, ফ্রান্স বিএনপি নেতা এম এ তাহের, স্থানীয় এডজোয়া মেয়র আবদুল হক, স‍্যুর ম‍্যাডাম এলুদি, ফাদার ফ্রেডরিক, ফাদার ডমিনিক পেল প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম. তালহা বলেন, ইসলামের একসময় গৌরবময় অধ্যায় ছিল, যখন আমরা ধর্মীয় অনুশীলন ও শিক্ষায় শীর্ষে ছিলাম। সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষা ও ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে হবে, যাতে তারা সঠিকভাবে সচেতন হয়ে বেড়ে উঠতে পারে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্যারিসের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, স্থানীয় সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। ইফতার মাহফিলটি ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।  

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আমরা এমন একটা সমাজ বানাই, যেখানে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাজ আর নেই।এটাই আমাদের লক্ষ্য। কারও লাশ যেন বেওয়ারিশ হিসেবে না থাকে।

 

ছবি: আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের নতুন ভবন ‘আঞ্জুমান জে আর টাওয়ার--এর উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যার যার জায়গা থেকে আমরা বেওয়ারিশ হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারি, যাতে যার লাশ তার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কাছে থাকে। তাকে যেন সম্মানজনকভাবে দাফন করা যায়। এতে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কর্মকাণ্ডের কোনো ব্যাঘাত হবে না। বরং আমরা তাদের সম্মান জানাব, এই জিনিসগুলো তুলে ধরার জন্য।’

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামকে একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান বলে উল্লেখ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি বেওয়ারিশ লাশ দাফন এবং সেবা প্রদানের কাজ করে যাচ্ছে। আঞ্জুমান মুফিদুলে উপস্থিত থাকাকে সৌভাগ্য মনে করছি। ছোটবেলা থেকেই এই প্রতিষ্ঠানের নাম শুনে আসছি। অদ্ভুত এক নাম, এই নামের কোনো ব্যাখ্যা জানতাম না—তার সঙ্গে একটা জিনিস জড়িত, শুধু জানি ‘‘বেওয়ারিশ লাশ’’।’ 

তিনি বলেন, ‘এরা (আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম) কারা কোনো দিন জানিনি, আজকে চাক্ষুস দেখলাম। এরা এমন এক জগৎ থেকে ভেসে আসে, একটা লাশ পড়ে থাকলে উঠায়ে নিয়ে যায়। স্বপ্নিল একটা জিনিস। যত দুর্গম হোক, যত কঠিন পরিস্থিতি হোক, ওই নামটি আসে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম। এটা আমার কাছে খুব অবাক লাগত।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যার পরিচয় জানা নেই, কিন্তু প্রতিদিন খবর আসছে। এখন জানলাম সারা দেশজুড়ে আছে। তাদের কোনো বক্তব্য কখনো কোনোও পত্রিকায় দেখিনি।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, আঞ্জুমান মুফিদুলের সভাপতি মুফলেহ আর ওসমানী ও সহসভাপতি গোলাম রহমান।

সরকারি সাতটি বড় কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন থাকছে না, সেই সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে আগেই। এই কলেজগুলোর জন্য পৃথক একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার পরিকল্পনা করছে সরকার। কিন্তু সেই বিশ্ববিদ্যালয় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তত্ত্বাবধানে একটি সমন্বিত কাঠামোর অধীন চলবে এই সাত কলেজের কাজ।

এই কাঠামোর পরিচালক হিসেবে কাজ করবেন এই সাত কলেজের যেকোনো একজন অধ্যক্ষ। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর, ভর্তি দপ্তর, রেজিস্ট্রার দপ্তর এবং হিসাব দপ্তরের প্রতিনিধিরাও থাকবেন।

ইউজিসির এমন সুপারিশ বাস্তবায়ন করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অনুরোধ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২ মার্চের এক চিঠিতে এ অনুরোধ করা হয়েছে। জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার একজন কর্মকর্তা গতকাল সোমবার এই অনুরোধপত্র দেওয়ার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন।

ঢাকার এই সাত সরকারি কলেজ হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। এই কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী প্রায় দুই লাখ। শিক্ষক এক হাজারের বেশি।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সরকারি কলেজগুলোকে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় রাজধানীর এই সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়েও পরীক্ষা, মানসম্মত শিক্ষাসহ অন্য সমস্যা সমাধান পুরোপুরি হয়নি। ফলে বারবার আন্দোলনে নেমেছেন এই সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।

সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সাত কলেজে চলতি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকেই তাদের অধীন ভর্তি না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ নিয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তির কার্যক্রম জটিলতার মুখে পড়ে। এরই মধ্যে এই সাত কলেজের জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার পরিকল্পনা নেয় সরকার। যার রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে ইউজিসি। প্রাথমিকভাবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ‘জুলাই ৩৬ বিশ্ববিদ্যালয়’ করার প্রস্তাব করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজের নেতৃত্বাধীন কমিটি। যদিও এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। উপরন্তু তারা আরও নাম প্রস্তাবের আহ্বান করেছে। তবে একটি বিশ্ববিদ্যালয় করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় এই সাত কলেজ কীভাবে চলবে, তার একটি রূপরেখার প্রস্তাব করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইউজিসি। সেটিই এখন বাস্তবায়নের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।

ইউজিসির সুপারিশপত্রে বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন চলমান শিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থাই চালু রাখবে। আর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের যাবতীয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে চলবে। একটি সনদপ্রাপ্ত পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় বা সমকক্ষ প্রতিষ্ঠান না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে এ কাঠামোর অধীন চলবে এই সাত কলেজের কাজ। এই কাঠামোর কার্যক্রম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে হবে। এ ক্ষেত্রে এই কাঠামোর পরিচালক হিসেবে যে কলেজের অধ্যক্ষ কাজ করবেন, সেই কলেজে এই কাঠামোর কার্যালয় হবে। কাঠামোর অধীন সব হিসাব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা ব্যাংক হিসাবে পরিচালিত হবে।

এ কাঠামোর রূপটি কেমন হবে, সেটিরও প্রস্তাব করে দিয়েছে ইউজিসি। এতে বলা হয়েছে, এই কাঠামোয় ইউজিসির একজন সদস্যের নেতৃত্বে নজরদারি সংস্থা থাকবে। এই নজরদারি সংস্থায় পরিচালক হিসেবে থাকবেন এই সাত কলেজের মনোনীত যোগ্য ও প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞ একজন অধ্যক্ষ। ইউজিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ হতে পারেন এই পরিচালক।

ইউজিসি বলছে, এই কাঠামোয় শিক্ষার্থীসংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের প্রতিনিধি থাকবেন। এ ছাড়া পরীক্ষা ও হিসাবসংক্রান্ত কাজের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ও হিসাব বিভাগের প্রতিনিধিরা থাকবেন। আর ভর্তির জন্য থাকবেন অনলাইন ভর্তি কমিটি।

প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে জরুরি ভিত্তিতে অনুমোদন নিতে হবে। এ ছাড়া সাত কলেজের ভর্তি, পরীক্ষা ও অন্য কার্যক্রমের তথ্য আদান-প্রদানের জন্য নিজ নিজ কলেজের অধ্যক্ষের নিয়ন্ত্রণে ‘হেল্প ডেস্ক’ থাকবে। ইউজিসি এই কাঠামোর বিষয়ে সময়ে সময়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে।

এক ফোন কল, একটিমাত্র সংখ্যা— আর তাতেই বদলে গেল সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসী এক বাংলাদেশি শ্রমিকের ভাগ্য।

দেশটির শেখ জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালিত শুল্কমুক্ত ‘বিগ টিকেট’ লটারিতে ২০ মিলিয়ন দিরহাম (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬৭ কোটি) জিতেছেন জাহাঙ্গীর আলম (৪৪), পেশায় একজন জাহাজ নির্মাণ শ্রমিক।

কঠোর পরিশ্রমে কাটছিল প্রবাসজীবন, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাও কম ছিল না। তবে সোমবারের সেই ক্ষণে তার জীবনে এল এক অলৌকিক মোড়। নামাজের মাঝেই এল ভাগ্য বদলের ডাক।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি, আশা নিয়ে ‘বিগ টিকেট’ লটারির কুপন ১৩৪৪৬৯ কিনেছিলেন তিনি। তিন বছর ধরে টিকিট কিনছিলেন, কিন্তু একবারও জেতেননি। তবুও আশা ছাড়েননি।

সোমবার আবুধাবিতে বিগ টিকেটের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। জাহাঙ্গীরের নম্বরটি বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়, কিন্তু তখন তিনি ছিলেন নামাজে। বারবার ফোন বেজে উঠছিল, কিন্তু তিনি কিছুই জানতেন না।

নামাজ শেষে ফোন হাতে নিতেই চমকে যান— এক বন্ধু উচ্ছ্বাস নিয়ে জানালেন, “তুমি ২০ মিলিয়ন দিরহাম জিতেছ!”

প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। পরে বিগ টিকেট কর্তৃপক্ষের কল পেয়ে নিশ্চিত হলেন— এ স্বপ্ন নয়, সত্যি!

জাহাঙ্গীর একা এই টিকেট কেনেননি— তার সঙ্গে ছিলেন আরও ১৪ বন্ধু। সবাই মিলে ভাগ করে কিনেছিলেন টিকেটটি।

তিনি বলেন, “নামাজের সময় সুসংবাদ এল। আমি বিশ্বাস করি, এটা শুধু আমার জন্য নয়, আমাদের ১৪ জনের জন্য এক বিশেষ রহমত।”

জাহাঙ্গীর জানান, এ অর্থ দিয়ে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে দুবাইতে ব্যবসা শুরু করতে চান। দীর্ঘদিন শ্রমিকের জীবন কাটানো এই মানুষগুলো এখন উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

এদিকে, বাংলাদেশে থাকা তার পরিবারও যেন অবিশ্বাসের ঘোরে! প্রবাসজীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্ত পেছনে ফেলে জাহাঙ্গীর ও তার বন্ধুরা এখন নতুন ভবিষ্যতের অপেক্ষায়।

রমজানের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল।

 

রাজধানীর গাবতলী, আগারগাঁও এবং মহাখালীর আশপাশের এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রিজন ভ্যানের মাধ্যমে ইফতার বিতরণ করছে এই অভিনেতার প্রতিনিধিরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিপজল নিজেই।

সোমবার বিকেলে ডিপজল তার ফেসবুকে ইফতার বিতরণের কয়েকটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। দ্বিতীয় দিনের মতো ইফতার বিতরণ কার্যক্রম চলছে, ইনশাআল্লাহ পুরো রমজানজুড়ে অব্যাহত থাকবে। দোয়া ও সহযোগিতা কাম্য।’

এদিকে, কিছুদিন আগেই গাইবান্ধার তালুক রিফাইতপুর স্টেশন বাদিয়াখালীতে ডিপজলের মা মরহুমা হাজী জবেদা বেগমের নামে মাদানিয়া মসজিদ কমপ্লেক্সের কাজ শেষ হয়েছে। মসজিদ নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর সেখানে একটি মাদ্রাসার কাজ চলছে। আর মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন খল-অভিনেতা নিজেই।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিলেন চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার)। অন্তর্বর্তী সরকারে শিক্ষা উপদেষ্টার দায়িত্ব পাচ্ছেন তিনি।

আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে বঙ্গভবনে সি আর আবরারকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শেখ আবদুর রশীদ। সি আর আবরার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও মানবাধিকারকর্মী।

রাজধানীতে প্রকাশ্যে ধূমপান নিষিদ্ধের দাবিতে মশাল মিছিল করেছেন কয়েশ নারী। এতে স্থানীয় বাসিন্দারাও সংহতি জানিয়ে যোগ দেন।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোহাম্মদপুর এলাকাবাসীর ব্যানারে লালমাটিয়ায় এ মিছিল করেন তারা।

মিছিলে ‘নেশাখোরদের আস্তানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘ধূমপান নিষিদ্ধ কর, করতে হবে’ প্রভূতি স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের।

এ সময় স্থানীয়রা বলেন, কয়েকদিন আগে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়েছে।

তারা বলেন, লালমাটিয়া এলাকাটি মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন বয়সের ছেলে-মেয়েরা প্রকাশ্যে মাদক গ্রহণ করছে।তাদের কারণে শিশুরাও বিপথগামী হচ্ছে। এর প্রতিবাদে এই মশাল মিছিল বের করা হয়েছে।

মিছিলে অংশ নেওয়া সামিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ধূমপানের কারণে নানাবিধ ক্ষতি হচ্ছে। প্রকাশ্যে ধূমপান শিশুসহ অধূমপায়ীদের বেশি ক্ষতি করছে।আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, সারাদেশে ধূমপান ও মাদক নিষিদ্ধ করা হোক।’

মিছিলে অংশ নেওয়া সুমাইয়া ঐশী নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ধূমপান ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ 

 

অর্থপাচারের অভিযোগে মানি লন্ডারিং আইনে করা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন খালাস পেয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার (৪ মার্চ) আপিলের ওপর শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ রায়ের জন্য ৬ মার্চ ঠিক করে আদেশ দেন।

২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। ২০১০ সালের ৬ জুলাই তাদের দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর বিচার শুরু হয় ২০১১ সালের ৬ জুলাই।

ঘুষ হিসেবে আদায়ের পর ২০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে করা এ মামলার রায়ে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ মো. মোতাহার হোসেন ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর তারেককে বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন। আর গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে সাত বছর কারাদণ্ড এবং ৪০ কোটি টাকার অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর তারেকের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন করে দুদক। শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি দুদকের আপিল গ্রহণ করে তারেককে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

২০১৬ সালের ২১ জুলাই বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২০ কোটি টাকার অর্থদণ্ড দেয়। সেই সঙ্গে গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সাত বছরের কারাদণ্ডও বহাল রাখা হয়। তবে তাকে বিচারিক আদালতের দেয়া ৪০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড পরিবর্তন করে ২০ কোটি টাকা করা হয়।

এদিকে পাঁচ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আইনি পদক্ষেপ নেন তারেক রহমানের আইনজীবীরা। গিয়াস উদ্দিন আল মামুনও খালাস চেয়ে আপিলের অনুমতি চান। শুনানি শেষে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর তারেক রহমান ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের সাজা ও জরিমানা স্থগিত করে আপিলের অনুমতি দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও আওয়ামী লীগ আমলে তার বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪০টি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অবৈধ নাগরিকদেরও ফেরত পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। 

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস গত মাসে বাংলাদেশ সরকারকে অবৈধ হয়ে পড়া লোকজনকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি অবহিত করেছে। এ ব্যাপারে সরকারকে একটি কূটনৈতিক পত্র পাঠানো হয়।

দেশটিতে অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশের নাগরিকদের সংখ্যা কত, আর কবে থেকে তাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে, তা জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র।

এ বিষয়ে গতকাল বুধবার সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এতে সভাপতিত্ব করেন। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ নিজ নাগরিকদের নিতে রাজি। তবে ভারতীয়দের মতো হাত-পায়ে শিকল পরিয়ে অসম্মানজনক উপায়ে ফেরত পাঠানো যেন না হয়, তা নিয়ে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারাও চায় না বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমন কিছু করতে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ হয়ে পড়া লোকজনকে ফেরত আনার বিষয়ে বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এতে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের লোকজনকে ফেরানোর ক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়া রয়েছে, সেটি অনুসরণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। অর্থাৎ নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশের লোকজনকে ফেরত নেওয়া হবে।

এর পাশাপাশি অন্যান্য দেশের লোকজনকে যেভাবে হাতকড়া পরিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে, সেটি যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।

 কুসুম সিকদার ২৫ বছর ধরে খাবারে বেশ নিয়ম মেনে চলছেন।  এই অভিনয়শিল্পী জানান, ১৩ বছর ধরে মাছ–মাংস একেবারেই খান না। তার আগে ১২ বছর ধরে ভাত একেবারে ছুঁয়েও দেখতেন না। তখন মাছ–মাংস খেতেন, এখন ভাত খেলেও খান না মাছ আর মাংস।

দুই যুগ ধরে বিনোদন অঙ্গনে পথচলা শুরু কুসুম সিকদারের। শুরুটা গান দিয়ে হলেও পরে অভিনয়ে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। নাটক, টেলিছবি এরপর চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। অভিনয়ের জন্য অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। গত বছর এই অভিনয়শিল্পী ও মডেলকে চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও পাওয়া গেছে। ‘শরতের জবা’ নামের সেই চলচ্চিত্র পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয়ও করেন তিনি। অভিনয়ে যেমন বাছবিচার করেন কুসুম, তেমনি নিজের ফিটনেসের ব্যাপারেও বেশ সচেতন এই মডেল ও অভিনয়শিল্পী।

কুসুম বলেন, ‘৪০ পার করে ফেলেছি। সচেতন তো এখন বেশিই থাকতে হয়। তবে ফিনটেসের ব্যাপারে আমি আরও আগে থেকেই সাবধানতা অবলম্বন করি। ২০০০ সাল থেকে ভাত খেতামই না। এরপর গত ১৩ বছর ধরে মাছ মাংস খাই না। এই ১৩ বছর ভাত খাই, তবে কম। ভাতের সঙ্গে সবজি খাওয়া হয় বেশি। এর বাইরে দুধ, ডিম, ঘি, মাখন, রুটি প্রতিদিনই খাওয়া হয়। আমার অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তাই বেগুন আর পুঁইশাক ছাড়া সব ধরনের শাকসবজি খাওয়া হয়। বলতে পারেন, গেল ১৩ বছরে আমি পুরোপুরি ভেজিটেরিয়ান হয়ে গেছি।’

খাওয়ার ক্ষেত্রে এত কড়াকড়ি কি ফিটনেস ধরে রাখার জন্যই, এমন প্রসঙ্গ উঠতেই কুসুম বলেন, ‘একদম তা নয়। সুস্থ থাকাটাই আমার কাছে বড় বিষয়। তা ছাড়া এখন তো বয়স বাড়ছে। বয়সের সঙ্গে রেড মিট যতটা পারা যায়, এড়িয়ে চলা ভালো। আমি রেড মিট ছুঁয়েও দেখি না। এতে আমি বেশ ভালো থাকি। শারীরিক গড়নও ঠিকঠাক থাকে। মানসিকভাবেও আমি থাকি বেশ ফুরফুরে।’ কুসুমের মতে, সুস্থ জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক শান্তি সৌন্দর্য ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ভালো বই পড়া তাঁর মানসিক শান্তি ও সৌন্দর্য রক্ষায় সহায়তা করে।

কুসুম সিকদার অভিনীত ও পরিচালিত ‘শরতের জবা’ গত বছর মুক্তি পায়। এই ছবির পর নতুন আরেকটি ছবি বানানোর পরিকল্পনা করছেন। তিনি জানান, সবকিছু চূড়ান্ত হলে তবেই বিস্তারিত জানাবেন।

 

ওয়ানডেতে রান তাড়া করতে নেমে ৮ হাজার রানের মাইলফলকও পেরিয়ে গেছেন কোহলি।

রান চেজের বেলায় ওডিয়াই ফরম্যাটে তার চেয়ে বেশি রান আছে কেবল শচীন টেন্ডুলকারের। আর কোহলির এমন দিনে পুড়েছে অস্ট্রেলিয়া। দুবাইয়ে বিরাটের ব্যাটে এসেছে ৮৪ রানের ইনিংস। তাতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকেই অজিদের বিদায় নিশ্চিত। 

তবে ৮৪ রানের ইনিংস খেলার পর বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানের এক বিশ্বরেকর্ডও কোহলি পেছনে ফেলেছেন। অজস্র পরিসংখ্যানের ভিড়ে কোহলির কাছেই নিজের আরও এক কীর্তি হারালেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব। 

আইসিসির ওয়ানডে ইভেন্টে (বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি) রানতাড়া করতে নেমে মোট ১০ বার পঞ্চাশ পেরোনো ইনিংস খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান। এতদিন পর্যন্ত সেটিই ছিল সর্বোচ্চ। সাকিব এই কীর্তি ভাগাভাগি করছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তী শিবনারায়ণ চন্দরপলের সঙ্গে। গতকাল সেটিকে ছাড়িয়ে গেলেন কোহলি।

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ৮৪ রান ছিল আইসিসির ওয়ানডে ইভেন্টে রানতাড়ার ক্ষেত্রে কোহলির ১১তম পঞ্চাশ পেরোনো ইনিংস। এই তালিকায় তার নিচে আছেন সাকিব এবং চন্দরপল। আর রান চেজে আইসিসি ইভেন্টে ৯ বার পঞ্চাশ পেরোনো ইনিংস আছে রোহিত শর্মার। 

 

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাটি কাটায় বাধা দেয়ায় সমন্বয়ক শাহাদাত তানভির রাফি ও তাঁর সহযোগীদের হামলায় ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান অনি আহত হয়েছে।

বুধবার রাত আনুমানিক বারটার সময় উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের আমানগন্ডা(সালুকিয়া) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অনি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও ওই গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে।

ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান অনি অভিযোগ করেন, কুমিল্লা জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম সদস্য সচিব শাহাদাত তানভির রাফি, মাদক ব্যবসায়ী গোলাম রসুল, মোঃ ওয়াসিম ও যুবলীগ নেতা আল রায়হান আলকাছের নেতৃত্বে ভারত সীমান্ত এলাকায় প্রতিরাতেই ভেকু দিয়ে মাটি কাটা চলছে।

বুধবার রাতে সাইদুর রহমানের মালিকানাধীন ফসলি জমির পাশে গভীরভাবে মাটি কাটার কারণে জমির ক্ষতি হয়। রাত আনুমানিক বারটার সময় সাইদুর রহমানের ছেলে ছাত্রদল নেতা অনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটতে বাধা দেয়। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে সমন্বয় পরিচয় দেয়া শাহাদাত তানভীর রাফি, তাঁর পিতা বাবুল রহমান ছাত্রদল নেতা অনির উপর হামলা চালায়। তার চিৎকার শুনে আশ-পাশের লোকজন এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে ছাত্রদল নেতা অনিকে উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। তাঁর মাথায় নয়টি সেলাই করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, শাহাদাত তানভির রাফি গত ৫ আগস্টের আগে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিতো। বর্তমানে সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে আমানগন্ডা সালুকিয়া এলাকায় ভারত সীমানায় ভেকু দিয়ে মাটি কেটে সাবাড় করে ফেলছে। যে কেউ দেখলে এটা পাহাড়ি এলাকা না বলে ‘পুকুর’ বলবে। এবিষয়ে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসন, বন ও কৃষি বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। এছাড়া সমন্বয়ক রাফির বিরুদ্ধে এলাকায় স্বৈরাচারের দোসরদের পূনবার্সন করার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সমন্বয়ক শাহাদাত তানভির রাফি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘পারিবারিক বিরোধ নিয়ে ঘটনা ঘটেছে’।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’

গত ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০৫ বছর বয়সী মানোয়েল অ্যাঞ্জেলিম ডিনো ও ১০১ বছর বয়সী তার স্ত্রী মারিয়া ডি সউজা ডিনো ৮৪ বছর ৭৭ দিন একসঙ্গে কাটিয়ে ইতিহাস গড়েছেন।

ছবি: ডিনো পরিবারের সৌজন্যে/পিপল

ব্রাজিলের এক দম্পতি একসঙ্গে ৮৪ বছরের দাম্পত্য জীবন পার করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নিয়েছেন।

সম্প্রতি বিশ্বের প্রবীণতম ব্যক্তিদের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণকারী বৈশ্বিক ডেটাবেস লঞ্জেভিকুয়েস্ট এই রেকর্ড নিশ্চিত করেছে। 

সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০৫ বছর বয়সী মানোয়েল অ্যাঞ্জেলিম ডিনো ও ১০১ বছর বয়সী তার স্ত্রী মারিয়া ডি সউজা ডিনো ৮৪ বছর ৭৭ দিন একসঙ্গে কাটিয়ে ইতিহাস গড়েছেন।

১৯৩৬ সালে উত্তর-পূর্ব ব্রাজিলের সেয়ারা রাজ্যের বোয়া ভিয়াজেম অঞ্চলে প্রথম দেখা হয় তাদের। নিজেদের কৃষিভিত্তিক পরিবারে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়েই তাদের পরিচয়। তখন মানোয়েল বোয়া ভিয়াজেমের আলমেইদা অঞ্চলে রাপাদুরা নামক এক ধরনের ব্রাজিলিয়ান ক্যান্ডির চালান সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। তখনই মারিয়ার সঙ্গে তার প্রথম দেখা হয়।

তবে সেই পরিচয়ে কোনো সম্পর্ক এগোয়নি। এর কয়েক বছর পর ভাগ্য আবারও তাদের পথ মিলিয়ে দেয়। আর তখন থেকেই শুরু হয় তাদের দীর্ঘ প্রেমের গল্প। 

১৯৪০ সালের নভেম্বর মাসে তারা বিয়ে করেন; তখন মানোয়েলের বয়স ২১ আর মারিয়ার ১৭ বছর।

লঞ্জেভিকুয়েস্টের মতে, মানোয়েলের ক্ষেত্রে এটি ছিল 'প্রথম দেখায় প্রেম'। তবে মারিয়ার মা শুরুতে এই সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু মানোয়েল পারিবারিক সম্মতি পাওয়ার আশায় চেষ্টা চালিয়ে যান। এমনকি, তিনি মারিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ জীবন গড়ার আশায় একটি বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন।

তরুণ বয়সে মানোয়েল অ্যাঞ্জেলিম ডিনো ও মারিয়া ডি সউজা ডিনো। ছবি: ডিনো পরিবারের সৌজন্যে/পিপল

বিয়ের পর তারা দুজনই তামাক চাষ করতেন। তাদের ১৩ জন সন্তানের মধ্যে ৯ জন এখনও জীবিত। সময়ের পরিক্রমায় এই দম্পতি ৫৫ জন নাতি-নাতনি, ৬০ জন প্রপৌত্র ও ১৪ জন প্রপ্রপৌত্রের দেখা পেয়েছেন।

বর্তমানে তারা দুজন বেশ শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করছেন। বয়সের কারণে মানোয়েল অধিকাংশ সময় বিশ্রাম নেন। সন্ধ্যা হলে তারা পাশাপাশি বসে রেডিওতে 'রোজারি প্রার্থনা' শোনেন। এরপর টেলিভিশনে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান দেখেন। এটি তাদের দীর্ঘদিনের অভ্যাসের অংশ।

এই দীর্ঘ ও সুখী দাম্পত্যের রহস্য কী? — এমন প্রশ্নের উত্তরে মারিয়ার সহজ-সরল উত্তর 'ভালোবাসা'।

এর আগে, সবচেয়ে দীর্ঘ দাম্পত্যের রেকর্ড ছিল মার্কিন দম্পতি হারবার্ট ফিশার ও জেলমাইরা ফিশারের দখলে। ২০১১ সালে হারবার্টের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তারা ৮৬ বছর ২৯০ দিন একসঙ্গে কাটিয়েছিলেন। ২০১০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাদের এই অনন্য অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রশংসাপত্র পাঠিয়েছিলেন।

ইতিহাসে নথিভুক্ত দীর্ঘতম দাম্পত্যের রেকর্ড রয়েছে ডেভিড জ্যাকব হিলার (জন্ম ১৭৮৯) ও সারাহ ডেভি হিলারের (জন্ম ১৭৯২) নামে। এই মার্কিন দম্পতি ৮৮ বছর ৩৪৯ দিন একসঙ্গে কাটিয়েছিলেন। 

টাকার বর্তমান মান অনুযায়ী অর্থাৎ মুদ্রাস্ফীতির তারতম্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেনমোহর পরিশোধের রায় দিয়েছেন কুমিল্লার পারিবারিক আদালত।

একই সঙ্গে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নির্দিষ্ট টাকা পরিশোধের কথাও রায়ে উল্লেখ করেছেন বিচারক। দেনমোহর নিয়ে এমন ব্যতিক্রমধর্মী রায় দেশে এই প্রথম করা হলো বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা আদালতের আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার কুমিল্লার পারিবারিক আদালতের বিচারক জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ শেখ সাদী রহমান এই ‘ব্যতিক্রমধর্মী’ রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি বদিউল আলম সুজন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আজাদ হোসেন বলেন, ২০২২ সালে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে একই উপজেলার বিল্লাল হোসেনের ছেলে ইব্রাহিম খলিলের বিয়ে হয়।বিয়েতে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহরের মধ্যে ৫০ হাজার টাকা উসুল দেখিয়ে দুই লাখ টাকা বাকি রাখা হয়। পরে ২০২৩ সালের জুনে ইব্রাহিম খলিল তালাক দিলে দেনমোহর ও ভরণ-পোষণের প্রার্থনা করে সুমাইয়া পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। ওই মামলার শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আদালত বাদীর পক্ষে এই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, বাদী ও বিবাদীর বিয়ে হয়েছিল ২০২২ সালে, এখন ২০২৫ সাল। প্রতিবছর মুদ্রাস্ফীতির কারণে টাকার মানের তারতম্য ঘটে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে স্পষ্ট। এ অবস্থায়, দেওয়ানি কার্যবিধি আইনের ১৫১ ধারা প্রয়োগ করে মুদ্রাস্ফীতির তারতম্য অনুসারে বাদীর দেনমোহরের প্রকৃত মূল্য দুই লাখ ৬২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলো এবং বাদী ওই টাকা পাওয়ার হকদার। বাদীর প্রার্থিতা মতে ছয় মাসের ভরণ-পোষণ ‘খোরপোশ’ বাবদ ৪২ হাজার টাকা এবং ইদ্দতকালীন তিন মাসের ভরণ-পোষণ বাবদ ২১ হাজার টাকার হকদার।

নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি বদিউল আলম সুজন বলেন, ‘এ রায়কে অবহেলিত নারীসমাজের জন্য যুগান্তকারী রায় বলে মনে করছি। কারণ, আমাদের মুসলিম রীতিতে বিবাহ বিচ্ছেদের পর দেনমোহর নিয়ে নারীদের অনেক বঞ্চনা ও অবহেলার শিকার হতে হয়। কিন্তু বিজ্ঞ বিচারক বাস্তবতা উপলব্ধি করে যে রায় দিলেন তা অবশ্যই ব্যতিক্রম ও যুগান্তকারী।’

 

সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। 

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

আইএসপিআর জানায়, সফরকালে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি কন্টিনজেন্টগুলো ও বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে সেনাবাহিনী প্রধানকে অবহিত করা হয়। এসময় তিনি তার মূল্যবান দিক-নির্দেশনা দেন।

সেনাপ্রধান Special Representative of the Secretary General (SRSG) Ms. Valentine Rugwabiza এবং ফোর্স কমান্ডার Lieutenant General Humphrey Nyone এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।

সেনাবাহিনী প্রধান Central African Republic Armed Forces (FACA) এর প্রধান General Mamadou Zephirin এর সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে সেনাবাহিনী প্রধান দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন।

পরবর্তী সময়ে, প্রেসিডেন্ট, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক এবং সেনাবাহিনী প্রধান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক শান্তিরক্ষী মিশনের অধীনে বেসামরিক লোকদের সহায়তার অংশ হিসেবে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক এ নির্মিত তোয়াদেরা কমিউনিটি ক্লিনিকের উদ্বোধন করেন।

এছাড়াও সেনাবাহিনী প্রধান সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট Faustin-Archange Touadéra এর সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন।

আইএসপিআর আরও জানায়, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের জনগণের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিশেষত চিকিৎসাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রেসিডেন্ট, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধানকে সম্মানসূচক রাষ্ট্রপতি পদকে ভূষিত করেন।

এছাড়াও, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের বাংগি এলাকায় নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কন্টিনজেন্টগুলো পরিদর্শন করেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের এই সফর সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের পাশাপাশি সেখানে অবস্থিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের মনোবল বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করা যায়।

সেনাবাহিনী প্রধান গত ৩ মার্চ সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক সফরে গিয়েছিলেন। 

বছর পাঁচ আগে মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করেছিলেন ভারতের পশ্চিবঙ্গের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী কবীর সুমন। সেই সময় অনুরাগী-বন্ধুদের সঙ্গে সামাজিকমাধ্যমে স্বাক্ষর করা অঙ্গীকারপত্রের ছবিও শেয়ার করেছিলেন তিনি।

কিন্তু এবার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলেন জনপ্রিয় এই গায়ক। জানালেন, দেহদানের ইচ্ছে প্রত্যাহার করেছেন তিনি। আর তার দেহ যেন ইসলামী রীতিতে কলকাতায় দাফন করা হয়।

সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে কবীর সুমন বলেন, ‘রমজান মোবারক! সকলকে জানাতে চাই, কিছুকাল আগে এই ফেসবুকেই ঘোষণা করেছিলাম- আমি আমার দেহ দান করেছি, কোনো ধর্মীয় শেষকৃত্য আমি চাই না। অনেক ভেবে আমি সেই সিদ্ধান্ত পাল্টালাম। দেহদানের ইচ্ছে প্রত্যাহার করছি আমি। আমার দেহ আমি দান করব না।’

সুমনের ইচ্ছে, ইসলামী রীতিতে যেন কলকাতার মাটিতে তার দাফনকার্য সম্পন্ন হয়। গায়কের কথায়, ‘আমি চাই আমায় এই কলকাতারই মাটিতে, সম্ভব হলে গোবরায়, ইসলামী রীতিতে কবর দেওয়া হোক। এটাই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আমার কতিপয় স্বজনকে এটা জানিয়ে দিলাম।’

সবশেষে কবীর সুমন লিখেছেন, ‘আমার এই ঘোষণার বিষয়ে কারোর কোনো মত বা মন্তব্য চাই না। সকলের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।’

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে ‘তোমাকে চাই’ অ্যালবামের মাধ্যমে বাংলা সংগীতের জগতে আত্মপ্রকাশ করেন কবীর সুমন। জীবনঘনিষ্ঠ লিরিক আর গায়কীতে নতুন ধারা চালু হয় তার হাত ধরে। এরপর তিনি শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী গান। গেল কয়েক বছর ধরে বাংলা খেয়াল নিয়ে কাজ করছেন এই শিল্পী।
 

এ বছর রোজার ঈদে বলিউড ভাইজান সালমান খানের বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘সিকান্দার’ মুক্তি পাবে।

ঈদে সালমানের ছবি মানেই দর্শক-ভক্তদের মাঝে এক আলাদা উন্মাদনা। এরইমধ্যে সে উন্মাদনার ঝড় বইতে শুরু করেছে। নেট-দুনিয়ায় ‘সিকান্দার’কে নিয়ে নানা খবর এখন উড়ে বেড়াচ্ছে। সর্বশেষ খবরটি হলো, মুক্তির আগেই এআর মুরুগাদস পরিচালিত এই সিনেমাটি ইতোমধ্যেই ১৬৫ কোটি টাকা আয় করেছে। 

যদিও নির্মাতাদের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন যে ‘সিকান্দার’ প্রথম দিন থেকেই আয় করতে চলেছে। এর মধ্যে ‘সিকান্দার’ ছবির জন্য সালমান, রাশমিকা মান্দানা, কাজল আগারওয়াল, শারমান যোশী, প্রতীক বব্বররা কত পারিশ্রমিক নিয়েছেন, তা-ও ফাঁস হয়েছে।

ছবিতে সালমানের সঙ্গে আছেন ভারতের ‘জাতীয় ক্রাশ’ রাশমিকা মান্দানা, আর তাই সিনেমাপ্রেমীরা নতুন এই জুটিকে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে আছেন। ইতিমধ্যে ‘সিকান্দার’ ছবির একটি রোমান্টিক গান মুক্তি পেয়েছে।

এই গানে সালমান আর রাশমিকার রসায়ন সাড়া ফেলেছে সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে। পিঙ্কভিলার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালা ‘সিকান্দার’-এর ডিজিটাল রাইটস (ওটিটি রিলিজ), স্যাটেলাইট রাইটস (টিভি প্রিমিয়ার) এবং গানের রাইটসের জন্য প্রায় ১৬৫ কোটি টাকার একটি চুক্তি করেছেন। ‘সিকান্দার’-এর স্ট্রিমিং রাইটসের জন্য নেটফ্লিক্স ৮৫ কোটি দিয়েছে। তবে ভাইজানের ছবিটি বক্স অফিস থেকে যদি ৩৫০ কোটি আয় করে, তাহলে নেটফ্লিক্স ওটিটি রাইটসের দর বাড়িয়ে ১০০ কোটি করবে।

এআর মুরুগাদস পরিচালিত এই ছবির স্যাটেলাইট রাইটস জি নিয়েছে। জি-কে ৫০ কোটির বিনিময়ে স্যাটেলাইট রাইটস বিক্রি করা হয়েছে। জি মিউজিক ৩০ কোটির বিনিময়ে মিউজিক্যাল রাইটস নিয়েছে।

এভাবেই সালমানের ছবি মুক্তির আগেই ১৬৫ কোটি আয় করে ফেলেছে। এই ছবির উৎপাদন খরচ ১৮০ কোটি। তাহলে দেখা যাচ্ছে, ‘সিকান্দার’ ৮০ শতাংশের বেশি আয় করে ফেলেছে। আর এই ছবির সার্বিক বাজেট ৪০০ কোটি। ‘সিকান্দার’ তাহলে মোট বাজেটের ৪০ শতাংশের বেশি অংশ উশুল করে ফেলেছে।

এবার আসা যাক পারিশ্রমিকের প্রসঙ্গে। সালমানকে ‘সিকান্দার’ ছবিতে দ্বৈত চরিত্রে দেখা যাবে। এই ছবির জন্য তিনি ১২০ কোটি নিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো ধোঁয়াশা আছে। কারণ, বড় তারকারা সাধারণত ছবির মুনাফা থেকে এক বড়সড় অংশ নেন। ‘সিকান্দার’ ছবির মূল নায়িকা রাশমিকা মান্দানার পারিশ্রমিকের অঙ্ক ৫ কোটি রুপি। এই ছবির আর এক নায়িকা কাজল আগারওয়াল ৩ কোটি নিয়েছেন। ‘সিকান্দার’ ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেতা শারমান যোশীকে। তিনি এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য নিয়েছেন ৭৫ লাখ।

এ আর মুরুগাদস পরিচালিত এই ছবির অপর অভিনেতা প্রতীক বব্বরের পারিশ্রমিকের অঙ্ক হলো ৬০ লাখ। আর ‘সিকান্দার’ ছবির জন্য অভিনেতা সত্যরাজ দর হেঁকেছেন ৫০ লাখ। আগামী ২৮ মার্চ বড় পর্দায় মুক্তি পাবে ‘সিকান্দার’।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দেশের অদম্য নারীদের হাতে সম্মাননা পুরস্কার তুলে দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠান তিনি এ পুরস্কার তুলে দেন।

সম্মাননা পুরস্কারপ্রাপ্ত অদম্য নারীরা হলেন— অর্থনীতিতে অবদানে শরিফা সুলতানা, শিক্ষা ও চাকরিতে অবদানে হালিমা বেগম, সফল জননী নারী মেরিনা বেসরা, জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী লিপি বেগম, সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানে মো. মুহিন (মোহনা) ও বিশেষ বিবেচনায় বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি।

ফ্রান্সের প্যারিসে উইন্টার ২০২৫ সংগ্রহ উন্মোচন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশি লাক্সারি ফ্যাশন ব্র্যান্ড জুরহেম। দেশে প্রতিষ্ঠিত লাক্সারি ব্র্যান্ড হিসেবে জুরহেমই প্রথমবারের মতো প্যারিসে প্রদর্শনীতে যাচ্ছে।

ব্র্যান্ডটির নতুন এই কালেকশন ৮ মার্চ প্যারিসের ঐতিহাসিক চ্যাপেল সেন্ট জন দ্য’আর্কে প্রদর্শিত হবে। এই আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে আছে বিখ্যাত ফরাসি ফ্যাশন ব্র্যান্ড হাউস অব ভ্যানডমে।

২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত জুরহেম দ্রুতই বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় লাক্সারি ফ্যাশন ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ব্র্যান্ডটি প্রথমে বেস্পোক কালেকশন দিয়ে শুরু করলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রেট-আ-পোর্টার বা রেডি-টু-ওয়্যার সংগ্রহ দিয়ে ঢাকার অভিজাত মহলে সুনাম কুড়াতে থাকেন।

ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ও স্বনামধন্য ফ্যাশন ডিজাইনার মেহরুজ মুনীরের নেতৃত্বে, ব্র্যান্ডটি বাংলাদেশে হাই-এন্ড ফ্যাশনের সংজ্ঞা নতুনভাবে গড়ে তুলেছে।

জুরহেমের নতুন সংগ্রহ ‘Solaris’ সূর্যের মহাজাগতিক যাত্রা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা হয়েছে। ১৫টি পুরুষদের পোশাক এবং ৫টি নারীদের পোশাক নিয়ে সাজানো এই সংগ্রহে সূর্যের গতিপথের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সূক্ষ্ম অলঙ্করণ ও নান্দনিক স্যালুয়েটের মাধ্যমে। পোশাকে রঙের ব্যবহারে দিনের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হয়েছে।

‘Solaris’ সংগ্রহের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য বৃত্তাকার অলঙ্করণ, যা সূর্য, চাঁদ ও গ্রহের প্রতীকী রূপ দেয়। কিছু ডিজাইনে এটি উজ্জ্বল সূর্যকিরণ হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে, আবার কিছু ডিজাইনে নক্ষত্রমণ্ডলের জটিল বিন্যাসের মতো সাজানো হয়েছে, যা মহাজাগতিক সৌন্দর্যের প্রতিফলন ঘটায়।

জুরহেমের পুরুষদের পোশাকের জন্য বেশ সুপরিচিত। নতুন সংগ্রহে এখানে স্ট্রাকচারড টেইলরিং এবং উদ্ভাবনী লেয়ারিং দেখা যাবে। নতুন সংগ্রহে রয়েছে  সুট জ্যাকেট, টাক্সেডো, ওভারকোট এবং পার্কা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ল্যাসিক শিলুয়েটকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যেমন— নতুন সংগ্রহে ক্রপড জ্যাকেট ও বান্ধগালা ইউরোপীয় বাজারের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, অন্যদিকে কর্সেটেড এনসেম্বল ও ফ্লোর-লেন্থ ট্রেনের মতো সাহসী ডিজাইন পুরুষদের পোশাকে সংযোজন করা হয়েছে।

অপরদিকে নারীদের জন্য, মেহরুজ মুনীর পাঁচটি চমকপ্রদ কুতুর গাউন উপস্থাপন করেছেন, যা হাই-এন্ড  ফ্যাশনের এক অনন্য উদাহরণ। ড্রামাটিক ট্রেন, ভাস্কর্যসদৃশ আকৃতি এবং কৌশলগত কাটআউটের মাধ্যমে প্রতিটি গাউনে নান্দনিকতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্যারিসের ঐতিহ্যবাহী কতুর ফ্যাশনের প্রতি সম্মান জানিয়ে, এই সংগ্রহটি নিখুঁত কারিগরি ও রাজকীয় সৌন্দর্যের প্রতিচিত্র তুলে ধরেছে।
 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম মন্তব্য করেছেন, দেশে এখন যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সে যুদ্ধ অন্য জায়গা থেকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার ( ১০ মার্চ) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।এসময় পোস্টে মাহফুজ আলম লিখেছেন,গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধ শক্তি একটি ছদ্ম-যুদ্ধ চালাচ্ছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, দেশে এখন যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সে যুদ্ধ অন্য জায়গা থেকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। একটা কন্ট্রোল রুম থেকে সে যুদ্ধের প্রতি সপ্তাহ ও দিনের কর্মসূচি চালু করা হয় ও মনিটর করা হয়। আমাদের সে যুদ্ধের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়তে হবে। 

উপদেষ্টা আরও লিখেছেন, গতকাল মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে একটি পর্যালোচনা সভায় নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে নিপীড়ন ও সহিংসতা নিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ ও সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। আমরা সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলাম, সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে। গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার চলমান এবং বিচারের কাজ দ্রুত ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে ও সরকার তৎপর।

তিনি লিখেছেন, ছাত্র-যুবকদের জন্য লক্ষাধিক চাকরির ব্যবস্থা ও তরুণদের জন্য জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণের বিষয় ও গতকালের আলোচনায় উত্থাপিত হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে দৃশ্যমান পদেক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাবে এবং সে লক্ষ্যে সমন্বিত তৎপরতা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। 

মাহফুজ আলম লিখেছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও বিচার, প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করা, জুলাই শহিদ ও আহতদের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগগ্রহণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকার সক্রিয় ও সফল। কিন্তু, সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র, ব্যবসায়ী শ্রেণি ও মিডিয়ার মধ্যকার গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর বিরোধ, স্বার্থান্বেষা ও মতান্ধতা, অন্যদিকে গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধ শক্তির ঐক্যবদ্ধ হয়ে ক্রমশ উত্থান সরকারকে বেকায়দায় ফেলছে। 

তিনি লিখেছেন, সরকার যুদ্ধ লড়ছে গণ-অভ্যুত্থানে পরাজিত একটি শক্তিশালী দেশি-বিদেশি জোটের বিরুদ্ধে। কিন্তু স্বার্থান্বেষী মহল জনগণের মধ্যকার অভ্যুত্থানের ঐক্যকে নস্যাত করতে উঠে পড়ে লেগেছে। সফল ও হচ্ছে। সেনাবাহিনী, রাজনৈতিক দল ও অভ্যুত্থানের বিভিন্ন শক্তিকে মুখোমুখী না করাই আমাদের জন্য আখেরে ভালো হবে। 

মাহফুজ আলম লিখেছেন, রাষ্ট্র সংস্কার, গণহত্যা ও লুটপাটের বিচার, প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনরুজ্জীবন ও গণতান্ত্রিক রূপান্তর সহ নানা বিষয় আমাদের লক্ষ্য থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। 

তারকা, পরিচালক, প্রযোজকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ঢালিউড নায়িকাদের ছবিপ্রতি পারিশ্রমিকের একটা হিসাব জানা যায় ।কারও পারিশ্রমিক ৩–৫ লাখ, কারও আবার ১০–১৫ লাখ। একসময় কারও পারিশ্রমিকের অঙ্কটা ১৫–২০ লাখের ঘরে থাকলেও জনপ্রিয়তার নিরিখে এখন তা কমে এসেছে।

জয়া আহসান

একাধিক সূত্রে জানা গেছে,জয়া আহসান অভিনয়জীবনের শুরুতে সিনেমায় তাঁর পারিশ্রমিক ছিল ৬ থেকে ১০ লাখ টাকা। জনপ্রিয়তার সঙ্গে বাড়তে থাকে পারিশ্রমিকের অঙ্কও। প্রযোজক-পরিচালকেরা জানিয়েছেন, দেশের সিনেমায় জয়া কখনো ১৫ আবার কখনো ২০ লাখ টাকা পান। ক্ষেত্রবিশেষে এই অঙ্ক কমবেশি হয়। পশ্চিমবঙ্গের সিনেমায় জয়ার পারিশ্রমিক কত, তা জানা যায়নি।

অপু বিশ্বাস

 জনপ্রিয়তার কারণে অপু বিশ্বাস একটা সময় ১৫–২০ লাখ টাকা পারিশ্রমিক হাঁকিয়েছেন। এখন তাঁর নায়িকা ক্যারিয়ারে ভাটা পড়েছে। তবে বিভিন্ন পণ্যপ্রতিষ্ঠানের প্রচারণায় তিনি ব্যস্ত, চাহিদাও আছে। এই নায়িকার সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির নাম ‘ছায়াবৃক্ষ’, যাতে অপুর পারিশ্রমিক ছিল চার–ছয় লাখ টাকা।

তমা মির্জা
 
দেড় দশক আগে তমা মির্জা চলচ্চিত্রে অভিষেক।  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তমা মির্জা এখন ছবিপ্রতি পারিশ্রমিক নিচ্ছেন ১০–১৫ লাখ টাকা। সর্বশেষ একটি চলচ্চিত্রে ১২ লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। তবে ছবিভেদে টাকার অঙ্ক ওঠানামা করে।

শবনম বুবলী

জীবনের প্রথম সিনেমায় এই নায়িকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন ৫ লাখ টাকা; প্রযোজক-পরিচালক সূত্রে তেমনটাই জানা গেছে। কয়েক বছর ধরে বুবলী সমানতালে চলচ্চিত্রে কাজ করছেন। ওটিটিতেও তাঁর একাধিক চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে। ঈদে ‘জংলি’ ও ‘পিনিক’ মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছবিপ্রতি বুবলী পারিশ্রমিক নিচ্ছেন ৬–১০ লাখ টাকা।

বিদ্যা সিনহা মিম

মডেলিংয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন মিম।  মিম যেসব প্রযোজক-পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ছবিপ্রতি ১৫ লাখ টাকা পারিশ্রমিক দাবি করেন মিম। তবে ক্ষেত্রবিশেষে তা ওঠানামাও করে।

নুসরাত ফারিয়া
 
নুসরাত ফারিয়ার ছবির প্রযোজক ও পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো ছবিতে তিনি ১০ লাখ, কোনোটিতে ১২ লাখ, আবার কোনোটিতে ১৫ লাখ টাকা পারিশ্রমিক চেয়ে থাকেন। মাঝখানে ১০ লাখ টাকার কমেও ছবিতে কাজ করার ইচ্ছা পোষণ করেন এই নায়িকা।

পরীমনি
 
জনপ্রিয়তার নিরিখে ছবিপ্রতি পরীমনির সম্মানীও বেড়েছে। দেশে তিনি সর্বোচ্চ ২২ লাখ টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন ‘অ্যাডভেঞ্চার সুন্দরবন’-এ। এর বাইরে আরও কয়েকটি ছবিতেও তিনি ২২ লাখ টাকা সম্মানী নিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন পরীমনি নিজেই।তবে ক্ষেত্রবিশেষে এর কমেও অনেক প্রযোজক-পরিচালকের ছবিতে কাজ করে দিয়েছেন। দেশে ২২ লাখ টাকা সম্মানী নিলেও দেশের বাইরে থেকে তার চেয়েও বেশি পারিশ্রমিক নিয়েছেন। ‘ফেলুবক্সী’ ছবিতে পরীমনির পারিশ্রমিক ছিল ২৮ লাখ। 

পূজা চেরী

জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে তৈরি ‘নূরজাহান’ ছবিতে কাজ করার সময় প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাসিক বেতন পেতেন পূজা। প্রতিষ্ঠানটির একটি সূত্র জানিয়েছে, বেতনের হিসাবে এই নায়িকার পারিশ্রমিক ছিল তিন লাখের মতো। পূজা এখন ছবিপ্রতি ১০ লাখ টাকা পারিশ্রমিক দাবি করেন। তবে গল্প কিংবা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বোঝাপড়া ভালো হলে আট লাখ টাকায়ও কাজ করেন।

দীঘি

 নায়িকা হিসেবে দীঘি তাঁর প্রথম দিককার ছবি ‘তুমি আছো তুমি নেই’–তে পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন তিন লাখ টাকা। সামনের ঈদুল ফিতরে তাঁকে ‘জংলি’ সিনেমায় দেখা যাবে। জানা গেছে, এ ছবিতে দীঘির পারিশ্রমিক ছিল ৪–৫ লাখের মধ্যে। 


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষক দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার মর্যাদা পাবেন। সেইসঙ্গে এসব শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে হবে বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে শিক্ষকদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সালাউদ্দিন দোলন।

হাইকোর্ট ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেড করাসহ গেজেটেড পদমর্যাদা দেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয়ক্ষেত্রেই প্রবেশ পদে বেতন স্কেল দশম গ্রেড করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে গেজেটেড পদমর্যাদা ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে কার্যকর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আপিল খারিজ করে দিয়ে রায় দেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের ওই রায় দীর্ঘ তিন মাসেও কার্যকর না করায় প্রধান শিক্ষকেরা আদালত অবমাননার মামলা করেন।

পরে একই বছরের ২৭ জুন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ কেন সর্বোচ্চ আদালতের রায় কার্যকর না করে আদালতকে অবজ্ঞা করার অপরাধে বিবাদীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না, মর্মে এক মাসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে দুই দিন আগের তারিখে সিভিল রিভিউ পিটিশন দায়ের করে মন্ত্রণালয়।

পরবর্তীতে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ চূড়ান্ত শুনানি শেষে সিভিল রিভিউ পিটিশনটি নিষ্পত্তি করে রায় দেন। এর ফলে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের ওই রায় কার্যকরে আর কোনো বাধা রইলো না। এদিকে, এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রিটকারী প্রধান শিক্ষকেরা।
 

অস্ট্রেলিয়াতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঈদমেলা। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী নারীদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন অসি বাংলা সিস্টারহুড এ মেলার আয়োজন করে। 

গত ৯ মার্চ (রবিবার) সিডনির লিভারপুলে ঈদমেলার আয়োজন করে সংগঠনটি। উৎসবমুখর পরিবেশে সকাল থেকেই অতিথিদের পদচারণায় ভরে উঠে মেলা প্রাঙ্গণ।


ঈদ মেলায় ৭৫টিরও বেশি পোশাক, গহনা, মেহেদি, খেলনা ও সুস্বাদু দেশী খাবারের স্টল ছিলো। বাচ্চাদের জন্য ছিল ফেস পেইন্টিংসহ ছবি আকার সুযোগ। মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টলের বেশিরভাগই ছিলো বাংলাদেশী নারী উদ্যোক্তারা। রমজানের থিমে সাজানো রিবনস এন্ড রোজেজ এর ব্যানার সকল অতিথিদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

অসি বাংলা সিস্টারহুড এর প্রতিষ্ঠাতা জান্নাত ফেরদৌস বলেন, মেলার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে দেশীয় ঐতিহ্য এবং ঈদ পোশাক পৌঁছে দেয়াই আমাদের উদ্দেশ্য।

মেলায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা স্বপরিবারে এবং স্ববান্ধবে প্রিয়জনদের জন্য পছন্দের ঈদ উপহার কেনায় ব্যস্ত সময় কাটান। সিডনির বাইরের শহরগুলো থেকেও অনেক অতিথি এই মেলায় উপস্থিত হয়ে আয়োজকদের প্রশংসা করেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হয়েছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াসিন।

বুধবার বিএনপির দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি বিষয়টি জানানো হয়। 

হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াসিন পূর্বে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক ছিলেন। এছাড়াও তিনি কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন।

একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের লাইভ অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমকে গালি দেওয়ার ঘটনায় সংবাদ উপস্থাপিকাসহ তিনজনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে মর্মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে। 

এবার সেই সংবাদ উপস্থাপিকার চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার অহ্বান জানিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজেই।গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে হাসনাত লেখেন, ‘এখন’ টিভির সাংবাদিকদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা এই দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্যই আন্দোলন করেছিলাম। আমরা এই গালির স্বাধীনতার জন্যই আন্দোলন করেছিলাম। শুধু মতপ্রকাশ নয়, দ্বিমত প্রকাশও অব্যাহত থাকুক।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা যাওয়া শিশুটির জানাজায় অংশ নিতে মাগুরায় যান হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম। এসময় টেলিভিশনটির লাইভ প্রচারণায় হাসনাত ও সারজিসকে নিয়ে দুই উপস্থাপকের মধ্যে কথা বলার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে ওই নারী উপস্থাপিকা হাসনাত ও সারজিসকে গালি দেন। পরে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করে বলে খবর ছড়ায়।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের আসামপাড়ায় স্কুলশিক্ষক বাবার সঙ্গে ধাক্কা লাগায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে পিটিয়েছেন তিন ব্যবসায়ী।

 বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বিকেল ৫টায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে সর্বত্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। 

স্থানীয়রা জানান, আসামপাড়া বাজারের বাসিন্দা আব্দুল মোতালিব মাস্টারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে ওই নির্যাতিত ব্যক্তির।


এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোতালিব মাস্টারের তিন ছেলে বকুল, মুকুল ও শেকুল লাঠি দিয়ে ওই মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে বেধড়ক পেটায়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে রক্ষা করে। 

এ ব্যাপারে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুর আলম বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। ভারসাম্যহীন কোনো মানুষের সঙ্গে কারো শত্রুতা থাকতে পারে না।

কিন্তু কেন এমনটি হলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলার শিকার মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি।
 

ঢাকায় ঈদ উপলক্ষে কম দামে ভালো মানের পোশাক কেনার জন্য বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় মার্কেট রয়েছে

বাংলাদেশের ঈদ শপিং শুধু কেনাকাটার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি আনন্দঘন উৎসব। রাস্তায় মানুষের ভিড়, মার্কেটগুলোর আলোকসজ্জা এবং বিভিন্ন পণ্যের অফার সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সময়ের সাথে সাথে অনলাইন শপিংয়ের প্রবণতা বাড়লেও, সরাসরি দোকানে গিয়ে কেনাকাটার উন্মাদনা এখনো কমেনি। ঈদ আসলেই কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে

গাউছিয়া মার্কেট
গাউছিয়া মার্কেট ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় শপিং সেন্টার, যেখানে মহিলাদের পোশাকের বিপুল সমাহার রয়েছে। এখানে জামদানি শাড়ি, থ্রি-পিস, লুঙ্গি, টুপি, ওড়না, সুতি কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক পাওয়া যায়। মঙ্গলবার পুরো দিন এবং বুধবার অর্ধেক দিন এই মার্কেট বন্ধ থাকে। 
 

কেন জনপ্রিয়?

মেয়েদের জন্য শাড়ি, থ্রি-পিস, কুর্তি ও বাচ্চাদের পোশাক

দরদাম করে কেনার সুযোগ

ব্যস্ত মার্কেট, ঈদের আগে প্রচুর ভিড় হয়

যাতায়াত ব্যবস্থা:

বাস: যেকোনো বাস যেটি আজিমপুর, নিউমার্কেট বা শাহবাগ যায়, তা দিয়ে নামতে পারেন।

রিকশা/সিএনজি: শাহবাগ, ধানমন্ডি বা ফার্মগেট থেকে সহজেই যাওয়া যায়।

মেট্রোরেল: বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন থেকে নেমে রিকশায় নিউমার্কেটে পৌঁছানো যাবে।




নিউ মার্কেট

আজিমপুরের উত্তরাংশে মিরপুর রোডে অবস্থিত নিউ মার্কেট ঢাকার অন্যতম ব্যস্ততম মার্কেট। এখানে তৈরি পোশাক, প্রসাধনী সামগ্রী থেকে শুরু করে ঘরের যাবতীয় জিনিস পাওয়া যায়। মঙ্গলবার সারা দিন এবং বুধবার অর্ধদিবস এই মার্কেট বন্ধ থাকে।

কেন জনপ্রিয়?

ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্য পোশাক

জুতাসহ আনুষঙ্গিক পণ্যও পাওয়া যায়

পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা একই জায়গায়

যাতায়াত ব্যবস্থা:

বাস: আজিমপুর, শাহবাগ, ফার্মগেট বা মিরপুর থেকে বাস পাওয়া যায়।

মেট্রোরেল: কাঁটাবন স্টেশন থেকে রিকশা নিয়ে সহজে যাওয়া যাবে।

রিকশা/সিএনজি: ধানমন্ডি, বাংলামোটর, শাহবাগ থেকে সহজেই যাওয়া যায়।


মৌচাক মার্কেট

মালিবাগে অবস্থিত মৌচাক মার্কেট একটি ঐতিহ্যবাহী শপিং সেন্টার। এখানে শাড়ি, থ্রি-পিস, বাচ্চাদের পোশাকসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক পাওয়া যায়। এই মার্কেট বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে।
 

কেন জনপ্রিয়?

মধ্যবিত্তদের জন্য আদর্শ মার্কেট

মেয়েদের জন্য শাড়ি, থ্রি-পিস ও বাচ্চাদের পোশাক পাওয়া যায়

তুলনামূলক কম ভিড়

যাতায়াত ব্যবস্থা:

বাস: মালিবাগ মোড়গামী বাস ধরে মৌচাকে নামতে হবে।

রিকশা/সিএনজি: মতিঝিল, গুলিস্তান, পল্টন থেকে খুব সহজেই যাওয়া যায়।
 

নূরজাহান মার্কেট

নূরজাহান মার্কেট কম দামে ব্র্যান্ডের পোশাকের জন্য পরিচিত। এখানে ছেলে, মেয়ে ও শিশুদের পোশাক পাওয়া যায়। অনেক ক্রেতা এখানে একটি পোশাক কিনতে এসে কম দামের কারণে একাধিক পোশাক কিনে নেন।

কেন জনপ্রিয়?

ব্র্যান্ডের রিজেক্ট পোশাক কম দামে পাওয়া যায়

ছেলেদের পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, শার্টের জন্য বিখ্যাত

যাতায়াত ব্যবস্থা:

বাস: মিরপুর-১ বা মিরপুর-১০ গামী বাস ধরে নেমে যেতে পারবেন।

মেট্রোরেল: মিরপুর-১০ স্টেশন থেকে রিকশায় যাওয়া সহজ।

রিকশা/সিএনজি: মিরপুরের অন্যান্য এলাকা বা গাবতলী থেকে যাওয়া যায়।



আজিজ সুপার মার্কেট

আজিজ সুপার মার্কেট দেশীয় পণ্যের সমাহার নিয়ে পরিচিত। এখানে ছেলেদের পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, ফতুয়া, মেয়েদের শাড়ি, জামা, থ্রি-পিস, ব্যাগ ইত্যাদি পাওয়া যায়।

কেন জনপ্রিয়?

ট্রেন্ডি ও ডিজাইনার পোশাকের জন্য জনপ্রিয়

বুটিক স্টাইল পোশাক পাওয়া যায়

যাতায়াত ব্যবস্থা:

বাস: শাহবাগ বা বাংলামোটর গামী বাস ধরতে হবে।

মেট্রোরেল: কারওয়ান বাজার স্টেশন থেকে রিকশায় যাওয়া যাবে।

রিকশা/সিএনজি: ফার্মগেট, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি থেকে সহজেই যাওয়া যায়।

হকার্স মার্কেট

ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের ফুটপাতে ল্যাগিন্স, জ্যাগিন্স, মেয়েদের ওয়ানপিস জামা, শিশুদের পোশাক সস্তায় পাওয়া যায়। দেখে-শুনে দরদাম করে কিনতে পারলে ভালো মানের পণ্য পাওয়া যায়।

ঈদের কেনাকাটায় কম দামে ভালো মানের পোশাকের জন্য এই মার্কেটগুলোতে ভ্রমণ করতে পারেন। তবে, কেনাকাটার সময় পণ্যের গুণগত মান যাচাই এবং দরদাম করার বিষয়টি মাথায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

কেন জনপ্রিয়?

স্টাইলিশ পোশাকের জন্য বিখ্যাত

টিনএজারদের জন্য দারুণ কালেকশন

যাতায়াত ব্যবস্থা:

বাস: ধানমন্ডি ২৭ নাম্বার গামী বাস ধরতে হবে।

রিকশা/সিএনজি: ধানমন্ডির যেকোনো জায়গা থেকে সহজেই যাওয়া যায়।


 

যোগাযোগব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে সারা দেশের ২৩ জেলার ৭৪টি উপজেলাকে দুর্গম এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব এলাকায় দায়িত্ব পালনকারীদের ভাতা নির্ধারিত হারের চেয়ে দেড় গুণ বেশি দেওয়া হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত চিঠি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে নিয়োজিত লোকবলের ভাতা নির্ধারণের জন্য দুর্গম এলাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর ওই সিদ্ধান্ত এসেছে। এতে ২৩টি জেলার ৭৪টি উপজেলাকে দুর্গম এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে উপজেলাগুলো তথ্য সংগ্রহকারী ও অন্যদের জন্য ভাতা/সম্মানী এবং অন্যান্য খাতে অর্থ বরাদ্দ নির্ধারিত হারের চেয়ে দেড় গুণ করা হয়েছে।

দুর্গম এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলা; বরগুনার বেতাগী, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলা; বাগেরহাটের রামপাল, মোড়লগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা; খুলনার বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা, দাকোপ ও কয়রা উপজেলা; নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা; কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলা; হবিগঞ্জের বানিয়াচং, আজমেরীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলা; সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার, ধর্মপাশা, শাল্লা, জামালগঞ্জ, দিরাই, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলা; কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলা।

বরিশালের হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা; সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা; নেত্রকোনার কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও খালিয়াজুরী উপজেলা; পটুয়াখালীর গলাচিপা, কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী ও দশমিনা উপজেলা; সাতক্ষীরার আশাশুনী ও শ্যামনগর উপজেলা; পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা।

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা; কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা; মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা; মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা; খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি, মহালছড়ি, মানিকছড়ি, মাটিরাঙ্গা, রামগড়, গুইমারা, লক্ষীছড়ি; খাগড়াছড়ি সদর ও দিঘীনালা উপজেলা; বান্দরবান পার্বত্য জেলার থানছি, রোয়াংছড়ি, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, বান্দরবান সদর, রুমা ও লামা উপজেলা; রাঙামাটি পার্বত্য জেলার নানিয়ারচর, বরকল, বাঘাইছড়ি, রাঙামাটি সদর, রাজস্থলী, লংগদু, কাউখালী, কাপ্তাই, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলা।

ইসি কর্মকর্তারা আরো জানিয়েছেন, পার্বত্য অঞ্চল, হাওর অঞ্চল, দ্বীপ অঞ্চল ও সমতল ভূমিকে যোগাযোগব্যবস্থা, ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট ও দুর্গমতার ব্যাপকতা বিবেচনায় ভবিষ্যতে দুর্গম এলাকার তালিকা শ্রেণিভিত্তিক করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের উত্তর লন্ডনের কিংস্টনে বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় পুত্রবধূ ও নাতনিদের যত্নে ভালো আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বিএনপি প্রধান লন্ডনের বিশেষায়িত হাসপাতাল ‘দ্য লন্ডন ক্লিনিকে’-এর লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডির তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। নিয়ম করে চিকিৎসকরা বাসায় গিয়ে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে দেখে আসছেন। চিকিৎসকরা যেদিন তাকে দেশে ফেরার পরামর্শ দেবেন তারপরই দেশে আসবেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদুল ফিতরের পর দেশে ফিরতে পারেন খালেদা জিয়া।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঈদুল ফিতরের পর দেশে ফিরতে পারেন। তবে দেশে ফেরার তারিখ সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। লন্ডনে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পূর্ণ বিশ্রামে আছেন। ছেলে তারেক রহমানের কিংস্টনের বাড়ির নিচতলাতেই থাকছেন তিনি। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। হাসপাতাল থেকে ফেরার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘরে সময় কাটছেন তাঁর।

বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসক ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, লন্ডনে অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডিসহ মার্কিন চিকিৎসকরাও ম্যাডামের দৃঢ় মনোবলের প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশের ডাক্তারদের দেওয়া চিকিৎসারও সুনাম করেছেন। লন্ডনে পারিবারিক পরিবেশে সন্তান, দুই পুত্রবধূ ও নাতনিদের কাছে পেয়ে মানসিকভাবে ভালো থাকায় তার শারীরিক অবস্থাও ভালো আছে, স্থিতিশীল আছে। মাঝেমধ্যে যেসব পরীক্ষানিরীক্ষা দেওয়া হয় সেগুলো করানো হচ্ছে। ডাক্তাররা তাঁকে বাসায় গিয়ে দেখছেন। বাসায় পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান, সৈয়দা শর্মিলা রহমান ও তিন নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান তাদের দাদির যত্ন নিচ্ছেন। ফলে মানসিকভাবে তিনি আগের চেয়ে ভালো আছেন। সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে জানান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

লন্ডনে যাওয়ার পর সরাসরি বিমানবন্দর থেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় ঘরে স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর ফুরসত মেলেনি খালেদা জিয়ার। পুত্র, পুত্রবধূ, নাতনিরা হাসপাতালে তাঁকে সময় দিতেন। ঘরে ফেরার পর সময় কাটছে পারিবারিক আবহে। খাচ্ছেন ঘরের তৈরি খাবার। তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিক তাঁর দেখভাল করছেন। আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান শিথিও থাকছেন কাছাকাছি। তিনিও শাশুড়ির দেখভাল করছেন। তিন নাতনিকে কাছে পেয়ে অনেকটা নির্ভার খালেদা জিয়া। মানসিকভাবেও আছেন উজ্জীবিত। সূত্রটি জানায়, কোনো শারীরিক পরীক্ষার প্রয়োজনে আবার তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হতে পারে।

সূত্র জানায়, দেশের মতো নিয়মিত ওষুধের মাধ্যমেই তার লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিস, প্রেশার, আর্থরাইটিস ও হার্টের চিকিৎসা চলছে। খালেদা জিয়ার বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় আপাতত তাঁর লিভার প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা নেই।
 


মাগুরায় নির্যাতনের শিকার হয়ে পরবর্তী সময়ে মারা যাওয়া সেই শিশুটির পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

রবিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ কথা জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘মাগুরার শিশু আছিয়ার পরিবার নিতান্তই একটি অসহায় পরিবার। তার পিতা একজন মানসিক রোগী। এ পরিবারে অন্য কোনো পুরুষ সদস্য নেই। মানবিক কারণে এই পরিবারের দায়িত্ব মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইনশাআল্লাহ নিচ্ছে।’

ডা. শফিকুর রহমান আরও লেখেন, ‘ইতোমধ্যে বিষয়টি মজলুম এই পরিবারের সদস্যদের অবহিত করা হয়েছে। সবার কাছে দোয়ার আবেদন, আল্লাহ তাআলা যেন সঠিকভাবে এ দায়িত্ব পালনে আমাদের তাওফিক দান করেন। আমিন।’

এর আগে, গতকাল শনিবার মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে আছিয়ার বাড়িতে যান জামায়াত আমির। তার সঙ্গে ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির এম এ বাকেরসহ দলের নেতাকর্মীরা।
 


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সবারই মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। এছাড়া, ৫ আসামিকের নিম্ন আদালতের দেয়া যাবজ্জীবনও বহাল রাখা হয়েছে।

আজ রোববার (১৬ মার্চ) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে বি রুমি, জহিরুল ইসলাম সুমন, নূর মোহাম্মদ আজমী, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার সুমাইয়া আজিজ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাসুদ হাসান চৌধুরী, আজিজুর রহমান দুলু।

রায় ঘোষণার পর আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, হাইকোর্টের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে রায় দ্রুত কার্যকর করতে হবে। এ সময় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র‍্যাগিংয়ের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আবরার ফাহাদের ভাই ফাইয়াজ বলেন, হাইকোর্ট থেকে এই দ্রুত রায় পাব তা চিন্তায় ছিল না। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। যদিও এখনও অনেকগুলো প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জেমি পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিতে মেনে নিতে পারছি না।

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে আবরার ফাহাদের পরিবার এবং জাতি ন্যায় বিচার পেয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ হিসেবে এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‍এই রায়ে আমরা সংক্ষুব্দ। প্রত্যাশা অনুযায়ী ন্যায়বিচার পাইনি। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিল বিভাগে যাব। আশা করছি সেখানে ন্যায়বিচার পাব।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন, জেল আপিল ও আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখে হাইকোর্ট। পরে আজ রোববারের কার্যতালিকায় মামলাটি রায়ের জন্য রাখা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হল থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আবরারের বাবা চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ওই বছরের ১৩ নভেম্বর বুয়েটের ২৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। এরপর ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর মামলাটির রায় হয়।রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিই বিভাগ, ১৩তম ব্যাচ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার অপু (মেকানিক্যাল ইঞ্জনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির (ওয়াটার রিসোর্সেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (এমআই বিভাগ), সদস্য মোজাহিদুর রহমান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মাজেদুর রহমান মাজেদ (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাক্কারুল ইসলাম তানভীর (মেকানিক্যাল, ১৭তম ব্যাচ), মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), এস এম নাজমুস সাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মিজানুর রহমান (ওয়াটার রিসোসের্স, ১৬ ব্যাচ), শামছুল আরেফিন রাফাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং), উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ (কেমিকৌশল) এবং এসএম মাহামুদ সেতু (কেমিকৌশল)।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামি হলেন: বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকানিক্যাল, তৃতীয় বর্ষ), আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং), সদস্য আকাশ হোসেন (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ) ও মোয়াজ আবু হোরায়রা (সিএসই, ১৭ ব্যাচ)।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি মুনতাসির আল জেমি গত বছরের ৬ আগস্ট গাজীপুরের হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের দেয়াল ভেঙে পালিয়ে যায়।

রাজধানীর সরকারি সাতটি কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম 'ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি' চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ছবি:ইউজিসিতে সাত কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যানসহ অন্যদের এক সভা হয়েছে।

রোববার (১৬ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইউজিসি ভবনে শিক্ষার্থীদের ৩২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়টির এ নাম চূড়ান্ত করা হয়।

সভা শেষে ইউজিসির সচিব ড. ফখরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রস্তাবিত নামগুলোর মধ্য থেকে সাত কলেজের জন্য 'ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি' নামটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখান থেকে উপদেষ্টা পরিষদে পাস হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে এর অধ্যাদেশ জারি করা হবে।


সাতটি সরকারি কলেজ হচ্ছে: ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ।

এসব কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দুই লাখ। শিক্ষক এক হাজারের বেশি। এ কলেজগুলোতে প্রতি সেশনে প্রায় সাড়ে ২১ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হন। 

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টির আগে সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত ছিল।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে এসব কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলে যায়।

২০১৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ফের অধিভুক্তি পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। ২০১৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাত কলেজকে পুনরায় ঢাবির অধিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাত কলেজ আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাবির অধিভুক্ত হয়।

তবে পরবর্তী সময়ে কলেজগুলো পরিচালনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম ও  অদূরদর্শিতার অভিযোগে আন্দোলনে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। সাত কলেজকে নিয়ে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের দাবি জানান। 

সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে এসব কলেজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে না। পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের জন্য গত বছরের ডিসেম্বরে  বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। 

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সাত কলেজের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের জন্য লক্ষ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের কাছে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম আহ্বান করে ইউজিসি। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ইউজিসির ডাকা মতবিনিময় সভায় নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম চূড়ান্ত হয়েছে 'ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি'।

ভালো মানের বইয়ের অভাবে গ্রামীণ পর্যায়ের পাঠাগারগুলো জৌলুস হারাতে বসেছে। পর্যাপ্ত বই না থাকা প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাঠাগারগুলোর এখন প্রধান সমস্যা। সেই সমস্যা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে রকমারি ডট কম।

অনলাইনে বই বিক্রির এই প্লাটফরমটি দেশের গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৫০০ অধিক পাঠাগারে ২০ হাজারের অধিক বই পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এ প্রকল্প গ্রাম, চর, পাহাড়ি এলাকা, স্কুল ও মাদরাসার পাঠাগারগুলোতে বই পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগ বাড়াবে।

রকমারির চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সোহাগ বলেন, ‘গত ১২ বছরে আমরা ৫ কোটিরও বেশি বই পাঠকের হাতে পৌঁছে দিয়েছি। এবার আমরা চাই, যাদের কাছে বই নেই, তাদের জন্য কিছু করতে। একটি বই একটি শিশুর ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।

কিভাবে বই দান করবেন? আপনার দানকৃত বইগুলো নিচের ঠিকানায় পাঠিয়ে দিন : Rokomari Book Donation, 2/1/E Eden Center, Arambag, Motijheel, Dhaka। বই পাঠানোর নির্দেশিকা ও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: https://www.rokomari.com/book-donation।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, ব্যবসা সংক্রান্ত সনদপত্র দিয়ে এ ঋণ পাবেন ছোট ছোট উদ্যোক্তারা।

করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেই এমন ছোট উদ্যোক্তাদের জামানত ছাড়া ব্যাংক ঋণ নেওয়ার পথ সুগম করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক; যারা ব্যবসা চালাতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন।

আগেও জামানত ছাড়া উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে পারতেন। তবে সেসব ক্ষেত্রে টিআইএন ও আরো কিছু বিষয়ের ওপর বিবেচনা করে ঋণ দেওয়ার নিয়ম ছিল। তবে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (সিএসএমই) নতুন নীতিমালায় এসব উদ্যোক্তাদের জামানত ছাড়া ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পাঁচ বছরের জন্য নতুন এই সিএমএসএমই নীতিমালা সোমবার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এতে বলা হয়েছে, ব্যবসা সংক্রান্ত সনদপত্র দিয়ে এ ঋণ পাবেন ছোট ছোট উদ্যোক্তারা।

উৎপাদন, সেবা ও ব্যবসা-এই তিন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে যাদের জনবল পারিবারিক সদস্যসহ ৫ থেকে ১০ জনের মধ্যে অর্থাৎ ১০ জনের বেশি নয় তারা এ ক্যাটাগরিতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তারা আগেও ঋণ পেতেন। তবে তখন তারা ‘পার্সোনাল লোন’ পেতেন, যেটির সুদের হার বেশি। তাদের জন্য এ ঋণ নিয়ে ব্যবসা করা কঠিন ছিল।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তারা হচ্ছেন ছোট ছোট চা দোকানওয়ালা কিংবা এই রকম যারা কাজ করেন। তাদের ট্রেড লাইসেন্স নেই। এমন উদ্যোক্তারা যাতে ঋণ পান সে ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন এ নীতিমালায়। এখন তারা কম সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পাঁচ বছরের জন্য সিএমএসএমই নীতিমালা করা হয়েছিল। সেটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন এই নীতিমালা করা হয়েছে। এটি আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে।

এ বিষয়ক সার্কুলারে ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তা’ নামে নতুন এই শ্রেণি যুক্ত করে এ বিষয়ে ব্যাংকের করণীয় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে কোন উদ্যোক্তা অপ্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তার ক্যাটাগরিতে পড়বেন তা সুষ্পষ্ট করে বলা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ এর আলোকে ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক শিল্প খাতের উদ্যোক্তা’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রণীত ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা–২০২১ অনুযায়ী এ উদ্যোক্তাদের সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে।

ইউনিক বিজনেস আইডেনটিফিকেশন (ইউবিআইডি), ডিজিটাল বিজনেস আইডেনটিফিকেশন (ডিবিআইডি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আলোকে পারসোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট (পিআরএ) আছে, এমন শ্রমনির্ভর অতিক্ষুদ্র বা ভাসমান উদ্যোক্তা বা সেবাপ্রদানকারীরা ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক বা প্রান্তিক উদ্যোক্তা’ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, মাঝারি শিল্প–উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। যেসব কোম্পানিতে ১২১ থেকে ৩০০ জন কর্মী রয়েছেন এমন তৈরি পোশাক কারখানা অথবা শ্রমঘন শিল্পে যেখানে ১০০০ কর্মী কাজ করছেন এ ঋণ দেওয়া হবে।

এছাড়া মাঝারি শিল্পের মধ্যে সেবা খাতে সর্বোচ্চ ৭৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে, যেখানে কর্মীর সংখ্যা ৫১ থেকে ১২০।

এতে বলা হয়েছে, নারী উদ্যোক্তাদের ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের বিবেচনায় সহায়ক জামানত ব্যতিরেকে ২৫ লাখ টাকার বেশি ঋণ প্রদান করতে পারবে। এছাড়া ব্যবসায়ীক অভিজ্ঞতার শর্ত আরোপ নমনীয় মনোভাব প্রদর্শন করতে হবে।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ই কমার্স ও এফ কমার্স উদ্যোক্তারাও এখন ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ঋণ পাবেন। তাদের ট্রেড লাইসেন্স না করার পেছনে অনেক বাস্তব কারণ থাকার কথা বিবেচনায় নিয়ে এমন সিদ্ধান্তের কথা বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা।

নতুন নীতিমালায় নারী উদ্যোক্তাদের সংজ্ঞাকে বিস্তৃত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, নারী উদ্যোক্তা ও নারী উদ্যোগের ক্ষেত্রে নারী মালিকানাধীন উদ্যোগের পাশাপাশি নারী পরিচালিত উদ্যোগসমূহও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সিএমএসএমই খাতের কোনো একটি উদ্যোগ নারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে যদি তিনি অংশীদারী প্রতিষ্ঠান বা জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধিত প্রাইভেট কোম্পানির পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ন্যূনতম ২০ শতাংশ অংশের মালিক হন।

ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অথবা নির্বাহী পরিচালক অথবা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অথবা সমপর্যায়ের পদে একজন নারী দায়িত্বরত থাকেন কিংবা অংশীদারী প্রতিষ্ঠান বা জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধিত প্রাইভেট কোম্পানির পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ন্যূনতম ২০ শতাংশ অংশের মালিক হন এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থায়ী জনবলের ন্যূনতম ৫১ শতাংশ নারী কর্মরত থাকলে সেটিকে নারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
 

যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে গাজায় ভয়াবহ আগ্রাসন চালিয়েছে ইসরায়েল। সিরিজ হামলায় প্রাণহানির শিকার হয়েছেন দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) এই তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।

এছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ইসরাইল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডজুড়ে বিমান হামলা শুরু করেছে।

চিকিৎসাবিদদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গাজা উপত্যকা জুড়ে ইসরাইলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ১০০ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে অনেক শিশুও রয়েছে।

আলজাজিরার সরাসরি সম্প্রচারিত আপডেটে জানিয়েছে, গাজা উপত্যকা জুড়ে ইসরাইলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ২০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং অন্যান্য আরও অনেকের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি হামাসের সাথে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় এটিই ইসরাইলের সবচেয়ে বড় হামলা।

এদিকে আল জাজিরা আরবির সংবাদদাতা জানিয়েছেন, গাজা উপত্যকার উত্তরে অবস্থিত গাজা সিটিতে ইসরাইলি বিমান হামলার ফলে কমপক্ষে ২০ জন নিহত এবং আরও ৫০ জনেরও বেশি লোক আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গাজার মধ্যাঞ্চলের আল-দারাজ পাড়া শহরে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়স্থল আল-তাবি’ইন স্কুলে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান ও বোমা হামলায় কমপক্ষে পাঁচজন নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।

এছাড়াও দক্ষিণ গাজা উপত্যকার খান ইউনিসের পশ্চিমে মাওয়াসি এলাকায় তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের ওপর ইসরাইলি হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর আবারও হামলা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদক বারাক রভিদের মতে, হামাস যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর মার্কিন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর ইসরাইল গাজায় আবারও সামরিক অভিযান শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে।

ছয় সপ্তাহ ধরে চলা প্রথম পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ে ইসরাইল প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ইসরাইল এবং হামাস মধ্যস্থতামূলক আলোচনা শুরু করেছিল।

এছাড়া ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা গাজায় ব্যাপকভাবে আক্রমণ চালাচ্ছে। তারা বলেছে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশে (ইসরাইলি সামরিক বাহিনী) এবং শিন বেইট গাজা উপত্যকা জুড়ে সন্ত্রাসী সংগঠন হামাসের সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপকভাবে আক্রমণ করছে।
 

রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের রোগীরা সবচেয়ে বেশি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। সুস্থ থাকতে শুধু ওষুধ নয়, জীবনযাপনেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

নিয়মিত শরীরচর্চা, অতিরিক্ত চিন্তা না করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এসবের পাশাপাশি খাদ্যাভাসেও বিশেষ নজর দিতে হয়। শাকসবজি, ফল, শস্যদানা, বাদামের মতো স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে প্রতিদিন ফ্ল্যাক্স সিড (তিসির বীজ) খেতে পারেন।

পুষ্টিবিদদের মতে, উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য ফ্ল্যাক্স সিড অত্যন্ত উপকারী। হার্টের সমস্যা এড়াতে এই বীজ খুব কার্যকর। ফ্ল্যাক্স সিডে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, আলফা-লিনোলেলিক অ্যাসিড। এ উপাদানগুলো প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

ফ্ল্যাক্স সিডের উপকারিতা এখানেই শেষ নয়। এতে থাকা ফাইবার রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, নিয়মিত ফ্ল্যাক্স সিড খেলে স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি কমে।

ফ্ল্যাক্স সিডে থাকা লিগনাস নামক যৌগটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

লিগনাস হার্টে ব্লকেজ তৈরি হওয়া রোধ করে। যা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

যেভাবে খাবেন:
ফ্ল্যাক্স সিডস ভেজে নিয়ে টক দই বা সালাদে মিশিয়ে খেতে পারেন। এ ছাড়া ব্রেকফাস্টে কনফ্লেক্সের সঙ্গে এটি মিশিয়ে খেতে পারেন। 

বাংলাদেশি নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন বিজেপির এক সংসদ সদস্য।

ফাইল ছবি:নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন

সোমবার রাজ্যসভায় বিজেপি সাংসদ সমীক ভট্টাচার্য এ আহ্বান জানান।পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত এই সাংসদ বলেন, মৌলবাদী শক্তির প্রতিবাদের কারণে নাসরিনকে তাঁর জন্মভূমি বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল।

তসলিমা নাসরিন তাঁর উপন্যাস ‘লজ্জা’ প্রকাশের পর বাংলাদেশে রক্ষণশীলদের আক্রমণের শিকার হন। ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের ক্রমাগত হুমকির মুখে ১৯৯৪ সালে তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন এবং পরে ভারতে আশ্রয় নেন।

২০০৪ সালে নাসরিন কলকাতায় আসেন এবং শহরটিকে তাঁর সাহিত্য ও ব্যক্তিগত জীবনের জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে মনে করেন। তবে ২০০৭ সালে কলকাতায় রক্ষণশীল হিন্দু গোষ্ঠীগুলোর প্রবল প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মুখে তিনি আবারও শহর ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর থেকে তিনি দিল্লি ও অন্যান্য শহরে বসবাস করছেন।

 রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখার সময় বিজেপি সাংসদ সমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘তসলিমা নাসরিন কলকাতাকে খুব পছন্দ করেন এবং সেখানে ফিরে যেতে চান। আমি সরকারকে অনুরোধ করছি, তাঁর কলকাতায় নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা হোক, যাতে তিনি তাঁর লেখালেখির ওপর মনোযোগ দিতে পারেন।’

সমীক অভিযোগ করেন, অতীতে এক কংগ্রেস নেতা জনসাধারণের মধ্যে নাসরিনের বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি করেছিলেন। পরে ওই নেতা কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন।

তসলিমা নাসরিন বর্তমানে ভারতে অস্থায়ী আবাসিক অনুমতির ভিত্তিতে বসবাস করছেন। প্রতি বছর তাঁকে ভিসার মেয়াদ নবায়ন করিয়ে নিতে হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁর আবাসিক অনুমতির মেয়াদ আরও বাড়ায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে কলকাতায় ফিরে আসার চেষ্টা করছেন তিনি।
 

ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস বাংলার পুরস্কারের আগে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘ফিল্মফেয়ার গ্ল্যামার অ্যান্ড স্টাইল অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’।

সোমবার (১৭ মার্চ) কলকাতার জে ডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলে বসে চলচ্চিত্র জগতের স্টাইলিশ-গ্ল্যামারাস আর্টিস্টদের আসর।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই অ্যাওয়ার্ডে পুরস্কৃত হন দুই বাংলার নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান। এদিন ‘ট্র্যাডিশনাল কুইন অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

পুরস্কার প্রাপ্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুখবরটি অনুরাগীদের কাছে ভাগ করে নেন জয়া। নিজের অনুভূতি শেয়ার করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এই পুরস্কার পেয়ে আমি ভীষণ খুশি। ফিল্মফেয়ার সবসময় আমাকে বিশেষ অনুভূতি দিয়েছে, এবারের পুরস্কার আমার দীর্ঘ যাত্রায় একটি নতুন সংযোজন হয়ে থাকবে।’

এদিন সঙ্গে বেশ কিছু ছবিও যোগ করেন জয়া। তাকে নানা ভঙ্গিতে অ্যাওয়ার্ড হাতে নিয়েও পোজ দিতে দেখা যায়। সঙ্গে তার রূপ-সাজ বরাবরের মতোই মুগ্ধ করেছে সকলকে।

এদিন জয়া পরেছিলেন একটি অলিভ রঙের সাইনি সিল্ক হাই স্লিট গাউন। তার টেনে বাধা চুল আর হালকা গয়নায় জয়ার গ্ল্যামার এতোটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে, অভিনেত্রীর কাছ থেকে নজর এড়ানোই কঠিন হয়ে পড়ে।

ভারতের বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় তারকারা এই অনুষ্ঠানে তাদের ফ্যাশনের ঝলক দেখিয়েছেন। অনেকের মধ্যে বেশ কিছু জনপ্রিয় তারকা তাদের স্টাইল এবং গ্ল্যামারের জন্য হয়েছেন সম্মানিত।

প্রসঙ্গত, ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সম্মাননা ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস। বলিউডের পাশাপাশি টলিউডেও ‘ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস বাংলা’ দেওয়া হয়। ‘ভূতপরী’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছেন জয়া আহসান। টানা সাতবার মনোনয়নের সঙ্গে জয়া পেয়েছেন চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার।
 

আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসা পেয়েছেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। আজ নিজের ভেরিফাইড ফেইসবুক পেইজে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান।

ভিডিওতে দেখা যায়, শাকিব খান কিছু ডকুমেন্টসে স্বাক্ষর করছেন। এসময় তার পাশে ছিলেন আরব আমিরাতের কয়েকজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি। 

এটাকে গোল্ডেন রেসিডেন্সিও বলা হয়, যা কিনা আমিরাত সরকারের একটি বিশেষ কর্মসুচি। এর বাহকরা আলাদা মর্যাদা পান দেশটিতে।  যদিও বিনিয়োগ, ব‍্যবসাসহ নানা ক্ষেত্রে বহু প্রবাসী ভারতীয় ও বাংলাদেশী গোল্ডেন রেসিডেন্সি পেয়েছেন এরিমধ‍্যে।  ভারত থেকে অভিনেতা ও সুপার স্টার রজনীকান্ত, শাহরুখ খান, সঞ্জয় দত্ত ও টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা আরব আমিরাতের গোল্ডেন ভিসা পেয়েছেন। 

গোল্ডেন ভিসা প্রাপ্তরা আমিরাতের নাগরিক না হলেও শিক্ষা, চিকিৎসা, ব‍্যবস‍া, সরকারি অনুষ্ঠানে যোগদান, বিমানবন্দরে প্রিভিলেজসহ নানা সুবিধা পান। 

সংবিধান, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সংস্কার সুপারিশের ওপর লিখিত মতামত জমা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের কাছে এসব সুপারিশমালা জমা দেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।

এ সময় অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে ছিলেন সংগঠনটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।

 অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজের কাছে জামায়াত নেতারা সংবিধান, নির্বাচন, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ পাঁচটি বিষয়ের ওপর প্রস্তাবনা পেশ করেন।

উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছে। আমিরে জামায়াতসহ নেতারা প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে দ্রুত একটি অর্থবহ নির্বাচন দেওয়ার জন্য বারবার বলে আসছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়ের ব্যাপারে একটি ধারণা জাতির সামনে পেশ করা হয়েছে। আমরা তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করিনি।

তিনি আরো বলেন, কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা একমত হতে পারিনি, আবার অনেক বিষয়েই একমত হয়েছি। আমরা ব্যাখ্যাসহ আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছি। আমরা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছি।

আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই সংস্কার সম্পন্ন করে একটি অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার কাজ শুরু করবে।
 

অস্ট্রেলিয়ার ভিসার জন্য এতদিন বাংলাদেশিদের ভারতের নয়াদিল্লি ভিসা সেন্টার যেতে হত। কিন্তু এখন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকরা ঢাকাতেই পাবেন অস্ট্রেলিয়ার ভিসা।

 বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে,  বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে এক ফোন আলাপে বিষয়টি জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক।

ওই ফোন আলাপে টনি বার্ক বলেন, এখন থেকে অস্ট্রেলিয়া ঢাকায় অবস্থিত তাদের হাইকমিশন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রসেস করবে। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত বছরের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্কের বাংলাদেশ সফরের সময় তার কাছে এই অনুরোধ করেছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা নয়াদিল্লি থেকে প্রসেস করতো।
 

বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক হুমায়ুন কবির সাব্বির হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে ২১ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ঢাকার রমনা থানার করা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৮ জনকে বেকসুর খালাসের আদেশ দিয়েছেন আদালত।  

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মো. আবু তাহেরের আদালত এ রায় দেন।খালাসপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন— তারেক রহমানের এপিএস মিয়া নুর উদ্দিন অপু, কাজী সালিমুল হক কামাল, আহমেদ আকবর সোবহান, সাফিয়াত সোবহান, সাদাত সোবহান ও আবু সুফিয়ান। 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৬ সালের ৪ জুলাই বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক সাব্বির খুনের অভিযোগে একটি হত্যা মামলা হয়।

ওই হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে ২১ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ২০০৭ সালের ৪ অক্টোবর দুদকের উপ-পরিচালক আবুল কাসেম রাজধানীর রমনা থানায় একটি দুর্নীতির মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়। 

মামলাটি তদন্ত করে ২০০৮ সালের ২৩ এপ্রিল তারেক রহমানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। একই বছরের ১৪ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ ঢাকার বিশেষ জজ-৩ এর তৎকালীন বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন।

প্রতিবছর প্রতিমাসের নির্দিষ্ট কিছুদিনে বিভিন্ন দেশেই কিছু দিবস পালিত হয়ে থাকে। এই নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সমস্ত দিবস পালিত হয়ে থাকে।

বিশ্বে পালনীয় সেই সমস্ত দিবসগুলির মধ্যে একটি হল বিশ্ব চড়ুই পাখি দিবস। প্রতি বছর ২০ মার্চ সারা পৃথিবী জুড়ে বিশ্ব চড়ুই পাখি দিবস পালিত হয়।

ভারতে নেচার ফরএভার সোসাইটি (এনএফএস) বিশ্ব চড়ুই দিবস উদযাপনের জন্য একটি উদ্যোগ নেয়। তারপর এই সোসাইটি ফ্রান্সের ইকো-সিস অ্যাকশন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সহযোগিতায় ২০১০ সালে ২০ মার্চ দিনটিকে বিশ্ব চড়ুই পাখি দিবস হিসেবে পালন করে। তারপর থেকে প্রতি বছর ২০ মার্চ বিশ্বজুড়ে ক্রমশঃ কমতে থাকা চড়ুইপাখিদের প্রতি মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

বিশ্বে চড়ুই একসময় বাড়ির কাছাকাছি সবচেয়ে বেশি দেখতে পাওয়া যেত, কিন্তু বিগত কয়েক বছরে, এই পাখিটির সংখ্যা শহর ও গ্রাম উভয় জায়গা থেকেই অনেকাংশে হ্রাস পাচ্ছে।

চড়ুই পাখির সংখ্যা ক্রমশই কমতে থাকার মূল কারণগুলি হলো, কৃষির জন্য ব্যাপক হারে কীটনাশকের প্রয়োগ, মোবাইল ও টিভি টাওয়ার থেকে ক্ষতিকারক রেডিয়েশন, গ্রীষ্মে প্রবল জলকষ্ট ইত্যাদি। 

চড়ুইয়ের সংখ্যা কমে যাওয়া আমাদের জন্যও সতর্কতা। পরিবেশের কী মাত্রায় পরিবর্তন হলে একটা প্রজাতি ধীরে ধীরে কমে যায়, চড়ুইয়ের কমে যাওয়া সেদিকেই নির্দেশ করে। তাই বিশ্ব চড়ুই পাখি দিবস-এর উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলে এই পাখিগুলিকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচানো।

বিভিন্ন শিক্ষামূলক এবং প্রচারমূলক কাজের মাধ্যমে দিনটিকে পালন করা হয়। ছোটদের এই দিবস এবং চড়ুইপাখির গুরুত্ব বোঝানো হয় যাতে তারা আগামী দিনে এই ব্যাপারে সতর্ক থাকে। পাশাপাশি সারাবছর ধরেই যেন পাখিদের জন্য কিছু করা হয় সেই শিক্ষা দেওয়া। যেমন প্রবল গ্রীষ্মে জলকষ্টে যাতে চড়ুই ও অন্যান্য পাখি মারা না যায় সে জন্যে ঘরের ছাদে বা বারান্দায় বাটিতে করে জল রাখলে পাখিদের কিছু সুরাহা হতে পারে, সঙ্গে পাখিদের উপযুক্ত কিছু খাবার রাখা। এই দিবসের একটি নির্দিষ্ট থিম বা প্রতিপাদ্য আছে।

প্রতিবছর সেই প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে এই দিনটি উদযাপন করা হয়। প্রতিপাদ্যটি হলো- ‘আমি চড়ুই ভালোবাসি’ (I LOVE Sparrows)। প্রতিপাদ্যটি মানুষ এবং চড়ুইয়ের মধ্যেকার সম্পর্ককে মনে করে বানানো হয়েছে। 

মাঠে গড়াবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১৮তম আসর। এবারের আসরের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে।

স্বাগতিক দলের মুখোমুখি হবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। তবে, ম্যাচের আগে অনুষ্ঠিত হবে জমজমাট এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত থাকবেন ভারতীয় তারকা অভিনেতা, খেলোয়াড়সহ আরও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, আইপিএলের উদ্বোধনীতে শাহরুখ খানের পাশাপাশি হাজির থাকতে চলেছেন সালমান খানও। এ ছাড়া প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, ভিকি কৌশল এবং সঞ্জয় দত্তও সেদিন উপস্থিত থাকবেন ইডেন গার্ডেনে।

বলিউড কিং শাহরুখ খান তার দল কেকেআর-এর সমর্থনে উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে সালমান খান তার আসন্ন সিনেমা ‘সিকান্দার’-এর প্রচার করতে আসছেন। তাই আইপিএলের উদ্বোধনী সন্ধ্যা যে অত্যন্ত বিশেষ হতে চলেছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই অনুরাগীদের

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেন- ক্যাটরিনা কাইফ, অনন্যা পাণ্ডে, মাধুরী দীক্ষিত, জাহ্নবী কাপুর, কারিনা কাপুর, পূজা হেগড়ে, আয়ুষ্মান খুরানা, সারা আলি খানের মতো তারকারাও।

লিগ কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছ, এবারের আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অরিজিৎ সিং, শ্রেয়া ঘোষাল, দিশা পাটানি, শ্রদ্ধা কাপুর এবং বরুণ ধাওয়ান পারফর্ম করবেন। জনপ্রিয় মার্কিনি পপ ব্যান্ড ওয়ান রিপাবলিক ব্যান্ডটি করণ অউজলা এবং দিশা পাটানির সঙ্গে পারফর্ম করবে। অনুষ্ঠানে ক্রিকেটের একাধিক কিংবদন্তি তারকাও হাজির থাকবেন।

উল্লেখ্য, ৬৫ দিনব্যাপী এই আসরের মেগা ফাইনালসহ মোট ৭৪টি ম্যাচ মাঠে গড়াবে। ১৩টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে আইপিএলের অষ্টাদশতম আসর।
 


আজকেও একটি চাপকে অস্বীকার করে আমি আবারও আপনাদের ওপরেই ভরসা রাখতে চাই। এ পোস্ট দেয়ার পর আমার কী হবে, আমি জানি না। নানামুখী প্রেশারে আমাকে হয়তো পড়তে হবে, হয়তো বিপদেও পড়তে হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে কোনো ধরণের আপস করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে দেয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত বলেন– কিছুদিন আগে আমি আপনাদের বলেছিলাম যে, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের। সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরিন শারমিন, তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।

আমিসহ আরও দুজনের কাছে ক্যান্টনমেন্ট থেকে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় ১১ মার্চ দুপুর আড়াইটায়। আমাদের প্রস্তাব দেয়া হয়, আসন সমঝতার বিনিময়ে আমরা যেন এ প্রস্তাব মেনে নিই। আমাদের বলা হয়, এরইমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এ প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তারা শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে। একটি বিরোধী দল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধী দল থাকা নাকি ভালো। ফলশ্রুতিতে আপনারা দেখবেন, গত দুইদিন গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগের পক্ষে একাধিক রাজনীতিবিদ বয়ান দেয়া শুরু করেছেন।

পোস্টে তিনি বলেন– আমাদের আরও বলা হয়, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ যাদের দিয়ে করা হবে, তারা এপ্রিল-মে থেকে শেখ পরিবারের অপরাধ স্বীকার করবে, হাসিনাকে অস্বীকার করবে এবং তারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করবে, এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হবে।

আমাদের এ প্রস্তাব দেয়া হলে আমরা তাৎক্ষণিক এর বিরোধিতা করি এবং আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে কাজ করার কথা জানাই। উত্তরে আমাদের বলা হয়, আওয়ামী লীগকে ফিরতে কোনো ধরনের বাধা দিলে দেশে যে সংকট সৃষ্টি হবে, তার দায়ভার আমাদের নিতে হবে এবং ‘আওয়ামী লীগ মাস্ট কামব্যাক’।

হাসনাত তার পোস্টে লেখেন, আলোচনার এক পর্যায় বলি– যে দল এখনও ক্ষমা চায়নি, অপরাধ স্বীকার করেনি, সে দলকে আপনারা কীভাবে ক্ষমা করে দেবেন! অপরপক্ষ থেকে রেগে গিয়ে উত্তর আসে, ‘ইউ পিপল নো নাথিং। ইউ ল্যাক উইজডোম অ্যান্ড এক্সপিরিয়েন্স। উই আর ইন দিজ সার্ভিস ফর এটলিস্ট ফোর্টি ইয়ার্স। তোমার বয়সের থেকে বেশি। তাছাড়া, আওয়ামী লীগ ছাড়া ইনক্লুসিভ (অন্তর্ভুক্তিমূলক) নির্বাচন হবে না।

তিনি আরও লেখেন– এর উত্তরে বলি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ইনক্লুসিভিটি হতে পারে না। আওয়ামী লীগকে ফেরাতে হলে আমাদের লাশের ওপর দিয়ে ফেরাতে হবে। আওয়ামী লীগ ফেরানোর চেষ্টা হলে যে সংকট তৈরি হবে, তার দায়ভার আপনাদের নিতে হবে। পরে মিটিং অসমাপ্ত রেখেই আমাদের চলে আসতে হয়।

হাসনাত লেখেন, জুলাই আন্দোলনের সময়ও আমাদের দিয়ে অনেক কিছু করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কখনও এজেন্সি কখনওবা ক্যান্টনমেন্ট থেকে নানা ধরনের প্রেসক্রিপশন গ্রহণ করতে চাপ দেয়া হয়েছে। আমরা ওসব চাপে নতি স্বীকার না করে আপনাদের তথা জনগণের ওপর আস্থা রেখেছি। আপনাদের সঙ্গে নিয়েই হাসিনার চূড়ান্ত পতন ঘটিয়েছি।

আজকেও ক্যান্টনমেন্টের চাপকে অস্বীকার করে আমি আবারও আপনাদের ওপরেই ভরসা রাখতে চাই। এ পোস্ট দেয়ার পর আমার কী হবে, আমি জানি না। নানামুখী প্রেশারে আমাকে হয়তো পড়তে হবে, হয়তো বিপদেও পড়তে হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করার সুযোগ নেই।

তিনি আরও লেখেন, জুলাইয়ের দিনগুলোতে জনগণের স্রোতে ক্যান্টনমেন্ট আর এজেন্সির সব প্রেসক্রিপশন আমরা উড়িয়ে দিয়েছিলাম। আজ আবারও যদি আপনাদের সমর্থন পাই, রাজপথে আপনাদের পাশে পাই, তবে আবারও এই আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের ভারতীয় ষড়যন্ত্রও আমরা উড়িয়ে দিতে পারব।

আসুন, সব যদি কিন্তু পাশে রেখে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারলে জুলাই ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত আমাদের শহীদদের রক্ত আমরা বৃথা হতে দেব না। ৫ আগস্টের পরের বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কামব্যাকের আর কোনো সুযোগ নেই বরং আওয়ামী লীগকে অবশ্যই নিষিদ্ধ হতেই হবে।
 

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় একজন গুলিবিদ্ধসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। শুক্রবার (২১ মার্চ) ভোরে উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নের মোহিনীপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- আমিন (২৩) ও বাশার (৩৫)। তারা উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নে মোহিনীপুর গ্রামের বাসিন্দা। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চাঁনপুর ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সালাম মিয়া ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক সোহাগের সঙ্গে চাঁনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী সামসু মেম্বারের দ্বন্দ্ব চলছিল। দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপি নেতা সামসু মেম্বার ও তার সমর্থকদের এলাকা ছাড়া করেন তারা। পরে গত ৫ আগস্টের পর সামসু মেম্বার ও তার সমর্থকরা এলাকায় ফিরে এসে সালাম মিয়ার সমর্থকদের এলাকা ছাড়া করেন।

 এ নিয়ে এক পর্যায়ে শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে সালাম মিয়া ও তার সমর্থকরা এলাকায় উঠতে চায়। এতে বাধা দেয় বিএনপি নেতা সামসু মেম্বার ও তার লোকজন। এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র, দা, ছুরি, ককটেল ও অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে ও ছুরিকাঘাতে সালাম মিয়ার দুই সমর্থক ঘটনাস্থলে নিহত হন। এছাড়াও আহত হন উভয় পক্ষের ১০ জন। 

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহামুদ জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সামসু মেম্বার ও সালাম মিয়ার সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। ওই এলাকাটি দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় পৌঁছাতে একটু বিলম্ব হচ্ছে। 

সুবিধা বঞ্চিত এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়াতে সমাজের দানশীল ও মানবীক মানুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় দৃষ্টান্ত ফাউন্ডেশন, কুমিল্লা ও ক্যাট’স হোম বিড়ালের বাড়ির উদ্যোগে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের নিয়ে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বুড়িচংয়ের বালিখাড়া নেছারিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দোয়া ও ইফতার সভাপতিত্ব করেন দৃষ্টান্ত ফাউন্ডেশন, কুমিল্লা ও ক্যাট’স হোম বিড়ালের বাড়ি এর প্রতিষ্ঠাতা রোটাঃ মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন রনী।

সংগঠক রেজবাউল হক রানার পরিচলনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,  কুমিল্লা ফটো সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আশিকুর রহমান আশিকসহ প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও নিবাসীরা ।

মঙ্গলবার দেবীদ্বার সরকারি শিশু পরিবারে দোয়া ও ইফতার মহফিলের আয়োজন করে সংগঠনগুলো।

অনুষ্ঠানে দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন বালিখাড়া নেছারিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার অধ্যক্ষ মাওলানা হাফিজুর রহমান ।

প্রকাশিত হয়েছে ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট ২০২৫’। এই রিপোর্টের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের তালিকা।

এ বছর প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী ১৪৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৪। গত বছর ১৪৩ দেশের মধ্যে ১২৯তম অবস্থানে ছিল দেশটি।

বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। বরাবরের মতো, এবারও বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে উঠে এসেছে ফিনল্যান্ডের নাম। আর সবচেয়ে অসুখী দেশের অনাকাঙ্ক্ষিত তকমা অর্জন করেছে আফগানিস্তান।

সবচেয়ে সুখী দেশের তালিকায় ২৪ ধাপ পিছিয়ে ১১৮ নম্বরে বাংলাদেশ পরবর্তী অবস্থানগুলোতে আছে সিয়েরা লিয়ন, মালাউই, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ও ইয়েমেন।  

ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কা যথাক্রমে ১১৮, ১০৯, ১২৬ ও ১৩৩তম অবস্থানগুলো দখল করেছে। অপরদিকে, নেপালের অবস্থান ৯২।

প্রতিবেদন মতে বিশ্বের সবচেয়ে ২০টি সুখী দেশ হলো ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, কোস্টারিকা, নরওয়ে, ইসরায়েল, লুক্সেমবার্গ, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, লিথুয়ানিয়া, অস্ট্রিয়া, কানাডা, স্লোভেনিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র (চেকিয়া)। 

বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশ থেকে গ্যালাপ বিশ্ব জরিপের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। গ্যালাপ, দ্য অক্সফোর্ড ওয়েলবিইং রিসার্চ সেন্টার ও জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সমাধান নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) ও একটি সম্পাদকীয় বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
 

রাজনৈতিক দলগুলো অন্তঃসংঘাত বন্ধ করলে সঠিক সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

শুক্রবার (২১ মার্চ) নোফেল সোসাইটি আয়োজিত জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ও নিহতদের স্মরণে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা জানান। 

জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিকে অন্তঃকোন্দলে ব্যস্ত না থেকে সবাইকে এক থাকার আহ্বানও জানান তথ্য উপদেষ্টা।

নির্বাচনের আগে হত্যাকারীদের বিচার ও সংস্কার দৃশ্যমান হবে বলে জানান এই উপদেষ্টা। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ৭২ ও ৭৫ সালে দিল্লী থেকে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে এবং সেখান থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
 
অভ্যুত্থানের পর অন্তঃকোন্দলে ব্যস্ত না থেকে সবাইকে এক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
 

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে চার সংবাদকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার মধ্যরাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে বলে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম জানান। তিনি বলেন, পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহত সংবাদকর্মীরা হলেন- যমুনা টিভির কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, ক্যামেরাপারসন জিহাদুল ইসলাম সাকিব, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের নিজস্ব প্রতিবেদক জাহিদুর রহমান ও ক্যামেরাপারসন ইরফান। তারা কুমিল্লা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিকরা মাঝরাতেই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

আহত সাংবাদিকরা বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে নগরীর ধর্মপুর এলাকার পারুল নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের এক শিক্ষার্থীর মা। স্বজনদের অভিযোগ ছিল, চিকিৎসকদের অবহেলায় ওই রোগী মারা গেছেন। সেই খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন বলে সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, ছবি ও তথ্য নিতে সাংবাদিকরা নতুন ভবনের সপ্তম তলায় উঠার আগেই চতুর্থ তলায় অতর্কিত হামলা করে হাসপাতালের ভেতরে থাকা একদল যুবক। তারা সাধারণ পোশাকে মেডিকেল শিক্ষার্থী বা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কয়েকজন বলে অভিযোগ করেছেন আহত সাংবাদিকরা।

আহত যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন বলেন, হাসপাতালের চারতলায় তাদের উপর অতর্কিত হামলা হয়। তাদেরকে মারধর করে ভবনের নিচে নিয়ে আসে। অপর একটি পক্ষ তাদেরকে নিরাপদে নেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। তখন হাসপাতালের ভেতরে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি হলে যৌথবাহিনী কয়েকটি ফাঁকা গুলি করে।

তিনি বলেন, “যারা হামলা করেছে সিসিটিভি ক্যামেরা বা মোবাইল ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাদের চিহ্নিত করা যাবে। তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”

যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন জিহাদুল ইসলাম সাকিব বলেন, “হাসপাতালে ক্যামেরা চালু করার আগেই আমাদের কয়েকজন যুবক মারধর শুরু করে। তাদের হাতে স্ট্যাম্প ও লাঠি ছিল। তারা দুই দফা হামলা করে। তখন অন্যরা মোবাইলে ভিডিও করছিল।”

সংবাদকর্মীদের দাবি, হামলাকারীরা হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট হতে পারেন। তারা কেউ ইউনিফর্মে ছিলেন না। হামলার সময় সাংবাদিকদের মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় ক্যামেরা ও ট্রাইপড।

এ ব্যাপারে জানতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মাসুদ পারভেজের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী পরিচয়ে কয়েকজন ঘটনার কথা বলেছেন। তাদের দাবি, এ সময় তাদেরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা শুনে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। পরে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। সবার সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।”

এদিকে ঘটনার পর পরই সংবাদকর্মীরা হাসপাতালের সামনে জড়ো হন। তারা এ ঘটনার নিন্দা জানান।

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক বলেন, “এ ধরনের হামলা সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আমরা দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনগণ আওয়ামী লীগের কবর রচনা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। বিচারকার্য শেষ করে দলটিকে ডেথ সার্টিফিকেট দেয়ারও দাবি জানিয়েছেন এই নেতা।

শুক্রবার (২১ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক বলেন আওয়ামী লীগের বিচার, শাস্তি ও নিষিদ্ধকরণ করতেই হবে। শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি বাংলাদেশের জনগণ বরদাস্ত করবে না। তাই অবিলম্বে অন্তর্বর্তী সরকারকে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে আজ সকালেও আরেক স্টেট্যাসে এই তরুণ রাজনীতিবিদ বলেন, আওয়ামী লীগকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসাবে গণ্য করার কোনো সুযোগ নাই। এটি একটি জলজ্যান্ত গণহত্যাকারী ফ্যাসিবাদী সংগঠন। ফ্যাসিবাদের বৈশিষ্ট এক ব্যক্তির পূজা, এক নেতার এক দেশ এক দল, সিস্টেম্যাটিক নিপীড়ন সহ সব কিছুই জনগণের কাছে প্রমাণিত এবং আদালতেও প্রমাণিত হবে।

তিনি আরও বলেন, এই সংগঠনের সহযোগী ও সুবিধাভোগী যাদের গায়ে রক্তের দাগ লেগে আছে তার মধ্যে অন্যতম জাতীয় পার্টি (হু মো এরশাদ/ জি এম কাদের)। আমি মনে করি আওয়ামী লীগের বিচার হলে জাতীয় পার্টি নামের লেজটির শাস্তি হওয়া উচিত।
 

জয়পুরহাটে মাসব্যাপী শুরু হয়েছে ৫১৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী গোপীনাথপুরের প্রাচীন দোলপূর্ণিমার মেলা।

এ মেলার প্রধান আকর্ষণ ঘোড়া। নানা জাতের হাজার হাজার দেশি-বিদেশি ঘোড়া বিক্রি জন্য আনা হয় এ মেলায়। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা।

এ প্রতিযোগিতা দেখতে প্রতিদিন ভিড় করেন হাজারও মানুষ। অন্যদিকে মণ্ডা-মিঠাই, নানা ধরনের আসবাবসহ শিশু-কিশোরদের নানা বিনোদনব্যবস্থা মেলাকে সাজিয়েছে ভিন্ন এক উৎসবে। 

জানা গেছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুরে বসেছে ৫১৭ বছরের মাসব্যাপী ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন মেলা। প্রথম ঐতিহ্যবাহী গোপীনাথপুর মন্দির প্রাঙ্গণে বসে এই মেলা। এরপর থেকে এ এলাকায় মেলাটি আয়োজন করে আসছে মন্দির কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী। হিন্দু-মুসলিম মিলেই মেলাটি পরিচালনা করা হয়। এ মেলার প্রধান আকর্ষণ থাকে ঘোড়া।

মেলাটি শুরু থেকেই ঘোড়ার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। স্বাধীনতার পরও মেলায় নেপাল, ভুটান, ভারত, পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে উন্নত জাতের ঘোড়া আসত। একটা সময় মেলার পরিধি প্রায় ৫ কিলোমিটারজুড়ে ছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এখন তা ১ কিলোমিটারের মধ্যে ছোট হয়ে গেছে। বর্তমান দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঘোড়া ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আসেন এখানে ঘোড়া কেনা-বেচা করতে।

এবার নজর কাড়ছে বাহাদুর, পঙ্খিরাজ, রানি, সুইটি, সোনার তরীসহ নানা বাহারী নামের ঘোড়া। এখানে ৫ হাজার থেকে শুরু করে ৯ লাখ টাকার পর্যন্ত ঘোড়া রয়েছে। এদিকে প্রতিদিন বিকেলে একটি মাঠে চলে ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতা। ঘোড়ার ক্ষিপ্রতা পরীক্ষা করার জন্য এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া এখানে বড় বড় মহিষ-গরুসহ বিভিন্ন পশুও বিক্রি হয়।

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উলিপুর গ্রামের গোলজার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় ৫০ বছর ধরে এ মেলায় ঘোড়া কেনা-বেচা করতে আসি। এবারও কিছু ঘোড়া বিক্রি হয়েছে, আরও কিছু বাকি আছে।’ জামালপুর জেলার রুহুল আমিন বলেন, ‘এবার মেলায় ৭০টি ঘোড়া নিয়ে এসেছি। সবচেয়ে বড় তাজি জাতের একটি ঘোড়া রয়েছে। এর দাম চাচ্ছি ৫ লাখ টাকা। কিন্তু দাম করছে ৩ লাখ ৭০ হাজার। ছোট কিছু ঘোড়া বিক্রি করেছি।’

বরিয়া গ্রামের তমাল হোসেন নামে বলেন, ‘মেলায় এসে অনেক বড় বড় ঘোড়া দেখেছি। এরপর মাঠে ঘোড়দৌড় দেখার জন্য এসেছি। অনেক ভাল লাগছে।’

গোপীনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও মেলা কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এই মেলার মূল আকর্ষণ ঘোড়া ও ঘোড় দৌড়। পাশাপাশি নানা প্রজাতির মহিষ, গরুসহ বিভিন্ন পশুও পাওয়া যায়। এ ছাড়া বড় বড় মিষ্টি, কাঠের আসবাব, পোশাক, খেলনা, গৃহস্থালি সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় সব কিছুই পাওয়া যায়। এটি দোলপূর্ণিমার মেলা হলেও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সব ধর্মের মানুষ এখানে আসেন।’

বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম এবং সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ‘কুরআনের নূর, পাওয়ার্ড বাই বসুন্ধরা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের নগদ অর্থ ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। এ উপলক্ষে আইসিসিবির নবরাত্রী হলে বিশ্ববরেণ্য আলেম-ওলামার মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 বিশ্বের ১৭ দেশ থেকে ১৭ জন এবং দেশের প্রায় ১০ হাজার প্রতিযোগী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার মোহাম্মদ জাকি। তিনি পেয়েছেন ১৫ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ। আর দেশসেরা হয়েছেন নেত্রকোনার কিশোর হাফেজ মো. ইরশাদুল। তিনি পেয়েছেন ১০ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ।

কুরআনের এ প্রতিযোগিতাটি দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনজন এবং জাতীয় পর্যায়ে সেরা আটজন এ পুরস্কার জিতেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বাংলাদেশসহ ১৭ দেশের হাফেজবৃন্দ। চ্যাম্পিয়ন ও দুই রানারআপকে নগদ অর্থ পুরস্কারসহ সনদপত্র ও সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

চ্যাম্পিয়নকে ১৫ লাখ, প্রথম রানারআপকে ১০ লাখ এবং দ্বিতীয় রানারআপকে দেওয়া হয় ৭ লাখ টাকা। সবাইকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন ইন্দোনেশিয়ার মোহাম্মদ জাকি। দুজন রানারআপ হলেন ইয়েমেনের মোহাম্মদ বালিগ সায়্যিদ আবদুল গাফফার আলী ও বাংলাদেশের হাফেজ মো. ইরশাদুল ইসলাম। এ ছাড়া তাদের ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হয়েছে।

আর জাতীয়ভাবে দেশের ১১ জোনের প্রায় ১০ হাজার হাফেজকে পেছনে ফেলে সেরা ৮-এ উঠে আসেন কুরআনের আটজন খুদে পাখি। এর মধ্যে প্রথম হয়েছেন নেত্রকোনার কিশোর হাফেজ মো. ইরশাদুল ইসলাম। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে তিনি পেয়েছেন ১০ লাখ টাকা, সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট।

দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী হাফেজ মো. জিহাদুল ইসলাম পেয়েছেন ৭ লাখ টাকা, সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট। আর তৃতীয় হয়েছেন হাফেজ আবদুর রহমান বিন নূর। তিনি পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা, সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট। চতুর্থ ও পঞ্চম হয়েছেন হাফেজ মো. জুবায়ের আহমদ এবং হাফেজ মো. শাহেদ আলম তারিফ। তারা পেয়েছেন ২ লাখ টাকা, সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট। সেরা ৮-এর বাকি তিনজন হাফেজ আবদুর রাজ্জাক নোমান, হাফেজ মুহাম্মদ আফফান বিন সিরাজ ও হাফেজ মোহাম্মদ ইউসুফ আলী প্রত্যেকে পেয়েছেন ১ লাখ টাকা। একই সঙ্গে সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয় তাদের। পুরস্কার দেওয়া হয়েছে মোট ১১ জনকে। এর মধ্যে জাতীয়ভাবে আটজন এবং আন্তর্জাতিকভাবে তিনজন। পরে তারা বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে পিতা-মাতাসহ পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গর্ভনর, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক। প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের সহযোগিতায় দেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে এজন্য তাঁদের মুবারকবাদ জানাচ্ছি। এ আয়োজন ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকুক সে কামনা করি।’

সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নর, চরমোনাইয়ের মরহুম পীর (রহ.)-এর সাহেবজাদা সৈয়দ মোহাম্মদ মাসাদ্দিক বিল্লাহ মাদানি।

আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘বসুন্ধরা আয়োজিত বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম এবং সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর আপনাদের সালাম জানিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আল কুরআন হচ্ছে মানবতার মুক্তির দিশা। এটি আল্লাহর দেওয়া মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। কুরআনের অন্যতম অলৌকিক শক্তি হলো মানুষের অন্তরে সংরক্ষিত করা যায়। যারা এ কুরআন শেখে, চর্চা করে, গবেষণা করে এবং কুরআনের আলোকে জীবন গড়ে তারা আল্লাহর বিশেষ বান্দায় পরিণত হয়।’

এ অনুষ্ঠান কেন্দ্র আইসিসিবির নবরাত্রী হল হয়ে ওঠে দেশবিদেশের বিখ্যাত ইসলামি স্কলার, আলেমের মিলনমেলা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শামসুল আলম, চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বোর্ড অব গভর্নর ড. খলিলুর রহমান মাদানি।

আরও উপস্থিত ছিলেন হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সভাপতি শায়খ আবদুল হক, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মিজানুর রহমান, শায়খুল হাদিস মুহিব্বুল্লাহিল বাকী আন নদভী, শায়খুল হাদিস এহসানুল হক জিলানী, শায়খুল হাদিস মুহিউদ্দীন কাসেম, কুরআনের নূর আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার চিফ কোঅর্ডিনেটর হায়দার আলী, ডেপুটি চিফ কোঅর্ডিনেটর আশিকুর রহমান শ্রাবণ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী, মিজানুর রহমান মানিক, গুলজার আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ইসলামি সংগীতশিল্পী বদরুজ্জামান উজ্জল।

২০২৩ সালে সফলভাবে আয়োজিত প্রথম আসরের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে পরের বছর আরও বৃহদাকারে আয়োজন করে বসুন্ধরা গ্রুপ। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো আয়োজন হয় ‘আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৪-পাওয়ার্ড বাই বসুন্ধরা গ্রুপ’। তুরস্ক, জর্ডান, ওমান, ইয়েমেন, মরক্কো, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৭ দেশের হাফেজরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অংশগ্রহণকারীরাও ছিলেন অনূর্ধ্ব-১৬ বছর বয়সি।

এবার জাতীয় পর্যায়ে পুরো দেশের মোট ১১ জোন থেকে অনূর্ধ্ব-১৬ বছর বয়সি ৩০ পারা কুরআনের হাফেজরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ পাচ্ছে দেশের বিভিন্ন মসজিদে ইমাম-মুয়াজ্জিনরা। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এই ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে যেসব ইমাম-মুয়াজ্জিনরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন তাদের ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট হতে এই ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, এই ট্রাস্ট থেকে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (২৪ মার্চ) ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সারাদেশে ৬০০ জন ইমাম-মুয়াজ্জিনকে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়েছে। একই অর্থবছরে ৪ হাজার ৬২০ জন ইমাম-মুয়াজ্জিনকে আর্থিক সহায়তা হিসেবে দুই কোটি ৩১ লাখ টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলার ২৯৫ জনকে ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট টাকা নির্বাচিতদের মাঝে বিতরণের কাজ চলছে। ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট হতে এই দুই খাতে মোট ৪ কোটি ১১ লাখ টাকা বিতরণ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কোন ইমাম বা মুয়াজ্জিন মারাত্মক দুর্ঘটনা, পঙ্গুত্ব, দুরারোগ্য ব্যাধি ইত্যাদি কারণে অক্ষম হয়ে পড়লে, আকস্মিকভাবেই মৃত্যুবরণ করলে তাকে আর্থিক সহায়তা ও ঋণ প্রদান, তাদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা এবং তাদের পরিবারের কল্যাণ সাধনের জন্য ২০০১ সালে এই ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট গঠিত হয়।
 

যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (২৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, স্বার্থান্বেষী মহল দেশকে আবার অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে এবং পতিত স্বৈরাচারকে ফিরে আনার অপতৎপরতা শুরু করেছে। এমন অবস্থায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ, সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। শান্তি-স্বস্তির নতুন বাংলাদেশ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।

জামায়াত আমির বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী জনতা দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায় বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তদানীন্তন শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার। ক্ষুধা-দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও দুঃশাসন মুক্ত একটি দেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বস্তরের জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীনতা লাভ করে।

স্বাধীনতার ৫৪ বছরে আজ দেশের মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি হিসাব করলে দেখা যায় বহু প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি।
তিনি বলেন, গত জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ আবার নতুন করে দ্বিতীয়বারের মত স্বাধীনতা অর্জন করেছে। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের জগদ্দল পাথরের ন্যায় চেপে বসা জালিমের হাত থেকে মুক্ত হয়ে দেশের মানুষ মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে পারছে। দেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেয়েছে এবং শান্তিতে-স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারছে।

পতিত সরকারের দোসররা এবং দেশের কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তির সহায়তায় ছাত্র-জনতার এই গণআন্দোলনকে ব্যর্থ করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা মহান স্বাধীনতা দিবসে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করছি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ওই সমস্ত জনতাকে যাদের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করেছে। আমরা আরও স্মরণ করছি গত জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের সব শহীদদের এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের। আমরা সব শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
 

অবশেষে ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি হলো মাত্র চারজন নিয়ে গড়ে ওঠা ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আলোচিত সেই উমানাথপুর গ্রাম।

চার মাস আগে এই গ্রামের মালিক মো. সিরাজুল হক সরকার স্থানীয় আব্দুল মন্নাছের কাছে গ্রামটি বিক্রি করেন। তবে আজ বুধবার বিকেলে গ্রামটি বিক্রির ঘটনা প্রকাশ পায় বলে জানান এলাকাবাসী।

সিরাজুল ইসলাম সরকার জানান, নিজের জন্য এত বড় বাড়ির প্রয়োজন নেই। তাই ভালো দামে বিক্রির পর কম দামে পাশের গ্রামে জমি কিনেছেন। সেখানে নতুন বাড়ি করে বসবাস করবেন।

বাড়ি তো নয়, পুরো গ্রাম বিক্রি করে দিলেন—এমন প্রশ্নে সিরাজ সরকার বলেন, ‘তা বলতে পারেন। এখন যাঁরা থাকবেন, তাঁরা ভাগ্যবান। প্রায় ৬০ বছরের ইতি টানলাম।’

বাড়ি বা গ্রামটি কিনেছেন পাশের উদয়রামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মন্নাছ। তিনি ঢাকায় বড় ছেলে মোস্তফা কামালকে নিয়ে ফলের ব্যবসা করেন। তার মোবাইলে কল দিলে ধরেন তার ছেলে মোস্তফা কামাল। তিনি ওই বাড়ি কেনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তার বাবা বাড়িটি কিনেছেন ১৫ লাখ টাকায়। রেজিস্ট্রিসহ খরচ পড়েছে ১৭ লাখ। সবকিছু সম্পন্ন হওয়ার পরদিন তিন ভাই, মা ও বাবাকে নিয়ে বাড়িতে উঠেছেন। এখন তাঁদের সদস্যসংখ্যা ৯ জন। বাড়িটি কিনতে পেরে তাঁরা খুশি। কারণ, এটা শুধু বাড়ি নয়, একটা গ্রামের পরিচয়।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই একটি বাড়ি নিয়ে একটি গ্রামের ঘটনা প্রকাশ পায় দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। এরপর এই গ্রাম নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের ‘উমানাথপুর’ গ্রামের জমির পরিমাণ ২৫ শতক। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এ জমিতে মো. সিরাজুল সরকার স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন। যেখানে রয়েছে দুটি বসতঘর, একটি গোয়ালঘর, একটি ছোট পুকুর, একটি টয়লেট ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা। অন্যের জমির আলপথ দিয়ে এই বাড়িতে প্রবেশ করতে হয়। এই বাড়ি ঘিরেই ‘উমানাথপুর’ গ্রাম।

এই বছরেও ইসলামিক অনুষ্ঠান নিয়ে শীর্ষে রয়েছে কুরআন-সুন্নাহ মাল্টিমিডিয়া। প্রতিবারের মতো এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ইসলামিক ট্রাভেলিং শো, রিয়েলিটি শো, ইসলামিক টকশোসহ আরও নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে।

এ বছরে রয়েছে আরটিভিতে দেশের সর্ববৃহৎ রিয়েলিটি শো ‘আলোকিত কুরআন’, মিসর থেকে নির্মিত ইসলামিক ডকুমেন্টারি ‘আরাবি কাফেলা’, প্রতিদিন দুপুর ২টা ২০ মিনিট থেকে প্রচারিত হচ্ছে সরাসরি লাইভ অনুষ্ঠান ‘প্রশ্ন করুন’ এবং চ্যানেল টুয়েন্টি ফোরে রয়েছে ইসলামিক রিয়েলিটি শো ‘সময়ের সেরা হাফেজ’, বিকেল ৪টা ২০ মিনিট থেকে প্রচারিত হচ্ছে ও ইফতারের পূর্বে বিশেষ আলোচনা টকশো ‘শাহারু রামাদান’ ও সেহরি অনুষ্ঠান ‘আলোকিত রামাদান’। ইটিভিতে প্রচারিত হচ্ছে আরও বেশ কিছু ইসলামিক প্রোগ্রাম যেমন- বিকেল পাঁচটা থেকে প্রচারিত হচ্ছে তারাবির ব্যাখ্যা নিয়ে বিশেষ আয়োজন ‘তারাবিকে জানুন’ ও ইসলামি জীবন ঘনিষ্ঠ প্রশ্ন-উত্তরমূলক অনুষ্ঠান ‘আস-সিয়াম’ ও ‘মোনাজাত’ অনুষ্ঠান।

আরও রয়েছে দেশ টিভিতে বিকাল থেকে আল ‘কোরআনের ছায়াতলে’, ইফতারের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে রয়েছে ‘মোনাজাত’ দোয়া অনুষ্ঠান এবং সেহরির সময় রয়েছে ‘রহমতের রজনি’। এটি প্রচারিত হয়ে আসছে তিন বছর ধরে। দীপ্ত টেলিভিশনে রয়েছে সরাসরি প্রশ্নোত্তরমূলক অনুষ্ঠান ‘আপনার প্রশ্ন’, অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার হচ্ছে দীপ্ত টিভি থেকে সরাসরি। প্রতিদিন বিকেল ৩টা ২০ মিনিট থেকে ৪টা পর্যন্ত এবং ইফতারের পূর্বে জর্ডান ও উজবেকিস্তানে নির্মিত ডকুমেন্টারি অনুষ্ঠান ‘ইসলামি কাফেলা’ সম্প্রচার হয়। সেহরির সময় রয়েছে ‘সুবহে সাদিক’ এবং জিটিভিতে রয়েছে বিশেষ রিয়েলিটি শো এতিমদের নিয়ে বিশেষ আয়োজন ‘কুরআনের ছোঁয়া’ জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা ও ইফতারের পূর্বে রয়েছে ‘হৃদয়ের রমাদান’। পাশাপাশি ঠিক ইফতারে পূর্ব মুহূর্তে ‘মোনাজাত’-এর বিশেষ আয়োজন এবং এসএ টিভিতে আয়োজিত হয়ে আসছে ‘আল কুরআনের আহ্বান’, প্রশ্ন-উত্তরমূলক অনুষ্ঠান ও ইফতারের পূর্বে ‘মোনাজাত’ অনুষ্ঠান।

এ বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার ও বাংলাদেশ ইমাম সমিতির সভাপতি হাফেজ মাওলানা লুৎফর রহমান জানান, দেশ ও জাতির কল্যাণে ইসলামের কল্যাণে, মানবতার কল্যাণে তিনি সবসময় ইসলামের খেদমতে নিয়োজিত থাকতে চান। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই অনুষ্ঠানগুলো তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে এবং বিভিন্ন বাধা উপেক্ষা করে সফলতার সঙ্গে এ অনুষ্ঠানগুলো কোরআন প্রচার-প্রসার ও প্রতিষ্ঠার কাজে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, আমি আমার এ কাজগুলো একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে করে আসতেছি, ইনশাআল্লাহ যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন কোরআনের খেদমত করে যাব। পাশাপাশি আমার পরবর্তী প্রজন্ম যেন আমার রেখে যাওয়া ইসলাম ও কোরআন সুন্নাহর পথকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় সেই কামনা করছি এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন।
 

ঢাকা থেকে ট্রাকে ফেরার পথে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে নওগাঁয় ৬ শ্রমিক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।  

বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নওগাঁ শহরের বরুনকান্দি বাইপাস এলাকা থেকে অজ্ঞান অবস্থায় তাদের উদ্ধারের পর নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।

তবে এখনো তাদের জ্ঞান না ফেরায় নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এরা সবাই অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েছিলেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।

নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, আজ বুধবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে শহরের বাইপাস এলাকার বরুনকান্দি এলাকার একটি গ্যাস পাম্পের পাশ থেকে অজ্ঞান অবস্থায় ৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। এরপর নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৬ জনের মধ্যে ১ জনের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি।

তিনি অস্পষ্টভাবে জানান, তারা সাভারের হেমায়েতপুর থেকে ট্রাকে উঠে বাড়ি ফিরছিলেন। এরপর তাদের কলা, পানি, রুটি আর পান খাওয়ানো হয়েছে। এর বেশি তিনি আর কিছু বলতে পারেনি।

ওসি জানান, বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে কাজ করছেন তারা। কখন এবং কিভাবে তাদের ট্রাক থেকে বাইপাস সড়কের গ্যাস পাম্পের পাশে ফেলে দেওয়া হয়েছে এ বিষয় নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। শহরের এবং শহরের বাইপাস এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করা হচ্ছে।

নওগাঁ সদর হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. আবু জার গাফফার জানান, হাসপাতালে আসার পরে তাদের প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক তাদের দেখাশোনা করছেন।

তিনি বলেন, অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া রোগীদের জ্ঞান ফিরতে কমপক্ষে ১৮ থেকে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। তাদের নাম, পরিচয় শনাক্ত এবং তারা কোথার থেকে কোথায় যাচ্ছিলেন তা জানার জন্য এ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া ছয় ব্যক্তিকে পান অথবা ডাবের পানির সঙ্গে চেতনা নাশক শক্তিশালী ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 

বেশি পরিমাণে গাছ কাটা মানুষ হত্যার চেয়েও খারাপ বলে উল্লেখ করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। 

অবৈধভাবে কেটে ফেলা প্রতিটি গাছের জন্য এক ব্যক্তিকে ১ লাখ রুপি করে জরিমানা করার সময় দেশটির শীর্ষ আদালত এই মন্তব্য করে। ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে বুধবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে। 

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অভয় এস ওকা এবং উজ্জ্বল ভূঁইয়ার একটি বেঞ্চ সুরক্ষিত তাজ ট্র্যাপিজিয়াম জোনে ৪৫৪টি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগে একজন ব্যক্তির আবেদন খারিজ করে এই পর্যবেক্ষণ দেন। 

ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের এই বেঞ্চ বলেছে, পরিবেশগত বিষয়ে কোনো দয়া দেখানো উচিত নয়। বিপুলসংখ্যক গাছ কাটা একজন মানুষকে হত্যা করার চেয়েও খারাপ। শীর্ষ আদালত বলেছে, অনুমতি ছাড়াই নির্বিচারে কেটে ফেলা ৪৫৪টি গাছের তৈরি সবুজ আচ্ছাদন পুনরায় তৈরি বা পুনরুজ্জীবিত করতে কমপক্ষে ১০০ বছর সময় লাগবে। 

এছাড়া আদালত কেন্দ্রীয় ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির (সিইসি) প্রতিবেদন গ্রহণ করেছে, যেখানে মথুরা-বৃন্দাবনের ডালমিয়া ফার্মে শিব শঙ্কর আগরওয়াল নামে এক জনের ৪৫৪টি গাছ কাটার জন্য গাছপ্রতি ১ লাখ রুপি করে জরিমানা করার সুপারিশ করা হয়েছে। 

আগরওয়ালের পক্ষে উপস্থিত সিনিয়র আইনজীবী মুকুল রোহাতগি যুক্তি দেন, তিনি ভুল স্বীকার করেছেন কিন্তু আদালত জরিমানার পরিমাণ কমাতে অস্বীকৃতি জানান। 

আদালত বলেছে, আগরওয়ালকে কাছাকাছি স্থানে বৃক্ষরোপণ করার অনুমতি দেওয়া উচিত এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অবমাননার আবেদনটি কেবল সম্মতি দেওয়ার পরেই নিষ্পত্তি করা হবে। এর আগে শীর্ষ আদালত তার ২০১৯ সালের আদেশও প্রত্যাহার করেছে, যা তাজ ট্র্যাপিজিয়াম জোনের মধ্যে বনের মধ্যে নয় এমন এবং ব্যক্তিগত জমিতে গাছ কাটার জন্য পূর্ব অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বাতিল করেছিল।
 

কয়েক দিন পরই ঈদ। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদ উৎসবে মুক্তির অপেক্ষায় আছে একাধিক সিনেমা। তালিকায় রয়েছে শাকিব খান-ইধিকা পাল অভিনীত ‘বরবাদ’, আফরান নিশো-তমা মির্জা অভিনীত ‘দাগি’, সিয়াম আহমেদ-শবনম বুবলী-দীঘির ‘জংলি’, আব্দুন নূর সজল-নুসরাত ফারিয়ার ‘জ্বীন-৩’, মোশাররফ করিম-রিকিতা নন্দিনীর ‘চক্কর ৩০২’। 

সিনেমাগুলো নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বেশ। এরই মধ্যে জমে উঠেছে প্রচারণা, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। টিজার, ট্রেলার, গান মুক্তি দিয়ে সংশ্লিষ্টরা ঈদের সিনেমা নিয়ে দর্শক আগ্রহ তৈরি করতে ব্যস্ত। এদিকে সেন্সর সার্টিফিকেশন বোর্ডের ছাড়পত্র ছাড়াই, সিনেমাগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রচারণা চলছিল। 

এ নিয়েও একটি সংশয় কাজ করছিল, সঠিক সময়ে সিনেমাগুলো মুক্তি পাবে তো? তবে এ সংশয় কেটে গেছে। এরই মধ্যে ‘দাগি’, ‘জংলি’, ‘জ্বীন-৩’ ও ‘চক্কর ৩০২’ সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে দিন কয়েক আগে। ২৫ মার্চ বিকালে ভায়োলেন্সের কিছু দৃশ্য কর্তন সাপেক্ষে ‘বরবাদ’ও ছাড়পত্র পেয়েছে।

আফরান নিশো ও তমা মির্জা অভিনীত সিনেমা ‘দাগি’ নির্মাণ করেছেন শিহাব শাহীন। সার্টিফিকেশন বোর্ড কর্তৃক ‘ইউ’ গ্রেডে সনদপত্র পেয়েছে সিনেমাটি। তার মানে, এটি সব বয়সি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত। ভাগ্য ও পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন তুলবে সিনেমাটি, এমনটাই বলেছেন নির্মাতা। 

এদিকে মুক্তি আর প্রায়শ্চিত্তের গল্পের এ সিনেমা দিয়ে প্রায় দেড় বছর পর প্রেক্ষাগৃহে আসছেন নিশো-তমা জুটি। তাদের সঙ্গে আরও রয়েছেন অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল।

‘জংলি’ সিনেমাটি নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ অনেক। প্রায় এক বছর ধরেই সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা চলছে। এর আগেও এটি মুক্তির দিনক্ষণ ঠিক করেও মুক্তি পায়নি। সিয়াম-বুবলী ও দীঘিকে নিয়ে সিনেমাটি বানিয়েছেন এম রাহিম। এটিও বিনাকর্তনে ইউ গ্রেডে ছাড়পত্র পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের সিনেমা হিসাবে প্রথম বিনা কর্তনে সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে এটি। পাশাপাশি সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্যরা এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সিয়ামের অভিনয় তাদের মুগ্ধ করেছে। নির্মাতার আশা, সিনেমা হলে দর্শকদের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে পারবে। 

এ সিনেমা নিয়ে এরই মধ্যে প্রচারণায় ব্যস্ত শিল্পীরা। এ প্রসঙ্গে সিয়াম বলেন, ‘সিনেমাটির জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। অনেক কষ্ট করে আমরা ভালো একটা কিছু তৈরি করেছি। আর মাত্র কয়েকদিন পরই এটি দর্শকের জন্য মুক্তি দেওয়া হবে। আশা করি, সবাই দেখতে আসবেন, আপনাদের অপেক্ষায় গোটা জংলি টিম।’

এদিকে ঈদের সিনেমা মুক্তির দৌড়ে রয়েছে ভৌতিক ঘরানার সিনেমা ‘জ্বীন-৩’। এটিও ‘ইউ’ গ্রেডে ছাড়পত্র পেয়েছে। কামরুজ্জামান রুমানের পরিচালনায় এতে জুটি বেঁধেছেন আব্দুন নূর সজল ও নুসরাত ফারিয়া। এ সিনেমা দিয়ে সাত বছর পর জাজ মাল্টিমিডিয়ার ঘরে ফিরলেন এ নায়িকা। 

এ সিনেমার ‘কন্যা’ শিরোনামের একটি গান এরই মধ্যে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। সিনেমাটি প্রসঙ্গে সজল বলেন, ‘এটি হরর সিনেমা হলেও বিনোদনে ভরপুর। অ্যাকশন, রোমাঞ্চ সবই আছে। পরিবার নিয়ে দেখার মতো একটি সিনেমা। কন্যা গানটির জন্য দারুণ সাড়া পাচ্ছি। দেশ-বিদেশের অনেকেই প্রশংসা করছেন। আমার বিশ্বাস, গানের মতো সিনেমাটি নিয়েও দর্শক সন্তুষ্টি প্রকাশ করবেন।’

এদিকে নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমকে নিয়ে কয়েক বছর আগেই নির্মিত হয়েছে ‘চক্কর ৩০২’ নামে একটি সিনেমা। নির্মাণ করেছেন অভিনেতা ও নির্মাতা শরাফ আহমেদ জীবন। এটি বছরখানেক আগেই ছাড়পত্র পেয়েছে। 

তাই এবার আর এ বিষয়ে তাদের বেগ পেতে হয়নি। ঈদের সিনেমা হিসাবে এটিও দর্শকদের পছন্দের তালিকায় থাকবে বলে দাবি নির্মাতার। এরই মধ্যে সিনেমাটির প্রচারণা চলছে, মুক্তি পেয়েছে এর একটি গান। এতে মোশাররফ করিমের সঙ্গে সিনেমায় অভিনয় করেছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু।
 

শুক্রবার (২৮ মার্চ) বিকেলে উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের ঘুজিয়াখাই গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। চাতলপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিক মিয়া সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২০ দিন আগে রোশেনা বেগম নামে এক নারীর কয়েকটি রাজহাঁস ঘুজিয়াখাই গ্রামের জয়দর মিয়ার ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জয়দর মিয়া রোশেনা বেগমকে বাড়িতে গিয়ে মারধর করেন। এর দুইদিন পর প্রতিশোধ নিতে রোশেনার লোকজন জয়দর মিয়াকে রাস্তায় একা পেয়ে মারধর করে। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দুই পক্ষ আপোসে রাজি হয়।

তবে আপোসের পরও জয়দর মিয়ার লোকজন রোশেনার পক্ষের সাইফ মিয়াকে মারধর করে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় ও আদালতে মামলা করে।

সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে দুই পক্ষের লোকজন বাড়িতে আসতে শুরু করে। পূর্বের বিরোধের জের ধরে তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই এলাকায় ফিরে আসে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুইপক্ষের লোকজন ঘোষণা দিয়ে কবরস্থানের পাশে খোলা মাঠে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলে দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ২৫ জন আহত হন। তবে আহতদের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

চাতলপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিক মিয়া জানান, জমিতে রাজহাঁস যাওয়াকে কেন্দ্র করে কিছু দিন আগেও দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। এ নিয়ে থানায় ও আদালতে মামলা রয়েছে। আজ শুক্রবার সেই পুরনো ঘটনার জের ধরেই আবার সংঘর্ষ হয়েছে।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার খবর পেয়ে চাতলপাড় ফাঁড়ি পুলিশ প্রায় দুঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আহতরা সবাই শঙ্কামুক্ত।

মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশেও ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষত চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকা অঞ্চল উচ্চঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি দেশে ভূমিকম্প মোকাবিলায় সকল পর্যায়ে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ ও সচেতনতা তৈরির জন্য ৯টি বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। 

এতে বলা হয়েছে, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে শুক্রবার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্প দুটি’র মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ৭ ও ৬ দশমিক ৪। এতে দেশ দুটি বেশ ক্ষতির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশেও একই মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষত চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকা অঞ্চল উচ্চঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য সকল পর্যায়ে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ ও সচেতনতা তৈরির জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর নিম্নরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। 

(১) বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০ অনুযায়ী ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ
(২) ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো ভবনগুলোর সংস্কার ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ
(৩) সকল বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার
(৪) ইউটিলিটি সার্ভিস যেমন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের লাইনের সঠিকতা নিশ্চিত
(৫) ভূমিকম্প চলাকালীন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি পর্যায়ে বিভিন্ন করণীয় সম্পর্কে নিয়মিত মহড়া অনুশীলন ও প্রচারের ব্যবস্থা
(৬) জরুরি টেলিফোন নম্বর যেমন ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ, হাসাপাতাল ও অন্যান্য জরুরি নম্বর ব্যক্তিগত পর্যায়ের পাশাপাশি সকল ভবন বা স্থাপনায় সংরক্ষণ এবং তা দৃশ্যমান স্থানে লিখে রাখা
(৭) ভলান্টিয়ার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দুর্যোগকালীন সময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা
(৮) জরুরি প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সরঞ্জামাদি যেমন- টর্চলাইট, রেডিও (অতিরিক্ত ব্যাটারিসহ), বাঁশি, হ্যামার, হেলমেট বা কুশন, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ সামগ্রী, ফার্স্ট এইড বক্স, শিশু যত্নের সামগ্রী ইত্যাদি বাসা-বাড়িতে নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষণ করা যাতে ভূমিকম্প পরবর্তীতে আটকা পড়লে তা ব্যবহার করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা যায় এবং 
(৯) সকল পর্যায়ে তদারকি সংস্থার কার্যক্রমে সহযোগিতা করা

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভিন্ন কার্যক্রম চালু রেখেছে। যেকোনো তথ্যের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের এই নম্বর ০১৭২২৮৫৬৮৬৭, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স হটলাইন নম্বরে (১০২) যোগাযোগ এবং ফায়ার সার্ভিসের ওয়েবসাইট www.fireservice.gov.bd থেকে তথ্য সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়েছে।  
 

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী আসনকেন্দ্রিক তৎপরতা এখনো দৃশ্যমান না হলেও ঢাকা-১১ আসন থেকে তার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বাড্ডা, ভাটারা, রামপুরা, বনশ্রী এলাকা (ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২১, ২২, ২৩, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড) নিয়ে গঠিত এই আসনটি। নাহিদের বাড়ি ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রীতে।

ঢাকা-১৩ সংসদীয় আসনের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে সক্রিয় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হুসেইন। তাঁর উদ্যোগে তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত বিভিন্ন দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সমস্যা-সংকটের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। তারা এলাকার খাল ও মাঠ রক্ষায় মানববন্ধন করেছেন। ১৫ মার্চ আয়োজন করেছেন ইফতার মাহফিল। ঈদুল ফিতরের সময় জনসংযোগের আরও বিভিন্ন পরিকল্পনা আছে তার। তিনি ঢাকা-১৩ আসন (মোহাম্মদপুর–আদাবর এলাকা) থেকে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান। 

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই নিজ এলাকা নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বেশ সক্রিয় হন তিনি। এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা সমাধানেও তিনি কাজ করছেন। এখন ইউনিয়ন পর্যায়ে সমাবেশ করছেন। ঈদকে কেন্দ্র করে জনসংযোগ জোরদার হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি শতাধিক গাড়িবহর নিয়ে নিজের জেলায় নির্বাচনী প্রচারাভিযানে গিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলা নিয়ে গঠিত পঞ্চগড়-১ সংসদীয় আসন থেকে তিনি সংসদ নির্বাচন করতে চান। এখন নির্বাচনী আসনের বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক করছেন, মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। ঈদেও সারজিসের এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।


দেবীদ্বার উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৪ আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। গত কয়েক মাসে এলাকায় বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন হাসনাত। হাসনাত নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গেই ঈদ করবেন বলে জানা গেছে। 

দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-৪ আসনে প্রার্থী হতে পারেন। নির্বাচনী এলাকায় আখতারের যাতায়াত আছে। ঈদকেন্দ্রিক জনসংযোগেও দেখা যেতে পারে।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গত ২৬ মার্চ নিজ এলাকা চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় এক ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে তিনি বলেন, তরুণদের চোখ এখন জাতীয় সংসদের দিকে। ৫ আগস্টের মতো ‘টেকনিক’ (কৌশল) ব্যবহার করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে তরুণদের বড় একটি অংশ বিজয়ী হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলা নিয়ে গঠিত চাঁদপুর-৫ আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী নাসীরুদ্দীন।

ভোলা সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। গত কয়েক মাসে ভোলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন তিনি।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা ঢাকা-১৭ আসনে (গুলশান-বনানী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকা) দলের প্রার্থী হতে পারেন।

ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান এনসিপির আরেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। এই আসনটি ঢাকার উত্তর সিটির ৭ থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ড ও সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। 

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার নরসিংদী থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী। গত কয়েক মাসে তিনি নরসিংদীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। নরসিংদী-২ আসনেকেন্দ্রিক তৎপরতা তার বেশি। ঈদের দিন তিনি নিজ এলাকায় শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছেন।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম দৌলতপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া-১ আসনে প্রার্থী হতে চান। সেই লক্ষ্যে এলাকার মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়াচ্ছেন তিনি। ঈদেও এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে দেখা যেতে পারে।

দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায় দিরাই ও শাল্লা উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। সেই লক্ষ্যে এলাকায় সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি রাখছেন নিয়মিত যোগাযোগ।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দীন মাহাদী সরাইল ও আশুগঞ্জ নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী। তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত মুফতি ফজলুল হক আমিনীর দৌহিত্র। মুফতি আমিনী ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। সেই আসন থেকে এনসিপির হয়ে নির্বাচন করতে চাইছেন তাঁর দৌহিত্র।

বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলা নিয়ে গঠিত সিরাজগঞ্জ-৫ আসন থেকে এনসিপির হয়ে নির্বাচন করতে চান মাহিন সরকার। এনসিপির এই যুগ্ম সদস্যসচিব নিজের এলাকায় ইফতারসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

বাঁশখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৬ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক। সেই লক্ষ্যে বাঁশখালীতে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন তিনি। ঈদেও বাঁশখালীর মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। 

মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-১ সংসদীয় আসনে এনসিপির প্রার্থী হতে চান এনসিপির উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক অলিক মৃ। তিনিও এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের আসনকেন্দ্রিক সংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন এনসিপির আরও অনেক নেতা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা আতিক মুজাহিদ (কুড়িগ্রাম), প্রীতম দাশ (মৌলভীবাজার), আবদুল্লাহ আল আমিন (নারায়ণগঞ্জ), হাসান আলী (চট্টগ্রাম), অর্পিতা শ্যামা দেব (সিলেট), মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন (পটুয়াখালী), ভীম্পাল্লী ডেভিড রাজু (খুলনা), কৈলাস চন্দ্র রবিদাস (নওগাঁ), এহতেশাম হক (সিলেট), সাইফুল্লাহ হায়দার (টাঙ্গাইল), মাহমুদা আলম মিতু (বরিশাল), মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান (চুয়াডাঙ্গা), জয়নাল আবেদীন শিশির (কুমিল্লা), আবদুল্লাহ আল মামুন ফয়সাল (ভোলা), আরিফুর রহমান তুহিন (ঝালকাঠি), মোহাম্মদ আতাউল্লাহসহ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) অনেকেই।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, আমরা চাইব, যেকোনোভাবেই হোক ৩০০ আসনেই যেন আমাদের একটা অবস্থান প্রকাশ করা যায়, যাতে এনসিপির নাম প্রত্যেক এলাকায় পৌঁছে যায়। তবে এনসিপি এখনো গণপরিষদ নির্বাচন চাইছে বলে জানান তিনি।
 

কিশোরগঞ্জ ঘিরে রয়েছে নানা ইতিহাস ঐতিহ্য। প্রাচীন ও আধুনিক স্থাপত্যের বিখ্যাত নানা দর্শনীয় স্থান রয়েছে এ জেলায়।

প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যের নাম কিশোরগঞ্জ পাগলা মসজিদ। পাগলা মসজিদের ইমরাত খুবই সুন্দর এবং নির্মাণশৈলীও বেশ চমৎকার। আধুনিক স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত পাগলা মসজিদটি ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থাপনা হিসেবে  পরিচিত। তবে দেশজুড়ে এর পরিচিতি অন্য কারণে।

পাগলা মসজিদ নাম শুনলেই বর্তমানে যেটি মাথায় আসে সেটি হলো মসজিদের দানবাক্স খুলেলই মেলে কোটি কোটি টাকা, বৈদেশিক মূদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার। এ মসজিদকে ঘিরে রয়েছে নানা জনশ্রুতি। দেশের মানুষের মাঝেও রয়েছে নানা কৌতুহল। কারা দেন এসব টাকা, কেন এই কোটি টাকার দান আর কি হয় দানের টাকায় ? 
 
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের হয়বত নগর এলাকার প্রতিষ্ঠাতা দেওয়ান হয়বত খানের অধীনস্ত তৃতীয় পুরুষ জুলকরণ খানের বিবি সাহেবা মূলত একদিন স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে দেওয়ানবাড়ির অদূরে নরসুন্দার তীরে এই পাগলা মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। এই তথ্য হয়বতনগর দেওয়ান বাড়ি থেকে পাওয়া। মসজিদের প্রতিষ্ঠাকালে এর ভূমির পরিমাণ ১০ শতাংশ থাকলেও, এখন তা সম্প্রসারিত হয়ে এর মোট ভুমির পরিমাণ প্রায় ৫ একরের উপরে রয়েছে। পাগলা মসজিদের সঠিক ইতিহাস কারো জানা নেই।

জনশ্রুতি রয়েছে, প্রায় আড়াইশ বছর আগে এক আধ্যাত্মিক পুরুষ খরস্রোতা নরসুন্দা নদীর পানিতে মাদুর পেতে ভেসে এসে বর্তমান মসজিদের কাছে থেমে ছিলেন। তখন নদীর পানিতে মাদুর পেতে তার ভেসে আসা দেখে, তাকে ঘিরে আশেপাশে অনেক ভক্তকূল সমবেত হন। এরপর সেই পাগলবেশী আধ্যাত্মিক পুরুষ এখানে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়সহ বিভিন্ন ইবাদত করতেন। ওই পাগলের মৃত্যুর পর তার সমাধির পাশে এই মসজিদটি গড়ে উঠে। যা কালক্রমে পাগলা মসজিদ ’নামে পরিচিত।
এই মসজিদটি শুধু ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে নয়, দেশের সবকটি জেলার সকল ধর্মের মানুষের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ধর্মীয় স্থান হিসেবেও বিবেচিত। এ মসজিদে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থা রয়েছে। নারীরা মসজিদের পৃথক স্থানে নামাজ আদায় করেন। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে প্রচুর লোক সমাগম হয়। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় সেদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বেশি আশায় দান খয়রাত ও বেশি হয়।

সকল ধর্মের মানুষ প্রতিনিয়ত মানতের নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, বৈদেশিক মুদ্রা, গরু-ছাগল, হাস-মুরগীসহ মানতের বিভিন্ন সামগ্রী দান করে থাকেন। তাই প্রতিমাসে শুধু দানের নগদ অর্থ আর বিভিন্ন দানসামগ্রী থেকেই এ মসজিদের আয় হয় কোটি টাকারও বেশি।
প্রতি তিন মাস পর পর খোলা হয় এই মসজিদের ১০টি লোহার দানসিন্ধুক। মসজিদের দানসিন্ধুকগুলো খুলতেই দেখা যায় শুধু টাকা আর টাকা। এসব টাকা বস্তায় ভরে নেয়া হয় ঐ মসজিদের দোতলায়। পরে, মসজিদের মেঝেতে বসে দিনব্যাপী টাকা গুনেন প্রায় দুইশতাধিক মাদ্রাসা ছাত্র-শিক্ষকসহ ৭০ জন ব্যাংক কর্মকর্তা।

গণনা শেষে মসজিদের ব্যাংক হিসাব নম্বরে টাকা জমা রাখতে সম্পূর্ণ পুলিশি নিরাপওায় দানের সব টাকা নিয়ে যাওয়া হয় ব্যাংকে। এছাড়াও মসাজিদে মানতের বিভিন্ন দানসামগ্রীগুলো প্রতিদিন আসরের নামাজের পর প্রকাশ্য নিলাম ডাকের মাধম্যে বিক্রয় করে প্রাপ্ত অর্থ পরদিন ব্যাংক আওয়ারে মসজিদের হিসাব নম্বরে জমা রাখা হয়। যা পরে প্রতিমাসে ব্যায় করা হয় কর্মচারীদের বেতন ভাতা ও মসজিদের বিভিন্ন রক্ষনাবেক্ষণের কাজে।

পাগলা মসজিদের টাকায় ২০০০ সালে মসজিদের পাশেই একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে এই মাদ্রাসায় ১৩০ জন এতিম শিশু পড়াশোনা করছে। মসজিদের টাকায় তাদের যাবতীয় ভরণপোষণ করা হয়ে থাকে।

মসজিদের ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা রাখা দানের টাকা থেকে আশা লভ্যাংশ ব্যয় করা হয়, দুস্থ ও দূরারোগ্য রোগীদের মাঝে। এছাড়া মসজিদের মূল তহবিলের টাকা এখন আর কোথাও ব্যয় করা হচ্ছেনা বলেই জানিয়েছেন মসজিদ কতৃপক্ষ। কারন মসজিদের দানের টাকায় আন্তর্জাতিক মানের একটি দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। যেটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যে অন্যতম স্থাপত্য হিসেবে নির্মিত হবে। এজন্য আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ থেকে ১২০ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক মানের এ কমপ্লেক্সটি নির্মিত হলে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। সেই সাথে ৫ হাজার নারীর নামাজ আদায়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থাসহ মুসুল্লিদের ২০০ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

প্রতি অর্থবছর ওয়াকফ স্টেটের অডিটর দ্বারা মসজিদের আয়-ব্যয়ের অডিট করা হয়। সবশেষ মসজিদের দানসিন্ধুক খুলে রের্কড পরিমান টাকা পাওয়া যায়। যা অন্যান্যবারের সকল রের্কড ভেঙ্গে তৈরি করেছে নতুন রের্কড। সর্বশেষ গেল বছরের ৩০ নভেম্বর গণনা শেষে ৮ কোটি ২১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৩০৪ টাকা পাওয়া যায়। যা ৩ মাস ১৩দিনে মসজিদের ১১টি দানসিন্ধুকে জমা পরেছিলো। যা অতীতের সব রের্কড ছাড়িয়েছে। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিন মাস পর মসজিদের দানসিন্ধুক খোলার কথা থাকলেও সিয়াম সাধনার মাস উপলক্ষ্যে খোলা হয়নি। বরং মসজিদের ১০ টি দানসিন্ধুকের সাথে আরও অস্থায়ী দানসিন্ধুক যোগ করে ঈদুল ফিতরের পর দানসিন্ধুক খোলা হতে পারে বলে জানিয়েছে মসজিদ কতৃপক্ষ। সেই সাথে তারা ধারণা করছে, পূর্বের সকল রের্কড ছাড়িয়ে এবার নতুন রের্কড তৈরি হবে।

দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত মসজিদটিকে ২০১৬ সালে পাগলা মসজিদ ইসলামি কমপ্লেক্সে নামকরণ করা হয়। মসজিদটি পরিচালনার জন্য ওয়াকফ প্রশাসন  অনুমোদনকৃত একটি কমিটি রয়েছে। এই কমিটিতে জেলা প্রশাসক সভাপতি এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সদস্য সচিব। এছাড়াও মসজিদের খতিবসহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা এই কমিটিতে মসজিদ পরিচালনার কাজে দায়িত্ব পালন করছেন।