0201251735807594appweb-logo.png
Loading...

রাজনীতি


এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী আসনকেন্দ্রিক তৎপরতা এখনো দৃশ্যমান না হলেও ঢাকা-১১ আসন থেকে তার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বাড্ডা, ভাটারা, রামপুরা, বনশ্রী এলাকা (ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২১, ২২, ২৩, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড) নিয়ে গঠিত এই আসনটি। নাহিদের বাড়ি ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রীতে।

ঢাকা-১৩ সংসদীয় আসনের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে সক্রিয় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হুসেইন। তাঁর উদ্যোগে তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত বিভিন্ন দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সমস্যা-সংকটের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। তারা এলাকার খাল ও মাঠ রক্ষায় মানববন্ধন করেছেন। ১৫ মার্চ আয়োজন করেছেন ইফতার মাহফিল। ঈদুল ফিতরের সময় জনসংযোগের আরও বিভিন্ন পরিকল্পনা আছে তার। তিনি ঢাকা-১৩ আসন (মোহাম্মদপুর–আদাবর এলাকা) থেকে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান। 

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই নিজ এলাকা নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বেশ সক্রিয় হন তিনি। এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা সমাধানেও তিনি কাজ করছেন। এখন ইউনিয়ন পর্যায়ে সমাবেশ করছেন। ঈদকে কেন্দ্র করে জনসংযোগ জোরদার হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি শতাধিক গাড়িবহর নিয়ে নিজের জেলায় নির্বাচনী প্রচারাভিযানে গিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলা নিয়ে গঠিত পঞ্চগড়-১ সংসদীয় আসন থেকে তিনি সংসদ নির্বাচন করতে চান। এখন নির্বাচনী আসনের বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক করছেন, মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। ঈদেও সারজিসের এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।


দেবীদ্বার উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৪ আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। গত কয়েক মাসে এলাকায় বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন হাসনাত। হাসনাত নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গেই ঈদ করবেন বলে জানা গেছে। 

দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-৪ আসনে প্রার্থী হতে পারেন। নির্বাচনী এলাকায় আখতারের যাতায়াত আছে। ঈদকেন্দ্রিক জনসংযোগেও দেখা যেতে পারে।

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গত ২৬ মার্চ নিজ এলাকা চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় এক ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে তিনি বলেন, তরুণদের চোখ এখন জাতীয় সংসদের দিকে। ৫ আগস্টের মতো ‘টেকনিক’ (কৌশল) ব্যবহার করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে তরুণদের বড় একটি অংশ বিজয়ী হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলা নিয়ে গঠিত চাঁদপুর-৫ আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী নাসীরুদ্দীন।

ভোলা সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। গত কয়েক মাসে ভোলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন তিনি।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা ঢাকা-১৭ আসনে (গুলশান-বনানী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকা) দলের প্রার্থী হতে পারেন।

ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান এনসিপির আরেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। এই আসনটি ঢাকার উত্তর সিটির ৭ থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ড ও সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। 

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার নরসিংদী থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী। গত কয়েক মাসে তিনি নরসিংদীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। নরসিংদী-২ আসনেকেন্দ্রিক তৎপরতা তার বেশি। ঈদের দিন তিনি নিজ এলাকায় শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছেন।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম দৌলতপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া-১ আসনে প্রার্থী হতে চান। সেই লক্ষ্যে এলাকার মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়াচ্ছেন তিনি। ঈদেও এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে দেখা যেতে পারে।

দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায় দিরাই ও শাল্লা উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। সেই লক্ষ্যে এলাকায় সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি রাখছেন নিয়মিত যোগাযোগ।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দীন মাহাদী সরাইল ও আশুগঞ্জ নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী। তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত মুফতি ফজলুল হক আমিনীর দৌহিত্র। মুফতি আমিনী ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। সেই আসন থেকে এনসিপির হয়ে নির্বাচন করতে চাইছেন তাঁর দৌহিত্র।

বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলা নিয়ে গঠিত সিরাজগঞ্জ-৫ আসন থেকে এনসিপির হয়ে নির্বাচন করতে চান মাহিন সরকার। এনসিপির এই যুগ্ম সদস্যসচিব নিজের এলাকায় ইফতারসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

বাঁশখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৬ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক। সেই লক্ষ্যে বাঁশখালীতে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন তিনি। ঈদেও বাঁশখালীর মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। 

মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-১ সংসদীয় আসনে এনসিপির প্রার্থী হতে চান এনসিপির উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক অলিক মৃ। তিনিও এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের আসনকেন্দ্রিক সংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন এনসিপির আরও অনেক নেতা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা আতিক মুজাহিদ (কুড়িগ্রাম), প্রীতম দাশ (মৌলভীবাজার), আবদুল্লাহ আল আমিন (নারায়ণগঞ্জ), হাসান আলী (চট্টগ্রাম), অর্পিতা শ্যামা দেব (সিলেট), মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন (পটুয়াখালী), ভীম্পাল্লী ডেভিড রাজু (খুলনা), কৈলাস চন্দ্র রবিদাস (নওগাঁ), এহতেশাম হক (সিলেট), সাইফুল্লাহ হায়দার (টাঙ্গাইল), মাহমুদা আলম মিতু (বরিশাল), মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান (চুয়াডাঙ্গা), জয়নাল আবেদীন শিশির (কুমিল্লা), আবদুল্লাহ আল মামুন ফয়সাল (ভোলা), আরিফুর রহমান তুহিন (ঝালকাঠি), মোহাম্মদ আতাউল্লাহসহ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) অনেকেই।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, আমরা চাইব, যেকোনোভাবেই হোক ৩০০ আসনেই যেন আমাদের একটা অবস্থান প্রকাশ করা যায়, যাতে এনসিপির নাম প্রত্যেক এলাকায় পৌঁছে যায়। তবে এনসিপি এখনো গণপরিষদ নির্বাচন চাইছে বলে জানান তিনি।
 


যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালনের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (২৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, স্বার্থান্বেষী মহল দেশকে আবার অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে এবং পতিত স্বৈরাচারকে ফিরে আনার অপতৎপরতা শুরু করেছে। এমন অবস্থায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ, সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। শান্তি-স্বস্তির নতুন বাংলাদেশ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।

জামায়াত আমির বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী জনতা দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায় বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তদানীন্তন শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার। ক্ষুধা-দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও দুঃশাসন মুক্ত একটি দেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বস্তরের জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীনতা লাভ করে।

স্বাধীনতার ৫৪ বছরে আজ দেশের মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি হিসাব করলে দেখা যায় বহু প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি।
তিনি বলেন, গত জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ আবার নতুন করে দ্বিতীয়বারের মত স্বাধীনতা অর্জন করেছে। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের জগদ্দল পাথরের ন্যায় চেপে বসা জালিমের হাত থেকে মুক্ত হয়ে দেশের মানুষ মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে পারছে। দেশের মানুষ কথা বলার অধিকার ফিরে পেয়েছে এবং শান্তিতে-স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারছে।

পতিত সরকারের দোসররা এবং দেশের কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তির সহায়তায় ছাত্র-জনতার এই গণআন্দোলনকে ব্যর্থ করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা মহান স্বাধীনতা দিবসে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করছি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ওই সমস্ত জনতাকে যাদের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করেছে। আমরা আরও স্মরণ করছি গত জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের সব শহীদদের এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের। আমরা সব শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
 


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনগণ আওয়ামী লীগের কবর রচনা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। বিচারকার্য শেষ করে দলটিকে ডেথ সার্টিফিকেট দেয়ারও দাবি জানিয়েছেন এই নেতা।

শুক্রবার (২১ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক বলেন আওয়ামী লীগের বিচার, শাস্তি ও নিষিদ্ধকরণ করতেই হবে। শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি বাংলাদেশের জনগণ বরদাস্ত করবে না। তাই অবিলম্বে অন্তর্বর্তী সরকারকে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এদিকে আজ সকালেও আরেক স্টেট্যাসে এই তরুণ রাজনীতিবিদ বলেন, আওয়ামী লীগকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসাবে গণ্য করার কোনো সুযোগ নাই। এটি একটি জলজ্যান্ত গণহত্যাকারী ফ্যাসিবাদী সংগঠন। ফ্যাসিবাদের বৈশিষ্ট এক ব্যক্তির পূজা, এক নেতার এক দেশ এক দল, সিস্টেম্যাটিক নিপীড়ন সহ সব কিছুই জনগণের কাছে প্রমাণিত এবং আদালতেও প্রমাণিত হবে।

তিনি আরও বলেন, এই সংগঠনের সহযোগী ও সুবিধাভোগী যাদের গায়ে রক্তের দাগ লেগে আছে তার মধ্যে অন্যতম জাতীয় পার্টি (হু মো এরশাদ/ জি এম কাদের)। আমি মনে করি আওয়ামী লীগের বিচার হলে জাতীয় পার্টি নামের লেজটির শাস্তি হওয়া উচিত।
 



আজকেও একটি চাপকে অস্বীকার করে আমি আবারও আপনাদের ওপরেই ভরসা রাখতে চাই। এ পোস্ট দেয়ার পর আমার কী হবে, আমি জানি না। নানামুখী প্রেশারে আমাকে হয়তো পড়তে হবে, হয়তো বিপদেও পড়তে হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে কোনো ধরণের আপস করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে দেয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত বলেন– কিছুদিন আগে আমি আপনাদের বলেছিলাম যে, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের। সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরিন শারমিন, তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।

আমিসহ আরও দুজনের কাছে ক্যান্টনমেন্ট থেকে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় ১১ মার্চ দুপুর আড়াইটায়। আমাদের প্রস্তাব দেয়া হয়, আসন সমঝতার বিনিময়ে আমরা যেন এ প্রস্তাব মেনে নিই। আমাদের বলা হয়, এরইমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এ প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তারা শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে। একটি বিরোধী দল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধী দল থাকা নাকি ভালো। ফলশ্রুতিতে আপনারা দেখবেন, গত দুইদিন গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগের পক্ষে একাধিক রাজনীতিবিদ বয়ান দেয়া শুরু করেছেন।

পোস্টে তিনি বলেন– আমাদের আরও বলা হয়, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ যাদের দিয়ে করা হবে, তারা এপ্রিল-মে থেকে শেখ পরিবারের অপরাধ স্বীকার করবে, হাসিনাকে অস্বীকার করবে এবং তারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করবে, এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হবে।

আমাদের এ প্রস্তাব দেয়া হলে আমরা তাৎক্ষণিক এর বিরোধিতা করি এবং আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে কাজ করার কথা জানাই। উত্তরে আমাদের বলা হয়, আওয়ামী লীগকে ফিরতে কোনো ধরনের বাধা দিলে দেশে যে সংকট সৃষ্টি হবে, তার দায়ভার আমাদের নিতে হবে এবং ‘আওয়ামী লীগ মাস্ট কামব্যাক’।

হাসনাত তার পোস্টে লেখেন, আলোচনার এক পর্যায় বলি– যে দল এখনও ক্ষমা চায়নি, অপরাধ স্বীকার করেনি, সে দলকে আপনারা কীভাবে ক্ষমা করে দেবেন! অপরপক্ষ থেকে রেগে গিয়ে উত্তর আসে, ‘ইউ পিপল নো নাথিং। ইউ ল্যাক উইজডোম অ্যান্ড এক্সপিরিয়েন্স। উই আর ইন দিজ সার্ভিস ফর এটলিস্ট ফোর্টি ইয়ার্স। তোমার বয়সের থেকে বেশি। তাছাড়া, আওয়ামী লীগ ছাড়া ইনক্লুসিভ (অন্তর্ভুক্তিমূলক) নির্বাচন হবে না।

তিনি আরও লেখেন– এর উত্তরে বলি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ইনক্লুসিভিটি হতে পারে না। আওয়ামী লীগকে ফেরাতে হলে আমাদের লাশের ওপর দিয়ে ফেরাতে হবে। আওয়ামী লীগ ফেরানোর চেষ্টা হলে যে সংকট তৈরি হবে, তার দায়ভার আপনাদের নিতে হবে। পরে মিটিং অসমাপ্ত রেখেই আমাদের চলে আসতে হয়।

হাসনাত লেখেন, জুলাই আন্দোলনের সময়ও আমাদের দিয়ে অনেক কিছু করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কখনও এজেন্সি কখনওবা ক্যান্টনমেন্ট থেকে নানা ধরনের প্রেসক্রিপশন গ্রহণ করতে চাপ দেয়া হয়েছে। আমরা ওসব চাপে নতি স্বীকার না করে আপনাদের তথা জনগণের ওপর আস্থা রেখেছি। আপনাদের সঙ্গে নিয়েই হাসিনার চূড়ান্ত পতন ঘটিয়েছি।

আজকেও ক্যান্টনমেন্টের চাপকে অস্বীকার করে আমি আবারও আপনাদের ওপরেই ভরসা রাখতে চাই। এ পোস্ট দেয়ার পর আমার কী হবে, আমি জানি না। নানামুখী প্রেশারে আমাকে হয়তো পড়তে হবে, হয়তো বিপদেও পড়তে হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করার সুযোগ নেই।

তিনি আরও লেখেন, জুলাইয়ের দিনগুলোতে জনগণের স্রোতে ক্যান্টনমেন্ট আর এজেন্সির সব প্রেসক্রিপশন আমরা উড়িয়ে দিয়েছিলাম। আজ আবারও যদি আপনাদের সমর্থন পাই, রাজপথে আপনাদের পাশে পাই, তবে আবারও এই আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের ভারতীয় ষড়যন্ত্রও আমরা উড়িয়ে দিতে পারব।

আসুন, সব যদি কিন্তু পাশে রেখে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারলে জুলাই ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত আমাদের শহীদদের রক্ত আমরা বৃথা হতে দেব না। ৫ আগস্টের পরের বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কামব্যাকের আর কোনো সুযোগ নেই বরং আওয়ামী লীগকে অবশ্যই নিষিদ্ধ হতেই হবে।
 


বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক হুমায়ুন কবির সাব্বির হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে ২১ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ঢাকার রমনা থানার করা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৮ জনকে বেকসুর খালাসের আদেশ দিয়েছেন আদালত।  

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মো. আবু তাহেরের আদালত এ রায় দেন।খালাসপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন— তারেক রহমানের এপিএস মিয়া নুর উদ্দিন অপু, কাজী সালিমুল হক কামাল, আহমেদ আকবর সোবহান, সাফিয়াত সোবহান, সাদাত সোবহান ও আবু সুফিয়ান। 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৬ সালের ৪ জুলাই বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক সাব্বির খুনের অভিযোগে একটি হত্যা মামলা হয়।

ওই হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে ২১ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ২০০৭ সালের ৪ অক্টোবর দুদকের উপ-পরিচালক আবুল কাসেম রাজধানীর রমনা থানায় একটি দুর্নীতির মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়। 

মামলাটি তদন্ত করে ২০০৮ সালের ২৩ এপ্রিল তারেক রহমানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। একই বছরের ১৪ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ ঢাকার বিশেষ জজ-৩ এর তৎকালীন বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন।


সংবিধান, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সংস্কার সুপারিশের ওপর লিখিত মতামত জমা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের কাছে এসব সুপারিশমালা জমা দেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।

এ সময় অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে ছিলেন সংগঠনটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।

 অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজের কাছে জামায়াত নেতারা সংবিধান, নির্বাচন, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ পাঁচটি বিষয়ের ওপর প্রস্তাবনা পেশ করেন।

উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছে। আমিরে জামায়াতসহ নেতারা প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে দ্রুত একটি অর্থবহ নির্বাচন দেওয়ার জন্য বারবার বলে আসছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়ের ব্যাপারে একটি ধারণা জাতির সামনে পেশ করা হয়েছে। আমরা তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করিনি।

তিনি আরো বলেন, কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা একমত হতে পারিনি, আবার অনেক বিষয়েই একমত হয়েছি। আমরা ব্যাখ্যাসহ আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছি। আমরা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছি।

আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই সংস্কার সম্পন্ন করে একটি অর্থবহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার কাজ শুরু করবে।
 



মাগুরায় নির্যাতনের শিকার হয়ে পরবর্তী সময়ে মারা যাওয়া সেই শিশুটির পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

রবিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ কথা জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘মাগুরার শিশু আছিয়ার পরিবার নিতান্তই একটি অসহায় পরিবার। তার পিতা একজন মানসিক রোগী। এ পরিবারে অন্য কোনো পুরুষ সদস্য নেই। মানবিক কারণে এই পরিবারের দায়িত্ব মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ইনশাআল্লাহ নিচ্ছে।’

ডা. শফিকুর রহমান আরও লেখেন, ‘ইতোমধ্যে বিষয়টি মজলুম এই পরিবারের সদস্যদের অবহিত করা হয়েছে। সবার কাছে দোয়ার আবেদন, আল্লাহ তাআলা যেন সঠিকভাবে এ দায়িত্ব পালনে আমাদের তাওফিক দান করেন। আমিন।’

এর আগে, গতকাল শনিবার মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে আছিয়ার বাড়িতে যান জামায়াত আমির। তার সঙ্গে ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির এম এ বাকেরসহ দলের নেতাকর্মীরা।
 


যুক্তরাজ্যের উত্তর লন্ডনের কিংস্টনে বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় পুত্রবধূ ও নাতনিদের যত্নে ভালো আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বিএনপি প্রধান লন্ডনের বিশেষায়িত হাসপাতাল ‘দ্য লন্ডন ক্লিনিকে’-এর লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডির তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। নিয়ম করে চিকিৎসকরা বাসায় গিয়ে সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে দেখে আসছেন। চিকিৎসকরা যেদিন তাকে দেশে ফেরার পরামর্শ দেবেন তারপরই দেশে আসবেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদুল ফিতরের পর দেশে ফিরতে পারেন খালেদা জিয়া।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঈদুল ফিতরের পর দেশে ফিরতে পারেন। তবে দেশে ফেরার তারিখ সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। লন্ডনে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পূর্ণ বিশ্রামে আছেন। ছেলে তারেক রহমানের কিংস্টনের বাড়ির নিচতলাতেই থাকছেন তিনি। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। হাসপাতাল থেকে ফেরার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘরে সময় কাটছেন তাঁর।

বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসক ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, লন্ডনে অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডিসহ মার্কিন চিকিৎসকরাও ম্যাডামের দৃঢ় মনোবলের প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশের ডাক্তারদের দেওয়া চিকিৎসারও সুনাম করেছেন। লন্ডনে পারিবারিক পরিবেশে সন্তান, দুই পুত্রবধূ ও নাতনিদের কাছে পেয়ে মানসিকভাবে ভালো থাকায় তার শারীরিক অবস্থাও ভালো আছে, স্থিতিশীল আছে। মাঝেমধ্যে যেসব পরীক্ষানিরীক্ষা দেওয়া হয় সেগুলো করানো হচ্ছে। ডাক্তাররা তাঁকে বাসায় গিয়ে দেখছেন। বাসায় পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান, সৈয়দা শর্মিলা রহমান ও তিন নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান তাদের দাদির যত্ন নিচ্ছেন। ফলে মানসিকভাবে তিনি আগের চেয়ে ভালো আছেন। সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে জানান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

লন্ডনে যাওয়ার পর সরাসরি বিমানবন্দর থেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় ঘরে স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর ফুরসত মেলেনি খালেদা জিয়ার। পুত্র, পুত্রবধূ, নাতনিরা হাসপাতালে তাঁকে সময় দিতেন। ঘরে ফেরার পর সময় কাটছে পারিবারিক আবহে। খাচ্ছেন ঘরের তৈরি খাবার। তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান সার্বক্ষণিক তাঁর দেখভাল করছেন। আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান শিথিও থাকছেন কাছাকাছি। তিনিও শাশুড়ির দেখভাল করছেন। তিন নাতনিকে কাছে পেয়ে অনেকটা নির্ভার খালেদা জিয়া। মানসিকভাবেও আছেন উজ্জীবিত। সূত্রটি জানায়, কোনো শারীরিক পরীক্ষার প্রয়োজনে আবার তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হতে পারে।

সূত্র জানায়, দেশের মতো নিয়মিত ওষুধের মাধ্যমেই তার লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিস, প্রেশার, আর্থরাইটিস ও হার্টের চিকিৎসা চলছে। খালেদা জিয়ার বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় আপাতত তাঁর লিভার প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা নেই।
 


একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের লাইভ অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমকে গালি দেওয়ার ঘটনায় সংবাদ উপস্থাপিকাসহ তিনজনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে মর্মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে। 

এবার সেই সংবাদ উপস্থাপিকার চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার অহ্বান জানিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজেই।গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে হাসনাত লেখেন, ‘এখন’ টিভির সাংবাদিকদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা এই দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্যই আন্দোলন করেছিলাম। আমরা এই গালির স্বাধীনতার জন্যই আন্দোলন করেছিলাম। শুধু মতপ্রকাশ নয়, দ্বিমত প্রকাশও অব্যাহত থাকুক।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা যাওয়া শিশুটির জানাজায় অংশ নিতে মাগুরায় যান হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম। এসময় টেলিভিশনটির লাইভ প্রচারণায় হাসনাত ও সারজিসকে নিয়ে দুই উপস্থাপকের মধ্যে কথা বলার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে ওই নারী উপস্থাপিকা হাসনাত ও সারজিসকে গালি দেন। পরে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করে বলে খবর ছড়ায়।


বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হয়েছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াসিন।

বুধবার বিএনপির দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি বিষয়টি জানানো হয়। 

হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াসিন পূর্বে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক ছিলেন। এছাড়াও তিনি কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন।


অর্থপাচারের অভিযোগে মানি লন্ডারিং আইনে করা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন খালাস পেয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত মঙ্গলবার (৪ মার্চ) আপিলের ওপর শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ রায়ের জন্য ৬ মার্চ ঠিক করে আদেশ দেন।

২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়। ২০১০ সালের ৬ জুলাই তাদের দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর বিচার শুরু হয় ২০১১ সালের ৬ জুলাই।

ঘুষ হিসেবে আদায়ের পর ২০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে করা এ মামলার রায়ে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ মো. মোতাহার হোসেন ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর তারেককে বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন। আর গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে সাত বছর কারাদণ্ড এবং ৪০ কোটি টাকার অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর তারেকের খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন করে দুদক। শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি দুদকের আপিল গ্রহণ করে তারেককে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

২০১৬ সালের ২১ জুলাই বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২০ কোটি টাকার অর্থদণ্ড দেয়। সেই সঙ্গে গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সাত বছরের কারাদণ্ডও বহাল রাখা হয়। তবে তাকে বিচারিক আদালতের দেয়া ৪০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড পরিবর্তন করে ২০ কোটি টাকা করা হয়।

এদিকে পাঁচ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আইনি পদক্ষেপ নেন তারেক রহমানের আইনজীবীরা। গিয়াস উদ্দিন আল মামুনও খালাস চেয়ে আপিলের অনুমতি চান। শুনানি শেষে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর তারেক রহমান ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের সাজা ও জরিমানা স্থগিত করে আপিলের অনুমতি দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও আওয়ামী লীগ আমলে তার বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪০টি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন।


নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটিতে যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক এর দায়িত্ব পেয়েছেন কুমিল্লার কৃতি সন্তান নাভিদ নওরোজ শাহ্।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং তরুণ বিপ্লবীদের প্ল্যাটফর্ম জাতীয় নাগরিক কমিটির সম্মিলিত উদ্যোগে সময়ের প্রয়োজনে গঠিত হলো নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি। আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম কে আহ্বায়ক এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী পরীক্ষিত নেতা আখতার হোসেন কে সদস্য সচিব করে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে আছেন নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী এবং অন্যান্যদের সাথে যুগ্ন মুখ্য সমন্বয়ক এর দায়িত্ব পেয়েছেন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ফ্রন্টের অন্যতম নেতা নাভিদ নওরোজ শাহ্।

নাভিদ বিগত এক যুগ ধরেই বিভিন্ন অধিকার আন্দোলন এবং সামাজিক কার্যক্রমের সাথে জড়িত। প্রতিবন্ধী মানুষের সংগঠন বি-স্ক্যান এর লিগ্যাল অ্যাডভাইজার তিনি। টিপাইমুখ বাঁধ আন্দোলন সহ পরিবেশ রক্ষায় জাতীয় আন্দোলন এবং নারী অধিকার রক্ষায় তিনি সোচ্চার ছিলেন। দেশে ও বিদেশে মানবাধিকার আইন নিয়ে বেশ কয়েকটি স্ট্রীট ল’ প্রজেক্টে তিনি অংশ নিয়েছেন। তিনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ল’ সোসাইটি এবং ল’ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশান এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে আইন ও অধিকার নিয়ে কাজ করছেন বহু বছর। কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের সংগঠনের সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সেক্রেটারি হিসেবে মেডিকেল ক্যাম্প, জাকাত ক্যাম্পেইন আয়োজন করেছেন। বর্তমানে তরুণ উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) এর ঢাকা আপটাউন চ্যাপ্টারের সহ সভাপতি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন সামাজিক ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র হিসেবে ২০১৫ সালের নো ভ্যাট অন এডুকেশন আন্দোলন, ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মূলধারায় সম্পৃক্ত হয়ে জাতির প্রয়োজনে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করেন।

১৭ জুলাই নাভিদ ও তার সহযোদ্ধারা বেআইনিভাবে গ্রেফতারকৃত আন্দোলনকারীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেবার ঘোষণা দেন। ১৯ জুলাই তিনি ঢাকা ব্লকেড আন্দোলনকারীদের গণভবন অভিমুখে মার্চ করার একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়ে বিপুল সাড়া পান কিন্তু তার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই সারা দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়া হয়।

২০ জুলাই নাভিদ ও তার সহযোদ্ধাদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে টিয়ারশেল বর্ষণ হলে তারা সিদ্ধান্ত নেন সরকারের বিরুদ্ধে আইনী লড়াইয়ে যাবেন। পরবর্তীতে তারা সিনিয়র আইনজীবি সারা হোসেন, অনীক আর হক, মানজুর আল মতিন, রাশনা ইমাম, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সহ অন্যান্যদের অনুরোধ করে একত্রিত করেন এবং ফলশ্রুতিতে সুপ্রিম কোর্টে আন্দোলনের পক্ষে কার্যক্রম শুরু হয়। এই উদ্যোগ থেকেই জাতীয় গণতদন্ত কমিশনের সূত্রপাত এবং নাভিদ সেখানে ডকুমেন্টেশনের দায়িত্ব পান। ইতিমধ্যে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবি সংগঠন কে জাগিয়ে তোলেন এবং আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি আদায় করে সরকারের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কারফিউ অমান্য করে তিনি ও তার সহযোদ্ধারা আন্দোলনের সমন্বয়কবৃন্দ, পত্রিকা ও টেলিভিশন অফিস, এবং সুশীল সমাজের নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করেন। অবশেষে আসে ৫ অগাস্টের সেই কাঙ্ক্ষিত সকাল যেদিন তারা প্রাণ হাতে নিয়ে বের হয়ে পরেন গণভবন অভিমুখে।

নাভিদ নওরোজের এসএসসি ও এইচএসসি কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে। দুটো পরীক্ষাতেই তিনি কুমিল্লা বোর্ডে মেধাতালিকায় স্থান পেয়েছিলেন। পরে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক শেষ করে তিনি মানবাধিকার আইন নিয়ে পড়তে চলে যান যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ে। দেশে ফিরে এসে উদ্যোক্তা ও অধিকারকর্মী হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। তার বাবা ড. শাহ্ মো: সেলিম কুমিল্লা জেলা বিএনপির কিংবদন্তী নেতা এবং বাংলাদেশের বেসরকারী মেডিক্যাল শিক্ষায় একজন অগ্রদূত। তার মাতা ড. জেবুন নাহার লিলি ছাত্রদলের সংগ্রামী নেত্রী ছিলেন এবং পেশায় শিক্ষক হয়ে নারী অধিকার নিয়ে কুমিল্লায় গবেষণা ও আন্দোলন করছেন |


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ২১৭ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি (আংশিক) অনুমোদিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (১ মার্চ) মধ্যরাতে দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জনগণ মুক্ত হয়েছে। তবে শহীদ মিনারে ঘোষিত অভ্যুত্থানের এক দফা তথা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। একটি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে এই জনপদের মানুষ ইতিহাসের নানান সময়ে নিজেদের হাজির করেছে। প্রায় ২০০ বছরের উপনিবেশবিরোধী লড়াইয়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র অর্জিত হয়। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্র এই জনপদের মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, মুক্তির আকাঙ্ক্ষা থেকে এই জনপদের মানুষ ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালে প্রণীত মুজিববাদী সংবিধানের মধ্য দিয়ে নির্মিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দেয়। ফলে এ দেশের নাগরিকরা ইতিহাসের বিভিন্ন পরিক্রমায় বাকশাল, স্বৈরতন্ত্র এবং সর্বশেষ ফ্যাসিবাদের শিকার হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো থেকে ফ্যাসিবাদের সকল উপাদান ও কাঠামোকে বিলোপ এবং জনগণের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। এজন্য একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাস্তবায়নে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেছি।

কমিটি প্রসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই আহ্বায়ক কমিটি (আংশিক) আগামী ১ বছরের মধ্যে এই রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র ও ইশতেহার প্রণয়ন, কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সাংগঠনিক বিস্তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

কমিটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, মাহবুব আলম, সারোয়ার তুষার, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, তাজনূভা জাবীন, সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, ড. আতিক মুজাহিদ, আশরাফ উদ্দীন মাহাদী, অর্পিতা শ্যামা দেব, তানজিল মাহমুদ, অনিক রায়, খালেদ সাইফুল্লাহ, জাবেদ রাসিন, এহতেশাম হক ও হাসান আলী।

সদস্যসচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা ও নাহিদা সারওয়ার নিভা, যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন, আরিফ সোহেল, মো. রশিদুল ইসলাম (রিফাত রশিদ), মো. মাহিন সরকার, মো. নিজাম উদ্দিন, আকরাম হুসেইন, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, সালেহ উদ্দিন সিফাত (দপ্তর), আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, ফরিদুল হক, মো: ফারহাদ আলম ভূঁইয়া, মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া, লুৎফর রহমান, মো. মঈনুল ইসলাম (তুহিন), মুশফিক উস সালেহীন, ডা. জাহেদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম মুসা, অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর, মোশফিকুর রহমান জোহান, মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান, সাগুফতা বুশরা মিশমা, আফসানা ছপা, আহনাফ সাইদ খান, আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন, মীর আরশাদুল হক, ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, তারেকুল ইসলাম (তারেক রেজা), মশিউর রহমান, জয়নাল আবেদীন শিশির, গাজী সালাউদ্দীন তানভীর, তামিম আহমেদ, তাহসীন রিয়াজ ও প্রীতম দাশ।

এছাড়াও কমিটিতে রয়েছেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম (উত্তরাঞ্চল), যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার, আলী নাছের খান, সাকিব মাহদী, মেজর (অব.) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সাদিয়া ফারজানা দিনা, অলিক মৃ, আসাদুল্লাহ আল গালিব, হানিফ খান সজীব, আবু সাঈদ লিয়ন।

সংগঠক হিসেবে রয়েছেন, রাসেল আহমেদ, ইমরান ইমন, ফরহাদ সোহেল, রফিকুল ইসলাম আইনী, মোস্তাক আহমেদ শিশির, আজাদ খান ভাসানী, প্রীতম সোহাগ, দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী, এম এম শোয়াইব, নাহিদ উদ্দিন তারেক, আব্দুল্লাহ আল মনসুর, মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, অ্যাডভোকেট শিরীন আক্তার শেলী, আবুল বাশার, আব্দুল্লাহ আল মুহিম, নাজমুল হাসান সোহাগ, খায়রুল কবির ও সাঈদ উজ্জ্বল।

মুখ্য সংগঠক পদে হাসনাত আবদুল্লাহ (দক্ষিণাঞ্চল), যুগ্ম মুখ্য সংগঠক পদে মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, মোল্যা রহমাতুল্লাহ্, এস এম শাহরিয়ার, মেজবাহ কামাল মুন্না, জোবাইরুল হাসান আরিফ ও ইমন সৈয়দ রয়েছেন।

সংগঠক পদে রয়েছেন, আকরাম হোসাইন রাজ, হামযা ইবনে মাহবুব, ওয়াহিদুজ্জামান, আসাদ বিন রনি, মোহাম্মাদ রাকিব, আরমান হোসাইন, মো. রাসেল আহমেদ, অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা, শওকত আলী, ডা. আশরাফুল ইসলাম  সুমন, মুনতাসির মাহমুদ, ডা. মিনহাজুল আবেদীন, সাকিব শাহরিয়ার, আজিজুর রহমান রিজভী, আব্দুর রহমান, ফয়সাল আহমেদ, নয়ন আহমেদ, কাউছার হাবিব, আব্দুল্লাহ আল মামুন ফয়সাল, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান, মাও. সানাউল্লাহ খান, আরিফুল ইসলাম, নফিউল ইসলাম ও মো. রাকিব হোসেন।

মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম (যুব), ডা. মো. আব্দুল আহাদ (চিকিৎসা), মাজহারুল ইসলাম ফকির (শ্রমিক), দিলশানা পারুল, আবু হানিফ, আব্দুজ জাহের, কৃষিবিদ গোলাম মোর্তজা সেলিম, মেহেরাব সিফাত, অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ, আশেকীন আলম, ডা. জাহিদুল বারী, কৈলাশ চন্দ্র রবিদাস, ভীম্পাল্লী ডেভিড রাজু,  শেখ মোহাম্মদ শাহ মঈনুদ্দিন, খান মুহাম্মদ মুরসালীন, সাদ্দাম হোসেন, আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, নাভিদ নওরোজ শাহ, তুহিন মাহমুদ, মো. আরিফুর রহমান (তুহিন), সাগর বড়ুয়া, রাফিদ এম ভূঁইয়া ও মাহবুব আলম।

সদস্য হিসেবে রয়েছেন, সানজিদা খান দীপ্তি (নিহত আনাসের মা), খোকন চন্দ্র বর্মন (আহত), মো. ফাহিম রহমান খান পাঠান, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের (সন্দ্বীপ), ঋআজ মোরশেদ, ইমরান নাঈম, মশিউর আমিন শুভ, আল আমিন শুভ, প্লাবন তারিক, ওমর ফারুক, আসাদুল ইসলাম মুকুল, ফিহাদুর রহমান দিবস, মো. তৌহিদ আহমেদ আশিক, মো. আব্দুল মুনঈম, রকিব মাসুদ ইনজামুল হক রামিম, সৈয়দা নীলিমা দোলা, এস আই শাহীন, আসাদুজ্জামান হৃদয়, তানহা শান্তা, ডা. মশিউর রহমান, ইমরান শাহরিয়ার, এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, আব্দুল্লাহিল মামুন নিলয়, আজাদ আহমেদ পাটওয়ারী, জাহিদুল ইসলাম সৈকত, আরজু নায়েম, ডা. মনিরুজ্জামান, তাওহিদ তানজিম, মোহাম্মদ উসামা, মাহবুব-ই-খোদা, তারিক আদনান মুন, নাহিদা বুশরা, তৌহিদ হোসেন মজুমদার, মারজুক আহমেদ, নীলা আফরোজ, নূরতাজ আরা ঐশী, সাইয়েদ জামিল, শেখ খায়রুল কবির আহমেদ, রফিকুল ইসলাম কনক, মীর হাবীব আল মানজুর, মো. ইমরান হোসেন, মো. আরিফুল দাড়িয়া, মো. ইনজামুল হক, আবু সাঈদ মুসা, ডা. আতাউর রহমান রাজিব, সালমান জাভেদ, ইমামুর রশিদ, সাইফুল ইসলাম, ডা. সাবরিনা মনসুর, অ্যাডভোকেট মো. মনিরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট ছেফায়েত উল্লাহ, আহমেদুর রহমান তনু, দিদার শাহ, রাদিথ বিন জামান, ফারিবা হায়দার, সাইফুল ইসলাম, ইয়াহিয়া জিসান, সোহেল রানা, রিদওয়ান হাসান, হাসিব আর রহমান, ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ, জাওয়াদুল করিম, আল আমিন টুটুল, ইসমাইল হোসেন সিরাজি, ইফতেখারুল ইসলাম, হাফসা জাহান, জায়েদ বিন নাসের, মামুন তুষার, ওমর ফারুক, সালাহউদ্দিন জামিল সৌরভ, মো. হিফজুর রহমান বকুল, আসিফ মোস্তফা জামাল, জোবায়ের আলম, মেজর (অব.) মো. সালাউদ্দিন ও খালেদ সাইফুল্লাহ জুয়েল।

 


অবশেষে আত্মপ্রকাশ করেছে ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া দলটির নেতারা ঘোষণা করেছেন, তারা অন্য কোনো দেশ নয়, তারা হবেন বাংলাদেশপন্থি।

তাদের লক্ষ্য ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ তথা দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। আর তা পূরণে নতুন সংবিধান প্রণয়নে সংসদের আগে গণপরিষদ নির্বাচন চান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নায়করা। 

শেখ হাসিনার পতন ঘটানো গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের উদ্যোগে গঠিত এনসিপির ঘোষণাপত্রে এসব লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বড় জমায়েতের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেছে ইতিহাসের মেরূকরণ পাল্টে দেওয়া দলটি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগকে সার্থক ঘোষণা দিয়ে তারা বলেছেন, ভারতপন্থি, পাকিস্তানপন্থি রাজনীতির ঠাঁই বাংলাদেশে হবে না। 

সাতচল্লিশ, বায়ান্ন, একাত্তর এবং চব্বিশকে ধারণ করা বাংলাদেশপন্থি রাজনৈতিক শক্তির ঐক্য চেয়ে সংসদের আগে গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে এনসিপি। দলটি সরকারের আনুকূল্যে তথা ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে গঠিত হচ্ছে বলে সমালোচকরা বললেও, তা নাকচ করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ ছেড়ে আসা নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বাধীন দলটির নেতারা। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টাসহ সরকারের উপদেষ্টাদের আমন্ত্রণ করা হলেও তাদের কেউ আসেননি। 

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এনসিপি নেতারা বলেন, গণপরিষদে নতুন সংবিধান রচিত হবে। যার মাধ্যমে গড়ে উঠবে কাঙ্ক্ষিত প্রজাতন্ত্র। যেখানে সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত হবে। পরিবারতন্ত্র নয়, মেধা ও যোগ্যতায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। বাংলাদেশের ক্ষমতায় কে যাবে, তা ভারত নির্ধারণ করবে না। 

ভারতীয় ‘আধিপত্যবাদের’ বিরোধিতা করা এনসিপির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান স্লোগান ছিল– ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’। মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান ‘তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ উচ্চারিত হয়েছে এর পরেই। আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভাবনীয় পতন ঘটানো গণঅভ্যুত্থানের স্লোগান– ‘ক্ষমতা না জনতা, জনতা জনতা’; ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’; ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’ স্লোগানও দেওয়া হয় আত্মপ্রকাশ মঞ্চ থেকে। 

জমকালো মঞ্চ, বড় উপস্থিতি
মানিক মিয়া অ্যাভিনিয়ে মূল সড়কে তৈরি করা হয় মঞ্চ। এতে গতকাল সকাল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পূর্বমুখী মঞ্চের সামনে শহীদ পরিবার ও আহত, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বিশিষ্ট নাগরিক এবং কূটনীতিকদের আসন ছিল।

মঞ্চের সামনের চেয়ার ফাঁকা থাকলেও আসাদ গেট থেকে খেজুর বাগান পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের সর্বত্রই ছিল ছোট ছোট জমায়েত, জটলা। এনসিপি নেতারা দাবি করেছেন, লাখো মানুষের জমায়েত হয়েছে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে। অন্যান্য রাজনৈতিক সমাবেশের সঙ্গে তুলনায় এনসিপি জমায়েতে নারীর অংশগ্রহণ ছিল বেশি। বিপুল সংখ্যক তরুণী, কিশোরী আসেন সমাবেশে। সপরিবার ও শিশুসন্তানদের নিয়ে সমাবেশে আসতে দেখা গেছে অনেককে।

ঢাকার বাইরে থেকে হাজারো বাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির (জানাক) নেতাকর্মী আসেন দলের আত্মপ্রকাশ সমাবেশে। গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের দুই প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগেই গঠিত হয়েছে এনসিপি। গত বুধবার আত্মপ্রকাশ করা গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি না করার ঘোষণা দিলেও এনসিপির আত্মপ্রকাশে উপস্থিতি ছিলেন শিক্ষার্থীদের এই সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

বিকেল ৩টায় আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও শুক্রবার সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আসতে শুরু করেন। সড়কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অবস্থান নেন। মঞ্চের সামনে জুমার নামাজে অংশ নেন তারা। 

জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। জুমার নামাজের পর থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। বিকেল ৩টার দিকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসেন নেতাকর্মীরা। আগতদের প্রায় সবাই ছিলেন তরুণ-তরুণী। বয়স্ক মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে হাতেগোনা। কয়েকটি মিছিল ঘোড়ার গাড়ি, বাদ্যযন্ত্র নিয়ে আসে। লোকসমাগমে এনসিপি সরকারি আনুকূল্য পেয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পিরোজপুর থেকে পাঁচটি বাস জেলা প্রশাসক রিকুউজিশন করে দেন অনুষ্ঠানে আগতদের।

বিকেল সোয়া ৪টায় পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে শুরু হয় আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান। এর পর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এর পর জুলাই শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক তরিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের মা-বাবা এবং পরিবারের সদস্যরা। নতুন দলের নাম, আহ্বায়ক পদে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব পদে আখতার হোসেনের নাম ঘোষণা করেন ৫ আগস্ট শহীদ ইসমাইল হোসেন রাব্বির বোন মিম আক্তার। তিনি সেদিন ভাইয়ের লাশ কাঁধে নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন শেখ হাসিনার পতনে।

পরে আংশিক কমিটির নাম ঘোষণা করেন আখতার হোসেন। সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদিব যুগ্ম আহ্বায়ক, ডা. তাসনিম জারা ও নাহিদা সারওয়ার নিভা জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব, হাসনাত আবদুল্লাহ মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল), সারজিস আলম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল), মুহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মুখ্য সমন্বয়কারী এবং আবদুল হান্নান মাসউদ জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পেয়েছেন। পরে অন্য যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্য সচিব, সংগঠক, সমন্বয়কারীসহ ১৫১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নতুন দলের নেতারা যা বললেন
সব শেষে বক্তৃতা করেন ৩ আগস্ট শহীদ মিনার থেকে শেখ হাসিনার পতনের ঐতিহাসিক এক দফার ঘোষক নাহিদ ইসলাম। উত্তাল জুলাইয়ের মতো মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভারত ও পাকিস্তানপন্থি রাজনীতির ঠাঁই হবে না। আমরা বাংলাদেশকে সামনে রেখে, জনগণের স্বার্থ সামনে রেখে রাষ্ট্র বিনির্মাণ করব। আগামীর কথা বলতে চাই। পেছনের ইতিহাস অতিক্রম করে সম্ভাবনার বাংলাদেশের কথা বলতে চাই।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘তুমি কে, আমি কে, বিকল্প, বিকল্প’ স্লোগানটি তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিকল্পের জায়গা থেকে এই নতুন দলের আত্মপ্রকাশ। আজকের মঞ্চ থেকে শপথ– বাংলাদেশকে বিভাজিত করা যাবে না।

এর পর দলের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের সূচনা বলে উল্লেখ করেন। গণতান্ত্রিক নতুন সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সব আশঙ্কার অবসান ঘটানোর আহ্বান করা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন আমাদের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষ্য। আমাদের দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ভেঙে পড়া রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় গড়ে তোলা ও তাদের গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষা করা হবে আমাদের রাজনীতির অগ্রাধিকার। এর মধ্য দিয়েই কেবল আমরা একটি পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারব।

নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে জুলাই গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের বিচার সম্ভব হবে জানিয়ে আখতার হোসেন বলেন, একটি নতুন সংবিধানের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। স্বপ্ন বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি জানান তিনি।

সামান্তা শারমিন বলেন, বাংলাদেশে গত ৫৩ বছরে একটি ‘বাইনারি’ ছিল। হয় একে, নয় ওকে বেছে নিতে হবে। দেশের মানুষ দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ চায়।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ৫ আগস্ট দুঃশাসনের কবর রচনা করেছি। সংসদে কে যাবে, তা নির্ধারণ করবে জনতা। ক্ষমতার মসনদে কে বসবে, তা নির্ধারণ করবে এই ভূখণ্ডের মানুষ। বাংলাদেশের গণভবনে কে যাবে, তা ভারত থেকে ঠিক হবে না।

সারজিস আলম বলেন, যারা বড় রাজনৈতিক দল, তারা যদি ছোট দলকে এগিয়ে যেতে না দেয়, তাহলে আবার স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হতে পারে। খুনি হাসিনাকে দেখে যেন আমরা সেই শিক্ষা নিতে পারি। পরিবারতন্ত্র এখানেই শেষ, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হবে আগামীর রাজনীতি।

নাসীরুদ্দীন বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন পর্যন্ত যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবার ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে। বিভাজনের রাজনীতি বাদ দিয়ে আগামীতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আর যেন রক্তপাত না হয়– প্রত্যাশা জানিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ছয় বছর বয়সী শিশু জাবির ইব্রাহিমের বাবা নওশের আলী বলেন, আমার দেশ যেন এনসিপির কাছে নিরাপদ থাকে। 

শহীদ পরিবারের প্রত্যাশা
শহীদ মোবারকের মা ফরিদা বেগমের প্রত্যাশা, নতুন দল ভালো কিছুই করবে। তিনি সমকালকে বলেন, ‘আমাগো সন্তানেরা ঝাঁপায়ে পইড়া এ বিজয় নিয়ে আসছে। তাদের কারণে আমরা স্বাধীন। নাহিদ, সারজিসসহ যারা নতুন এই দলে আছে, সবাই যেন সুন্দরভাবে দেশটি পরিচালনা করতে পারে দোয়া করি। দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠুক।’ 

শহীদ ইমাম হোসেনের ভাই রবিউল ইসলাম বলেন, নাহিদ-আখতারদের ডাকে আন্দোলনে নেমেছিলাম। তাদের মাধ্যমে যেন প্রতিটি হত্যার বিচার হয়। আহত-শহীদ পরিবার যেন ন্যায্য অধিকার পায়।

গত ৪ আগস্ট পুলিশের গুলিতে আহত আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আহমেদ বলেন, এসেছি নতুন দলকে সমর্থন দিতে। নতুন দলের কাছে প্রত্যাশা, আগামীর বাংলাদেশে দুর্নীতি থাকবে না। 

ক্রাচে ভর করে এসেছিলেন গণঅভ্যুত্থানে আহত শাকিল হোসেন। ৪ আগস্ট রাজধানীর গুলশানে ছাত্রলীগের হামলায় পা ভাঙে তাঁর। তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক দলের কাছে প্রত্যাশার জায়গা থেকেই এখানে আসা। ছয় বছর বয়সী শহীদ জাবিরের বাবা মঞ্চ থেকে বলেন, সন্তান হত্যার বিচার চাই। 

যারা এসেছিলেন
আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের শরিক ছাড়া ৩৬ রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ করা হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, বিকল্প ধারার নির্বাহী সভাপতি মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, বিএলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আবদুল কাদেরসহ বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে ছিলেন না গণপরিষদ সভাপতি নুরুল হক নুর।
ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূত কেভিন এস রেন্ডালসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। 


জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্র-নাগরিকদের আত্মপ্রকাশ করতে যাওয়া রাজনৈতিক দলের নাম ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’।

তথ্য উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করা নাহিদ ইসলাম এর নেতৃত্বে থাকছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনে তিনিই একদফার ঘোষক এবং জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়ক।

জাতীয় নাগিরক কমিটির বর্তমান সদস্য সচিব ও ঢাকসুর সাবেক নেতা আখতার হোসেন নতুন দলটির সদস্য সচিব হচ্ছেন।

উল্লেখ্য, কার্যক্রম স্থগিত হওয়া গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন আখতার হোসেন। আর এই ছাত্র সংগঠনটির মহাসচিব ছিলেন নাহিদ ইসলাম।

নয়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টির মূখ্য সংগঠক হিসেবে থাকছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি এখন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহকে এই দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং সারজিস আলমকে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক করা হচ্ছে।

আগামীকাল শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পরে সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জমায়েতের মাধ্যমে বহুল কাঙ্ক্ষিত দলটির আত্মপ্রকাশ ঘটবে। শুরুতে ১৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি হবে।

এই কমিটিতে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে অন্তত ১১০ জনের বেশি যুক্ত হচ্ছেন। এছাড়া থাকছেন কয়েকজন পেশাজীবীও।


তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ৬ স্তরের সাড়ে ৩ হাজার নেতারা এই বর্ধিত সভায় অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর। 

পতিত সরকার গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে নস্যাৎ করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির বর্ধিত সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। বেলা ১১টার দিকে সভা শুরু হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রধান অতিথি হিসেবে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বক্তব্য রাখেন খালেদা জিয়া। সাত বছর পর দলের কোনো বড় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে খালেদা জিয়া তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, 'আজ দীর্ঘ ছয় বছর পর আপনারা আবার একসাথে ফ্যাসিস্ট মুক্ত বাংলাদেশে একত্রিত হতে পেরেছেন। সেজন্য আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া আদায় করছি। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদীবিরোধী সংগ্রাম যারা শহীদ হয়েছেন এবং সম্প্রতি জুলাই আগস্টের ফ্যাসিবাদী শাসকদের নির্মম ভয়াবহ দমননীতির কারণে গণহত্যায় যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রতি জানাচ্ছি আন্তরিক সমবেদনা। আমি চিকিৎসার কারণে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেও আমি সবসময় আপনাদের পাশেই আছি'। 

তিনি বলেন, 'দীর্ঘ ১৫ বছর গণতন্ত্রের জন্য, আমার মুক্তির জন্য আপনারা যে নিরন্তন সংগ্রাম করেছেন এবং আমাদের অসংখ্য সহকর্মী প্রাণ দিয়েছেন, জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং প্রায় সোয়া লক্ষ মিথ্যা মামলায় জর্জরিত হয়েছে। এখনো আদালতের বারান্দায় ন্যায়বিচারের জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আপনাদের এ ত্যাগ শুধু দল নয়, জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবে'। 

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি বলেন, দেশ আজ এক সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। আপনাদের এবং ছাত্রদের সমন্বিত আন্দোলনের ফলে ফ্যাসিস্ট শাসকেরা বিদায় নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা রাষ্ট্র মেরামতের ন্যূনতম সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার জন্য সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন সম্পন্ন করা। 

খালেদা জিয়া বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি আপনারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে আরও উজ্জীবিত হয়ে আগামী নির্বাচনে সাফল্যের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে আপনাদের এতদিনকার সংগ্রাম আত্মত্যাগ বিফলে যায়।'

তিনি বলেন, 'আমাদের সবসময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সেই উক্তি মনে রাখা দরকার। ব্যক্তির চেয়ে দল বড় দলের চেয়ে দেশ। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ বিশেষ করে তরুণ সমাজ আজ এক ইতিবাচক গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।'

পতিত সরকার গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে নস্যাৎ করার গভীর ষড়যন্তে লিপ্ত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংকীর্ণতা ভুলে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের কাজ করতে হবে। এখনও ফ্যাসিস্টের দোসররা এবং বাংলাদেশের শত্রুরা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্জনকে নস্যাৎ করার জন্য গভীর চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে'। 

'ইস্পাত কঠিন ঐক্যের মাধ্যমে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দিতে হবে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে', যোগ করেন তিনি। 

'সুদৃঢ় ঐক্যই রুখে দিতে পারে সকল ষড়যন্ত্র' স্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে এবারের বর্ধিত সভা করছে বিএনপি। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ৬ স্তরের সাড়ে ৩ হাজার নেতারা এই বর্ধিত সভায় অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর। 

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সকাল ১০টায় সভা শুরুর কথা থাকলেও বেলা ১১টার দিকে এটি শুরু হয়। সকাল সাড়ে নয়টা থেকেই আমন্ত্রিত নেতারা এলডি হল সংলগ্ন মাঠে আসতে শুরু করেন।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সভা শুরু হয়। এরপর এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালনের জন্য শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এরপর সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।  

কেন্দ্রীয় দপ্তর জানায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সকল কর্মকর্তা ও সদস্যরা, সকল মহানগর, জেলা, থানা-উপজেলা-পৌর কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবরা রয়েছেন। এছাড়া বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবররা রয়েছেন। এছাড়াও ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী এবং মনোনয়ন ইচ্ছুক যেসব প্রার্থী প্রাথমিক পত্র পেয়েছিলেন তারাও এই সভায় রয়েছেন।


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের উদ্যোগে নতুন ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ নামে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করেছে।

 বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে নতুন ছাত্র সংগঠনটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। 

এর আগে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন ছাত্র সংগঠন আনার ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের ২০১৯-২০২০ সেশনের শিক্ষার্থী আবু বাকের মজুমদার, সমন্বয়ক আব্দুল কাদেরসহ আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা একদল শিক্ষার্থী।

তারা ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট, বাংলাদেশ ফার্স্ট’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র নতুন সংগঠন গড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

বৈষম্যবিরোধীদের আন্দোলনের এই অংশ যখন নতুন ছাত্র সংগঠনের ঘোষণা দিলেন, তখন আরেকটি অংশ জাতীয় নাগরিক কমিটির সঙ্গে মিলে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার কাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছেন। আগামী শুক্রবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নতুন এ দলের আত্মপ্রকাশ ঘটবে বলে গত সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বের সামনের সারিতে থাকা অন্যতম সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

নতুন দলটিতে যোগ দিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেওয়া নাহিদ ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পদত্যাগ করেছেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।


অনলাইনে ভাইরাল ‘দৌঁড়াও হাসিনা দৌঁড়াও’ ভিডিও গেইম। ১৬ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে আসার পর থেকেই, সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ডে আছে এই গেইমটি।

গেইমের শুরুতে ‘অর এক নমরুদ পয়দা হুয়া’, জয়কে নিয়ে করা শেখ হাসিনার স্মৃতিচারণের কন্ঠ শোনা যায়। 

তিনটি ক্যারেক্টারের ওপর ভিত্তি করে পুরো গেইমটি নির্মাণ করা হয়েছে। একটি হচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, আরেকটি শেখ হাসিনা। গেইমে হাসিনাকে গর্ভবতী দেখানো হয়। আর আছেন ড. ইউনুস। ভিডিও গেইমটিতে আইক্কাওয়ালা বাঁশ হাতে তাকে দেখা যায়।

গেইম শুরু করলেই, দেখা যায় নরেন্দ্র মোদী আর শেখ হাসিনা দৌড়াচ্ছেন। মাঝখানে মাঝখানে বাঁশ হাতে দাঁড়িয়ে আছেন ড. ইউনুস। শেখ হাসিনা কোনভাবেই ইউনুসের গায়ে লাগলে গেইম ওভার। তখনই দেখা যাবে, ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলছেন হাসিনা, শোনা যাবে তার বিখ্যাত উক্তি, ‘কি অপরাধটা কি করেছি’ শোনা যায়।

যত বেশী সময় শেখ হাসিনা ড. ইউনূস এবং পাথরের ধাপকে এড়িয়ে যাবেন, তত বেশীই তিনি দৌঁড়াতে পারবেন। অবশ্য এর মধ্যে ‘শেখ মুজিবুরের’ টোকেন আছে, যা নিলে, প্লেয়ারের স্কোর বাড়বে।

কিবোর্ডের ‘আপ’ এবং ‘ডাউন’ বাটন দিয়েই খেলা যাবে পুরো গেইম। খেলা শুরু করলে শোনা যাবে, শেখ হাসিনার আরেক বিখ্যাত উক্তি, “রিক্ত আমি, নি:স্ব আমি, দেয়ার কিছু নাই। আছে শুধু ভালোবাসা, দিয়ে গেলাম তাই।“

এ গেইমের নির্মাতা কার্টুনিস্ট তাসরিফ। এই লিংকে ক্লিক করলে আপনিও গেইমটি খেলতে পারবেন। 


 
বর্তমান সময়ের আলোচিত-সমালোচিত নাম ডাক্তার সাবরিনা। পেশায় চিকিৎসক হলেও আকর্ষণীয় সাজগোজে ছবি-ভিডিও প্রকাশের জন্য বেশ আলোচিত তিনি।

বিভিন্ন সময় তার নানা ইন্টারভিউ বেশ ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। শুধু তা-ই নয়, শোবিজের নানা অনুষ্ঠানেও ইদানীং তাকে দেখা যায়।সম্প্রতি নাটকেও অভিনয় করেছেন ডা. সাবরিনা। সম্প্রতি ফজলুর রহমান বাবুর সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘অভিমানে তুমি’ শিরোনামের একটি নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। এবার রাজনীতিতে নাম লেখালেন সাবরিনা। 

জানা গেছে, জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের (জিসাস) কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সাবরিনাকে জিসাস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।

রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার কারণ সম্পর্কে ডা. সাবরিনা বলেন, আমার দাদি খালেদা রব্বানি ১৯৭৮ সাল থেকে চারবার এমপি ছিলেন। আমার চাচা রেজা হোসেন দিনাজপুর-১ আসনে বিএনপির দলীয় এমপি ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া। এর আগে আমি সরকারি চাকরি করতাম যে কারণে রাজনীতি করার সুযোগ ছিল না।

এখন আমি কিছু কাজ করছি একটা প্ল্যাটফরম খুঁজছি মানুষের জন্য, কাজ করার জন্য। তাই জিসাসে যুক্ত হয়েছি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবরিনা বলেন, আমার নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, আমার ইমেজ নষ্ট করা হয়েছে। আমার জুনিয়রদের প্রমোশন হয়েছে আমার হয়নি। নিয়মিত প্রমোশন হলে এখন আমি সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে থাকার কথা।

মানুষের জন্য কাজ করে নিজেকে প্রস্তুত করে আগামীতে জনপ্রতিনিধি হতে চাই।
তিনি আরো বলেন, অনেকে আমার রাজনৈতিক আদর্শ সম্পর্কে না জেনে বিরূপ মন্তব্য করছেন, যা কোনোভাবেই ঠিক না। মন্তব্যকারীদের উদ্দেশে বলতে চাই আমার পুরো পরিবার জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শ লালন পালন করে এবং আমি নিজেও বিএনপির একজন কর্মী। অন্যের ব্যাপারে মিথ্যা সমলোচনা না করে দেশকে কিভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় সেই লক্ষ্যে সবাই মিলেমিশে কাজ করাটাই উত্তম।
 
করোনা মহামারির সময় রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজি হেলথ কেয়ারের প্রতারণার অভিযোগে বেশ আলোচিত ছিলেন ডা. সাবরিনা। মানুষের জীবন নিয়ে নির্মম প্রতারণার তালিকায় ছিল সাবরিনা শারমিন চৌধুরী ও তার স্বামী জেকেজির প্রধান নির্বাহী আরিফ চৌধুরীর নাম। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে কোনো পরীক্ষা না করেই প্রতিষ্ঠানটি ১৫ হাজার ৪৬০ জনকে করোনার টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট সরবরাহ করেছিল। সেই মামলায় জেলও খেটেছেন ডা. সাবরিনা।



দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আগামীকাল সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠকে বসবে বিএনপি।

আজ রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ  এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

তবে বিএনপির প্রতিনিধি দলে কারা থাকছেন সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি। বর্তমানে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

এর আগে, গত শুক্রবার দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরসহ সারাদেশে ভাঙচুর, সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট ও সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।


যুক্তরাষ্ট্রে উইমেনস ফেলোশিপ ফাউন্ডেশনের নেত্রী রেবেকা ওয়াগনার ও অন্য সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জাইমা রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বিশ্বশান্তি ও সমৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে (জাতীয় প্রার্থনা প্রাতঃরাশ) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন।

গত ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে এ ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট অনুষ্ঠিত হয়।


সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অনলাইন ভাষণের জেরে দলটির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ সেলিমের বনানীর বাসায় আগুন দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার।

তিনি বলেন, ‘জনতা রাজধানীর বনানীতে শেখ সেলিমের বাসায় আগুন দিয়েছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি।’

এর আগে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার বক্তৃতা প্রচারের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা গত বুধবার রাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির অর্ধেকের বেশি অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভাঙচুরের পর গত বুধবার রাতে খুলনায় ‘শেখ বাড়ি’ ভাঙচুর করা হয়।

এরপর কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা হানিফের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। গত দুদিনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কমপক্ষে ১৩টি বাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ পরিবারের সদস্যদের অর্ধশত ম্যুরাল ভেঙে ফেলা হয়েছে।
 


মূর্তি না ভেঙে শত্রুর শক্তির বিপরীতে পাল্টা চিন্তা, শক্তি ও হেজেমনি গড়ে তোলা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ছবি:মাহফুজ আলম(সংগৃহীত)|

‘গড়ার তাকত আছে আমাদের?’ এমন শিরোনাম দিয়ে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘আমরা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক আধিপত্যবাদ মোকাবিলা করছি। নিছক কিছু মূর্তি বা দালান নয়। মূর্তি (idols) না ভেঙে আমাদের উচিত আমাদের শত্রুদের শক্তির বিপরীতে পাল্টা চিন্তা (Ideals), শক্তি ও হেজেমনি গড়ে তোলা। ভাঙার প্রকল্প থেকে সরে এসে দিনকে দিন আমাদের গড়ার প্রকল্প হাতে নেওয়া উচিত।’

মাহফুজ বলেন, ‘লীগ বা হাসিনা সে অর্থে কিছুই না, বরং আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের এক্সটেনশন। আর, আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ তার হেজেমনি তৈরি করছে বাস্তবধর্মী রাষ্ট্রকল্পনা, দেশে এবং ডায়াসপোরায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করে। আমাদের পাল্টা হেজেমনিও এ তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল।’

‘ভাঙার পরে গড়ার সুযোগ এসেছে, কিন্তু অনন্ত ভাঙা প্রকল্প আমাদের জন্য ভালো ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবহ না। গড়ার প্রকল্পগুলো খুব দ্রুতই শুরু ও বাস্তবায়ন হবে। আপনারা গড়ার কাজে সক্রিয় হোন।’

তিনি আরও লেখেন, ‘সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন শিগগির শুরু হবে। আহত ও নিহতদের পরিবারের পুনর্বাসন ও জুলাই গণহত্যার বিচারের কাজও চলমান। এ মাসেই এ কাজগুলো আরও গতি পাবে।’

এই উপদেষ্টা বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ নিছক ভাঙা নয়, বরং বিকল্প গড়ারও লড়াই। নতুন বন্দোবস্তে আমরা ভাঙার চেয়ে গড়ার দিকে গুরুত্ব দিতে চাই।’

তিনি লিখেছেন, ‘পুনশ্চ: খুনি হাসিনার বক্তব্য প্রচার এবং এর প্রতিক্রিয়ায় সব রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য দায়ী থাকবে আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ। এজন্যই আমাদের উচিত, সৃজনশীল শক্তির বিকাশ ঘটানো এবং সার্বিকভাবে এ আধিপত্যবাদ মোকাবিলায় প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে দূরদর্শী পদ্ধতি নেওয়া। কারণ, এ লড়াই মাত্র শুরু হলো। অন্তত, এক দশক পরে এ লড়াইয়ের একটা মীমাংসা হয়তো হবে। অথচ, সেজন্য আমাদের প্রস্তুতি সামান্যই।’

মাহফুজ আলম লেখেন, ‘রাগ, ক্ষোভ, ঘৃণা নেতিবাচক এনার্জি, কিন্তু অভ্যুত্থানের পর আমাদের এসব এনার্জিকে ইতিবাচক রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এখনো সে সুযোগ হারিয়ে যায়নি। আগামী অন্তত এক দশকব্যাপী দীর্ঘ গণতান্ত্রিক ও আধিপত্যবাদ-বিরোধী লড়াইয়ের জন্য আমাদের সৃজনশীল শক্তিকে কাজে লাগানো দরকার।’

‘ভবিষ্যৎপানে তাকান, ইতিহাস আমাদের সুযোগ দিয়েছে। আমাদের এবার জিততেই হবে, আর জেতার উপায় একটাই- রাষ্ট্রকল্প, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, দক্ষ ও মর্যাদাবান মানবসম্পদ গড়ে তোলা। আল্লাহ আমাদের ফেরাসত তথা দূরদৃষ্টি দিক’ -বলেও যোগ করেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।


প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম আহত হয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ফুলার রোডে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সারজিস আলমকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের শিক্ষার্থী শুভ হাওলাদার। তিনি বলেন, সারজিস আলম নিজেই প্রাইভেট কার চালিয়ে  বাংলা মোটরের দিকে যাচ্ছিলেন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের সামনে এলে একটি শিশু গাড়ির সামনে এসে পড়ে। শিশুটিকে বাঁচাতে সারজিস সজোরে ব্রেক করলে সড়ক বিভাজকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে তাঁর বাঁ চোখের পাশে কেটে গেছে। এ ছাড়া মাথায় সামান্য আঘাত লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নেওয়া হয়েছে।


পাবনার ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে বোমা হামলা ও গুলির ঘটনায় জজ আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বিএনপির ৯ নেতাকর্মীসহ দণ্ডিত ৪৭ আসামির সবাইকে খালাস দিয়েছে হাই কোর্ট।

ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম ও বিচারপতি হামিদুর রহমানের বেঞ্চ বুধবার এ রায় ঘোষণা করে।

আদালতে আসামিদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের সময় ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ট্রেন মার্চ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর অংশ হিসেবে খুলনা থেকে ট্রেনে করে সৈয়দপুর যাওয়ার পথে ঈশ্বরদী স্টেশনে তার যাত্রাবিরতি ও পথসভা করার কথা ছিল।

ট্রেনটি ঈশ্বরদী স্টেশনে পৌঁছালে শেখ হাসিনার বগি লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা ছোড়া হয়। তবে ওই ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

হামলার ঘটনায় রেল পুলিশের ওসি নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাত জনের নাম উল্লখ করে এবং আরও শতাধিক ব্যক্তিকে ‘অজ্ঞাত পরিচয়’ আসামি হিসেবে দেখিয়ে মামলা দায়ের করেন।

কিন্তু তখনকার বিএনপি সরকারের সময়ে এ মামলার তদন্ত আটকে থাকে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে পুলিশকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তদন্ত শেষে ঈশ্বরদীর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে আসামি করে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। পরে অভিযোগ গঠন করে আসামিদের বিচার শুরু করে আদালত।

২০১৯ সালের ৩ জুলাই এ মামলার রায় ঘোষণা করেন পাবনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক রোস্তম আলী।

এ মামলার আসামি বিএনপির ৯ নেতাকর্মীকে তিনি মৃত্যুদণ্ড দেন। এছাড়া ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ওই রায়ে সর্বোচ্চ সাজার রায় পান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোকলেছুর রহমান, পাবনা জেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক একেএম আকতারুজ্জামান আকতার, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সভাপতি মোস্তফা নূরে আলম শ্যামল, স্থানীয় বিএনপি নেতা মাহবুবুল রহমান পলাশ, রেজাউল করিম ওরফে শাহিন, শামছুল আলম, আজিজুর রহমান ভিপি শাহীন ও শহীদুল ইসলাম অটল।

যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয় ইসলাম হোসেন জুয়েল, আলাউদ্দিন বিশ্বাস, আল আমিন, শিমু, আনিস শেখন, খোকন, নুরুল ইসলাম, আক্কেল আলী, সেলিম আহমেদ, মামুনুর রহমান, রবি, মামুন, তুহিন, এনাম, কল্লোল, কালা বাবু, লিটন, আবদুল্লাহ আল মামনু রিপন, লাইজু, আব্দুল জব্বার, আবুল কালাম, আব্দুল হাকিম টেনু, আলমগীর হোসেন, পায়েল ও পলাশকে।

এছাড়া আসামি তুহিন বিন ছিদ্দিক, দুলাল সরদার, ফজলুর রহমান, আব্দুল বারিক, আনোয়ার হোসেন জনি, রস্তম, মওলা, জামরুল, রাজু, বাবলু, বরকত, মুক্তা ও মুকুলকে দেওয়া হয় ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড।

ফৌজদারি কোনো মামলায় মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে হাই কোর্টের অনুমোদন লাগে। সে অনুযায়ী বিচারিক আদালতের ওই রায়সহ যাবতীয় নথিপত্র ২০১৯ সালে হাই কোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছায়। পাশাপাশি দণ্ডিত আসামিরা হাই কোর্টে আপিল করেন।

গত ৩০ জানুয়ারি আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে বুধবার সবাইকে খালাস দেওয়া হল।
 


ছাত্র-তরুণদের সমন্বয়ে এ মাসেই নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হবে বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।

 ছবি: হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম(সংগৃহীত)।

এবার বিষয়টি নিয়ে বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পোস্ট দিয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে তারা উভয় লিখেছেন, ‘ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল আসছে! আপনি কেমন দল চান, আমরা তা জানতে চাই এবং সে আদলেই দলটি গড়তে চাই।

পোস্ট আরও বলা হয়েছে, পোস্টের কমেন্টে দেওয়া ফর্মে আপনার মতামত জানান। ফর্মটি পূরণ করতে মাত্র ৫ মিনিট সময় লাগবে। 

এছাড়াও বিষয়টি নিয়ে নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় নেতারও ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।


সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য সবার আগে নির্বাচন প্রয়োজন। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেই সংস্কার করতে হবে। এই আলোচনা যত বেশি দীর্ঘ হবে, স্বৈরাচার তত বেশি ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পেয়ে যাবে— এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কদমতলীতে রাষ্ট্র মেরামতে দলটির এক কর্মশালায় এ কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বহু মানুষ ভোটের অধিকারের আদায়ের জন্য হতাহত হয়েছে। জবাবদিহিতা নিশ্চিতে নির্বাচনের বিকল্প নেই। এর মাধ্যমে সমস্যার জট খুলতে শুরু করবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কাজ যত দ্রুত শুরু হবে, ততো দ্রুত দেশকে রক্ষা করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারের সামনে একমাত্র বিএনপিই সংস্কারের কথা বলেছিল। আড়াই বছর আগেই এই ৩১ দফা দেয়া হয়েছিল। ৩১ দফার সাথে সরকারের সংস্কার প্রস্তাবনায় খুব বেশি ফারাক নেই। ১০ টাকা কেজি চাল দেয়ার মতো মিথ্যা আশ্বাস না দিয়ে বাস্তবতার আলোকে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করতে চান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।



বিয়ে করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহর ফেসবুক থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায়।

নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি ছবি শেয়ার করে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ক্যাপশনে লিখেছেন, নবজীবনে পদার্পণে অভিনন্দন সারজিস ভাই। বিবাহিত জীবন সুখের হোক। 

ওই ছবিতে সারজিসকে শেরওয়ানি ও পাগড়ি পরিহিত দেখা গেছে। তার দুই পাশে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহকে দেখা গেছে। 

এদিকে হাসনাত আব্দুল্লাহও ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, অভিনন্দন বন্ধু সারজিস। তোমাদের জন্য শুভ কামনা জানাচ্ছি, যেখানে ভালোবাসা এবং সুন্দর মুহূর্তগুলিতে ভরপুর থাকবে।

আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আব্দুল্লাহর ফেসবুক পোস্টে শুভাকাঙ্ক্ষীরা শুভেচ্ছার বন্যা বইয়ে দেন সারজিসকে। কিন্তু সবার মনেই জল্পনা ছিল, কাকে বিয়ে করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম এই নায়ক? কী সেই পাত্রীর পরিচয়? 

অবশেষে জানা গেছে সেসব। 

সারজিসের শশুর বাড়ি বরগুনা। তার স্ত্রীর নাম রাইতা। তিনি একজন পবিত্র কোরআনের হাফেজা। একবোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সারজিস আলমের স্ত্রী হাফেজা রাইতা সবার বড়। বরগুনা সদর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীচন্না ইউনিয়নে লাকুরতলা গ্রামের ব্যারিস্টার লুৎফর রহমানের মেয়ে। সব সময় পর্দা মেনে চলেন রাইতা।

তার শশুর ব্যারিস্টার লুৎফর রহমান বর্তমানে বাংলাদেশের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। পেশার তাগিদে ব্যারিস্টার লুৎফর রহমান স্ত্রী, মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে রাজধানীর বাসাবো এলাকার শাহজাহানপুর এলাকায় বসবাস করেন।

সারজিস আলমের শশুরের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের রাজিন্দ্র রিসোর্টে শুক্রবার আসরের নামাজ বাদ পারিবারিকভাবে তাদের বিবাহ কার্য সম্পন্ন হয়েছে। 

সারজিস আলম ২ জুলাই ১৯৯৮ সালে পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আকতারুজ্জামান সাজু ও মা বাকেরা বেগম। দুই ভাইয়ের মধ্যে সারজিস আলম বড়। তার ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন সাকিব।

সারজিস আলম ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে অমর একুশে হল সংসদে প্যানেল থেকে সদস্য পদে জয়লাভ করেছিলেন। তাছাড়া নানা পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিতার্কিক হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ছিলেন সারজিস আলম।


ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক সংস্থা সূচনা ফাউন্ডেশন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী এস আলম ও বেক্সিমকো, এবং বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত পিকে হালদারের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে। 

প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে দেশের বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। 

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-এর (বিএফআইইউ) একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুসারে, সূচনা ফাউন্ডেশনের অন্যান্য দাতাদের মধ্যে রয়েছে কনফিডেন্স গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, সামিট গ্রুপ ও ইউনাইটেড গ্রুপ। প্রতিবেদনটির কপি টিবিএসের হাতে এসেছে।

সন্দেহজনক লেনদেনের জন্য গত বছরের নভেম্বরে সূচনা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার আদেশ দেয় বিএফআইইউ। 

বিএফআইইউয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, সূচনা ফাউন্ডেশনে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন উৎস থেকে ১৭৯ কোটি টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে ১১৪ কোটি টাকা ইতিমধ্যে খরচ হয়েছে। বর্তমানে ফাউন্ডেশনের অ্যাকাউন্টে ফ্রিজ হিসেবে আটকে আছে ৬৫ কোটি টাকা।

এই ফাউন্ডেশনের টাকা এসেছিল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন এস.আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে। 

এছাড়াও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের (আওয়ামী লীগ) সাবেক সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রাণ গোপাল দত্তের অ্যাকাউন্ট থেকেও টাকা জমা হয়েছে।

অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সূচনা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা ২০১৪ সালে। সংস্থাটি মানসিক প্রতিবন্ধকতা, স্নায়বিক ব্যাধি, অটিজম ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে কাজ করত। সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এর ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন। বোর্ডে ছিলেন আরও তিন ট্রাস্টি—মাজহারুল মান্নান, মো. শামসুজ্জামান ও জাইন বারি রিজভী। 

তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলেছে, বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের নিবন্ধিত ঠিকানায় গিয়ে তারা অফিসের 'অস্তিত্ব' খুঁজে পায়নি । 

পুতুল বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। 
 


ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবে যাওয়ার পথে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দুবাই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাত বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ওমরাহ পালনের উদ্দেশে বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা থেকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলেসহ রওনা হন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিমানটি দুবাই এসে পৌঁছায়।

জাকির হোসেন আরও বলেন, বিমানের মধ্যেই বুকে ব্যথা অনুভব করেন বাবর। পরে বিমানবন্দরে নামার পর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তাকে ভর্তি করা হয় দুবাই হাসপাতালে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে সৌদি চলে গেছেন। সঙ্গে রয়েছেন ছেলে লাবিব।

সংযুক্ত আরব আমিরাত বিএনপির এই আহ্বায়ক বলেন, সুস্থ হলে বাবর সৌদি আরবে যাবেন। সেখানে ওমরাহ শেষে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে তার সিঙ্গাপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে, কারামুক্ত হওয়ার তিন দিন পর গত ১৯ জানুয়ারি অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবর। রাতে বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

 


মাদ্রাসার শিক্ষকদের ওপর পুলিশী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। ২৬ জানুয়ারি এক ফেইসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি নিন্দা জানান। 

 পোস্টে হাসনাত বলেন, ইবতেদায়ি শিক্ষকসহ বাংলাদেশে সামগ্রিক শিক্ষক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত। ইবতেদায়ী শিক্ষকদের উপর পুলিশি নির্যাতনের নিন্দা জানাই। এটা কোনভাবেই কাম্য নয়। 

এই পোস্টের বিস্তারিত পড়তে এইখানে ক্লিক করুন।


লন্ডন ক্লিনিকে চিকিৎসা শেষে ১৭ দিন পর বাসায় ফিরেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেন তিনি। 

এখন থেকে ক্লিনিকের চিকিৎসক প্যাট্রিক কেনেডি ও জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে বাসায় থেকে বেগম জিয়া চিকিৎসা নেবেন। বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার লিভার প্রতিস্থাপনের বিষয়ে মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁর বয়স ও স্বাস্থ্যের ওপর বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারপার্সন ও ছেলে তারেক রহমান হাসপাতাল থেকে উত্তর লন্ডনের কিংসটনের বাসায় মা খালেদা জিয়াকে নিয়ে যান। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান।


সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর তারেক আলমকে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তারের সময় তারেক আলম ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করছিলেন, যা তাকে বিদেশে পালানোর চেষ্টার অভিযোগকে শক্তিশালী করে। দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল তাকে আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

তারেক আলমের বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি এবং হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তিনি ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী।  দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম তাকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বেক্সিমকো গ্রুপের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অতিবিপ্লবী হয়ে সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা যাবে না। এই মুহূর্তে সব বদলে দেবো বা এটা করে ফেলবো, তা হয় না। ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হয়।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠান ‘গ্রন্থ আড্ডায়’ তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, স্বৈরাচারের আমলে কেউ কথা বলার সাহস না পেলেও এখন সবাই দাবি আদায়ে মাঠে নেমেছে। ধৈর্যচ্যুত হওয়া যাবে না। এই সরকারের দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা না থাকায় ভুল-ত্রুটি হচ্ছে। তারা একটি কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। গণতন্ত্র ফিরে এলে এসব ঠিক হয়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, অনির্বাচিত সরকারের চাইতে নির্বাচিত সরকারের সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বেশি থাকে। ন্যূনতম সংস্কার করে নির্বাচন দিতে হবে।


রাজধানীতে মিরপুর থানা ১২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে কর্মীসভায় উৎসবমুখর পরিবেশে নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

এতে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে হামলা-মামলার স্বীকার হয়ে পালিয়ে থাকতে হয়েছে। এতে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেছে অনেকে। কেউ হারিয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। তবুও নেতাকর্মীরা একদিনের জন্যও রাজপথ থেকে সরে যায়নি।

নেতাকর্মীদের আবারও জেগে উঠে আন্দোলনের মাঠে ফিরে আসার আহ্বান জানান নেতারা। বলেন, লাখো কর্মীর পেছনে অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বক্তারা আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশ থেকে পালিয়েছে। কোনো অবস্থাতেই যেন ফ্যাসিবাদ আর অনুপ্রবেশকারীরা কোনো কমিটিতে স্থান না পায়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।


প্রায় ৬৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও ২৫৮ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক এমপি আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে দুদক কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য জানান।

ছবি: আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার ও তার মেয়ে তাহসিন বাহার সূচনা (ফাইল ছবি)।

তিনি জানান, পৃথক আরও দুটি মামলা হয়েছে সাবেক এমপি বাহারের মেয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সূচনা এবং স্ত্রী সেহেরুন নেসা বাহারের বিরুদ্ধে।

তাহসিন বাহার সূচনার বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি ৪২ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুদক। একই সাথে সম্পদ বিবরণী জমা দেয়ার নোটিশও দেয়া হয়েছে সূচনাকে।

এছাড়া, সেহেরুন নেসা বাহারের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় আ ক ম বাহারকেও আসামি করা হয়েছে।


শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে গুম, খুন আর অর্থ পাচার করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শহীদ আসাদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ অর্পণ শেষে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির ৯০’র ডাকসু নেতাদের উদ্যোগে শহীদ আসাদ দিবস উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।

ছবি: সংগৃহীত।

আমান উল্লাহ আমান আরো বলেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রত্যাশা হল ভোটের অধিকার পাবে দেশের মানুষ। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ দিবে, তাতে জনগণের সরকার কায়েম হবে।

সবশেষে তিনি জানান, বিএনপি ও দেশের মানুষ প্রত্যাশা করে নির্বাচন দিবে সরকার। যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দেওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন আমান।

এ সময়  শহীদ আসাদের ছোট ভাই ডা. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, পাঠ্যবইতে শহীদ আসাদের ইতিহাস যুক্ত করতে হবে। আসাদের স্মৃতিফলক ও আসাদ গেট সংরক্ষণ করার দাবিও  জানান তিনি।

রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি স্মৃতিস্তম্ভে তার পরিবার ও বিভিন্ন সংগঠনও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।


সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সোবহান গোলাপের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সাথে তার স্ত্রী গুলশান আরা মিয়া, ছেলে ইভান সোবহান মিয়া ও মেয়ে আনিশা গোলাপ মিয়ার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোকেরও আদেশ দেয়া হয়েছে। 

(ফাইল ছবি)

রোববার (১৯ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, আবদুস সোবহান গোলাপ ও তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে থাকা সম্পদ ক্রোকের তালিকায় আছে মিরপুরের একটি পাঁচতলা বাড়ি। এর বাইরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ৯টি স্থাবর সম্পদ। এর মধ্যে আটটি হচ্ছে সিঙ্গেল রেসিডেনসিয়াল কন্ডো ইউনিট। আরেকটি হচ্ছে ডুয়েল ফ্যামিলি ইউনিট।

আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচার, বাড়ি ও ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক। আবদুস সোবহান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে কমিশন।

এ ছাড়াও আবদুস সোবহান গোলাপ, তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন আবদুস সোবহান গোলাপ।


ফ্যাসিস্ট আমলে সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের ওপর জুলুম চালানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আরো বলেন, সেই সময় সংবাদ মাধ্যম যদি সত্যকে পুরোপুরি তুলে ধরতে পারতো তাহলে ফ্যাসিস্টরা চেপে বসতে পারতো না। দৈনিক সংগ্রামের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

ছবি: জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান (ফাইল ছবি)।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) সকালে মগবাজারে দৈনিক সংগ্রামের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। জামায়াত আমির জানান, সাংবাদিকদের সেনাপতি হয়ে সত্য প্রকাশে সর্বদা অবিচল থাকতে হবে। পরিস্থিতি যেমনই হোক সত্য প্রকাশে পিছপা না হওয়ার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ শহিদের নতুন সংজ্ঞা দিয়েছিল। তারা যাদের শহিদ বলবে তারাই শহিদ আর কেউ নয়। জাতির পাশাপাশি তারা সংবাদ জগতের ওপরও তাণ্ডব চালিয়েছে। জাতির দর্পণ ও বিবেক হিসেবে সাংবাদিকরা যদি ভূমিকা পালন করতেন ফ্যাসিবাদী শাসন এইভাবে জাতির ওপর জেঁকে বসতে পারতো না।

আমির আরও জানান, সংবাদ সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলবে। এখানে কোনো সাংবাদিকের নিজস্ব বক্তব্য সংযোজন হবে না। সত্য থেকে কিছু বিয়োজনও হবে না। ফ্যাসিবাদী আমলে এটি একবারেই হয়নি। এখনও এর কিছু কালো ছায়া আমরা লক্ষ্য করি বলেও মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে; মত প্রকাশের জন্য কাউকে হয়রানি করা যাবে না। কোনো সরকারের আমলেই যেন কোন সাংবাদিককে যেন চাকরিচ্যুত করা না হয়। একইসাথে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আটক না করতে আইন করতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মাহমুদুর রহমান।


ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোস্তফা জালালের  বিরুদ্ধে হত্যা মামলা থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ফাইল ছবি।

সোমবার ভোরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মনসুরাবাদ হাউজিং এলাকা থেকে মোস্তফা জালালকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।


ছাত্র হত্যার দায়ে অভিযুক্ত পাবনা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সের সন্ধান মিলেছে। তিনি এখন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পালিয়ে রয়েছেন। গতকাল সিডনি প্রবাসী এক বাংলাদেশীর পোস্টের মাধ্যমে এ খবর সামনে আসে।

৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা হারায় ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার। দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। পরিস্থিতি টের পেয়ে ৫ তারিখের আগে-পরে দেশ ছাড়তে শুরু করেন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট মন্ত্রী-এমপিরা। দুর্নীতিবাজ প্রিন্স যেন পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য ২২ অক্টোবর তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। গোলাম ফারুক প্রিন্সের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎপূর্বক তার নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এছাড়াও, প্রিন্সের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ তিনজন ছাত্রকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। 

লাল চিহ্নিত ব্যক্তি গোলাম ফারুক প্রিন্স। 

৩০ ডিসেম্বর রাতে এক পোস্টের মাধ্যমে সিডনিতে পলাতক গোলাম ফারুক প্রিন্সের অবস্থান জনসম্মুখে নিয়ে আসেন, প্রবাসী বাংলাদেশী তানজিদ মাহমুদ তনয়। এসময় প্রিন্সকে সিডনির 'লিটেল বাংলাদেশ' খ্যাত ল্যাকেম্বার একটি রেস্টুরেন্টের সামনে কফি পানরত অবস্থায় দেখা যায়। তার সাথে ছিলেন, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

এখবর, প্রকাশ হওয়ার পর থেকে, অসন্তোষ এবং ক্ষোভ বাড়ছে কমিউনিটিতে। দাবি উঠছে, পলাতক আওয়ামী নেতাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার। এরইমধ্যে, ন্যায় বিচার নিশ্চিতে তনয়ের পোস্টে অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রী, এমপি এবং পুলিশকে ট্যাগ করে কমেন্ট করছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। শিগগিরি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ এবং স্মারকলিপি দেয়ার কাজ করছেন, কমিউনিটি নেতারা। 

শুধু গোলাম ফারুক প্রিন্স নয়, অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে আছেন, আওয়ামী লীগের ডজনখানেক নেতা-কর্মী।  


চেক জালিয়াতি (ডিজঅনার) মামলায় ক্রিকেটার ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

আজ (১৯ জানুয়ারি) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। যদিও আদালতে উপস্থিত ছিলেন না সাকিব আল হাসান।

ছবি:সংগৃহীত।

এর আগে, ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর একই মামলায় সাকিবসহ মোট চারজনকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছিলেন আদালত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সাকিব উপস্থিত হননি। সাকিব ছাড়াও অন্য তিনজন হলেন— সাকিব আল হাসান এগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী সাহাগীর হোসেন, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইমদাদুল হক এবং মালাইকর বেগম। গত ১৫ ডিসেম্বর আইএফআইসি ব্যাংকের রিলেশনশিপ অফিসার শাহিবুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, সাকিবের মালিকানাধীন এগ্রো ফার্মটি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে আইএফআইসি ব্যাংকের বনানী শাখা থেকে ঋণ নেয়। এর বিপরীতে কোম্পানিটি প্রায় ৪.১৫ কোটি টাকার দুটি চেক দিয়েছে, যা অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে ডিজঅনার হয়ে ফেরত আসে।


এবার আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবও স্থগিত করা হয়েছে।

তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, মেয়ে তসলিমা আহমেদ জামান, ছেলে মঈনুল হোসেন, ছেলের স্ত্রী ইসরাত জাহান বিন্তীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। ব্যক্তি হিসাবের পাশাপাশি তোফায়েল আহমেদ ফাউন্ডেশনের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবও স্থগিত করা হয়েছে। এসব হিসাবের লেনদেন ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন তোফায়েল আহমেদ।