সম্মান হয়তো সমাজের কাছে থাকে আর সুখ থাকে অবহেলিত মানুষদের কাছে। কিন্তু আমরা অবহেলিতদের ভালোবাসি না। তাদের জন্য থাকে মায়া যা ২ মিনিট পরে ভুলে যাই। কিন্তু যেহেতু আমরা সামাজিক জীব তাই সমাজের গুরুত্ব আগে। তাইতো আমরা সমাজ মেনে চলি। সমাজের নিয়মগুলো অনেক সময় ইচ্ছে না করলেও অক্ষরে অক্ষরে পালন করে থাকি।
যুবক বয়সে স্বাধীন ভাবে চলি রক্ত গরম থাকে বলে, কিন্তু বৃদ্ধ হলে দাঁড়ি রাখি নামাজ পড়ি, কেননা এটা না করলে লোকে কি বলবে? আজব এই মানুষ জাতি, খুনিও মনে মনে বলে তোমরা আমাকে খারাপ বল কিন্তু আমার মনটা বুঝলে না। অর্থাৎ প্রতিটা মানুষ মনে মনে নিজেকে ভালো মনে করে।
এই সমাজ এতোটাই আজব যে বিচারকেরও বিচার হয় সঠিক বিচার না করার কারনে। চোর ঘুরে রাস্তায় আর নির্দোষ থাকে জেলে।
লোকে কি বলবে সেটা নিয়ে চিন্তায় থাকি, কিন্তু বৃদ্ধ বাবার যত্ন ঠিক মতন নেওয়া হচ্ছে কি না সেটা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যাথা নেই।
এই সমাজ ধনীদের খবর রাখে, তারা থাকে চায়ের দোকানের আড্ডা ও গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে। উচ্চবিত্তরা কখনো সেখানকার দরিদ্রদের নিয়ে একদিনও আড্ডা দেয় না যে কি করলে তাদের দারিদ্রতা কেটে যাবে। তাদের সালাম দেয় না, পকেটের টাকা খরচ হবে বলে তাদের খোঁজ নেয় না অযথা টাকা নষ্ট হবে বলে । মসজিদে পাল্লা দিয়ে অনুদান দেয় নিজের প্রভাব বজায় রাখার জন্য। কেননা মনের কথা তো মানুষ দেখে না। মানুষ দেখে যেটা মানুষদের দেখানো হয়। অনেক আলোচনা সভা আর কাপড় বিতরন করি কিন্তু সেই ভালো কাজ অর্থাৎ ডিমের খোলস আবার পত্রিকা অথবা ফেসবুকে দিয়ে থাকি মানুষদের দেখানের জন্য।
মাইক্রোফোন ফাটিয়ে ফেলি বক্তব্য দিয়ে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখেন যাদের একবার সাহায্য করা হয়, এরপরে তাদের আর খোঁজ নেওয়া হয় কিনা? যে সব টোকাই আপনার ফেলে দেওয়া বোতল কুড়িয়ে নিয়ে যায়, ১ প্লেট ভাত খাবার জন্য তারা কিন্তু আমাদের কারো পাপের ফল। যাদের পরিচয় দিতে পারবো না বলে রাস্তায় ফেলে আসি।
আমাদের সমাজ এমন যে কোন ভালো কাজের ডাক দিলে আমরা চিন্তা করি এখানে গিয়ে আমার কি লাভ! আমি তো ভালোই আছি। নিজের খেয়ে বনের মহিষ কেন তাড়াবো ? আবার কেউ চিন্তা করি আগে কেউ আসুক তারপর আমি যাবো।
এই সমাজে ২ ধরনের বিয়ে লক্ষ্য করা যায়ঃ ১. ঢোল পিটিয়ে ২.আড়ালে। সমাজে তাদের মূল্য দেওয়া হয় যারা সমাজের বানানো চিন্তাভাবনার মধ্যে পরে। তাইতো একটি কাজ দেখার আগে যোগ্যতা খুঁজে। কিন্তু প্রথম সুযোগটা না দিলে যোগ্যতার তারকা কাগজে কি করে লাগে ?
আবার ব্যাংক এর চাকুরীর ভাইবাতে নিউটনের ৩য় সূত্র কি? এমন প্রশ্ন করে। সামনে হয়তো এমন কিছু দেখতে হবে যে বিয়ের জন্য অভিজ্ঞতার দরকার হবে। আজকাল তো প্রেম টিকে না অভিজ্ঞতার অভাবে ।
মাহফিলে হুজুর গীবত করতে বারণ করে, পরে তিনি অন্য হুজুর এর ভুল ধরে। নেতা কোন ভুল করলে সেটা কোন ভুল হয় না তখন বলি মানুষ মাত্রই ভুল। কিন্তু আপনি একটা ভুল করলে সেই বিচার আপনার নেতাই করে। আমাদের জ্ঞানের এতই ভান্ডার যে নিজের খবর না রেখে তা ঢালতে থাকি অন্যের কানে। নিজের কাজ অন্যদের দিয়ে করাতে আমরা বেশি ভালোবাসি আবার যদি তা না করতে চায় তাহলে তার গীবত চালাই তার পিছে।
সত্যিই মানুষ বড়ই আজব আর আজব এই সমাজ, কিন্তু কি আর করার আমরা যে সামাজিক জীব । এই নিয়মেই যে আমরা চলতে বাধ্য । সভ্য জাতির সভ্যতার মাঝে আমরাও রয়েছি। আগে দেখি নিজে কতটুকু সঠিক পথে আছি । কেননা ঐ যে এক জনের দিকে আঙ্গুল তুললে বাকি ৩ টা যে নিজের দিকেই থাকে।