0201251735807594appweb-logo.png
Loading...

শিল্প-কারখানা


নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, ব্যবসা সংক্রান্ত সনদপত্র দিয়ে এ ঋণ পাবেন ছোট ছোট উদ্যোক্তারা।

করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেই এমন ছোট উদ্যোক্তাদের জামানত ছাড়া ব্যাংক ঋণ নেওয়ার পথ সুগম করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক; যারা ব্যবসা চালাতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন।

আগেও জামানত ছাড়া উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে পারতেন। তবে সেসব ক্ষেত্রে টিআইএন ও আরো কিছু বিষয়ের ওপর বিবেচনা করে ঋণ দেওয়ার নিয়ম ছিল। তবে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (সিএসএমই) নতুন নীতিমালায় এসব উদ্যোক্তাদের জামানত ছাড়া ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পাঁচ বছরের জন্য নতুন এই সিএমএসএমই নীতিমালা সোমবার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এতে বলা হয়েছে, ব্যবসা সংক্রান্ত সনদপত্র দিয়ে এ ঋণ পাবেন ছোট ছোট উদ্যোক্তারা।

উৎপাদন, সেবা ও ব্যবসা-এই তিন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে যাদের জনবল পারিবারিক সদস্যসহ ৫ থেকে ১০ জনের মধ্যে অর্থাৎ ১০ জনের বেশি নয় তারা এ ক্যাটাগরিতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তারা আগেও ঋণ পেতেন। তবে তখন তারা ‘পার্সোনাল লোন’ পেতেন, যেটির সুদের হার বেশি। তাদের জন্য এ ঋণ নিয়ে ব্যবসা করা কঠিন ছিল।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তারা হচ্ছেন ছোট ছোট চা দোকানওয়ালা কিংবা এই রকম যারা কাজ করেন। তাদের ট্রেড লাইসেন্স নেই। এমন উদ্যোক্তারা যাতে ঋণ পান সে ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন এ নীতিমালায়। এখন তারা কম সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পাঁচ বছরের জন্য সিএমএসএমই নীতিমালা করা হয়েছিল। সেটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন এই নীতিমালা করা হয়েছে। এটি আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে।

এ বিষয়ক সার্কুলারে ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তা’ নামে নতুন এই শ্রেণি যুক্ত করে এ বিষয়ে ব্যাংকের করণীয় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে কোন উদ্যোক্তা অপ্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তার ক্যাটাগরিতে পড়বেন তা সুষ্পষ্ট করে বলা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ এর আলোকে ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক শিল্প খাতের উদ্যোক্তা’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রণীত ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা–২০২১ অনুযায়ী এ উদ্যোক্তাদের সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে।

ইউনিক বিজনেস আইডেনটিফিকেশন (ইউবিআইডি), ডিজিটাল বিজনেস আইডেনটিফিকেশন (ডিবিআইডি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আলোকে পারসোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট (পিআরএ) আছে, এমন শ্রমনির্ভর অতিক্ষুদ্র বা ভাসমান উদ্যোক্তা বা সেবাপ্রদানকারীরা ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক বা প্রান্তিক উদ্যোক্তা’ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, মাঝারি শিল্প–উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। যেসব কোম্পানিতে ১২১ থেকে ৩০০ জন কর্মী রয়েছেন এমন তৈরি পোশাক কারখানা অথবা শ্রমঘন শিল্পে যেখানে ১০০০ কর্মী কাজ করছেন এ ঋণ দেওয়া হবে।

এছাড়া মাঝারি শিল্পের মধ্যে সেবা খাতে সর্বোচ্চ ৭৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে, যেখানে কর্মীর সংখ্যা ৫১ থেকে ১২০।

এতে বলা হয়েছে, নারী উদ্যোক্তাদের ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের বিবেচনায় সহায়ক জামানত ব্যতিরেকে ২৫ লাখ টাকার বেশি ঋণ প্রদান করতে পারবে। এছাড়া ব্যবসায়ীক অভিজ্ঞতার শর্ত আরোপ নমনীয় মনোভাব প্রদর্শন করতে হবে।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ই কমার্স ও এফ কমার্স উদ্যোক্তারাও এখন ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ঋণ পাবেন। তাদের ট্রেড লাইসেন্স না করার পেছনে অনেক বাস্তব কারণ থাকার কথা বিবেচনায় নিয়ে এমন সিদ্ধান্তের কথা বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা।

নতুন নীতিমালায় নারী উদ্যোক্তাদের সংজ্ঞাকে বিস্তৃত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, নারী উদ্যোক্তা ও নারী উদ্যোগের ক্ষেত্রে নারী মালিকানাধীন উদ্যোগের পাশাপাশি নারী পরিচালিত উদ্যোগসমূহও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সিএমএসএমই খাতের কোনো একটি উদ্যোগ নারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে যদি তিনি অংশীদারী প্রতিষ্ঠান বা জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধিত প্রাইভেট কোম্পানির পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ন্যূনতম ২০ শতাংশ অংশের মালিক হন।

ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অথবা নির্বাহী পরিচালক অথবা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অথবা সমপর্যায়ের পদে একজন নারী দায়িত্বরত থাকেন কিংবা অংশীদারী প্রতিষ্ঠান বা জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধিত প্রাইভেট কোম্পানির পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ন্যূনতম ২০ শতাংশ অংশের মালিক হন এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থায়ী জনবলের ন্যূনতম ৫১ শতাংশ নারী কর্মরত থাকলে সেটিকে নারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
 


যতটা বলা হয় আদৌও কি অতটা স্বাস্থ্যসম্মত হরলিকস। তারপরও এটা বাংলাদেশের মানুষের কাছে পছন্দের একটা ড্রিংকস। এতে রয়েছে সুগার, যা কিনা ক্ষতিকর।

 



জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের হিসাবে, ডিসেম্বরে মোট পণ্য আমদানি হয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ টন। এই আমদানি গত ৩৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বোচ্চ পরিমাণ পণ্য আমদানির রেকর্ড হয়েছিল ২০২২ সালের মার্চে। ওই মাসে ১ কোটি ৪৪ লাখ টন পণ্য আমদানি হয়েছিল।

ছবি: চট্টগ্রাম বন্দর (সংগৃহীত)।

গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি ব্যবসায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। ঋণপত্র খোলার জটিলতা, ডলারের বাড়তি দাম ও ব্যাংকের দুরবস্থার কারণে নতুন আমদানিকারকেরাও পুরোদমে আমদানি শুরু করতে পারছেন না। অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর কয়েক মাস রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ছিল মন্দাভাব। এসব কারণে ডিসেম্বরে আমদানি কমতে পারে বলে শঙ্কায় ছিলেন ব্যবসায়ীরাও। তবে ব্যবসায়ীদের সেই শঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। গত ডিসেম্বরে কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ পণ্য আমদানি হয়েছে।


শুধু পরিমাণে নয়, শুল্কায়ন মূল্যের দিক থেকেও দেড় বছরের মধ্যে আমদানির রেকর্ড হয়েছে ডিসেম্বরে। ডিসেম্বরে দেশে আমদানি হওয়া সব ধরনের পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য ছিল ৭৩৮ কোটি মার্কিন ডলার, যা ১৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বশেষ ২০২৩ সালের মে মাসে ৭৬৩ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল। পণ্যের দাম, পরিবহন ভাড়া ও বিমা খরচসহ পণ্যের দাম নির্ধারণ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, যা শুল্কায়ন মূল্য হিসেবে পরিচিত। শুল্কায়ন মূল্যের তুলনায় প্রকৃত আমদানি ব্যয় কম হয়।

এদিকে ডিসেম্বরের পণ্য আমদানির প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই–ডিসেম্বর) সার্বিকভাবে আমদানি বেড়েছে। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আমদানি হয়েছে ৬ কোটি ৮৫ লাখ টন পণ্য। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৫৮ লাখ টন। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পরিমাণের দিক থেকে আমদানি বেড়েছে ৪ শতাংশ।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতে রিজার্ভের পতন থেমেছে। ঋণপত্র খুলতে এখন ডলার পাওয়া যাচ্ছে। আমদানিতে যেসব সীমাবদ্ধতা ছিল, সেগুলো শিথিল হয়েছে। এসব কারণে বছরের শেষের দিকে আমদানি বেড়ে গেছে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করায় ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রাথমিক অনিশ্চয়তা কেটেছে। উদ্যোক্তারা ধীরে ধীরে ব্যবসা-বাণিজ্য ফিরে আসছেন। যার প্রভাব আমদানিতে দেখা যাচ্ছে।


আমদানির পর খালাস না নেওয়া গাড়ির বড় নিলাম ডাকতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা ৩১টি বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজারসহ ১০০ গাড়ি নিলামে বিক্রি হবে। শুল্কসহ এসব গাড়ির মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। ২১ জানুয়ারি নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পর্যটকদের জন্য বিশেষ সুবিধায় আমদানি করা ১১২টি গাড়ি ২০২১ সালের শেষের দিকে একসঙ্গে নিলামে তোলা হয়েছিল। প্রায় তিন বছর পর হতে যাচ্ছে আরেকটি বড় আকারের নিলাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, শুল্ক জটিলতাসহ নানা কারণে অনেকে বন্দর থেকে আমদানি করা গাড়ি ছাড় করাতে পারেন না। আমদানি পণ্য জাহাজ থেকে বন্দরে নামানোর ৩০ দিনের মধ্যে খালাস না নিলে বন্দর কর্তৃপক্ষ চালানের সব নথি কাস্টমসে হস্তান্তর করেন। আমদানিকারককে পণ্য খালাসের জন্য ১৫ দিনের সময় বেঁধে চিঠি দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে আমদানিকারক সাড়া না দিলে নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। মামলা না থাকলে পণ্য নিলামে তোলা হয়। আর মামলা থাকলে অপেক্ষা করতে হয় আইনি জটিলতা নিরসন পর্যন্ত। 

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, গত আগস্ট পর্যন্ত নিলামযোগ্য গাড়ি ছিল ৩৭২টি। এর মধ্যে কড়াকড়ি আরোপের কারণে কিছু গাড়ি ডেলিভারি নেওয়া হয়েছে। বাকি গাড়ির মধ্যে ১০০টি নিলামে তোলার প্রস্তুতি শেষ করেছেন কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার (নিলাম) মো. সাকিব হোসেন বলেন, ‘নিলামযোগ্য ১০০ গাড়ির ইনভেনট্রি শেষে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন পেলে নিলাম ডাকা হবে। ২১ জানুয়ারি বা তার আগেও নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।’ 

কাস্টম হাউসসূত্র জানান, বিক্রির তালিকায় থাকা গাড়ির মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা ৩১টি ল্যান্ডক্রুজার রয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর সংসদ ভেঙে যাওয়ায় শুল্কমুক্ত সুবিধা গ্রহণ করতে পারেননি সংসদ সদস্যরা।সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার গাড়ি আসন্ন নিলামে তোলা হচ্ছে। 

প্রচলিত নিয়মের পাশাপাশি এবার নিলাম হবে ই-অকশন পদ্ধতি বা অনলাইনে। তাই দেশের যে কোনো এলাকা থেকে যে-কেউ নিলামে অংশ নিতে পারবেন।