0201251735807594appweb-logo.png
Loading...

অর্থনীতি


নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, ব্যবসা সংক্রান্ত সনদপত্র দিয়ে এ ঋণ পাবেন ছোট ছোট উদ্যোক্তারা।

করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেই এমন ছোট উদ্যোক্তাদের জামানত ছাড়া ব্যাংক ঋণ নেওয়ার পথ সুগম করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক; যারা ব্যবসা চালাতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন।

আগেও জামানত ছাড়া উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে পারতেন। তবে সেসব ক্ষেত্রে টিআইএন ও আরো কিছু বিষয়ের ওপর বিবেচনা করে ঋণ দেওয়ার নিয়ম ছিল। তবে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (সিএসএমই) নতুন নীতিমালায় এসব উদ্যোক্তাদের জামানত ছাড়া ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পাঁচ বছরের জন্য নতুন এই সিএমএসএমই নীতিমালা সোমবার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এতে বলা হয়েছে, ব্যবসা সংক্রান্ত সনদপত্র দিয়ে এ ঋণ পাবেন ছোট ছোট উদ্যোক্তারা।

উৎপাদন, সেবা ও ব্যবসা-এই তিন অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে যাদের জনবল পারিবারিক সদস্যসহ ৫ থেকে ১০ জনের মধ্যে অর্থাৎ ১০ জনের বেশি নয় তারা এ ক্যাটাগরিতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তারা আগেও ঋণ পেতেন। তবে তখন তারা ‘পার্সোনাল লোন’ পেতেন, যেটির সুদের হার বেশি। তাদের জন্য এ ঋণ নিয়ে ব্যবসা করা কঠিন ছিল।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তারা হচ্ছেন ছোট ছোট চা দোকানওয়ালা কিংবা এই রকম যারা কাজ করেন। তাদের ট্রেড লাইসেন্স নেই। এমন উদ্যোক্তারা যাতে ঋণ পান সে ব্যবস্থা করা হয়েছে নতুন এ নীতিমালায়। এখন তারা কম সুদে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পাঁচ বছরের জন্য সিএমএসএমই নীতিমালা করা হয়েছিল। সেটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন এই নীতিমালা করা হয়েছে। এটি আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে।

এ বিষয়ক সার্কুলারে ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তা’ নামে নতুন এই শ্রেণি যুক্ত করে এ বিষয়ে ব্যাংকের করণীয় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে কোন উদ্যোক্তা অপ্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তার ক্যাটাগরিতে পড়বেন তা সুষ্পষ্ট করে বলা হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ এর আলোকে ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক শিল্প খাতের উদ্যোক্তা’ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রণীত ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা–২০২১ অনুযায়ী এ উদ্যোক্তাদের সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে।

ইউনিক বিজনেস আইডেনটিফিকেশন (ইউবিআইডি), ডিজিটাল বিজনেস আইডেনটিফিকেশন (ডিবিআইডি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আলোকে পারসোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট (পিআরএ) আছে, এমন শ্রমনির্ভর অতিক্ষুদ্র বা ভাসমান উদ্যোক্তা বা সেবাপ্রদানকারীরা ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক বা প্রান্তিক উদ্যোক্তা’ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, মাঝারি শিল্প–উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। যেসব কোম্পানিতে ১২১ থেকে ৩০০ জন কর্মী রয়েছেন এমন তৈরি পোশাক কারখানা অথবা শ্রমঘন শিল্পে যেখানে ১০০০ কর্মী কাজ করছেন এ ঋণ দেওয়া হবে।

এছাড়া মাঝারি শিল্পের মধ্যে সেবা খাতে সর্বোচ্চ ৭৫ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে, যেখানে কর্মীর সংখ্যা ৫১ থেকে ১২০।

এতে বলা হয়েছে, নারী উদ্যোক্তাদের ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের বিবেচনায় সহায়ক জামানত ব্যতিরেকে ২৫ লাখ টাকার বেশি ঋণ প্রদান করতে পারবে। এছাড়া ব্যবসায়ীক অভিজ্ঞতার শর্ত আরোপ নমনীয় মনোভাব প্রদর্শন করতে হবে।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি ই কমার্স ও এফ কমার্স উদ্যোক্তারাও এখন ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ঋণ পাবেন। তাদের ট্রেড লাইসেন্স না করার পেছনে অনেক বাস্তব কারণ থাকার কথা বিবেচনায় নিয়ে এমন সিদ্ধান্তের কথা বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা।

নতুন নীতিমালায় নারী উদ্যোক্তাদের সংজ্ঞাকে বিস্তৃত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, নারী উদ্যোক্তা ও নারী উদ্যোগের ক্ষেত্রে নারী মালিকানাধীন উদ্যোগের পাশাপাশি নারী পরিচালিত উদ্যোগসমূহও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সিএমএসএমই খাতের কোনো একটি উদ্যোগ নারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে যদি তিনি অংশীদারী প্রতিষ্ঠান বা জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধিত প্রাইভেট কোম্পানির পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ন্যূনতম ২০ শতাংশ অংশের মালিক হন।

ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অথবা নির্বাহী পরিচালক অথবা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অথবা সমপর্যায়ের পদে একজন নারী দায়িত্বরত থাকেন কিংবা অংশীদারী প্রতিষ্ঠান বা জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধিত প্রাইভেট কোম্পানির পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ন্যূনতম ২০ শতাংশ অংশের মালিক হন এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্থায়ী জনবলের ন্যূনতম ৫১ শতাংশ নারী কর্মরত থাকলে সেটিকে নারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
 


ঢাকায় ঈদ উপলক্ষে কম দামে ভালো মানের পোশাক কেনার জন্য বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় মার্কেট রয়েছে

বাংলাদেশের ঈদ শপিং শুধু কেনাকাটার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি আনন্দঘন উৎসব। রাস্তায় মানুষের ভিড়, মার্কেটগুলোর আলোকসজ্জা এবং বিভিন্ন পণ্যের অফার সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সময়ের সাথে সাথে অনলাইন শপিংয়ের প্রবণতা বাড়লেও, সরাসরি দোকানে গিয়ে কেনাকাটার উন্মাদনা এখনো কমেনি। ঈদ আসলেই কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে

গাউছিয়া মার্কেট
গাউছিয়া মার্কেট ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় শপিং সেন্টার, যেখানে মহিলাদের পোশাকের বিপুল সমাহার রয়েছে। এখানে জামদানি শাড়ি, থ্রি-পিস, লুঙ্গি, টুপি, ওড়না, সুতি কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক পাওয়া যায়। মঙ্গলবার পুরো দিন এবং বুধবার অর্ধেক দিন এই মার্কেট বন্ধ থাকে। 
 

কেন জনপ্রিয়?

মেয়েদের জন্য শাড়ি, থ্রি-পিস, কুর্তি ও বাচ্চাদের পোশাক

দরদাম করে কেনার সুযোগ

ব্যস্ত মার্কেট, ঈদের আগে প্রচুর ভিড় হয়

যাতায়াত ব্যবস্থা:

বাস: যেকোনো বাস যেটি আজিমপুর, নিউমার্কেট বা শাহবাগ যায়, তা দিয়ে নামতে পারেন।

রিকশা/সিএনজি: শাহবাগ, ধানমন্ডি বা ফার্মগেট থেকে সহজেই যাওয়া যায়।

মেট্রোরেল: বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন থেকে নেমে রিকশায় নিউমার্কেটে পৌঁছানো যাবে।




নিউ মার্কেট

আজিমপুরের উত্তরাংশে মিরপুর রোডে অবস্থিত নিউ মার্কেট ঢাকার অন্যতম ব্যস্ততম মার্কেট। এখানে তৈরি পোশাক, প্রসাধনী সামগ্রী থেকে শুরু করে ঘরের যাবতীয় জিনিস পাওয়া যায়। মঙ্গলবার সারা দিন এবং বুধবার অর্ধদিবস এই মার্কেট বন্ধ থাকে।

কেন জনপ্রিয়?

ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্য পোশাক

জুতাসহ আনুষঙ্গিক পণ্যও পাওয়া যায়

পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা একই জায়গায়

যাতায়াত ব্যবস্থা:

বাস: আজিমপুর, শাহবাগ, ফার্মগেট বা মিরপুর থেকে বাস পাওয়া যায়।

মেট্রোরেল: কাঁটাবন স্টেশন থেকে রিকশা নিয়ে সহজে যাওয়া যাবে।

রিকশা/সিএনজি: ধানমন্ডি, বাংলামোটর, শাহবাগ থেকে সহজেই যাওয়া যায়।


মৌচাক মার্কেট

মালিবাগে অবস্থিত মৌচাক মার্কেট একটি ঐতিহ্যবাহী শপিং সেন্টার। এখানে শাড়ি, থ্রি-পিস, বাচ্চাদের পোশাকসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক পাওয়া যায়। এই মার্কেট বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে।
 

কেন জনপ্রিয়?

মধ্যবিত্তদের জন্য আদর্শ মার্কেট

মেয়েদের জন্য শাড়ি, থ্রি-পিস ও বাচ্চাদের পোশাক পাওয়া যায়

তুলনামূলক কম ভিড়

যাতায়াত ব্যবস্থা:

বাস: মালিবাগ মোড়গামী বাস ধরে মৌচাকে নামতে হবে।

রিকশা/সিএনজি: মতিঝিল, গুলিস্তান, পল্টন থেকে খুব সহজেই যাওয়া যায়।
 

নূরজাহান মার্কেট

নূরজাহান মার্কেট কম দামে ব্র্যান্ডের পোশাকের জন্য পরিচিত। এখানে ছেলে, মেয়ে ও শিশুদের পোশাক পাওয়া যায়। অনেক ক্রেতা এখানে একটি পোশাক কিনতে এসে কম দামের কারণে একাধিক পোশাক কিনে নেন।

কেন জনপ্রিয়?

ব্র্যান্ডের রিজেক্ট পোশাক কম দামে পাওয়া যায়

ছেলেদের পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, শার্টের জন্য বিখ্যাত

যাতায়াত ব্যবস্থা:

বাস: মিরপুর-১ বা মিরপুর-১০ গামী বাস ধরে নেমে যেতে পারবেন।

মেট্রোরেল: মিরপুর-১০ স্টেশন থেকে রিকশায় যাওয়া সহজ।

রিকশা/সিএনজি: মিরপুরের অন্যান্য এলাকা বা গাবতলী থেকে যাওয়া যায়।



আজিজ সুপার মার্কেট

আজিজ সুপার মার্কেট দেশীয় পণ্যের সমাহার নিয়ে পরিচিত। এখানে ছেলেদের পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, ফতুয়া, মেয়েদের শাড়ি, জামা, থ্রি-পিস, ব্যাগ ইত্যাদি পাওয়া যায়।

কেন জনপ্রিয়?

ট্রেন্ডি ও ডিজাইনার পোশাকের জন্য জনপ্রিয়

বুটিক স্টাইল পোশাক পাওয়া যায়

যাতায়াত ব্যবস্থা:

বাস: শাহবাগ বা বাংলামোটর গামী বাস ধরতে হবে।

মেট্রোরেল: কারওয়ান বাজার স্টেশন থেকে রিকশায় যাওয়া যাবে।

রিকশা/সিএনজি: ফার্মগেট, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি থেকে সহজেই যাওয়া যায়।

হকার্স মার্কেট

ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের ফুটপাতে ল্যাগিন্স, জ্যাগিন্স, মেয়েদের ওয়ানপিস জামা, শিশুদের পোশাক সস্তায় পাওয়া যায়। দেখে-শুনে দরদাম করে কিনতে পারলে ভালো মানের পণ্য পাওয়া যায়।

ঈদের কেনাকাটায় কম দামে ভালো মানের পোশাকের জন্য এই মার্কেটগুলোতে ভ্রমণ করতে পারেন। তবে, কেনাকাটার সময় পণ্যের গুণগত মান যাচাই এবং দরদাম করার বিষয়টি মাথায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

কেন জনপ্রিয়?

স্টাইলিশ পোশাকের জন্য বিখ্যাত

টিনএজারদের জন্য দারুণ কালেকশন

যাতায়াত ব্যবস্থা:

বাস: ধানমন্ডি ২৭ নাম্বার গামী বাস ধরতে হবে।

রিকশা/সিএনজি: ধানমন্ডির যেকোনো জায়গা থেকে সহজেই যাওয়া যায়।


 


ফ্রান্সের প্যারিসে উইন্টার ২০২৫ সংগ্রহ উন্মোচন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশি লাক্সারি ফ্যাশন ব্র্যান্ড জুরহেম। দেশে প্রতিষ্ঠিত লাক্সারি ব্র্যান্ড হিসেবে জুরহেমই প্রথমবারের মতো প্যারিসে প্রদর্শনীতে যাচ্ছে।

ব্র্যান্ডটির নতুন এই কালেকশন ৮ মার্চ প্যারিসের ঐতিহাসিক চ্যাপেল সেন্ট জন দ্য’আর্কে প্রদর্শিত হবে। এই আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে আছে বিখ্যাত ফরাসি ফ্যাশন ব্র্যান্ড হাউস অব ভ্যানডমে।

২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত জুরহেম দ্রুতই বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় লাক্সারি ফ্যাশন ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ব্র্যান্ডটি প্রথমে বেস্পোক কালেকশন দিয়ে শুরু করলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রেট-আ-পোর্টার বা রেডি-টু-ওয়্যার সংগ্রহ দিয়ে ঢাকার অভিজাত মহলে সুনাম কুড়াতে থাকেন।

ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ও স্বনামধন্য ফ্যাশন ডিজাইনার মেহরুজ মুনীরের নেতৃত্বে, ব্র্যান্ডটি বাংলাদেশে হাই-এন্ড ফ্যাশনের সংজ্ঞা নতুনভাবে গড়ে তুলেছে।

জুরহেমের নতুন সংগ্রহ ‘Solaris’ সূর্যের মহাজাগতিক যাত্রা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা হয়েছে। ১৫টি পুরুষদের পোশাক এবং ৫টি নারীদের পোশাক নিয়ে সাজানো এই সংগ্রহে সূর্যের গতিপথের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সূক্ষ্ম অলঙ্করণ ও নান্দনিক স্যালুয়েটের মাধ্যমে। পোশাকে রঙের ব্যবহারে দিনের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হয়েছে।

‘Solaris’ সংগ্রহের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য বৃত্তাকার অলঙ্করণ, যা সূর্য, চাঁদ ও গ্রহের প্রতীকী রূপ দেয়। কিছু ডিজাইনে এটি উজ্জ্বল সূর্যকিরণ হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে, আবার কিছু ডিজাইনে নক্ষত্রমণ্ডলের জটিল বিন্যাসের মতো সাজানো হয়েছে, যা মহাজাগতিক সৌন্দর্যের প্রতিফলন ঘটায়।

জুরহেমের পুরুষদের পোশাকের জন্য বেশ সুপরিচিত। নতুন সংগ্রহে এখানে স্ট্রাকচারড টেইলরিং এবং উদ্ভাবনী লেয়ারিং দেখা যাবে। নতুন সংগ্রহে রয়েছে  সুট জ্যাকেট, টাক্সেডো, ওভারকোট এবং পার্কা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ল্যাসিক শিলুয়েটকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যেমন— নতুন সংগ্রহে ক্রপড জ্যাকেট ও বান্ধগালা ইউরোপীয় বাজারের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, অন্যদিকে কর্সেটেড এনসেম্বল ও ফ্লোর-লেন্থ ট্রেনের মতো সাহসী ডিজাইন পুরুষদের পোশাকে সংযোজন করা হয়েছে।

অপরদিকে নারীদের জন্য, মেহরুজ মুনীর পাঁচটি চমকপ্রদ কুতুর গাউন উপস্থাপন করেছেন, যা হাই-এন্ড  ফ্যাশনের এক অনন্য উদাহরণ। ড্রামাটিক ট্রেন, ভাস্কর্যসদৃশ আকৃতি এবং কৌশলগত কাটআউটের মাধ্যমে প্রতিটি গাউনে নান্দনিকতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্যারিসের ঐতিহ্যবাহী কতুর ফ্যাশনের প্রতি সম্মান জানিয়ে, এই সংগ্রহটি নিখুঁত কারিগরি ও রাজকীয় সৌন্দর্যের প্রতিচিত্র তুলে ধরেছে।
 


তিন হাজার কোটি টাকার ইসলামিক বন্ড বা সুকুক ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গুরুত্বপূর্ণ পল্লী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে অর্থায়নের পদক্ষেপ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত শরিয়া উপদেষ্টা কমিটির প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।সাত বছর মেয়াদি এই সুকুক ইস্তিসনা ও ইজারার ইসলামী ব্যাংকিং নীতিমালার আওতায় ইস্যু করা হবে।

সামাজিক উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে এর নাম দেওয়া হয়েছে সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট সুকুক। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কবির আহমেদের নেতৃত্বে দেশের আট বিভাগের ৫৮টি উপজেলায় ৮২টি সেতু নির্মাণে অর্থায়ন করা হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকল্পটিতে ১৭ হাজার ৬৯৭ মিটার সেতু, ৩৮ হাজার ৮০০ মিটার সংযোগ সড়ক এবং চার হাজার ২৩০ মিটার নদীশাসনকাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, এই সুকুক ইস্যু প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।

উন্নত গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক প্রকল্প এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি ও অকৃষি পণ্য পরিবহন সহজতর করবে, ব্যয় কমাবে এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।



বৈধপথে রেমিটেন্স প্রেরণে প্রবাসীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল সিডনির উদ্যোগে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সিডনির বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন ক‍্যানবেরার চার্জ ড‍্যা অ‍্যাফের্য়াস ড. দেওয়ান মো. শাহারিয়ার ফিরোজ। 

তিনি বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

এসময় বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের কাউন্সেলর মো. সালাহউদ্দিন প্রবাসীদের ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ডে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। তিনি প্রবাসীদের কল্যাণার্থে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ অবহিতকরণ সভায় উপস্থাপন করেন। 

সভায় বক্তারা বলেন, বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠানোর ফলে দেশ উপকৃত হচ্ছে। প্রবাসীদের অবদানকে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিটেন্সের ওপর সরাসরি ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রবাসীরা সরকারের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং প্রবাসীদের কল্যাণার্থে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।


আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) এক হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুতির চিঠি দেওয়া হয়েছে। 

এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক সংস্থার (ইউএসএআইডি) অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে চাকরি করতেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধের জেরে তারা চাকরি হরিয়েছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার সকালে আইসিডিডিআরবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, যেসব প্রকল্প ইউএসএআইডির ফান্ডে চলত, সেগুলোর প্রায় সবই বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে সেই সব প্রকল্পে কর্মরতদের চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আইসিডিডিআরবিতে প্রায় পাঁচ হাজারের ওপরে কর্মী, এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ (এক হাজারের বেশি) কর্মীকে টার্মিনেশন লেটার (চাকরিচ্যুতির চিঠি) দেওয়া হয়েছে। 

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, সবচেয়ে বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ হারিয়েছেন সংক্রামক রোগ বিভাগের যক্ষ্মাবিষয়ক কর্মসূচি থেকে।
যক্ষ্মা কর্মসূচির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারের জাতীয় যক্ষ্মানিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সঙ্গে কাজ করতেন।
প্রসঙ্গত, আইসিডিডিআরবির অনেক গবেষণায় অর্থায়ন করে ইউএসএআইডি। বার্ষিক বরাদ্দের ২০ শতাংশের বেশি অর্থ আসে ইউএসএআইডি থেকে। আইসিডিডিআরবিতে কাজ করেন পাঁচ হাজারের বেশি গবেষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
 
প্রসঙ্গত, আইসিডিডিআরবির অনেক গবেষণায় অর্থায়ন করে ইউএসএআইডি। বার্ষিক বরাদ্দের ২০ শতাংশের বেশি অর্থ আসে ইউএসএআইডি থেকে। আইসিডিডিআরবিতে কাজ করেন পাঁচ হাজারের বেশি গবেষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী।


যতটা বলা হয় আদৌও কি অতটা স্বাস্থ্যসম্মত হরলিকস। তারপরও এটা বাংলাদেশের মানুষের কাছে পছন্দের একটা ড্রিংকস। এতে রয়েছে সুগার, যা কিনা ক্ষতিকর।

 



নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি করায় দেশের রিটেইল চেইনশপ মিনা বাজারকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ভুক্তভোগী একজনের অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার (১৯ জানুয়ারি) সকালে ভোক্তা অধিদপ্তরের উপপরিচালক রিনা বেগম শুনানি শেষে মিনা বাজারকে জরিমানা করেন।

 

প্রতীকী ছবি।

এদিন শুনানিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রিনা বেগম উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি নথি-পত্র যাচাই করেন। এতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মিনা বাজারকে ২ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন তিনি। শুনানির সময় অভিযোগকারী ও মিনা বাজারের একজন প্রতিনিধি ছাড়াও তাদের পক্ষে একজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি সুপারশপ ‘স্বপ্ন’র একটি আউটলেটে অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ওই অভিযানে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের (বিএটি) উৎপাদিত সিগারেট প্যাকেটে মুদ্রিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের চেয়ে অনেকটা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। পরে স্বপ্ন’র ওই আউটলেট কর্তৃপক্ষ বেশি দামে সিগারেট বিক্রির অভিযোগ স্বীকার করায় তাৎক্ষণিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

পরবর্তীতে এক শুনানিতে স্বপ্ন ও ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকোকে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা পরিশোধের আদেশ দেয় ভোক্তা অধিদপ্তর। এছাড়া অপর একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবাদুস সালাম (মেট্রো-৪) স্বপ্ন সুপার শপকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।


করের ভারে জর্জরিত বাংলাদেশের টেলিকম শিল্প। এতে সেবাগ্রহীতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ করহারের কারণে টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের আগ্রহ বেশ কম। যা নতুন প্রযুক্তি প্রসারে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর মধ্যে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এয়ারটেল, সিংটেল, ওয়ারিদসহ বেশ কিছু বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান।

মোবাইল ফোন সেবায় সমপর্যায়ের বাজার ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর বাংলাদেশে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাতের ওপর সম্পূরক শুল্ক ছিল ৩ শতাংশ। এর পর থেকে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ নিয়ে আসে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। এমন পরিস্থিতিতে, মোবাইল ফোন সেবার ওপর সম্প্রতি আরও ৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টদের অভিমত, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর দিতে হচ্ছে বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের।

বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট এন্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স তাইমুর রহমান বলেন, বিশ্বব্যাপী টেলিকম খাতে বাংলাদেশের মতো এমন ট্যাক্স কম আছে। প্রতি বছরই আমাদের ওপর (টেলিকম খাতে) কর বাড়ে। কর বাড়ার কারণে গ্রাহকদের ওপর চাপ বাড়বে। কেননা কর বাড়লে গ্রাহকদের থেকে সেটা আমাদের নিতে হয়।

বর্ধিত কর হারের জন্য বিনিয়োগকারীরা অন্যত্র সরে যাওয়ার আশঙ্কা করে তিনি আরও বলেন, কর বাড়ার কারণে ভুল ইঙ্গিত যাচ্ছে আমাদের বিনিয়োগকারীদের মাঝে। আমাদের যারা মাল্টিন্যাশনাল বিনিয়োগকারী আছে। তারা যদি দেখে একটা দেশে বিনিয়োগ করে লাভ হচ্ছে না। তাহলে তারা তো ভাববে আমি কেনো এখানে বিনিয়োগ করবো। আমার মনে হয় তারা বিনিয়োগ অন্য জায়গায় নিয়ে যাবে। এটা আমাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

উচ্চ করহারের কারণে এ খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ হারাবে। যা নতুন প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগের প্রসারে বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন ডিজিটাল সেবা গ্রহীতিরা।

রবির চিফ কর্পোরেট এন্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স শাহেদুল আলম বলেন, অনেক দেশে কিন্তু আলাদাভাবে মোবাইলে কোনো ট্যাক্স নেই। কিন্তু আমাদের দেশে মোবাইলে ট্যাক্স আছে। আমরা যেটা দেখছি, অন্যান্য দেশে যখন ট্যাক্স কমানো হয়েছে, ভোক্তাদের পরিসর বেড়েছে এতে সরকারের আয় বেড়েছে তেমনি বিনিয়োগও বেড়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে এখানে পুরো উল্টো।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের ফলে করের বোঝা টানতে হবে গ্রাহককে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের খরচ কিন্তু কম। তার যখন খরচ বেড়ে যাবে। সে তখন তার খরচ কমায় নিয়ে আসবে। যার ফলে সরকার বিশ্বব্যাপী খরচের ব্যাপারে যে আশা করছে। তা সম্পূর্ণ বিফলে যাবে।

উল্লেখ্য, জিএসএমএ ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের করনীতি নিয়ে একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, মোবাইল ফোন সেবায় প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর বাংলাদেশে। এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক গড় ২২ শতাংশ। বাংলাদেশে যা দ্বিগুণের বেশি।
 


বিশ্ব বাজারে পাম অয়েলের দাম কমতে শুরু করেছে। সয়াবিন তেলের চাহিদা বেড়েছে বলেই কমে যাচ্ছে পামের দাম। ফলে খারাপ আবহাওয়ার কারণে মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের উৎপাদন কমা নিয়ে যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল তাতে স্বস্তি ফিরবে। এক প্রতিবেদনে বিজনেস রেকর্ডার এ তথ্য জানায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের ডিসেম্বরে, ভারত পাঁচ লাখ টন পাম অয়েল আমদানি করে। যা নভেম্বরের চেয়ে ৪১ শতাংশ কম। ভারতের সরকার ও শিল্প কর্মকর্তারা জানুয়ারিতে পাম তেলের আমদানি পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন।

আগামী এপ্রিল ডেলিভারির জন্য বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে বেঞ্চমার্ক পাম অয়েল চুক্তির দাম ৭ রিঙ্গিত বা ০.১৭% বেড়ে ৪,১৯৩ রিঙ্গিত প্রতি মেট্রিক টন হয়েছে।

এদিকে, বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দামও কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫০ সেন্ট কমে ৮০ দশমিক ৭৯ ডলার হয়েছে। তাছাড়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টার মিডিয়েটের দাম ৮০ সেন্ট কমে ৭৭ দশমিক ৮৮ ডলার হয়েছে।
 


সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আর্কষণে হিটম্যাপ (রূপ রেখা) প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। এতে দেশের সম্ভাবনাময় ১৯টি খাতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

রোববার বিডা হিটম্যাপটি প্রকাশ্যে আনে। ভবিষ্যত্ বিনিয়োগের প্রচারে কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদান করবে সংস্থাটি।

এ ব্যাপারে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, এফডিআই হিটম্যাপ শুধু একটি পরিকল্পনা নয়। এটি আমাদের ভবিষ্যত্ বিনিয়োগের জন্য একটি রূপ রেখা। আমরা যে কোনো রোডশো, দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি বা নীতি সহায়তা এ তথ্য নির্ভর বিশ্লেষণ অনুসারে করব।   

এফডিআই হিটম্যাপে ১৯টি খাতকে তিনটি প্রধান মানদণ্ডের ভিত্তিতে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো বাজার প্রস্তুতি ও সম্ভাবনা, ইনপুট ফ্যাক্টরের প্রাপ্যতা (অভ্যন্তরীণ দিক), জাতীয় লক্ষ্য (এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য এবং ইএসজি বা পরিবেশ, সামাজিক দিক ও সুশাসন)। 

এক্ষেত্রে ‘এ' ক্যাটাগরি-কে বলা হচ্ছে তাত্ক্ষণিক লক্ষ্য। যা উচ্চ বাজার প্রস্তুতি, দ্রুত প্রবৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতামূলকভাবে সুবিধাজনক খাত। এই ক্যাটাগরিতে রয়েছে কোর অ্যাপারেল (পোশাক), ফার্মাসিউটিক্যালস বা ওষুধ, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, আইটি বা তথ্য প্রযুক্তি সক্ষম সেবা, উন্নত টেক্সটাইল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিখাত। ক্যাটাগরি ‘বি’ হলো দ্রুত প্রবেশযোগ্য খাত। এটি মধ্যম মানের বাজার প্রস্তুতি সম্পন্ন। তবে এটিও শক্তিশালী প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা রয়েছে। এই ক্যাটাগরিতে রয়েছে অটোমোটিভ পার্টস বা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রাংশ, ফুটওয়্যার, হালকা প্রকেৌশল ও চামড়া খাত। ক্যাটাগরি ‘সি’ তে রয়েছে লজিস্টিকস (আনুষঙ্গিক) এবং ইলেকট্রনিকস ও অ্যাসেম্বলি খাত। উন্নয়ন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই খাতে ইনপুট চ্যালেঞ্জ সমাধানে বিশেষ চুক্তি প্রয়োজন। এছাড়া ডি ক্যাটাগরিতে নীতি ও সক্ষমতা উন্নয়ন, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সহায়তা এবং ইকোসিস্টেম উন্নয়নের প্রয়োজনীয় খাত। এই খাতে রয়েছে ব্যাটারি, মেডিকেল ডিভাইস,  টেকনিক্যাল টেক্সটাইল, খেলনা, অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই), ও প্লাস্টিকখাত।  

বিডা জানায়, এফডিআই হিটম্যাপের কার্যকারিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ফোরাম, রোড শো এবং নীতি উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি একটি উপদষ্টো কাউন্সিল গঠন করে নীতিগত ঘাটতি পূরণ এবং ইকোসিস্টেম শক্তিশালীকরণের কাজও করবে তারা। বিডার নির্বাহী বিডার ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের প্রধান নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, বাংলাদেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি থাকা সত্ত্বেও, এফডিআই বর্তমানে জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে অবস্থান করছে। কিন্তু বৈশ্বিক গড় এফডিআই ৩ থেকে ৪ শতাংশ। হিটম্যাপ এই প্রবণতা পালটে দিতে পারে। হিটম্যাপটি প্রতি বছর পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হবে। এর লক্ষ্য বাজারের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ থাকা।


জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের হিসাবে, ডিসেম্বরে মোট পণ্য আমদানি হয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ টন। এই আমদানি গত ৩৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বোচ্চ পরিমাণ পণ্য আমদানির রেকর্ড হয়েছিল ২০২২ সালের মার্চে। ওই মাসে ১ কোটি ৪৪ লাখ টন পণ্য আমদানি হয়েছিল।

ছবি: চট্টগ্রাম বন্দর (সংগৃহীত)।

গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি ব্যবসায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। ঋণপত্র খোলার জটিলতা, ডলারের বাড়তি দাম ও ব্যাংকের দুরবস্থার কারণে নতুন আমদানিকারকেরাও পুরোদমে আমদানি শুরু করতে পারছেন না। অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর কয়েক মাস রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ছিল মন্দাভাব। এসব কারণে ডিসেম্বরে আমদানি কমতে পারে বলে শঙ্কায় ছিলেন ব্যবসায়ীরাও। তবে ব্যবসায়ীদের সেই শঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। গত ডিসেম্বরে কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ পণ্য আমদানি হয়েছে।


শুধু পরিমাণে নয়, শুল্কায়ন মূল্যের দিক থেকেও দেড় বছরের মধ্যে আমদানির রেকর্ড হয়েছে ডিসেম্বরে। ডিসেম্বরে দেশে আমদানি হওয়া সব ধরনের পণ্যের শুল্কায়ন মূল্য ছিল ৭৩৮ কোটি মার্কিন ডলার, যা ১৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বশেষ ২০২৩ সালের মে মাসে ৭৬৩ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল। পণ্যের দাম, পরিবহন ভাড়া ও বিমা খরচসহ পণ্যের দাম নির্ধারণ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, যা শুল্কায়ন মূল্য হিসেবে পরিচিত। শুল্কায়ন মূল্যের তুলনায় প্রকৃত আমদানি ব্যয় কম হয়।

এদিকে ডিসেম্বরের পণ্য আমদানির প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই–ডিসেম্বর) সার্বিকভাবে আমদানি বেড়েছে। অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে আমদানি হয়েছে ৬ কোটি ৮৫ লাখ টন পণ্য। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৫৮ লাখ টন। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পরিমাণের দিক থেকে আমদানি বেড়েছে ৪ শতাংশ।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতে রিজার্ভের পতন থেমেছে। ঋণপত্র খুলতে এখন ডলার পাওয়া যাচ্ছে। আমদানিতে যেসব সীমাবদ্ধতা ছিল, সেগুলো শিথিল হয়েছে। এসব কারণে বছরের শেষের দিকে আমদানি বেড়ে গেছে, যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করায় ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রাথমিক অনিশ্চয়তা কেটেছে। উদ্যোক্তারা ধীরে ধীরে ব্যবসা-বাণিজ্য ফিরে আসছেন। যার প্রভাব আমদানিতে দেখা যাচ্ছে।


জানুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে দেশে ১৪ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। তবে এই সময়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকসহ ৯টি ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। 

 ছবি: প্রথম ১৮ দিনে ৯ ব্যাংকে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি (সংগৃহীত) |

রোববার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে জানুয়ারির প্রথম দিন থেকে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) পর্যন্ত কোনো রেমিট্যান্স আসেনি এমন ব্যাংকের সংখ্যা ৯টি। এর মধ্যে একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক ছাড়াও একটি বিশেষায়িত ব্যাংক, ৩টি বেসরকারি ব্যাংক ও ৪টি বিদেশি ব্যাংক রয়েছে।

এই ব্যাংকগুলো হলো- রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), বিশেষায়িত খাতের রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেসরকারি খাতের কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, পদ্মা ব্যাংক পিএলসি ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংক।

এছাড়াও জানুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে বিদেশি খাতের হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও উরি ব্যাংকের মাধ্যমেও দেশে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি।


আমদানির পর খালাস না নেওয়া গাড়ির বড় নিলাম ডাকতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা ৩১টি বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজারসহ ১০০ গাড়ি নিলামে বিক্রি হবে। শুল্কসহ এসব গাড়ির মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। ২১ জানুয়ারি নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পর্যটকদের জন্য বিশেষ সুবিধায় আমদানি করা ১১২টি গাড়ি ২০২১ সালের শেষের দিকে একসঙ্গে নিলামে তোলা হয়েছিল। প্রায় তিন বছর পর হতে যাচ্ছে আরেকটি বড় আকারের নিলাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, শুল্ক জটিলতাসহ নানা কারণে অনেকে বন্দর থেকে আমদানি করা গাড়ি ছাড় করাতে পারেন না। আমদানি পণ্য জাহাজ থেকে বন্দরে নামানোর ৩০ দিনের মধ্যে খালাস না নিলে বন্দর কর্তৃপক্ষ চালানের সব নথি কাস্টমসে হস্তান্তর করেন। আমদানিকারককে পণ্য খালাসের জন্য ১৫ দিনের সময় বেঁধে চিঠি দেওয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে আমদানিকারক সাড়া না দিলে নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। মামলা না থাকলে পণ্য নিলামে তোলা হয়। আর মামলা থাকলে অপেক্ষা করতে হয় আইনি জটিলতা নিরসন পর্যন্ত। 

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, গত আগস্ট পর্যন্ত নিলামযোগ্য গাড়ি ছিল ৩৭২টি। এর মধ্যে কড়াকড়ি আরোপের কারণে কিছু গাড়ি ডেলিভারি নেওয়া হয়েছে। বাকি গাড়ির মধ্যে ১০০টি নিলামে তোলার প্রস্তুতি শেষ করেছেন কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার (নিলাম) মো. সাকিব হোসেন বলেন, ‘নিলামযোগ্য ১০০ গাড়ির ইনভেনট্রি শেষে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন পেলে নিলাম ডাকা হবে। ২১ জানুয়ারি বা তার আগেও নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।’ 

কাস্টম হাউসসূত্র জানান, বিক্রির তালিকায় থাকা গাড়ির মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা ৩১টি ল্যান্ডক্রুজার রয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর সংসদ ভেঙে যাওয়ায় শুল্কমুক্ত সুবিধা গ্রহণ করতে পারেননি সংসদ সদস্যরা।সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার গাড়ি আসন্ন নিলামে তোলা হচ্ছে। 

প্রচলিত নিয়মের পাশাপাশি এবার নিলাম হবে ই-অকশন পদ্ধতি বা অনলাইনে। তাই দেশের যে কোনো এলাকা থেকে যে-কেউ নিলামে অংশ নিতে পারবেন।