0201251735807594appweb-logo.png
Loading...

কর্পোরেট


ফ্রান্সের প্যারিসে উইন্টার ২০২৫ সংগ্রহ উন্মোচন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশি লাক্সারি ফ্যাশন ব্র্যান্ড জুরহেম। দেশে প্রতিষ্ঠিত লাক্সারি ব্র্যান্ড হিসেবে জুরহেমই প্রথমবারের মতো প্যারিসে প্রদর্শনীতে যাচ্ছে।

ব্র্যান্ডটির নতুন এই কালেকশন ৮ মার্চ প্যারিসের ঐতিহাসিক চ্যাপেল সেন্ট জন দ্য’আর্কে প্রদর্শিত হবে। এই আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে আছে বিখ্যাত ফরাসি ফ্যাশন ব্র্যান্ড হাউস অব ভ্যানডমে।

২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত জুরহেম দ্রুতই বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় লাক্সারি ফ্যাশন ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। ব্র্যান্ডটি প্রথমে বেস্পোক কালেকশন দিয়ে শুরু করলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রেট-আ-পোর্টার বা রেডি-টু-ওয়্যার সংগ্রহ দিয়ে ঢাকার অভিজাত মহলে সুনাম কুড়াতে থাকেন।

ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ও স্বনামধন্য ফ্যাশন ডিজাইনার মেহরুজ মুনীরের নেতৃত্বে, ব্র্যান্ডটি বাংলাদেশে হাই-এন্ড ফ্যাশনের সংজ্ঞা নতুনভাবে গড়ে তুলেছে।

জুরহেমের নতুন সংগ্রহ ‘Solaris’ সূর্যের মহাজাগতিক যাত্রা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করা হয়েছে। ১৫টি পুরুষদের পোশাক এবং ৫টি নারীদের পোশাক নিয়ে সাজানো এই সংগ্রহে সূর্যের গতিপথের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সূক্ষ্ম অলঙ্করণ ও নান্দনিক স্যালুয়েটের মাধ্যমে। পোশাকে রঙের ব্যবহারে দিনের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হয়েছে।

‘Solaris’ সংগ্রহের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য বৃত্তাকার অলঙ্করণ, যা সূর্য, চাঁদ ও গ্রহের প্রতীকী রূপ দেয়। কিছু ডিজাইনে এটি উজ্জ্বল সূর্যকিরণ হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে, আবার কিছু ডিজাইনে নক্ষত্রমণ্ডলের জটিল বিন্যাসের মতো সাজানো হয়েছে, যা মহাজাগতিক সৌন্দর্যের প্রতিফলন ঘটায়।

জুরহেমের পুরুষদের পোশাকের জন্য বেশ সুপরিচিত। নতুন সংগ্রহে এখানে স্ট্রাকচারড টেইলরিং এবং উদ্ভাবনী লেয়ারিং দেখা যাবে। নতুন সংগ্রহে রয়েছে  সুট জ্যাকেট, টাক্সেডো, ওভারকোট এবং পার্কা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ল্যাসিক শিলুয়েটকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যেমন— নতুন সংগ্রহে ক্রপড জ্যাকেট ও বান্ধগালা ইউরোপীয় বাজারের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, অন্যদিকে কর্সেটেড এনসেম্বল ও ফ্লোর-লেন্থ ট্রেনের মতো সাহসী ডিজাইন পুরুষদের পোশাকে সংযোজন করা হয়েছে।

অপরদিকে নারীদের জন্য, মেহরুজ মুনীর পাঁচটি চমকপ্রদ কুতুর গাউন উপস্থাপন করেছেন, যা হাই-এন্ড  ফ্যাশনের এক অনন্য উদাহরণ। ড্রামাটিক ট্রেন, ভাস্কর্যসদৃশ আকৃতি এবং কৌশলগত কাটআউটের মাধ্যমে প্রতিটি গাউনে নান্দনিকতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্যারিসের ঐতিহ্যবাহী কতুর ফ্যাশনের প্রতি সম্মান জানিয়ে, এই সংগ্রহটি নিখুঁত কারিগরি ও রাজকীয় সৌন্দর্যের প্রতিচিত্র তুলে ধরেছে।
 


আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) এক হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুতির চিঠি দেওয়া হয়েছে। 

এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক সংস্থার (ইউএসএআইডি) অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে চাকরি করতেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধের জেরে তারা চাকরি হরিয়েছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার সকালে আইসিডিডিআরবির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, যেসব প্রকল্প ইউএসএআইডির ফান্ডে চলত, সেগুলোর প্রায় সবই বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে সেই সব প্রকল্পে কর্মরতদের চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আইসিডিডিআরবিতে প্রায় পাঁচ হাজারের ওপরে কর্মী, এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ (এক হাজারের বেশি) কর্মীকে টার্মিনেশন লেটার (চাকরিচ্যুতির চিঠি) দেওয়া হয়েছে। 

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, সবচেয়ে বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ হারিয়েছেন সংক্রামক রোগ বিভাগের যক্ষ্মাবিষয়ক কর্মসূচি থেকে।
যক্ষ্মা কর্মসূচির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারের জাতীয় যক্ষ্মানিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সঙ্গে কাজ করতেন।
প্রসঙ্গত, আইসিডিডিআরবির অনেক গবেষণায় অর্থায়ন করে ইউএসএআইডি। বার্ষিক বরাদ্দের ২০ শতাংশের বেশি অর্থ আসে ইউএসএআইডি থেকে। আইসিডিডিআরবিতে কাজ করেন পাঁচ হাজারের বেশি গবেষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
 
প্রসঙ্গত, আইসিডিডিআরবির অনেক গবেষণায় অর্থায়ন করে ইউএসএআইডি। বার্ষিক বরাদ্দের ২০ শতাংশের বেশি অর্থ আসে ইউএসএআইডি থেকে। আইসিডিডিআরবিতে কাজ করেন পাঁচ হাজারের বেশি গবেষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী।


নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি করায় দেশের রিটেইল চেইনশপ মিনা বাজারকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ভুক্তভোগী একজনের অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার (১৯ জানুয়ারি) সকালে ভোক্তা অধিদপ্তরের উপপরিচালক রিনা বেগম শুনানি শেষে মিনা বাজারকে জরিমানা করেন।

 

প্রতীকী ছবি।

এদিন শুনানিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রিনা বেগম উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি নথি-পত্র যাচাই করেন। এতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মিনা বাজারকে ২ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন তিনি। শুনানির সময় অভিযোগকারী ও মিনা বাজারের একজন প্রতিনিধি ছাড়াও তাদের পক্ষে একজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি সুপারশপ ‘স্বপ্ন’র একটি আউটলেটে অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ওই অভিযানে ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের (বিএটি) উৎপাদিত সিগারেট প্যাকেটে মুদ্রিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের চেয়ে অনেকটা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা যায়। পরে স্বপ্ন’র ওই আউটলেট কর্তৃপক্ষ বেশি দামে সিগারেট বিক্রির অভিযোগ স্বীকার করায় তাৎক্ষণিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

পরবর্তীতে এক শুনানিতে স্বপ্ন ও ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকোকে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা পরিশোধের আদেশ দেয় ভোক্তা অধিদপ্তর। এছাড়া অপর একটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবাদুস সালাম (মেট্রো-৪) স্বপ্ন সুপার শপকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।


করের ভারে জর্জরিত বাংলাদেশের টেলিকম শিল্প। এতে সেবাগ্রহীতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ করহারের কারণে টেলিকম প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের আগ্রহ বেশ কম। যা নতুন প্রযুক্তি প্রসারে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এর মধ্যে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এয়ারটেল, সিংটেল, ওয়ারিদসহ বেশ কিছু বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান।

মোবাইল ফোন সেবায় সমপর্যায়ের বাজার ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর বাংলাদেশে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাতের ওপর সম্পূরক শুল্ক ছিল ৩ শতাংশ। এর পর থেকে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ নিয়ে আসে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। এমন পরিস্থিতিতে, মোবাইল ফোন সেবার ওপর সম্প্রতি আরও ৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টদের অভিমত, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর দিতে হচ্ছে বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের।

বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট এন্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স তাইমুর রহমান বলেন, বিশ্বব্যাপী টেলিকম খাতে বাংলাদেশের মতো এমন ট্যাক্স কম আছে। প্রতি বছরই আমাদের ওপর (টেলিকম খাতে) কর বাড়ে। কর বাড়ার কারণে গ্রাহকদের ওপর চাপ বাড়বে। কেননা কর বাড়লে গ্রাহকদের থেকে সেটা আমাদের নিতে হয়।

বর্ধিত কর হারের জন্য বিনিয়োগকারীরা অন্যত্র সরে যাওয়ার আশঙ্কা করে তিনি আরও বলেন, কর বাড়ার কারণে ভুল ইঙ্গিত যাচ্ছে আমাদের বিনিয়োগকারীদের মাঝে। আমাদের যারা মাল্টিন্যাশনাল বিনিয়োগকারী আছে। তারা যদি দেখে একটা দেশে বিনিয়োগ করে লাভ হচ্ছে না। তাহলে তারা তো ভাববে আমি কেনো এখানে বিনিয়োগ করবো। আমার মনে হয় তারা বিনিয়োগ অন্য জায়গায় নিয়ে যাবে। এটা আমাদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

উচ্চ করহারের কারণে এ খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ হারাবে। যা নতুন প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগের প্রসারে বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করেন ডিজিটাল সেবা গ্রহীতিরা।

রবির চিফ কর্পোরেট এন্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স শাহেদুল আলম বলেন, অনেক দেশে কিন্তু আলাদাভাবে মোবাইলে কোনো ট্যাক্স নেই। কিন্তু আমাদের দেশে মোবাইলে ট্যাক্স আছে। আমরা যেটা দেখছি, অন্যান্য দেশে যখন ট্যাক্স কমানো হয়েছে, ভোক্তাদের পরিসর বেড়েছে এতে সরকারের আয় বেড়েছে তেমনি বিনিয়োগও বেড়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে এখানে পুরো উল্টো।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের ফলে করের বোঝা টানতে হবে গ্রাহককে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের খরচ কিন্তু কম। তার যখন খরচ বেড়ে যাবে। সে তখন তার খরচ কমায় নিয়ে আসবে। যার ফলে সরকার বিশ্বব্যাপী খরচের ব্যাপারে যে আশা করছে। তা সম্পূর্ণ বিফলে যাবে।

উল্লেখ্য, জিএসএমএ ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের করনীতি নিয়ে একটি পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, মোবাইল ফোন সেবায় প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর বাংলাদেশে। এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক গড় ২২ শতাংশ। বাংলাদেশে যা দ্বিগুণের বেশি।