0201251735807594appweb-logo.png
Loading...

জাতীয়


মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশেও ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষত চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকা অঞ্চল উচ্চঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি দেশে ভূমিকম্প মোকাবিলায় সকল পর্যায়ে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ ও সচেতনতা তৈরির জন্য ৯টি বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। 

এতে বলা হয়েছে, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে শুক্রবার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্প দুটি’র মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ৭ ও ৬ দশমিক ৪। এতে দেশ দুটি বেশ ক্ষতির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশেও একই মাত্রার ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষত চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকা অঞ্চল উচ্চঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় ভূমিকম্প মোকাবিলার জন্য সকল পর্যায়ে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ ও সচেতনতা তৈরির জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর নিম্নরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। 

(১) বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০ অনুযায়ী ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ
(২) ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো ভবনগুলোর সংস্কার ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ
(৩) সকল বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার
(৪) ইউটিলিটি সার্ভিস যেমন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের লাইনের সঠিকতা নিশ্চিত
(৫) ভূমিকম্প চলাকালীন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি পর্যায়ে বিভিন্ন করণীয় সম্পর্কে নিয়মিত মহড়া অনুশীলন ও প্রচারের ব্যবস্থা
(৬) জরুরি টেলিফোন নম্বর যেমন ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ, হাসাপাতাল ও অন্যান্য জরুরি নম্বর ব্যক্তিগত পর্যায়ের পাশাপাশি সকল ভবন বা স্থাপনায় সংরক্ষণ এবং তা দৃশ্যমান স্থানে লিখে রাখা
(৭) ভলান্টিয়ার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দুর্যোগকালীন সময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা
(৮) জরুরি প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য সরঞ্জামাদি যেমন- টর্চলাইট, রেডিও (অতিরিক্ত ব্যাটারিসহ), বাঁশি, হ্যামার, হেলমেট বা কুশন, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ সামগ্রী, ফার্স্ট এইড বক্স, শিশু যত্নের সামগ্রী ইত্যাদি বাসা-বাড়িতে নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষণ করা যাতে ভূমিকম্প পরবর্তীতে আটকা পড়লে তা ব্যবহার করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা যায় এবং 
(৯) সকল পর্যায়ে তদারকি সংস্থার কার্যক্রমে সহযোগিতা করা

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভিন্ন কার্যক্রম চালু রেখেছে। যেকোনো তথ্যের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের এই নম্বর ০১৭২২৮৫৬৮৬৭, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স হটলাইন নম্বরে (১০২) যোগাযোগ এবং ফায়ার সার্ভিসের ওয়েবসাইট www.fireservice.gov.bd থেকে তথ্য সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়েছে।  
 


সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ পাচ্ছে দেশের বিভিন্ন মসজিদে ইমাম-মুয়াজ্জিনরা। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এই ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে যেসব ইমাম-মুয়াজ্জিনরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন তাদের ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট হতে এই ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, এই ট্রাস্ট থেকে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (২৪ মার্চ) ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সারাদেশে ৬০০ জন ইমাম-মুয়াজ্জিনকে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়েছে। একই অর্থবছরে ৪ হাজার ৬২০ জন ইমাম-মুয়াজ্জিনকে আর্থিক সহায়তা হিসেবে দুই কোটি ৩১ লাখ টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলার ২৯৫ জনকে ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট টাকা নির্বাচিতদের মাঝে বিতরণের কাজ চলছে। ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট হতে এই দুই খাতে মোট ৪ কোটি ১১ লাখ টাকা বিতরণ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কোন ইমাম বা মুয়াজ্জিন মারাত্মক দুর্ঘটনা, পঙ্গুত্ব, দুরারোগ্য ব্যাধি ইত্যাদি কারণে অক্ষম হয়ে পড়লে, আকস্মিকভাবেই মৃত্যুবরণ করলে তাকে আর্থিক সহায়তা ও ঋণ প্রদান, তাদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা এবং তাদের পরিবারের কল্যাণ সাধনের জন্য ২০০১ সালে এই ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট গঠিত হয়।
 


বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম এবং সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ‘কুরআনের নূর, পাওয়ার্ড বাই বসুন্ধরা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-তে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের নগদ অর্থ ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। এ উপলক্ষে আইসিসিবির নবরাত্রী হলে বিশ্ববরেণ্য আলেম-ওলামার মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

 বিশ্বের ১৭ দেশ থেকে ১৭ জন এবং দেশের প্রায় ১০ হাজার প্রতিযোগী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার মোহাম্মদ জাকি। তিনি পেয়েছেন ১৫ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ। আর দেশসেরা হয়েছেন নেত্রকোনার কিশোর হাফেজ মো. ইরশাদুল। তিনি পেয়েছেন ১০ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ।

কুরআনের এ প্রতিযোগিতাটি দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনজন এবং জাতীয় পর্যায়ে সেরা আটজন এ পুরস্কার জিতেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বাংলাদেশসহ ১৭ দেশের হাফেজবৃন্দ। চ্যাম্পিয়ন ও দুই রানারআপকে নগদ অর্থ পুরস্কারসহ সনদপত্র ও সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

চ্যাম্পিয়নকে ১৫ লাখ, প্রথম রানারআপকে ১০ লাখ এবং দ্বিতীয় রানারআপকে দেওয়া হয় ৭ লাখ টাকা। সবাইকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন ইন্দোনেশিয়ার মোহাম্মদ জাকি। দুজন রানারআপ হলেন ইয়েমেনের মোহাম্মদ বালিগ সায়্যিদ আবদুল গাফফার আলী ও বাংলাদেশের হাফেজ মো. ইরশাদুল ইসলাম। এ ছাড়া তাদের ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হয়েছে।

আর জাতীয়ভাবে দেশের ১১ জোনের প্রায় ১০ হাজার হাফেজকে পেছনে ফেলে সেরা ৮-এ উঠে আসেন কুরআনের আটজন খুদে পাখি। এর মধ্যে প্রথম হয়েছেন নেত্রকোনার কিশোর হাফেজ মো. ইরশাদুল ইসলাম। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে তিনি পেয়েছেন ১০ লাখ টাকা, সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট।

দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী হাফেজ মো. জিহাদুল ইসলাম পেয়েছেন ৭ লাখ টাকা, সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট। আর তৃতীয় হয়েছেন হাফেজ আবদুর রহমান বিন নূর। তিনি পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা, সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট। চতুর্থ ও পঞ্চম হয়েছেন হাফেজ মো. জুবায়ের আহমদ এবং হাফেজ মো. শাহেদ আলম তারিফ। তারা পেয়েছেন ২ লাখ টাকা, সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট। সেরা ৮-এর বাকি তিনজন হাফেজ আবদুর রাজ্জাক নোমান, হাফেজ মুহাম্মদ আফফান বিন সিরাজ ও হাফেজ মোহাম্মদ ইউসুফ আলী প্রত্যেকে পেয়েছেন ১ লাখ টাকা। একই সঙ্গে সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয় তাদের। পুরস্কার দেওয়া হয়েছে মোট ১১ জনকে। এর মধ্যে জাতীয়ভাবে আটজন এবং আন্তর্জাতিকভাবে তিনজন। পরে তারা বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে পিতা-মাতাসহ পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ পাবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গর্ভনর, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক। প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের সহযোগিতায় দেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে এজন্য তাঁদের মুবারকবাদ জানাচ্ছি। এ আয়োজন ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকুক সে কামনা করি।’

সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নর, চরমোনাইয়ের মরহুম পীর (রহ.)-এর সাহেবজাদা সৈয়দ মোহাম্মদ মাসাদ্দিক বিল্লাহ মাদানি।

আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘বসুন্ধরা আয়োজিত বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম এবং সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর আপনাদের সালাম জানিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আল কুরআন হচ্ছে মানবতার মুক্তির দিশা। এটি আল্লাহর দেওয়া মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। কুরআনের অন্যতম অলৌকিক শক্তি হলো মানুষের অন্তরে সংরক্ষিত করা যায়। যারা এ কুরআন শেখে, চর্চা করে, গবেষণা করে এবং কুরআনের আলোকে জীবন গড়ে তারা আল্লাহর বিশেষ বান্দায় পরিণত হয়।’

এ অনুষ্ঠান কেন্দ্র আইসিসিবির নবরাত্রী হল হয়ে ওঠে দেশবিদেশের বিখ্যাত ইসলামি স্কলার, আলেমের মিলনমেলা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শামসুল আলম, চট্টগ্রামের হাটহাজারী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বোর্ড অব গভর্নর ড. খলিলুর রহমান মাদানি।

আরও উপস্থিত ছিলেন হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সভাপতি শায়খ আবদুল হক, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মিজানুর রহমান, শায়খুল হাদিস মুহিব্বুল্লাহিল বাকী আন নদভী, শায়খুল হাদিস এহসানুল হক জিলানী, শায়খুল হাদিস মুহিউদ্দীন কাসেম, কুরআনের নূর আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতার চিফ কোঅর্ডিনেটর হায়দার আলী, ডেপুটি চিফ কোঅর্ডিনেটর আশিকুর রহমান শ্রাবণ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী, মিজানুর রহমান মানিক, গুলজার আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ইসলামি সংগীতশিল্পী বদরুজ্জামান উজ্জল।

২০২৩ সালে সফলভাবে আয়োজিত প্রথম আসরের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে পরের বছর আরও বৃহদাকারে আয়োজন করে বসুন্ধরা গ্রুপ। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো আয়োজন হয় ‘আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ২০২৪-পাওয়ার্ড বাই বসুন্ধরা গ্রুপ’। তুরস্ক, জর্ডান, ওমান, ইয়েমেন, মরক্কো, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৭ দেশের হাফেজরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অংশগ্রহণকারীরাও ছিলেন অনূর্ধ্ব-১৬ বছর বয়সি।

এবার জাতীয় পর্যায়ে পুরো দেশের মোট ১১ জোন থেকে অনূর্ধ্ব-১৬ বছর বয়সি ৩০ পারা কুরআনের হাফেজরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।


রাজনৈতিক দলগুলো অন্তঃসংঘাত বন্ধ করলে সঠিক সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

শুক্রবার (২১ মার্চ) নোফেল সোসাইটি আয়োজিত জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ও নিহতদের স্মরণে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা জানান। 

জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিকে অন্তঃকোন্দলে ব্যস্ত না থেকে সবাইকে এক থাকার আহ্বানও জানান তথ্য উপদেষ্টা।

নির্বাচনের আগে হত্যাকারীদের বিচার ও সংস্কার দৃশ্যমান হবে বলে জানান এই উপদেষ্টা। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ৭২ ও ৭৫ সালে দিল্লী থেকে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে এবং সেখান থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
 
অভ্যুত্থানের পর অন্তঃকোন্দলে ব্যস্ত না থেকে সবাইকে এক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
 


প্রকাশিত হয়েছে ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট ২০২৫’। এই রিপোর্টের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের তালিকা।

এ বছর প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী ১৪৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৪। গত বছর ১৪৩ দেশের মধ্যে ১২৯তম অবস্থানে ছিল দেশটি।

বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। বরাবরের মতো, এবারও বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ হিসেবে উঠে এসেছে ফিনল্যান্ডের নাম। আর সবচেয়ে অসুখী দেশের অনাকাঙ্ক্ষিত তকমা অর্জন করেছে আফগানিস্তান।

সবচেয়ে সুখী দেশের তালিকায় ২৪ ধাপ পিছিয়ে ১১৮ নম্বরে বাংলাদেশ পরবর্তী অবস্থানগুলোতে আছে সিয়েরা লিয়ন, মালাউই, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ও ইয়েমেন।  

ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কা যথাক্রমে ১১৮, ১০৯, ১২৬ ও ১৩৩তম অবস্থানগুলো দখল করেছে। অপরদিকে, নেপালের অবস্থান ৯২।

প্রতিবেদন মতে বিশ্বের সবচেয়ে ২০টি সুখী দেশ হলো ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, কোস্টারিকা, নরওয়ে, ইসরায়েল, লুক্সেমবার্গ, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, লিথুয়ানিয়া, অস্ট্রিয়া, কানাডা, স্লোভেনিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র (চেকিয়া)। 

বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশ থেকে গ্যালাপ বিশ্ব জরিপের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। গ্যালাপ, দ্য অক্সফোর্ড ওয়েলবিইং রিসার্চ সেন্টার ও জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সমাধান নেটওয়ার্ক (এসডিএসএন) ও একটি সম্পাদকীয় বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
 


অস্ট্রেলিয়ার ভিসার জন্য এতদিন বাংলাদেশিদের ভারতের নয়াদিল্লি ভিসা সেন্টার যেতে হত। কিন্তু এখন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকরা ঢাকাতেই পাবেন অস্ট্রেলিয়ার ভিসা।

 বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে,  বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে এক ফোন আলাপে বিষয়টি জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক।

ওই ফোন আলাপে টনি বার্ক বলেন, এখন থেকে অস্ট্রেলিয়া ঢাকায় অবস্থিত তাদের হাইকমিশন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রসেস করবে। এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত বছরের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্কের বাংলাদেশ সফরের সময় তার কাছে এই অনুরোধ করেছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা নয়াদিল্লি থেকে প্রসেস করতো।
 


যোগাযোগব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে সারা দেশের ২৩ জেলার ৭৪টি উপজেলাকে দুর্গম এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব এলাকায় দায়িত্ব পালনকারীদের ভাতা নির্ধারিত হারের চেয়ে দেড় গুণ বেশি দেওয়া হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত চিঠি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে নিয়োজিত লোকবলের ভাতা নির্ধারণের জন্য দুর্গম এলাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর ওই সিদ্ধান্ত এসেছে। এতে ২৩টি জেলার ৭৪টি উপজেলাকে দুর্গম এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে উপজেলাগুলো তথ্য সংগ্রহকারী ও অন্যদের জন্য ভাতা/সম্মানী এবং অন্যান্য খাতে অর্থ বরাদ্দ নির্ধারিত হারের চেয়ে দেড় গুণ করা হয়েছে।

দুর্গম এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলা; বরগুনার বেতাগী, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলা; বাগেরহাটের রামপাল, মোড়লগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা; খুলনার বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা, দাকোপ ও কয়রা উপজেলা; নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা; কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলা; হবিগঞ্জের বানিয়াচং, আজমেরীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলা; সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার, ধর্মপাশা, শাল্লা, জামালগঞ্জ, দিরাই, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলা; কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলা।

বরিশালের হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা; সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা; নেত্রকোনার কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও খালিয়াজুরী উপজেলা; পটুয়াখালীর গলাচিপা, কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী ও দশমিনা উপজেলা; সাতক্ষীরার আশাশুনী ও শ্যামনগর উপজেলা; পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা।

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা; কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা; মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা; মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা; খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি, মহালছড়ি, মানিকছড়ি, মাটিরাঙ্গা, রামগড়, গুইমারা, লক্ষীছড়ি; খাগড়াছড়ি সদর ও দিঘীনালা উপজেলা; বান্দরবান পার্বত্য জেলার থানছি, রোয়াংছড়ি, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, বান্দরবান সদর, রুমা ও লামা উপজেলা; রাঙামাটি পার্বত্য জেলার নানিয়ারচর, বরকল, বাঘাইছড়ি, রাঙামাটি সদর, রাজস্থলী, লংগদু, কাউখালী, কাপ্তাই, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলা।

ইসি কর্মকর্তারা আরো জানিয়েছেন, পার্বত্য অঞ্চল, হাওর অঞ্চল, দ্বীপ অঞ্চল ও সমতল ভূমিকে যোগাযোগব্যবস্থা, ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট ও দুর্গমতার ব্যাপকতা বিবেচনায় ভবিষ্যতে দুর্গম এলাকার তালিকা শ্রেণিভিত্তিক করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।



সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩০ হাজার প্রধান শিক্ষক দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার মর্যাদা পাবেন। সেইসঙ্গে এসব শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে হবে বলে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে শিক্ষকদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সালাউদ্দিন দোলন।

হাইকোর্ট ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেড করাসহ গেজেটেড পদমর্যাদা দেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয়ক্ষেত্রেই প্রবেশ পদে বেতন স্কেল দশম গ্রেড করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে গেজেটেড পদমর্যাদা ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে কার্যকর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি এ বিষয়ে রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আপিল খারিজ করে দিয়ে রায় দেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ। হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের ওই রায় দীর্ঘ তিন মাসেও কার্যকর না করায় প্রধান শিক্ষকেরা আদালত অবমাননার মামলা করেন।

পরে একই বছরের ২৭ জুন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ কেন সর্বোচ্চ আদালতের রায় কার্যকর না করে আদালতকে অবজ্ঞা করার অপরাধে বিবাদীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না, মর্মে এক মাসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে দুই দিন আগের তারিখে সিভিল রিভিউ পিটিশন দায়ের করে মন্ত্রণালয়।

পরবর্তীতে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ চূড়ান্ত শুনানি শেষে সিভিল রিভিউ পিটিশনটি নিষ্পত্তি করে রায় দেন। এর ফলে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগের ওই রায় কার্যকরে আর কোনো বাধা রইলো না। এদিকে, এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রিটকারী প্রধান শিক্ষকেরা।
 


তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম মন্তব্য করেছেন, দেশে এখন যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সে যুদ্ধ অন্য জায়গা থেকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার ( ১০ মার্চ) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।এসময় পোস্টে মাহফুজ আলম লিখেছেন,গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধ শক্তি একটি ছদ্ম-যুদ্ধ চালাচ্ছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, দেশে এখন যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং সে যুদ্ধ অন্য জায়গা থেকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। একটা কন্ট্রোল রুম থেকে সে যুদ্ধের প্রতি সপ্তাহ ও দিনের কর্মসূচি চালু করা হয় ও মনিটর করা হয়। আমাদের সে যুদ্ধের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়তে হবে। 

উপদেষ্টা আরও লিখেছেন, গতকাল মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে একটি পর্যালোচনা সভায় নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে নিপীড়ন ও সহিংসতা নিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ ও সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। আমরা সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলাম, সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে। গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় অপরাধীদের গ্রেপ্তার চলমান এবং বিচারের কাজ দ্রুত ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে ও সরকার তৎপর।

তিনি লিখেছেন, ছাত্র-যুবকদের জন্য লক্ষাধিক চাকরির ব্যবস্থা ও তরুণদের জন্য জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণের বিষয় ও গতকালের আলোচনায় উত্থাপিত হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে দৃশ্যমান পদেক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাবে এবং সে লক্ষ্যে সমন্বিত তৎপরতা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। 

মাহফুজ আলম লিখেছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও বিচার, প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করা, জুলাই শহিদ ও আহতদের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগগ্রহণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকার সক্রিয় ও সফল। কিন্তু, সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র, ব্যবসায়ী শ্রেণি ও মিডিয়ার মধ্যকার গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর বিরোধ, স্বার্থান্বেষা ও মতান্ধতা, অন্যদিকে গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধ শক্তির ঐক্যবদ্ধ হয়ে ক্রমশ উত্থান সরকারকে বেকায়দায় ফেলছে। 

তিনি লিখেছেন, সরকার যুদ্ধ লড়ছে গণ-অভ্যুত্থানে পরাজিত একটি শক্তিশালী দেশি-বিদেশি জোটের বিরুদ্ধে। কিন্তু স্বার্থান্বেষী মহল জনগণের মধ্যকার অভ্যুত্থানের ঐক্যকে নস্যাত করতে উঠে পড়ে লেগেছে। সফল ও হচ্ছে। সেনাবাহিনী, রাজনৈতিক দল ও অভ্যুত্থানের বিভিন্ন শক্তিকে মুখোমুখী না করাই আমাদের জন্য আখেরে ভালো হবে। 

মাহফুজ আলম লিখেছেন, রাষ্ট্র সংস্কার, গণহত্যা ও লুটপাটের বিচার, প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনরুজ্জীবন ও গণতান্ত্রিক রূপান্তর সহ নানা বিষয় আমাদের লক্ষ্য থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। 


আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দেশের অদম্য নারীদের হাতে সম্মাননা পুরস্কার তুলে দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠান তিনি এ পুরস্কার তুলে দেন।

সম্মাননা পুরস্কারপ্রাপ্ত অদম্য নারীরা হলেন— অর্থনীতিতে অবদানে শরিফা সুলতানা, শিক্ষা ও চাকরিতে অবদানে হালিমা বেগম, সফল জননী নারী মেরিনা বেসরা, জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী লিপি বেগম, সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানে মো. মুহিন (মোহনা) ও বিশেষ বিবেচনায় বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি।


সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। 

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

আইএসপিআর জানায়, সফরকালে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি কন্টিনজেন্টগুলো ও বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে সেনাবাহিনী প্রধানকে অবহিত করা হয়। এসময় তিনি তার মূল্যবান দিক-নির্দেশনা দেন।

সেনাপ্রধান Special Representative of the Secretary General (SRSG) Ms. Valentine Rugwabiza এবং ফোর্স কমান্ডার Lieutenant General Humphrey Nyone এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন।

সেনাবাহিনী প্রধান Central African Republic Armed Forces (FACA) এর প্রধান General Mamadou Zephirin এর সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে সেনাবাহিনী প্রধান দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন।

পরবর্তী সময়ে, প্রেসিডেন্ট, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক এবং সেনাবাহিনী প্রধান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক শান্তিরক্ষী মিশনের অধীনে বেসামরিক লোকদের সহায়তার অংশ হিসেবে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক এ নির্মিত তোয়াদেরা কমিউনিটি ক্লিনিকের উদ্বোধন করেন।

এছাড়াও সেনাবাহিনী প্রধান সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট Faustin-Archange Touadéra এর সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন।

আইএসপিআর আরও জানায়, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের জনগণের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিশেষত চিকিৎসাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রেসিডেন্ট, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধানকে সম্মানসূচক রাষ্ট্রপতি পদকে ভূষিত করেন।

এছাড়াও, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের বাংগি এলাকায় নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কন্টিনজেন্টগুলো পরিদর্শন করেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের এই সফর সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের পাশাপাশি সেখানে অবস্থিত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের মনোবল বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করা যায়।

সেনাবাহিনী প্রধান গত ৩ মার্চ সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক সফরে গিয়েছিলেন। 


রাজধানীতে প্রকাশ্যে ধূমপান নিষিদ্ধের দাবিতে মশাল মিছিল করেছেন কয়েশ নারী। এতে স্থানীয় বাসিন্দারাও সংহতি জানিয়ে যোগ দেন।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোহাম্মদপুর এলাকাবাসীর ব্যানারে লালমাটিয়ায় এ মিছিল করেন তারা।

মিছিলে ‘নেশাখোরদের আস্তানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘ধূমপান নিষিদ্ধ কর, করতে হবে’ প্রভূতি স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের।

এ সময় স্থানীয়রা বলেন, কয়েকদিন আগে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়েছে।

তারা বলেন, লালমাটিয়া এলাকাটি মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন বয়সের ছেলে-মেয়েরা প্রকাশ্যে মাদক গ্রহণ করছে।তাদের কারণে শিশুরাও বিপথগামী হচ্ছে। এর প্রতিবাদে এই মশাল মিছিল বের করা হয়েছে।

মিছিলে অংশ নেওয়া সামিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ধূমপানের কারণে নানাবিধ ক্ষতি হচ্ছে। প্রকাশ্যে ধূমপান শিশুসহ অধূমপায়ীদের বেশি ক্ষতি করছে।আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, সারাদেশে ধূমপান ও মাদক নিষিদ্ধ করা হোক।’

মিছিলে অংশ নেওয়া সুমাইয়া ঐশী নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ধূমপান ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ 

 


অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিলেন চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার)। অন্তর্বর্তী সরকারে শিক্ষা উপদেষ্টার দায়িত্ব পাচ্ছেন তিনি।

আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে বঙ্গভবনে সি আর আবরারকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শেখ আবদুর রশীদ। সি আর আবরার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও মানবাধিকারকর্মী।


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আমরা এমন একটা সমাজ বানাই, যেখানে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাজ আর নেই।এটাই আমাদের লক্ষ্য। কারও লাশ যেন বেওয়ারিশ হিসেবে না থাকে।

 

ছবি: আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের নতুন ভবন ‘আঞ্জুমান জে আর টাওয়ার--এর উদ্বোধন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যার যার জায়গা থেকে আমরা বেওয়ারিশ হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারি, যাতে যার লাশ তার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কাছে থাকে। তাকে যেন সম্মানজনকভাবে দাফন করা যায়। এতে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কর্মকাণ্ডের কোনো ব্যাঘাত হবে না। বরং আমরা তাদের সম্মান জানাব, এই জিনিসগুলো তুলে ধরার জন্য।’

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামকে একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান বলে উল্লেখ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি বেওয়ারিশ লাশ দাফন এবং সেবা প্রদানের কাজ করে যাচ্ছে। আঞ্জুমান মুফিদুলে উপস্থিত থাকাকে সৌভাগ্য মনে করছি। ছোটবেলা থেকেই এই প্রতিষ্ঠানের নাম শুনে আসছি। অদ্ভুত এক নাম, এই নামের কোনো ব্যাখ্যা জানতাম না—তার সঙ্গে একটা জিনিস জড়িত, শুধু জানি ‘‘বেওয়ারিশ লাশ’’।’ 

তিনি বলেন, ‘এরা (আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম) কারা কোনো দিন জানিনি, আজকে চাক্ষুস দেখলাম। এরা এমন এক জগৎ থেকে ভেসে আসে, একটা লাশ পড়ে থাকলে উঠায়ে নিয়ে যায়। স্বপ্নিল একটা জিনিস। যত দুর্গম হোক, যত কঠিন পরিস্থিতি হোক, ওই নামটি আসে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম। এটা আমার কাছে খুব অবাক লাগত।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যার পরিচয় জানা নেই, কিন্তু প্রতিদিন খবর আসছে। এখন জানলাম সারা দেশজুড়ে আছে। তাদের কোনো বক্তব্য কখনো কোনোও পত্রিকায় দেখিনি।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, আঞ্জুমান মুফিদুলের সভাপতি মুফলেহ আর ওসমানী ও সহসভাপতি গোলাম রহমান।


তরুণ আলেম প্রজন্ম-২৪ এর কার্যকরী পরিষদ গঠন করা হয়েছে।

নির্বাহী পরিষদের সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত প্রস্তাবনা মোতাবেক এই কার্যকরী পরিষদ গঠিত হয়েছে। ২ তারিখ রোববার কার্যকরী পরিষদের সভাপতি এহসানুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই হাজার চব্বিশ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই দেশ দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি লাভ করেছে। অভ্যুত্থানে সাধারণ ছাত্র সমাজের পাশাপাশি এই দেশের মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আলেম সমাজও ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করে আত্মত্যাগের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। হাজারখানেক আলেম-শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৯০ জন আলেম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এই অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যায়, অভ্যুত্থানে আলেম-শিক্ষার্থীদের অবদান কে সমুন্নত রাখতে অভ্যুত্থানের চেতনায় বৈষম্যহীন নতুন বাং লাদেশ বিনির্মাণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা কে বেগবান করতে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ৪৭ জনকে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে সংগঠনের কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে একটি কার্যকরী পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাহী পরিষদ। নির্বাহী পরিষদের সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত প্রস্তাবনা মুতাবেক তরুণ আলেম প্রজন্ম-২৪ এর কার্যকরী পরিষদ গঠন করা হয়। কার্যকরী পরিষদের সভাপতির পদে আছেন এহসানুল হক। সাধারণ সম্পাদক হুজাইফা ইবনে ওমর।

সভাপতি পরিষদে অন্যরা হলেন, এখলাছুর রহমান রিয়াদ, আশরাফ উদ্দিন মাহদী, শেখ ফজলুল করীম মারুফ, বিলাল আহমাদ চৌধুরী, মাবরুরুল হক ও এহতেশামুল হক সাখী।

সাধারণ সম্পাদক পরিষদের অন্যরা হলেন, শরীফ হুসাইন, জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ, শেখ সাদী।

এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল সিদ্দিকী, অর্থ সম্পাদক সানাউল্লাহ খাঁন, সহ অর্থ সম্পাদক মাহমুদ হাসান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক আব্দুল করীম নোমানী, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক নাজমুল হাসান,  ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আইনী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কে এম তাহমীদ হাসান, সহ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক যিমামুল হক, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক কালিম মাহফুজ, সহ শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইলিয়াস নোমান,  তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল্লাহ তামিম, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সাগর, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নুহ বিন হুসাইন, দপ্তর সম্পাদক রশিদ আহমদ তকি।


রাজধানীর ভাটারা থানাধীন শাহজাদপুর এলাকায় সৌদিয়া নামের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন।

আজ সোমবার (৩ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া অফিসার তালহা বিন জাসিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "আজ দুপুর ১২টা ১৭ মিনিটে ভাটারার সৌদিয়া হোটেলে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর বারিধারার দুটি ইউনিট সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে।" 

ছয়তলা হোটেল ভবনটির দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানান এই কর্মকর্তা। 

সর্বশেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত ৪ জন নিহত হয়েছেন। 

নিহতদের মরদেহ ভবনের ছয় তলায় পাওয়া গেছে। এরমধ্যে, একটি মরদেহ বাথরুমের ভেতরে এবং বাকি তিনটি সিঁড়ির গোড়ায় পাওয়া গেছে। এ সময় সিঁড়ির দরজা তালা মারা ছিল বলে জানা গেছে।

নিহতদের সবাই পুরুষ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

দুপুর ১টা ৪ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।

তবে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি।

এদিকে, আগুনের ঘটনায় রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই এলাকায় চলাচলরত সাধারণ মানুষ।


প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২৭৪ জন।

রোববার (২ মার্চ) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে জাতীয় ভোটার দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান সিইসি। 

এবারের প্রতিপাদ্য ‘তোমার আমার বাংলাদেশে, ভোট দিব মিলেমিশে’। ভোটার দিবস উপলক্ষে আলোচনাসভার আয়োজন করেছে ইসি। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। 

‎২ জানুয়ারি ‎খসড়া হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ করে ইসি। ওই তালিকায় ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৫২ জন অন্তর্ভুক্ত হন। সেই অনুযায়ী, দেশের ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৫১২। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ১০৩, নারী ৬ কোটি ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪১৫ এবং হিজড়া ভোটার ৯৯৪ জন।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, খসড়া তালিকার ওপর দাবি-আপত্তি শেষে নতুন ভোটার সংখ্যা ২০ লাখের বেশি বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

ইসি কর্মকর্তারা আরও জানান, ২০ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহকারী এ বছরের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কাজও এগিয়ে নিচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় মোট ৫১ লাখের মতো নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ হয়েছে। ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি অথবা তার আগে যাদের জন্ম হলেও এখনো ভোটার হননি তাদেরকে এ তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। একইসঙ্গে মৃতদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। আগামী জুনের মধ্যে হালনাগাদ ভোটার তালিকার কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে এ কাজ এগিয়ে রাখছে ইসি।

 


২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আহতদের তালিকা নিয়ে গেজেট ‘জুলাই যোদ্ধা’ প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত গেজেটে সারাদেশের ৪৯৩ জন আহতদের নাম স্থান পেয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হরিদাস ঠাকুর স্বাক্ষরিত ওই গেজেটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬ এর সিডিউল-১ (অ্যালোকেশন অব বিজনেস) এর ক্রমিক নং ২৩ এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার প্রকাশ করে।

গেজেটে অতি গুরুতর ৪৯৩ জন আহতকে ‘ক’ শ্রেণিতে তালিকাভুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এছাড়া আহতদের ধরণভেদে পর্যায়ক্রমে ‘খ’ ও ‘গ’ শ্রেণির তালিকাও প্রকাশ করবে মন্ত্রণালয়।

গেজেটে অতি গুরুতর আহতদের মেডিকেল কেস আইডি, নাম, পিতা-মাতার নাম ও স্থায়ী ঠিকানা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকাটি শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে গণ-অভ্যুত্থানে ৮৩৪ জন শহীদের তালিকা গত ১৫ জানুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

আহত জুলাই যোদ্ধারা তিনটি ক্যাটাগরিতে চিকিৎসা পাবেন। যথা- ক্যাটাগরি এ, বি ও সি। আহত জুলাই যোদ্ধারা যেসব সুবিধাদি পাবেন তা হলো—ক্যাটাগরি ‘এ’ (অতি-গুরুতর আহত): ৪৯৩ জন জুলাই যোদ্ধা তালিকাভুক্ত; যারা চিকিৎসার পরও শারীরিক অসামর্থ্যতার নিরিখে অন্যের সহায়তা ব্যতীত জীবনযাপনে অক্ষম। ক্যাটাগরি এ শ্রেণির যোদ্ধারা এককালীন ৫ লাখ টাকা, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে নগদ (ব্যাংক চেকের মাধ্যমে) ২ লাখ, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে নগদ (ব্যাংক চেকের মাধ্যমে) ৩ লাখ টাকা দেয়া হবে। এছাড়া, মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে আজীবন চিকিৎসা সুবিধা প্রাপ্ত হবেন তারা। তাছাড়া উপযুক্ত মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশে দেশি-বিদেশি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা পাবেন। কর্মসহায়ক প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন সুবিধা পাবেন। পরিচয়পত্র প্রাপ্ত হবেন এবং পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সুবিধাদি পাবেন।

ক্যাটাগরি ‘বি’ (গুরুতর আহত): গুরুতর আহত ক্যাটাগরি ‘বি’তে ৯০৮ জন জুলাই যোদ্ধা তালিকাভুক্ত। যারা পর্যাপ্ত চিকিৎসার পর শারীরিক অসামর্থ্যতার নিরিখে অন্যের আংশিক সহায়তায় জীবন যাপনে সক্ষম হবেন তারা আহত জুলাই যোদ্ধা হিসেবে আর্থিক অনুদান ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রাপ্ত হবেন। এর মধ্যে এককালীন ৩ লাখ টাকা, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে নগদ (ব্যাংক চেকের মাধ্যমে) ১ লাখ টাকা, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে নগদ (ব্যাংক চেকের মাধ্যমে) ২ লাখ টাকা দেয়া হবে। তারা মাসিক ১৫ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। কর্মসহায়ক প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকারি/আধাসরকারি কর্মসংস্থান প্রাপ্য হবেন। পরিচয় পত্র প্রাপ্ত হবেন এবং পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সুবিধাদি পাবেন। 

ক্যাটাগরি ‘সি’ (আহত): আহত ক্যাটাগরি ’সি’তে ১০ হাজার ৬৪৮ জন জুলাই যোদ্ধা তালিকাভুক্ত, যারা চিকিৎসার পর বর্তমানে সুস্থ। আহত জুলাই যোদ্ধারা এককালীন ১ লাখ টাকা, মাসিক ১০ হাজার টাকা পাবেন। এছাড়া পুনর্বাসন সুবিধা, পরিচয়পত্র প্রাপ্ত হবেন এবং পরিচয় পত্র প্রদর্শন করে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন সুবিধাদি পাবেন।


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল ও বঙ্গবন্ধু সেতুর নাম পরিবর্তন করেছে সরকার।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের নাম পরিবর্তন করে ‘কর্ণফুলী টানেল’ ও বঙ্গবন্ধু সেতু নাম পরিবর্তন করে ‘যমুনা সেতু’ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সেতু বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্মিত এই দুইটি স্থাপনা নাম পরিবর্তন করল সরকার। জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।


অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন তথ্য উপদেষ্টা হচ্ছেন মাহফুজ আলম। মঙ্গলবার মো. নাহিদ ইসলাম এই পদ থেকে পদত্যাগ করায় মাহফুজ আলম তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত। শিগ্গিরই এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন দেওয়া হবে। 

তথ্য ও সম্প্রচার এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মো. নাহিদ ইসলাম মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তার পদত্যাগের পর এ দুই মন্ত্রণালয়ের বিষয়টি আলোচনা আসে।

সূত্র জানায়, নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের কারণে নাহিদ ইসলামের পদত্যাগ জরুরি ছিল। ফলে পরবর্তী তথ্য উপদেষ্টা কে হচ্ছেন, তা আলোচনায় আসে। এক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টার বর্তমান প্রেস সচিব শফিকুল আলমের নাম সবার আগে আলোচনায় আসে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ মুহূর্তে প্রধান উপদেষ্টা তাকে ছাড়তে চাননি। এ কারণে সম্প্রতি শফিকুল আলমকে পদোন্নতি দিয়ে সিনিয়র সচিবের মর্যাদা দেওয়া হয়। এরপর তথ্য উপদেষ্টা হিসাবে মাহফুজ আলমের নাম চূড়ান্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।

জানা যায়, মাহফুজ আলম ১০ নভেম্বর উপদেষ্টা হিসাবে শপথ নেন। তবে তিনি কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন না। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ২০ দিনের মাথায় ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসাবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতক করেছেন তিনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে পতিত হাসিনা সরকারবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মাহফুজ আলম। যুক্তরাষ্ট্রের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা তাকে এই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী ছাত্র, নাগরিক ও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন।


যুক্তরাজ্যে ভ্রমণকারীদের জন্য গ্রাহক সেবা উন্নত করতে ভিএফএস গ্লোবাল সম্প্রতি একটি নতুন জেনারেটিভ কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পন্ন চ্যাটবট চালু করেছে।

বাংলাদেশসহ ১৪১ দেশে যুক্তরাজ্যের ভিসার জন্য এআই চ্যাটবট চালু করা হয়।বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভিএফএস গ্লোবাল এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

ভিএফএস জানায়, এআই চ্যাটবট প্রযুক্তি জার্মানি, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ভারতে অবস্থিত ভিএফএস গ্লোবালের এআই সেন্টারে তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশসহ ১৪১টি দেশে যুক্তরাজ্যের ভিসা গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। জেনারেটিভ এআই-চালিত চ্যাটবটটি কথোপকথনে পারদর্শী, যা মানবসদৃশ কথোপকথন সেবা দিয়ে থাকে।

এটি ভয়েস এবং টেক্সট ইনপুটের মাধ্যমে কাজ করতে সক্ষম, যা নানা ধরনের সেবা গ্রহীতাকে কার্যকরভাবে সেবা দেয়। এটি টেক্সট ও ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমেও কাজ করে।এটি যুক্তরাজ্যে ভ্রমণকারী গ্রাহকদের জন্য তাৎক্ষণিক, নির্ভুল এবং সহজলভ্য তথ্য সরবরাহ করে থাকে।

কাস্টমার সার্ভিসেস গ্রুপ, ইউকে ভিসা অ্যান্ড ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তা জেন ভিডলার বলেছেন, ভিএফএস গ্লোবালের এআই-চালিত চ্যাটবটটি আমাদের ভিসা পরিষেবাগুলোকে আরও সহজ, কার্যকর এবং সব ধরনের গ্রাহকের চাহিদা পূরণের প্রতিশ্রুতি হিসেবে চালু করা হয়েছে।


সবাইকে এক থাকার আহ্বান জানিয়ে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘হানাহানি না করে দিনশেষে দেশ ও জাতির দিকে খেয়াল করে এক থাকতে হবে। যদি নিজেরা কাদা ছোঁড়াছুড়ি করেন, দেশ ও জাতির সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি সতর্ক করে দিচ্ছি, পরে বলতে পারবেন না যে সতর্ক করিনি। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যতটুকু পারছেন সাহায্য করছেন দেশকে ইউনাইটেড রাখার।’

আজ মঙ্গলবার জাতীয় শহীদ সেনা দিবসে রাওয়া ক্লাবে আয়োজিত ফটো এক্সিবিশনে তিনি এসব কথা বলেন।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘আজকে একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই। আমার অন্য কোনো আকাঙ্ক্ষা নাই, একটাই আকাঙ্ক্ষা, দেশ ও জাতিকে সুন্দর জায়গায় রেখে সেনা নিবাসে ফেরত আসব।’

তিনি বলেন, ‘আজকে পুলিশ সদস্য কাজ করছে না। কারণ তাদের অনেকেই জেলে। র‍্যাব, বিজিবি প্যানিকড। দেশের শান্তিরক্ষার দায়িত্ব শুধু সেনাবাহিনীর না। আনসার বাহিনী আছে। ৩০ হাজার সেনাবাহিনী সদস্য নিয়ে আমরা কীভাবে করব?’

নির্বাচন নিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমার মনে হয় আমরা নির্বাচনের দিকেই ধাবিত হচ্ছি, ১৮ মাসের কথা বলেছিলাম। ডিসেম্বরের মধ্যে একটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রত্যাশা করছি।’

তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর ওপর আক্রমণ করবেন না। সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধানের প্রতি বিদ্বেষ কারো কারো, কী কারণে জানি না। আমাদের সাহায্য করেন, আক্রমণ নয়। আমাদের উপদেশ দেন, আমি সবার কাছে স্মরণাপন্য হই, আমরা ভালো উপদেশ গ্রহণ করব, আমরা এক থাকতে চাই, দেশ ও জাতিকে আমরা রক্ষা করতে চাই।’


বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে যুক্তরাষ্ট্রের বা মার্কিন ডিপ স্টেটের কোনো হাত নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র্র মোদির সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার) হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মোদি। বৈঠকে বাণিজ্য, অভিবাসনসহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা বৈঠকের পরই যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন দুই নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “আমরা জানি বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলে বাইডেন প্রশাসনের সময় মার্কিন ডিপার্টমেন্ট স্টেট জড়িত ছিল। সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জুনিয়র সোরোসের (জর্জ সোরোসের ছেলে) বৈঠকেও তা প্রমাণিত। তো বাংলাদেশ নিয়ে আপনি কী বলবেন?”

জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “না, আমাদের ডিপ স্টেটের এখানে কোনো ভূমিকা ছিল না।”

সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়া-ইউক্রেন প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “অনেকেই হয়তো বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভারত নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়েছে। কিন্তু এটা ঠিক নয়। ভারত এখানে শান্তির পক্ষ নিয়েছিল।”

সংবাদ সম্মেলনে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে আকর্ষণীয় বাণিজ্য-চুক্তি হতে চলেছে বলে জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৈঠকে অভিবাসন ইস্যু নিয়েও আলোচনায় ভারত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কয়েক হাজার অনথিভুক্ত অভিবাসীকে ফিরিয়ে নেবে বলে আশা করেন ট্রাম্প।


লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে আটকে পড়া ১৪৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।

ছবি : ইউএনবি

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর সহযোগিতায় আজ (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৫টায় বুরাক এয়ারের চার্টার্ড ফ্লাইটে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর এসব অভিবাসীদের অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইওএমের কর্মকর্তারা। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশে ফেরত আসা এই অভিবাসীদের বেশীরভাগই সমুদ্র পথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেন। তাদের অধিকাংশই লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ফেরত আসা অভিবাসীদের জন্য প্রত্যেকের জন্য ৬ হাজার টাকা, খাদ্য সামগ্রী, চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে আইওএম। 


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, বিপ্লবী ভাইয়ের শাহাদাত আমাদের ব্যর্থতা। আমরা এতদিন পর্যন্ত সুবিচার নিশ্চিত করতে পারিনি, আমরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে পারিনি। এই ভূখণ্ডে হয় আমরা থাকব না হয় আওয়ামী লীগ থাকবে।

 বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গাজীপুরে হামলায় শহিদ শিক্ষার্থী আবুল কাশেমের জানাজা শেষে লাশের কফিন নিয়ে মিছিলে তিনি এসব কথা বলেন
 
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আজকে আয়নাঘর প্রকাশিত হয়েছে, আজকেই অভ্যুত্থান বিষয়ক জাতিসংঘের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, আজকেই আমাদের ভাই শহিদ হলেন। বিপ্লবী ভাইয়ের শাহাদাত আমাদের ব্যর্থতা। আমরা এতদিন পর্যন্ত সুবিচার নিশ্চিত করতে পারিনি, আমরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে পারিনি

এ ভূখণ্ডে হয় আমরা থাকব না হলে আওয়ামী লীগ থাকবে। বিপ্লবীরা ও আওয়ামী লীগ একসঙ্গে এ দেশে থাকতে পারে না। আমরা স্পষ্ট করে সরকারকে বলতে চাই, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীর শাস্তি নিশ্চিত করুন এবং আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করুন।


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে। ছয় মাস মেয়াদি এই কমিশন আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যক্রম শুরু করবে।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সরকারের মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ থেকে এ কমিশন গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।কমিশনের সহ-সভাপতি করা হয়েছে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ। অন্য সদস্যরা হচ্ছেন- জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী, পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্য বিচারপতি এমদাদুল হক এবং দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন প্রধান ইফতেখারুজ্জামান।

কমিশনের কার্যপরিধির বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে- কমিশন আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন ব্যবস্থা, পুলিশ, বিচারবিভাগ, জনপ্রশাসন, সংবিধান ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে সংস্কারের জন্য গঠিত কমিশনগুলোর সুপারিশ বিবেচনা ও গ্রহণের লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যমত্য গঠনের জন্য রাজনৈতিক দল ও শক্তিসমূহের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং এ মর্মে পদক্ষেপ সুপারিশ করবে। কমিশনের মেয়াদ হবে কার্যক্রম শুরুর তারিখ থেকে ৬ মাস। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এই কমিশনকে সাচিবিক সহায়তা করবে।
 


বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম বলে জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)। স্কোর হিসাবে বিগত ১৩ বছরের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন। 

দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্কোর হয়েছে ২৩। সমান স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছে কঙ্গো ও ইরান। তালিকার উচ্চক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশ ১৫১তম অবস্থানে রয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় ধানমন্ডি টিআইবির কার্যালয়ে দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই)-২০২৪ উপলক্ষ্যে এক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. মো ইফেতারুজ্জামান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সিপিআই ২০২৪ অনুযায়ী বাংলাদেশের স্কোর ২৩। যা বিগত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ বছর স্কোর বিবেচনায় উচ্চক্রম অনুসারে দুই ধাপ অবনতি হয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫১তম এবং নিম্নক্রম অনুসারে ১৪তম। একই স্কোর নিয়ে তালিকার উচ্চক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে ১৫১তম অবস্থানে রয়েছে কঙ্গো ও ইরান। দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তান ১৭ পয়েন্ট নিয়ে সর্বনিম্ন স্কোর ও অবস্থানে রয়েছে। এ অঞ্চলে আফগানিস্তানের পরই বাংলাদেশের স্কোর ও অবস্থান দ্বিতীয় সর্বনিম্ন।

ইফেতাখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের এ বছরের নিম্ন স্কোর ও অবস্থান প্রমাণ করে যে, বিগত ১৩ বছর কর্তৃত্ববাদী সরকার মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেও, বাস্তবে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে, লালন করেছে, এমনকি দুর্নীতি সংঘটনে সহায়তা ও অংশগ্রহণ করেছে। এর প্রভাবে যথেচ্ছ লুটপাট, দুর্নীতিবাজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে তোষণ, আইনের সঠিক প্রয়োগ না করা এবং সার্বিক কাঠামোগত দুর্বলতায় বাংলাদেশের অবস্থানের ক্রম অবনতি হয়েছে। অথচ দুর্নীতিবিরোধী বাগাড়ম্বর ব্যতীত এ নিয়ে পতিত আওয়ামী সরকারের কোনো বিকার বা চিন্তা দেখা যায়নি। এমনকি দুর্নীতি দমনে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের প্রকৃত ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

গত বছর বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০ম ছিল। দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্কোর হয়েছে ২৪। সমান স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একইঅবস্থানে ছিল আফ্রিকান রিপাবলিক, ইরান, লেবানন ও জিম্বাবুয়ে। আর ২০২৩ সালে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২তম। বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২৫। 

টিআই এমন সময় সিপিআই সূচক প্রকাশ করেছে যখন দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। ১৯৯৫ সাল থেকে বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল দ্বারা প্রতি বছর এই সূচক প্রকাশ করা হয়। ২০০১ সালে বাংলাদেশ প্রথম তালিকাভুক্ত হয়। তখন এ তালিকায় মোট ৯১টি দেশ ঠাঁই পায়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির টিআইবির উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
 


নাটোরের বড়াইগ্রামে থানার ভিতরে নেচে গেয়ে টিকটক ভিডিও ধারণ এবং সেই ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে শিউলী খাতুন (৪২) নামে এক আওয়ামী লীগ নেত্রী গ্রেপ্তার হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার রাতে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শিউলী খাতুন নাটোর জেলা শ্রমিক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও বড়াইগ্রাম পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তিনি গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ফুটবল মার্কা প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হন। 

জানা যায়, সম্প্রতি শিউলী খাতুন থানার ভেতরে মুল ভবনের গেটের সামনে ‘বলি ও দারোগা, পেয়েছি মুখ, তোমার পুলিশ ফেঁসেছে-পরান আমার ভালবেসেছে’ গানের তালে তালে নেচে টিকটক ভিডিও ধারণ করেন। তবে এ সময় সেখানে কোনো পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়নি। পরে সেই ভিডিও তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রচার করেন এবং তা মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। থানার সামনে এমন ভিডিও ধারণ করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে নানা সমালোচনা শুরু হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের আগে আওয়ামী লীগ নেত্রী শিউলি খাতুন জানান, টিকটক করা আমার নেশা, সে কারণেই ভিডিওটি ধারণ করেছিলাম। তবে এখন বুঝতে পারছি থানার সামনে কাজটি করা ঠিক হয়নি।  

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, আমাদের সকলের অগোচরে ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি সংবাদকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরেছি। তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
 



পারিবারিক কলহের জেরে শ্বশুরের গোপনাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বউ ফাতেমা বেগমের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় পুলিশ ওই ছেলের বউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে।শনিবার দিবাগত রাত ৯ টার দিকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউপির গুচ্ছগ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত শাহ জামাল প্রামাণিক (৬৫) বর্তমানে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। সে ঘোড়াঘাটের সিংড়া ইউপির বিরাহীমপুর গুচ্ছগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ১৫ বছর আগে শ্বশুরের বড় ছেলে মনির প্রামাণিকের সাথে ফাতেমা বেগমের বিয়ে হয়। গত শনিবার রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে পারিবারিক ঝগড়ার এক পর্যায়ে শ্বশুর শাহজামাল অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এরপর তাকে টেনে শোবার ঘরে নিয়ে যায় এবং অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। সে সময় আগে থেকে নিজের কাছে রাখা ব্লেড দিয়ে শ্বশুর শাহজামালের পুরুষাঙ্গ কেটে দেন। পরে তার চিৎকারে লোকজন ওই ঘরে গিয়ে শাহজামালকে উদ্ধার করে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন।
 


মাছের প্রজনন বাড়াতে হাওরের পাশে কৃষিজমিতে কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

আজ রবিবার মৌলভীবাজারের বাইক্কা বিল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন উপদেষ্টা। পরে হাওরের পাশে হাজীপুরের বসবাসরত মৎস্য ও কৃষির সঙ্গে জড়িত শতাধিক উপকার ভোগীদের সমস্যা নিয়ে কথা শুনেন এবং নানা বিষয়ে পরামর্শ দেন।

ফরিদা আখতার বলেন, ‘হাওরে ধান ও মাছ উৎপাদনে দুই মন্ত্রণালয় সংঘাতের মধ্যে আছে। হাওরের মাছের প্রজনন বৃদ্ধি করতে হলে ইজারায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। সেইসঙ্গে হাওরের পাশে জমি চাষে কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাইক্কা বিলের অন্যতম জাদুরি বিলটি খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্য অভয়াশ্রমগুলো খনন করা হবে।’


পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, আর্থিক দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগে ফৌজদারি মামলা রয়েছে তাদের বিষয়ে বিবেচনা করা সম্ভব হয়নি।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন কারণে চাকরি হারানো ১ হাজার ৫২২ পুলিশ সদস্য চাকরি ফিরে পাচ্ছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ২৫ জন কনস্টেবল, ৭৯ জন নায়েক, ১৮০ জন এএসআই/এটিএসআই, ২০০ জন এসআই/সার্জেন্ট/টিএসআই, ১০ জন ইন্সপেক্টর ও ২৮ জন 'নন-পুলিশ' সদস্য রয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সদর দপ্তর থেকে বলা হয়, এসব সদস্যকে চাকরিতে পুনর্বহাল সংক্রান্ত আবেদনসমূহ পর্যালোচনার জন্য ২০২৪ সালের আগস্টে একজন ডিআইজির নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। যে-সব সদস্য প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে আপিল করে জয়ী হয়েছেন, তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে যারা বরখাস্তের আদেশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় আপিল করেননি তাদের বিষয়ে আইনি বাধা থাকায় তাদের পুনর্বহালের বিষয়টি বিবেচনা করা যায়নি।

পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, আর্থিক দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগে ফৌজদারি মামলা রয়েছে তাদের বিষয়ে বিবেচনা করা সম্ভব হয়নি। চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যরা যাতে ন্যায়বিচার পান সেজন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আন্তরিকভাবে কাজ করছে। চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা পরিপন্থি আচরণ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। 


সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বিচারপতি আবদুর রউফ (৯২) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।  

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে মগবাজারের ইনসাফ বারাকা কিডনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।  
তার একান্ত সহকারী তাওহিদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বিচারপতি রউফ দীর্ঘ দুই মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। 


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। 

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাজীপুরে ছাত্র-জনতার ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘটনায় শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর সমন্বয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সংশ্লিষ্ট এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ও সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শনিবার থেকেই গাজীপুরসহ সারা দেশে এই অভিযান শুরু হবে।

‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ এর ব্যাপারে আগামীকাল রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।


ধানমন্ডি ৩২'সহ সারাদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনায় ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা উল্লেখ করে সবাইকে এখানেই থেমে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারি।

ছবি:মিজানুর রহমান আজহারি (সংগৃহীত)|

শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত এক পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

পোস্টে তিনি বলেন, মবোক্রেসি দেশকে অস্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে। এখানেই থেমে যাওয়া উচিত। আসুন আমাদের জাতিকে পুনর্গঠন করি।

এর আগে পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ভাষণ দিলে ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের নানা পেজ থেকে। তবে ভাষণের আগেই সেখানে ভাঙচুর শুরু হয় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

পরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার বাড়ি সুধাসদনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

এসময় বিভিন্ন স্থানে থাকা শেখ মুজিবের ম্যুরাল এবং মুজিব পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ফলক ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ইতোমধ্যে বিবৃতি দিয়েছে।


অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মনির হায়দার।

ছবি:মনির হায়দার ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস  (সংগৃহীত)|

 বুধবার সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার এই পদে তাকে নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।বিশেষ সহকারী হিসাবে মনির হায়দার প্রধান উপদেষ্টার পক্ষে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শক্তির সঙ্গে লিয়াজোঁ এবং যোগাযোগ রক্ষায় ভূমিকা পালন করবেন।

মনির হায়দার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। অচিরেই দেশে ফিরে তিনি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী পদে যোগ দেবেন বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।

প্রায় তিন দশক দৈনিক পূর্বকোণ, ভোরের কাগজ, জনকণ্ঠ, যায় যায় দিন, ইত্তেফাক এবং মানবজমিন পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন মনির হায়দার। বর্তমানে তিনি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল বাংলাভিশনের উপদেষ্টা। এ ছাড়া, নাগরিক অধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার হিসাবেও সুপরিচিত তিনি।


ভিসা পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতি চালু করছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। নতুন পদ্ধতি আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হবে।

ছবি:ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস (সংগৃহীত)

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।

বার্তায় বলা হয়েছে, দূতাবাস ভিসা পরিষেবার জন্য নতুন একটি পদ্ধতি বাস্তবায়ন করছে। নতুন পদ্ধতি আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চালু হবে। এ কারণে আগামী ৫ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে ভিসা পরিষেবা বন্ধ থাকবে। নতুন পদ্ধতিতে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ওয়েবসাইটে ফের ভিসা পরিষেবা চালু করা হবে।
আবেদনকারীদের আগামী ৫ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারিত, তাদের নির্দিষ্ট সময়েই উপস্থিত থাকতে হবে।

৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট প্রকাশ শুরু হবে। প্রতি মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট পাওয়া যাবে।

ভিসাপ্রত্যাশীদের আবেদন এবং এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য দূতাবাসে ওয়েবসাইটে ভিজিট করার অনু‌রোধ করা হ‌য়ে‌ছে।


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিরা সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশ তাদের পথরোধ করে। এরপর আন্দোলনকারীরা সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিরা সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশের বাধার সম্মুখীন হন। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশ তাদের পথরোধ করে। এরপর আন্দোলনকারীরা সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর আগে শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে আগারগাঁওয়ে মিরপুর রোডের উভয় পাশে অবস্থান নিয়ে সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিরা। রোববার তারা দিনভর আগারগাঁও ও শিশুমেলা মোড়ে মিরপুর সড়ক অবরোধ করে রাখেন। 

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ- তাদের অনেকেই সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে সহায়তা পাওয়ার ধীরগতি নিয়েও বিক্ষোভ রয়েছে। তাদের দাবি দ্রুত সুচিকিৎসা দিতে হবে, প্রয়োজনে বিদেশে পাঠাতে হবে।

এসব দাবি নিয়ে বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ রাস্তার মাঝে চাদর বিছিয়ে শুয়ে আছেন। রাস্তার মাঝে বেঞ্চ পেতেও বসে আছেন অনেকে।

আহতরা বলছেন, তাদের রক্তের বিনিময়ে দেশ থেকে স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে। তারা কেউ পুলিশের গুলি খেয়েছে, কেউ টিয়ারশেলে অন্ধ হয়েছেন। আবার কেউ পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের কারণে যে স্বাধীনতা সরকার ভোগ করছে, সেই তাদেরই চিকিৎসা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিতে অবহেলা করা হচ্ছে।

মো. আইয়ুব হোসেন নামে এক আন্দোলনকারী সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা সড়কে অবস্থান করব। যদি উপদেষ্টারা কেউ এসে আমাদের আশ্বস্ত করেন তবুও আমরা রাস্তা ছাড়ব না। তাদের ওপর থেকে আমাদের আস্থা হারিয়ে ফেলেছি। এখন আর আশ্বাসে চলবে না। বিকেল ৪টার মধ্যে আমাদের দাবি আদায় না হলে আমরা সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করব।

পরবর্তী সময়ে আলটিমেটামের মেয়াদ আরও দুই ঘণ্টা বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত করা হয়।


আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে আজ রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) শেষ হলো ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। সকাল ৯টার পরই শুরু হয় মোনাজাত। এবারের মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা জুবায়ের। মোনাজাতে দেশ ও বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

মহান আল্লাহ’র নৈকট্য লাভের আশায়, ভোর থেকেই ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে ময়দানে জড়ো হয়েছেন ধর্মপ্রাণ লাখো মুসল্লি। কেউ পায়ে হেটে; কেউ গণপরিবহনে, কেউবা ট্রেনে চেপে এসেছেন টঙ্গীর তুরাগ তীরে।

ভোরে ফজরের নামাজের পর থেকেই চলে হেদায়াতি বয়ান। মূলত, ইজতেমা শেষ হওয়ার পর ৩ থেকে ১০ দিনের চিল্লায় যান, তাবলিগের সাথীরা। সেসময়, কী কৌশলে দ্বীনের দাওয়াত দিতে হবে সেই নসিহত করছেন মুরব্বিরা। সকালে বয়ান করেছেন ভারতীয় মাওলানা আবদুর রহমান। এরপর মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা তার বয়ানে ঈমান-আকিদা পালনের বিষয়ে আলোচনা করেন। তাদের সেই বয়ান বাংলায় ভাষান্তর করে শোনানো হয় মুসল্লিদের।

মুসলিম উম্যাহ’র প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান সবার। নিজের আত্মশুদ্ধি’সহ ইসলামের সুমহান বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার প্রত্যয় সবার চোখেমুখে। উল্লেখ্য, এ বছর মোট তিন পর্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। শুরায়ে নেজাম বা জুবায়েরপন্থিদের দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ৩ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি। এরপর, আগামী ১৪-১৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে সাদপন্থিদের ইজতেমা।



যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে সব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়।

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা উত্তর সিটি (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন ছয়টি খাল সংস্কার কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ব্লু নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা কিছুটা কমে আসবে জানিয়ে উপদেষ্টা আসিফ বলেন, ‘খালগুলো সংরক্ষণ করতে পারলে ঢাকা শহরের চিত্র ভিন্ন হত। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে সব সমস্যা এত দ্রুত শেষ করা সম্ভব নয়। তাই আমরা কিছু পরিকল্পনা দিয়ে যাচ্ছি।’
 
এসময় তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা নর্থ মডেল পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। যা হবে শহরের জন্য রোল মডেল।’
 
এছাড়া এদিন বর্ষার আগেই ছয়টি খালের খনন কাজ শুরু হবে উল্লেখ করে বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আগে সমন্বয়ের অভাব ছিল। তবে এখন আন্তঃমন্ত্রণালয় এক হয়ে কাজ করছে। কাজটা শেষ করতে সময় লাগবে, তবে আমরা শুরু করে দিচ্ছি।’
 
প্রকল্পের অধীনে নয়, কর্মসূচির মাধ্যমে কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খাল খনন কাজ শুরু হবে আগে। এরপর পুনরুদ্ধার করা হবে। পুনরুদ্ধারের সময় অনেক বাধা আসবে, তা সবাইকে মিলে রুখতে হবে।
 
এ সময় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের অনেক ক্ষতি করা হয়েছে। তবে এখন থেকে আমরা তা পরিবর্তন করবো।’


ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ যদি ফেব্রুয়ারি মাসে কোনো ধরনের প্রোগ্রাম করার চেষ্টা করে তাহলে পুলিশ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন প্রোগ্রাম আসছে। আমরা এসব প্রোগ্রাম প্রতিহত করছি। প্রোগ্রাম তো দিতেই পারে কিন্তু সেগুলো আমরা প্রতিদিনই মোকাবিলা করে যাচ্ছি। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অনেক নেতাকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। তারা যদি কোনো প্রোগ্রাম করার প্রদক্ষেপ নেয় তাহলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) অমর একুশে বইমেলা ঘিরে ডিএমপি কর্তৃক গৃহীত নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

বইমেলাতে কেন্দ্র করে গত সরকারের আমলে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল তারা এখন কারামুক্ত আছে। তাদের বিষয়ে কোনো নজরদারি থাকবে কি না জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এরকম যারা সন্দেহভাজন আছেন তাদের আমরা নজরদারিতে রাখছি।

প্রতিবছর বই মেলাকে কেন্দ্র করে কিছু লেখক বা প্রকাশনী উসকানিমূলক কিছু বই বের করে এ বিষয়ে আপনাদের কোনো নজরদারি রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, কয়েকটি সমন্বয় সভা করেছি। বাংলা একাডেমির কর্মকর্তাদের আমরা বলেছি যেন কোনো ধরনের উসকানিমূলক বই যেন মেলায় না আসে।

ঢাকাতে যে যেভাবে পারছে আন্দোলন করছে। এর ফলে মহানগরীতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এখন আবার বই মেলা শুরু হচ্ছে এই পরিস্থিতিতে পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করবে, জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা শহরের ট্রাফিক অবস্থা খুবই নাজুক। মানুষ খুবই কষ্ট করছে। আমার নিজেরও কষ্ট লাগে। কারণ এই শরীরের ট্রাফিক ব্যবস্থা তো আমি দেখি। যখন দেখি মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকে। ছোট একটা দাবি নিয়ে বিশ জন লোক রাস্তা আটকে দেয়। আমি তাদের বলব- আপনারা ছোট দাবি নিয়ে রাস্তা আটকায়েন না। আপনারা ফুটপাতে অবস্থান করুন। কিন্তু খুবই দুঃখজনক যেকোনো দাবি দেওয়ার মোক্ষম স্থল হয়ে গেছে রাস্তা অবরোধ।

শিক্ষার্থীদের ঘটনার সময় লাঠিচার্জ করতে আপনি নিষেধ করেছেন কিন্তু শাহবাগে মাদ্রাসা শিক্ষকদের ওপর তাহলে কেন লাঠিচার্জ করা হলো, এমন প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, আমরা এখানে লাঠিচার্জ করিনি শুধু জল কামান ছোড়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের অনুরোধ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এমন কোনো সংবাদ প্রকাশ করবেন না যাতে জনগণের মনে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়। আমরা আমাদের মেকানিজমে ঢাকা শহরকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করি। অনেক মানুষের শহর ঢাকা।



গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগতীরে গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব আম বয়ানের মাধ্যমে বিশ্ব ইজতেমার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিন আগেই এবার ব্যতিক্রমভাবে ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হল।

ছবি :৫৮ তম বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে ছুটছে তাবলিগের সাথীরা।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে বৃহত্তম জুমার নামাজ। এই পর্বে অংশ গ্রহণ করছেন ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে শুরায়ী নেজামের তাবলিগের সাথিরা। ইজতেমা উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মুসল্লিদের সুবিধার্থে নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন।

ইজতেমায় মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, বিগত বছরগুলোতে শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মাধ্যমে ইজতেমা শুরু হলেও এবার মাগরিবের নামাজের পর আম বয়ান হয়েছে। নামাজের পরে ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলার আম বয়ানের মাধ্যমে এবারের টঙ্গীর ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। বয়ানের তরজমা করেছেন বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়ের।

তিনি বলেন, আজ শুক্রবার বাদ ফজর বয়ান করছেন পাকিস্তানের মাওলানা জিয়া উল হক। সকাল ১০টায় বিভিন্ন খিত্তায় খিত্তায় তালিমের আমল হবে। দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে বৃহত্তম জুমার নামাজ। জুমার নামাজ পড়াবেন মাওলানা মুহাম্মদ জুবাযর। ইজতেমায় প্রথম পর্বে অংশগ্রহণের জন্য আগত মুসল্লিরা বিভিন্ন খিত্তায় খিত্তায় অবস্থান করছেন।

তিনি আরও বলেন, পৌনে ১০ টায় তালিমের আগে মোজাকেরা (আলোচনা) করবেন মাওলানা জামাল সাহেব (ভারত) এছাড়া বিশেষ কিছু সুচি রয়েছে। সকাল ১০ টায় হবে শিক্ষকদের বয়ান। বয়ানের মিম্বারে বয়ান করবেন, ভারতের মাওলানা ফারাহিম। ছাত্রদের সঙ্গে নামাজের মিম্বারে বয়ান করবেন, ভারতের প্রফেসর আব্দুল মান্নান। খাওয়াছদের (গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ) মাঝে টিনশেড মসজিদে বয়ান করবেন, ভারতের মাওলানা আকবর শরিফ। বাদ জুমা বয়ান করবেন, জর্ডানের শেখ উমর খাতিব, বাদ আসর বয়ান করবেন, মাওলানা জুবায়ের, বাদ মাগরিব বয়ান করবেন, ভারতের মাওলানা আহমেদ লাট।

শুরায়ে নেজামের শীর্ষ পর্যায়ের মুরব্বি মাহফুজুল হান্নান বলেন, আরবি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ইজতেমা শুরু হয়ে গেছে। এবার দুই ধাপে ইজতেমা করায় মুসল্লিদের সুবিধা হয়েছে। রাস্তাঘাটে চলাচলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত সব ঠিকঠাক আছে।

অনুষ্ঠিত হবে বৃহত্তম জুমার নামাজ: টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে বৃহত্তম জুমার নামাজ। এই নামাজে তাবলীগ জামাতের অনুসারী ছাড়াও টঙ্গী ও আশেপাশের এলাকা থেকে মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন। সকাল থেকে তারা দলে দলে আসতে শুরু করেছেন। মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় ভিড় করছেন তারা।

এদিকে, ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে ১৪টি বিশেষ ট্রেন সার্ভিস চালু করেছে রেলওয়ে। এ ছাড়া মহাসড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এ ছাড়া ইজতেমার নিরাপত্তায় নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়। পুরো ময়দান ৫টি সেক্টরে ভাগ করে কাজ শুরু করেছে প্রায় ১০ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এবারের ইজতেমা ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে শুরায়ী নেজামের অধীনে দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম পর্ব ৩১ জানুয়ারি শুরু হয়ে ২ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ৩ ফেব্রুয়ারি। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।


বাংলাদেশ রেলওয়ের রানিং স্টাফদের (লোকোমাস্টার, গার্ড, টিটিই) ডাকা কর্মবিরতির ফলে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ক্ষুব্ধ যাত্রীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন এবং স্টেশন চত্বরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

রানিং স্টাফদের মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স (ভাতা) যোগ করে পেনশন এবং আনুতোষিক সুবিধা দেওয়ার দাবিতে এই কর্মবিরতি শুরু হয়। গতকাল সোমবার মধ্যরাত থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে, যা যাত্রীদের জন্য ব্যাপক অসুবিধার কারণ হয়েছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনসহ দেশের বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীরা ট্রেন বন্ধের খবর না জেনে এসে বিপাকে পড়ছেন। অনেকে স্টেশনে এসে ট্রেন না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

রানিং স্টাফদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। এতে দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা অচলাবস্থার মুখে পড়েছে।

 


জাতীয়করণের দাবিতে নবম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ইবতেদায়ি স্বতন্ত্র মাদরাসার শিক্ষকরা।

ছবি :জাতীয়করণের দাবিতে ঢাবির চারুকলা অনুষদের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে ইবতেদায়ি শিক্ষকেরা(সংগৃহীত)।  

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল থেকে জাতীয়করণের দাবিতে নবম দিনের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি থেকে রাজধানীর প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নি‌য়ে শিক্ষকেরা জানিয়েছিলেন, ১৫ হাজার মাদরাসার ৭৫ হাজার শিক্ষক বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো সারা দেশের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগু‌লো জাতীয়করণের দাবি‌তে বছরের পর বছর আন্দোলন ক‌রে আসছেন শিক্ষকেরা। তাদের দাবি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নীতিমালা মেনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হলেও কোনো ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ করা হয়নি। যত দ্রুত সম্ভব মাদরাসাগু‌লো জাতীয়করণ কর‌তে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, জাতীয়করণের দাবির অংশ হিসেবে রোববার (২৬ জানুয়ারি) ‌প্রেস ক্লাবের অবস্থান কর্মসূচি থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা ও স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষকেরা। তবে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে শাহবাগ থানার সামনে পৌঁছালে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তারা। ওই সময় তাদের ওপর জলকামান নিক্ষেপ ছাড়াও লাঠিচার্জ করা হয়। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হ‌লে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
 

 


বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার চারজন ও পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১৬ কর্মকর্তাসহ ২০ জনকে বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মো.মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষারিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি করা হয়।

বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মেট্রোপলিটন, রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়, ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, পিবিআই, ডিএমপি, শিল্পাঞ্চল পুলিশ ও আরআরএফসহ বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়েছে।
 


দেশের ওয়ার্কশপ খাতের উপর ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার হতে যাচ্ছে। আগের মতোই ১০ শতাংশই থাকছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খানের সঙ্গে আলোচনা শেষে এনবিআর থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়।

এনবিআর জানায়, গত ৯ জানুয়ারি অধ্যাদেশ জারি করে ওয়ার্কশপ খাতে ভ্যাট বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছিল। তবে সেটি আবারও আগের হারে ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ ওয়ার্কশপে ভ্যাট ১০ শতাংশই থাকছে। এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি হোটেল, রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছিল এনবিআর।


কোনো নীতিমালা ছাড়া সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতা প্রয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২০ জানুয়ারি) জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইনসচিব, সরাষ্ট্র সচিব, পার্লামেন্ট সচিব ও রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিবকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে কোনো নীতিমালা ছাড়া সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতা কেন অসাংবিধানিক হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতা প্রয়োগে নীতিমালা করার আবেদনও জানানো হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতির ক্ষমা করার ক্ষমতা রয়েছে। এ ক্ষমা করার ক্ষমতা অবাধ, যার কোনো নীতিমালা নেই। কে, কিসের ভিত্তিতে ক্ষমা পাচ্ছে তার কোনো নীতিমালা নেই। যা সংবিধানের ৭, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এরইমধ্যে এ ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে অনেক সাজাপ্রাপ্ত আসামি ক্ষমা পেয়েছে। যার মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান আব্দুল আজিজের ভাই জোসেফ, আসলাম ফকির অন্যতম।

আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, অনেক বছর ধরে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করার ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাজাপ্রাপ্ত খুনিদের ক্ষমা করা হয়েছে। এর ফলে, সাধারণ জনমনে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আশংকা তৈরি হয়েছে। এ ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে, নীতিমালা প্রণয়ন আবশ্যক।


বন্ধু দেশ চীনের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে উভয় পক্ষ বিভিন্ন কর্মসূচি নিতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনকে ২৪ টি প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। উভয় পক্ষের সম্মতিতে এসব প্রস্তাব গৃহীত হতে পারে।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) বেইজিং সফরে যাচ্ছেন, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন। সফরকালে আগামীকাল ২১ জানুয়ারি চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়াং ই'য়ের সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনকে ২৪ টি প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। সেগুলো হলো:

১. উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও অন্যান্য মন্ত্রী পর্যায়ের সফর বিনিময়।

২. বাংলাদেশের তরুণ নেতাদের চীনে, চীনা তরুণ নেতাদের বাংলাদেশে সফর।

৩. বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী/নাগরিক সমাজের সদস্যদের চীন সফর বিনিময়।

৪. বাংলাদেশ ও চীনের মিডিয়া/থিঙ্কট্যাঙ্ক সদস্যদের সফর বিনিময়।

৫. বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ক্রীড়া দলের সফর বিনিময় ।

৬. বাংলাদেশ ও চীনা বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি।  

৭. চীনা হাসপাতালে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই।

৮. পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একে অপরের রাজধানীতে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা।

৯. বাংলাদেশ এবং চীনা শহরগুলোর মধ্যে সিস্টার সিটি চুক্তি।

১০. বেইজিং, সাংহাই, কুনমিংয়ে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী। বাংলাদেশ থেকে চীনে সাংস্কৃতিক দলের সফর।

১১. চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অনুষ্ঠানের আয়োজন।

১২.  আগামী ৪ অক্টোবর  ঢাকা এবং বেইজিং উভয় স্থানে একযোগে স্মারক ডাকটিকিট এবং খামের যৌথ প্রকাশ।

১৩. বাংলাদেশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ঢাকায়  সিম্পোজিয়াম আয়োজন।

১৪. চীনের জাতীয়  নারী  ক্রিকেট দলের সাথে প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে  জাতীয় নারী  ক্রিকেট দলকে চীনে পাঠানো।

১৫. বেইজিং, কুনমিং, সাংহাই, হংকং'য়ে  খাদ্য উৎসব আয়োজন।

১৬. দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ তম  বার্ষিকীতে আগামী  ৪ অক্টোবর  চায়না ডেইলি বা অন্য কোনও চীনা সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা।

১৭. চীনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন।

১৮. মেঘনা/পদ্মা নদীতে নৌকা বাইচ আয়োজন।

১৯. ঢাকায় চীনা দূতাবাসের সাথে যৌথভাবে ঘুড়ি উৎসব আয়োজন।

২০. বেইজিং/হংকংয়ে বাংলাদেশ সঙ্গীত উৎসব আয়োজন।

২১. বেইজিং এবং সাংহাইয়ে একক দেশের  বাণিজ্য মেলা আয়োজন।

২২. কুনমিং/সাংহাইয়ে বাণিজ্য প্রদর্শনীর আয়োজন।

২৩. চীনা বিনিয়োগকারী/তরুণ চীনা ব্যবসায়ী নেতাদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো।

২৪. চীনা বিনিয়োগ বাংলাদেশে  আনতে   সাংহাইয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ সেমিনার আয়োজন।

 


আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রেলপথে 'সৈকত' ও 'প্রবাল' এক্সপ্রেস নামে দুই জোড়া নতুন ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ সিদ্ধান্তে খুশি কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকরা।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) রেলওয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজার ও তৎসংলগ্ন এলাকার যাত্রী এবং পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণের জন্য চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে ২ জোড়া ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। যা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি হলো ৮২১/৮২৪ (সৈকত এক্সপ্রেস) ও ৮২২/৮২৩ (প্রবাল এক্সপ্রেস)। ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে সোমবার।

সৈকত এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে ছাড়বে ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে, ষোলশহর, জানালীহাট, পটিয়া, দোহাজারী, সাতকানিয়া, চকরিয়া, ডুলাহাজারা, রামু হয়ে কক্সবাজার পৌঁছাবে ৯টা ৫৫ মিনিটে। সৈকত এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে ছাড়বে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে, চট্টগ্রাম পৌঁছাবে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে। প্রবাল এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে ছাড়বে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে, চট্টগ্রাম পৌঁছাবে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে। চট্টগ্রাম থেকে ছাড়বে বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে, কক্সবাজার পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৭টায়। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রেলপথের এই দুটি ট্রেন বিরতি দেবে ৪টি স্টেশনে।


পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার বাহিনীর পোশাকে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সোমবার (২০ জানুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ছবি: পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার।

জানা গেছে, বৈঠকে আয়রন, রয়েল ব্লু, ডিপ খাকি, ডিপ ব্লু, জলপাইসহ কয়েকটি রংয়ের পোশাকের মডেল উপস্থাপন করা হয়। সেখান থেকে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তিন বাহিনীর জন্য আলাদা আলাদা রংয়ের পোশাক চূড়ান্ত করা হয়।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুলিশের পোশাকের রং হচ্ছে ‘আয়রন’। র‌্যাবের পোশাক হচ্ছে 'জলপাই বা অলিভ' রংয়ের। আর আনসারের পোশাকের রং হচ্ছে ‘গোল্ডেন হুইট’।

পোশাক পরিবর্তনের কারণ হিসেবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘এসব সদস্যদের মানসিকতার পরিবর্তন করতেই পোশাকের পরিবর্তন করা হচ্ছে। মনোবল বৃদ্ধি ও দুর্নীতিরোধসহ নানান বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।’


আজ থেকে শুরু হচ্ছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন সাভারে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক মো. শরিফুল আলম। তিনি বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা জেলার সাভার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন।

নির্বাচন কমিশন জানায়, ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এই কার্যক্রম চলবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। নিবন্ধন কেন্দ্রে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে চলবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত।

তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হলে ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু ছবি তোলে নিবন্ধন সম্পন্ন করার কাজ। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে।

ভোটার হতে যেসব তথ্যের প্রয়োজন হবে-

১. ১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্মসনদের কপি।
২. জাতীয়তা বা নাগরিকত্ব সনদের কপি।
৩. নিকট আত্মীয়ের (পিতা-মাতা, ভাই-বোন প্রভৃতি) এনআইডির ফটোকপি।
৪. এসএসসি, দাখিল, সমমান অথবা অষ্টম শ্রেণি পাশের সনদের কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
৫. ইউটিলিটি বিলের কপি (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা চৌকিদারি ট্যাক্স রশিদের ফটোকপি)।

ভোটার হওয়ার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে-

১. নিজের নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্ম নিবন্ধন বা শিক্ষা সনদের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে লিখতে হবে।
২. জন্ম তারিখ অবশ্যই জন্ম নিবন্ধন বা শিক্ষা সনদ অনুযায়ী হতে হবে।
৩. স্থায়ী ঠিকানা লেখার ক্ষেত্রে অবশ্যই ভোটারের প্রকৃত স্থায়ী ঠিকানা লিখতে হবে।
৪. কোনো অবস্থাতেই দ্বৈত বা দুইবার ভোটার হওয়া যাবে না।

বর্তমানে দেশে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ১৬০। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৭ ও নারী ভোটার ৫ কোটি ৯৭ লাখ ৪ হাজার ৬৪১ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯৩২ জন।


পিলখানা হত্যা মামলায় জামিন পেয়েছেন প্রায় ২০০ আসামি। বিস্ফোরক মামলায় খালাসপ্রাপ্ত ও দণ্ডভোগ শেষ হওয়ায় তাদের জামিন দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) আদালতে হাজির করা হয়েছিল প্রায় ১০০ আসামিকে। সকালে কেরাণীগঞ্জ ও কাশিমপুর কারাগার থেকে আনা হয় আসামিদের। প্রথমে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে সাক্ষ্য দেন সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর ইউসুফ। সাক্ষ্যগ্রহণ ও জামিন শুনানি শেষে এই আদেশ দেয়া হয়। কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন অস্থায়ী আদালতে হয় শুনানি। পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি ধার্য করা হয়েছে।

আদালতের কার্যক্রম শুরুর খবর পেয়ে, ভোর থেকে বিডিআর জওয়ানদের জামিনের দাবিতে কারাগারের সামনে অবস্থান নেন স্বজনরা। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় কারাভোগ করেন এসব আসামি।

হত্যা মামলায় খালাস পেয়েও বিস্ফোরক মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে থাকায় বন্দি ছিলেন অভিযুক্ত বিডিআর সদস্যরা। বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটিয়ে বিচারপ্রার্থীরা কারামুক্ত হওয়ায় আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন আসামিদের স্বজনরা।