এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী আসনকেন্দ্রিক তৎপরতা এখনো দৃশ্যমান না হলেও ঢাকা-১১ আসন থেকে তার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বাড্ডা, ভাটারা, রামপুরা, বনশ্রী এলাকা (ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২১, ২২, ২৩, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড) নিয়ে গঠিত এই আসনটি। নাহিদের বাড়ি ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রীতে।
ঢাকা-১৩ সংসদীয় আসনের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে সক্রিয় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হুসেইন। তাঁর উদ্যোগে তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত বিভিন্ন দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সমস্যা-সংকটের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। তারা এলাকার খাল ও মাঠ রক্ষায় মানববন্ধন করেছেন। ১৫ মার্চ আয়োজন করেছেন ইফতার মাহফিল। ঈদুল ফিতরের সময় জনসংযোগের আরও বিভিন্ন পরিকল্পনা আছে তার। তিনি ঢাকা-১৩ আসন (মোহাম্মদপুর–আদাবর এলাকা) থেকে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই নিজ এলাকা নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে বেশ সক্রিয় হন তিনি। এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা সমাধানেও তিনি কাজ করছেন। এখন ইউনিয়ন পর্যায়ে সমাবেশ করছেন। ঈদকে কেন্দ্র করে জনসংযোগ জোরদার হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি শতাধিক গাড়িবহর নিয়ে নিজের জেলায় নির্বাচনী প্রচারাভিযানে গিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলা নিয়ে গঠিত পঞ্চগড়-১ সংসদীয় আসন থেকে তিনি সংসদ নির্বাচন করতে চান। এখন নির্বাচনী আসনের বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক করছেন, মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। ঈদেও সারজিসের এই তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
দেবীদ্বার উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৪ আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ। গত কয়েক মাসে এলাকায় বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন হাসনাত। হাসনাত নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গেই ঈদ করবেন বলে জানা গেছে।
দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-৪ আসনে প্রার্থী হতে পারেন। নির্বাচনী এলাকায় আখতারের যাতায়াত আছে। ঈদকেন্দ্রিক জনসংযোগেও দেখা যেতে পারে।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গত ২৬ মার্চ নিজ এলাকা চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় এক ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে তিনি বলেন, তরুণদের চোখ এখন জাতীয় সংসদের দিকে। ৫ আগস্টের মতো ‘টেকনিক’ (কৌশল) ব্যবহার করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে তরুণদের বড় একটি অংশ বিজয়ী হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলা নিয়ে গঠিত চাঁদপুর-৫ আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী নাসীরুদ্দীন।
ভোলা সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। গত কয়েক মাসে ভোলায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন তিনি।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা ঢাকা-১৭ আসনে (গুলশান-বনানী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকা) দলের প্রার্থী হতে পারেন।
ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান এনসিপির আরেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। এই আসনটি ঢাকার উত্তর সিটির ৭ থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ড ও সাভারের কাউন্দিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার নরসিংদী থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী। গত কয়েক মাসে তিনি নরসিংদীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। নরসিংদী-২ আসনেকেন্দ্রিক তৎপরতা তার বেশি। ঈদের দিন তিনি নিজ এলাকায় শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছেন।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম দৌলতপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া-১ আসনে প্রার্থী হতে চান। সেই লক্ষ্যে এলাকার মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়াচ্ছেন তিনি। ঈদেও এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে দেখা যেতে পারে।
দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক রায় দিরাই ও শাল্লা উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। সেই লক্ষ্যে এলাকায় সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি রাখছেন নিয়মিত যোগাযোগ।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দীন মাহাদী সরাইল ও আশুগঞ্জ নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী। তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত মুফতি ফজলুল হক আমিনীর দৌহিত্র। মুফতি আমিনী ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। সেই আসন থেকে এনসিপির হয়ে নির্বাচন করতে চাইছেন তাঁর দৌহিত্র।
বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলা নিয়ে গঠিত সিরাজগঞ্জ-৫ আসন থেকে এনসিপির হয়ে নির্বাচন করতে চান মাহিন সরকার। এনসিপির এই যুগ্ম সদস্যসচিব নিজের এলাকায় ইফতারসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
বাঁশখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৬ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক। সেই লক্ষ্যে বাঁশখালীতে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন তিনি। ঈদেও বাঁশখালীর মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।
মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-১ সংসদীয় আসনে এনসিপির প্রার্থী হতে চান এনসিপির উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক অলিক মৃ। তিনিও এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের আসনকেন্দ্রিক সংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছেন এনসিপির আরও অনেক নেতা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা আতিক মুজাহিদ (কুড়িগ্রাম), প্রীতম দাশ (মৌলভীবাজার), আবদুল্লাহ আল আমিন (নারায়ণগঞ্জ), হাসান আলী (চট্টগ্রাম), অর্পিতা শ্যামা দেব (সিলেট), মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন (পটুয়াখালী), ভীম্পাল্লী ডেভিড রাজু (খুলনা), কৈলাস চন্দ্র রবিদাস (নওগাঁ), এহতেশাম হক (সিলেট), সাইফুল্লাহ হায়দার (টাঙ্গাইল), মাহমুদা আলম মিতু (বরিশাল), মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান (চুয়াডাঙ্গা), জয়নাল আবেদীন শিশির (কুমিল্লা), আবদুল্লাহ আল মামুন ফয়সাল (ভোলা), আরিফুর রহমান তুহিন (ঝালকাঠি), মোহাম্মদ আতাউল্লাহসহ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) অনেকেই।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, আমরা চাইব, যেকোনোভাবেই হোক ৩০০ আসনেই যেন আমাদের একটা অবস্থান প্রকাশ করা যায়, যাতে এনসিপির নাম প্রত্যেক এলাকায় পৌঁছে যায়। তবে এনসিপি এখনো গণপরিষদ নির্বাচন চাইছে বলে জানান তিনি।
আজকেও একটি চাপকে অস্বীকার করে আমি আবারও আপনাদের ওপরেই ভরসা রাখতে চাই। এ পোস্ট দেয়ার পর আমার কী হবে, আমি জানি না। নানামুখী প্রেশারে আমাকে হয়তো পড়তে হবে, হয়তো বিপদেও পড়তে হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে কোনো ধরণের আপস করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজ থেকে দেয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত বলেন– কিছুদিন আগে আমি আপনাদের বলেছিলাম যে, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের। সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরিন শারমিন, তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
আমিসহ আরও দুজনের কাছে ক্যান্টনমেন্ট থেকে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় ১১ মার্চ দুপুর আড়াইটায়। আমাদের প্রস্তাব দেয়া হয়, আসন সমঝতার বিনিময়ে আমরা যেন এ প্রস্তাব মেনে নিই। আমাদের বলা হয়, এরইমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এ প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তারা শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে। একটি বিরোধী দল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধী দল থাকা নাকি ভালো। ফলশ্রুতিতে আপনারা দেখবেন, গত দুইদিন গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগের পক্ষে একাধিক রাজনীতিবিদ বয়ান দেয়া শুরু করেছেন।
পোস্টে তিনি বলেন– আমাদের আরও বলা হয়, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ যাদের দিয়ে করা হবে, তারা এপ্রিল-মে থেকে শেখ পরিবারের অপরাধ স্বীকার করবে, হাসিনাকে অস্বীকার করবে এবং তারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করবে, এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হবে।
আমাদের এ প্রস্তাব দেয়া হলে আমরা তাৎক্ষণিক এর বিরোধিতা করি এবং আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে কাজ করার কথা জানাই। উত্তরে আমাদের বলা হয়, আওয়ামী লীগকে ফিরতে কোনো ধরনের বাধা দিলে দেশে যে সংকট সৃষ্টি হবে, তার দায়ভার আমাদের নিতে হবে এবং ‘আওয়ামী লীগ মাস্ট কামব্যাক’।
হাসনাত তার পোস্টে লেখেন, আলোচনার এক পর্যায় বলি– যে দল এখনও ক্ষমা চায়নি, অপরাধ স্বীকার করেনি, সে দলকে আপনারা কীভাবে ক্ষমা করে দেবেন! অপরপক্ষ থেকে রেগে গিয়ে উত্তর আসে, ‘ইউ পিপল নো নাথিং। ইউ ল্যাক উইজডোম অ্যান্ড এক্সপিরিয়েন্স। উই আর ইন দিজ সার্ভিস ফর এটলিস্ট ফোর্টি ইয়ার্স। তোমার বয়সের থেকে বেশি। তাছাড়া, আওয়ামী লীগ ছাড়া ইনক্লুসিভ (অন্তর্ভুক্তিমূলক) নির্বাচন হবে না।
তিনি আরও লেখেন– এর উত্তরে বলি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ইনক্লুসিভিটি হতে পারে না। আওয়ামী লীগকে ফেরাতে হলে আমাদের লাশের ওপর দিয়ে ফেরাতে হবে। আওয়ামী লীগ ফেরানোর চেষ্টা হলে যে সংকট তৈরি হবে, তার দায়ভার আপনাদের নিতে হবে। পরে মিটিং অসমাপ্ত রেখেই আমাদের চলে আসতে হয়।
হাসনাত লেখেন, জুলাই আন্দোলনের সময়ও আমাদের দিয়ে অনেক কিছু করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কখনও এজেন্সি কখনওবা ক্যান্টনমেন্ট থেকে নানা ধরনের প্রেসক্রিপশন গ্রহণ করতে চাপ দেয়া হয়েছে। আমরা ওসব চাপে নতি স্বীকার না করে আপনাদের তথা জনগণের ওপর আস্থা রেখেছি। আপনাদের সঙ্গে নিয়েই হাসিনার চূড়ান্ত পতন ঘটিয়েছি।
আজকেও ক্যান্টনমেন্টের চাপকে অস্বীকার করে আমি আবারও আপনাদের ওপরেই ভরসা রাখতে চাই। এ পোস্ট দেয়ার পর আমার কী হবে, আমি জানি না। নানামুখী প্রেশারে আমাকে হয়তো পড়তে হবে, হয়তো বিপদেও পড়তে হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করার সুযোগ নেই।
তিনি আরও লেখেন, জুলাইয়ের দিনগুলোতে জনগণের স্রোতে ক্যান্টনমেন্ট আর এজেন্সির সব প্রেসক্রিপশন আমরা উড়িয়ে দিয়েছিলাম। আজ আবারও যদি আপনাদের সমর্থন পাই, রাজপথে আপনাদের পাশে পাই, তবে আবারও এই আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের ভারতীয় ষড়যন্ত্রও আমরা উড়িয়ে দিতে পারব।
আসুন, সব যদি কিন্তু পাশে রেখে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারলে জুলাই ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত আমাদের শহীদদের রক্ত আমরা বৃথা হতে দেব না। ৫ আগস্টের পরের বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কামব্যাকের আর কোনো সুযোগ নেই বরং আওয়ামী লীগকে অবশ্যই নিষিদ্ধ হতেই হবে।
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের লাইভ অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমকে গালি দেওয়ার ঘটনায় সংবাদ উপস্থাপিকাসহ তিনজনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে মর্মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে।
এবার সেই সংবাদ উপস্থাপিকার চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার অহ্বান জানিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজেই।গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে হাসনাত লেখেন, ‘এখন’ টিভির সাংবাদিকদের চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা এই দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্যই আন্দোলন করেছিলাম। আমরা এই গালির স্বাধীনতার জন্যই আন্দোলন করেছিলাম। শুধু মতপ্রকাশ নয়, দ্বিমত প্রকাশও অব্যাহত থাকুক।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা যাওয়া শিশুটির জানাজায় অংশ নিতে মাগুরায় যান হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম। এসময় টেলিভিশনটির লাইভ প্রচারণায় হাসনাত ও সারজিসকে নিয়ে দুই উপস্থাপকের মধ্যে কথা বলার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে ওই নারী উপস্থাপিকা হাসনাত ও সারজিসকে গালি দেন। পরে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরিচ্যুত করে বলে খবর ছড়ায়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ২১৭ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি (আংশিক) অনুমোদিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (১ মার্চ) মধ্যরাতে দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জনগণ মুক্ত হয়েছে। তবে শহীদ মিনারে ঘোষিত অভ্যুত্থানের এক দফা তথা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। একটি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে এই জনপদের মানুষ ইতিহাসের নানান সময়ে নিজেদের হাজির করেছে। প্রায় ২০০ বছরের উপনিবেশবিরোধী লড়াইয়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র অর্জিত হয়। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্র এই জনপদের মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, মুক্তির আকাঙ্ক্ষা থেকে এই জনপদের মানুষ ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালে প্রণীত মুজিববাদী সংবিধানের মধ্য দিয়ে নির্মিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দেয়। ফলে এ দেশের নাগরিকরা ইতিহাসের বিভিন্ন পরিক্রমায় বাকশাল, স্বৈরতন্ত্র এবং সর্বশেষ ফ্যাসিবাদের শিকার হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো থেকে ফ্যাসিবাদের সকল উপাদান ও কাঠামোকে বিলোপ এবং জনগণের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। এজন্য একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাস্তবায়নে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেছি।
কমিটি প্রসঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই আহ্বায়ক কমিটি (আংশিক) আগামী ১ বছরের মধ্যে এই রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র ও ইশতেহার প্রণয়ন, কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সাংগঠনিক বিস্তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
কমিটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, মাহবুব আলম, সারোয়ার তুষার, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, তাজনূভা জাবীন, সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, ড. আতিক মুজাহিদ, আশরাফ উদ্দীন মাহাদী, অর্পিতা শ্যামা দেব, তানজিল মাহমুদ, অনিক রায়, খালেদ সাইফুল্লাহ, জাবেদ রাসিন, এহতেশাম হক ও হাসান আলী।
সদস্যসচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা ও নাহিদা সারওয়ার নিভা, যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন, আরিফ সোহেল, মো. রশিদুল ইসলাম (রিফাত রশিদ), মো. মাহিন সরকার, মো. নিজাম উদ্দিন, আকরাম হুসেইন, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, সালেহ উদ্দিন সিফাত (দপ্তর), আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, ফরিদুল হক, মো: ফারহাদ আলম ভূঁইয়া, মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া, লুৎফর রহমান, মো. মঈনুল ইসলাম (তুহিন), মুশফিক উস সালেহীন, ডা. জাহেদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম মুসা, অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর, মোশফিকুর রহমান জোহান, মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান, সাগুফতা বুশরা মিশমা, আফসানা ছপা, আহনাফ সাইদ খান, আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন, মীর আরশাদুল হক, ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, তারেকুল ইসলাম (তারেক রেজা), মশিউর রহমান, জয়নাল আবেদীন শিশির, গাজী সালাউদ্দীন তানভীর, তামিম আহমেদ, তাহসীন রিয়াজ ও প্রীতম দাশ।
এছাড়াও কমিটিতে রয়েছেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম (উত্তরাঞ্চল), যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার, আলী নাছের খান, সাকিব মাহদী, মেজর (অব.) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, সাদিয়া ফারজানা দিনা, অলিক মৃ, আসাদুল্লাহ আল গালিব, হানিফ খান সজীব, আবু সাঈদ লিয়ন।
সংগঠক হিসেবে রয়েছেন, রাসেল আহমেদ, ইমরান ইমন, ফরহাদ সোহেল, রফিকুল ইসলাম আইনী, মোস্তাক আহমেদ শিশির, আজাদ খান ভাসানী, প্রীতম সোহাগ, দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী, এম এম শোয়াইব, নাহিদ উদ্দিন তারেক, আব্দুল্লাহ আল মনসুর, মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, অ্যাডভোকেট শিরীন আক্তার শেলী, আবুল বাশার, আব্দুল্লাহ আল মুহিম, নাজমুল হাসান সোহাগ, খায়রুল কবির ও সাঈদ উজ্জ্বল।
মুখ্য সংগঠক পদে হাসনাত আবদুল্লাহ (দক্ষিণাঞ্চল), যুগ্ম মুখ্য সংগঠক পদে মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, মোল্যা রহমাতুল্লাহ্, এস এম শাহরিয়ার, মেজবাহ কামাল মুন্না, জোবাইরুল হাসান আরিফ ও ইমন সৈয়দ রয়েছেন।
সংগঠক পদে রয়েছেন, আকরাম হোসাইন রাজ, হামযা ইবনে মাহবুব, ওয়াহিদুজ্জামান, আসাদ বিন রনি, মোহাম্মাদ রাকিব, আরমান হোসাইন, মো. রাসেল আহমেদ, অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা, শওকত আলী, ডা. আশরাফুল ইসলাম সুমন, মুনতাসির মাহমুদ, ডা. মিনহাজুল আবেদীন, সাকিব শাহরিয়ার, আজিজুর রহমান রিজভী, আব্দুর রহমান, ফয়সাল আহমেদ, নয়ন আহমেদ, কাউছার হাবিব, আব্দুল্লাহ আল মামুন ফয়সাল, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জিহান, মাও. সানাউল্লাহ খান, আরিফুল ইসলাম, নফিউল ইসলাম ও মো. রাকিব হোসেন।
মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম (যুব), ডা. মো. আব্দুল আহাদ (চিকিৎসা), মাজহারুল ইসলাম ফকির (শ্রমিক), দিলশানা পারুল, আবু হানিফ, আব্দুজ জাহের, কৃষিবিদ গোলাম মোর্তজা সেলিম, মেহেরাব সিফাত, অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ, আশেকীন আলম, ডা. জাহিদুল বারী, কৈলাশ চন্দ্র রবিদাস, ভীম্পাল্লী ডেভিড রাজু, শেখ মোহাম্মদ শাহ মঈনুদ্দিন, খান মুহাম্মদ মুরসালীন, সাদ্দাম হোসেন, আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল, নাভিদ নওরোজ শাহ, তুহিন মাহমুদ, মো. আরিফুর রহমান (তুহিন), সাগর বড়ুয়া, রাফিদ এম ভূঁইয়া ও মাহবুব আলম।
অবশেষে আত্মপ্রকাশ করেছে ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গণঅভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া দলটির নেতারা ঘোষণা করেছেন, তারা অন্য কোনো দেশ নয়, তারা হবেন বাংলাদেশপন্থি।
তাদের লক্ষ্য ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ তথা দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। আর তা পূরণে নতুন সংবিধান প্রণয়নে সংসদের আগে গণপরিষদ নির্বাচন চান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নায়করা।
শেখ হাসিনার পতন ঘটানো গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের উদ্যোগে গঠিত এনসিপির ঘোষণাপত্রে এসব লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বড় জমায়েতের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেছে ইতিহাসের মেরূকরণ পাল্টে দেওয়া দলটি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগকে সার্থক ঘোষণা দিয়ে তারা বলেছেন, ভারতপন্থি, পাকিস্তানপন্থি রাজনীতির ঠাঁই বাংলাদেশে হবে না।
সাতচল্লিশ, বায়ান্ন, একাত্তর এবং চব্বিশকে ধারণ করা বাংলাদেশপন্থি রাজনৈতিক শক্তির ঐক্য চেয়ে সংসদের আগে গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে এনসিপি। দলটি সরকারের আনুকূল্যে তথা ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে গঠিত হচ্ছে বলে সমালোচকরা বললেও, তা নাকচ করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ ছেড়ে আসা নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বাধীন দলটির নেতারা। অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টাসহ সরকারের উপদেষ্টাদের আমন্ত্রণ করা হলেও তাদের কেউ আসেননি।
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এনসিপি নেতারা বলেন, গণপরিষদে নতুন সংবিধান রচিত হবে। যার মাধ্যমে গড়ে উঠবে কাঙ্ক্ষিত প্রজাতন্ত্র। যেখানে সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত হবে। পরিবারতন্ত্র নয়, মেধা ও যোগ্যতায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। বাংলাদেশের ক্ষমতায় কে যাবে, তা ভারত নির্ধারণ করবে না।
ভারতীয় ‘আধিপত্যবাদের’ বিরোধিতা করা এনসিপির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান স্লোগান ছিল– ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’। মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান ‘তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ উচ্চারিত হয়েছে এর পরেই। আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভাবনীয় পতন ঘটানো গণঅভ্যুত্থানের স্লোগান– ‘ক্ষমতা না জনতা, জনতা জনতা’; ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’; ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’ স্লোগানও দেওয়া হয় আত্মপ্রকাশ মঞ্চ থেকে।
জমকালো মঞ্চ, বড় উপস্থিতি
মানিক মিয়া অ্যাভিনিয়ে মূল সড়কে তৈরি করা হয় মঞ্চ। এতে গতকাল সকাল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পূর্বমুখী মঞ্চের সামনে শহীদ পরিবার ও আহত, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বিশিষ্ট নাগরিক এবং কূটনীতিকদের আসন ছিল।
মঞ্চের সামনের চেয়ার ফাঁকা থাকলেও আসাদ গেট থেকে খেজুর বাগান পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের সর্বত্রই ছিল ছোট ছোট জমায়েত, জটলা। এনসিপি নেতারা দাবি করেছেন, লাখো মানুষের জমায়েত হয়েছে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে। অন্যান্য রাজনৈতিক সমাবেশের সঙ্গে তুলনায় এনসিপি জমায়েতে নারীর অংশগ্রহণ ছিল বেশি। বিপুল সংখ্যক তরুণী, কিশোরী আসেন সমাবেশে। সপরিবার ও শিশুসন্তানদের নিয়ে সমাবেশে আসতে দেখা গেছে অনেককে।
ঢাকার বাইরে থেকে হাজারো বাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির (জানাক) নেতাকর্মী আসেন দলের আত্মপ্রকাশ সমাবেশে। গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের দুই প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগেই গঠিত হয়েছে এনসিপি। গত বুধবার আত্মপ্রকাশ করা গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি না করার ঘোষণা দিলেও এনসিপির আত্মপ্রকাশে উপস্থিতি ছিলেন শিক্ষার্থীদের এই সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
বিকেল ৩টায় আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও শুক্রবার সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আসতে শুরু করেন। সড়কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অবস্থান নেন। মঞ্চের সামনে জুমার নামাজে অংশ নেন তারা।
জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন। জুমার নামাজের পর থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। বিকেল ৩টার দিকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসেন নেতাকর্মীরা। আগতদের প্রায় সবাই ছিলেন তরুণ-তরুণী। বয়স্ক মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে হাতেগোনা। কয়েকটি মিছিল ঘোড়ার গাড়ি, বাদ্যযন্ত্র নিয়ে আসে। লোকসমাগমে এনসিপি সরকারি আনুকূল্য পেয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পিরোজপুর থেকে পাঁচটি বাস জেলা প্রশাসক রিকুউজিশন করে দেন অনুষ্ঠানে আগতদের।
বিকেল সোয়া ৪টায় পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে শুরু হয় আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান। এর পর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এর পর জুলাই শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক তরিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের মা-বাবা এবং পরিবারের সদস্যরা। নতুন দলের নাম, আহ্বায়ক পদে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব পদে আখতার হোসেনের নাম ঘোষণা করেন ৫ আগস্ট শহীদ ইসমাইল হোসেন রাব্বির বোন মিম আক্তার। তিনি সেদিন ভাইয়ের লাশ কাঁধে নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন শেখ হাসিনার পতনে।
পরে আংশিক কমিটির নাম ঘোষণা করেন আখতার হোসেন। সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদিব যুগ্ম আহ্বায়ক, ডা. তাসনিম জারা ও নাহিদা সারওয়ার নিভা জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব, হাসনাত আবদুল্লাহ মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল), সারজিস আলম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল), মুহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মুখ্য সমন্বয়কারী এবং আবদুল হান্নান মাসউদ জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পেয়েছেন। পরে অন্য যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্য সচিব, সংগঠক, সমন্বয়কারীসহ ১৫১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নতুন দলের নেতারা যা বললেন
সব শেষে বক্তৃতা করেন ৩ আগস্ট শহীদ মিনার থেকে শেখ হাসিনার পতনের ঐতিহাসিক এক দফার ঘোষক নাহিদ ইসলাম। উত্তাল জুলাইয়ের মতো মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভারত ও পাকিস্তানপন্থি রাজনীতির ঠাঁই হবে না। আমরা বাংলাদেশকে সামনে রেখে, জনগণের স্বার্থ সামনে রেখে রাষ্ট্র বিনির্মাণ করব। আগামীর কথা বলতে চাই। পেছনের ইতিহাস অতিক্রম করে সম্ভাবনার বাংলাদেশের কথা বলতে চাই।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘তুমি কে, আমি কে, বিকল্প, বিকল্প’ স্লোগানটি তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিকল্পের জায়গা থেকে এই নতুন দলের আত্মপ্রকাশ। আজকের মঞ্চ থেকে শপথ– বাংলাদেশকে বিভাজিত করা যাবে না।
এর পর দলের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের সূচনা বলে উল্লেখ করেন। গণতান্ত্রিক নতুন সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সব আশঙ্কার অবসান ঘটানোর আহ্বান করা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন আমাদের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষ্য। আমাদের দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্রে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ভেঙে পড়া রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় গড়ে তোলা ও তাদের গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষা করা হবে আমাদের রাজনীতির অগ্রাধিকার। এর মধ্য দিয়েই কেবল আমরা একটি পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারব।
নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে জুলাই গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের বিচার সম্ভব হবে জানিয়ে আখতার হোসেন বলেন, একটি নতুন সংবিধানের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। স্বপ্ন বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি জানান তিনি।
সামান্তা শারমিন বলেন, বাংলাদেশে গত ৫৩ বছরে একটি ‘বাইনারি’ ছিল। হয় একে, নয় ওকে বেছে নিতে হবে। দেশের মানুষ দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ চায়।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ৫ আগস্ট দুঃশাসনের কবর রচনা করেছি। সংসদে কে যাবে, তা নির্ধারণ করবে জনতা। ক্ষমতার মসনদে কে বসবে, তা নির্ধারণ করবে এই ভূখণ্ডের মানুষ। বাংলাদেশের গণভবনে কে যাবে, তা ভারত থেকে ঠিক হবে না।
সারজিস আলম বলেন, যারা বড় রাজনৈতিক দল, তারা যদি ছোট দলকে এগিয়ে যেতে না দেয়, তাহলে আবার স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হতে পারে। খুনি হাসিনাকে দেখে যেন আমরা সেই শিক্ষা নিতে পারি। পরিবারতন্ত্র এখানেই শেষ, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হবে আগামীর রাজনীতি।
নাসীরুদ্দীন বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন পর্যন্ত যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবার ত্যাগের মূল্যায়ন করা হবে। বিভাজনের রাজনীতি বাদ দিয়ে আগামীতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আর যেন রক্তপাত না হয়– প্রত্যাশা জানিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ছয় বছর বয়সী শিশু জাবির ইব্রাহিমের বাবা নওশের আলী বলেন, আমার দেশ যেন এনসিপির কাছে নিরাপদ থাকে।
শহীদ পরিবারের প্রত্যাশা
শহীদ মোবারকের মা ফরিদা বেগমের প্রত্যাশা, নতুন দল ভালো কিছুই করবে। তিনি সমকালকে বলেন, ‘আমাগো সন্তানেরা ঝাঁপায়ে পইড়া এ বিজয় নিয়ে আসছে। তাদের কারণে আমরা স্বাধীন। নাহিদ, সারজিসসহ যারা নতুন এই দলে আছে, সবাই যেন সুন্দরভাবে দেশটি পরিচালনা করতে পারে দোয়া করি। দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠুক।’
শহীদ ইমাম হোসেনের ভাই রবিউল ইসলাম বলেন, নাহিদ-আখতারদের ডাকে আন্দোলনে নেমেছিলাম। তাদের মাধ্যমে যেন প্রতিটি হত্যার বিচার হয়। আহত-শহীদ পরিবার যেন ন্যায্য অধিকার পায়।
গত ৪ আগস্ট পুলিশের গুলিতে আহত আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আহমেদ বলেন, এসেছি নতুন দলকে সমর্থন দিতে। নতুন দলের কাছে প্রত্যাশা, আগামীর বাংলাদেশে দুর্নীতি থাকবে না।
ক্রাচে ভর করে এসেছিলেন গণঅভ্যুত্থানে আহত শাকিল হোসেন। ৪ আগস্ট রাজধানীর গুলশানে ছাত্রলীগের হামলায় পা ভাঙে তাঁর। তিনি বলেন, নতুন রাজনৈতিক দলের কাছে প্রত্যাশার জায়গা থেকেই এখানে আসা। ছয় বছর বয়সী শহীদ জাবিরের বাবা মঞ্চ থেকে বলেন, সন্তান হত্যার বিচার চাই।
যারা এসেছিলেন
আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের শরিক ছাড়া ৩৬ রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ করা হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, বিকল্প ধারার নির্বাহী সভাপতি মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, বিএলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আবদুল কাদেরসহ বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে ছিলেন না গণপরিষদ সভাপতি নুরুল হক নুর।
ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূত কেভিন এস রেন্ডালসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরাও এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্র-নাগরিকদের আত্মপ্রকাশ করতে যাওয়া রাজনৈতিক দলের নাম ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’।
তথ্য উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করা নাহিদ ইসলাম এর নেতৃত্বে থাকছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনে তিনিই একদফার ঘোষক এবং জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়ক।
জাতীয় নাগিরক কমিটির বর্তমান সদস্য সচিব ও ঢাকসুর সাবেক নেতা আখতার হোসেন নতুন দলটির সদস্য সচিব হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, কার্যক্রম স্থগিত হওয়া গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন আখতার হোসেন। আর এই ছাত্র সংগঠনটির মহাসচিব ছিলেন নাহিদ ইসলাম।
নয়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টির মূখ্য সংগঠক হিসেবে থাকছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি এখন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহকে এই দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং সারজিস আলমকে উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক করা হচ্ছে।
আগামীকাল শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পরে সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জমায়েতের মাধ্যমে বহুল কাঙ্ক্ষিত দলটির আত্মপ্রকাশ ঘটবে। শুরুতে ১৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি হবে।
এই কমিটিতে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে অন্তত ১১০ জনের বেশি যুক্ত হচ্ছেন। এছাড়া থাকছেন কয়েকজন পেশাজীবীও।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়কদের উদ্যোগে নতুন ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ নামে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করেছে।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে নতুন ছাত্র সংগঠনটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
এর আগে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন ছাত্র সংগঠন আনার ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের ২০১৯-২০২০ সেশনের শিক্ষার্থী আবু বাকের মজুমদার, সমন্বয়ক আব্দুল কাদেরসহ আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা একদল শিক্ষার্থী।
তারা ‘স্টুডেন্ট ফার্স্ট, বাংলাদেশ ফার্স্ট’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র নতুন সংগঠন গড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
বৈষম্যবিরোধীদের আন্দোলনের এই অংশ যখন নতুন ছাত্র সংগঠনের ঘোষণা দিলেন, তখন আরেকটি অংশ জাতীয় নাগরিক কমিটির সঙ্গে মিলে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার কাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছেন। আগামী শুক্রবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে নতুন এ দলের আত্মপ্রকাশ ঘটবে বলে গত সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বের সামনের সারিতে থাকা অন্যতম সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
নতুন দলটিতে যোগ দিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেওয়া নাহিদ ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পদত্যাগ করেছেন। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।
মূর্তি না ভেঙে শত্রুর শক্তির বিপরীতে পাল্টা চিন্তা, শক্তি ও হেজেমনি গড়ে তোলা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ছবি:মাহফুজ আলম(সংগৃহীত)|
‘গড়ার তাকত আছে আমাদের?’ এমন শিরোনাম দিয়ে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম লিখেছেন, ‘আমরা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক আধিপত্যবাদ মোকাবিলা করছি। নিছক কিছু মূর্তি বা দালান নয়। মূর্তি (idols) না ভেঙে আমাদের উচিত আমাদের শত্রুদের শক্তির বিপরীতে পাল্টা চিন্তা (Ideals), শক্তি ও হেজেমনি গড়ে তোলা। ভাঙার প্রকল্প থেকে সরে এসে দিনকে দিন আমাদের গড়ার প্রকল্প হাতে নেওয়া উচিত।’
মাহফুজ বলেন, ‘লীগ বা হাসিনা সে অর্থে কিছুই না, বরং আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের এক্সটেনশন। আর, আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ তার হেজেমনি তৈরি করছে বাস্তবধর্মী রাষ্ট্রকল্পনা, দেশে এবং ডায়াসপোরায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করে। আমাদের পাল্টা হেজেমনিও এ তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল।’
‘ভাঙার পরে গড়ার সুযোগ এসেছে, কিন্তু অনন্ত ভাঙা প্রকল্প আমাদের জন্য ভালো ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবহ না। গড়ার প্রকল্পগুলো খুব দ্রুতই শুরু ও বাস্তবায়ন হবে। আপনারা গড়ার কাজে সক্রিয় হোন।’
তিনি আরও লেখেন, ‘সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন শিগগির শুরু হবে। আহত ও নিহতদের পরিবারের পুনর্বাসন ও জুলাই গণহত্যার বিচারের কাজও চলমান। এ মাসেই এ কাজগুলো আরও গতি পাবে।’
এই উপদেষ্টা বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ নিছক ভাঙা নয়, বরং বিকল্প গড়ারও লড়াই। নতুন বন্দোবস্তে আমরা ভাঙার চেয়ে গড়ার দিকে গুরুত্ব দিতে চাই।’
তিনি লিখেছেন, ‘পুনশ্চ: খুনি হাসিনার বক্তব্য প্রচার এবং এর প্রতিক্রিয়ায় সব রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য দায়ী থাকবে আঞ্চলিক আধিপত্যবাদ। এজন্যই আমাদের উচিত, সৃজনশীল শক্তির বিকাশ ঘটানো এবং সার্বিকভাবে এ আধিপত্যবাদ মোকাবিলায় প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে দূরদর্শী পদ্ধতি নেওয়া। কারণ, এ লড়াই মাত্র শুরু হলো। অন্তত, এক দশক পরে এ লড়াইয়ের একটা মীমাংসা হয়তো হবে। অথচ, সেজন্য আমাদের প্রস্তুতি সামান্যই।’
মাহফুজ আলম লেখেন, ‘রাগ, ক্ষোভ, ঘৃণা নেতিবাচক এনার্জি, কিন্তু অভ্যুত্থানের পর আমাদের এসব এনার্জিকে ইতিবাচক রূপান্তরের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এখনো সে সুযোগ হারিয়ে যায়নি। আগামী অন্তত এক দশকব্যাপী দীর্ঘ গণতান্ত্রিক ও আধিপত্যবাদ-বিরোধী লড়াইয়ের জন্য আমাদের সৃজনশীল শক্তিকে কাজে লাগানো দরকার।’
‘ভবিষ্যৎপানে তাকান, ইতিহাস আমাদের সুযোগ দিয়েছে। আমাদের এবার জিততেই হবে, আর জেতার উপায় একটাই- রাষ্ট্রকল্প, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, দক্ষ ও মর্যাদাবান মানবসম্পদ গড়ে তোলা। আল্লাহ আমাদের ফেরাসত তথা দূরদৃষ্টি দিক’ -বলেও যোগ করেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম আহত হয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ফুলার রোডে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সারজিস আলমকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের শিক্ষার্থী শুভ হাওলাদার। তিনি বলেন, সারজিস আলম নিজেই প্রাইভেট কার চালিয়ে বাংলা মোটরের দিকে যাচ্ছিলেন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের সামনে এলে একটি শিশু গাড়ির সামনে এসে পড়ে। শিশুটিকে বাঁচাতে সারজিস সজোরে ব্রেক করলে সড়ক বিভাজকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে তাঁর বাঁ চোখের পাশে কেটে গেছে। এ ছাড়া মাথায় সামান্য আঘাত লেগেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নেওয়া হয়েছে।
বিয়ে করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহর ফেসবুক থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায়।
নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি ছবি শেয়ার করে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ক্যাপশনে লিখেছেন, নবজীবনে পদার্পণে অভিনন্দন সারজিস ভাই। বিবাহিত জীবন সুখের হোক।
ওই ছবিতে সারজিসকে শেরওয়ানি ও পাগড়ি পরিহিত দেখা গেছে। তার দুই পাশে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহকে দেখা গেছে।
এদিকে হাসনাত আব্দুল্লাহও ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, অভিনন্দন বন্ধু সারজিস। তোমাদের জন্য শুভ কামনা জানাচ্ছি, যেখানে ভালোবাসা এবং সুন্দর মুহূর্তগুলিতে ভরপুর থাকবে।
আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আব্দুল্লাহর ফেসবুক পোস্টে শুভাকাঙ্ক্ষীরা শুভেচ্ছার বন্যা বইয়ে দেন সারজিসকে। কিন্তু সবার মনেই জল্পনা ছিল, কাকে বিয়ে করেছেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম এই নায়ক? কী সেই পাত্রীর পরিচয়?
অবশেষে জানা গেছে সেসব।
সারজিসের শশুর বাড়ি বরগুনা। তার স্ত্রীর নাম রাইতা। তিনি একজন পবিত্র কোরআনের হাফেজা। একবোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সারজিস আলমের স্ত্রী হাফেজা রাইতা সবার বড়। বরগুনা সদর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীচন্না ইউনিয়নে লাকুরতলা গ্রামের ব্যারিস্টার লুৎফর রহমানের মেয়ে। সব সময় পর্দা মেনে চলেন রাইতা।
তার শশুর ব্যারিস্টার লুৎফর রহমান বর্তমানে বাংলাদেশের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। পেশার তাগিদে ব্যারিস্টার লুৎফর রহমান স্ত্রী, মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে রাজধানীর বাসাবো এলাকার শাহজাহানপুর এলাকায় বসবাস করেন।
সারজিস আলমের শশুরের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের রাজিন্দ্র রিসোর্টে শুক্রবার আসরের নামাজ বাদ পারিবারিকভাবে তাদের বিবাহ কার্য সম্পন্ন হয়েছে।
সারজিস আলম ২ জুলাই ১৯৯৮ সালে পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আকতারুজ্জামান সাজু ও মা বাকেরা বেগম। দুই ভাইয়ের মধ্যে সারজিস আলম বড়। তার ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন সাকিব।
সারজিস আলম ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে অমর একুশে হল সংসদে প্যানেল থেকে সদস্য পদে জয়লাভ করেছিলেন। তাছাড়া নানা পর্যায়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিতার্কিক হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ছিলেন সারজিস আলম।
মাদ্রাসার শিক্ষকদের ওপর পুলিশী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। ২৬ জানুয়ারি এক ফেইসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি নিন্দা জানান।
পোস্টে হাসনাত বলেন, ইবতেদায়ি শিক্ষকসহ বাংলাদেশে সামগ্রিক শিক্ষক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত। ইবতেদায়ী শিক্ষকদের উপর পুলিশি নির্যাতনের নিন্দা জানাই। এটা কোনভাবেই কাম্য নয়।