0201251735807594appweb-logo.png
Loading...

আওয়ামী লীগ


অনলাইনে ভাইরাল ‘দৌঁড়াও হাসিনা দৌঁড়াও’ ভিডিও গেইম। ১৬ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে আসার পর থেকেই, সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ডে আছে এই গেইমটি।

গেইমের শুরুতে ‘অর এক নমরুদ পয়দা হুয়া’, জয়কে নিয়ে করা শেখ হাসিনার স্মৃতিচারণের কন্ঠ শোনা যায়। 

তিনটি ক্যারেক্টারের ওপর ভিত্তি করে পুরো গেইমটি নির্মাণ করা হয়েছে। একটি হচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, আরেকটি শেখ হাসিনা। গেইমে হাসিনাকে গর্ভবতী দেখানো হয়। আর আছেন ড. ইউনুস। ভিডিও গেইমটিতে আইক্কাওয়ালা বাঁশ হাতে তাকে দেখা যায়।

গেইম শুরু করলেই, দেখা যায় নরেন্দ্র মোদী আর শেখ হাসিনা দৌড়াচ্ছেন। মাঝখানে মাঝখানে বাঁশ হাতে দাঁড়িয়ে আছেন ড. ইউনুস। শেখ হাসিনা কোনভাবেই ইউনুসের গায়ে লাগলে গেইম ওভার। তখনই দেখা যাবে, ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলছেন হাসিনা, শোনা যাবে তার বিখ্যাত উক্তি, ‘কি অপরাধটা কি করেছি’ শোনা যায়।

যত বেশী সময় শেখ হাসিনা ড. ইউনূস এবং পাথরের ধাপকে এড়িয়ে যাবেন, তত বেশীই তিনি দৌঁড়াতে পারবেন। অবশ্য এর মধ্যে ‘শেখ মুজিবুরের’ টোকেন আছে, যা নিলে, প্লেয়ারের স্কোর বাড়বে।

কিবোর্ডের ‘আপ’ এবং ‘ডাউন’ বাটন দিয়েই খেলা যাবে পুরো গেইম। খেলা শুরু করলে শোনা যাবে, শেখ হাসিনার আরেক বিখ্যাত উক্তি, “রিক্ত আমি, নি:স্ব আমি, দেয়ার কিছু নাই। আছে শুধু ভালোবাসা, দিয়ে গেলাম তাই।“

এ গেইমের নির্মাতা কার্টুনিস্ট তাসরিফ। এই লিংকে ক্লিক করলে আপনিও গেইমটি খেলতে পারবেন। 



সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অনলাইন ভাষণের জেরে দলটির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ সেলিমের বনানীর বাসায় আগুন দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার।

তিনি বলেন, ‘জনতা রাজধানীর বনানীতে শেখ সেলিমের বাসায় আগুন দিয়েছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি।’

এর আগে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার বক্তৃতা প্রচারের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা গত বুধবার রাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির অর্ধেকের বেশি অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভাঙচুরের পর গত বুধবার রাতে খুলনায় ‘শেখ বাড়ি’ ভাঙচুর করা হয়।

এরপর কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা হানিফের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। গত দুদিনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কমপক্ষে ১৩টি বাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ পরিবারের সদস্যদের অর্ধশত ম্যুরাল ভেঙে ফেলা হয়েছে।
 


পাবনার ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে বোমা হামলা ও গুলির ঘটনায় জজ আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বিএনপির ৯ নেতাকর্মীসহ দণ্ডিত ৪৭ আসামির সবাইকে খালাস দিয়েছে হাই কোর্ট।

ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম ও বিচারপতি হামিদুর রহমানের বেঞ্চ বুধবার এ রায় ঘোষণা করে।

আদালতে আসামিদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের সময় ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ট্রেন মার্চ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর অংশ হিসেবে খুলনা থেকে ট্রেনে করে সৈয়দপুর যাওয়ার পথে ঈশ্বরদী স্টেশনে তার যাত্রাবিরতি ও পথসভা করার কথা ছিল।

ট্রেনটি ঈশ্বরদী স্টেশনে পৌঁছালে শেখ হাসিনার বগি লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা ছোড়া হয়। তবে ওই ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

হামলার ঘটনায় রেল পুলিশের ওসি নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাত জনের নাম উল্লখ করে এবং আরও শতাধিক ব্যক্তিকে ‘অজ্ঞাত পরিচয়’ আসামি হিসেবে দেখিয়ে মামলা দায়ের করেন।

কিন্তু তখনকার বিএনপি সরকারের সময়ে এ মামলার তদন্ত আটকে থাকে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে পুলিশকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তদন্ত শেষে ঈশ্বরদীর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে আসামি করে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। পরে অভিযোগ গঠন করে আসামিদের বিচার শুরু করে আদালত।

২০১৯ সালের ৩ জুলাই এ মামলার রায় ঘোষণা করেন পাবনার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক রোস্তম আলী।

এ মামলার আসামি বিএনপির ৯ নেতাকর্মীকে তিনি মৃত্যুদণ্ড দেন। এছাড়া ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ওই রায়ে সর্বোচ্চ সাজার রায় পান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোকলেছুর রহমান, পাবনা জেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক একেএম আকতারুজ্জামান আকতার, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সভাপতি মোস্তফা নূরে আলম শ্যামল, স্থানীয় বিএনপি নেতা মাহবুবুল রহমান পলাশ, রেজাউল করিম ওরফে শাহিন, শামছুল আলম, আজিজুর রহমান ভিপি শাহীন ও শহীদুল ইসলাম অটল।

যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয় ইসলাম হোসেন জুয়েল, আলাউদ্দিন বিশ্বাস, আল আমিন, শিমু, আনিস শেখন, খোকন, নুরুল ইসলাম, আক্কেল আলী, সেলিম আহমেদ, মামুনুর রহমান, রবি, মামুন, তুহিন, এনাম, কল্লোল, কালা বাবু, লিটন, আবদুল্লাহ আল মামনু রিপন, লাইজু, আব্দুল জব্বার, আবুল কালাম, আব্দুল হাকিম টেনু, আলমগীর হোসেন, পায়েল ও পলাশকে।

এছাড়া আসামি তুহিন বিন ছিদ্দিক, দুলাল সরদার, ফজলুর রহমান, আব্দুল বারিক, আনোয়ার হোসেন জনি, রস্তম, মওলা, জামরুল, রাজু, বাবলু, বরকত, মুক্তা ও মুকুলকে দেওয়া হয় ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড।

ফৌজদারি কোনো মামলায় মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে হাই কোর্টের অনুমোদন লাগে। সে অনুযায়ী বিচারিক আদালতের ওই রায়সহ যাবতীয় নথিপত্র ২০১৯ সালে হাই কোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছায়। পাশাপাশি দণ্ডিত আসামিরা হাই কোর্টে আপিল করেন।

গত ৩০ জানুয়ারি আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে বুধবার সবাইকে খালাস দেওয়া হল।
 


ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক সংস্থা সূচনা ফাউন্ডেশন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী এস আলম ও বেক্সিমকো, এবং বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত পিকে হালদারের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে। 

প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে দেশের বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। 

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-এর (বিএফআইইউ) একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুসারে, সূচনা ফাউন্ডেশনের অন্যান্য দাতাদের মধ্যে রয়েছে কনফিডেন্স গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, সামিট গ্রুপ ও ইউনাইটেড গ্রুপ। প্রতিবেদনটির কপি টিবিএসের হাতে এসেছে।

সন্দেহজনক লেনদেনের জন্য গত বছরের নভেম্বরে সূচনা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার আদেশ দেয় বিএফআইইউ। 

বিএফআইইউয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, সূচনা ফাউন্ডেশনে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন উৎস থেকে ১৭৯ কোটি টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে ১১৪ কোটি টাকা ইতিমধ্যে খরচ হয়েছে। বর্তমানে ফাউন্ডেশনের অ্যাকাউন্টে ফ্রিজ হিসেবে আটকে আছে ৬৫ কোটি টাকা।

এই ফাউন্ডেশনের টাকা এসেছিল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন এস.আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে। 

এছাড়াও তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের (আওয়ামী লীগ) সাবেক সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রাণ গোপাল দত্তের অ্যাকাউন্ট থেকেও টাকা জমা হয়েছে।

অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সূচনা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা ২০১৪ সালে। সংস্থাটি মানসিক প্রতিবন্ধকতা, স্নায়বিক ব্যাধি, অটিজম ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে কাজ করত। সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এর ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন। বোর্ডে ছিলেন আরও তিন ট্রাস্টি—মাজহারুল মান্নান, মো. শামসুজ্জামান ও জাইন বারি রিজভী। 

তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বলেছে, বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের নিবন্ধিত ঠিকানায় গিয়ে তারা অফিসের 'অস্তিত্ব' খুঁজে পায়নি । 

পুতুল বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। 
 


সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর তারেক আলমকে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তারের সময় তারেক আলম ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করছিলেন, যা তাকে বিদেশে পালানোর চেষ্টার অভিযোগকে শক্তিশালী করে। দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল তাকে আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

তারেক আলমের বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি এবং হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তিনি ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী।  দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম তাকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বেক্সিমকো গ্রুপের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।


প্রায় ৬৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও ২৫৮ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক এমপি আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে দুদক কার্যালয়ে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য জানান।

ছবি: আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার ও তার মেয়ে তাহসিন বাহার সূচনা (ফাইল ছবি)।

তিনি জানান, পৃথক আরও দুটি মামলা হয়েছে সাবেক এমপি বাহারের মেয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সূচনা এবং স্ত্রী সেহেরুন নেসা বাহারের বিরুদ্ধে।

তাহসিন বাহার সূচনার বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি ৪২ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুদক। একই সাথে সম্পদ বিবরণী জমা দেয়ার নোটিশও দেয়া হয়েছে সূচনাকে।

এছাড়া, সেহেরুন নেসা বাহারের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় আ ক ম বাহারকেও আসামি করা হয়েছে।


সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সোবহান গোলাপের সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সাথে তার স্ত্রী গুলশান আরা মিয়া, ছেলে ইভান সোবহান মিয়া ও মেয়ে আনিশা গোলাপ মিয়ার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোকেরও আদেশ দেয়া হয়েছে। 

(ফাইল ছবি)

রোববার (১৯ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, আবদুস সোবহান গোলাপ ও তার স্ত্রী-সন্তানদের নামে থাকা সম্পদ ক্রোকের তালিকায় আছে মিরপুরের একটি পাঁচতলা বাড়ি। এর বাইরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ৯টি স্থাবর সম্পদ। এর মধ্যে আটটি হচ্ছে সিঙ্গেল রেসিডেনসিয়াল কন্ডো ইউনিট। আরেকটি হচ্ছে ডুয়েল ফ্যামিলি ইউনিট।

আবদুস সোবহানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচার, বাড়ি ও ফ্ল্যাট কেনার অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক। আবদুস সোবহান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে কমিশন।

এ ছাড়াও আবদুস সোবহান গোলাপ, তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন আবদুস সোবহান গোলাপ।


ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মোস্তফা জালালের  বিরুদ্ধে হত্যা মামলা থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ফাইল ছবি।

সোমবার ভোরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মনসুরাবাদ হাউজিং এলাকা থেকে মোস্তফা জালালকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।


ছাত্র হত্যার দায়ে অভিযুক্ত পাবনা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সের সন্ধান মিলেছে। তিনি এখন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পালিয়ে রয়েছেন। গতকাল সিডনি প্রবাসী এক বাংলাদেশীর পোস্টের মাধ্যমে এ খবর সামনে আসে।

৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা হারায় ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার। দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। পরিস্থিতি টের পেয়ে ৫ তারিখের আগে-পরে দেশ ছাড়তে শুরু করেন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট মন্ত্রী-এমপিরা। দুর্নীতিবাজ প্রিন্স যেন পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য ২২ অক্টোবর তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। গোলাম ফারুক প্রিন্সের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎপূর্বক তার নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এছাড়াও, প্রিন্সের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ তিনজন ছাত্রকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। 

লাল চিহ্নিত ব্যক্তি গোলাম ফারুক প্রিন্স। 

৩০ ডিসেম্বর রাতে এক পোস্টের মাধ্যমে সিডনিতে পলাতক গোলাম ফারুক প্রিন্সের অবস্থান জনসম্মুখে নিয়ে আসেন, প্রবাসী বাংলাদেশী তানজিদ মাহমুদ তনয়। এসময় প্রিন্সকে সিডনির 'লিটেল বাংলাদেশ' খ্যাত ল্যাকেম্বার একটি রেস্টুরেন্টের সামনে কফি পানরত অবস্থায় দেখা যায়। তার সাথে ছিলেন, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

এখবর, প্রকাশ হওয়ার পর থেকে, অসন্তোষ এবং ক্ষোভ বাড়ছে কমিউনিটিতে। দাবি উঠছে, পলাতক আওয়ামী নেতাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখি করার। এরইমধ্যে, ন্যায় বিচার নিশ্চিতে তনয়ের পোস্টে অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রী, এমপি এবং পুলিশকে ট্যাগ করে কমেন্ট করছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। শিগগিরি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ এবং স্মারকলিপি দেয়ার কাজ করছেন, কমিউনিটি নেতারা। 

শুধু গোলাম ফারুক প্রিন্স নয়, অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে আছেন, আওয়ামী লীগের ডজনখানেক নেতা-কর্মী।  


চেক জালিয়াতি (ডিজঅনার) মামলায় ক্রিকেটার ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত।

আজ (১৯ জানুয়ারি) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। যদিও আদালতে উপস্থিত ছিলেন না সাকিব আল হাসান।

ছবি:সংগৃহীত।

এর আগে, ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর একই মামলায় সাকিবসহ মোট চারজনকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেছিলেন আদালত। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সাকিব উপস্থিত হননি। সাকিব ছাড়াও অন্য তিনজন হলেন— সাকিব আল হাসান এগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী সাহাগীর হোসেন, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইমদাদুল হক এবং মালাইকর বেগম। গত ১৫ ডিসেম্বর আইএফআইসি ব্যাংকের রিলেশনশিপ অফিসার শাহিবুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, সাকিবের মালিকানাধীন এগ্রো ফার্মটি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময়ে আইএফআইসি ব্যাংকের বনানী শাখা থেকে ঋণ নেয়। এর বিপরীতে কোম্পানিটি প্রায় ৪.১৫ কোটি টাকার দুটি চেক দিয়েছে, যা অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে ডিজঅনার হয়ে ফেরত আসে।


এবার আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবও স্থগিত করা হয়েছে।

তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম, মেয়ে তসলিমা আহমেদ জামান, ছেলে মঈনুল হোসেন, ছেলের স্ত্রী ইসরাত জাহান বিন্তীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। ব্যক্তি হিসাবের পাশাপাশি তোফায়েল আহমেদ ফাউন্ডেশনের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবও স্থগিত করা হয়েছে। এসব হিসাবের লেনদেন ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন তোফায়েল আহমেদ।