0201251735807594appweb-logo.png
Loading...

কুমিল্লা মেডিকেলে মধ্যরাতে সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগ


  • 0112241733050992facebook.png
  • 0112241733051074icon-linkedin.png
  • 0112241733051118icon-twitter.png
  • 0312241733211435icon-instagram.png
  • 0312241733211479icon-youtube.png

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে চার সংবাদকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার মধ্যরাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে বলে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম জানান। তিনি বলেন, পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহত সংবাদকর্মীরা হলেন- যমুনা টিভির কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, ক্যামেরাপারসন জিহাদুল ইসলাম সাকিব, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের নিজস্ব প্রতিবেদক জাহিদুর রহমান ও ক্যামেরাপারসন ইরফান। তারা কুমিল্লা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিকরা মাঝরাতেই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

আহত সাংবাদিকরা বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতালে নগরীর ধর্মপুর এলাকার পারুল নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের এক শিক্ষার্থীর মা। স্বজনদের অভিযোগ ছিল, চিকিৎসকদের অবহেলায় ওই রোগী মারা গেছেন। সেই খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন বলে সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, ছবি ও তথ্য নিতে সাংবাদিকরা নতুন ভবনের সপ্তম তলায় উঠার আগেই চতুর্থ তলায় অতর্কিত হামলা করে হাসপাতালের ভেতরে থাকা একদল যুবক। তারা সাধারণ পোশাকে মেডিকেল শিক্ষার্থী বা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কয়েকজন বলে অভিযোগ করেছেন আহত সাংবাদিকরা।

আহত যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন বলেন, হাসপাতালের চারতলায় তাদের উপর অতর্কিত হামলা হয়। তাদেরকে মারধর করে ভবনের নিচে নিয়ে আসে। অপর একটি পক্ষ তাদেরকে নিরাপদে নেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। তখন হাসপাতালের ভেতরে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি হলে যৌথবাহিনী কয়েকটি ফাঁকা গুলি করে।

তিনি বলেন, “যারা হামলা করেছে সিসিটিভি ক্যামেরা বা মোবাইল ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাদের চিহ্নিত করা যাবে। তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”

যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসন জিহাদুল ইসলাম সাকিব বলেন, “হাসপাতালে ক্যামেরা চালু করার আগেই আমাদের কয়েকজন যুবক মারধর শুরু করে। তাদের হাতে স্ট্যাম্প ও লাঠি ছিল। তারা দুই দফা হামলা করে। তখন অন্যরা মোবাইলে ভিডিও করছিল।”

সংবাদকর্মীদের দাবি, হামলাকারীরা হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট হতে পারেন। তারা কেউ ইউনিফর্মে ছিলেন না। হামলার সময় সাংবাদিকদের মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় ক্যামেরা ও ট্রাইপড।

এ ব্যাপারে জানতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মাসুদ পারভেজের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী পরিচয়ে কয়েকজন ঘটনার কথা বলেছেন। তাদের দাবি, এ সময় তাদেরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা শুনে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। পরে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে আসে। সবার সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।”

এদিকে ঘটনার পর পরই সংবাদকর্মীরা হাসপাতালের সামনে জড়ো হন। তারা এ ঘটনার নিন্দা জানান।

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক বলেন, “এ ধরনের হামলা সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আমরা দ্রুত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
 



Leave a comment


Please note, comments must be approved before they are published

View all comments