›জেলা›জমে উঠেছে ৫১৭ বছরের ঐতিহ্যের ঘোড়ার মেলা
জয়পুরহাটে মাসব্যাপী শুরু হয়েছে ৫১৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী গোপীনাথপুরের প্রাচীন দোলপূর্ণিমার মেলা।

এ মেলার প্রধান আকর্ষণ ঘোড়া। নানা জাতের হাজার হাজার দেশি-বিদেশি ঘোড়া বিক্রি জন্য আনা হয় এ মেলায়। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা।
এ প্রতিযোগিতা দেখতে প্রতিদিন ভিড় করেন হাজারও মানুষ। অন্যদিকে মণ্ডা-মিঠাই, নানা ধরনের আসবাবসহ শিশু-কিশোরদের নানা বিনোদনব্যবস্থা মেলাকে সাজিয়েছে ভিন্ন এক উৎসবে।
জানা গেছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুরে বসেছে ৫১৭ বছরের মাসব্যাপী ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন মেলা। প্রথম ঐতিহ্যবাহী গোপীনাথপুর মন্দির প্রাঙ্গণে বসে এই মেলা। এরপর থেকে এ এলাকায় মেলাটি আয়োজন করে আসছে মন্দির কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী। হিন্দু-মুসলিম মিলেই মেলাটি পরিচালনা করা হয়। এ মেলার প্রধান আকর্ষণ থাকে ঘোড়া।
মেলাটি শুরু থেকেই ঘোড়ার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। স্বাধীনতার পরও মেলায় নেপাল, ভুটান, ভারত, পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে উন্নত জাতের ঘোড়া আসত। একটা সময় মেলার পরিধি প্রায় ৫ কিলোমিটারজুড়ে ছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এখন তা ১ কিলোমিটারের মধ্যে ছোট হয়ে গেছে। বর্তমান দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঘোড়া ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আসেন এখানে ঘোড়া কেনা-বেচা করতে।
এবার নজর কাড়ছে বাহাদুর, পঙ্খিরাজ, রানি, সুইটি, সোনার তরীসহ নানা বাহারী নামের ঘোড়া। এখানে ৫ হাজার থেকে শুরু করে ৯ লাখ টাকার পর্যন্ত ঘোড়া রয়েছে। এদিকে প্রতিদিন বিকেলে একটি মাঠে চলে ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতা। ঘোড়ার ক্ষিপ্রতা পরীক্ষা করার জন্য এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া এখানে বড় বড় মহিষ-গরুসহ বিভিন্ন পশুও বিক্রি হয়।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উলিপুর গ্রামের গোলজার সরকার বলেন, ‘আমি প্রায় ৫০ বছর ধরে এ মেলায় ঘোড়া কেনা-বেচা করতে আসি। এবারও কিছু ঘোড়া বিক্রি হয়েছে, আরও কিছু বাকি আছে।’ জামালপুর জেলার রুহুল আমিন বলেন, ‘এবার মেলায় ৭০টি ঘোড়া নিয়ে এসেছি। সবচেয়ে বড় তাজি জাতের একটি ঘোড়া রয়েছে। এর দাম চাচ্ছি ৫ লাখ টাকা। কিন্তু দাম করছে ৩ লাখ ৭০ হাজার। ছোট কিছু ঘোড়া বিক্রি করেছি।’
বরিয়া গ্রামের তমাল হোসেন নামে বলেন, ‘মেলায় এসে অনেক বড় বড় ঘোড়া দেখেছি। এরপর মাঠে ঘোড়দৌড় দেখার জন্য এসেছি। অনেক ভাল লাগছে।’
গোপীনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও মেলা কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এই মেলার মূল আকর্ষণ ঘোড়া ও ঘোড় দৌড়। পাশাপাশি নানা প্রজাতির মহিষ, গরুসহ বিভিন্ন পশুও পাওয়া যায়। এ ছাড়া বড় বড় মিষ্টি, কাঠের আসবাব, পোশাক, খেলনা, গৃহস্থালি সামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় সব কিছুই পাওয়া যায়। এটি দোলপূর্ণিমার মেলা হলেও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সব ধর্মের মানুষ এখানে আসেন।’