›ক্যাম্পাস›সেন্ট্রালিয়ানদের বই ‘সেরা ১০০ সেন্ট্রালিয়ান’
সাংবাদিক ও লেখক কাজী ইমরুল কবীর সুমন মতিঝিল সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হাই স্কুলের আলোচিত, বরেণ্য মেধাবী, নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্য পাওয়া একশত প্রাক্তন শিক্ষার্থী লেখককে এক মলাটে জড়ো করেছেন ‘সেরা ১০০ সেন্ট্রালিয়ান’ বইয়ের মাধ্যমে।

রাজধানী ঢাকার অন্যতম সেরা স্কুল মতিঝিল সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। পাকিস্তান আমলে ঢাকায় এটিই ছিল কেন্দ্রীয় সরকারি স্কুল। তাই শিক্ষাঙ্গনে এখনও পরিচিতি ‘সেন্ট্রাল গভ. স্কুল’ হিসেবে। সাবেক শিক্ষার্থীরাও নিজেদের সেন্ট্রালিয়ান পরিচয় দেন সগৌরবে।
বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের লেখার সমন্বয়ে ভিন্নধর্মী এই বইয়ে ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রাম, ২০২৪ এর জুলাই বিপ্লব এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের লেখায় এই বইতে ঠাঁই পেয়েছে। স্কুলের মাঠ রক্ষার চলমান আন্দোলন নিয়েও আলোকপাত করা হয়েছে বইটিতে। নতুন প্রজন্মের কাছে স্কুলের সেরাদের পরিচিত করে দেওয়ার জন্যই এই প্রচেষ্টা।
বাংলা একাডেমির একুশে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ‘সেরা ১০০ সেন্ট্রালিয়ান’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ, বাংলাদেশের সাবেক দ্রুততম মানবী এবং মতিঝিল সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুলের ১৯৬৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী রওশন আখতার ছবি বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় নেপালের কাঠমুন্ডু সাফ গেমস জয়ী বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ডিফেন্ডার মতিঝিল সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুলের ১৯৮৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু ফয়সাল আহমেদ, ১৯৮৩ ব্যাচের কবি শাহনাজ পারভীন মিতা, সৈয়দা শাহিনা হায়দার, হিসান খাতিব খান বাবু, মাকসুদ হোসেন, মাহিন খান রাজসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ইমরুল সুমন জানান, মতিঝিল সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হাই স্কুল/মতিঝিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় সব তথ্য পাওয়া যাবে বইটিতে। সেই সঙ্গে এই স্কুলের বরেণ্য ১০০ গুণী প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, লেখক, কবি, সাহিত্যিক, কণ্ঠশিল্পী, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কণ্ঠশিল্পী, সংগঠক, খেলোয়াড়ের কথা পাওয়া যাবে এক মলাটে। এই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের যারা বিভিন্ন পেশায় থেকেও সাহিত্য চর্চায় জড়িত তাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এই ১০০ জনের তালিকায়।
পূর্ব পাকিস্তানে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে ১৯৫৮ সালে সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হাই স্কুলের ক্লাস শুরু। প্রতিষ্ঠার মাত্র ৪ বছরের মাথায় প্রবেশিকা পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় দু’টি স্থান দখল করে নেয় স্কুলটি। ১৯৬২ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শেষ প্রবেশিকা পরীক্ষায় সারা দেশে মেধা তালিকায় প্রথম হন এই স্কুলেরই আব্দুল মঈন খান। এই তালিকায় সর্বশেষ ২০তম স্থান পান মো. আবুল বাশার। ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়া স্কুলটির সেরা হওয়ার লড়াই ছিল শুরু থেকেই। সেটাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেন আব্দুল মঈন খান ও মো. আবুল বাশার। বাংলাদেশ আমলে আশিষ কুমার কীর্ত্তনিয়া ১৯৮২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় এই স্কুল থেকে সারাদেশে সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম হন।
৬৭ বছরে এই স্কুল দেশ বরেণ্য ব্যক্তি উপহার দিয়েছে। সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান ও মির্জ আব্বাস , প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম, হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সাবেক প্রধান মেডিসিন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. কানিজ মাওলা, এসএসসির মেধাতালিকায় স্ট্যান্ড করা এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের ধাত্রীবিদ্যা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. আনোয়ারা বেগম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি এএফএম ইউসুফ হায়দার, বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সভাপতি ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ উইং কমান্ডার (অব.) মহিউদ্দিন আহমেদ, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ ও দেশের দ্রুততম মানবী কোয়েল, কামরুন্নেসা লিপি, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ নাজমুল আবেদীন ফাহিম, বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর সাবেক চেয়ারম্যান ড. মঈনুদ্দীন আব্দুল্লাহ, গণপূর্তের সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল শাফি, নজরুল ইন্সটিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ইকরাম আহমেদ লেনিন, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, রন্ধন বিশেষজ্ঞ কেকা ফেরদৌসী, বিশ্বকাপ খেলা ক্রিকেটার এহসানুল হক সিজান, কণ্ঠশিল্পী কাদেরী কিবরিয়া, লীনু বিল্লাহ, শিমুল ইউসুফ, সালমা সুলতানা, শাকিলা জাফর, শাহনূর রহমান লুমিন এই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।